কলকাতা—বৈচিত্র্যময় কল্লোলিনী শহর
ভারতের সচেতন থাক! সংবাদদাতা কর্তৃক
ব্রিটিশ গ্রন্থকার রুডইয়ার্ড কিপলিং এর কাছে এটি ছিল “বিভীষিকাময় রজনীর শহর,” “জনপূর্ণ ও অস্বস্তিকর এক নগর।” কিন্তু বিখ্যাত উর্দু কবি মির্জা গালিবের কাছে এটি ছিল, “উজ্জ্বল এক শহর,” “সেই স্বর্গীয় নগর।” গ্রন্থকার দোমিনিক লাপিয়ের এই শহরে তার প্রতিটি পরিদর্শনকে “এক নতুন মোহনীয় অভিজ্ঞতা” বলে মনে করেছিলেন, যেখানে পিটার টি. হোয়াইট জাতীয় ভৌগলিক (ইংরাজি) পত্রিকায় লেখার সময় অন্যদের উদ্ধৃতি তুলে ধরেছিলেন, যারা এটিকে বলেছিলেন “বিভীষিকাময়, ভয়ংকর, আতঙ্কজনক। বিশ্বের সর্ববৃহৎ জনাকীর্ণ নোংরা অঞ্চল।” নিঃসন্দেহে কলকাতা (বাংলায় কলিকাতা) বৈচিত্র্যময় এক শহর।
শহরটির গোড়াপত্তন
ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চল উপকূলের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে অবস্থিত কলকাতা শহরটি, অতীত ভারতের অংশ ছিল না। দিল্লি ও তাঞ্জেওরের মত শহরগুলির তুলনায় এই শহরটি নতুন। শহর সৃষ্টির ক্ষেত্রে যা প্রায়ই সত্য, কলকাতাও তার ব্যতিক্রম নয়, পরাক্রান্তা নদী গঙ্গাকে ঘিরে এটি জন্ম নিয়েছিল। বঙ্গোপসাগরের নিকটে দুটি উপনদী এবং তারপর আরও অনেক ছোট ছোট শাখা নদীতে বিভক্ত হয়ে গঙ্গা বিশ্বের সর্ববৃহৎ ব-দ্বীপ গঠন করেছে। ব-দ্বীপটির পশ্চিমাঞ্চলের প্রান্তের নদীটি প্রথমদিকে ভাগীরথী-গঙ্গা নামে পরিচিত ছিল, পরে হুগলী নামকরণ করা হয় যেটি দক্ষিণ দিক দিয়ে সমুদ্রে প্রবাহিত হয়েছে।
পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীতে, পর্তুগীজ, ডাচ্ ও ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা হুগলীর জলপথে এসেছিলেন এবং স্থানীয় শাসকদের অনুমতি নিয়ে বাণিজ্যিক ঘাঁটি স্থাপন করেছিলেন। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন কর্মকর্তা, জব চার্নক বাণিজ্য কেন্দ্র হিসাবে সুতানুটি গ্রামকে মনোনীত করেছিলেন। কিছু বাধাবিপত্তির পর তিনি সুতানুটি গ্রামে যাত্রা করেছিলেন এবং গোবিন্দপুর ও কলিকাতা গ্রামগুলিতে প্রবেশ করে কেবল এক বাণিজ্যিক ঘাঁটি স্থাপনের বদলে সেখানে ব্রিটিশ উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। ১৬৯০ সালের ২৪শে আগস্ট, কলকাতা জন্ম নিয়েছিল!
১৬৯৮ সালে প্রজাস্বত্বের অধিকার বৈধভাবে অর্জিত হয়েছিল এবং ১৭৫৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশরা মোঘল শাসকদের খাজনা প্রদান করেছিলেন। উন্নয়নশীল শহরটিকে সামরিক সুরক্ষা দানের জন্য ব্রিটিশরা ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। ব্যবসায়ীগণ ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের কারণে নিরাপত্তা বোধ করে বিশাল আকৃতির বাসভবনগুলি নির্মাণ করতে শুরু করেছিলেন। সেই সময়ের মধ্যে ওই শহর ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলির জনসংখ্যা ৪,০০,০০০ জনে পৌঁছেছিল এবং বাণিজ্য এক বছরে হুগলী বন্দরে প্রায় ৫০টি জাহাজ নিয়ে এসেছিল।
কলকাতার অন্ধকূপ
১৭৫৬ খ্রীষ্টাব্দে নির্ভীক, স্থানীয় যুবক শাসক বাংলার নবাব সিরাজদৌল্লা কলকাতা আক্রমণ করেছিলেন। অধিকাংশ জনসাধারণই পালিয়ে গিয়েছিলেন কিন্তু কিছু ইউরোপীয় যারা ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে আশ্রয় নিয়েছিলেন তারা আত্মসমর্পণ করেন ও জুন মাসের দুঃসহ গরমে তাদের একটি ছোট কারাগারে বন্দী করা হয়েছিল। পরের দিন দেখা গিয়েছিল যে অনেকে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন। সেই কারাগারটি কলকাতার অন্ধকূপ নামে পরিচিত হয়েছিল।
এই ঘটনাটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আক্রোশকে জাগিয়ে তুলেছিল এবং ১৭৫৭ সালে রবার্ট ক্লাইভ সেই নগরকে পুনরায় দখল করার জন্য ব্রিটিশ সৈন্যবাহিনী পাঠিয়েছিলেন। প্রচলিত আছে যে পলাশীর যুদ্ধের সূত্রপাতই ভারতে ব্রিটিশ রাজত্বের আরম্ভকে চিহ্নিত করেছিল। আর ফলস্বরূপ কলকাতার কী হয়েছিল? ১৭৭৩ সালে এটি ব্রিটিশ ভারতের রাজধানীতে পরিণত হয়েছিল এবং ১৯১১ সাল পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল।
কলকাতার শ্রীবৃদ্ধিকরণ
শহরটিতে প্রচুর সম্পদ উপচে পড়েছিল, নিখুঁত চমৎকারিত্বপূর্ণ অট্টালিকাগুলি নির্মাণ করা হয়েছিল আর কলকাতাকে প্রাসাদ-শহর নামে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছিল এবং জাদুঘর ও গ্রন্থাগারগুলি স্থাপন করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত বিদ্যমান চিত্তাকর্ষক অনেক অট্টালিকা এর সাক্ষ্য প্রদান করে।
১৯০ বছরের ব্রিটিশ শাসন অবসানের পর, মোহনদাস গান্ধী ও জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা অর্জন করে আর এরপরই তা বিভক্ত হয়ে যায়। মোহম্মদ আলী জিন্নাহ্র নেতৃত্বে মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান (পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান) গঠিত হয়েছিল। তারপর, ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশে পরিণত হয়। এই ঘটনাগুলির কারণে কলকাতা শহরে শরণার্থীরা স্রোতের মত প্রবেশ করেছিল; আজকে মহানগরীর হিসাবকৃত জনসংখ্যা প্রায় ১,২০,০০,০০০ জনেরও বেশি।
এই অসংখ্য সহায় সম্বলহীন মানুষের আকস্মিক প্রবেশ বহু সমস্যার সৃষ্টি করেছিল। বাসস্থানের অভাবের অর্থ ছিল যে লক্ষ লক্ষ ব্যক্তি একেবারে নোংরা বস্তি অঞ্চলে কার্ডবোর্ড ও পাটের বস্তা দিয়ে তৈরি ঝুপড়িতে বাস করতে শুরু করে যেখানে সামান্য অথবা কোনরকম জল নিষ্কাশন, আবর্জনা দূরীকরণ ও শৌচাগার, বিদ্যুৎ কিংবা জলের ব্যবস্থা ছিল না। অন্যান্য হাজার হাজার লোকেরা রাস্তায় বসবাস করতে শুরু করে। ১৯৬৭ সালে নয়জন আন্তর্জাতিক শহর পরিকল্পনাবিদ, কলকাতার রাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছিলেন “এটি অতি দ্রুত এর অর্থনীতি, বাসস্থান, স্বাস্থ্যবিধান, পরিবহণ ও জীবনের অপরিহার্য বিষয়গুলির বিলুপ্তির সীমায় এগিয়ে যাচ্ছে।” ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন মনে হয়েছিল।
বিশেষভাবে নিম্ন-আয়ের শ্রেণীর লোকেদের জন্য সাধারণ গৃহের পরিমাণ বৃদ্ধি করার প্রচেষ্টায়, এক বিস্তীর্ণ লবণাক্ত জলমগ্ন এলাকাকে পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল। নিচু জমি ভরাট করার জন্য নদী থেকে পলি উত্তোলন করা হয়েছিল, নৌব্যবস্থায় উন্নতি হয়েছিল।
১৯৯০ দশকের প্রথমদিকে ভারতে অনেক আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ করা হয়েছিল আর কলকাতাও এর থেকে বাদ ছিল না। তাই এক ব্যাপক পরিষ্করণের কাজ শুরু হয়েছিল। জনাকীর্ণ নোংরা এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণকে শহরের বাইরে চলে যেতে হয়েছিল, বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনের জন্য জঞ্জাল ব্যবহার করা হয়েছিল এবং দূষণকারী যানবাহন ও সেইসঙ্গে ধুয়া-উৎপন্নকারী মুক্ত চুল্লিগুলি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। রাস্তাগুলিকে চওড়া করা হয়েছিল এবং বিপণী কেন্দ্রগুলি স্থাপন করা হয়েছিল। সাধারণ নাগরিকেরাও কলকাতা শহরটিকে ব্যাপকভাবে পরিষ্কার করেছিলেন ও রং করার দ্বারা পরিশোভিত করেছিলেন। দুর্যোগময় প্রান্ত থেকে কলকাতাকে উদ্ধার করে এক নবজীবন দান করা হয়েছিল—এত বেশি পরিবর্তিত হয়েছিল যে একসময়ের ‘মৃতপ্রায়,’ ‘বিপর্যস্ত’ শহরটি আবার কল্লোলিনী হয়ে উঠেছিল। ১৯৯৭ সালের একটি রিপোর্ট জানায় যে সুযোগসুবিধা ও নাগরিক সৌন্দর্যে কলকাতার স্থান ভারতের অন্যান্য প্রধান শহরগুলির মধ্যে অনেক উপরে ছিল।
বাণিজ্যের মহানগরী
প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে শরণার্থী, ভারতের অন্যান্য রাজ্যের অভিবাসী, স্থানীয় বাঙালি এবং দীর্ঘকাল ধরে বসবাসরত চিনা ও আর্মেনীয়দের নিয়ে মহানগরীটি বিবিধ ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্ম ও রন্ধন প্রণালীর এক মিশ্রণপাত্রে পরিণত হয়েছে। কোন্ বিষয়টি এই লক্ষ লক্ষ ব্যক্তিদের কলকাতায় টেনে এনেছে? বাণিজ্য! বিশ্বের চতুর্দিক থেকে জাহাজগুলি এই বন্দরে এসে ভেড়ে যেখানে প্রাচ্যের সঙ্গে পাশ্চাত্যের সাক্ষাৎ হয়েছিল। রপ্তানিদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে শোরা, পাট, চা, চিনি, নীল, কার্পাস ও রেশম। সড়ক পথ, রেল এবং সমুদ্রপথের মাধ্যমে প্রচুর পণ্যদ্রব্য কলকাতায় প্রবেশ করেছে ও কলকাতা ছেড়ে গিয়েছে। স্বাধীনতার পরে বিশাল লৌহ ও ইস্পাত কারখানা স্থাপন করা হয়েছিল এবং গৃহে ব্যবহার্য ও রপ্তানির জন্য মূল্যবান খনিজ উত্তোলন করা হয়েছিল।
বাণিজ্যে বৃদ্ধি সাধনের মূল কারণ ছিল বন্দর। ব্রিটিশরা তাদের জাহাজগুলি মূলত হুগলীর গভীরতর অংশে নঙ্গর করত এবং মাল আদানপ্রদানের জন্য ছোট ছোট নৌকাগুলিকে নদীর কিনারায় পাঠাত। ১৭৫৮ সালে মূলটি স্থাপিত হয়েছিল যার ফলে পরবর্তী সময়ে কলকাতা ভারতের প্রধান বন্দরে পরিণত হয়েছিল। চলমান আধুনিকীকরণ ও গঙ্গার উপরে অবস্থিত বাঁধ থেকে বৃদ্ধিরত জলপ্রবাহ কলকাতার আন্তর্জাতিক, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরস্থ জলপথের চলাচলকে প্রসারিত করেছিল।
পরিবহণ—প্রাচীন ও আধুনিক
১ কোটি ২০ লক্ষেরও বেশি জনপূর্ণ এই শহরে পরিবহণ এক প্রধান সমস্যা। সাধারণত একটি আধুনিক শহরে দেখা যায় এমন সমস্ত রকম—অথবা এর চেয়েও অনেক বেশি যানবাহন কলকাতায় রয়েছে! হাতে টানা রিকশা পর্যটকদের অবাক করে দেয় যখন তারা দেখে যে ভিড় যানবাহনের মধ্যে দিয়ে চটপটে লোকেরা তাদের পথ করে নিচ্ছেন—আর তারা প্রায়ই যাত্রীদেরকে ধীরগতিসম্পন্ন বাস অথবা ট্যাক্সির চেয়ে আরও দ্রুত তাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেন। ১৯০০ সালে মালপত্র বহনের জন্য শুরু হয়ে শীঘ্রই রিকশা লোকেদের বহন করার জন্য ব্যবহৃত হতে থাকে; শহরের রাস্তায় প্রায় ২৫,০০০ রিকশা রয়েছে বলে মনে করা হয়! যদিও তারা যানবাহনকে ধীরগতি করিয়ে দেয়, তবুও সেগুলি প্রায় ৫০,০০০ জন লোকেদের জন্য জীবিকা সরবরাহ করে এবং তার চেয়েও বেশি লোকেদের জন্য যানবাহন হিসাবে কাজ করে।
প্রতিদিন ছোট ছোট খেয়াতরী হাজার হাজার লোকেদের কলকাতার প্রধান রেলপথ স্টেশন ও কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকার মধ্যে যোগাযোগে সহায়তা করে। সড়ক যানবাহন সমস্যাকে সহজ করার জন্য নদীর পরিবহণ ব্যবস্থায় বৃদ্ধি করা হয়েছে যেহেতু প্রতিদিন প্রায় ৫০,০০০ এরও বেশি গাড়ি ও হাজার হাজার ট্রাক বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হাওড়া সেতুর উপর অত্যন্ত কষ্ট করে এগিয়ে চলে।
শহরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় সম্ভবত বৈদ্যুতিক ট্রামগুলি। দূষণমুক্ত, উচ্চ ধারণ ক্ষমতাযুক্ত, শক্তিসম্পন্ন যানগুলি শত সহস্র লোককে প্রতিদিন শহরের চতুর্দিকে বহন করে নিয়ে যায়, যদিও সর্বদা তা আরামদায়ক নয়। ট্রামের দরজায় ঝুলতে ঝুলতে যাওয়ার জন্য বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয়! সম্প্রতি সমাপ্ত মেট্রো রেল ব্যবস্থা প্রভূত উন্নতি নিয়ে এসেছে, যেগুলি এক ঘন্টার মধ্যে ৬০,০০০ জনেরও বেশি যাত্রীদের শহরের মধ্যে দিয়ে শীতল আরামদায়ক পরিবেশে বহন করে নিয়ে যায়।
কলকাতার বিভিন্ন সংস্কৃতি
কলকাতার শিক্ষাসংক্রান্ত সুযোগসুবিধা অনেককে বিজ্ঞান ও আইনের ক্ষেত্রগুলিতে পরিচালিত করেছে এবং শিল্পকলা প্রচুররূপে বিদ্যমান থাকায় এটি উপমহাদেশের এক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আড়াই লক্ষেরও বেশি ছাত্র ১৪০ বছরের পুরনো কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে, যেটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলির একটি।
মুম্বই যদি ভারতের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের কেন্দ্র হয় তবে নিশ্চিতরূপে কলকাতা উচ্চ-গুণগত মানসম্পন্ন আর্ট ফিল্মের জন্মভূমি। শিল্পকলায় অবদানের জন্য সত্যজিৎ রায় এবং মৃণাল সেনের মত ব্যক্তিদের নাম বিশ্বব্যাপী পরিচিত। রোম ও প্যারিসে একত্রে মিলে যত কবি রয়েছেন তার চেয়েও অধিক কবি থাকার গর্বে কলকাতা গর্বিত, নিউ ইয়র্ক ও লন্ডনের চেয়ে এখানে অধিক সাহিত্যিক পত্রিকা রয়েছে আর কলেজ স্ট্রিটে বিশ্বের মধ্যে পুরনো বইয়ের সর্ববৃহৎ বাজারগুলির মধ্যে একটি রয়েটে।
দেখার মত অসাধারণ জিনিসগুলি
উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত মার্বেল পাথরে নির্মিত ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, ইতালিয় নবজাগরণের শৈলীতে নির্মিত। এটি ১৯২১ সালে খোলা হয়েছিল আর এটি ভারতে ব্রিটিশ রাজত্বের স্মৃতিচিহ্নে ভরা এক বিশাল জাদুঘর। কলকাতায় প্রকাণ্ড ভারতীয় জাদুঘরটি ও সেইসঙ্গে অন্যান্য আরও ৩০টিরও বেশি সংগ্রহশালা আছে। ভারতীয় বোটানিক্যাল গার্ডেনের ২৪০ বছরের পুরনো বটগাছটি দেখার মত বস্তু যেটি ১,৪০০ ফুটেরও বেশি পরিধিসম্পন্ন। আর সেইসঙ্গে আছে চিড়িয়াখানাও। ময়দান—এলোমেলোভাবে প্রসারিত ১,২৮০ একর উন্মুক্ত স্থান—কলকাতার ফুসফুস এবং সমগ্র ভারতে সর্ববৃহৎ চত্বর বলে পরিচিত। কলকাতা বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের জন্যও গর্বিত যেটি বিশ্বের সর্ববৃহৎগুলির মধ্যে একটি। ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য রয়েছে ইডেন গার্ডেন্স ক্রিকেট মাঠটি যেটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের সময় ১,০০,০০০ জনেরও বেশি উৎসাহী ও উদ্যোমী দর্শকে ভরে যায়।
প্রকৃতই চমৎকার এক অট্টালিকা হল সায়েন্স সিটি, যেটি এশিয়ার সর্ববৃহৎ মিথষ্ক্রিয় বিজ্ঞান কেন্দ্র যা দর্শনার্থীদের কৃত্রিম ভূমিকম্প অভিজ্ঞতা করতে, একটি দ্বীপকে ডুবে যেতে দেখতে ও এক ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির সাক্ষী হতে এবং পরিবেশের বিস্ময়কর তথ্যগুলি ও অনেক প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে জানতে সক্ষম করে। কিন্তু কলকাতায় হিন্দুদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় উৎসব হল দুর্গা পূজা, যে সময় পাঁচদিনের জন্য স্বাভাবিক কাজকর্মে অব্যাহতি দিয়ে শহরটি জাঁকজমকপূর্ণ ধর্মীয় আমোদ-উৎসবে মেতে ওঠে।
কলকাতায় কেনাকাটা করতে গেলে আপনি কী কী পাবেন? সবকিছুই! শুধু ভীড়ের মধ্যে দিয়ে ধাক্কাধাক্কি করে চলার জন্য প্রস্তুত থাকুন আর তারই মধ্যে রং বেরংয়ের শাড়িতে সজ্জিত রমণীদের দেখতেও ভুলবেন না যেন। চিনা দোকানগুলিতে সুন্দর সুন্দর চামড়ার জুতো সমেত চামড়ার সমস্ত রকম বস্তু সুলভ মূল্যে আপনি ক্রয় করতে পারবেন। স্টেইনলেস স্টীলের সামগ্রী, বয়নশিল্প, নিখুঁত সৌন্দর্যপূর্ণ বাসনপত্র এবং উত্তমভাবে কারুকার্য করা অলংকার হল কেবল কয়েকটি সামগ্রী যা একজন সহিষ্ণু ক্রেতা, “ক্রেতার পরমদেশের” বিশাল বাজারগুলিতে পেতে পারেন।
রসনাবিলাসী ব্যক্তির আহার
কলকাতাকে রসনাবিলাসী ব্যক্তির পরমদেশ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে, তাই এর কিছু সুস্বাদু খাদ্যের স্বাদ না নিয়ে আমরা চলে যেতে পারি না। এটি প্রচলিত রয়েছে যে বাঙালিরা নিজেরা খাদ্যরসিক ও রন্ধন প্রণালীর দক্ষতার উৎকৃষ্টতার উপর ভিত্তি করে লোকেদের যাঁচাই করে! কলকাতার আহারে মাছ থাকবেই এবং বড় বড় বাজারগুলিতে বিভিন্ন রকমের মাছ, মাংস ও শাকসবজি পাওয়া যায়। একেবারে সাধারণ শাকসবজির স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য এতে সযত্নে বাটা টাটকা মসলা পরিমাণমত মিশ্রিত করা হয়। প্রচুর চাইনিজ খাবারও পাওয়া যায়। আর কলকাতার রন্ধনশালার মনোরম বস্তুর শীর্ষে রয়েছে এর বিখ্যাত মিষ্টি। ছানা দিয়ে তৈরি বলের আকারের রসগোল্লাগুলি আস্বাদযুক্ত এবং চিনির রসে সিক্ত, যা বঙ্গদেশের প্রতীকস্বরূপ। আর মিষ্টি দই খেতে ভুলবেন না, সুস্বাদু মিষ্টি দই আহারের শেষ পদ হিসাবে অত্যন্ত জনপ্রিয়। আপনার জিভে কি জল এসে যাচ্ছে? মনোরম রেস্তোরাঁগুলির কয়েকটির সুঘ্রাণ আপনি কি পাচ্ছেন? হ্যাঁ, কলকাতা প্রকৃতই এক বৈচিত্র্যময় কল্লোলিনী শহর!
[১৫ পৃষ্ঠার মানচিত্রগুলো]
(পুরোপুরি ফরম্যাট করা টেক্সটের জন্য এই প্রকাশনা দেখুন)
শ্রীলংকা
ভারত
কলকাতা
বাংলাদেশ
[মানচিত্র]
কলকাতা
ভারতীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন
ময়দান
চিড়িয়াখানা
বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল
ভারতীয় জাদুঘর
হুগলী নদী
লবন হ্রদ
দমদম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
[সজন্যে]
Mountain High Maps® Copyright © 1997 Digital Wisdom, Inc.
[১৫ পৃষ্ঠার চিত্র]
সায়েন্স সিটি
[১৬ পৃষ্ঠার চিত্র]
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল
[১৭ পৃষ্ঠার চিত্র]
একটি ব্যস্ত বাজারের দৃশ্য
[১৭ পৃষ্ঠার চিত্র]
রাস্তার পাশের একটি ক্ষৌরকারের দোকান