ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • g৯৫ ৭/৮ পৃষ্ঠা ১৬-১৭
  • আপনি কি থাইলাসিন দেখেছেন?

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • আপনি কি থাইলাসিন দেখেছেন?
  • ১৯৯৫ সচেতন থাক!
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • কতটা প্রসারিত?
  • শিকার করার এক স্বতন্ত্র পদ্ধতি
  • দেখা গেছে বলে যে খবর পাওয়া যায় সেই সম্বন্ধে কী?
  • প্রকৃত নিরাপত্তা—এক দুর্জ্ঞেয় লক্ষ্য
    ১৯৯৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • বিশ্ব নিরীক্ষা
    ২০০৬ সচেতন থাক!
  • বিশ্ব নিরীক্ষা
    ১৯৯৪ সচেতন থাক!
১৯৯৫ সচেতন থাক!
g৯৫ ৭/৮ পৃষ্ঠা ১৬-১৭

আপনি কি থাইলাসিন দেখেছেন?

অস্ট্রেলিয়ার সচেতন থাক! পত্রিকার প্রতিনিধি কর্তৃক

‘আমি কী দেখেছি?’ আপনি হয়ত জিজ্ঞাসা করবেন। ‘আমি আদৌ জানি না যে থাইলাসিন কী।’

আসলে, “থাইলাসিন” হল প্রাণীবিদ্যা সম্বন্ধীয় একটি নাম অর্থাৎ থাইলাসিনাস সাইনোসিফ্যালাস এর সংক্ষিপ্ত আকার এবং এটি হল দক্ষিণের এক আশ্চর্য ধরনের পশুর নাম যা তাসমেনিয়ান বাঘ অথবা তাসমেনিয়ান নেকড়ে হিসাবে পরিচিত।

থাইলাসিনাস সাইনোসিফ্যালাস এর আক্ষরিক অর্থ হল “থলি সমেত এক কুকুর যার মুখটি নেকড়ের মত,” কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার একটি ছোট দ্বীপ, তাসমানিয়ার প্রাচীন ইউরোপীয় বাসিন্দারা এই পশুর নানাধরনের সরল নাম দিয়েছিল। কিছু নাম যেমন জিব্রা ওপোসাম, হায়না, জিব্রা নেকড়ে এবং কুকুরের মাথাওয়ালা ওপোসাম খুবই প্রচলিত। সাদাচামড়ার লোকেরা যারা প্রায় ২০০ বছর আগে এখানে আসে, তাদেরও আগে তাসমানিয়ার অ্যাবরিজিন্স থাইলাসিনকে করিন্না বলে ডাকত।

তাসমানিয়ান বাঘ এখন প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে ধরে নেওয়া হয়, কিন্তু তাদের কিছু সংরক্ষিত নমুনা যাদুঘরে পাওয়া যায়। শেষ জীবিত থাইলাসিনটি মারা যায় ১৯৩৬ সালে তাসমানিয়ার রাজধানী হবার্ট শহরের একটি চিড়িয়াখানায়। কিন্তু, এমন কিছু লোক আছে যারা দাবি করে যে তাসমানিয়ার মরুভূমি অঞ্চলে এখনও কিছু থাইলাসিন জীবিত আছে এবং তারা সেখানে লুকিয়ে আছে আর এছাড়াও কয়েকজন এটিকে দেখেছে বলে রিপোর্ট পাওয়া যায়।

যদিও এটি বাঘের পরিবারের অন্তর্ভুক্ত নয়, কিন্তু তবুও এই তাসমানিয়ান বাঘ এই নামকরণটির কারণ হল যে এই পশুটির গায়ে ডোরা দাগ রয়েছে এবং এটি মাংসাশী। লক্ষণীয়ভাবে, গাঢ় খয়রি, প্রায় কালো রঙের ডোরা দাগ তার গায়ে দেখা যায় একেবারে লম্বা, শক্ত লেজ পর্যন্ত। এছাড়াও আরেকটি আশ্চর্যের তথ্য হল যে দ্বিগর্ভ​—⁠অর্থাৎ তার মানে হল যে স্ত্রীজাতের দেহে থলির ব্যবস্থা থাকে। শিশুদের আকার থাকে অত্যন্ত ছোট, অপরিণত এবং তারা চোখে দেখতে পায় না কিন্তু তারা তাদের মায়ের থলিটি খুঁজে বার করে নেয়, যেখানে তারা স্তনপান করে ততদিন পর্যন্ত যতদিন না তারা পূর্ণ আকার ধারণ করে এবং একা থাকার জন্য সবল হয়ে ওঠে। সদ্যজাত শিশুটি, বাইরে আসার আগে অবধি, মা থাইলাসিনের থলিতে প্রায় তিন মাস থাকে। কিন্তু একবার থলি থেকে বেরিয়ে আসার পর ছোট থাইলাসিন তার মায়ের সাথে তৎপরতার সাথে খাবারের সন্ধানে যেতে শুরু করে দেয়।

এটা দাবি করা হয় যে, সম্প্রতি জানা দ্বিগর্ভ প্রাণীদের মধ্যে থাইলাসিনই হচ্ছে সবচেয়ে বেশি মাংস ভোজনকারী পশু। অন্যসমস্ত দ্বিগর্ভ পশু যেমন ক্যাঙ্গারু, তার বিপরীতে মেয়ে থাইলাসিনের দেহে একটি পশ্চাদ-মুখী থলি থাকে। সে চারটি শিশুকে একসাথে বইতে পারে এবং দুধ খাওয়াতে পারে।

কতটা প্রসারিত?

যদিও অস্ট্রেলিয়ার বহু স্থানে থাইলাসিনের পাথরের উপর অ্যাবরিজিনদের দ্বারা আঁকা ছবি, জীবাশ্ম এবং শুকনো কিছু কঙ্কাল পাওয়া গেছে, কিন্তু মনে হয় যে প্রধানত থাইলাসিনদের বসতি ছিল তাসমানিয়াতে। যদিও সেখানেও তাদের সংখ্যা বেশি ছিল না। এদের বিলুপ্তির জন্য মানুষেরাই বিশেষভাবে দায়ী। যদিও তাসমানিয়ান বাঘ নিজেরাই শিকারী ছিল, কিন্তু কিছু ধূর্ত ও লোভী সাদা চামড়ার বাসিন্দাদের তুলনায় তারা কিছুই ছিল না। যেহেতু তারা অত্যন্ত কৌতূহলী ছিল তাদের মানুষের ভয় ছিল, না এবং তাই থাইলাসিনেরা সহজেই বন্দুক ও ফাঁদের শিকার হত।

বহু কৃষকেরা দাবি করে যে তাসমানিয়ান বাঘেরা ভেড়ার শিকার করত, এবং তাই এদের মারবার জন্য ক্ষেত সম্বন্ধনীয় কোম্পানিগুলি অর্থ দিত এবং তাসমানিয়ার সরকারও এই বিষয় সাহায্য করত। যেই মুহূর্তে এটিকে জীবিত অবস্থায় ফাঁদে ফেলা হত সঙ্গে সঙ্গে এটিকে বিদেশী কোন চিড়িয়াখানায় নিয়ে নিত। যদিও বহু বছর আগে অজানা কোন এক মারাত্মক রোগের দ্বারা থাইলাসিনদের সংখ্যার হ্রাস ঘটেছিল, যা অনেক বন্যপশুর জীবনহানি ঘটায় কিন্তু তাদের এই সংখ্যা হ্রাসের জন্য সবচাইতে বেশি দায়ী মানুষ।

শিকার করার এক স্বতন্ত্র পদ্ধতি

সাধারণত থাইলাসিন একলা শিকার করে থাকে কিন্তু এক এক সময় দুজনে মিলেও করে। এর প্রধান পদ্ধতি হল কোন জন্তু, যেমন ছোট ক্যাঙ্গারুর প্রতি নিশানা লাগানো এবং সেটিকে অবিরাম গতিতে তাড়া করা। যেই মুহূর্তে শিকারটি একটু ধীর গতি অবলম্বন করে এবং ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখনই সেই থাইলাসিন লাফিয়ে গিয়ে তার শক্ত চোয়ালের সাহায্যে পশুটিকে মেরে ফেলে। এই পশুটির আরেকটি অসাধারণ দিক হল তার চোয়ালের প্রকাণ্ড ফাঁক, প্রায় ১২০ ডিগ্রী!

যেহেতু তারা মৃতদেহের কেবল মাত্র নির্দিষ্ট কিছু অংশ খেয়ে থাকে​—⁠সাধারণত ভিতরের অঙ্গগুলি​—⁠তাই অনেকে এদের উচ্ছৃঙ্খল শিকারি বলে থাকে। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে এই অপচয় না ঘটানোর জন্য আরেক ধরনের দ্বিগর্ভ, ছোট আকারে মাংসাশী প্রাণী যাকে তাসমানিয়ান ডেভিল (যেগুলি এখনও অস্তিত্বে আছে) বলা হয় সেটি সেই বাঘটির পিছনে পিছনে এসে পড়ে থাকা সমস্ত অংশগুলি​—⁠যেমন হাড়, চামড়া ইত্যাদি সব খেয়ে নেয়।

আপাতভাবে বলা যায় যে থাইলাসিন মানুষের জন্য কোন বিপদ নয়। কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে তারা কখনও কোন মানুষ শিকার করেছে বলে। পুরনো দিনের একজন ব্যক্তি বলেন, অনেক বছর আগে একদিন তিনি সন্ধ্যার সময় তার তাঁবুর পাশে আগুন জ্বালিয়ে বসেছিলেন এবং বই পড়ছিলেন, আগুনের সেই আলোর মধ্যে দিয়ে তিনি হঠাৎ দেখতে পেলেন একটি তাসমেনিয়ান বাঘ আসতে আসতে, সন্তর্পণে তার দিকে এগিয়ে আসছে। আক্রমণের ভয়ে তিনি নিঃশব্দে তার রাইফেলটি হাতে নিলেন, আগুনের মধ্য দিয়ে নিশানা লাগালেন এবং গুলি করলেন। থাইলাসিন ডিগবাজি খেয়ে পিছনের দিকে সরে যায়, মনে হয় তার খুব একটা আঘাত লাগেনি এবং সে তৎক্ষণাৎ লাফিয়ে উঠে অন্ধকারের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যায়। কোথাও কোন রক্ত আছে কিনা এবং বাঘটি কতটা আঘাত পেয়েছে তা দেখবার জন্য ব্যক্তিটি যখন সেই স্থানে যান। সেখানে তিনি দেখতে পান যে আগুনের সামনে তার গুলির আঘাতে হত হয়ে একটা বিশাল ওপোসাম পড়ে আছে। সেটিকে মারতেই থাইলাসিন এসেছিল!

দেখা গেছে বলে যে খবর পাওয়া যায় সেই সম্বন্ধে কী?

১৯৩৬ সালে যখন শেষ থাইলাসিনটি বন্দী অবস্থায় মারা যায় তখন থেকে আরম্ভ করে থাইলাসিনকে দেখা গেছে বলে অনেক খবর আসে, কিন্তু এখন পর্যন্ত এমন কোন তথ্যই পাওয়া যায়নি যা প্রাণীবিদ্যাবিৎদের এটা বিশ্বাস করতে বাধ্য করায় যে এখনও কয়েকটি এইধরনের প্রাণী জীবিত আছে। এটা মনে হয় যে একমাত্র বাস্তব ছবি অথবা জীবন্ত অবস্থায় তাদের ধরলে তবেই কর্তৃপক্ষেরা বিশ্বাস করবে যে থাইলাসিনের অস্তিত্ব আছে।

তাসমানিয়ার প্রাচীন ব্যক্তিরা যারা গ্রামাঞ্চলে থাকে তারা বলে যে যদি তারা তাসমেনিয়ান বাঘকে দেখেও তবুও তারা এইবিষয়ে রিপোর্ট করবে না। তারা এই বিষয়ে ক্ষুব্ধ যে তাদের জীবনকালের প্রারম্ভে এই স্বতন্ত্র পশুটির বিলুপ্তির পিছনে মানুষই দায়ী ছিল। যদি কোন থাইলাসিন এখন বেঁচেও থাকে সেই সব লোকেরা তাদের শান্তিতে থাকতে দিতে চায়।

সুতরাং যদি তাদের জিজ্ঞাসা করা হয় যে, “আপনি কি সম্প্রতি কোন থাইলাসিনকে দেখেছেন?” তাদের উত্তর​—⁠সত্য বা মিথ্যা যাই হোক না কেন​—⁠তা হবে, “না!” (g95 6/22)

[১৬ পৃষ্ঠার চিত্র সৌজন্য]

Tom McHugh/Photo Researchers

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার