যুবক-যুবতীদের জিজ্ঞাস্য . . .
চুরি করা—কেন নয়?
“আমার বয়স ১৬ বছর এবং আমার একটা বিরাট সমস্যা রয়েছে। সম্প্রতি আমি অনেক জিনিস চুরি করতে আরম্ভ করেছি। আমি একটি বড় বাজারে যাই আর সেখানে থেকে সাত জোড়া কানের দুল চুরি করি। আমার এই সমস্যা সম্বন্ধে কাউকে জানাতে আমি ভয় পাচ্ছি। দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন!”
একটি যুবতী মেয়ে এইধরনের এক চিঠি একটি পত্রিকার সাহায্যের কলমে লেখে। একজন লেখক জানান: “প্রতি বছরে খুচরো বিক্রিত দোকানগুলি [মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে] থেকে প্রায় ১,০০০ কোটি ডলার মূল্যের জিনিস . . . চোরাচালান, আক্রমণিত, বাক্স খুলে নিয়ে নেওয়া অথবা অন্য কোনভাবে চুরি করা হয়। দোকান থেকে চুরি করার জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে তরুণদেরই গ্রেপ্তার করা হয়।”
সম্প্রতি একটি সমীক্ষা অনুসারে, উচ্চবিদ্যালয়ের প্রায় এক তৃতীয়াংশ ছাত্রেরা স্বীকার করেছে যে তারা দোকান থেকে জিনিস চুরি করে থাকে। আর জেন নরম্যান ও মাইরন হ্যারিস নামক দুইজন গবেষকদের দ্বারা নেওয়া সমীক্ষা অনুযায়ী, “প্রায় সকলে [যুবক-যুবতীরা] স্বীকার করে কোন না কোন সময় তারা দাম না দিয়েই কিছু জিনিস নিয়েছে।”
কেন তারা চুরি করে
চোর তাকেই বলা হয় যে জেনে শুনে অনুমতি না নিয়ে অপরের জিনিস নেয়। এক এক সময় ব্যক্তিগত প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে হয়ত চুরি করাকে বিধেয় বলে মনে হতে পারে। “আমি খুব খারাপ পরিস্থিতিতে ছিলাম,” একজন দরিদ্র যুবক বলে। “আমি একটা [ফাস্টফুড রেস্তোরাঁর] পিছনের দরজায় গিয়ে সেটিকে লাথি মেরে খুলে কয়েকটি মুরগির টুকরো নিয়ে নিতাম। কিন্তু আর কিছুই করতাম না। আর এটা আমি কেবল করতাম কারণ আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম বলে।”
বাইবেলের হিতোপদেশ জানায়: “যে ক্ষুধিত হইয়া প্রাণের তৃপ্তির জন্য চুরি করে, লোকে সেই চোরকে উপেক্ষা করে না।” এছাড়াও, চুরি করা নৈতিক দিক দিয়েও অন্যায়। বাইবেলের পরের পদটি দেখায় যে একজন চোর এমনকি সে যদি ক্ষুধার্তও হয় তাকে আইনত পরিশোধ দিতে হবে।—হিতোপদেশ ৬:৩০, ৩১.
অধিকাংশ ক্ষেত্রে যদিও খুব অল্প সংখ্যার তরুণবয়স্ক চোরেরা আছে যারা বৈধ কোন কারণের জন্য চুরি করে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য মেরি জেন যে স্বীকার করে: “হ্যাঁ, আমি দোকান থেকে চুরি করেছিলাম, আর এটা সত্যিই খুব অবাকের বিষয় কারণ আমি জানি না যে কেন আমি তা করেছিলাম। আমার বাবামা আমাকে সমস্ত কিছুর জন্য টাকা দিয়ে থাকেন। আমার কিছুরই প্রয়োজন নেই।”a সেভেনটিন নামক পত্রিকাটি ঠিক একই রকম খবর জানায়: “জাতীয় অপরাধ প্রতিরোধক কাউনসিলের দ্বারা পরিচালিত একটি সমীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় যে চুরি করার সবচাইতে সাধারণ কারণ হল যে তারা কিছু বস্তু বিনা মূল্যে পেতে চায়।” কিছু যুবকেরা এমনকি তাদের এই বদভ্যাসের পিছনে যুক্তি দেখায় এই বলে যে এই দোকানটি ‘অত্যন্ত বেশি দাম নেয়!’”
অনেক যুবক-যুবতীদের কাছে, চুরি করা হল একঘেয়েমিকে কাটানোর একটা উপায়। জেরিমি, যে একসময় চুরি করত সে বলে “এটা ছিল স্কুলের পরে সময় কাটানোর একটা উপায়।” এছাড়াও চৌর্যবৃত্তি এক ধরনের ঝুঁকিমূলক খেলা হিসাবেও অনেকে মনে করে; চুরি করা ব্লাউজ ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে নেওয়া অথবা থলির মধ্যে কোন কমপ্যাক্ট ডিস্ক লুকিয়ে রাখার ফলে দেহে যে এক ধরনের স্নায়ু চাপের সৃষ্টি হয় এই অনুভূতিটি অনেকে পছন্দ করে বলে মনে হয়।
মানুষিক বেদনাকে ঢেকে রাখার একটা মুখোশ?
একঘেয়েমি কাটানোর জন্য জেলে যাওয়ার ঝুঁকি নেওয়ার চাইতে আরও অনেক নিরাপদ উপায় রয়েছে। তাহলে শুধুমাত্র মজা করার ইচ্ছা ছাড়াও কি এইধরনের রোমাঞ্চের প্রতি স্পৃহার পিছনে আরও কিছু আছে? অনেক বিশেষজ্ঞেরা মনে করেন যে আছে। লেডিস হোম পত্রিকা লক্ষ্য করেছে যে কিছু যুবক-যুবতী “বড় হয়ে ওঠার সাথে যে চাপগুলি তার মোকাবিলা করতে অসুবিধা বোধ করে। বাবামায়ের সাথে ঝগড়া, বন্ধুত্ব ভেঙে যাওয়া, পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়া, একজনকে অনিয়ন্ত্রিত করে তুলতে পারে; তখন নিয়ম লঙ্ঘন করা একজনকে তথাকথিত ক্ষমতা পাওয়ার আনন্দ দেয়।”
হ্যাঁ, চুরি করার এই বীরত্বের পিছনে অনেক দুঃখ ও বেদনা জড়িয়ে থাকে। বাইবেল যেমন বলে, “হাস্যকালেও মনোদুঃখ হয়।” (হিতোপদেশ ১৪:১৩) প্রাপ্ত প্রমাণগুলি ইঙ্গিত করে যে দোকান থেকে চুরি করা বিষণ্ণতার একটি চিহ্ন। কিছু অল্পবয়স্ক চোরেদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে তাদের শিশু অবস্থায় অপব্যবহৃত হওয়ার এক ইতিহাস আছে। বেদনার যে কোন কারণই থেকে থাকুক না কেন, চুরি করার যে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা তা মনে হয় সমস্ত কিছুকে আচ্ছাদিত করে দেয়—অন্তত কিছু সময়ের জন্য।b একটি আমেরিকান যুবকের কথা ধরুন না কেন যে গাড়ি চুরি করে উন্মাদনার সাথে ঘুরে বেড়ানোর মধ্যে আনন্দ পেয়ে থাকে। “আমার একটা উত্তম অনুভূতি হয়,” সে বলে। “আপনার এইধরনের এক অনুভূতি হবে যে আপনি আতঙ্কিত, অথচ নিজেকে খুব বড় বলে মনে হবে।”
বন্ধুরা ও তাদের চাপ
বাইবেল বলে: “কুসংসর্গ শিষ্টাচার নষ্ট করে।” (১ করিন্থীয় ১৫:৩৩) এই সত্যটি সর্বত্র স্বীকৃত। লেখক ডেনিস ভি. ল্যাঙ্গ লক্ষ্য করেন: “খুব কমই ক্ষেত্র দেখা গেছে যখন যুবক বা যুবতী আপনি থেকে নিজেকে কোন অসুবিধার মধ্যে ফেলে।” প্রায়ই, বন্ধুরা একে অপরকে চাপ দেয় কিছু চুরি করতে। দুঃখের সাথে বলতে হয় যে, অনেক যুবকেরা এই ধরনের চাপের মুখে নতি স্বীকার করে।
“জুনিয়ার স্কুলের কিছু মেয়েদের দলের সাথে আমি জড়িয়ে পড়ি,” যুবতী ক্যাথি জানায়। তাদের এই স্বতন্ত্র দলের সদস্য হওয়ার জন্য কিধরনের মূল্য দিতে হয়? একটি দামি সোয়েটার চুরি করা। “আমি তাদের দলের সদস্য হতে চেয়েছিলাম, তাই একটি দোকানে গিয়ে আমি একটি সোয়েটার চুরি করি,” সে স্বীকার করে।
ঈশ্বরের দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা
আপনার সামর্থের বাইরে কোন জিনিস পাওয়ার সম্ভাবনা, ঝুঁকি সমেত কোন রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা অর্জন অথবা বন্ধুদের দ্বারা গৃহীত হওয়ার জন্য চুরি করার বিষয়টি হয়ত আকর্ষণীয় বলে মনে হতে পারে। যাই হোক না কেন, বাইবেলের দশ আজ্ঞার মধ্যে একটি হল: “চুরি করিও না।” (যাত্রাপুস্তক ২০:১৫) প্রেরিত পৌল লিখেছিলেন যে ‘চোরেরা ঈশ্বরের রাজ্যের অধিকার পাবে না।’ (১ করিন্থীয় ৬:১০) যেই সব যুবক-যুবতী যারা খ্রীষ্টান হিসাবে বড় হয়ে উঠেছে তাদের কাছে ঈশ্বরের দৃষ্টিভঙ্গি এক বিশেষ অর্থ হওয়া উচিত। এটা কতই না ছলনামূলক হবে যদি কেউ ধার্মিকতার ভান করে অথচ গোপনে চুরি করে চলে! প্রেরিত পৌল এইভাবে বিষয়টির উল্লেখ করেন: “ভাল, তুমি যে পরকে শিক্ষা দিতেছ, তুমি কি আপনাকে শিক্ষা দেও না? তুমি যে চুরি করিতে নাই বলিয়া প্রচার করিতেছ, তুমি কি চুরি করিতেছ?”—রোমীয় ২:২১.
চুরি করার বদভ্যাসকে এড়িয়ে চলার জন্য গ্রেপ্তার হওয়ার লজ্জাকর সম্ভাবনাই হল যথেষ্ট। গ্রেপ্তারিত হওয়ার পর একটি যুবক চোর বলে: “আমি মরে যেতে চেয়েছিলাম।” যিহোবা ‘ডাকাতিকে ঘৃণা’ করেন এটা জানাই হল সবচাইতে দৃঢ় কারণ চুরি করার যে ইচ্ছা—অথবা চাপ তা এড়িয়ে চলার। (যিশাইয় ৬১:৮) যদি বা কেউ দোকানের কর্তৃপক্ষ, পুলিশ এবং বাবামায়ের কাছ থেকে চুরি করার বিষয়টি লুকিয়েও রাখতে পারে, কিন্তু যিহোবার কাছ থেকে সে তা লুকোতে পারে না। সেটা অবশ্যই প্রকাশ পাবে।—যিশাইয় ২৯:১৫.
এও মনে রাখবেন যে পাপ মানুষকে কঠিন করে তোলে। (ইব্রীয় ৩:১৩) ছোট খাটো চুরি আরও বড় চুরিতে পরিচালিত করে। উদাহরণস্বরূপ, অল্পবয়স্ক রজার অপরাধের জীবন শুরু করে তার মায়ের ব্যাগ থেকে টাকা চুরি করার দ্বারা। কালক্রমে সে বয়স্কা মহিলাদের মাটিতে ফেলে দিয়ে তাদের ব্যাগ চুরি করতে শুরু করে!
লোভের বিরুদ্ধে লড়াই করা
এটা স্বীকার করতে হবে যে, যদি কেউ গোপনে চুরি করা আরম্ভ করে, তাহলে তা ছাড়া সহজ হবে না। “এটা এক ধরনের নেশা,” একজন যুবক স্বীকার করে। কোন্ জিনিসটি একজন যুবক বা যুবতীকে তাদের পথ পরিবর্তন করতে সাহায্য করতে পারে?
ঈশ্বরের কাছে তোমার পাপ স্বীকার কর। তিনি “প্রচুররূপে ক্ষমা করিবেন” সেইসব ব্যক্তিদের যারা তাদের অন্যায় কাজের জন্য অনুতপ্ত এবং খোলাখুলিভাবে তাঁর কাছে তা স্বীকার করে।—যিশাইয় ৫৫:৭.
সাহায্য নাও। এই পত্রিকার অনেক পাঠকের তাদের এলাকায় যিহোবার সাক্ষীদের খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর সাথে পরিচিত। সেইসব ব্যক্তিরা স্থানীয় খ্রীষ্টীয় অধ্যক্ষদের কাছ থেকে আধ্যাত্মিক সাহায্য ও সংশোধন গ্রহণ করতে পারে। (যাকোব ৫:১৪, ১৫) যে সব বাবামাদের উত্তম নৈতিক মান আছে তারাও সাহায্য ও সমর্থনের উৎস হয়ে উঠতে পারে। যদি ব্যথা, বেদনা অথবা কেবলমাত্র একঘেয়েমি এইধরনের বদভ্যাসের কারণ হয়ে থাকে তাহলে এক সদয় শ্রোতার কাছে এই নিয়ে কথা বললে তা হয়ত সাহায্যকারী হতে পারে।—হিতোপদেশ ১২:২৫.
ক্ষতিপুরণ দিন। মোশির নিয়মের অধীনে, চোরেদের চুরি করা জিনিসের মূল্য সুদ সমেত ফিরত দিতে হত। (লেবীয়পুস্তক ৬:৪, ৫) ঠিক একই জিনিস করার দ্বারা একজনের বিবেকই শুধু পরিষ্কার হয় না কিন্তু সে এও বুঝতে পারে যে চুরির ফলে অন্যেরা কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাইবেল প্রতিশ্রুতি দেয় যে যখন একজন ব্যক্তি “অপহৃত দ্রব্য পরিশোধ করে, . . . জীবনদায়ক বিধি-পথে চলে—তবে অবশ্য বাঁচিবে, সে মরিবে না।”—যিহিষ্কেল ৩৩:১৫.
ইর্ষা ও লোভের অনুভূতিগুলি দমন করা। দশ আজ্ঞার মধ্যে শেষ আজ্ঞাটি হল, “তোমার . . . প্রতিবাসীর কোন বস্তুতেই লোভ করিও না।” (যাত্রাপুস্তক ২০:১৭) যদি সত্যিই আপনার কোন জিনিসের প্রয়োজন হয়—বা আপনি যদি কিছু চান—কিন্তু তা আপনার সামর্থের বাইরে, তাহলে আপনি হয়ত কোন উপায়ে সেটি কেনার জন্য টাকা রোজকার করতে পারেন। প্রেরিত পৌল উপদেশ দেন: “চোর আর চুরি না করুক, বরং স্বহস্তে সদ্ব্যাপারে পরিশ্রম করুক।”—ইফিষীয় ৪:২৮.
তোমার সংসর্গের প্রতি দৃষ্টি রাখ। “তুমি যদি কোন বন্ধু বা বন্ধুদের দলের সাথে থাক যারা কোন না কোন কিছু অন্যায় বা অপরাধ করে থাকে,” লেখক ডেনিস ল্যাঙ্গ মনে করিয়ে দেন, “তাহলে শুধুমাত্র তাদের সংস্পর্শে থাকার জন্য তোমাকেও দোষী বলে গণ্য করা হবে।” যদি বন্ধুবান্ধবেরা অন্যায় কিছু করার প্রস্তাব দেয় তাহলে না বলার সাহস রাখ।—হিতোপদেশ ১:১০-১৯.
চুরির ফলে অন্যদের যে ক্ষতি হয় সেই কথা বিবেচনা কর। চোর কেবলমাত্র তার নিজের কথা ভাবে। কিন্তু যীশু আমাদের উপদেশ দেন: “অতএব সর্ব্ববিষয়ে তোমরা যাহা যাহা ইচ্ছা কর যে, লোকে তোমাদের প্রতি করে, তোমরাও তাহাদের প্রতি সেইরূপ করিও।” (মথি ৭:১২) যখন একজন অন্যের বিষয় চিন্তা করে তখন সে এমন কিছু করার প্রবণতাকে এড়িয়ে চলবে যা অপরের ক্ষতি সাধন করতে পারে।
তোমার নিজের পরিণামের কথা চিন্তা কর। (গালাতীয় ৬:৭) চকচকে গয়না অথবা কোন বস্তুসামগ্রী পেলে কতই না ভাল হয়, এটা চিন্তা করার পরিবর্তে এটা ভাবার চেষ্টা কর যে ধরা পড়া এবং প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া কতটা লজ্জাস্কর হতে পারে; আর এও ভেবে দেখ যে কতখানি নিন্দা তুমি তোমার বাবামা ও ঈশ্বরের উপর নিয়ে আসতে পার! তুমি অবশ্যই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে যে চুরি করা মোটেই উত্তম কাজ নয়। (g95 6/22)
[পাদটীকাগুলো]
a কয়েকটি নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
b আমরা এখানে ক্লেপ্টোম্যানিয়ার কথা আলোচনা করছি না—এটা একধরনের মানুষিক রোগ যা চুরি করতে প্ররোচিত করে। ডাক্তারেরা বলে থাকেন যে ক্লেপ্টোম্যানিয়া খুব বিরল এবং যারা দোকান থেকে জিনিস চুরি করে তাদের মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশ এর দ্বারা প্রভাবিত হয়। এই রোগ অনেক সময় ওষুধের মাধ্যমে সারিয়ে তোলা হয়।
[১৯ পৃষ্ঠার চিত্র]
দোকান থেকে যারা জিনিস চুরি করে তারা প্রায়ই ধরা পড়ে যাওয়ার লজ্জা ভোগ করে থাকে