ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • g৯৪ ৪/৮
  • সমর্থন যা প্রয়োজন

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • সমর্থন যা প্রয়োজন
  • ১৯৯৪ সচেতন থাক!
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • সমর্থনের প্রয়োজন
  • আশাবাদী দৃষ্টিকোণের জন্য কাজ করুন
  • রক্ষা পাওয়ার চাবিকাঠি
    ১৯৯৪ সচেতন থাক!
  • স্তন ক্যানসার সম্বন্ধে নারীদের যা জানা উচিত
    ১৯৯৪ সচেতন থাক!
  • আমাদের পাঠক-পাঠিকাদের থেকে
    ১৯৯৪ সচেতন থাক!
  • একজন অসুস্থ বন্ধুকে যেভাবে সাহায্য করা যায়
    ২০১১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
১৯৯৪ সচেতন থাক!
g৯৪ ৪/৮

সমর্থন যা প্রয়োজন

“আমাকে মৃত্যুর ভয় ও অবসাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়,” বলেন ভার্জিনিয়া, আর্জেন্টিনার এক যিহোবার সাক্ষী। স্তন ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তাকে সম্পূর্ণ স্তন এবং দুটি ডিম্বকোষই ব্যবচ্ছেদ করতে হয়।a

a  রজোনিবৃত্তি পূর্বকালীন স্ত্রীদের ক্ষেত্রে ডিম্বকোষ হল এস্ট্রোজেনের প্রধান উৎস।

প্রকৃতপক্ষে, স্তন ক্যানসারে মৃত্যুর ভয় হল সাধারণ। এই ভয়ের সাথে অক্ষমতার ভয় ও স্ত্রীজনিত গুণাবলীর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত ক্ষমতা ও প্রতিপালন ক্ষমতা হারানো, এক স্ত্রীয়ের জীবনে মানসিকভাবে প্রবল সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। প্রচণ্ডরূপে একাকীত্বের অনুভব তাকে শীঘ্রই আশাহীন মনোভাবে নিমজ্জিত করতে পারে। এই প্রকারের মানসিক অত্যাচার থেকে সে কিভাবে অব্যাহতি পাবে?

সমর্থনের প্রয়োজন

“তার সমর্থনের প্রয়োজন!” যুক্তরাষ্ট্রের জোন বলেন। তার মা ও দিদিমা স্তন ক্যানসারের শিকার হয়েছিলেন এবং এখন সে একই লড়াইয়ের সম্মুখীন যা তাদের মোকাবিলা করতে হয়েছিল। এই সময়েই পরিবারের বিশ্বাসী সদস্য ও বন্ধুরা সমর্থন ও সাহায্য করতে পারে। জোনের স্বামী টেরি তার সুদৃঢ় আশাবাদী সমর্থক হয়। টেরি বলেন: “আমি যা মনে করি, আমার ভূমিকাটি হল সুস্থির প্রভাব বিস্তার করা। চিকিৎসা সম্পর্কে জোনকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করার আমার প্রয়োজন ছিল যা তাকে হাল ছেড়ে না দিয়ে লড়াই করতে দৃঢ় আস্থা ও শক্তি যোগাবে। ক্যানসার অপারেশন সম্বন্ধে তার যে ভয় ছিল তা আমাদের মোকাবিলা করতে হয় এবং ডাক্তারের সাথে আলোচনা করার সময়ে তার প্রশ্ন ও ভয় সম্পর্কে যেন আলোচনা করা হয় সেই সম্বন্ধে আমি নিশ্চিত হই।” টেরি আরও বলেন: “আমাদের পরিবার এবং সহ খ্রীষ্টানদের যাদের পারিবারিক সমর্থন নেই তাদের প্রতি এটি হল একটি বিষয় যা আমরা করতে পারি। চিকিৎসা জগতের ব্যক্তিদের সামনে আমরা তাদের দৃষ্টি, শ্রবণশক্তি ও স্বর হতে পারি।”

যারা অবিবাহিত অথবা যারা স্বামী হারিয়েছেন তাদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন আছে। অস্ট্রেলিয়ার ডায়না আমাদের বলেন: “পাঁচ বছর আগে ক্যানসার অপারেশনের পর আমার স্বামী মারা যান কিন্তু আমার ছেলেমেয়েরা তার অনুপস্থিতি পূর্ণ করতে সাহায্য করেছিল। তারা দয়াপূর্ণ ছিল কিন্তু আবেগপূর্ণ ছিল না। এটি আমাকে শক্তি দেয়। প্রত্যেকটি বিষয় শীঘ্র ও শান্তভাবে করা হয়।”

স্তন ক্যানসার সমস্ত পরিবারের উপর মানসিক প্রভাব ফেলে। সুতরাং তাদের সকলেরই অপরের (বিশেষ করে তাদের আধ্যাত্মিক ভাই ও বোনদের কাছ থেকে, যদি তারা যিহোবার সাক্ষী হন) কাছ থেকে প্রেমপূর্ণ চিন্তা ও সমর্থনের প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের রেবেকা, যার মা স্তন ক্যানসারের সাথে লড়াই করেন, বলেন: “মণ্ডলী হল আপনার পরিবারেরই অংশ এবং আপনার অবেগের উপর তাদের কাজগুলি প্রচুর প্রভাব ফেলে। যদিও অনেকে ব্যক্তিগতভাবে আমার মায়ের বেছে নেওয়া অপ্রচলিত চিকিৎসার প্রতি সমর্থন করেননি, তারা টেলিফোন ও সাক্ষাৎ করে আমাদের মানসিক সাহায্য করেছিলেন। মায়ের বিশেষ খাদ্য প্রস্তুতের জন্য অনেকে এসে সাহায্যও করেছিলেন। প্রাচীনেরা টেলিফোনের সাথে সংযোগ ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন যাতে আমরা প্রত্যেকটা সভা শুনতে পাই। মণ্ডলী এমনকি টাকা-পয়সা উপহার দিয়ে কার্ডও পাঠায়।”

জোন স্বীকার করেন: “আজ পর্যন্ত, যখন আমি আমার আধ্যাত্মিক ভাই-বোনদের প্রদর্শিত প্রেমের কথা চিন্তা করি তখন আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে! সপ্তাহে পাঁচ দিন করে সাত সপ্তাহের জন্য আমার প্রীতিপূর্ণ বোনেরা পালা করে চিকিৎসার জন্য আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতেন ও নিয়ে আসতেন। আর সেটি ছিল আসা-যাওয়া নিয়ে মোট ১৫০ কিলোমিটার পথ! এই খ্রীষ্টীয় ভ্রাতৃত্বের অপূর্ব আশীর্বাদের জন্য আমি কতই না যিহোবাকে ধন্যবাদ দিই!”

আর একটি উপায়ে আমরা সকলে উৎসাহ প্রদানকারী ও সমর্থনকারী হতে পারি তা হল আমাদের গঠনমূলক মন্তব্যের মাধ্যমে। নেতিবাচক বিষয় সম্বন্ধে প্রতি কথা বলে অনিচ্ছাকৃত সমস্যার সৃষ্টি যাতে না করতে পারি তার প্রতি সতর্ক থাকতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার জুন বলেন: “যার কখনও ক্যানসার হয়নি সে যে সঠিক বিষয় বলবেন সেই সম্বন্ধে কারুর আশা করা উচিত নয়। আমার ক্ষেত্রে আমি মনে করি অপরকে ক্যানসার রোগ সম্বন্ধে বলা উচিত নয় যদি রোগের ফলাফল ভাল না হয়।” জাপানের নরিকো স্বীকার করেন: “যদি লোকে কারুর সম্বন্ধে বলে যে ক্যানসার রোগ থেকে সেরে উঠেছে এবং তার পুনরাক্রমণ হয়নি তাহলে আমারও আশা আছে যে আমিও তাদের মত হব।”

স্মরণে রাখবেন, কিছু মহিলারা পছন্দ করে না যে তাদের স্বাস্থ্য সম্বন্ধে সবসময় কথা বলা হোক। কিন্তু অন্যেরা, নিজেদের মঙ্গলের জন্য অপরের কাছে স্তন ক্যানসারের অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে বলার প্রয়োজন বোধ করে বিশেষ করে যারা তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়। কোন্‌টি সবচেয়ে সাহায্যকারী বিষয় তা একজন কিভাবে জানবেন? যুক্তরাষ্ট্রের হেলেন প্রস্তাব দেন: “সেই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করুন যে সে সেই সম্বন্ধে কথা বলতে চায় কি না আর তাকেই কথা বলতে দিন।” হ্যাঁ, ডেনমার্কের ইঙ্গেলিসা বলেন “শোনার জন্য প্রস্তুত থাকুন। তাকে মানসিক সমর্থন যোগাতে সেখানে থাকুন, যাতে সে তার দুঃখজনক মনোভাব নিয়ে একা না থাকে।”

আশাবাদী দৃষ্টিকোণের জন্য কাজ করুন

স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা রোগীকে সপ্তাহের পর সপ্তাহ, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর পরিশ্রান্ত ও ক্লান্ত করে দেয়। স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত মহিলাদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে পারে যে, সে আগের মত আর অত কিছু করতে পারে না সেই বিষয়টির মোকাবিলা করা। তার দেহের ক্ষমতা যে সীমিত, তা তাকে স্বীকার করতে হয় যার অর্থ হল ঘোরা-ফেরা কম করে দেওয়া ও দিনেরবেলা বিশ্রাম নেওয়া।

যখন অবসাদ দেখা দেয় তখন ইতিবাচক মনোভাব রাখার জন্য শীঘ্র পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নোরিকো তার অভিজ্ঞতাটি বলেন: “হরমোন চিকিৎসার জন্য আমি অবসাদে ভুগতে আরম্ভ করি। এই অবস্থাতে আমি যা করতে চাই তা করতে পারি না এবং যিহোবার ও খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর কাছে নিজেকে অকর্মণ্য বলে মনে করি। যতই আমার চিন্তাধারা নেতিবাচক হতে থাকে, আমি ততই আমার পরিবারের সেই সকল সদস্যদের ক্যানসারে ভোগার সর্বশেষ যন্ত্রণার কথা মনে করতে থাকি। চিন্তা করার সাথে সাথে আমার ভয় হতে থাকে, ‘তারা যেমন সহ্য করেছিল, আমি কি তা সহ্য করতে পারব?’”

নোরিকো আরও বলেন: “সেই সময়েই আমি যিহোবার সাক্ষীদের প্রকাশনা ব্যবহার করে আমার চিন্তাধারার রদ্বদল করি এই চিন্তা করার জন্য যে যিহোবা আমাদের অস্তিত্বকে কিভাবে দেখেন। আমি শিখি যে ঈশ্বরীয় ভক্তি প্রদর্শন করা যায় কাজের পরিমাণের মাধ্যমে নয় কিন্তু যে উদ্দেশ্যে সেটি করা হয় তার মাধ্যমে। যিহোবা যাতে আমার হৃদয়ের অবস্থা ও আমার চিন্তাধারাতে আনন্দ পান, সেই ইচ্ছার সাথে সাথে আমি সিদ্ধান্ত নিই যে যেন তাকে সম্পূর্ণ চিত্তে ও আনন্দের সাথে সেবা করি যদিও আমি খ্রীষ্টীয় পরিচর্যায় সামান্য কিছু করতে সমর্থ হই।”

স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত বহু মহিলার ক্ষেত্রে দীর্ঘকালস্থায়ী অনিশ্চয়তা আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি সরিয়ে দিতে থাকে। ডায়না বলেন যে তাকে যা সবচেয়ে সাহায্য করছে তা হল যিহোবা ঈশ্বর তাকে যে সুন্দর বিষয়গুলি দিয়েছেন তা দিয়ে তার হৃদয় ও মনকে পরিপূর্ণ করা: “আমার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, সুন্দর সঙ্গীত, বিশাল সমুদ্র ও অপূর্ব সূর্যাস্তের প্রতি দেখা।” তিনি বিশেষ করে উৎসাহ দেন: “ঈশ্বরের রাজ্য সম্বন্ধে অপরকে বলুন। রাজ্যের অধীনে পৃথিবীতে যে পরিস্থিতি থাকবে তার প্রতি প্রকৃত স্পৃহা গড়ে তুলুন, যেখানে থাকবে না কোন অসুস্থতা!”​—⁠মথি ৬:​৯, ১০.

তার জীবনের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে ধ্যান করার দ্বারা ভার্জিনিয়াও অবসাদের সাথে মোকাবিলা করতে শক্তি পায়: “আমি প্রকৃতই বেঁচে থাকতে চাই কারণ আমার কত মূল্যবান কাজ করার আছে।” যখন সঙ্কটপূর্ণ সময় আসে ও ভয় ঘিরে ধরে, তিনি বলেন: “আমি সম্পূর্ণরূপে যিহোবাতে আস্থা রাখি কারণ আমি জানি যে তিনি কখনও আমাকে পরিত্যাগ করবেন না।” আর আমি গীতসংহিতা ১১৬:৯ পদের কথা চিন্তা করি, যা আমাকে আস্থা প্রদান করে ‘আমি সদাপ্রভুর সাক্ষাতে যাতায়াত করিব, জীবিতদের দেশেই করিব।’”

এই সকল মহিলারা বাইবেলের ঈশ্বর যিহোবার প্রতি তাদের আশাকে কেন্দ্রীভূত করেছে। বাইবেলের পুস্তক ২ করিন্থীয় ১ অধ্যায় ৩ এবং ৪ পদ যিহোবাকে বলেছে ‘সমস্ত সান্ত্বনার ঈশ্বর, যিনি আমাদের সমস্ত ক্লেশের মধ্যে আমাদিগকে সান্ত্বনা করেন।’ যাদের সান্ত্বনার প্রয়োজন আছে তাদের কি যিহোবা হাত বাড়িয়ে সমর্থন করেন?

জাপানের মিকো উত্তর দেন: “আমি দৃঢ় নিশ্চিত যে তাঁর পরিচর্যায় রত থেকে আমি যিহোবার প্রচুর সান্ত্বনা ও সাহায্য পাই।” ইয়োশিকোও আমাদের বলেন: “লোকে আমার যন্ত্রণা সম্বন্ধে হয়ত না বুঝলেও, যিহোবা সব জানেন এবং আমি দৃঢ় বিশ্বাসী যে তিনি আমার প্রয়োজন অনুসারে আমাকে সাহায্য করেছেন।”

জোন বলেন: “হতাশা থেকে মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে নিয়ে আসার শক্তি প্রার্থনার আছে। পৃথিবীতে থাকাকালীন যীশু যে বিরাট সুস্থ করার কার্য সম্পাদন করেছিলেন এবং নতুন জগতে তিনি যে সম্পূর্ণরূপে সুস্থ করার কার্য করবেন, যখন আমি তার কথা চিন্তা করি, সেই বাক্য আমাকে কতই না সান্ত্বনা দেয়!”​—⁠মথি ৪:​২৩, ২৪; ১১:৫; ১৫:​৩০, ৩১.

আপনি কি এক জগতের কথা কল্পনা করতে পারেন যেখানে স্তন ক্যানসার থাকবে না, আসলে এমনকি কোন অসুস্থতাই থাকবে না? সমস্ত সান্ত্বনার ঈশ্বর যিহোবা এই প্রতিজ্ঞা করেছেন। যিশাইয় ৩৩:২৪ পদ এমন এক সময়ের কথা বলে যখন পৃথিবীর কোন লোকই বলবে না যে সে অসুস্থ। সেই আশা খুব শীঘ্রই বাস্তবে রূপায়িত হবে যখন ঈশ্বরের রাজ্য তাঁর পুত্র, খ্রীষ্ট যীশুর মাধ্যমে পৃথিবীর উপর সম্পূর্ণ শাসন নিয়ে এসে পৃথিবী থেকে রোগ, দুঃখ ও মৃত্যুর কারণ মুছে দেবে! এই অপূর্ব আশা সম্বন্ধে প্রকাশিত বাক্য ২১:৩ থেকে ৫ পদ পড়ুন না কেন? সমর্থনের সাথে ভবিষ্যতকে মোকাবিলা করতে সাহস করুন কারণ সেটিই সান্ত্বনা প্রদান করে। (g94 4/8)

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার