যুবক-যুবতীদের জিজ্ঞাস্য
বাড়ির নিয়ম কি সত্যিই দরকার?
বাড়ির নিয়ম মানতে গিয়ে তুমি কি হিমশিম খাচ্ছ? এই প্রবন্ধ এবং এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত একটা ওয়ার্কশিট তোমাকে বাবা-মায়ের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলতে সাহায্য করবে।
সঠিক মনোভাব
ভুল ধারণা: বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তোমাকে আর কোনো নিয়ম মানতে হবে না।
সঠিক তথ্য: বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পরও তোমাকে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। সবসময় কেউ-না-কেউ থাকবে, যার কাছে তোমাকে জবাবদিহি করতেই হবে, সেটা হতে পারে তোমার অফিসের বস, বাড়ির মালিক আর এমনকী সরকার। ১৯ বছর বয়সি ড্যানিয়েলে বলে: “যে-অল্পবয়সিরা বাড়ির নিয়ম মেনে চলে না, তারা যখন ভবিষ্যতে একা থাকতে শুরু করবে, তখন তাদের অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।”
বাইবেল বলে: ‘সরকারের ও কর্তৃপক্ষের বাধ্য থাক।’ (তীত ৩:১) তুমি যদি এখন তোমার বাবা-মায়ের দেওয়া নিয়ম মেনে চল, তা হলে তুমি যখন বড়ো হবে, তখন এটা তোমাকে জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে।
তুমি যা করতে পার: বাড়ির নিয়ম মেনে চললে তুমি কোন উপকার পাবে, সেটা নিয়ে চিন্তা কর। জেরেমি নামে একজন যুবক বলে: “আমার বাবা-মা আমাকে যে-নিয়মগুলো দিয়েছিল, সেগুলো আমাকে বন্ধু বাছাই করতে এবং সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে সাহায্য করেছে। এ ছাড়া, এই নিয়মগুলো আমাকে অতিরিক্ত টিভি দেখা এবং ভিডিও গেম খেলা থেকে দূরে রেখেছে আর এমন কিছু অর্থপূর্ণ কাজ খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে, যেগুলো আমি এখনও উপভোগ করি।”
সঠিক উপায়ে কথা বলা
তোমার যদি বাড়ির কোনো একটা নিয়মকে যুক্তিহীন বলে মনে হয়, তা হলে? যেমন, তামারা নামে একজন যুবতী বলে: “আমার বাবা-মা আমাকে একা একা বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল, কিন্তু এখন বাড়ি আসার পর তারা আমাকে গাড়ি নিয়ে এমনকী ২০ মিনিট দূরে কোনো জায়গায় যেতে দেয় না।”
তোমার পরিস্থিতিও যদি একইরকম হয়, তা হলে এই বিষয় নিয়ে তোমার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলা কি ভুল হবে? একেবারেই নয়। মূল বিষয়টা হল, তোমাকে জানতে হবে কখন ও কীভাবে তাদের সঙ্গে তুমি এই বিষয়ে কথা বলবে।
কখন? আমান্ডা নামে একজন কিশোরী বলে: “তুমি যদি ইতিমধ্যেই তোমার বাবা-মায়ের বিশ্বাস অর্জন করে থাক, তা হলে তুমি কোনো নিয়ম রদবদল করার বিষয়ে তোমার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলতে পার।”
ডারিয়া নামে একজন মেয়ে এই বিষয়টার সঙ্গে একমত। সে বলে: “আমার মা যখন দেখেন যে, আমি সবসময় তার কথা শুনি, তখন তিনি নিয়মগুলোতে কিছুটা রদবদল করতে রাজি হন।” মনে রেখো, বিশ্বাস অর্জন করতে হয়, এটা দাবি করা যায় না।
বাড়ির নিয়ম মেনে না চলা এমন একটা এয়ারপোর্টে প্লেন ল্যান্ড করানোর মতো, যেখানে কোনো এয়ার ট্র্যাফিক নিয়ম মেনে চলা হয় না
বাইবেল বলে: “তোমার বাবার আজ্ঞা পালন করো আর তোমার মায়ের নির্দেশনা ত্যাগ কোরো না।” (হিতোপদেশ ৬:২০) এই পরামর্শ মেনে চললে তুমি তোমার বাবা-মায়ের কাছে বিশ্বাস অর্জন করতে পারবে এবং তোমার কাছে তাদের সঙ্গে আলোচনা করার একটা ভিত্তি থাকবে।
কীভাবে? স্টিভেন নামে একজন যুবক বলে: “তোমার বাবা-মায়ের সঙ্গে ঝগড়া ও চিৎকার চ্যাঁচামেচি না করে শান্তভাবে এবং সম্মানের সঙ্গে কথা বললে আরও ভালো হবে।”
ডারিয়া যার বিষয়ে আগে বলা হয়েছে, সেও এই বিষয়ে একমত। সে বলে: “আমি যখন আমার মায়ের সঙ্গে তর্ক করি, তখন ঠিক তো কিছুই হয় না, উল্টে তিনি আমার উপর আরও নিয়ম চাপিয়ে দেন।”
বাইবেল বলে: “মূর্খ ব্যক্তি তার মনের সমস্ত রাগ প্রকাশ করে দেয়, কিন্তু বিজ্ঞ ব্যক্তি শান্তভাবে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখে।” (হিতোপদেশ ২৯:১১) নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখার মধ্যে অনেক উপকার রয়েছে। এটা শুধুমাত্র বাড়িতেই নয়, কিন্তু সেইসঙ্গে স্কুলে, অফিসে এবং অন্যান্য জায়গাতেও সাহায্য করে।
তুমি যা করতে পার: কথা বলার আগে চিন্তা কর। তুমি যদি রেগে গিয়ে কিছু বলে বা করে ফেলো, তা হলে সেই একটা ভুলের কারণে তুমি এতদিন ধরে যে-বিশ্বাস অর্জন করেছ, সেটা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই কারণে বাইবেল বলে, “যে তাড়াতাড়ি রেগে যায় না, সে খুবই বিচক্ষণ ব্যক্তি।”—হিতোপদেশ ১৪:২৯.
পরামর্শ: এই প্রবন্ধের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ওয়ার্কশিটটা ব্যবহার করতে পার এবং যদি প্রয়োজন হয়, তা হলে বাবা-মায়ের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলতে পার।