জুন ২৯–জুলাই ৫, ২০২৬
গান ১৩১ “ঈশ্বর যা যুক্ত করেছেন”
আপনার জীবনসাথির সঙ্গে বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় করুন
“এমন বন্ধুও রয়েছে, যে ভাইয়ের চেয়েও বেশি অনুগত।”—হিতো. ১৮:২৪, NW.
আমরা কী শিখব?
একজন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কতটা ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব রয়েছে এবং তারা দু-জনে যিহোবাকে কতটা ভালোবাসে, সেটার উপর ভিত্তি করেই একটা সুখী বিবাহিত জীবন গড়ে ওঠে।
১. কেন ভালো বন্ধুরা যিহোবার দেওয়া এক মূল্যবান উপহার?
ভালো বন্ধুরা হল যিহোবার দেওয়া এক মূল্যবান উপহার। (যাকোব ১:১৭) কারণ তারা ঈশ্বরকে ভালোবাসে এবং তারা আমাদেরও ভালোবাসে। ভালো বন্ধুরা আমাদের সঙ্গে আনন্দ করে, দুঃখের সময়ে আমাদের সান্ত্বনা দেয় আর যখন প্রয়োজন হয়, তখন তারা আমাদের আন্তরিকভাবে পরামর্শ দিয়ে থাকে। তারা আমাদের সবসময় সাহায্য করে এবং আমরা তাদের উপর নির্ভর করতে পারি। এইরকম বন্ধুরা সত্যিই আমাদের “মনকে খুশি করে!”—হিতো. ২৭:৯, NW.
২. কেন বিবাহিত দম্পতিদের জন্য তাদের বন্ধুত্বের বন্ধনকে দৃঢ় করা গুরুত্বপূর্ণ? (মথি ১৯:৬)
২ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের কখনো এই বন্ধুত্বকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। তাদের এই বন্ধুত্বকে ক্রমাগতভাবে দৃঢ় করা উচিত। তারা যদি এই বন্ধুত্বের সম্পর্ককে উপেক্ষা করে, তা হলে তারা একাকিত্বে এবং হতাশায় ভুগতে পারে আর সহজেই একে অপরের প্রতি রেগে যেতে পারে। এর পরিবর্তে, তারা যদি তাদের এই বন্ধুত্বকে ধরে রাখার জন্য প্রচেষ্টা করে, তা হলে তাদের এই বন্ধন চিরস্থায়ী হতে পারে। (পড়ুন, মথি ১৯:৬.) এই প্রবন্ধে আমরা দেখব, কীভাবে বিবাহিত দম্পতিরা তাদের বন্ধুত্বকে দৃঢ় করতে পারে। কিন্তু, প্রথমে আমরা এই বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করব, একজন অবিবাহিত খ্রিস্টান কীভাবে তার জীবনসঙ্গী বেছে নিতে পারেন, যে চিরকাল ধরে তার ভালো বন্ধু হয়ে থাকবে।
চিরজীবনের জন্য একজন বন্ধুকে কীভাবে বেছে নেওয়া যায়?
৩-৪. কোন বিষয়টা একজন খ্রিস্টানকে তার উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে সাহায্য করবে? (হিতোপদেশ ১৮:২২)
৩ কোনো বড়ো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের দেখে নেওয়া উচিত যে, আমরা যে-সিদ্ধান্তটা নিচ্ছি, সেটার পরিণতি কী হতে পারে, এর মধ্যে কোনো ঝুঁকি রয়েছে কি না এবং এর থেকে আমরা কোনো উপকার পাব কি না। বড়ো বড়ো সিদ্ধান্তগুলো দীর্ঘ সময়ের জন্য আমাদের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই, এটা গুরুত্বপূর্ণ যেন আমরা সবকিছু আগে থেকে ভালোভাবে চিন্তা করে নিই।
৪ চিরজীবনের জন্য একজন জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়া হল, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। যেহেতু যিহোবাই প্রথম বিয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন, তাই জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার জন্য তাঁর নির্দেশনাই আমাদের মেনে চলা উচিত। তিনি চান একজন স্বামী যেন তার জীবনে এক উত্তম স্ত্রী খুঁজে পান এবং একজন স্ত্রী যেন এক উত্তম স্বামী খুঁজে পান। আমাদের জন্য কোনটা সবচেয়ে ভালো, সেটা একমাত্র যিহোবাই জানেন। (পড়ুন, হিতোপদেশ ১৮:২২; যিশা. ৪৮:১৭, ১৮) ঈশ্বরের বাক্য বাইবেলে যে-সমস্ত নীতি রয়েছে, সেগুলো একজন খ্রিস্টানকে তার উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।
৫. কেন একজন বাপ্তাইজিত খ্রিস্টানকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ?
৫ আমরা যখন বাপ্তিস্ম নিই, তখন আমরা ঈশ্বরের বন্ধু হয়ে উঠি। (গীত. ২৫:১৪) আপনি যদি বিয়ে করতে চান, তা হলে আপনার উচিত এমন কাউকে বেছে নেওয়া, যিনি যিহোবার একজন বন্ধু। (১ করি. ৭:৩৯) আপনি যদি তা করেন, তা হলে আপনি যিহোবার মানের প্রতি সম্মান দেখাবেন এবং এটা বুঝতে পারবেন যে, আপনার জীবনসঙ্গী যিহোবার কাছ থেকে পাওয়া এক আশীর্বাদ। (হিতো. ১৯:১৪) এ ছাড়া, “যারা খ্রিস্টের অনুসারী নয়, তাদের সঙ্গে যুক্ত” না হয়ে আপনি অনেক সমস্যা এড়াতে পারবেন। (২ করি. ৬:১৪) সাক্ষিদের মধ্যে আপনার পছন্দের কাউকে না পেয়ে আপনি যদি কোনো ন-সাক্ষি ব্যক্তির সঙ্গে ডেটিং করেন, তা হলে এটা কতই-না মূর্খতার এক কাজ হবে। আর আপনার এটাও ধরে নেওয়া উচিত নয় যে, আপনি যদি কোনো ন-সাক্ষি ব্যক্তির সঙ্গে ডেটিং করেন, তা হলে সে হয়তো সত্য শিখবে।
৬-৭. ডেটিং করার সময়ে কোন বিষয়গুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ?
৬ এটা ঠিক, বাপ্তাইজিত হলেই যে একজন ব্যক্তি উপযুক্ত জীবনসঙ্গী হবে, এমন নয়। আপনি যাকে আপনার জীবনসঙ্গী করবেন বলে মনে করছেন,a তার বিষয়ে এইরকম কিছু প্রশ্ন নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: ‘পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক কেমন? তিনি কি একজন সদয় ব্যক্তি এবং সকলকে সম্মান করেন? তার বন্ধুরা কেমন? কোনো বিষয়ে মতের অমিল দেখা দিলে তিনি কেমন প্রতিক্রিয়া দেখান? তিনি কি সবসময় নিজের সিদ্ধান্তকেই প্রাধান্য দেন, না কি তিনি অন্যের কথাও মেনে নেন, যদি সেটা বাইবেলের নীতির বিরুদ্ধে না হয়? টাকাপয়সার বিষয়ে তার কেমন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে?’
৭ আপনি নিজেকে আরও কয়েকটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারেন: ‘যিহোবার প্রতি তার কি গভীর ভালোবাসা রয়েছে? তিনি কি “নতুন ব্যক্তিত্বকে কাপড়ের মতো পরিধান” করেছেন? তিনি কি আমাকে আরও বেশি করে যিহোবার সেবা করতে সাহায্য করবেন? আমাদের কি একই আধ্যাত্মিক লক্ষ্য রয়েছে? আমরা কি একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে উঠতে পারব?’ (কল. ৩:৯, ১০) আপনি যদি একজন বোন হন, তা হলে আপনি যে-ভাইয়ের সঙ্গে ডেটিং করছেন, তিনি কি আপনার একজন ভালো বন্ধু এবং পরিবারের মস্তক হতে পারবেন? (১ করি. ১১:৩) আপনি যদি একজন ভাই হন, তা হলে যে-বোনের সঙ্গে আপনি ডেটিং করছেন, তিনি কি আপনার অসিদ্ধতা সত্ত্বেও আপনাকে পরিবারের মস্তক হিসেবে মেনে নেবেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়ার জন্য সময় লাগবে। তাই, আপনি যার সঙ্গে ডেটিং করছেন, তার বিষয়ে ভালোভাবে জেনে নিন।
৮-৯. ডেটিং করার সময় কোন বিষয়টা একজন ব্যক্তিকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে? (ছবিও দেখুন।)
৮ আপনি যার সঙ্গে ডেটিং করছেন, তিনি কী ধরনের ব্যক্তি সেটা যদি আপনি জানার চেষ্টা করেন, তা হলে আপনি হয়তো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এটা জানার চেষ্টা করুন, অন্যেরা তাকে কোন চোখে দেখে, তার কতটা সুনাম রয়েছে এবং তার কী কী গুণ রয়েছে। লোকেরা কি তাকে একজন নম্র, সদয় এবং যুক্তিবাদী ব্যক্তি বলে মনে করে? ফ্রেঞ্চ গায়েনায় বসবাসরত বোন সারা, যিনি ড্যানিয়েল নামে একজন ভাইকে বিয়ে করেন, তিনি বলেন: “আমি ড্যানিয়েলের একজন বন্ধু যিনি ওর সঙ্গে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন এবং ড্যানিয়েলের আরেক জন অগ্রগামী বন্ধুর কাছ থেকে ওর সম্বন্ধে অনেক কিছু জানতে পারি। এ ছাড়া মণ্ডলীর প্রাচীন, আমাদের কিছু বন্ধু এবং ড্যানিয়েল যে-মণ্ডলীতে যোগ দিত, সেই মণ্ডলীর বোনদের কাছ থেকেও আমি অনেক কিছু জানতে পারি।” আপনি যার সঙ্গে ডেটিং করছেন, তাকে সদয়ভাবে জিজ্ঞেস করতে পারেন যে, তার অতীতে বা বর্তমানে এমন কিছু বিষয় বা অভ্যাস রয়েছে কি না, যেটা আপনার জানা উচিত। যদি আপনি এগুলো আগে থেকে না জানেন, তা হলে পরবর্তী সময়ে আপনাদের বিয়েতে কিছু গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৯ আপনার মনের মধ্যে যদি কোনো সন্দেহ থাকে অথবা কোনো পরিপক্ব ভাই বা বোন আপনাকে যদি আন্তরিকভাবে এই বিষয়ে কোনো পরামর্শ দেন, তা হলে সেটাকে কখনো হালকাভাবে নেবেন না। এই ধরনের সাহায্যের মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন যে, সেই ব্যক্তিকে বিয়ে করা আপনার ঠিক হবে কি না।b এখন আসুন, আমরা এই প্রবন্ধের পরবর্তী অংশে বিবাহিত দম্পতিদের প্রতি মনোযোগ দিই।
ডেটিং করার সময় অপর ব্যক্তিকে ভালোভাবে জানার চেষ্টা করুন (৮-৯ অনুচ্ছেদ দেখুন)
আপনাদের বন্ধুত্বকে দৃঢ় করার জন্য একসঙ্গে সময় কাটান
১০. কেন স্বামী-স্ত্রীদের জন্য একসঙ্গে সময় কাটানো গুরুত্বপূর্ণ?
১০ স্বামী-স্ত্রীরা যতই ব্যস্ত থাকুক না কেন, তারা যদি একসঙ্গে সময় কাটায়, তা হলে তারা তাদের বন্ধুত্বকে এবং বিয়ের বন্ধনকে আরও বেশি দৃঢ় করতে পারবে। এটা তাদের একে অপরের সঙ্গে দৈনন্দিন জীবন নিয়ে আলোচনা করার, নিজেদের আবেগ ও অনুভূতি প্রকাশ করার, একে অপরের প্রতি প্রেম দেখানোর এবং আনন্দের কিছু মুহূর্ত কাটানোর একটা সুযোগ করে দেবে।
১১. স্বামী-স্ত্রীর বন্ধুত্বের সম্পর্ক কীভাবে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে?
১১ স্বামী-স্ত্রীরা যদি ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়, তা হলে তারা কখনোই একে অপরকে ছেড়ে থাকতে চাইবে না। একেক সময় তাদের কিছু দিনের জন্য আলাদা থাকতে হতে পারে। কিন্তু, তা যদি দীর্ঘদিনের জন্য হয়, তা হলে সেটা খুব ক্ষতিকর হতে পারে। এমন কিছু উদাহরণ রয়েছে, যেখানে একজন ব্যক্তি বিদেশে কাজ পেয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে অনেক দিন ধরে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও এইরকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে আর্থিক দিক দিয়ে কিছুটা সুবিধা হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের কাছ থেকে আলাদা থাকা বিবাহিত জীবনের উপর খুবই খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।
১২-১৩. (ক) কিছু বিবাহিত খ্রিস্টান তাদের সাথির সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য কী করেছে? (ছবিও দেখুন।) (খ) আপনার সাথিকে আপনার জীবনে কোন স্থান দেওয়া উচিত? (“আপনার সাথি আপনার জীবনে কোন স্থানে রয়েছে?” শিরোনামের বাক্সটা দেখুন।)
১২ লক্ষ করুন, কিছু বিবাহিত দম্পতি একসঙ্গে সময় কাটানোর জন্য কী করেছে। বোন লিয়া যিনি গুয়ামে থাকেন তিনি বলেন: “আমি ও আমার স্বামী একসঙ্গে কাজ করতে ভালোবাসি। আমরা যেখানেই যাই না কেন, সবসময় একসঙ্গে যাই।” যুক্তরাষ্ট্রের একজন বোন রোক্সান বলেন: “কাজের এত চাপ থাকে যে, আমরা একে অপরের সঙ্গে সময়ই কাটাতে পারি না। তাই, আমরা একটা নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে নিয়েছি, যখন আমরা একসঙ্গে সময় কাটাব।” (তুলনা করুন, আমোষ ৩:৩) দেমিয়েন নামে একজন ভাই যিনি ফ্রান্সে থাকেন, তিনি এই বিষয়টা উল্লেখ করে বলেন: “আমরা একে অপরের পছন্দের বিষয়গুলো নিজের করে নিয়েছি এবং একসঙ্গে সেগুলো করে আনন্দও পাই।” (মথি ৭:১২) যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন আরও একজন বোন কেটি বলেন: “একে অপরের সঙ্গে কথা বলার সময় আমরা আমাদের মোবাইল দূরে সরিয়ে রাখি, যাতে সেটা আমাদের বিক্ষিপ্ত করতে না পারে।”
১৩ একে অপরের সঙ্গে সময় কাটানোর সবচেয়ে উত্তম উপায় হল, একসঙ্গে যিহোবার সেবা করা। বোন মিরিয়াম যিনি ফ্রান্সে থাকেন, তিনি বলেন: “আমাদের দিন বাইবেল পাঠ দিয়ে শুরু হয় এবং বাইবেল পড়ার পর আমাদের কী ভালো লেগেছে আর কোন বিষয়টা আমরা কাজে লাগাতে চাই, সেটা নিয়ে আমরা একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করি। আর এটা আমার সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত।” বোন আরও বলেন: “আমরা যখন একসঙ্গে প্রার্থনা করি এবং যিহোবার প্রতি আমার স্বামীর যে-গভীর ভালোবাসা রয়েছে, সেটা দেখি, তখন আমার খুব ভালো লাগে।” কেটি যার কথা আগে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি বলেন: “একসঙ্গে প্রচার করতে আমাদের খুব ভালো লাগে আর এই সময়টা আমরা দু-জনেই খুব উপভোগ করি। আমরা যখন একে অন্যকে যিহোবা সম্বন্ধে কথা বলতে দেখি, তখন আমরা একে অপরের কাছ থেকে নতুন নতুন বিষয় শিখি। আর এর ফলে আমাদের বন্ধুত্ব আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে।”—হিতো. ২৭:১৭.
আপনার সাথির সঙ্গে প্রতিদিন সময় কাটানোর মাধ্যমে আপনাদের বন্ধুত্বের বন্ধনকে দৃঢ় করুন (১২-১৩ অনুচ্ছেদ দেখুন)
সমস্যার সময়ে একে অপরের পাশে থাকুন
১৪-১৫. কেন দম্পতিদের বিবাহিত জীবনে আসা সমস্যাগুলোর সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য প্রচেষ্টা করা উচিত? একটা উদাহরণ দিন।
১৪ অসিদ্ধ হওয়ার কারণে বিবাহিত দম্পতিদের মধ্যে সমস্যা আসতে পারে। বাইবেল স্পষ্টভাবে বলে, যারা বিয়ে করে “তাদের প্রতি দৈহিক ক্লেশ ঘটবে।” (১ করি. ৭:২৮) অর্থাৎ তাদের বিবাহিত জীবনে সমস্যা দেখা দেবে। তাই, এইরকম পরিস্থিতিতে বিবাহিত দম্পতিদের কেন একে অপরের পাশে থাকার জন্য প্রচেষ্টা করা উচিত?
১৫ একটা উদাহরণের কথা চিন্তা করুন। যদি কোনো পুরোনো বিল্ডিং বা মূল্যবান কোনো জিনিস ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা হলে সাধারণত সেগুলোকে মেরামত করা হয়। এর জন্য হয়তো প্রচুর অর্থ বা সময় ব্যয় করতে হতে পারে, কিন্তু সেটা করতে কেউ দ্বিধাবোধ করে না। কেন? কারণ সেগুলো খুবই মূল্যবান। ঠিক একইভাবে, প্রতিটা বিবাহিত সম্পর্ক খুবই মূল্যবান। কিন্তু সত্যি বলতে কী, সবচেয়ে উত্তম বিবাহিত সম্পর্কের মধ্যেও সমস্যা বা মতবিরোধ দেখা দিতে পারে। ঠিক যেমন, একটা ক্ষতিগ্রস্ত বিল্ডিং বা মূল্যবান জিনিসকে মেরামত করা যেতে পারে, ঠিক একইভাবে বিবাহিত জীবনে আসা সমস্যাগুলোকেও সমাধান করা যেতে পারে। এটা করতে হয়তো অনেক পরিশ্রম ও সময় লাগবে, কিন্তু বিবাহিত দম্পতিরা যদি তাদের বিয়ের বন্ধনকে দৃঢ় করার জন্য এবং একসঙ্গে থাকার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে, তা হলে যিহোবা এটা দেখে খুব খুশি হবেন। (মালাখি ২:১৬) এটা করার মাধ্যমে তারা শুধুমাত্র নিজেদের সাথির প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা দেখাবে এমন নয়, কিন্তু সেইসঙ্গে বিয়ের উদ্যোক্তা যিহোবার প্রতিও সম্মান দেখাবে।
১৬. কোন বিষয়গুলো দম্পতিদের বিবাহিত জীবনে আসা গুরুতর সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে? (১ করিন্থীয় ১৩:৪-৮ক) (“আপনাদের বন্ধুত্বকে দৃঢ় করার চেষ্টা করুন” শিরোনামের বাক্স দেখুন।)
১৬ আপনার বিবাহিত জীবনে যদি সমস্যা দেখা দেয়, তা হলে তাড়াহুড়ো করে একে অপরের থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। (১ করি. ৭:১০, ১১) এর পরিবর্তে, নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: ‘আমাদের বিয়ের বন্ধনকে দৃঢ় করার জন্য আমি কি কিছু করতে পারি?’ প্রেম দেখানোর বিষয়ে বাইবেলে যা বলা রয়েছে, তা পড়ুন। এরপর চিন্তা করুন, ১ করিন্থীয় ১৩:৪-৮ক পদে বলা কথাগুলো মাথায় রেখে কীভাবে আপনি আপনার সাথির প্রতি প্রেম দেখাতে পারেন। (পড়ুন।) একটা সম্পর্ককে শেষ করে দেওয়ার পরিবর্তে চেষ্টা করুন কীভাবে আপনারা আবার একে অপরের ঘনিষ্ঠ হতে পারেন। এই বিষয়ের উপর মনোযোগ দিন যে, আপনি আপনাদের সম্পর্ককে আবারও দৃঢ় করার জন্য কী করতে পারেন। সাহায্যের জন্য যিহোবার কাছে প্রার্থনা করুন। এ ছাড়া, আমাদের সংগঠনের প্রকাশনাগুলো পড়ুন এবং ভিডিওগুলো দেখুন। আর সেইসঙ্গে প্রাচীন এবং অন্যান্য পরিপক্ব খ্রিস্টানদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্য নিন। যিহোবার উপর আস্থা রাখলে আপনারা একে অপরের ঘনিষ্ঠ হতে পারবেন এবং এমন এক বন্ধন গড়ে তুলতে পারবেন, যেটা ‘সহজে ছিঁড়ে’ যাবে না।—উপ. ৪:১২, NW.
বিবাহিত জীবনে যখন সমস্যা দেখা দেয়, তখন একে অপরের পাশে থাকুন (১৬ অনুচ্ছেদ দেখুন)
১৭. যারা বিয়ে করার পরিকল্পনা করছে বা যারা ইতিমধ্যেই বিবাহিত, তারা সবাই কীভাবে সুখী হতে পারে?
১৭ যারা বিয়ে করার পরিকল্পনা করছে বা যারা ইতিমধ্যেই বিয়ে করে ফেলেছে, যিহোবা চান তারা সবাই যেন সুখী হয়। আপনি যদি অবিবাহিত হয়ে থাকেন এবং বিয়ে করার পরিকল্পনা করছেন, তা হলে খুব ভালোভাবে চিন্তা করে আপনার জীবনসাথিকে বেছে নিন। আর আপনি যদি ইতিমধ্যেই বিবাহিত হয়ে থাকেন, তা হলে আপনার সাথির সঙ্গে আপনার বন্ধুত্বকে দৃঢ় করে চলুন। যিহোবার উপর নির্ভর করে বিবাহিত জীবনের সমস্যাগুলোর সঙ্গে মোকাবিলা করার চেষ্টা করুন। এগুলো করার মাধ্যমে আপনি আপনার প্রিয় সাথির সঙ্গে “জীবন উপভোগ” করতে পারবেন!—উপ. ৯:৯, NW.
গান ১৩২ এবার আমরা এক হলাম
a এই প্রশ্নগুলো পুরুষ ও মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
b একে অপরকে জানার ক্ষেত্রে কিছু পরামর্শের জন্য ২০২৪ সালের মে মাসের প্রহরীদুর্গ পত্রিকার “কীভাবে আপনি ডেটিং করার সময়ে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন?” শিরোনামের প্রবন্ধের অধীনে দেওয়া “একে অন্যকে ভালোভাবে জানুন” উপশিরোনাম দেখুন।