“সকলের মধ্যে বিবাহ সম্মানীয় হোক”
“সকলের মধ্যে বিবাহ সম্মানীয় ও সেই শয্যা বিমল [হোক]।”—ইব্রীয় ১৩:৪, NW.
১. বিবাহে সফল হওয়ার জন্য অনেক ব্যক্তিরা কী শিখেছেন?
এযুগে যখন সহজেই বিবাহ বিচ্ছেদ করা যায়, তখনও লক্ষ লক্ষ লোক বিবাহে স্থায়িত্ব উপভোগ করে থাকেন। ব্যক্তিত্ব ও পটভূমিকার পার্থক্য থাকলেও তারা সফলতার একটি উপায় খুঁজে পেয়েছেন। সেই প্রকৃতির বিবাহ যিহোবার সাক্ষীগণের মধ্যে দেখা যায়। এদের মধ্যে বেশীরভাগ দম্পতিরা স্বীকার করবেন যে তাদের জীবনে অনেক উত্থান ও পতন এসেছে, এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণও হয়েছে। তাদের বিবাহিত জীবনে অনেক ঝড়-ঝাপটা এলেও তারা ঠিকই তা কাটিয়ে যেতে শিখেছেন। কোন্ বিষয়গুলি তাদের জীবন চালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে?—কলসীয় ৩:১৩.
২. (ক) কোন্ গঠনমূলক বিষয়গুলি বিবাহকে স্থায়ী রাখে? (খ) কোন্ বিষয়গুলি বিবাহকে ভেঙ্গে দেয়? (পৃষ্ঠা ২০-র বাক্সটি দেখুন।)
২ যাদের খ্রীষ্টীয় বিবাহ সুখী ও স্থায়ী তাদের মধ্যে অনেকেরই মন্তব্য দৃষ্টিগোচর সাপেক্ষ। এক স্বামী, যিনি ১৬ বছর যাবৎ বিবাহিত, তিনি বলেন: “সমস্যা এলেই, আমরা একে অপরের বক্তব্য শুনতে চেষ্টা করেছি।” অনেক বিবাহ দৃঢ় হওয়ার কারণগুলির মধ্যে একটির উপর এটি আলোকপাত করে—মন-খোলা, সরল ভাববিনিময়। একত্রিশ বছর যাবৎ বিবাহিত এক স্ত্রী বলেন: “আমাদের মধ্যে প্রেমকে চিরন্তন রাখতে হাত ধরা ও মজার বিষয়গুলি একসঙ্গে করা আমাদের জীবনে সর্বদা প্রাধান্য পেয়েছে।” সেটি ভাববিনিময়ের আর একটি দিক। অপর এক দম্পতি যারা প্রায় ৪০ বছর বিবাহিত তারা, পরস্পরের দোষত্রুটি মেনে নিয়ে হাসিঠাট্টা করার গুরুত্বর প্রতি জোর দেন। তারা আরও বলেন যে পরস্পরের সবচেয়ে ভাল ও সবচেয়ে মন্দ দিকটি জেনে তবুও একে অপরের প্রতি বিশ্বস্ত প্রেম দেখাতে এটি তাদের সাহায্য করেছে। দোষ স্বীকার করার ও ক্ষমা চাওয়ার ইচ্ছাটি সম্পর্কে স্বামী মন্তব্য করেন। যেখানে মেনে নেওয়ার মনোভাব থাকে সেখানে বিবাহ ভেঙ্গে যাওয়ার চাইতে মানানসই করে নেয়।—ফিলিপীয় ২:১-৪; ৪:৫, কিংডম ইন্টারলিনিয়র্।
পরিবর্তিত পরিস্থিতি
৩, ৪. বিবাহে বিশ্বস্ততা সম্পর্কে মনোভাবের কী পরিবর্তন দেখা গেছে? আপনি কী উদাহরণ দিতে পারেন?
৩ বিগত কিছু দশক ধরে, বিবাহে বিশ্বস্ততা সম্পর্কে ধারণার পরিবর্তন হয়েছে। কিছু বিবাহিত দম্পতি মনে করেন অপরের সাথে একটি প্রেমের সম্বন্ধ, যা ব্যভিচারেরই বর্তমানে এক নামান্তর, রাখা ভুল নয় বিশেষভাবে যখন অপর সাথীটি এই সম্বন্ধে জানে ও মেনে নেয়।
৪ এক খ্রীষ্টীয় অধ্যক্ষ এই পরিস্থিতি সম্বন্ধে মন্তব্য করেন: “জগৎ কোন নৈতিক মান অনুযায়ী থাকার কঠোর প্রচেষ্টাকে কার্যত ত্যাগ করেছে। চরিত্রবান থাকাকে সেকেলে মনে করা হয়। রাজনীতি, খেলা ও মনোরঞ্জনের জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা নৈতিক আচরণ সম্পর্কে বাইবেলের মানকে প্রকাশ্যে লঙ্ঘন করে এবং সেই প্রকৃতির ব্যক্তিরাই খ্যাতনামারূপে পরিচিত থাকে। যে কোন প্রকার মন্দ ও বিকৃত কার্যে ফলত কোন কলঙ্কের ছাপ আর লাগে না। তথা-কথিত উচ্চ সমাজে চরিত্রবান ও বিশ্বস্ত থাকা সম্পর্কে খুব কমই মূল্য দেওয়া হয়। আবার, ‘একের জন্য যা, দশের জন্যও তা’ এই নীতি অনুযায়ী অধিকাংশ লোক তাদেরই উদাহরণ অনুসরণ করার মাধ্যমে ঈশ্বর যা নিন্দা করেন তারা তা উপেক্ষা করে। তা হল পৌল যেমন প্রকাশ করেন: “তাহারা অসাড় হইয়া সলোভে সর্ব্বপ্রকার অশুচি ক্রিয়া করিবার জন্য আপনাদিগকে স্বৈরিতায় সমর্পণ করিয়াছে।”—ইফিষীয় ৪:১৯; হিতোপদেশ ১৭:১৫; রোমীয় ১:২৪-২৮; ১ করিন্থীয় ৫:১১.
৫. (ক) পারদার্য সম্পর্কে ঈশ্বরের মান কী? (খ) বাইবেলে ব্যবহৃত “ব্যভিচার” কথাটির সাথে কী কী জড়িত আছে?
৫ ঈশ্বরের মান পরিবর্তন হয়নি। এটি তাঁরই মান যে, বিবাহ না করে স্বামী-স্ত্রীরূপে বাস করা হল ব্যভিচার। বিবাহে অবিশ্বস্ততা হল পারদার্য।a প্রেরিত পৌল স্পষ্টরূপে বলেন: “তোমরা কি জান না যে, অধার্ম্মিকেরা ঈশ্বরের রাজ্যে অধিকার পাইবে না? ভ্রান্ত হইও না; যাহারা ব্যভিচারী কি প্রতিমাপূজক কি পারদারিক কি স্ত্রীবৎ আচারী কি পুঙ্গামী . . . তাহারা ঈশ্বরের রাজ্যে অধিকার পাইবে না। আর তোমরা কেহ কেহ সেই প্রকার লোক ছিলে; কিন্তু তোমরা প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নামে ও আমাদের ঈশ্বরের আত্মায় আপনাদিগকে ধৌত করিয়াছ, পবিত্রীকৃত হইয়াছ, ধার্ম্মিক গণিত হইয়াছ।”—১ করিন্থীয় ৬:৯-১১.
৬. পৌলের বাক্য ১ করিন্থীয় ৬:৯-১১ পদে আমরা কী উৎসাহ পাই?
৬ সেই শাস্ত্রে পৌলের এক উৎসাহমূলক বিষয় আছে, “তোমরা কেহ কেহ সেই প্রকার লোক ছিলে; কিন্তু . . . আপনাদিগকে ধৌত করিয়াছ।” হ্যাঁ, অতীতে অনেকেই যারা লাগামহীন “নষ্টামির পঙ্কে ধাবমান” হয়েছিল তারা চেতনা ফিরে পেয়েছে, খ্রীষ্ট ও তার বলিদানকে স্বীকার করেছে এবং ধৌত হয়েছে। নৈতিক জীবন যাপন করে ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে বেছে নেওয়ার ফলে তারা সুখীও হয়েছে।—১ পিতর ৪:৩, ৪.
৭. “অনৈতিকতা” বিষয়টির অর্থ সম্বন্ধে কী মতভেদ রয়েছে এবং বাইবেলের দৃষ্টিভঙ্গি কী?
৭ অপরপক্ষে, আধুনিক জগতের অনৈতিকতার ব্যাখ্যা এতই ঠুনকো যে ঈশ্বরের দৃষ্টিকোণের সাথে খাপ খায় না। এক অভিধান “অনৈতিক”-কে ব্যাখ্যা করে “প্রতিষ্ঠিত নৈতিকতার বিপরীত” হিসাবে। বর্তমানের “প্রতিষ্ঠিত নৈতিকতা,” বিবাহপূর্ব ও বিবাহ বহির্ভূত যৌনক্রিয়া ও তার সাথে সমকামিতাকে মার্জনা করে থাকে কিন্তু বাইবেল সেগুলিকে অনৈতিকতা হিসাবে নিন্দা করে। হ্যাঁ, অনৈতিকতা, বাইবেলের দৃষ্টিকোণ অনুসারে ঈশ্বর প্রদত্ত নৈতিক মানের ঘোর নিয়মলঙ্ঘন।—যাত্রাপুস্তক ২০:১৪, ১৭; ১ করিন্থীয় ৬:১৮.
খ্রীষ্টীয় মণ্ডলী প্রভাবিত হয়
৮. খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর সদস্যদের কিভাবে অনৈতিকতা প্রভাবিত করতে পারে?
৮ অনৈতিকতা এতই ব্যাপক যে তা খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর ব্যক্তিদের উপর চাপ আনতে পারে। ব্যাপক, নিম্ন মানের টিভি কার্যক্রম, ভিডিও এবং অশ্লীল বইপত্রের মাধ্যমে সেটি তাদের প্রভাবিত করতে পারে। যদিও বা খুব কমসংখ্যক খ্রীষ্টানেরা প্রভাবিত হয়েছে, কিন্তু এটি স্বীকার করতে হবে যে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে যারা যিহোবার সাক্ষীগণের পদ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে তাদের অননুতপ্ত অখ্রীষ্টীয় আচরণের জন্য, যেটি কোন না কোন যৌন অনৈতিকতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ছিল। সুখের বিষয়, সেই বহিষ্কৃতদের বেশীরভাগই অবশেষে তাদের ভুল বুঝতে পারে, তারা শুদ্ধ জীবনযাপন করতে আরম্ভ করে এবং মণ্ডলীতে পুনঃস্থাপিত হয়।—তুলনা করুন লূক ১৫:১১-৩২.
৯. অসতর্কদের শয়তান কিভাবে স্বকার্যে লাগায়?
৯ শয়তান যে অসতর্ক ব্যক্তিদের গ্রাস করার জন্য গর্জনকারী সিংহের মত ঘুরে বেড়াচ্ছে সে সম্পর্কে কোন প্রশ্নই ওঠে না। তার ষড়যন্ত্র বা “চাতুরী” কার্যগুলি, প্রতি বছর অসতর্ক খ্রীষ্টানদের ফাঁদে ফেলছে। তার জগতের সতত-উপস্থিত মনোভাব হল স্বার্থপর, ভোগ-সুখবাদী ও কামলালসাপূর্ণ। তার জগৎ দৈহিক বাসনা চরিতার্থ করায়। আত্ম-সংযমকে অগ্রাহ্য করে।—ইফিষীয় ২:১, ২; ৬:১১, ১২; পাদটীকা; ১ পিতর ৫:৮.
১০. কারা প্রলোভনে পড়তে পারে এবং কেন?
১০ মণ্ডলীর কারা নীতিহীনতার প্রলোভনের সম্মুখে পড়তে পারে? বেশীরভাগ খ্রীষ্টানেরা, তারা স্থানীয় মণ্ডলীর প্রাচীন, ভ্রমণ অধ্যক্ষ, বেথেল সদস্য, অগ্রগামী যে প্রতি মাসে প্রচারে বহু ঘন্টা ব্যয় করে, পরিবার লালনপালন করতে ব্যস্ত পিতামাতা অথবা সহসাথীদের চাপের সম্মুখীন যুবক-যুবতী, যে কেউই হোক। দৈহিক প্রলোভন সকলের জন্য একই। যখন একেবারেই আশা করা হয় না তখনই যৌন আকর্ষণের উদ্রেক হতে পারে। তাই পৌল লেখেন: “যে মনে করে, আমি দাঁড়াইয়া আছি, সে সাবধান হউক, পাছে পড়িয়া যায়। পুরুষ [ও স্ত্রী] যাহা সহ্য করিতে পারে, তাহা ছাড়া অন্য পরীক্ষা তোমাদের প্রতি ঘটে নাই।” দুঃখের বিষয় যে, দায়িত্বের পদে রয়েছেন এমন কিছু খ্রীষ্টানেরা এই অনৈতিকতার প্রলোভনে প্রলুব্ধ হয়েছেন।—১ করিন্থীয় ১০:১২, ১৩, NW.
আকর্ষিত ও প্রলুব্ধ
১১-১৩. কিছু কোন্ পরিস্থিতি অনৈতিকতাতে পরিচালিত করেছে?
১১ কোন্ প্রলোভন ও পরিস্থিতি কিছু ব্যক্তিকে পারদার্য বা ব্যভিচারিতার মত মূর্খ পথে পরিচালিত করেছে? সেগুলি বহু এবং জটিল, তার মধ্যে এক দেশ থেকে অন্য দেশের বা এক সংস্কৃতি থেকে অন্য সংস্কৃতির মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। যাইহোক, কয়েকটি মূল পরিস্থিতি আছে যা বহু দেশে দেখা গেছে। যেমন, রিপোর্ট করা হয় যে কোন কোন জায়গায় পার্টির আয়োজন করা হয়ে থাকে যেখানে প্রচুর মদ্যজাতীয় পানীয় সহজে পাওয়া যায়। অন্যরা জাগতিক নোংরা ইঙ্গিতপূর্ণ সঙ্গীত ও অশ্লীল নাচের দ্বারা আকর্ষিত হয়েছে। আফ্রিকার কোন কোন জায়গায়, প্রচুর ধনবান পুরুষেরা আছে—অবিশ্বাসী—যাদের উপপত্নী থাকে; কিছু মহিলারা উপপত্নী হয়ে আর্থিক সুরক্ষা পাওয়ার জন্য প্রলোভিত হয়েছে যদিও বা এর সাথে জড়িত আছে নীতিহীনতার কার্য। অন্যান্য জায়গায়, খ্রীষ্টীয় স্বামীরা ভরণপোষণ করার জন্য পরিবার ছেড়ে খনিতে বা অন্যত্র কাজ করতে গিয়েছে। তখন তাদের আনুগত্য এবং বিশ্বস্ততা এমন এক পর্যায় অথবা উপায়ে পরীক্ষিত হয়েছে যা হয়ত তারা ঘরে থাকলে হত না।
১২ উন্নতিশীল দেশগুলিতে অনেকে শয়তানের ফাঁদে পড়ে, কোন তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি ছাড়াই বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তির সাথে অনেক সময় থেকে—যেমন গাড়ী চালানো শেখার সময় গাড়ীর মধ্যে নিয়মিত পাশাপাশি বসার দ্বারা।b প্রাচীনদের পালকের পরিদর্শন করার সময়ও সাবধান হতে হবে যাতে তারা কোন ভগ্নীকে পরামর্শ দেওয়ার সময় একা না থাকেন। কথোপকথন আবেগে পূর্ণ হয়ে দুই পক্ষের জন্য লজ্জাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।—তুলনা করুন মার্ক ৬:৭; প্রেরিত ১৫:৪০.
১৩ উপরে বর্ণিত পরিস্থিতিগুলি কিছু খ্রীষ্টানকে অসতর্ক হতে পরিচালিত করেছে ও ফলে তারা অনৈতিক কার্য করেছে। যেমন প্রথম শতাব্দীতে হয়েছিল, ঠিক তেমন এরাও নিজেদের ‘নিজ কামনা দ্বারা আকর্ষিত ও প্ররোচিত’ হতে দেয় যা পাপে পরিচালিত করে।—যাকোব ১:১৪, ১৫; ১ করিন্থীয় ৫:১; গালাতীয় ৫:১৯-২১.
১৪. পারদার্যের ক্ষেত্রে কেন স্বার্থপরতা এক মূল কারণ?
১৪ বহিষ্কার করা সম্পর্কে সতর্ক বিবেচনা প্রদর্শন করে, যে প্রত্যেক ক্ষেত্রে একই রকম কয়েকটি মৌলিক কারণ থাকে। এই সব ক্ষেত্রে কোন না কোন প্রকার স্বার্থপরতা দেখা যায়। কেন আমরা তা বলছি? কারণ পারদার্যর ক্ষেত্রে কিছু নির্দোষ ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা আঘাত পায়। সে হয়ত বৈধ বিবাহ সাথী হতে পারে। যদি পারদার্যর জন্য বিবাহবিচ্ছেদ হয়, আর যদি সন্তান থাকে তাহলে তারা নিশ্চয় আঘাত পাবে, ঐক্যবদ্ধ পরিবারে সন্তানেরা সুরক্ষা পেতে চায় আর তাদেরই হয়ত বেশী কষ্ট সহ্য করতে হয়। পারদারিক প্রথমত নিজের সুখভোগ ও সুবিধাগুলি সম্বন্ধে চিন্তা করে। সেটিই হল স্বার্থপরতা।—ফিলিপীয় ২:১-৪.
১৫. পারদার্যে পরিচালিত করতে কিছু কোন্ কারণগুলি থাকতে পারে?
১৫ পারদার্য সাধারণত হঠাৎ দুর্বলতা নয়। ধীরে ধীরে, বোঝা যায় না এমনভাবে বিবাহের অবনতি ঘটে। হয়ত ভাববিনিময় নিয়মমাফিক বা নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে। পরস্পরের প্রতি পরস্পর হয়ত খুব কমই উৎসাহ দেয়। একে অপরের প্রতি উপলব্ধি প্রকাশ না করতে পারে। বিবাহ সাথীরা কিছু সময়ের জন্য হয়ত সহবাসে একে অপরকে তৃপ্ত না করলে। আর যখন পারদার্য ঘটে তখন নিশ্চয় ঈশ্বরের সাথে সম্পর্কও কমে যায়। যিহোবাকে আর এক জীবন্ত ঈশ্বর রূপে মনে করা হয় না যিনি আমাদের সমস্ত চিন্তাধারা ও কার্য সম্বন্ধে সচেতন। এমনকি হয়ত পারদারিকের মনে “ঈশ্বর” একটি শব্দে পরিণত হয়, এক নিষ্প্রাণ ব্যক্তি যে প্রতিদিনের জীবনে কোন ভূমিকা নেয় না। আর তখনই ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করা সহজ হয়ে পড়ে।—গীতসংহিতা ৫১:৩, ৪; ১ করিন্থীয় ৭:৩-৫; ইব্রীয় ৪:১৩; ১১:২৭.
প্রতিরোধের চাবিকাঠি
১৬. অবিশ্বস্ত হওয়ার প্রলোভনকে এক খ্রীষ্টান কিরূপে প্রতিরোধ করতে পারে?
১৬ যদি কোন খ্রীষ্টান মনে করেন যে তিনি অবিশ্বস্ততার পথে পরিচালিত হচ্ছেন তাহলে কোন্ বিষয়গুলি তাকে বিবেচনা করতে হবে? প্রথমত, খ্রীষ্টীয় প্রেমের অর্থ সম্বন্ধে চিন্তা করতে হবে যা বাইবেলের নীতির উপর দৃঢ়ভাবে ভিত্তি করে আছে। অগ্রপশ্চাৎ না ভেবে স্বার্থপরতা দেখাতে কোন দৈহিক বা কামনাপূর্ণ প্রেমকে সুযোগ দেওয়া উচিৎ নয়, যা অন্যদের জন্য কষ্ট নিয়ে আসে। পরিবর্তে পরিস্থিতিটিকে যিহোবার দৃষ্টিকোণে দেখা উচিৎ। মণ্ডলীর বৃহত্তর ক্ষেত্রে এবং সেই মন্দ আচরণ মণ্ডলীর ও যিহোবার নামের প্রতি যে অসম্মান আনবে সেই সম্পর্কে বিবেচনা করা উচিৎ। (গীতসংহিতা ১০১:৩) এই বিষয়ে খ্রীষ্টের মন গ্রহণ করে ও সেই অনুযায়ী কার্য করে বিপর্যয় এড়ানো যেতে পারে। স্মরণে রাখবেন, নিঃস্বার্থপর খ্রীষ্টরূপ প্রেম কখনই ব্যর্থ হবে না।—হিতোপদেশ ৬:৩২, ৩৩; মথি ২২:৩৭-৪০; ১ করিন্থীয় ১৩:৫, ৮.
১৭. বিশ্বস্ততার কোন্ গঠনমূলক উদাহরণগুলি আমাদের কাছে আছে?
১৭ প্রতিরোধের চাবিকাঠি হল বিশ্বাস ও সম্মুখের আশাকে দৃঢ় করা। এর অর্থ হল, অতীতের বিশ্বস্ত পুরুষ ও স্ত্রীদের এবং স্বয়ং যীশু খ্রীষ্টের প্রদর্শিত আনুগত্যের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হৃদয়ে সর্বোচ্চে রাখা। পৌল লেখেন: “অতএব এমন বৃহৎ সাক্ষিমেঘে বেষ্টিত হওয়াতে আইস, আমরাও সমস্ত বোঝা ও সহজ বাধাজনক পাপ ফেলিয়া দিয়া ধৈর্য্যপূর্ব্বক আমাদের সম্মুখস্থ ধাবনক্ষেত্রে দৌড়ি; বিশ্বাসের আদিকর্ত্তা ও সিদ্ধিকর্ত্তা যীশুর প্রতি দৃষ্টি রাখি; তিনিই আপনার সম্মুখস্থ আনন্দের নিমিত্ত ক্রুশ সহ্য করিলেন, অপমান তুচ্ছ করিলেন, এবং ঈশ্বরের সিংহাসনের দক্ষিণে উপবিষ্ট হইয়াছেন। তাঁহাকেই আলোচনা কর, যিনি আপনার বিরুদ্ধে পাপিগণের এমন প্রতিবাদ সহ্য করিয়াছিলেন, যেন প্রাণের ক্লান্তিতে অবসন্ন না হও।” (ইব্রীয় ১২:১-৩) বিবাহের তরীকে ভেঙ্গে না যেতে দিয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তি বিবাহে উত্তম সম্বন্ধ স্থাপন করার উপায় খুঁজে বার করবেন, ফলে তারা প্রতারণা ও ছলনার ফাঁদে পড়বেন না।—ইয়োব ২৪:১৫.
১৮. (ক) পারদার্যকে ব্যাখ্যা করতে বিশ্বাসঘাতকতা খুব একটা কঠিন শব্দ নয় কেন? (খ) প্রতিশ্রুতি রক্ষাকে ঈশ্বর কিভাবে দেখেন?
১৮ প্রতারণা, যেটি আসলে হল বিশ্বাসঘাতকতা, সেটি কী অনৈতিকতার পক্ষে খুবই কঠিন শব্দ? বিশ্বাসঘাতকতা হল বিশ্বাস ও আস্থাকে প্রতারণা করা। বিবাহের প্রতিশ্রুতির মধ্যে জড়িত রয়েছে বিশ্বাস এবং সুখদুঃখের সাথী হওয়া ও প্রেম-ভালবাসা দেখানোর অঙ্গীকার। আমাদের সময়কালে অনেকে যেটিকে সেকেলে মনে করে তার সাথেই এটি জড়িত—বিবাহ প্রতিশ্রুতিতে সম্মান করার যে প্রতিজ্ঞা দেওয়া হয়, তা। সেই বিশ্বাসের প্রতারণা করা হল বিবাহ সাথীর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা। প্রতিজ্ঞা সম্পর্কে ঈশ্বরের দৃষ্টিকোণ বাইবেলে স্পষ্টরূপে দেওয়া আছে: “ঈশ্বরের নিকট মানত করিলে তাহা পরিশোধ করিতে বিলম্ব করিও না, কারণ হীনবুদ্ধি লোকদিগেতে তাঁহার সন্তোষ নাই; যাহা মানত করিবে, তাহা পরিশোধ করিও।”—উপদেশক ৫:৪.
১৯. সাক্ষী পতিত হলে, কিসের বৈসাদৃশ্যে শয়তান আনন্দিত হয়?
১৯ এই সম্বন্ধে কোন সন্দেহই যেন না থাকে। এক পাপীর পরিত্রাণ হলে যেমন স্বর্গে মহা আনন্দ হয় ঠিক তেমন যিহোবার সাক্ষীদের মধ্যে একজন বিশ্বস্ততা বজায় রাখতে অসমর্থ হলে, পৃথিবীতে দৃশ্য ও অদৃশ্য শয়তানের দলের মধ্যেও আনন্দ হয়।—লূক ১৫:৭; প্রকাশিত বাক্য ১২:১২.
প্রত্যেকের ক্ষেত্রে প্রলোভন একই
২০. আমরা কিরূপে প্রলোভনকে প্রতিরোধ করতে পারি? (২ পিতর ২:৯, ১০)
২০ কোন কোন ক্ষেত্রে কী অনৈতিকতা অবশ্যম্ভাবী? দেহ ও শয়তান কী খুবই শক্তিশালী কেননা এক খ্রীষ্টান তার বিশ্বস্ততা বজায় রাখতে পারেন না? এই বাক্যগুলির মাধ্যমে পৌল উৎসাহ দেন: “ঈশ্বর বিশ্বাস্য; তিনি তোমাদের প্রতি শক্তির অতিরিক্ত পরীক্ষা ঘটিতে দিবেন না, বরং পরীক্ষার সঙ্গে সঙ্গে রক্ষার পথও করিয়া দিবেন, যেন তোমরা সহ্য করিতে পার।” বর্তমান জগতে আমরা হয়ত প্রলোভন একেবারেই এড়িয়ে যেতে পারব না, কিন্তু ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে আমরা নিশ্চয় যে কোন প্রলোভন সহ্য ও জয় করতে পারব।—১ করিন্থীয় ১০:১৩.
২১. আমাদের পরবর্তী অধ্যয়নে কোন্ প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়া হবে?
২১ প্রলোভন সহ্য ও জয় করতে যিহোবা আমাদের কিভাবে সাহায্য করতে ইচ্ছুক? আমাদের বিবাহ, পরিবারকে রক্ষা করতে, তার সাথে যিহোবার নাম ও মণ্ডলীর নামেরও সুখ্যাতি বজায় রাখতে আমাদের ব্যক্তিগতরূপে কিসের প্রয়োজন? আমাদের পরবর্তী প্রবন্ধ সেই প্রশ্নগুলি আলোচনা করবে। (w93 2/15)
[পাদটীকাগুলো]
a “‘ব্যভিচার’ বর্দ্ধিত অর্থে এবং মথি ৫:৩২ ও ১৯:৯ পদে যেভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, সেই অনুসারে বিবাহের বাইরে ব্যাপকরূপে নিষিদ্ধ বা অবৈধ যৌনসংসর্গ। পর্নিয়া-র [সেই শাস্ত্রগুলিতে যে গ্রীক শব্দটি ব্যবহার হয়েছে] সঙ্গে জড়িত রয়েছে, অন্ততঃ একটি মানুষের যৌন অঙ্গের(গুলির) অত্যন্ত অনৈতিক ব্যবহার (তা স্বাভাবিক বা বিকৃতরূপেই হোক); তাছাড়া এই অনৈতিকতায় অপর এক পক্ষও জড়িত আছে—কোন ব্যক্তি যে কোন লিঙ্গেরই হোক, অথবা পশু।” (দ্যা ওয়াচটায়ার, মার্চ ১৫, ১৯৮৩, পৃষ্ঠা ৩০) পারদার্য: “বৈধ স্বামী বা স্ত্রী ব্যতীত বিবাহিত ব্যক্তির অপর এক সাথীর সাথে স্বেচ্ছায় যৌন সহবাস।”—দ্যা অ্যামেরিকান হেরিটেজ ডিকশনারী অফ্ দ্যা ইংলিশ ল্যাঙ্গওয়েজ।
b কোন উপযুক্ত পরিস্থিতি নিশ্চয় আসতে পারে যখন এক ভাই এক বোনকে গাড়ীতে পৌঁছে দিতে পারে, সেই পরিস্থিতিকে ভুল বোঝা উচিৎ হবে না।
আপনার কী স্মরণে আছে?
▫ বিবাহকে দৃঢ় করতে কোন্ বিষয়গুলি সাহায্য করে?
▫ নৈতিকতা সম্পর্কে জগতের দৃষ্টিকোণকে আমাদের কেন পরিত্যাগ করা উচিৎ?
▫ কিছু কোন্ প্রলোভন ও পরিস্থিতি অনৈতিকতার প্রতি পরিচালিত করতে পারে?
▫ পাপ প্রতিরোধ করতে মূল চাবিকাঠিটি কী?
▫ প্রলোভনের সময় ঈশ্বর আমাদের কিভাবে সাহায্য করেন?
[২০ পৃষ্ঠার বাক্স]
স্থায়ী বিবাহের সাধারণ বিষয়গুলি
▫ বাইবেল নীতিগুলি কঠোরভাবে পালন করা
▫ দুই সাথীরই যিহোবার সাথে গভীর সম্পর্ক থাকা
▫ স্বামীর স্ত্রীকে সম্মান করা, স্ত্রীর মনোভাব ও বক্তব্যকে সম্মান করা
▫ নিয়মিত উত্তম ভাববিনিময় করা
▫ পরস্পরকে সন্তুষ্ট করতে চেষ্টা করা
▫ হাসিঠাট্টার মনোভাব রাখা; নিজের ভুলে নিজেই হাসা
▫ সহজে দোষ স্বীকার করা; সহজে ক্ষমা করা
▫ প্রেমকে চিরমধুর রাখা
▫ সন্তানকে লালনপালন ও শিক্ষা দিতে ঐক্যবদ্ধ থাকা
▫ প্রতিদিন একত্রে যিহোবার কাছে প্রার্থনা করা
যে বিষয়গুলি বিবাহকে ভেঙ্গে দেয়
▫ স্বার্থপরতা ও একগুঁয়েমি
▫ একত্রে কোন কাজ না করা
▫ সামান্য ভাববিনিময়
▫ দুই সাথীর মধ্যে প্রয়োজন অনুসারে পরামর্শ করার অভাব
▫ অর্থের অপব্যবহার করা
▫ সন্তান এবং/অথবা সৎসন্তানের সাথে ব্যবহার করার সময় বিচারের মানের পার্থক্য
▫ স্বামীর অনেক রাত অবধি কাজ করা অথবা পরিবারে অন্যান্য কর্তব্যের অবহেলা করা
▫ পরিবারের আত্মিক চাহিদাগুলি পূরণ করতে অসমর্থ হওয়া
[Pictures on page 21]
বিবাহকে সম্মানীয় রাখলে স্থায়ী সুখ আসে