ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • g৯৮ ৭/৮ পৃষ্ঠা ১০-১৩
  • “মৃত্যুচ্ছায়ার উপত্যকা”-য় সান্ত্বনা খুঁজে পাওয়া

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • “মৃত্যুচ্ছায়ার উপত্যকা”-য় সান্ত্বনা খুঁজে পাওয়া
  • ১৯৯৮ সচেতন থাক!
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • সত্য শেখা ও আমাদের জীবনকে সাধারণ করা
  • আরেকবার দেশ পরিবর্তন করা
  • “মৃত্যুচ্ছায়ার উপত্যকা”-য়
  • আমার আনন্দ বজায় রাখা
  • যে বিষয়গুলি আমি শিখেছি
  • তারা নিজেদেরকে স্বেচ্ছায় বিলিয়ে দিয়েছিল ইকুয়েডরে
    ২০১২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • “আমরা এই পরিচর্য্যা-পদ প্রাপ্ত হওয়ায় . . . নিরুৎসাহিত হই না”
    ১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • আপনি কি বিদেশে গিয়ে কাজ করতে পারেন?
    ১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • বিস্ময়কর প্রসারের এক সময়ে সেবা করা
    ২০১০ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯৮ সচেতন থাক!
g৯৮ ৭/৮ পৃষ্ঠা ১০-১৩

“মৃত্যুচ্ছায়ার উপত্যকা”-য় সান্ত্বনা খুঁজে পাওয়া

বারবারা সুইজার দ্বারা কথিত

কখনও কখনও, যখন সময় ভালভাবে কেটেছে, তখন আমার জীবন মনোরম ‘তৃণভূষিত চরাণীর’ মত হয়েছে। কিন্তু আমি এও জেনেছি যে “মৃত্যুচ্ছায়ার উপত্যকা” পার হতে কেমন লাগে। ফলে, আমি দৃঢ়প্রত্যয়ী যে, যিহোবা যেহেতু আমাদের পালক তাই যে কোন পরিস্থিতিই আসুক না কেন, আমরা তার মোকাবিলা করতে পারব।—গীতসংহিতা ২৩:১-৪.

সময়টি ছিল ১৯৯৩ সাল যখন আমার ও আমার স্বামী, দুজনের বয়সই প্রায় ৭০ এর কাছাকাছি আর তখন আমরা এক নতুন অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম—ইকুয়েডরের যে স্থানে বাইবেল শিক্ষকদের প্রয়োজনীয়তা অধিক ছিল সেখানে সেবা করার। জন্মগতভাবে আমেরিকার অধিবাসী হলেও আমরা স্প্যানিশ বলতাম এবং আমাদের কোন অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতাও ছিল না। যেহেতু আমরা জেনেছিলাম যে ইকুয়েডরে ‘মনুষ্যধারী হওয়া’ উৎপাদনশীল তাই আমরা আমাদের জালগুলি সেই উৎপাদনশীল জলে ফেলার জন্য পরিকল্পনা করেছিলাম।—মথি ৪:১৯.

ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটির ইকুয়েডর শাখা অফিসে কিছু রোমাঞ্চকর দিন কাটানোর পর, আমরা মাচেলা—যেখানে বিশেষ প্রয়োজন ছিল সেই শহরগুলির একটিতে যাওয়ার জন্য গুয়াকিলের বাস স্টেশনে গিয়েছিলাম। কিন্তু বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময়, আমার স্বামী ফ্রেড, হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে আর তাই আমরা আমাদের যাত্রা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিই। শাখা অফিসে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য আমি টেলিফোন বুথে গিয়েছিলাম আর ফ্রেড তখন আমাদের মালপত্রের সঙ্গে বসেছিল। কয়েক মিনিট পর ফিরে এসে আমি দেখি যে আমার স্বামী সেখানে নেই!

আমি আর কখনও ফ্রেডকে জীবিত দেখতে পাইনি। সেই বাস স্টেশনে আমার এই স্বল্প অনুপস্থিতির সময়েই সে গুরুতরভাবে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। তাকে হন্য হয়ে খোঁজার সময়, বাস স্টেশনের একজন কর্মকর্তা আমার কাছে আসেন এবং বলেন যে ফ্রেডকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসপাতালে পৌঁছে, আমি জানতে পারি যে ফ্রেড ইতিমধ্যেই মারা গিয়েছে।

হঠাৎই আমি নিজেকে একটি অপরিচিত শহরে গৃহহীন ও নির্ভরযোগ্য স্বামীহারা অবস্থায় একেবারে একা দেখতে পাই। আমি “নির্ভরযোগ্য” বললাম কারণ ফ্রেড সবসময় নেতৃত্ব নিত ও আমাদের দুজনের জন্য বিষয়গুলি সংগঠিত করত। আমি দৃঢ় আত্ম-বিশ্বাসী ব্যক্তিত্বের অধিকারী নই, তাই তাকে বিষয়গুলি পরিচালনা করতে দেখে আমি আনন্দিত হতাম। কিন্তু তখন আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল, আমার জীবনকে পরিচালিত করতে এবং একই সঙ্গে আমার শোকও কাটিয়ে উঠতে হয়েছিল। এটি এক যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতি ছিল—আমাকে যেন “মৃত্যুচ্ছায়ার উপত্যকা”-য় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। আমি কি কখনও নিজে নিজে চলতে শিখতে পারব?

সত্য শেখা ও আমাদের জীবনকে সাধারণ করা

আমাদের দুজনের যখন প্রথম দেখা হয়েছিল, আমরা উভয়েই বিবাহিত ছিলাম আর আমাদের উভয়েরই বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। এক উত্তম বন্ধুত্ব এক নিবিড় সম্পর্কে উন্নীত হয়েছিল আর আমরা দুজনে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের সীট্যালে নামেমাত্র গির্জাগামী সদস্য ছিলাম। কিন্তু ধর্ম আমাদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল না, যতদিন পর্যন্ত না একজন হাসিখুশি যুবতী অগ্রগামী (পূর্ণ-সময়ের সুসমাচার প্রচারক), জ্যামি আমাদের দরজায় এসেছিল। সে এত মনোরম ছিল যে আমি বাইবেল অধ্যয়ন করার জন্য তার প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলাম।

যেহেতু ফ্রেডও আগ্রহ দেখিয়েছিল তাই জ্যামির বাবামা অধ্যয়নটি পরিচালনা করেছিলেন এবং এক বছর পর, ১৯৬৮ সালে আমরা দুজনেই বাপ্তাইজিত হয়েছিলাম। শুরু থেকেই আমরা আমাদের জীবনে ঈশ্বরের রাজ্যকে প্রথমে রাখার জন্য অত্যন্ত আকাঙ্ক্ষী ছিলাম। (মথি ৬:৩৩) এই ক্ষেত্রে নিশ্চিতরূপে উদাহরণ স্থাপন করেছিলেন লর্ন ও রুডি নাস্ট, যে দম্পতি আমাদের সঙ্গে অধ্যয়ন করেছিলেন। আমাদের বাপ্তিস্মের পরই তারা যেখানে অধিক প্রয়োজন ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের একটি শহরে চলে গিয়েছিলেন। এটি আমাদের হৃদয়ে একটি বীজ বপন করেছিল।

জায়গা পরিবর্তন করার আরেকটি কারণ আমাদের ছিল। ফ্রেড একটি বড় দোকানের ম্যানেজার ছিল। তার কাজের জন্য অনেক সময় দিতে হত তাই সে উপলব্ধি করেছিল যে অন্য কোথাও জায়গা বদল, তার জীবনকে সাধারণ করতে এবং সত্য ও আমাদের দুই সন্তানের প্রতি অধিক মনোযোগ দিতে সমর্থ করবে। প্রথম বিবাহের ফলে আরেকটি মেয়েও আমার ছিল আর সে বিবাহিত ছিল এবং সে ও তার স্বামী উভয়েই সত্য গ্রহণ করেছিল, তাই সীট্যাল ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া আমাদের জন্য কঠিন ছিল। কিন্তু তারা আমাদের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছিল এবং আমাদের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিল।

ফলে ১৯৭৩ সালে আমরা স্পেনে চলে গিয়েছিলাম, সেই সময় যে দেশটিতে সুসমাচার প্রচারক এবং নেতৃত্ব গ্রহণ করার মত ভাইদের খুবই প্রয়োজন ছিল। ফ্রেড হিসাব করে দেখেছিল যে যদি আমরা মিতব্যয়ীভাবে জীবনযাপন করি, তাহলে স্পেনে আমাদের খরচাদি মেটানোর জন্য আমাদের সঞ্চয় যথেষ্ট এবং আমরা আমাদের অধিকাংশ সময় পরিচর্যায় নিয়োগ করতে পারব। আর আমরা ঠিক তাই করেছিলাম। অবিলম্বেই ফ্রেড একজন প্রাচীন হিসাবে সেবা করতে শুরু করেছিল এবং ১৯৮৩ সালের মধ্যে আমরা দুজনেই অগ্রগামী হয়েছিলাম।

কুড়ি বছর ধরে আমরা স্পেনে সেবা করেছিলাম, ভাষা শিখেছিলাম এবং অনেক উত্তম অভিজ্ঞতা উপভোগ করেছিলাম। প্রায়ই আমি ও ফ্রেড একত্রে প্রচার করতাম ও বিবাহিত দম্পতিদের সঙ্গে অধ্যয়ন করতাম, যাদের মধ্যে কয়েকজন এখন বাপ্তাইজিত সাক্ষী। স্পেনে কয়েক বছর থাকার পর, আমাদের ছোট দুটি সন্তান, হেইডি এবং মিকও অগ্রগামী পরিচর্যা শুরু করেছিল। যদিও আমাদের খুব বেশি সম্পদ ছিল না তবুও এই দিনগুলি আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় সময় ছিল। আমাদের জীবন ছিল সাধারণ। একটি পরিবার হিসাবে একত্রে আমরা অনেক সময় কাটাতে পেরেছিলাম এবং বাইবেলের বিবরণে পাওয়া সেই বিধবার তেলের মত, সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত আমাদের সঞ্চয়ও কখনও ফুরিয়ে যায়নি।—১ রাজাবলি ১৭:১৪-১৬.

আরেকবার দেশ পরিবর্তন করা

১৯৯২ সালের মধ্যে আমরা আরেকবার জায়গা বদল করার কথা ভাবতে শুরু করেছিলাম। আমাদের সন্তানেরা বড় হয়ে গিয়েছিল এবং স্পেনে আগের চেয়ে ভাইদের প্রয়োজন কম ছিল। আমরা একজন মিশনারিকে চিনতাম যিনি ইকুয়েডরে সেবা করতেন এবং তিনি আমাদের সেই দেশে অগ্রগামী ও প্রাচীনদের অত্যন্ত প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন। আবার এক নতুন দেশে যাত্রা শুরু করার জন্য আমরা কি খুব বেশি বৃদ্ধ হয়ে পড়েছিলাম? যেহেতু আমাদের দুজনেরই স্বাস্থ্য ভাল ছিল এবং প্রচার কাজ ভালবাসতাম, তাই আমরা সেভাবে ভাবিনি। সুতরাং আমরা ইকুয়েডর শাখা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম এবং পরিকল্পনা করতে শুরু করেছিলাম। আসলে, আমার মেয়ে হেইডি ও তার স্বামী যোয়ান ম্যানুয়েল যারা স্পেনের উত্তরাঞ্চলে পরিচর্যা করছিল, তারাও আমাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিল।

অবশেষে, ১৯৯৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে আমরা সমস্ত বিষয়গুলির ব্যবস্থা করেছিলাম এবং নতুন দেশে এসে পৌঁছেছিলাম। আমরা দুজনে ইকুয়েডরে অগ্রগামীর কাজ করার প্রত্যাশায় রোমাঞ্চিত হয়েছিলাম যেখানে অনেক লোকেরা বাইবেল অধ্যয়ন করার জন্য উদ্‌গ্রীব ছিলেন। শাখা অফিসের উষ্ণ অভ্যর্থনার পর, আমরা কয়েকটি শহর পরিদর্শন করার পরিকল্পনা করেছিলাম, যেগুলিকে এক বিশেষ প্রয়োজনের স্থান হিসাবে সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু তখনই আমার স্বামী মারা যায়।

“মৃত্যুচ্ছায়ার উপত্যকা”-য়

প্রথমে আমি আঘাত পেয়েছিলাম তারপর অত্যন্ত হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিলাম। ফ্রেড আগে কদাচিৎ অসুস্থ হত। আমি কী করব? কোথায় যাব? আমি কিছুই ভাবতে পারিনি।

আমার জীবনের সেই চরম কষ্টকর মুহূর্তগুলিতে আমি করুণাপূর্ণ আধ্যাত্মিক ভাইবোনদের সাহায্যের দ্বারা আশীর্বাদপ্রাপ্ত হয়েছিলাম, যাদের অধিকাংশই আমাকে অল্পই চিনতেন। শাখা অফিসের ভাইরা অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যবস্থা করা থেকে শুরু করে সমস্ত কিছুর দেখাশোনা করেছিলেন। আমার বিশেষভাবে ভাই ও বোন বোনোর প্রদর্শিত প্রেমের কথা মনে পড়ে। আমি যেন কখনও একা বোধ না করি এর জন্য তারা খোঁজখবর নিতেন আর এমনকি এডিথ বোনো কয়েক রাত আমার সঙ্গে আমার বিছানার পায়ের কাছে ঘুমিয়েছিলেন যেন আমি নিঃসঙ্গ বোধ না করি। প্রকৃতপক্ষে, পুরো বেথেল পরিবার আমার প্রতি এতটা প্রেম ও বিবেচনা দেখিয়েছিলেন যে যেন তারা আমাকে এক উষ্ণ, সুরক্ষামূলক প্রেমের কম্বলে আবৃত করেছিলেন।

কয়েকদিনের মধ্যে, স্বাভাবিকভাবেই আমার তিন সন্তান আমার কাছে এসেছিল আর তাদের সহযোগিতা ছিল অমূল্য। তবুও, দিনের বেলা আমার চারদিকে অনেক প্রেমময় লোকেরা থাকলেও দীর্ঘ রাত পার করা আমার জন্য আরও বেশি কঠিন ছিল। সেই সময় যিহোবাই আমাকে রক্ষা করেছিলেন। যখনই দুঃসহ একাকীত্ব আমাকে গ্রাস করত, আমি প্রার্থনায় তাঁর প্রতি তাকাতাম এবং তিনি আমাকে সান্ত্বনা প্রদান করতেন।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর এই প্রশ্নটি উত্থাপিত হয়েছিল, এখন আমি কী করব? আমি ইকুয়েডরে থাকতে চেয়েছিলাম কারণ সেটি ছিল আমাদের যৌথ সিদ্ধান্ত কিন্তু এটিও অনুভব করেছিলাম যে একা আমি তা করতে পারব না। তাই হেইডি ও যোয়ান ম্যানুয়েল, যারা অদূর ভবিষ্যতে ইকুয়েডরে আসার পরিকল্পনা করেছিল, তারা তাদের পরিকল্পনায় সমন্বয়সাধন করে, যাতে অবিলম্বেই এখানে আসতে পারে এবং আমরা সকলে একসঙ্গে সেবা করতে পারি।

শাখা অফিস যে শহরগুলি সুপারিশ করেছিল এক মাসের মধ্যে আমরা সেগুলির মধ্যে একটি শহর, লোজাতে একটি ঘর পেয়েছিলাম। আমি বিষয়গুলি সংগঠিত করতে, নতুন গৃহে খাপ খাইয়ে নিতে এবং একটি নতুন দেশে প্রচার করা শুরু করার জন্য শীঘ্রই খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। সেই সমস্ত কার্যক্রম আমার শোক কিছুটা লাঘব করেছিল। অধিকন্তু আমি আমার মেয়ের সঙ্গে কাঁদতে পারতাম, যে ফ্রেডের সঙ্গে অত্যন্ত অন্তরঙ্গ ছিল আর তা আমাকে আমার ভাবাবেগ থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করেছিল।

কিন্তু কয়েক মাস পর, যখন আমি আমার নতুন তালিকার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছিলাম, আমার দুঃসহ হারানোর বেদনা আরও প্রবল হয়ে উঠেছিল। আমি লক্ষ্য করেছিলাম যে ফ্রেড ও আমার যে আনন্দময় সময়গুলি ছিল তা আমি চিন্তা করতে পারতাম না কারণ এটি আমাকে অত্যন্ত শোকার্ত করে তুলত। আমি অতীত চিন্তা করা বাদ দিয়েছিলাম এবং ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে অতিরিক্ত চিন্তা করতে অসমর্থ হয়ে কোনমতে জীবনযাপন করছিলাম। কিন্তু আমি কিছু অর্থপূর্ণ বিষয়, বিশেষভাবে প্রচার কাজ দ্বারা আমার প্রতিটি দিনকে পরিপূর্ণ করার চেষ্টা করেছিলাম। সেটিই আমাকে মানিয়ে নিতে সমর্থ করেছে।

আমি সর্বদাই বাইবেলের বিষয় প্রচার ও শিক্ষা দেওয়া ভালবাসতাম এবং ইকুয়েডরে লোকেরা এত গ্রহণোন্মুখ ছিলেন যে এই কাজ করা আনন্দদায়ক ছিল। প্রথমবার আমি যখন সেখানে গৃহে গৃহে প্রচারের কাজে বের হই, সেখানে আমি এক অল্পবয়সী বিবাহিত মহিলার সাক্ষাৎ পেয়েছিলাম যিনি বলেছিলেন: “হ্যাঁ, আমি বাইবেল শিখতে চাই!” ইকুয়েডরে তার সঙ্গেই আমি প্রথম বাইবেল অধ্যয়ন শুরু করেছিলাম। এইধরনের অভিজ্ঞতা আমার মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল এবং আমার নিজস্ব দুঃখ সম্বন্ধে খুব বেশি চিন্তা করা থেকে আমাকে নিবৃত্ত করেছিল। যিহোবা প্রচুররূপে আমার ক্ষেত্রের পরিচর্যাকে আশীর্বাদ করেছিলেন। মনে হয়েছিল যে আমি সুসমাচার প্রচারের জন্য বের হলেই প্রায় প্রতিবার আমার একটি সুন্দর অভিজ্ঞতা থাকত।

নিঃসন্দেহে, একজন অগ্রগামী হিসাবে সেবা চালিয়ে যাওয়া একটি আশীর্বাদস্বরূপ ছিল। এটি আমাকে এই অনুসারে জীবনযাপন করার এক বাধ্যবাধকতা দান করেছিল এবং প্রতিদিন করার জন্য ইতিবাচক কিছু সরবরাহ করেছিল। অল্প সময়ের মধ্যে, আমি ছয়টি বাইবেল অধ্যয়ন পরিচালনা করছিলাম।

আমার পরিচর্যা থেকে যে পরিতৃপ্তি আমি লাভ করেছিলাম তা বর্ণনা করার জন্য আমাকে একজন মধ্যবয়স্কা মহিলা সম্বন্ধে উল্লেখ করতে দিন, যিনি সম্প্রতি বাইবেল শিক্ষার প্রতি উপলব্ধি দেখিয়েছেন। আমি যখন তাকে একটি শাস্ত্রপদ দেখিয়েছিলাম, তিনি প্রথমে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে এটি বুঝতে চান আর তারপর এর পরামর্শটিকে কাজে প্রয়োগ করতে ইচ্ছুক হন। অতীতে যদিও তিনি এক অনৈতিক জীবনযাপন করতেন কিন্তু সম্প্রতি যখন একজন পুরুষ তাকে তার সঙ্গে বাস করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তিনি তার প্রস্তাব দৃঢ়রূপে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। শাস্ত্রীয় মানের প্রতি অটল থাকতে পারায় কতটা সুখী তিনি হয়েছিলেন তা আমাকে বলেছিলেন আর এখন তিনি এক মানসিক শান্তি উপভোগ করেন যা পূর্বে কখনও করেননি। এইধরনের অধ্যয়নগুলি আমার হৃদয়কে উষ্ণ করে এবং আমি যে উপযোগী তা বোধ করতে সাহায্য করে।

আমার আনন্দ বজায় রাখা

শিষ্য-করণের কাজ আমাকে অনেক আনন্দ এনে দিলেও, আমার শোক শীঘ্রই দূরীভূত হয়নি। আমার ক্ষেত্রে দুঃখ ছিল এমন একটি বিষয় যা পর্যায়ক্রমে আসে আর যায়। আমার মেয়ে ও জামাতা আমাকে চমৎকার সহযোগিতা দান করেছে কিন্তু মাঝে মাঝে যখন তাদেরকে একত্রে বিশেষ মুহূর্তগুলি কাটাতে দেখি, তখন আরও তীব্রভাবে আমি আমার অভাব বোধ করি। আমি তীব্রভাবে আমার স্বামীর অভাব বোধ করি কেবল এই জন্য নয় যে আমরা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলাম কিন্তু অনেক বিষয়ের জন্য আমি তার উপর নির্ভর করতাম। যখন তার সঙ্গে কথা বলতে পারি না, তার কাছে পরামর্শ চাইতে পারি না অথবা তার সঙ্গে ক্ষেত্রের পরিচর্যার অভিজ্ঞতা বন্টন করতে পারি না, সেটি এমন মনোকষ্ট এবং শূন্যতা নিয়ে আসে যার সঙ্গে মোকাবিলা করা কোনক্রমেই সহজ নয়।

এই পরিস্থিতিগুলিতে কী আমাকে সাহায্য করে? আমি যিহোবার কাছে আমাকে অন্যকিছু অর্থাৎ ইতিবাচক কিছু চিন্তা করতে সাহায্য করার জন্য ঐকান্তিকভাবে প্রার্থনা করি ও আবেদন জানাই। (ফিলিপীয় ৪:৬-৮) আর তিনি প্রকৃতই আমাকে সাহায্য করেন। এখন আমি ও ফ্রেড একত্রে যে উত্তম সময় কাটিয়েছিলাম সেই সম্বন্ধে কথা বলতে সক্ষম হই। অতএব, এটি সুস্পষ্ট যে আরোগ্যকরণ প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে এর প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছে। গীতরচক দায়ূদের মত আমি অনুভব করি যে আমি “মৃত্যুচ্ছায়ার উপত্যকা”-য় পরিভ্রমণ করেছি। কিন্তু আমাকে সান্ত্বনা প্রদানের জন্য সেখানে যিহোবা ছিলেন আর বিশ্বস্ত ভাইরা দয়ার সঙ্গে আমাকে সঠিক নির্দেশনার প্রতি পরিচালনা করেছিলেন।

যে বিষয়গুলি আমি শিখেছি

ফ্রেড সর্বদা নেতৃত্ব নেওয়ার সময়, আমি কখনও ভাবিনি যে আমি কখনও একা এগিয়ে যেতে ও আমার কাজগুলি নিজে নিজে করতে পারব। কিন্তু যিহোবা, আমার পরিবার ও ভাইদের সহায়তায় আমি সমস্ত কিছু সামলে নিয়েছি। কোন কোন দিক দিয়ে আমি পূর্বের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়েছি। আমি পূর্বের চেয়ে এখন যিহোবার প্রতি আরও অধিক নির্ভরশীল হয়েছি এবং আমি নিজে সিদ্ধান্ত নিতে শিখছি।

আমি ও ফ্রেড একত্রে ২০ বছর, যেখানে অধিক প্রয়োজন সেখানে অর্থাৎ, স্পেনে কাজ করতে পারায় অত্যন্ত আনন্দিত। এই বিধিব্যবস্থায় আমাদের কখন কী হবে তা আমরা কখনও জানি না, তাই আমি মনে করি যখন আমাদের সুযোগ থাকে তখন যিহোবা ও পরিবারের জন্য সর্বোত্তম করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ওই বছরগুলি আমাদের জীবন ও বিবাহকে সমৃদ্ধ করে তুলেছিল আর আমি দৃঢ়প্রত্যয়ী যে এটি আমাকে আমার অভাবের মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত করেছে। ফ্রেডের মৃত্যুর আগেই যেহেতু অগ্রগামীর কাজ করা আমার জন্য এক জীবনোপায় হয়েছিল, তাই এটি আমাকে এক উদ্দেশ্যপূর্ণ অনুভূতি প্রদান করেছিল যখন আমি নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য সংগ্রাম করছিলাম।

ফ্রেড যখন মারা যায়, প্রথমে আমার মনে হয়েছিল যে আমার জীবনও শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু অবশ্যই বিষয়টি তা ছিল না। যিহোবার পরিচর্যায় আমার কাজ করার ছিল আর আমাকে সাহায্য করার জন্য লোকও ছিল। আমার চতুর্দিকে অনেকের এখনও সত্য জানা প্রয়োজন তা বিবেচনা করে, কিভাবে আমি তা পরিত্যাগ করতে পারি? অন্যদের সাহায্য করা আমার জন্য মঙ্গলজনক ছিল, ঠিক যেমন যীশু বলেছিলেন যে সেটিই হবে। (প্রেরিত ২০:৩৫) ক্ষেত্রের পরিচর্যায় আমার অভিজ্ঞতাগুলি আমাকে সানন্দে প্রতীক্ষা করতে, বিষয়গুলির জন্য পরিকল্পনা করতে সুযোগ দিয়েছিল।

কয়েক দিন আগে, একাকীত্বের সেই পরিচিত অনুভূতি আবার আমাকে গ্রাস করেছিল। কিন্তু আমি যখন বাইবেল অধ্যয়নে যাওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেছিলাম, আমি তৎক্ষণাৎ উদ্দীপনা বোধ করেছিলাম। দুই ঘন্টা পর আমি পরিতৃপ্ত ও পুনরুজ্জীবিত হয়ে গৃহে ফিরে এসেছিলাম। গীতরচক যেমন বলেছিলেন যে আমরা কখনও কখনও ‘সজল নয়নে বীজ বপন করতে’ পারি কিন্তু তারপর যিহোবা আমাদের প্রচেষ্টাকে আশীর্বাদ করেন আর আমরা ‘আনন্দগান-সহ শস্য কাটি।’—গীতসংহিতা ১২৬:৫, ৬.

সম্প্রতি, উচ্চ রক্তচাপের কারণে আমাকে আমার তালিকাকে সামান্য পরিবর্তন করতে হয়েছে এবং আমি এখন একজন নিয়মিত সহায়ক অগ্রগামী। আমি এক পরিতৃপ্তিদায়ক জীবন উপভোগ করছি যদিও আমি মনে করি না যে এই বিধিব্যবস্থায় কখনও সম্পূর্ণরূপে আমার অভাবকে কাটিয়ে উঠতে পারব। আমার তিন সন্তানকে পূর্ণ-সময়ের পরিচর্যায় দেখা আমার জন্য আনন্দ নিয়ে আসে। সর্বোপরি, আমি নতুন জগতে আবার ফ্রেডকে দেখার জন্য সানন্দে প্রতীক্ষা করে আছি। ইকুয়েডরে আমি যে কাজ করতে পেরেছিলাম তা জেনে সে যে রোমাঞ্চিত হবে সেই বিষয়ে আমি নিশ্চিত—আমাদের পরিকল্পনাগুলি ফল উৎপন্ন করেছিল।

আমি প্রার্থনা করি যেন গীতরচকের প্রার্থনা ক্রমাগত আমার ক্ষেত্রে সত্য প্রমাণিত হয়। “কেবল মঙ্গল ও দয়াই আমার জীবনের সমুদয় দিন আমার অনুচর হইবে, আর আমি সদাপ্রভুর গৃহে চিরদিন বসতি করিব।”—গীতসংহিতা ২৩:৬.

[২৩ পৃষ্ঠার চিত্র]

ইকুয়েডরের লোজার স্যান লুকাসে পরিচর্যায়

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার