পরিবারের জন্য সাহায্য | সন্তান লালনপালন
কীভাবে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের বড়ো করে তুলতে পারে?
আপনার যা জানা উচিত
কিছু সংস্কৃতিতে এখনও সন্তানেরা তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে এক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে এবং পরামর্শের জন্য তাদের কাছে সাহায্য চায়। আবার এমনও কিছু সংস্কৃতি রয়েছে, যেখানে সন্তানেরা পরামর্শের জন্য তাদের বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে সাহায্য চায়।
সন্তানেরা যখন তাদের বাবা-মায়ের পরিবর্তে বন্ধুদের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়, তখন তারা দেখায় যে, তাদের চোখে বাবা-মায়েদের কোনো মূল্য নেই। আর সন্তানেরা বড়ো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক বাবা-মা মনে করে যে, তাদের সন্তানেরা হাতের বাইরে চলে গিয়েছে। সন্তানেরা যখন তাদের বন্ধুদের সঙ্গে অতিরিক্ত মাত্রায় সময় কাটায়, তখন এটা এমন যেন বাবা-মায়েরা নয় বরং বন্ধুরা তাদের বড়ো করে তুলছে।
কোন কারণে সন্তানেরা তাদের বাবা-মায়ের চেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে যায়? আসুন কিছু কারণ লক্ষ করি।
স্কুল। সন্তানেরা যখন অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে বেশি সময় কাটায়, তখন তাদের মধ্যে এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। আর সন্তানেরা তাদের বাবা-মায়ের কথা শোনার চেয়ে তাদের বন্ধুদের আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। সন্তানেরা বড়ো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই মনোভাব তাদের মধ্যে আরও বেশি প্রবল হয়ে ওঠে।
স্কুলের বন্ধুদের চেয়ে সন্তানদের তাদের বাবা-মাকে খুশি করা উচিত
একসঙ্গে কম সময় কাটানো। অনেক পরিবারে দেখা গিয়েছে, সন্তানেরা যখন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরে, তখন বাড়িতে কেউ থাকে না কারণ বাবা অথবা মা বা তারা দু-জনেই কাজে চলে গিয়েছে।
সন্তানদের আদব-কায়দা। সন্তানেরা যখন বড়ো হয়, তখন বন্ধুদের সঙ্গে তাদের একটা আলাদাই পরিবেশ তৈরি হয়। তাদের জীবনযাপন করার ধরনই পালটে যায়। যেমন, কোন ধরনের জামাকাপড় পরবে, কীভাবে কথা বলবে এবং কীভাবে চলবে। এই বয়সে সন্তানদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, তাদের বন্ধুরা তাদের বিষয়ে কী চিন্তা করে।
কেনাকাটা। বর্তমানে কোম্পানিগুলো বেশিরভাগ জিনিসপত্র ও বিনোদনের প্রোগ্রামগুলো অল্পবয়সিদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করে। এর ফলে বাচ্চা ও বড়োদের মধ্যে আরও বেশি দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে। ডঃ রবার্ট এপস্টেইন বলেন: “অল্পবয়সিদের যদি একটা আলাদা লাইফস্টাইল না থাকে, তা হলে কোটি কোটি টাকা উপার্জনকারী কোম্পানিগুলো রাতারাতি বন্ধ হয়ে যাবে।”a
আপনি যা করতে পারেন
সন্তানদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক দৃঢ় করুন।
বাইবেল বলে: “আজ আমি তোমাকে যে-আজ্ঞাগুলো দিচ্ছি, সেগুলো যেন তোমার হৃদয়ে থাকে। আর তুমি তোমার ছেলেদের মনে এগুলো গেঁথে দেবে আর ঘরে বসার সময়, রাস্তায় চলার সময়, শোয়ার সময় এবং ওঠার সময় এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবে।”—দ্বিতীয় বিবরণ ৬:৬, ৭.
যদিও বন্ধু থাকা গুরুত্বপূর্ণ, তবে এই বন্ধুরা কখনো বাবা-মায়ের মতো ভালো পরামর্শ দিতে পারে না। কিন্তু ভালো বিষয় হল, অনেক বিশেষজ্ঞ এটা বলে থাকে যে, বেশিরভাগ বাচ্চা ও কিশোর-কিশোরী তাদের বাবা-মাকে সম্মান করে এবং তাদের কথা শুনতে চায়। তাই বাবা-মায়েরা, আপনাদের সন্তানদের বড়ো করে তোলার ক্ষেত্রে হাল ছেড়ে দেবেন না! আপনার সন্তানদের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলুন, এর ফলে আপনার সন্তানেরা তাদের বন্ধুদের চেয়ে আপনার কথা বেশি শুনবে।
“আপনার সন্তানকে সময় দেওয়া উচিত এবং প্রতিদিন তার সঙ্গে ঘরের কাজ করা উচিত। যেমন, রান্না করা, ঘর পরিষ্কার করা এবং তাদের হোমওয়ার্ক করানো। সন্তানদের সঙ্গে খেলাধুলা করুন, কোনো সিনেমা বা টিভি দেখুন। এটা চিন্তা করবেন না যে, সন্তানদের সঙ্গে অল্প কিছু সময় কাটিয়ে আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করে নিয়েছেন। আপনি যদি আপনার সন্তানদের সঙ্গে এক দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান, তা হলে তাদের সময় দিন।”—লরেন।
শুধুমাত্র বাচ্চাদের সমবয়সি বন্ধুদের উপর নির্ভর করবেন না।
বাইবেল বলে: “যুবকের হৃদয়ে মূর্খতা গেঁথে থাকে, কিন্তু শাসনের লাঠি সেটা দূর করে দেবে।”—হিতোপদেশ ২২:১৫, পাদটীকা।
কিছু বাবা-মা এটা দেখে খুবই খুশি হয় যে, তাদের সন্তানদের অনেক বন্ধু রয়েছে। কিন্তু, এটাই যথেষ্ট নয়। কারণ শুধুমাত্র সমবয়সি বন্ধুরা থাকলে আপনার সন্তান দায়িত্ববান হয়ে উঠবে না। শুধু তা-ই নয়, তারা তাদের সমবয়সি বন্ধুদের কাছ থেকে সেই পরামর্শ ও নির্দেশনা পাবে না, যেটা তারা তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে পাবে। তাই তাদের আলাদা আলাদা বয়সি ব্যক্তিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা উচিত।
“সমবয়সি বন্ধুদের কাছে কিছুটা তথ্য থাকতে পারে, তবে তাদের কাছে এতটা অভিজ্ঞতা বা বুদ্ধি থাকে না যে, তারা তাদের বন্ধুদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। তাই সন্তানেরা যখন তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে সাহায্য নেয়, তখন তারা বুদ্ধিমান হয়ে ওঠে।”—নাদিয়া।
বিজ্ঞ পরামর্শ দিন।
বাইবেল বলে: “যে বিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে চলে, সে বিজ্ঞ হয়ে উঠবে।”—হিতোপদেশ ১৩:২০.
বড়ো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্তানেরা যত বেশি তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে সময় কাটাবে, ততই তারা উপকার লাভ করবে। তাই সন্তানদের কাছে একটা ভালো উদাহরণ রাখুন।
“সন্তানদের কাছে তাদের বাবা-মাই সবচেয়ে ভালো উদাহরণ। যদি সন্তানদের তাদের বাবা-মাকে সম্মান করতে শেখানো হয়, তা হলে তারা বড়ো হয়েও তাদের মতো হবে।”—ক্যাথেরিন।
a এই তথ্য টিন ২.০—সেভিং আওয়ার চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিস ফ্রম দ্যা টরমেন্ট অভ্ অ্যাডোলেসেন্ট নামক ইংরেজি বই থেকে নেওয়া হয়েছে।