পরিবারের জন্য সাহায্য | বিয়ে
কীভাবে আপনি ধৈর্য ধরা শিখতে পারেন?
“বিবাহিত জীবনে একজন স্বামী ও স্ত্রীর প্রতিদিন ধৈর্যের পরীক্ষা হয়। আপনি যদি বিয়ে না করে থাকেন, তা হলে ধৈর্য গুণটা খুব-একটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে না-ও হতে পারে। কিন্তু, আপনি যদি বিয়ে করে থাকেন, তা হলে এক সুখী বিবাহিত জীবনের জন্য এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।”—জন।
কেন আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে?
বিয়ের পর আপনার সাথির ভুলগুলো আরও বেশি করে আপনার চোখে পড়বে।
“বিয়ের কিছুসময় পর আপনার সাথির দুর্বলতাগুলো খুব সহজেই আপনার চোখে পড়বে। একবার যখন আপনি সেগুলোর উপর মনোযোগ দিতে শুরু করবেন, তখন আপনি একটুতেই ধৈর্য হারিয়ে ফেলবেন।”—জেসেনা।
আপনি যখন অধৈর্য হয়ে পড়বেন, তখন আপনি চিন্তাভাবনা না করেই কথা বলে ফেলবেন।
“কোনো বিষয়ে আমার কেমন লাগে, আমি তা সঙ্গে সঙ্গে বলে ফেলি; মাঝে মাঝে একদম চোখের পলকে। আমি যদি একটু ধৈর্য ধরে বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করে দেখতাম যে, আমি যা বলতে চাই তা বলার সত্যিই কোনো প্রয়োজন আছে কি না, তা হলে আমি হয়তো বুঝতে পারতাম, আসলে কিছুই বলার প্রয়োজন ছিল না।”—কার্মেন।
বাইবেল বলে:“প্রেম ধৈর্য ধরে এবং দয়া দেখায়।” (১ করিন্থীয় ১৩:৪) আর এটা আশা করাটাই স্বাভাবিক যে, দু-জন ব্যক্তি যারা একে অন্যকে ভালোবাসে, তারা একে অন্যের প্রতি ধৈর্যও ধরবে। কিন্তু, সবসময় ধৈর্য ধরা সহজ নয়। এই বিষয়ে উপরে উল্লেখ করা জন বলেন: “অন্যান্য ভালো গুণের মতো ধৈর্য গুণটাও গড়ে তোলা সহজ নয়; এটার জন্য প্রচেষ্টার প্রয়োজন।”
কীভাবে আপনি ধৈর্য ধরতে পারেন?
যখন হঠাৎ করে আপনার ধৈর্যের পরীক্ষা হয়।
একটা উদাহরণ: আপনার সাথি আপনাকে আঘাত দিয়ে কথা বলেছেন। আর আপনার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হল, এর বিনিময়ে তাকেও দু-কথা শুনিয়ে দেওয়া।
বাইবেলের নীতি: “তাড়াতাড়ি বিরক্ত হোয়ো না কারণ বিরক্ত হওয়া মূর্খদের চিহ্ন।”—উপদেশক ৭:৯, পাদটীকা।
যেভাবে আপনি ধৈর্য ধরতে পরেন: একটু সময় নিন। উত্তর দেওয়ার আগে নিজেকে এটা বলুন যে, আপনার সাথি ইচ্ছাকৃতভাবে আপনাকে আঘাত দেওয়ার জন্য কথাগুলো বলেননি। নিজের বিয়েকে টিকিয়ে রাখার জন্য লড়াই করা (ইংরেজি) নামের একটা বই এভাবে বলে: “আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ লোকই আমাদের সাথি কী বলেছেন অথবা কী বোঝাতে চেয়েছেন সেটা নয়, বরং আমরা কী বুঝেছি সেই অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দেখাই।”
কিন্তু, আপনার সাথি যদি আপনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দিয়ে কথা বলে, তা হলে? সেই সময়েও আপনি যদি ধৈর্য ধরেন এবং আপনার সাথির সঙ্গে একই ধরনের আচরণ না করেন, তা হলে আপনি পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাওয়া থেকে আটকাতে পারবেন। বাইবেলের এই কথাটা কতই-না সঠিক: “কাঠ না থাকলে আগুন নিভে যায়।”—হিতোপদেশ ২৬:২০.
“আপনি যখন আপনার স্ত্রীকে একজন প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখতে শুরু করেন, তখন নিজেকে থামান আর চিন্তা করুন যে, কেন আপনি আপনার স্ত্রীকে ভালোবাসেন এবং এরপর সঙ্গে সঙ্গে তার জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা করুন।”—ইথান।
চিন্তা করার মতো বিষয়:
আপনার সাথি যখন তার কথা বা কাজের মাধ্যমে আপনাকে আঘাত দেন, তখন আপনি কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান?
পরের বার আপনার সাথি যখন একই কাজ করেন, তখন আপনি কীভাবে আরও বেশি করে ধৈর্য ধরতে পারেন?
যখন একই ঘটনা বার বার ঘটে আর এভাবে আপনার ধৈর্যের পরীক্ষা হয়।
একটা উদাহরণ: আপনার স্ত্রী সবকিছুতেই দেরি করে আর আপনাকে সবসময়ই অপেক্ষা করতে হয়; এতে আপনার মাথা গরম হয়ে যায়।
বাইবেলের নীতি: “সবসময় একে অন্যকে সহ্য করো এবং পরস্পরকে পুরোপুরিভাবে ক্ষমা করো।”—কলসীয় ৩:১৩.
যেভাবে আপনি ধৈর্য ধরতে পারেন: নিজেকে নয় বরং আপনার সাথির সঙ্গে আপনার সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দিন। নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: ‘এই বিষয়টা নিয়ে মেজাজ গরম করলে বা তর্কে জড়িয়ে পড়লে আমাদের সম্পর্ক কি ভালোর দিকে যাবে, না কি খারাপের দিকে?’ এ ছাড়া, আমাদের মনে রাখতে হবে যে, “আমরা সকলে বিভিন্ন সময় ভুল করে থাকি।” (যাকোব ৩:২) এর অর্থ হল আপনার মধ্যেও এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলোতে আপনাকে উন্নতি করতে হবে।
“কখনো কখনো আমি আমার স্বামীর প্রতি নয় বরং আমার বন্ধুদের প্রতি বেশি ধৈর্য দেখাই। আমার মনে হয় এর কারণ হল, আমি আমার স্বামীর সঙ্গে বেশি সময় কাটাই আর তাই তার ভুলগুলোও আমার বেশি চোখে পড়ে। কিন্তু, যদি আমি তার প্রতি ধৈর্য ধরি, তা হলে আমি দেখাব যে, আমি তাকে ভালোবাসি এবং সম্মান করি। তাই, আমাদের বিয়েতে ধৈর্য গুণটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।”—নিয়া।
চিন্তা করার মতো বিষয়:
আপনার সাথি যখন বার বার একই ভুল করে, তখন আপনি কতটা ধৈর্য ধরেন?
ভবিষ্যতে আপনি কি আরও বেশি করে ধৈর্য ধরতে পারেন? কীভাবে?