যুবক-যুবতীদের জিজ্ঞাস্য
আমার কি কুমারীত্ব বজায় রাখার বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করা উচিত?
কুমারীত্ব বজায় রাখার বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করার মানে কী?
কুমারীত্ব বজায় রাখার বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করার মানে হল লিখিতভাবে হোক অথবা মৌখিকভাবে এই শপথ করা যে, একজন ব্যক্তি বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক করবে না।
১৯৯০-এর দশকে কুমারীত্ব বজায় রাখার বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করাটা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। আমেরিকায় সাউদার্ন ব্যাপটিস্ট চার্চের একটা সভায় ‘প্রকৃত প্রেম অপেক্ষা করে’ নামের একটা অভিযান শুরু করা হয়েছিল। সেই অভিযানে যুবক-যুবতীদের বাইবেলের মানের উপর ভিত্তি করে এবং তাদের বন্ধুদের বলা ভালো কথার দ্বারা উৎসাহিত করা হয়েছিল, যেন তারা বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক না করে।
এর কিছু সময় পরই একই ধরনের একটা কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, যেখানে উপস্থিত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকে এই প্রতিজ্ঞা করেছিল। তাদের একটা করে রুপোর আংটি দেওয়া হয়েছিল, যেটা এই বিষয়ের চিহ্ন ছিল (যেটা তাদের এটা মনে করিয়ে দিত) যে, তারা বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক করবে না।
কুমারীত্ব বজায় রাখার বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করে কি কোনো লাভ হবে?
উত্তরটা এই বিষয়ের উপর নির্ভর করছে, প্রশ্নটা কাকে করছ।
গবেষক ক্রিস্টিন সি. কিম এবং রবার্ট রেক্টরের মতে, “বিভিন্ন সমীক্ষা থেকে উঠে এসেছে, যে-যুবক-যুবতীরা এই প্রতিজ্ঞা করেছিল, তাদের মধ্যে বেশিরভাগই বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক করেনি অথবা বহু দিন পর্যন্ত নিজেদের প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী কাজ করেছিল।”
গুটমকার ইনস্টিটিউট দ্বারা প্রকাশিত একটা বইয়ের একটা গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে যে, “যে-যুবক-যুবতীরা কুমারিত্ব বজায় রাখার বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করে, তারাও সেই ব্যক্তিদের মতোই যৌনসম্পর্ক করে থাকে, যারা প্রতিজ্ঞা করেনি।”
কেন এই পার্থক্য?
কোনো কোনো সমীক্ষায় প্রতিজ্ঞা করেছে এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে সেই ব্যক্তিদের তুলনা করা হয়েছে, যারা বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক করাকে ভুল বলে মনে করে না।
আবার কোনো কোনো সমীক্ষায় প্রতিজ্ঞা করেছে এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে সেই ব্যক্তিদের তুলনা করা হয়েছে, যারা কুমারীত্ব বজায় রাখার প্রতিজ্ঞা করেনি কিন্তু তারপরও তারা বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক করাকে ভুল বলে মনে করে।
দ্বিতীয় সমীক্ষা থেকে কী বোঝা যায়? যুবক-যুবতীদের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. জেনেট রোজেনবাম বলেন, “যারা প্রতিজ্ঞা করেছিল এবং যারা প্রতিজ্ঞা করেনি, পাঁচ বছর পর এই দুই ধরনের ব্যক্তির মধ্যে কোনো পার্থক্যই থাকে না কারণ উভয়ই যৌনসম্পর্ক করে থাকে।”
সঠিক উপায়টা কী?
কুমারীত্ব বজায় রাখার বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করার অভিযানগুলো ভালো উদ্দেশ্য নিয়েই করা হয়। কিন্তু, সমস্যাটা হল যুবক-যুবতীরা এমন গুণগুলো গড়ে তোলে না, যেগুলো তাদের প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী কাজ করতে সাহায্য করবে। যারা কুমারীত্ব বজায় রাখার প্রতিজ্ঞা করে, তাদের বিষয়ে ড. রোজেনবাম বলেন, তারা “এই প্রতিজ্ঞার বিষয়ে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ নয়। একজন ব্যক্তি যদি বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক না করার সিদ্ধান্ত নেন, তা হলে তাকে ব্যক্তিগতভাবে সেই বিষয়ে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হতে হবে আর এই বিষয়টা কোনো অভিযানে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে লাভ করা যায় না।”
বাইবেল বলে একজন ব্যক্তির মধ্যে এই ধরনের সংকল্প সেইসময় গড়ে ওঠে, যখন সেই ব্যক্তি “সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করার জন্য,” নিজের ‘চিন্তা করার ক্ষমতাকে প্রশিক্ষিত করে।’ এই সংকল্প লিখিতভাবে হোক অথবা মৌখিকভাবে শপথ করার মাধ্যমে লাভ করা যায় না। (ইব্রীয় ৫:১৪) বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক করলে আমরা গর্ভবতী হয়ে পড়তে পারি অথবা কোনো রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারি। তবে, আমাদের শুধু এই কারণগুলোর জন্যই বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক করা এড়িয়ে চলা উচিত নয় কিন্তু সেইসঙ্গে বিয়ের উদ্যোক্তা ঈশ্বরের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্যও এমনটা করা এড়িয়ে চলা উচিত।—মথি ৫:১৯; ১৯:৪-৬.
বাইবেলের মানগুলো আমাদের ভালোর জন্যই তৈরি করা হয়েছে। (যিশাইয় ৪৮:১৭) আসলে, যেকোনো বয়সের ব্যক্তিই ঈশ্বরের এই আজ্ঞা পালন করার বিষয়ে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হতে পারে যে, “যৌন অনৈতিকতা থেকে পালিয়ে যাও!” (১ করিন্থীয় ৬:১৮) এমনটা করার ফলে, পরে যখন তারা বিয়ে করবে, তখন তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে নিজেদের যৌনজীবন ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবে আর তাদের জীবনে সেই দুশ্চিন্তা অথবা অনুশোচনা থাকবে না, যেগুলো বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক করার ফলে আসে।