কে এই পৃথিবীকে রক্ষা করবে?
অনেক লোকই এই পৃথিবী এবং এতে থাকা জীবনের বিষয়ে চিন্তিত। তারা মনে করে, মানুষই এগুলোর ক্ষতি করছে। কিছু পরিবেশ বিশেষজ্ঞের মতে, মানুষের কাজের কারণে পৃথিবী থেকে অনেক প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে এবং জীবজগতের অনেক ক্ষতি হচ্ছে, যেমনটা আগে কখনো হয়নি।
মানুষ কি এই পৃথিবীকে ধ্বংস করে ফেলবে? না কি তারা কোনো একদিন এমনভাবে জীবনযাপন করতে পারবে, যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয়?
মানুষের প্রচেষ্টায় কি এর সমাধান হবে?
অনেক বিশেষজ্ঞ বিশ্বাস করেন, মানুষ পৃথিবীকে রক্ষা করতে পারবে এবং তাদের পক্ষে এমনভাবে জীবনযাপন করা সম্ভব, যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয়। তবে, এরজন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড়ো বড়ো পরিবর্তন করতে হবে এবং সেগুলো একই সময়ে করতে হবে। এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হল:
জমি, বন, জলভূমি ও সমুদ্রের আরও ভালোভাবে দেখাশোনা করা
শক্তির বিভিন্ন উৎস এবং কৃষিকাজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা
খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত করার এবং বিতরণ করার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা, যাতে মানুষ বেশি করে শাকসবজি খায় আর কম করে মাছ-মাংস খায় আর একইসঙ্গে তারা পরিমাণেও যেন কম খায় এবং খাবারও যেন কম নষ্ট করে
এটা মেনে নেওয়া যে, উন্নতমানের জীবনযাপন করার মানে এই নয়, অনেক অনেক জিনিসপত্র লাগবে
আপনি কী মনে করেন? এটা কি বাস্তবে সত্যিই সম্ভব যে, সরকার, ব্যাবসাবাণিজ্য ও সাধারণ জনগণের প্রত্যেকে এই বিরাট পরিবর্তনগুলো করার জন্য সহযোগিতা করবে? না কি আপনার এটা অসম্ভব বলে মনে হয় কারণ লোকেরা অনেক লোভী ও স্বার্থপর হয়ে গিয়েছে এবং ভবিষ্যতের জন্য চিন্তাই করে না?—২ তীমথিয় ৩:১-৫.
আশার এক আলো
বাইবেল আমাদের এই আশ্বাস দেয় যে, পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে না। এটি এও ব্যাখ্যা করে, পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য কেন মানুষের প্রচেষ্টার চেয়েও বেশি কিছু প্রয়োজন এবং কোন পরিবর্তনটা করতেই হবে। এ ছাড়া, এটি এও বলে, কীভাবে এই পরিবর্তন আসবে।
পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য কেন মানুষের প্রচেষ্টার চেয়েও বেশি কিছু প্রয়োজন? যিহোবাa ঈশ্বর এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি এর যত্ন নেওয়ার জন্য মানুষকে দায়িত্ব দিয়েছেন। (আদিপুস্তক ১:২৮; ২:১৫) তবে, এই দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে তারা তখনই সফল হতে পারবে, যখন তারা তাদের সৃষ্টিকর্তার বাধ্য থাকবে এবং তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবে। (হিতোপদেশ ২০:২৪) কিন্তু, তারা যিহোবার পরামর্শ অনুযায়ী কাজ না করে বরং নিজেদের ইচ্ছামতো চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। (উপদেশক ৭:২৯) আসলে, মানুষের সেই ক্ষমতাই নেই যে, তারা নিজেরা পৃথিবীর যত্ন নিতে পারে। এক্ষেত্রে, তারা যত প্রচেষ্টাই করুক না কেন, তাদের কোনো-না-কোনো সীমাবদ্ধতা থাকবেই।—হিতোপদেশ ২১:৩০; যিরমিয় ১০:২৩.
কোন পরিবর্তনটা করতেই হবে? ঈশ্বর মানুষকে থামাবেন, যাতে তারা এই পৃথিবী ধ্বংস করতে না পারে। (প্রকাশিত বাক্য ১১:১৮) তিনি মানবসরকার এবং যে-সংগঠনগুলো পৃথিবীর ক্ষতি করছে, সেগুলোকে ঠিক করবেন না বরং তিনি সেগুলোকে পুরোপুরি সরিয়ে দেবেন। (প্রকাশিত বাক্য ২১:১) তাই, যিহোবা প্রতিজ্ঞা করেছেন: “দেখো! আমি সমস্ত কিছু নতুন করছি।”—প্রকাশিত বাক্য ২১:৫.
কীভাবে এই পরিবর্তন আসবে? যিহোবা মানবসরকারগুলোর জায়গায় স্বর্গের এক সরকার স্থাপন করবেন, যে-সরকারকে ঈশ্বরের রাজ্য বলা হয়। এই সরকারের রাজা হবেন যিশু খ্রিস্ট এবং এটাই পৃথিবীর উপর শাসন করবে।—দানিয়েল ২:৪৪; মথি ৬:১০.
ঈশ্বরের রাজ্য মানুষকে ঈশ্বরের মান অনুযায়ী জীবনযাপন করতে শেখাবে। মানুষ যখন তাদের সৃষ্টিকর্তা সম্বন্ধে শিখবে এবং তাঁর নির্দেশনা মেনে চলবে, তখন তারা প্রকৃতির সঙ্গে মিল রেখে জীবনযাপন করতে পারবে। (যিশাইয় ১১:৯) বাইবেলে লেখা রয়েছে, ঈশ্বরের সরকার কী কী করবে, যাতে এর নাগরিকেরা খুব ভালোভাবে এবং আনন্দের সঙ্গে জীবন উপভোগ করতে পারে; আর এই জীবনধারায় পৃথিবীর কোনো ক্ষতি হবে না। এই সরকার কী কী করবে?
প্রত্যেকের জন্য খাবার জোগাবে।—গীতসংহিতা ৭২:১৬.
প্রাকৃতিক সমস্ত সম্পদ আবার শুরুর অবস্থায় নিয়ে যাবে।—যিশাইয় ৩৫:১, ২, ৬, ৭.
এটা নিশ্চিত করবে যে, মানুষ যেন পশুপাখির যত্ন নেয় আর পশুপাখি যেন মানুষের কোনো ক্ষতি না করে।—যিশাইয় ১১:৬-৮; হোশেয় ২:১৮.
প্রাকৃতিক দুর্যোগ সরিয়ে দেবে।—মার্ক ৪:৩৭-৪১.
ঈশ্বরের রাজ্য খুব তাড়াতাড়ি এই পরিবর্তনগুলো আনতে যাচ্ছে। আপনি যদি এই বিষয়ে আরও জানতে চান, তা হলে “কখন ঈশ্বরের রাজ্য পৃথিবীতে শাসন করবে?” শিরোনামের প্রবন্ধটা দেখুন।
a যিহোবা হল ঈশ্বরের ব্যক্তিগত নাম।—গীতসংহিতা ৮৩:১৮.