পুরুষদের উদ্বিগ্নতা—বাইবেল যেভাবে সাহায্য করতে পারে
আপনি যখন উদ্বিগ্নতায় ডুবে আছে এমন একজন ব্যক্তির কথা চিন্তা করেন, তখন আপনার মনে কোন ছবি ভেসে ওঠে?a হতে পারে এমন একজন ব্যক্তি, যাকে উদ্বিগ্নতা ঘিরে ধরেছে। অথবা এমন একজন ব্যক্তি, যিনি সকাল সকাল বিছানা থেকে উঠতেই পারেন না কিংবা যিনি সারাদিন নিজের চিন্তার কথাই বলতে থাকেন।
হতে পারে, কেউ কেউ উদ্বিগ্নতার সঙ্গে লড়াই করার সময় এইরকম আচরণ করে। তবে গবেষকেরা বলে থাকে, কিছু ব্যক্তি যাদের মধ্যে বেশিরভাগ পুরুষ, তারা ভিন্ন উপায়ে তাদের উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করে ফেলে। একটা রিপোর্ট দেখায় যে, বেশিরভাগ পুরুষ “নিজেদের উদ্বিগ্নতার সঙ্গে লড়াই করার জন্য মদ খায় এবং ড্রাগ নেয়। এর ফলে মনে হতে পারে তারা মাতাল, কিন্তু হতে পারে তারা উদ্বিগ্নতার সঙ্গে লড়াই করছে। যখন কোনো পুরুষ উদ্বিগ্নতার মধ্যে ডুবে থাকে, তখন বেশিরভাগ সময় সে একটুতেই রেগে যায় এবং খিটখিটে হয়ে ওঠে।”
এমনটা নয়, সমস্ত পুরুষ একইরকম আচরণ করবে। কিন্তু, তারা যেমনই আচরণ করুক না কেন, একটা বিষয় সত্য যে, বর্তমানে উদ্বিগ্নতা বেড়েই চলেছে কারণ এখন “পরিস্থিতি কঠিন ও বিপদজনক।” (২ তীমথিয় ৩:১) যদি আপনি উদ্বিগ্নতায় ডুবে থাকেন, তা হলে বাইবেল আপনাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারে?
উদ্বিগ্নতার সঙ্গে লড়াই করার জন্য বাইবেলের পরামর্শ
বাইবেলে প্রচুর নির্ভরযোগ্য পরামর্শ রয়েছে, যেগুলো আমাদের উদ্বিগ্নতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে। আসুন, তিনটে উদাহরণ লক্ষ করি।
১. “কখনো আগামীকালের বিষয়ে উদ্বিগ্ন হোয়ো না, কারণ আগামীকালের জন্য আগামীকালের উদ্বিগ্নতা রয়েছে। দিনের কষ্ট দিনের জন্যই যথেষ্ট।”—মথি ৬:৩৪.
এর অর্থ: ভবিষ্যতে কী হবে অথবা কী হবে না, সেটা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করা হল বুদ্ধিমানের কাজ। বেশিরভাগ সময় আমরা যে-বিষয় নিয়ে চিন্তা করি, সেটা আসলে ঘটেই না। কিছু ক্ষেত্রে আমরা চিন্তা করি পরিস্থিতি খারাপ হবে, কিন্তু উলটে পরিস্থিতি ভালো হয়ে যায়।
এটা করে দেখুন: এমন একটা সময়ের কথা চিন্তা করুন, যখন আপনি ভেবেছিলেন খারাপ কিছু ঘটবে, কিন্তু তা ঘটেনি। এরপর চিন্তা করুন, আপনি বর্তমানে যে-বিষয়টা নিয়ে উদ্বিগ্ন হচ্ছেন, সেটা ভবিষ্যতে একটা বড়ো সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে কি না।
২. “ঠিক যেমন লোহা লোহাকে ধারালো করে, তেমনই একজন ব্যক্তি তার বন্ধুকে উন্নতি করতে সাহায্য করে।”—হিতোপদেশ ২৭:১৭.
এর অর্থ: আমরা যদি চাই, তা হলে উদ্বিগ্নতার সঙ্গে লড়াই করার জন্য অন্যেরা আমাদের সাহায্য করতে পারে। হতে পারে, তারা তাদের অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের ভালো পরামর্শ দেবে। এ ছাড়া, তারা হয়তো আমাদের উদ্বিগ্নতাকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখতে সাহায্য করবে।
এটা করে দেখুন: এমন একজন ব্যক্তির কথা চিন্তা করুন, যিনি আপনাকে ভালো পরামর্শ দেবেন। যেমন এমন কোনো বন্ধু, যিনি আপনারই মতো একইরকম সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন। তাকে জিজ্ঞেস করুন, কোন বিষয়টা তাকে সাহায্য করেছে আর কোন বিষয়টা তাকে সাহায্য করেনি।
৩. “তোমাদের সমস্ত উদ্বিগ্নতার [বা “চিন্তাভাবনার; দুশ্চিন্তার,” পাদটীকা] বোঝা তাঁর উপর ফেলে দাও, কারণ তিনি তোমাদের জন্য চিন্তা করেন।”—১ পিতর ৫:৭.
এর অর্থ: ঈশ্বর তাদের জন্য চিন্তা করেন, যারা উদ্বিগ্নতার সঙ্গে মোকাবিলা করছে। তিনি চান, আমরা তাঁর কাছে মন খুলে প্রার্থনা করি এবং আমাদের সমস্ত চিন্তার বিষয়ে তাঁকে জানাই।
এটা করে দেখুন: এমন বিষয়গুলোর একটা তালিকা তৈরি করুন, যে-বিষয়গুলো নিয়ে আপনি উদ্বিগ্নতায় ডুবে রয়েছেন। এরপর সেই বিষয়গুলো নিয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করুন, সমস্ত সমস্যার বিষয়ে খুলে বলুন আর সেগুলোর সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য সাহায্য চান।
যখন উদ্বিগ্নতা আর থাকবে না
বাইবেল উদ্বিগ্নতার সঙ্গে মোকাবিলা করতেই সাহায্য করে না। এটি এমন এক সময়ের কথা জানায়, যখন উদ্বিগ্নতাকে চিরকালের জন্য সরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু, এই সমস্ত কিছু কীভাবে সম্ভব?
ঈশ্বরের রাজ্য এমন সমস্ত কিছু ধ্বংস করে দেবে, যেগুলোর কারণে আমরা উদ্বিগ্ন হই। (প্রকাশিত বাক্য ২১:৪) এমনকী এই রাজ্যে আমাদের বর্তমানের দুশ্চিন্তা ও উদ্বিগ্নতা স্মরণেও আসবে না।—যিশাইয় ৬৫:১৭.
“শান্তির ঈশ্বর” আমাদের এই ভবিষ্যৎ দেওয়ারই প্রতিজ্ঞা করেছেন। (রোমীয় ১৬:২০) তিনি আমাদের এই নিশ্চয়তা দেন যে, “আমি তোমাদের প্রতি কী করব, তা আমি ভেবে রেখেছি। … তোমাদের শান্তি দেব, যাতে আমি তোমাদের এক উত্তম ভবিষ্যৎ এবং এক আশা দিতে পারি।”—যিরমিয় ২৯:১১.
a এই প্রবন্ধে “উদ্বিগ্নতা” শব্দটা কোনো গুরুতর অসুস্থতার জন্য নয় বরং সেই সমস্যা কিংবা দুশ্চিন্তার বিষয়ে বোঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে আমাদের প্রতিদিন মোকাবিলা করতে হয়। যদি আপনি উদ্বিগ্নতার সঙ্গে জড়িত কোনো রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তা হলে আপনি কোনো ডাক্তারের সাহায্য নিতে পারেন।—লূক ৫:৩১.