পরিবারের কোনো সদস্য আপনার সঙ্গে খারাপ আচরণ করলে আপনি কী করবেন?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, “সারা পৃথিবীতে মহিলারা নির্যাতিত হচ্ছে। এই সমস্যাটা মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে আর এটা বন্ধ করার জন্য কিছু একটা করা উচিত।” এই সংস্থার অনুমান, পৃথিবীর বিবাহিত মহিলাদের মধ্যে বা যে-মহিলারা পুরুষের সঙ্গে থাকে, তাদের মধ্যে ৩০ শতাংশ মহিলাদের সঙ্গীরা তাদের মারধর করে অথবা তাদের উপর যৌন নির্যাতন করে। ইউনাইটেড নেশনস্-এর সাম্প্রতিক একটা রিপোর্ট অনুসারে, এক বছরে পৃথিবীব্যাপী প্রতিদিন ১৩৭ জন মহিলাকে হত্যা করা হয়েছে। কিছু মহিলা তাদের সঙ্গীর হাতে মারা গিয়েছে, আবার কিছু মহিলা পরিবারের সদস্যদের হাতে মারা গিয়েছে।a
পৃথিবীব্যাপী কত জন মহিলাকে পারিবারিক হিংসার শিকার হতে হয়, সেটার সংখ্যা থেকে বোঝা যায়, এই সমস্যাটা কত ব্যাপক। তবে, এটা থেকে বোঝা যায় না, এই মহিলারা কতটা মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা ভোগ করছে।
আপনার বাড়িতে কি কেউ আপনাকে নির্যাতন করে? অথবা আপনি কি এমন কোনো মহিলাকে চেনেন, যিনি নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন? নীচে বাইবেলের কিছু শিক্ষার বিষয়ে বলা হয়েছে, যা আপনাকে এই সমস্যার সঙ্গে আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করতে সাহায্য করতে পারে অথবা যে কষ্ট পাচ্ছে, তাকে আপনি সাহায্য করতে পারেন।
ঘরোয়া নির্যাতনের জন্য আপনি দায়ী নন
ঘরোয়া নির্যাতন একদিন শেষ হয়ে যাবে
যার উপর অত্যাচার করা হচ্ছে, আপনি কীভাবে তাকে সাহায্য করতে পারেন?
ঘরোয়া নির্যাতনের জন্য আপনি দায়ী নন
বাইবেল যা বলে: “আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ কাজের জন্য ঈশ্বরের কাছে নিকাশ দিতে হবে।”—রোমীয় ১৪:১২.
মনে রাখুন: যে আপনার উপর নির্যাতন করে, সে নিজে এই কাজের জন্য দায়ী, আপনি নন।
আপনার সাথি যদি আপনাকে বলে, সে আপনার উপর অত্যাচার করছে কারণ দোষটা আপনারই, তা হলে মনে রাখবেন, এটা মোটেও সত্য নয়। স্বামীদের তাদের স্ত্রীদের ভালোবাসা উচিত, তাদের উপর অত্যাচার করা উচিত নয়।—কলসীয় ৩:১৯.
আপনার স্বামী যে আপনার উপর অত্যাচার করছে, এর পিছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। হতে পারে তার কোনো মানসিক রোগ আছে, সে মদের প্রতি আসক্ত অথবা সে এমন একটা পরিবারে বড়ো হয়ে উঠেছে, যেখানে সে দেখেছে, একজন আরেকজনকে মারধর করছে। যে-কারণেই সে আপনার উপর অত্যাচার করুক না কেন, তাকে ঈশ্বরের কাছে নিকাশ দিতে হবে আর তাকেই তার আচরণ পরিবর্তন করতে হবে।
আপনি সাহায্য পেতে পারেন
বাইবেল যা বলে: “অনেক পরামর্শদাতা থাকলে সাফল্য লাভ করা যায়।”—হিতোপদেশ ১৫:২২.
মনে রাখুন: আপনি যদি মনে করেন যে, আপনি সুরক্ষিত নন অথবা আপনি যদি বুঝতে না পারেন যে, আপনি কী করবেন, তা হলে অন্যেরা আপনাকে সাহায্য করতে পারে।
কেন আপনার অন্যের সাহায্য নেওয়া উচিত? আপনার স্বামী যদি আপনার উপর অত্যাচার করে, তা হলে আপনাকে অনেক সমস্যা সহ্য করতে হয়। আপনি হয়তো বুঝতে পারেন না যে, আপনার কী করা উচিত অথবা কী করা উচিত নয়। তাই, অন্যদের সাহায্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আপনি হয়তো নীচে দেওয়া বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তিত রয়েছেন:
ব্যক্তিগত সুরক্ষা
সন্তানদের দেখাশোনা
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি
সাথির প্রতি ভালোবাসা
আপনার সাথি যদি নিজেকে পরিবর্তন করে, তা হলে আবার তার সঙ্গে থাকার ইচ্ছা
এটা স্বাভাবিক যে, এই বিষয়গুলো চিন্তা করে আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না, আপনি কী করবেন। আপনি কি কারো কাছে সাহায্য চাইতে পারেন?
পরিবারের কোনো সদস্য অথবা কোনো নির্ভরযোগ্য বন্ধু আপনার সাহস বৃদ্ধি করতে পারে অথবা আপনার সন্তানদের দেখাশোনা করার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। তাকে আপনার মনের অবস্থা খুলে বলুন। আপনি অনেক স্বস্তি পাবেন কারণ সে আপনার জন্য চিন্তা করে।
নির্যাতিত মহিলাদের সুরক্ষার জন্য হেল্পলাইন নম্বরে কল করলে তারা আপনাকে সরাসরি সাহায্য করবে। তাদের কল করলে তারা আপনাকে বলতে পারে যে, আপনি নিজের সুরক্ষার জন্য কী কী করতে পারেন। যদি আপনার সাথি নিজের ভুল স্বীকার করেন আর সত্যিই নিজের আচরণ পরিবর্তন করতে চান, তা হলে তারা তাকে বোঝাতে পারে, এরজন্য তাকে কী কী করতে হবে।
আপৎকালীন পরিস্থিতিতে যারা সাহায্য করে, আপনি তাদেরও সাহায্য নিতে পারেন। যদি আপনি হঠাৎ কোনো সমস্যায় পড়ে যান, তা হলে তারা আপনাকে সাহায্য করতে পারে। যেমন ডাক্তার, নার্স অথবা এমন লোকেরা, যাদের বিপদের সময় সাহায্য করার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
আপনি একা নন
বাইবেল যা বলে: “যিহোবাb সেই ব্যক্তিদের কাছে থাকেন, যাদের মন ভেঙে গিয়েছে, তিনি সেই ব্যক্তিদের রক্ষা করেন, যাদের মন চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছে।”—গীতসংহিতা ৩৪:১৮.
মনে রাখুন: ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, তিনি আপনাকে সাহায্য করবেন।
যিহোবা আপনার জন্য অনেক চিন্তা করেন। (১ পিতর ৫:৭) তিনি আপনার সমস্যা ও কষ্ট বুঝতে পারেন। তিনি তাঁর বাক্য বাইবেলের মাধ্যমে আপনাকে সান্ত্বনা দিতে পারেন। তিনি চান যেন আপনি তাঁর কাছে প্রার্থনা করেন। আপনি তাঁর কাছে বিনতি করতে পারেন যেন তিনি আপনাকে প্রজ্ঞা ও শক্তি দেন।—যিশাইয় ৪১:১০.
ঘরোয়া নির্যাতন একদিন শেষ হয়ে যাবে
বাইবেল যা বলে: “প্রত্যেকে আপন আপন দ্রাক্ষালতার ও আপন আপন ডুমুরবৃক্ষের তলে বসিবে; কেহ তাহাদিগকে ভয় দেখাইবে না।”—মীখা ৪:৪.
মনে রাখুন: বাইবেল বলে, খুব শীঘ্রই এমন এক পরিস্থিতি আসবে, যখন প্রতিটা বাড়িতে শান্তি থাকবে আর কেউ কারো উপর অত্যাচার করবে না।
একমাত্র যিহোবা ঈশ্বরই আমাদের সমস্ত সমস্যা চিরকালের জন্য দূর করতে পারেন। বাইবেল বলে: “তিনি তাদের চোখের সমস্ত জল মুছে দেবেন এবং মৃত্যু আর থাকবে না; শোক বা আর্তনাদ বা ব্যথা আর থাকবে না।” (প্রকাশিত বাক্য ২১:৪) সেই সময় আমাদের খারাপ স্মৃতিও আমাদের কষ্ট দেবে না। আমাদের কাছে কেবলমাত্র সুন্দর স্মৃতি থাকবে। (যিশাইয় ৬৫:১৭) বাইবেল বলে, ভবিষ্যতে আপনি এইরকম শান্তিপূর্ণ জীবন উপভোগ করবেন।
a এই প্রবন্ধে বলা হয়েছে, মহিলারা পারিবারিক হিংসার শিকার হচ্ছে। তবে, এখানে বলা অনেক বিষয় সেই পুরুষদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যারা তাদের পরিবারের সদস্যদের হাতে নির্যাতিত হয়।
b ঈশ্বরের নাম হল যিহোবা, যা বাইবেলে প্রকাশ করা হয়েছে।