পরিবারের জন্য সাহায্য | বিয়ে
অফিসের কাজ অফিসেই ছেড়ে আসুন
টেকনোলজির এই যুগে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে। তাই, আপনার বস, সহকর্মী কিংবা আপনার ক্লায়েন্ট আশা করতে পারে যে, তারা আপনাকে ২৪ ঘণ্টাই ফোনে পাবে। এইরকম ক্ষেত্রে আপনার কাজ এবং আপনার ব্যক্তিগত জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এই ভারসাম্য রাখার অর্থ হল আপনার কাজকে আপনার ব্যক্তিগত জীবন থেকে আলাদা রাখা এবং এই দুটোর মধ্যে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা নির্ণয় করা, যার মধ্যে আপনার বিবাহিত জীবনও অন্তর্ভুক্ত।
আপনার যা জানা উচিত
আপনি যে-সময়টা আপনার বিবাহিত সাথির সঙ্গে কাটাবেন বলে ভেবেছিলেন, টেকনোলজির কারণে আপনি হয়তো সেই সময়টা কাজের পিছনে ব্যয় করে ফেলতে পারেন। আপনার এমনটা মনে হতে পারে যে, প্রতিটা কল, মেসেজ অথবা ই-মেল আসার সঙ্গেসঙ্গে আপনাকে সেগুলোর উত্তর দিতে হবে, তা সেটা দিনের যেকোনো সময়েই হোক না কেন।
“আগে মানুষের জীবন অনেক সাদাসিধে ছিল। তারা কাজের পর বাড়িতে আসত এবং বাকি সময়টা পরিবারের সঙ্গে কাটাত। কিন্তু, এখন আর সেটা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। কারণ এখন অফিস থেকে কোনো কল বা ই-মেল এলেই আমরা পরিবার ছেড়ে সেটার পিছনে সময় দিয়ে ফেলি।”—জেনেট।
আপনার কাজ এবং পারিবারিক জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রাখার জন্য আপনাকে নিজে থেকে পদক্ষেপ নিতে হবে। আপনি যদি এই ক্ষেত্রে আগে থেকে কোনো প্ল্যান না করেন, তা হলে আপনার সমস্ত সময় কাজের পিছনেই চলে যেতে পারে আর এর ফলে পরিবারের সঙ্গে কাটানোর মতো সময় আপনার হাতে নাও থাকতে পারে।
“বেশিরভাগ সময় আমরা আমাদের সাথিকেই অবহেলা করি। কারণ আমরা মনে করি: ‘ও নিশ্চয়ই আমার পরিস্থিতি বুঝবে। ও কিছু মনে করবে না। আমি পরে ওর সঙ্গে সময় কাটাব।’”—হলি।
কাজ এবং ব্যক্তিগত জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়ে কিছু পরামর্শ
আপনার বিয়েকে কাজের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিন। বাইবেল বলে: “ঈশ্বর যা যুক্ত করেছেন, মানুষ তা আলাদা না করুক।” (মথি ১৯:৬) আপনি যদি কোনো মানুষকে আপনাদের “আলাদা” করার সুযোগ না দেন, তা হলে কি আপনার কাজকে আপনি সেই সুযোগটা দেবেন?
“কোনো কোনো ক্লায়েন্ট এইরকমটা মনে করে, যেহেতু তারা আমাকে টাকা দিচ্ছে, তাই তারা যখনই চাইবে, তখনই আমাকে পাবে। কিন্তু, আমি আমার বিয়েকে কাজের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই; তাই আমি তাদের বলি, আমি আমার ছুটির দিনে কাজ করতে পারব না, তবে আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের সঙ্গে কনট্যাক্ট করব।”—মার্ক।
নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, ‘আমি যা-কিছু করছি, সেগুলো কি দেখায় যে, আমি আমার কাজের চেয়ে আমার বিয়েকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি?’
না বলতে শিখুন। বাইবেল বলে: “যে বিনয়ী, সে বিজ্ঞ।” (হিতোপদেশ ১১:২) আপনি যদি বিনয়ী হন, তা হলে কিছু কাজ হয়তো আপনি নেবেন না এবং অন্য কাউকে সেই কাজটা দিতেও ইতস্তত করবেন না।
“আমি একজন প্লাম্বার, দরকারের সময়ে কেউ যদি আমাকে ডাকে আর আমি যদি সেইসময়ে যেতে না পারি, তখন আমি আরেক জনকে সেই কাজটা করার জন্য পাঠিয়ে দিই।”—ক্রিস্টোফার।
নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: ‘অতিরিক্ত কাজ নেওয়ার ফলে আমার সাথি যদি মনে করে, আমি তার প্রতি মনোযোগ দিচ্ছি না, তা হলে আমি কি সেই কাজটা ছেড়ে দিতে প্রস্তুত? এই বিষয়ে আমার সাথি কী বলবে?’
একসঙ্গে সময় কাটান। বাইবেল বলে: “সব কিছুরই একটা সময় রয়েছে।” (উপদেশক ৩:১) বিশেষ করে আপনার কাজের চাপ যখন বেশি থাকে, সেইসময়েও আপনার সাথির সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য প্ল্যান করুন।
“যখন সমস্ত কাজ একসঙ্গে এসে পড়ে, তখন আমরা একটা নির্দিষ্ট সময় আলাদা করে নিই। যেমন, আমরা একসঙ্গে রাতের খাবার খাই বা সমুদ্রের ধারে হাঁটতে যাই, যেখানে কেউ আমাদের ডিস্টার্ব করবে না।”—দেবোরা।
নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: ‘আমি কি একটা নির্দিষ্ট সময় স্থির করে রেখেছি, যখন আমি আমার সাথির সঙ্গে সময় কাটাব এবং কেউ আমাদের ডিস্টার্ব করবে না? এই বিষয়ে আমার সাথি কী বলবে?’
ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো বন্ধ করে রাখুন। বাইবেল বলে: “তোমরা যেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নির্ণয় করতে পার।” (ফিলিপীয় ১:১০) আপনি কি একেক সময় আপনার ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো বন্ধ রাখতে পারেন, যাতে করে অফিসের কাজ আপনাকে বিক্ষিপ্ত করতে না পারে?
“আমি খুব চেষ্টা করি, যাতে একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর আমাকে কাজ করতে না হয়। আর সেইসময়ে আমি আমার ফোনের সমস্ত নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিই।”—জেরেমি।
নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: ‘আমার বস বা ক্লায়েন্টের আমাকে প্রয়োজন হবে, এটা ভেবে আমি কি সবসময় তাদের সঙ্গে কানেক্টেড থাকতে চাই? এই বিষয়ে আমার সাথি কী বলবে?’
মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন। বাইবেল বলে: “তোমাদের যুক্তিবাদিতা যেন সবার কাছে প্রকাশ পায়।” (ফিলিপীয় ৪:৫) আপনার সাথিকে হয়তো অনেকসময় কাজের পরেও অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হতে পারে। আর এটা হয়তো আপনাদের একসঙ্গে সময় কাটানোর মাঝে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে। তাই, যতটা সম্ভব আপনার সাথির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন।
“আমার স্বামীর একটা ছোটো ব্যাবসা আছে আর অনেকসময় প্রয়োজন হলে ওকে কাজের পরেও কিছুটা সময় ব্যয় করতে হয়। একেক সময় আমি খুবই বিরক্ত হয়ে যাই, কিন্তু এরপরও আমরা একসঙ্গে যতটুকু সময় কাটাই, সেটা আমরা খুবই উপভোগ করি।”—বেভারলি।
নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: ‘আমি কি বুঝি, আমার সাথির কতটা কাজের চাপ রয়েছে এবং তার সঙ্গে আমি কি মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি? এই বিষয়ে আমার সাথি কী বলবে?’
ডিসকাসন গাইড
প্রথমে, আপনারা ব্যক্তিগতভাবে নীচে দেওয়া প্রশ্নগুলো নিয়ে চিন্তা করুন। এরপর, আপনাদের উত্তরগুলো নিয়ে একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করুন।
আপনার সাথি কি কখনো এই অভিযোগ করেছে যে, আপনি বাড়িতে এসেও অফিসের কাজ করেন? আপনিও কি তাই মনে করেন?
কাজ এবং ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে আপনি কোথায় উন্নতি করতে পারেন?
আপনার কি কখনো মনে হয়েছে যে, আপনার সাথি কাজের ব্যাপারে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারছে না? এইরকম কিছু নির্দিষ্ট ঘটনার কথা কি আপনার মনে পড়ছে?
কাজ এবং ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে আপনার সাথি কোথায় উন্নতি করুক বলে আপনি চান?