ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w26 জুন পৃষ্ঠা ২৬-৩০
  • আমি প্রায় ৭০ বছর ধরে কিউবাতে যিহোবার সেবা করেছি

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • আমি প্রায় ৭০ বছর ধরে কিউবাতে যিহোবার সেবা করেছি
  • প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২৬
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • কিউবাতে কঠিন সময় শুরু হয়
  • অগ্রগামী এবং বাবা-মা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব
  • নিষেধাজ্ঞার সময় সীমার কাজ করা
  • কার্যভার পরিবর্তনের সময় আনন্দে থাকা
  • “আমার স্বপ্ন সত্যি হয়েছে”
    ২০১২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যিহোবা সারা জীবন ধরে আমার প্রার্থনা শুনেছেন
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২৪
  • “তোমার প্রেমপূর্ণ-দয়া জীবনের থেকেও উত্তম”
    ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • কিউবায় ‘কার্যে পরিচালিত করার এক বৃহৎ দ্বার খোলা হয়েছে’
    ১৯৯৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২৬
w26 জুন পৃষ্ঠা ২৬-৩০
গুসতাভো ও এমিলিয়া জোসেফ।

জীবনকাহিনি

আমি প্রায় ৭০ বছর ধরে কিউবাতে যিহোবার সেবা করেছি

বলেছেন গুসতাভো জোসেফ

১৯৪৭ সালে কিউবার এক সুন্দর ক্যারিবিয়ান দ্বীপে আমার জন্ম হয়। উত্তরের ক্যারিবিয়ান সাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগর যেখানে মিলিত হয়েছে, সেখানে এই দ্বীপটা অবস্থিত। আমার জন্মের পর আমার আরও দুই বোন হয়। আমরা পাঁচ জন একসঙ্গে এসমেরাল্ডা নামে একটা গ্রামে থাকতাম।

আমার মনে আছে, সেই ছোট্ট গ্রামে আমরা খুবই শান্তিতে থাকতাম। আর আমাদের আত্মীয়স্বজনও আমাদের আশেপাশেই থাকত। আমাদের কাছে খাবারের কোনো অভাব ছিল না এবং আমরা আনন্দে জীবন কাটাচ্ছিলাম।

আমার যখন প্রায় পাঁচ বছর বয়স, তখন আমার বাবা-মা ভাই ওয়াল্টন জোন্সের সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়ন করতে শুরু করে। তিনি একজন উদ্যোগী প্রচারক ছিলেন এবং আমাদের গ্রামে আসার জন্য তাকে ১০ ঘণ্টা পায়ে হেঁটে আসতে হত। ভাই ওয়াল্টন যখন আমাদের গ্রামে আসতেন, তখন আমাদের পরিবারের অনেকে আমার ঠাকুরদা-ঠাকুরমার ঘরে একত্রিত হত এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে ভাইয়ের সঙ্গে বাইবেল থেকে আলোচনা করত। আমার বাবা-মা এবং সেইসঙ্গে আমার পিসেমশাই পেড্রো এবং পিসিমা এলা বাইবেল থেকে যা-কিছু শিখছিল, সেগুলো তাদের খুব ভালো লাগে আর শীঘ্রই তারা বাপ্তিস্ম নিয়ে যিহোবার সাক্ষি হয়ে ওঠে। আমার পিসিমা এলার বয়স এখন প্রায় ১০০ বছর এবং তিনি এখনও কিউবাতে অগ্রগামী সেবা করে চলেছেন।

সেইসময় কিউবাতে সাক্ষিরা স্বাধীনভাবে যিহোবার উপাসনা করতে পারত। কিউবাতে আমরা ঘরে ঘরে প্রচার করার জন্য খুবই পরিচিত ছিলাম। আর আমাদের কাছে অনেক বাইবেলভিত্তিক প্রকাশনা থাকত। প্রচার কাজ করার জন্য আমাদের অনেক হাঁটতে হত। জীবনের প্রথম দিকে সেই “সুবিধাজনক সময়ে” আনন্দের সঙ্গে যিহোবাকে সেবা করার সুন্দর স্মৃতিগুলো আমার এখনও মনে পড়ে। কিন্তু, সামনে ‘কঠিন সময়’ আসতে যাচ্ছিল।—২ তীম. ৪:২.

কিউবাতে কঠিন সময় শুরু হয়

আমার বয়স যখন প্রায় পাঁচ বছর, তখন আমি আমার বাবা এবং কাকার সঙ্গে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য অন্য একটা দ্বীপে যাই। এটা খুবই দুঃখের বিষয় যে, সেই যাত্রায় দূষিত জল খাওয়ার ফলে তারা দু-জনেই টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়। আমার মনে আছে, ফিরে আসার পর আমার কাকার মাথার সমস্ত চুল ঝরে পড়ে, কিন্তু তিনি বেঁচে যান। তবে, আমার বাবা মারা যান। সেইসময় তার বয়স ছিল মাত্র ৩২ বছর।

আমার মামার বাড়ি ছিল ল্যামবিও নামে একটা গ্রামে। আমার বাবা মারা যাওয়ার পর মা চেয়েছিলেন আমরা যেন সেখানে গিয়ে থাকি। এর মানে হল আমাদের আত্মীয়স্বজন এবং ঠাকুরদা-ঠাকুরমাকে ছেড়ে চলে যেতে হবে, যাদের আমরা খুব ভালোবাসতাম। কিন্তু, পরিবারগতভাবে আমরা যিহোবার সেবা করে গিয়েছিলাম।

১৯৫৭ সালে ২৬ আগস্ট আমি ল্যামবিও গ্রামের কাছাকাছি একটা পুকুরে বাপ্তিস্ম নিই। তখন আমার দশ বছর বয়স ছিল। আমি ভাবতেই পারিনি দু-বছরেরও কম সময়ের মধ্যে কিউবায় যিহোবার সাক্ষিদের জীবন হঠাৎ পরিবর্তন হয়ে যাবে। ১৯৫৯ সালে সেখানকার সরকারকে সরিয়ে দেওয়া হয় আর এর পরিবর্তে কমিউনিস্ট সরকার শাসন করতে শুরু করে।

এখন আমরা এমন এক সরকারের অধীনে এসে পড়ি, যেটা মিলিটারি সার্ভিসের উপরে অনেক জোর দিত। এটা যিহোবার সাক্ষিদের উপর এক বিরাট প্রভাব ফেলেছিল। কারণ, তারা রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ থাকত। এর ফলে, আমরা ধীরে ধীরে উপাসনা করার স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলি, যেটা আমরা আগে উপভোগ করতাম। শেষ পর্যন্ত, সেই সরকার আমাদের প্রচার এবং সভার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে আর অনেক বিশ্বস্ত ভাইকে জেলে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে কাউকে কাউকে প্রচণ্ড মারধর করা হত এবং যথেষ্ট খাবার দেওয়া হত না। কখনো কখনো তাদের এমন খাবার দেওয়া হত, যেটার মধ্যে রক্ত থাকত আর বাইবেল আমাদের রক্ত খেতে নিষেধ করে।

নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আমরা যিহোবার উপাসনা করার জন্য একত্রে মিলিত হতাম। (ইব্রীয় ১০:২৫) আমরা এমনকী বিভিন্ন ফার্মে এবং দেশের অন্যান্য জায়গায় সম্মেলনের ব্যবস্থা করতাম। আমার মনে আছে, একবার একজন ভাই, যার নিজের একটা বড়ো আস্তাবল ছিল, যেখানে মেষ থাকত, তিনি সেটা আমাদের সম্মেলনের জন্য ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন। আমরা সম্মেলনের আগে সেই আস্তাবল পরিষ্কার করতে এবং মেষগুলোকে অন্য জায়গায় সরিয়ে দিতে পারিনি, কিন্তু তা সত্ত্বেও সেখানে আমাদের সম্মেলন হয়েছিল। মজার ব্যাপার হল, আক্ষরিক ও রূপক মেষ, উভয়ই সেই সম্মেলনে যোগ দিতে পেরেছিল।—মীখা ২:১২.

আমরা সেই ভাইদের কাছে খুবই কৃতজ্ঞ ছিলাম, যারা সেই সময়ে আমাদের কাছে আধ্যাত্মিক খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছিল। যেমন, সম্মেলনের প্রোগ্রামগুলো আগে থেকে ক্যাসেটে রেকর্ড করা হত আর দেশের বিভিন্ন জায়গায় সেগুলো শোনানো হত। একেক সময় শুধুমাত্র দু-জন ভাইকে বলা হত যেন তারা সম্মেলনের সমস্ত বক্তৃতা প্রস্তুত করে, তুলে ধরে এবং রেকর্ড করে। ভাইদের গোপনে এই রেকর্ডিংগুলো করতে হত, তাই কখনো কখনো রেকর্ডিংগুলো থেকে মোরগের ডাক এবং বিভিন্ন অদ্ভুত শব্দও শোনা যেত। যদি সম্মেলনের জায়গায় বিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকত, তা হলে সেখানে একজন ভাইকে ডায়নামোর সঙ্গে লাগানো একটা সাইকেলে প্যাডেল করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হত। এভাবে আমরা ক্যাসেটগুলো চালাতে পারতাম এবং পুরো প্রোগ্রাম শুনতে পারতাম। যদিও অন্যান্য জায়গার মতো আমাদের কাছে উপযুক্ত পরিবেশ বা যথেষ্ট পরিমাণে প্রকাশনা ছিল না, কিন্তু তারপরও আমরা কখনো আধ্যাত্মিক খাবার থেকে বঞ্চিত হইনি। সত্যিই, এভাবে আমরা একসঙ্গে যিহোবার সেবা উপভোগ করেছিলাম।—নহি. ৮:১০.

অগ্রগামী এবং বাবা-মা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব

১৮ বছর বয়সে আমি ফ্লোরিডা শহরে নিয়মিত অগ্রগামী হিসেবে সেবা করতে শুরু করি। প্রায় এক বছর পর আমাকে কিউবার একটা প্রধান শহর কামাগুয়েতে বিশেষ অগ্রগামী হিসেবে পাঠানো হয়। সেখানে আমার সান্তিয়াগো দে কিউবা থেকে আসা এমিলিয়া নামে একজন সুন্দরী বোনের সঙ্গে দেখা হয়। আমরা ডেটিং করতে শুরু করি এবং এক বছরের মধ্যে আমাদের বিয়ে হয়।

কোলাজ: ১. গুসতাভো এবং তার ক্লাসের অন্য ছাত্রেরা ছবি তোলার জন্য বসে আছে। ২. গুসতাভো ও এমিলিয়া তাদের বিয়ের দিনে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হাসছে এবং তাদের সামনে একটা কেক রয়েছে।

(বাঁ-দিকে) ১৯৬৬ সাল, কিউবার কামাগুয়ে শহরে প্রাচীনদের জন্য রাজ্যের পরিচর্যা বিদ্যালয়

(ডান দিকে) ১৯৬৭ সাল, আমাদের বিয়ের দিন

আমি একটা সরকারি চিনির ফ্যাক্টরিতে ফুল টাইম কাজ করতে শুরু করি। এমিলিয়া এবং আমার পক্ষে আর অগ্রগামী হিসেবে সেবা করা সম্ভব হয়ে উঠছিল না। কিন্তু তবুও, আমরা যতটা সম্ভব যিহোবার সেবা করতে চেয়েছিলাম। আমি রাত ৩টে থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরিতে কাজ করতাম। যদিও আমার এত তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে ভালো লাগত না, কিন্তু এটা আমাকে নিয়মিত প্রচার করতে এবং এমিলিয়ার সঙ্গে প্রতিটা সভায় যোগ দিতে সাহায্য করত।

১৯৬৯ সালে আমাদের প্রথম সন্তান গুসতাভোর জন্ম হয়। সেইসময় আমাকে আবার পুর্নসময়ের সেবায় ফিরে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় আর সেটা ছিল সীমার কাজ। সেইসময় কিউবাতে সীমা অধ্যক্ষ হিসেবে কাজ করা এবং একইসঙ্গে সন্তানের দেখাশোনা করা সাধারণ বিষয় ছিল। সেই সময়টা ছিল আমাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের এবং ব্যস্ততার সময়। এইভাবে ভাই-বোনদের সেবা করা ছিল আমার এবং এমিলিয়ার জন্য এক বিশেষ সুযোগ। সীমার কাজ করার সময় আমাদের আরও দুই ছেলে ওবেদ এবং আবনেরের জন্ম হয় আর এর কিছু বছর পরে আমাদের মেয়ে মাহেলির জন্ম হয়।

সীমা অধ্যক্ষ হিসেবে সেবা করার সেই দিনগুলোর কথা যখন আমি চিন্তা করি, তখন আমি এটা ভেবে খুব খুশি হই যে, কীভাবে যিহোবা কিউবাতে থাকা তাঁর লোকদের আশীর্বাদ করেছিলেন। তিনি আমাদেরও সাহায্য করেছিলেন যাতে আমরা আমাদের সন্তানদের হৃদয়ে তাঁর প্রতি ভালোবাসা গেঁথে দিতে পারি। আসুন, সীমার কাজ করার সময় আমার ও এমিলিয়ার জীবন কেমন ছিল, সেই বিষয়ে আপনাদের বলি।

নিষেধাজ্ঞার সময় সীমার কাজ করা

৬০ ও ৭০-এর দশকে নিষেধাজ্ঞার কারণে যিহোবার সেবা করা আমাদের জন্য দিনের পর দিন কঠিন হয়ে উঠছিল। কিংডম হলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। মিশনারিদের দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল। অনেক যুবক ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং জেলে বন্দি করা হয়েছিল। আর হাভানার শাখা অফিসও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

গুসতাভো ও এমিলিয়ার হাতে স্প্যানিশ ভাষার “সচেতন থাক!” পত্রিকা।

১৯৯০-এর দশকে সীমার কাজ

নিষেধাজ্ঞার কারণে আমরা শুধুমাত্র সপ্তাহের শেষে মণ্ডলীগুলো পরিদর্শন করতে পারতাম। তাই, আমাদের প্রতিটা মণ্ডলীতে দুই সপ্তাহ ধরে পরিদর্শন করতে হত। আমরা বেশি জিনিসপত্র নিয়ে বাইরে বের হতাম না আর যাতায়াতের জন্য প্রায়ই আমরা সাইকেল ব্যবহার করতাম, কারণ সেটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ ছিল। আর আমরা যে পরিদর্শন করতে আসব, সেই বিষয়ে সভাতে ঘোষণা করা হত না। আমরা এমনভাবে পরিদর্শন করতাম যেন আমরা আমাদের আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি। এভাবে কাজ করতে আমাদের খুব একটা অসুবিধা হত না। একেক সময় আমরা সত্যিই ভুলে যেতাম যে, আমরা মণ্ডলী পরিদর্শন করতে এসেছি। আমাদের মনে হত যেন আমরা আমাদের পরিবারের সঙ্গেই আছি। (মার্ক ১০:২৯, ৩০) তবুও আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হত। পুলিশ প্রায়ই আমাদের উপর নজর রাখত এবং আমাদের বিভিন্ন প্রশ্ন করত। আমরা যাদের বাড়িতে থাকতাম, তাদের জন্যও এটা একটা ঝুঁকির বিষয় ছিল কারণ কোনোভাবে আমরা যদি ধরা পড়ে যেতাম, তা হলে পুলিশ তাদেরও গ্রেপ্তার করতে পারত।—রোমীয় ১৬:৪.

সেই সময়ে আমাদের এমন কিছু ভাই-বোনের সঙ্গে দেখা হয়েছিল, যাদের কাছে বেশি টাকাপয়সা ছিল না, কিন্তু তাদের মন ছিল খুবই উদার। আবার একেকটা জায়গায় মানুষের চেয়ে মশার সংখ্যা বেশি ছিল। তবে, ভাই-বোনদের কাছে একটা মশারি থাকলেও তারা সেটা আমাদের দিয়ে দিত, যাতে আমরা রাতে ভালোভাবে ঘুমাতে পারি। আবার কিছু ভাই-বোনের কাছে খুব অল্প খাবার থাকা সত্ত্বেও তারা আমাদের তাদের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানাত। এমনকী কখনো কখনো আমরা নিজেরা খাবার নিয়ে যেতাম যাতে সকলে মিলে সেটা ভাগ করে খেতে পারি।

মণ্ডলী পরিদর্শনের সময় আমরা আমাদের সব সন্তানকে আমাদের সঙ্গে নিয়ে যেতে পারতাম না। তাই, আমরা কেবল একজনকে সঙ্গে নিয়ে যেতাম আর বাকিরা আমার মা এবং বোনের সঙ্গে বাড়িতেই থাকত। তবে, বাচ্চাকে নিয়ে যাতায়াত করা আমাদের জন্য একটা সুরক্ষার মতো ছিল। অনেকসময় পুলিশ এসে আমাদের জিনিসপত্র তল্লাশি করত। কিন্তু, আমরা আমাদের প্রকাশনাগুলো বাচ্চার নোংরা ডাইপারের ব্যাগের মধ্যে লুকিয়ে রাখতাম আর পুলিশ সেগুলো ধরত না।

আমি আমার স্ত্রী এমিলিয়ার কাছে খুবই কৃতজ্ঞ, কারণ ও সন্তানদের দেখাশোনা করা ছাড়াও পূর্ণসময়ের সেবায় আমাকে অনেক সাহায্য করত। আমিও ফ্যাক্টরিতে কাজ করার পাশাপাশি সীমা অধ্যক্ষ হিসেবে আমার দায়িত্বগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পেরেছিলাম। কিন্তু আপনারা কি জানেন, কীভাবে আমি এই ভারসাম্য বজায় রেখেছিলাম? কখনো কখনো আমি সপ্তাহে এক দিন বা দু-দিন একটু বেশি কাজ করতাম, যাতে সপ্তাহের শেষে আমাকে কাজ করতে না হয়। কিন্তু, পরে আমার কাজের দায়িত্ব বদলে যায়। আমার উপর পুরো টিমকে পরিচালনা করার দায়িত্ব আসে আর এর মানে হল, আমাকে সপ্তাহের সাত দিনই কাজ করতে হবে। এটা আমাকে মেনে নিতে হয়েছিল। কিন্তু, আমি এটা বুঝতে পেরেছিলাম যে, সপ্তাহের শেষে আমার টিমের কাছে যদি যথেষ্ট কাজ থাকে, তা হলে তারা সেই কাজগুলোতে ব্যস্ত থাকবে এবং সেখানে আমার প্রয়োজন হবে না আর সেই অবসর সময়ে আমি মণ্ডলী পরিদর্শন করতে পারব। আমার মনে হয়, সপ্তাহের শেষে আমি যে কাজে আসতাম না, সেটা আমার বসেরা কখনো বুঝতেই পারেনি।

কার্যভার পরিবর্তনের সময় আনন্দে থাকা

১৯৯৪ সালের সীমা সম্মেলনে গুসতাভো বক্তৃতা দিচ্ছেন।

১৯৯৪ সাল, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর প্রথম সরাসরি সম্মেলন

১৯৯৪ সালে একদিন কিউবাতে যে-সমস্ত ভাই নেতৃত্ব নিচ্ছিল, তারা হাভানাতে একটা বিশেষ সভার জন্য সমস্ত ভ্রমণ অধ্যক্ষকে ডেকে পাঠায় আর আমাদের মধ্যে সেখানে ৮০ জন উপস্থিত ছিল। এত বছর পর, একে অপরের সঙ্গে দেখা করতে পেরে আমরা খুব খুশি হয়েছিলাম। আর সেই সভাতে আমরা সংগঠনের কিছু রদবদল নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। এরপর, ভাইয়েরা এমন কিছু বলে, যেটা আমাদের অবাক করে দিয়েছিল। তারা বলে যে, কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের নাম জানানোর কথা তারা চিন্তা করছে। কিন্তু, কেন?

ভাইয়েরা আমাদের বুঝিয়ে বলে যে, সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে মিটিং করার আসল উদ্দেশ্য হল, সরকার এবং যিহোবার সাক্ষিদের মধ্যে এক ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা। আধিকারিকেরা সমস্ত সীমা অধ্যক্ষের নামের একটা লিস্ট চায়। আমরা সবাই এতে রাজি হয়ে যাই। এরপর থেকে, সরকার এবং যিহোবার সাক্ষিদের মধ্যে সম্পর্ক আরও ভালো হয়ে ওঠে।

শেষ পর্যন্ত আমরা সরাসরি সভা ও প্রচার করতে শুরু করেছিলাম, যদিও ধর্ম হিসেবে আইনগতভাবে আমাদের কোনো রেজিস্ট্রেশন তখনও হয়নি। পরে আমরা জানতে পেরেছিলাম যে, সরকারি আধিকারিকদের কাছে ইতিমধ্যেই কয়েক জন ভ্রমণ অধ্যক্ষের নাম ছিল, তারা শুধু এটা দেখতে চেয়েছিল যে, আমাদের লিস্টে সেই নামগুলো আছে কি না।

২০ বছর আগে শাখা অফিসের যে-বিল্ডিংটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, সেটা ১৯৯৪ সালে সেপ্টেম্বর মাসে আমরা আবারও খোলার অনুমতি পাই।

এরপর, ১৯৯৬ সালে এমিলিয়া ও আমাকে বেথেলে সেবা করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। যদিও প্রথমে আমরা অবাক হয়ে যাই, কিন্তু আমরা ভাইদের বলি যে, আমাদের দু-জন সন্তান রয়েছে, যাদের দেখাশোনা আমাদের করতে হয়। ভাইয়েরা বলে, তারা আমাদের পরিস্থিতি বুঝতে পারছে, কিন্তু তারপরও তারা চায় , আমরা যেন বেথেলে গিয়ে সেবা করি। আমরা সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করি এবং পরিবারগতভাবে হাভানাতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হই।

কোলাজ: ১. এমিলিয়া এবং অন্য বোনেরা বেথেলে সেলাই বিভাগে কাজ করছে। ২. গুসতাভো একটা সম্মেলন হলে বক্তৃতা দিচ্ছেন।

(বাঁ-দিকে) ২০০০ সালের দিকে কিউবার শাখা অফিসে এমিলিয়া সেলাই বিভাগে কাজ করছে

(ডান দিকে) ২০১২ সাল, সম্মেলন হলের উৎসর্গীকরণ

সত্যি বলতে কী, প্রথম দিকে আমি বেথেল সেবা একেবারেই উপভোগ করিনি। আমি এত বছর ধরে ভ্রমণের কাজ করে এসেছি আর তাই আমার মন শুধু প্রচারের উপরই পড়ে ছিল। আমি ভাই-বোনদের সম্বন্ধে অনেক চিন্তা করতাম আর ভাবতাম যে, বেথেলের অফিসে বসে আমি তাদের সঠিকভাবে সাহায্য করতে পারছি না। কিন্তু, বেথেলের ভাই-বোনেরা এবং বিশেষ করে আমার স্ত্রী এমিলিয়া, আমাকে এই বিষয়ে সাহায্য করেছিল। শেষ পর্যন্ত, আমি আমার আনন্দ আবার খুঁজে পাই আর এখন আমি খুশিমনে বেথেলে সেবা করছি।

কোলাজ: ১. গুসতাভো স্টেজে দাঁড়িয়ে খ্রিস্টান দম্পতিদের জন্য বাইবেল স্কুল-এর ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে কিছু বলছেন এবং তারা তার পিছনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ২. গুসতাভো আরও চার জন শাখা কমিটির সদস্যের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন।

(বাঁ-দিকে) ২০১৩ সাল, খ্রিস্টান দম্পতিদের জন্য বাইবেল স্কুল-এ গ্র্যাজুয়েশনের দিন

(ডান দিকে) ২০১৩ সাল, কিউবার শাখা কমিটি

গুসতাভো ও এমিলিয়া তাদের মেয়ে এবং জামাইয়ের সঙ্গে বসে আছে।

সীমা সম্মেলনে আমাদের মেয়ে এবং তার স্বামীর সঙ্গে

এমিলিয়া ও আমার এখন বয়স হয়ে গিয়েছে। আমরা সেই সমস্ত ভাই-বোনের কথা চিন্তা করে খুব খুশি হই, যাদের আমরা ব্যক্তিগতভাবে জানতে পেরেছি এবং বহু বছর ধরে একসঙ্গে সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। আমরা বিশেষ করে এই বিষয়ে খুশি যে, আমাদের সন্তানেরা এবং আমাদের নাতি-নাতনিরা যিহোবার সেবা করছে। আমরা প্রেরিত যোহনের মতো একইরকম অনুভব করি, যিনি বলেছিলেন: “আমার সন্তানেরা যে সত্যে চলছে, এই কথা শোনার চেয়ে বড়ো আনন্দ আমার আর নেই।”—৩ যোহন ৪.

আমরা প্রায় ৩০ বছর ধরে বেথেলে সেবা করছি। যদিও আমাদের বয়স হয়ে গিয়েছে এবং আমরা ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছি, তবুও আমরা যিহোবার সেবায় আমাদের সর্বোত্তমটা দেওয়ার চেষ্টা করছি। যিহোবার সেবা করার সময় আমাদের সামনে বিভিন্ন সমস্যা এসেছিল, কিন্তু আমরা আনন্দিত কারণ আমরা প্রায় ৭০ বছর ধরে কিউবাতে “সুখী ঈশ্বরের” সেবা করতে পেরেছি!—১ তীম. ১:১১; গীত. ৯৭:১.

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার