পাঠকদের কাছ থেকে প্রশ্ন
গালাতীয় ৪:২৪ পদ অনুযায়ী প্রেরিত পৌল কোন দুটো চুক্তির কথা উল্লেখ করেছিলেন?
সারা এবং হাগারের সঙ্গে অব্রাহামের যে-সম্পর্ক ছিল, সেই বিষয়ে উল্লেখ করার পর প্রেরিত পৌল বলেন: “এই বিষয়গুলোর রূপক অর্থ রয়েছে; কারণ এই দু-জন স্ত্রী দু-টো চুক্তিকে চিত্রিত করে।” (গালা. ৪:২২-২৪) আগে আমাদের ধারণা ছিল, এই চুক্তি দুটো হল ব্যবস্থা চুক্তি এবং নতুন চুক্তি। কিন্তু, এই শাস্ত্রপদগুলো নিয়ে আবারও অধ্যয়ন করার পর আমরা বুঝতে পেরেছি যে, আমাদের ধারণায় কিছু রদবদল করার প্রয়োজন রয়েছে। পৌল হয়তো এখানে নতুন চুক্তির বিষয়ে নয় বরং অব্রাহামের সঙ্গে করা চুক্তির বিষয়ে বলেছিলেন। আসুন, কয়েকটা বিষয় আমরা লক্ষ করি।a
পৌল দাসী হাগারকে সীনয় পর্বত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। (গালা. ৪:২৫) আর খ্রিস্টপূর্ব ১৫১৩ সালে সীনয় পর্বতে ইজরায়েলীয়দের ব্যবস্থা বা আইন দেওয়া হয়েছিল। তাই, এখান থেকে বোঝা যায় যে, হাগার ব্যবস্থা চুক্তিকে বোঝায়। (যাত্রা. ১৯:৫, ৬) কোনো অসিদ্ধ মানুষের পক্ষে এই ব্যবস্থা নিখুঁতভাবে পালন করা সম্ভব ছিল না। তাই এটা ইজরায়েলীয়দের মনে করিয়ে দিয়েছিল যে, তারা পাপের দাসত্বে রয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ইজরায়েল জাতি মশীহকে শনাক্ত করতে পারত। কারণ একমাত্র তিনিই সেই ব্যক্তি, যিনি নিখুঁতভাবে এই ব্যবস্থা পালন করতে পারবেন। মশীহ তাঁর নিখুঁত জীবন উৎসর্গ করার মাধ্যমে অসিদ্ধ মানুষের জন্য পাপ ও মৃত্যুর দাসত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ খুলে দিয়েছিলেন। (গালা. ৩:১৯, ২৪, ২৫) এভাবে, যিশু যখন ঈশ্বরের উদ্দেশ্য পরিপূর্ণ করেন, তখন থেকে ব্যবস্থার আর কোনো প্রয়োজন হয়নি।—রোমীয় ১০:৪.
পৌল এখানে হাগারের সঙ্গে সারার একটা পার্থক্য তুলে ধরেছেন। সারা হলেন ‘স্বাধীন স্ত্রী,’ যিনি ঈশ্বরের “প্রতিজ্ঞার কারণে” সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। (গালা. ৪:২৩) আর সেই প্রতিজ্ঞা ছিল অব্রাহামের সঙ্গে করা চুক্তি। (গালা. ৩:২৯; ৪:২৮, ৩০) আদিপুস্তক ২২:১৮ পদে যিহোবা এই চুক্তি সম্বন্ধে বলেন: “তোমার [অব্রাহামের] বংশে পৃথিবীর সকল জাতি আশীর্ব্বাদ প্রাপ্ত হইবে; কারণ তুমি আমার বাক্যে অবধান করিয়াছ।”
অব্রাহামের সঙ্গে করা এই চুক্তি থেকে এদনে করা যিহোবার প্রতিজ্ঞার বিষয়ে আমরা আরও কিছু জানতে পারি। (আদি. ৩:১৫) এখান থেকে বোঝা যায়, সেই প্রতিজ্ঞাত ‘বংশ’ হবে অব্রাহামের বংশধর। পৌল বলেছিলেন, এই ‘বংশের’ মুখ্য অংশ হলেন যিশু খ্রিস্ট। কিন্তু “খ্রিস্টের শিষ্য” অর্থাৎ ১,৪৪,০০০ জন, যারা যিশুর সঙ্গে তাঁর রাজ্যে শাসন করবে, তারাও এই বংশের অন্তর্ভুক্ত। (গালা. ৩:১৬, ২৯; প্রকা. ১৪:১-৩) অব্রাহামের কাছে করা ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞার পরিপূর্ণতা সেই সমস্ত লোকের জন্য প্রচুর আশীর্বাদ নিয়ে আসবে, যারা যিশুকে গ্রহণ করবে এবং তাঁর বাধ্য হবে।
তাহলে, কেন পৌল এই ‘রূপক অর্থ’ ব্যবহার করেছিলেন? তিনি দেখিয়েছিলেন যে, তার দিনের যিহুদিরা যদি ব্যবস্থা পালনের উপর বেশি জোর দেয়, তা হলে হাগারের মতো তারাও দাসত্বের অধীনে থেকে যাবে। কিন্তু, তারা যদি অব্রাহামের ‘বংশের’ মুখ্য অংশ অর্থাৎ যিশু খ্রিস্টকে গ্রহণ করে, তা হলে সারার মতো তারাও স্বাধীন হতে পারবে। পাপ ও মৃত্যু থেকে তারা প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন হবে। (যোহন ৮:৩২-৩৪) ব্যবস্থা চুক্তির আসল উদ্দেশ্য ছিল, যিহুদিদের খ্রিস্টের দিকে পরিচালিত করা। তাই, যিহুদিরা যদি যিশুকে গ্রহণ না করে, তা হলে তারা ব্যবস্থার আসল উদ্দেশ্যটাই বুঝতে পারবে না।
পৌল যে-গালাতীয় খ্রিস্টানদের উদ্দেশ্যে চিঠিটা লিখেছিলেন, তাদের মধ্যে অনেকেই ন-যিহুদি ছিল এবং তারা কখনোই ব্যবস্থার অধীনে ছিল না। কিন্তু, কিছু যিহুদি খ্রিস্টান ব্যবস্থা পালন করার জন্য সেই ন-যিহুদিদের জোরাজুরি করছিল, যেটার অন্তর্ভুক্ত ছিল ত্বকচ্ছেদ করা। পৌল এই বিষয়ে যুক্তি করেছিলেন যে, তারা যদি ব্যবস্থার ‘দাসত্ব’ গ্রহণ করে, তা হলে সেটা মূর্খতার কাজ হবে। কেন? কারণ ইতিমধ্যেই তাদের খ্রিস্টের মাধ্যমে ‘স্বাধীন’ করা হয়েছে।—গালা. ৫:১, ১০-১৪.
a ২০০৬ সালের মার্চ মাসের ১৫ তারিখের প্রহরীদুর্গ পত্রিকার ১০-১২ পৃষ্ঠায় দেওয়া পুরোনো বোধগম্যতায় রদবদল করা হয়েছে।