মে ১১-১৭, ২০২৬
গান ৭ যিহোবা আমার বল
নিখিলবিশ্বের শাসক যিহোবার উপর আস্থা রাখুন
“যিহোবা, একা তুমিই পুরো পৃথিবীর উপর সর্বমহান ঈশ্বর।”—গীত. ৮৩:১৮, NW.
আমরা কী শিখব?
আমাদের এই আস্থা বাড়বে, যিহোবা হলেন নিখিলবিশ্বের শাসক এবং আমরা নিশ্চিত থাকতে পারব যে, বর্তমানে ও ভবিষ্যতে যে-সমস্ত সমস্যা আসবে, সেগুলোর সঙ্গে মোকাবিলা করতে তিনি আমাদের সাহায্য করবেন।
১. ইয়োবের প্রতি কী কী ঘটেছিল?
ঈশ্বরের সেবক ইয়োবের উপর সমস্যার একটা পাহাড় ভেঙে পড়েছিল। এক দিনের মধ্যে তিনি সমস্ত কিছু হারিয়ে ফেলেছিলেন। তার বেশিরভাগ দাস-দাসী ও পশুপাল মারা গিয়েছিল। এমনকী একটা দুর্ঘটনায় তার সব সন্তানের মৃত্যু হয়েছিল। এর কিছু দিন পর ইয়োবের এক যন্ত্রণাদায়ক রোগ হয়। এক সময়ে যারা তাকে সম্মান করত, তারাও তার কাছ থেকে দূরে সরে যায়। এরপর ইয়োবের কিছু সাথি তার সঙ্গে দেখা করতে আসে, কিন্তু তারা ইয়োবকে সান্ত্বনা দেওয়ার পরিবর্তে তাকে দোষ দিতে থাকে। ইয়োবের স্ত্রী দুঃখে খুবই ভেঙে পড়েছিলেন এবং তাকে বলেছিলেন, “ঈশ্বরের নিন্দা করো আর মরে যাও!” (ইয়োব ২:৯, NW; ১৫:৪, ৫; ১৯:১-৩) এইরকম পরিস্থিতিতে ঈশ্বরের উপর থেকে ইয়োবের আস্থা উঠে যেতে পারত। তিনি হয়তো মনে করতে পারতেন, ঈশ্বর তাঁর সেবকদের জন্য চিন্তা করেন না এবং তাদের রক্ষাও করেন না।
২-৩. সমস্যার সময়ে আমাদের কী মনে হতে পারে এবং ইয়োবের বই থেকে আমরা কী শিখব?
২ আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেটা খুবই “কঠিন ও বিপদজনক।” (২ তীম. ৩:১) ইয়োবের মতো আমাদের জীবনেও একের পর এক সমস্যা আসতে পারে। আমরা দুঃখ ও দুশ্চিন্তায় এতটাই ডুবে যেতে পারি যে, আমাদের মনে হতে পারে, এই সমস্যা কখনোই শেষ হবে না। এমনকী আমাদের এটাও মনে হতে পারে, ‘যিহোবা হয়তো আমাকে ভালোবাসেন না এবং আমার জন্য কোনো চিন্তাই করেন না।’
৩ আপনারও কি কখনো এমনটা মনে হয়েছে? যদি হয়ে থাকে, তা হলে নিরুৎসাহিত হবেন না। ইয়োব তার অভিজ্ঞতা থেকে এটা শিখেছিলেন যে, যিহোবা কখনো তাঁর বিশ্বস্ত সেবকদের একা ছেড়ে দেন না। ঠিক একইভাবে, আমরা যিহোবার প্রতি এই আস্থা রাখতে পারি, আমাদের জীবনে যা কিছুই ঘটুক না কেন, যিহোবা আমাদের রক্ষা করবেন। এই প্রবন্ধে আমরা ইয়োবের বই থেকে দুটো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখব: (১) একমাত্র যিহোবাই নিখিলবিশ্বের শাসক এবং (২) সর্বশক্তিমান ঈশ্বর পরিস্থিতি এমনভাবে বদলাতে পারেন যেন তাঁর ইচ্ছা পরিপূর্ণ হয় আর তিনি তাঁর লোকদের আধ্যাত্মিকভাবে ও শারীরিকভাবে কোনোরকম স্থায়ী ক্ষতি হতে দেন না।
শয়তান তাদের মাঝে এল
৪. স্বর্গদূতেরা যখন যিহোবার সামনে একত্রিত হয়েছিল, তখন আর কে এসেছিল?
৪ বাইবেলে বলা হয়েছে, “একদিন সত্য ঈশ্বরের পুত্রেরা” স্বর্গে “যিহোবার সামনে একত্রিত হলেন। শয়তানও তাদের মাঝে এল।” (ইয়োব ১:৬, NW) এখানে প্রথম বার যিহোবার শত্রুকে ‘শয়তান’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই নাম তাকে এই জন্যই দেওয়া হয়েছিল কারণ সে যিহোবা ও বিশ্বস্ত স্বর্গদূতদের এবং মানুষের শত্রু অথবা “বিরোধী” হয়ে উঠেছিল। ইতিমধ্যে শয়তান যিহোবার উপাসনা করা ছেড়ে দিয়েছিল এবং সে আর যিহোবার পরিবারের অংশ ছিল না। কীভাবে আমরা এই বিষয়টা জানতে পারি? আদিপুস্তক ৩:১৫ পদে লেখা রয়েছে, যিহোবা শয়তানকে বলেছিলেন: “আমি তোমাতে ও নারীতে . . . পরস্পর শত্রুতা জন্মাইব।” এর মানে হল, শয়তান সেই ‘নারীর’ অংশ ছিল না অর্থাৎ স্বর্গদূতদের নিয়ে গঠিত যিহোবার পরিবারের অংশ ছিল না, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে ‘বংশ’ আসতে যাচ্ছিল।
৫. যিহোবা ও শয়তানের মধ্যে যে-কথাবার্তা হয়েছিল, সেটা থেকে আমরা কী জানতে পারি?
৫ স্বর্গে যিহোবা ও শয়তানের মধ্যে যে-কথাবার্তা হয়েছিল, সেটা যিহোবা বাইবেলে লিখিয়েছিলেন। কারণ তিনি চেয়েছিলেন আমরা যেন সেটা জানতে পারি। শয়তান যা বলেছিল, সেটা থেকে স্পষ্ট জানা যায় যে, সে কতটা দুষ্ট এবং সে যিহোবা ও তাঁর সেবকদের বিষয়ে মিথ্যা কথা ছড়ায়। (ইয়োব ১:৯; তুলনা করুন, প্রকাশিত বাক্য ১২:১০) আর যিহোবা শয়তানকে যেভাবে উত্তর দিয়েছিলেন, সেটা থেকে স্পষ্ট জানা যায়, যিহোবা তাঁর কর্তৃত্ব এবং অধিকারকে সঠিকভাবে ব্যবহার করেন। আমরা এটাও জানতে পারি, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর হিসেবে যিহোবা স্থির করেন যে, অন্যদের কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয়।
যিহোবা সীমা নির্ধারণ করেন
৬. কীভাবে যিহোবা দেখিয়েছেন, সবকিছু তাঁর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে? (ইয়োব ১:৭, ৮)
৬ ইয়োব ১:৭, ৮ পদ পড়ুন। যিহোবা সেই সভা পরিচালনা করছিলেন এবং সেখানে যা-কিছু হচ্ছিল, সমস্ত কিছু তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল। যিহোবা শয়তানকে বলেছিলেন, “তুমি কি আমার দাস ইয়োবকে লক্ষ করেছ?” এর থেকে স্পষ্ট জানা যায়, যিহোবা ভালোভাবে জানতেন যে, শয়তানের মনে কী চলছে এবং শয়তান ইয়োবকে তার নিশানা বানাতে চেয়েছিল। আসুন দেখি, ইয়োবের বিবরণ থেকে কীভাবে জানা যায় যে, যিহোবার কাছে সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব রয়েছে।
৭. শয়তান মানুষের উপর কোন অভিযোগ এনেছে? (ইয়োব ১:১০, ১১)
৭ ইয়োব ১:১০, ১১ পদ পড়ুন। যিহোবা হলেন নিখিলবিশ্বের শাসক এবং তিনি সবসময় যা সঠিক, তা-ই করেন। (যির. ৩২:১৭; দানি. ৪:৩৫) কিন্তু, শয়তান এই দাবি করেছিল যে, যিহোবা সঠিকভাবে তাঁর কর্তৃত্ব ব্যবহার করেন না। সে হয়তো এটা বলতে চেয়েছিল, ইয়োবের মতো মানুষের প্রতি যিহোবা এই জন্যই করুণা দেখান কারণ তিনি তাদের কাছ থেকে ভক্তি পেতে চান। শয়তান সমস্ত মানুষের উপর এই অভিযোগ এনেছে যে, তারা শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থ পূরণ করার জন্য বা কিছু পাওয়ার জন্য যিহোবার সেবা করে। এই ক্ষেত্রে যিহোবা কী করেছিলেন?
৮-৯. যিহোবা শয়তানের জন্য কোন সীমা নির্ধারণ করেছিলেন এবং কেন? (ইয়োব ১:১২) (ছবিও দেখুন।)
৮ ইয়োব ১:১২ পদ পড়ুন। যিহোবা শয়তানকে তার দাবি প্রমাণ করার সুযোগ দিয়েছিলেন, তবে তিনি একটা সীমাও নির্ধারণ করেছিলেন। যিহোবা শয়তানকে স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, “ইয়োবকে স্পর্শ কোরো না!” সেখানে উপস্থিত সমস্ত স্বর্গদূত শুনেছিল যে, যিহোবা শয়তানকে কোন আজ্ঞা দিয়েছিলেন এবং শয়তানকে তাঁর কথা শুনতেই হত। যিহোবা শয়তানকে কিছুটা ছাড় দিয়েছিলেন, তবে তিনি একটা সীমাও নির্ধারণ করেছিলেন, যেটার বাইরে শয়তান যেতে পারত না। কেন তিনি এমনটা করেছিলেন? এর কারণ হল, যিহোবা নিজের ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের মাধ্যমে ইয়োবের জীবন রক্ষা করেছিলেন এবং দেখিয়েছিলেন যে, তিনি সবসময় ন্যায়বিচার করেন। আজও যিহোবা শয়তানকে কিছুটা ছাড় দিয়েছেন, যেটার বাইরে শয়তান কিছুই করতে পারে না।
৯ আমরা জানি, সুযোগ পাওয়ার পর শয়তান কী করেছিল। কিন্তু, শয়তানের সমস্ত চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছিল। এত কষ্ট সহ্য করার পরও ইয়োব তার পিতা যিহোবার প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন। (ইয়োব ১:২২) কিন্তু, শয়তান চুপ করে বসে থাকেনি, সে ইয়োবের বিশ্বস্ততাকে ভেঙে ফেলার জন্য আরও একটা পন্থা কাজে লাগিয়েছিল।
যিহোবা সমস্ত স্বর্গদূতের সামনে শয়তানকে কথা বলার সুযোগ দিয়েছিলেন (৮-৯ অনুচ্ছেদ দেখুন)
১০. কেন যিহোবা শয়তানকে আরও এক বার ইয়োবের পরীক্ষা নিতে দিয়েছিলেন? (ইয়োব ২:২-৬)
১০ ইয়োব ২:২-৬ পদ পড়ুন। ইয়োবের বিশ্বস্ততা পরীক্ষা করার জন্য এবার শয়তান কোনো সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়নি। সে দাবি করেছিল যে, ইয়োবের জীবনের উপর যদি কোনো ঝুঁকি আসে, তা হলে তিনি যিহোবাকে ছেড়ে দেবেন আর এমনকী তাঁর নিন্দাও করবেন। যিহোবা শয়তানকে তার দাবি প্রমাণ করার জন্য আরও একটা সুযোগ দেন এবং ইয়োবকে শয়তানের হাতে ছেড়ে দেন। কিন্তু, এই ক্ষেত্রেও শয়তান যা ইচ্ছা, তা-ই করতে পারত না। যিহোবা শয়তানের জন্য একটা সীমা নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি শয়তানকে বলেছিলেন, “তাকে মেরে ফেলো না!” এইবারও শয়তানকে যিহোবার আজ্ঞা মানতেই হত। শয়তান চাইলেও ইয়োবের প্রাণ নিতে পারত না কারণ যিহোবা তাকে সেই অধিকার দেননি। এর থেকে এটাও প্রমাণিত হয় যে, যিহোবা হলেন সর্বমহান ঈশ্বর এবং সবকিছু তাঁর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর যিহোবা শয়তানের জন্য যে-সীমা নির্ধারণ করেন, সেটার বাইরে সে কখনোই যেতে পারবে না।
যিহোবা ইয়োবের সমস্ত দুঃখ দূর করে দিয়েছিলেন
১১. ইয়োবের সমস্ত দুঃখ দূর করার পর যিহোবা কীভাবে তাকে তার বিশ্বস্ততার পুরস্কার দিয়েছিলেন? (ইয়োব ৪২:১০-১৩)
১১ ইয়োব ৪২:১০-১৩ পদ পড়ুন। ইয়োব যখন এটা প্রমাণ করে দেন যে, তিনি যেকোনো পরিস্থিতিতে যিহোবার প্রতি বিশ্বস্ত থাকবেন, তখন থেকে যিহোবা শয়তানকে আর কোনো সুযোগ দেননি অর্থাৎ তিনি ইয়োবের উপর কোনো পরীক্ষা আসতে দেননি। এখন আর শয়তান ইয়োবের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। যিহোবা তাঁর এই মূল্যবান সেবকের সমস্ত দুঃখ দূর করে দিয়েছিলেন এবং তাকে প্রচুর আশীর্বাদ করেছিলেন। এবারেও শয়তান যিহোবার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যেতে পারেনি এবং যিহোবাকে কোনো কিছু করা থেকেও আটকাতে পারেনি।
১২. কীভাবে যিহোবা তাঁর লোকদের রক্ষা করেন? একটা উদাহরণ দিন।
১২ এই শেষকালে অনেক ভাই-বোন দেখেছে যে, যখন তারা যিহোবার উপর সম্পূর্ণ আস্থা রেখেছিল, তখন কীভাবে যিহোবা তাদের রক্ষা করেছিলেন এবং নিজের ক্ষমতা দেখিয়েছিলেন। লক্ষ করুন, ১৯৪৫ সালে কী ঘটেছিল। জার্মানির নাৎসি সরকার কয়েদিদের যাতনা শিবির থেকে পায়ে হেঁটে সমুদ্র পর্যন্ত নিয়ে যেতে চেয়েছিল এবং তাদের সমুদ্রে ডুবিয়ে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। সেখানে ২৩০ জন যিহোবার সাক্ষিও ছিল। মৃত্যুর সেই ভয়ানক যাত্রায় (যেটাকে ডেথ মার্চ বলা হয়) একজন সাক্ষিরও জীবনহানি হয়নি! পরবর্তী সময়ে তারা তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতাকে এইভাবে বর্ণনা করে: “পরীক্ষার একটা লম্বা সময় এখন শেষ হল এবং এই পরীক্ষায় যারা রক্ষা পেয়েছিল, তাদের যেন ঠিক একটা অগ্নিকুণ্ড থেকে বের করে নিয়ে আসা হয়েছিল এবং তাদের শরীর থেকে ধোঁয়ার গন্ধ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি অর্থাৎ এই পরীক্ষায় তাদের একটা চুল পর্যন্ত নষ্ট হয়নি। এর পরিবর্তে, তারা যিহোবার সাহায্যে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সিংহের গর্ত থেকে বের হয়ে আসার পর আমরা শুধু এটাই চেয়েছিলাম যেন আমাদের চিরকাল যিহোবাকে সেবা করার স্বাধীনতা দেওয়া হয় আর এটাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড়ো পুরস্কার।”—তুলনা করুন, দানিয়েল ৩:২৭; ৬:২২.
১৩. সমস্যার সময়ে আপনি কোন বিষয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন? (ছবিগুলোও দেখুন।)
১৩ অনেকসময় আমাদের মনে হতে পারে, আমাদের যেন সিংহের গর্তে ফেলে দেওয়া হয়েছে। (১ পিতর ৫:৮-১০) হতে পারে, অনেক দিন ধরে আমরা সমস্যায় রয়েছি এবং আমরা আস্তে আস্তে আমাদের সাহস হারিয়ে ফেলছি আর এটা ভাবছি, ‘আমার এই সমস্যা কোনো দিন শেষ হবে না।’ এইরকম পরিস্থিতিতে চিন্তা করুন, যিহোবা ইয়োবের জন্য কী করেছিলেন। এটা করলে আপনার সাহস বৃদ্ধি পাবে আর আপনি আরও নিশ্চিত হবেন যে, যিহোবা অবশ্যই আপনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। আমরা জানি, যিহোবা আমাদের সমস্ত কষ্ট দূর করে দিতে পারেন, তা সেটা এখন হোক অথবা নতুন জগতে। এই বিষয়ে নিশ্চিত থাকুন, যিহোবা ইতিমধ্যেই স্থির করে নিয়েছেন যে, কবে তিনি এই দুষ্ট জগৎকে শেষ করবেন আর তখন আপনাকে এক মুহূর্তের জন্যও কষ্ট সহ্য করতে হবে না!
ইয়োবের মতো যিহোবা তাঁর বিশ্বস্ত সেবকদের পুরস্কার দেবেন (১৩ অনুচ্ছেদ দেখুন)
যিহোবা তাঁর বিশ্বস্ত সেবকদের ভালোবাসেন
১৪-১৫. যিহোবা তাঁর বিশ্বস্ত সেবকদের জন্য কী চান এবং কেন? (ইয়োব ১৪:১৫) ( ছবিও দেখুন।)
১৪ ইয়োব ১৪:১৫ পদ পড়ুন। যারা যিহোবার প্রতি অনুগত থাকে, তিনিও তাদের প্রতি আনুগত্য দেখান এবং তাদের সঙ্গে এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব বজায় রাখেন। যিহোবা তাঁর সেবকদের এতটাই ভালোবাসেন যে, তারা যদি মারাও যায়, তা হলে তিনি তাদের পুনরুত্থিত করবেন। তাই, মৃত্যুর কারণে আসা দুঃখ তখন আনন্দে পরিণত হবে।—যিশা. ৬৫:১৭.
১৫ চিন্তা করুন, যিহোবা ইয়োবের বিশ্বস্ততার জন্য তাকে কতই-না চমৎকার পুরস্কার দিয়েছিলেন! যিহোবা তার রোগ দূর করে দিয়েছিলেন এবং তাকে এক উত্তম স্বাস্থ্য দিয়েছিলেন। ইয়োবের উপর পরীক্ষা আসার আগে তার কাছে যা-কিছু ছিল, যিহোবা এর চেয়েও অনেক বেশি তাকে দিয়েছিলেন, এমনকী সেইসময়ও, যখন ইয়োব শয়তানের জগতে বাস করছিলেন। এটা ছিল একটা আভাস, যেটা দেখিয়েছিল যে, পরবর্তী সময় যিহোবা কত কিছু করতে চলেছেন। ইয়োবের বিবরণ থেকে আমরা আরেকটা বিষয় শিখি। যিহোবা চান যেন তাঁর লোকেরা আনন্দ করে এবং এক উত্তম জীবন উপভোগ করে আর এটাই তাঁর প্রতিজ্ঞা! আমরা যদি তাঁর প্রতি বিশ্বস্ত থাকি, তা হলে আমরা চিরকাল জীবন উপভোগ করতে পারব। (প্রকা. ২১:৩, ৪) মনে রাখবেন, নিখিলবিশ্বের শাসক যিহোবা তাঁর প্রতিজ্ঞা পূরণ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে রয়েছেন! তাই, যখন দুশ্চিন্তা আপনাকে ঘিরে ধরে এবং আপনি নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েন, তখন চিন্তা করুন, যিহোবা আপনাকে কতই-না অপূর্ব এক পুরস্কার দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন। এর ফলে, আপনি সান্ত্বনা লাভ করবেন এবং স্থির থাকার বিষয়ে আপনার সংকল্প আরও দৃঢ় হবে।
পরীক্ষার পর যিহোবা ইয়োব এবং তার স্ত্রীকে প্রচুর আশীর্বাদ করেছিলেন (১৪-১৫ অনুচ্ছেদ দেখুন)
১৬. নিখিলবিশ্বের শাসক যিহোবার উপর আস্থা রাখার আরও একটা কারণ কী?
১৬ যিহোবার আশীর্বাদে ইয়োব দীর্ঘদিন বেঁচেছিলেন এবং এরপর তার মৃত্যু হয়। কিন্তু, যিহোবা ইয়োবকে ভুলে যাননি। খুব শীঘ্রই যিহোবা ইয়োবকে পুনরুত্থিত করবেন, কারণ যিহোবা হলেন সর্বশক্তিমান এবং সর্বমহান ঈশ্বর। তাঁর কাছে এতটাই শক্তি রয়েছে যে, মৃত্যুও তাঁর উপর কোনো কর্তৃত্ব করতে পারে না। (দ্বিতীয়. ৩২:৩৯) যিহোবা একটা দিন স্থির করে রেখেছেন, যে-দিন তিনি তাঁর বিশ্বস্ত সেবকদের পুনরুত্থিত করবেন এবং এটা করা থেকে তাঁকে কেউ বাধা দিতে পারবে না।—রোমীয় ৮:৩৮, ৩৯.
যিহোবার উপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখুন
১৭. কোন বিষয়গুলো থেকে বোঝা যায়, শয়তান যিহোবার লোকদের নিশ্চিহ্ন করার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে?
১৭ ইয়োবের বই থেকে আমরা যিহোবার উপর আস্থা রাখার অনেক কারণ খুঁজে পেয়েছি। যদিও বহু বার শয়তান যিহোবার লোকদের পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, কিন্তু প্রতি বার যিহোবা তার এই চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছেন। আজ সারা পৃথিবীতে ৯০ লক্ষেরও বেশি লোক বিশ্বস্তভাবে যিহোবার সেবা করে চলেছে। এটা এই বিষয়কে প্রমাণ করে, সর্বমহান ঈশ্বর যিহোবার শক্তি কাজ করছে। আমরা সবসময় দেখে এসেছি, যিহোবার লোকদের বিরুদ্ধে গঠিত কোনো অস্ত্রই সফল হয় না। (যিশা. ৫৪:১৭) অনেক ক্ষমতাশালী সরকার এবং বড়ো বড়ো ধর্মীয় সংগঠনগুলো আমাদের যিহোবার উপাসনা করার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তারা মনে করেছিল, সহজেই তারা আমাদের নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারবে। কিন্তু, এত বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও, আমরা সবার কাছে যিহোবার নাম ঘোষণা করছি এবং শয়তানের মিথ্যাকে প্রকাশ করে দিচ্ছি। আমরা এটাও জানি, কাল যদি আমাদের মৃত্যুও হয়, তা হলে যিহোবা আমাদের পুনরুত্থিত করবেন কারণ তিনি তাঁর বিশ্বস্ত সেবকদের কখনো ভুলে যান না।—হোশেয় ১৩:১৪.
১৮. ভবিষ্যতের কথা ভেবে কেন আমাদের ভয় পাওয়া উচিত নয়?
১৮ ইয়োবের বই গভীরভাবে অধ্যয়ন করার মাধ্যমে আমাদের বিশ্বাস আরও বেশি দৃঢ় হয় এবং আমরা বুঝতে পারি ভবিষ্যতে আমাদের প্রতি যা-কিছুই ঘটুক না কেন, যিহোবা আমাদের সঙ্গে থাকবেন। এই জন্য আমাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। মহাক্লেশ চলাকালীন শয়তান এবং জগতের সরকারগুলো হয়তো ভাবতে পারে যে, তারা সহজেই যিহোবার লোকদের আক্রমণ করতে পারবে। কিন্তু, সেই সময়ও পরিস্থিতি যিহোবার নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং তিনি শয়তানকে কোনোরকম সুযোগ দেবেন না। ঠিক যেমন, যিহোবা ইয়োবকে নিশ্চিহ্ন হতে দেননি, ঠিক তেমনই তিনি তাঁর লোকদেরও নিশ্চিহ্ন হতে দেবেন না। যিহোবা তাঁর লোকদের হয়ে নিজের শক্তি দেখাবেন এবং তিনি তাদের সেই সমস্ত দুঃখকষ্ট দূর করে দেবেন, যা শয়তান মানবজাতির উপর নিয়ে এসেছে। এরপর শয়তানের কী পরিণতি হবে? যিশু শয়তানকে ও তার মন্দ স্বর্গদূতদের ১,০০০ বছরের জন্য অতল গহ্বরে ফেলে দেবেন। (লূক ৮:৩১; প্রকা. ২০:১-৩) অবশেষে, শয়তান এবং যারা তাকে সমর্থন করে, তাদের সবাইকে চিরকালের জন্য ধ্বংস করে দেওয়া হবে। (প্রকা. ২০:১০) আর এইভাবে, যিহোবার ভবিষ্যদ্বাণী পরিপূর্ণ হবে এবং শয়তানের মস্তককে চূর্ণবিচূর্ণ করা হবে!—আদি. ৩:১৫; রোমীয় ১৬:২০.
১৯. যারা যিহোবার উপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখে, তারা কোন আশীর্বাদগুলো লাভ করবে? (ছবিও দেখুন।)
১৯ আমরা অধীর আগ্রহে নতুন জগতের জন্য অপেক্ষা করে রয়েছি। তখন আমাদের কোনো কিছুর অভাব হবে না এবং আমরা সুখে শান্তিতে থাকতে পারব। যিহোবা আমাদের এত আশীর্বাদ দেবেন, যা আমরা কখনো কল্পনাও করতে পারব না। যিহোবা প্রতিজ্ঞা করেছেন, “দেখো! আমি সমস্ত কিছু নতুন করছি।” (প্রকা. ২১:৫) এটা কীভাবে হবে? হাজার হাজার বছর ধরে শয়তান এবং তার মন্দ স্বর্গদূতেরা, যেভাবে পৃথিবীর পরিস্থিতি নষ্ট করেছে, যিহোবা সেটা পুরোপুরি ঠিক করে দেবেন। আরমাগিদোনের পর আমরা সেই জীবন উপভোগ করতে পারব, যেটা যিহোবা শুরুতে মানবজাতিকে দিতে চেয়েছিলেন। তখন দুশ্চিন্তায় আমাদের রাতের ঘুম নষ্ট হবে না, আমরা কেউ অসুস্থ হব না। আমরা তখন অনুভব করতে পারব যে, সুস্থ শরীর ও মন নিয়ে বেঁচে থাকার মানে কী। এমনকী আমরা সেই প্রিয়জনদের আবারও দেখতে পাব, যাদের আমরা মৃত্যুতে হারিয়েছিলাম। কল্পনা করুন, তখন আমরা কতটা শান্তিতে বেঁচে থাকতে পারব!
যারা পরীক্ষার মধ্যেও যিহোবার প্রতি বিশ্বস্ত থাকবে, তাদের তিনি প্রচুর আশীর্বাদ করবেন (১৯ অনুচ্ছেদ দেখুন)
২০. আপনি কী করার জন্য দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ?
২০ এই শেষ কালে আমাদের আরও সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। তখন আমাদের সাহসের সঙ্গে কাজ করতে হবে আর তা হলেই আমরা যিহোবার প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে পারব। তাই, আসুন আমরা এখন থেকেই আমাদের নিখিলবিশ্বের শাসক যিহোবার উপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখি এবং তাঁর নামকে মহিমান্বিত করি। এভাবে আমরা দেখাব, আমরা আমাদের পিতা যিহোবাকে কতটা ভালোবাসি এবং এটা প্রমাণ করতে পারব যে, শয়তানের দাবি পুরোপুরি মিথ্যা। আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি, যিহোবা অবশ্যই আমাদের আশীর্বাদ করবেন কারণ তিনি তাঁর লোকদের বিশ্বস্ততার পুরস্কার দেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে রয়েছেন। তাই, আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নয় বরং সর্বমহান ঈশ্বর যিহোবার হাতে রয়েছে!
গান ১৫৩ সাহস জোগাও আমায়