মে ৪-১০, ২০২৬
গান ৫৩ প্রচারের জন্য প্রস্তুতি
প্রচার কাজে আপনার শিক্ষা দেওয়ার দক্ষতাকে বাড়ান!
“তুমি বাক্য প্রচার করো . . . সম্পূর্ণ ধৈর্য সহকারে এবং উত্তমভাবে শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে।”—২ তীম. ৪:২.
আমরা কী শিখব?
আমরা তিনটে উপায় নিয়ে আলোচনা করব, যেগুলো আমাদের প্রচার কাজে শিক্ষা দেওয়ার দক্ষতাকে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।
১. আমাদের কোন দক্ষতা বৃদ্ধি করা উচিত এবং কেন? (২ তীমথিয় ৪:২) (ছবিও দেখুন।)
যিশু তাঁর শিষ্যদের বলেছিলেন, “লোকদের শিষ্য করো . . . আর আমি তোমাদের যা যা আদেশ দিয়েছি, সেই সমস্ত কিছু পালন করতে তাদের শিক্ষা দাও।” (মথি ২৮:১৯, ২০) এই কথাগুলো থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, প্রত্যেক খ্রিস্টানকে একজন দক্ষ শিক্ষক হতে হবে। এটা ঠিক যাদের “সঠিক মনোভাব” রয়েছে, তাদের যিহোবা নিজের প্রতি আকর্ষণ করেন এবং স্বর্গদূতেরাও সৎহৃদয়ের লোকদের কাছে পৌঁছানোর জন্য আমাদের সাহায্য করে। (প্রেরিত ১৩:৪৮; যোহন ৬:৪৪; প্রকা. ১৪:৬) কিন্তু, আমাদেরও কিছু করতে হবে। প্রেরিত পৌল ও বার্ণবা খুব ভালোভাবে শিক্ষা দিতেন। বাইবেল বলে, একবার তারা দু-জনে যখন ইকনিয়ের সমাজগৃহে যান, তখন সেখানে তারা “এত চমৎকারভাবে কথা বললেন যে, যিহুদি ও গ্রিকদের মধ্যে অনেকে যিশুর অনুসারী হয়ে উঠল।” (প্রেরিত ১৪:১) পৌল ও বার্ণবা তাদের শিক্ষা দেওয়ার দক্ষতাকে বৃদ্ধি করার জন্য নিশ্চয়ই অনেক পরিশ্রম করেছিলেন আর তাই তারা লোকদের “উত্তমভাবে শিক্ষা” দিতে পেরেছিলেন। (পড়ুন, ২ তীমথিয় ৪:২.) তাদের মতো আমাদেরও শিক্ষা দেওয়ার দক্ষতাকে বৃদ্ধি করা উচিত।
যিশু এবং তাঁর শিষ্য পৌল ও বার্ণবার কাছ থেকে আমরা “উত্তমভাবে শিক্ষা দেওয়ার” বিষয়ে অনেক কিছু শিখতে পারি (১ অনুচ্ছেদ দেখুন)
২. কেন কিছু ভাই-বোনের এটা মনে হয় যে, তারা অন্যদের ভালোভাবে শেখাতে পারবে না?
২ কিছু ভাই-বোন মনে করে, অন্যদের ভালোভাবে শিক্ষা দেওয়া তাদের সাধ্যের বাইরে। এর কারণ হল, তারা হয়তো বেশি লেখাপড়া জানে না বা তারা মনে করে যে, অন্যদের তারা ভালোভাবে বোঝাতে পারবে না। বাইবেলে এমন কিছু ব্যক্তির কথা বলা আছে, যারা এইরকমটাই মনে করত। (যাত্রা. ৪:১০; যির. ১:৬) আবার কিছু ভাই-বোনের কাছে কোনো বাইবেল অধ্যয়ন নেই অথবা অন্যদের মতো প্রচারে তাদের কোনো ভালো অভিজ্ঞতাও হয়নি, এই জন্য তারা মনে করে যে, তারা ভালোভাবে শেখাতে পারবে না। আমরা জানি, প্রচারে আমাদের যাদের সঙ্গে দেখা হয়, তাদের মধ্যে প্রত্যেকেই যে-পদক্ষেপ নেবে, এমন নয়। আর এমনটাও নয় যে, আমরা ভালোভাবে শিক্ষা দিলেই লোকেরা সত্য গ্রহণ করবে। যেমনটা আমরা আগে দেখেছিলাম, যিহোবা এবং স্বর্গদূতেরা আমাদের সৎহৃদয়ের ব্যক্তিদের খুঁজে পাওয়ার জন্য সাহায্য করছেন। তা সত্ত্বেও, লোকদের রাজ্যের সুসমাচার জানানোর জন্য আমাদের পরিশ্রম করতে হবে। এই প্রবন্ধে আমরা এই বিষয়ে আলোচনা করব। আমরা তিনটে উপায়ের উপর মনোযোগ দেব, যেগুলো আমাদের শিক্ষা দেওয়ার দক্ষতাকে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।
অন্যদের জন্য চিন্তা করুন
৩. কেন লোকেরা যিশুর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল?
৩ যিশু জানতেন, “মানুষের হৃদয়ে কী রয়েছে।” (যোহন ২:২৫) এর মানে হল, যিশু বুঝতে পারতেন, লোকদের মনে কী চলছে এবং তাদের উদ্দেশ্য কী। যিশু এটাও জানতেন, তাদের কখন কীসের প্রয়োজন। তিনি বুঝতে পারতেন, লোকদের নির্দেশনা ও সান্ত্বনার কতটা প্রয়োজন। ধর্মগুরুরা লোকদের জীবনকে একেবারে দুর্বিষহ করে তুলেছিল। তারা জোর করে লোকদের উপর নিজেদের রীতিনীতি চাপিয়ে দিত এবং এইরকম অনেক নিয়ম তারা নিজেরাই তৈরি করত। (মথি ৯:৩৬; ২৩:৪) এই কারণে যিশু লোকদের সাহায্য করার জন্য পর্বতের উপরে এমন কিছু বিষয় শিখিয়েছিলেন, যেগুলো সেখানে উপস্থিত লোকদের অনেক উপকারে এসেছিল। যিশু সেই সমস্ত বিষয় নিয়ে কথা বলছিলেন, যেগুলো লোকদের মনের মধ্যে চলছিল। আর এই কারণে যিশুর কথাগুলো লোকদের হৃদয়কে স্পর্শ করেছিল এবং তারা তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল।
৪. আমরা কীভাবে লোকদের প্রতি চিন্তা দেখাতে পারি? (ছবিগুলোও দেখুন।)
৪ আমরাও লোকদের প্রতি চিন্তা দেখাতে পারি। কীভাবে? তাদের প্রতি সমবেদনা দেখানোর মাধ্যমে। শয়তানের জগতে জীবনযাপন করা খুবই কঠিন। লোকদের জীবনে সমস্যাগুলো দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। তাই, আমরা চিন্তা করতে পারি, যাদের সঙ্গে আমাদের দেখা হয়, তারা কোন ধরনের সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছে। যেমন, আপনার এলাকায় কি এমন কিছু ঘটেছে, যেটার বিষয়ে তারা চিন্তা করছে? তারা যদি বাবা-মা হয়, তা হলে তারা কি চিন্তা করছে যে, তাদের সন্তানেরা কোথায় আছে এবং কেমন আছে? আপনার এলাকায় লোকেরা কি অনেক চেষ্টা করার পরও কাজ পাচ্ছে না? এই সমস্যাগুলো তো আছেই, তা ছাড়া সবচেয়ে বড়ো বিষয় হল, তাদের কাছে ভবিষ্যতের কোনো আশা নেই। তা হলে, চিন্তা করুন, তাদের পক্ষে প্রতিদিন এই “কঠিন ও বিপদজনক” পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করা কতটা কষ্টকর! (২ তীম. ৩:১; যিশা. ৬৫:১৩, ১৪) এই বিষয়টা মাথায় রাখলে আমরা তাদের প্রতি সমবেদনা দেখাতে পারব।
আপনি যাদের শিক্ষা দেন, তাদের পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করুন এবং ভাবুন যে, কীভাবে আপনি তাদের প্রতি চিন্তা দেখাতে পারেন (৪ অনুচ্ছেদ দেখুন)
৫. যিশু কীভাবে ধর্মগুরুদের চেয়ে আলাদা ছিলেন? (মথি ১১:২৮-৩০)
৫ যিশু লোকদের জন্য হৃদয় থেকে চিন্তা করতেন এবং লোকেরাও এটা দেখতে পেত যে, তিনি তাদের সঙ্গে কত ভালোভাবে আচরণ করছেন। তিনি সেই সময়কার ধর্মগুরুদের চেয়ে কতই-না আলাদা ছিলেন! ফরীশীরা সাধারণ লোকদের নীচু চোখে দেখত এবং তাদের একটুও সম্মান করত না। (মথি ২৩:১৩; যোহন ৭:৪৯) কিন্তু, যিশু লোকদের সম্মান করতেন এবং তাদের প্রতি দয়া দেখাতেন। তিনি “মৃদুশীল ও নম্রমনা” ছিলেন। (পড়ুন, মথি ১১:২৮-৩০.) এই কারণে যিশু একজন উত্তম শিক্ষক হতে পেরেছিলেন। যিশুর মতো আমরাও যাদের শিক্ষা দিই, তাদের প্রতি আমাদের সম্মান ও দয়া দেখানো উচিত।
৬. প্রচারের সময় কেউ যখন আমাদের কথা শুনতে চায় না, তখন আমাদের তাদের প্রতি কেমন আচরণ করা উচিত?
৬ এমন কিছু লোক আছে, যারা হয়তো আমাদের বার্তা শুনতে পছন্দ করে না, এমনকী আমাদের কথা শুনে রেগেও যায়। এইরকম পরিস্থিতিতে আমাদের কী করা উচিত? যিশু আমাদের শিখিয়েছিলেন, আমরা যেন এই সমস্ত লোকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার না করি। যিশু আমাদের এটাও শিখিয়েছিলেন, “যারা তোমাদের ঘৃণা করে, তাদের জন্য ভালো কাজ কোরো, যারা তোমাদের অভিশাপ দেয়, তাদের আশীর্বাদ কোরো, যারা তোমাদের অপমান করে, তাদের জন্য প্রার্থনা কোরো।” (লূক ৬:২৭, ২৮) আমাদের সবসময় লোকদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান দেখানো উচিত। কিন্তু, অনেকসময় হয়তো এটা করা আমাদের জন্য কঠিন হতে পারে। তবে, আমাদের মনে রাখতে হবে, কখনো কখনো লোকেরা আমাদের কথা শুনতে চায় না কারণ সেইসময় তারা হয়তো অন্য কিছু বিষয় নিয়ে চিন্তা করে। আপনি হয়তো ভাবতে পারেন, নিশ্চয়ই কিছু কারণ রয়েছে, যে-কারণে তারা আমার কথা শুনতে চায়নি। এটা ঠিক যে, আমরা যেখানে প্রচার করি, সেখানে সবাই আমাদের বিরোধিতা করে না। হতে পারে, কোনো পরিবারে সমস্যা রয়েছে অথবা তারা অন্য কোনো সমস্যা নিয়ে চিন্তিত। আবার এটাও হতে পারে, আমরা হয়তো ভুল সময়ে তাদের বাড়িতে গিয়েছি। কারণ যা-ই হোক না কেন, আমাদের ‘কথাবার্তা যেন সবসময় সদয় হয় অর্থাৎ লবণ দিয়ে স্বাদযুক্ত করা খাবারের মতো হয়। এতে আমরা জানতে পারব যে, কাকে কীভাবে উত্তর দেব।’ (কল. ৪:৬) তাই, যখন আমরা লোকদের প্রতি সমবেদনা দেখাব এবং বোঝার চেষ্টা করব যে, তাদের জীবনে কী চলছে, তখন আমরা তাদের কথা খারাপভাবে নেব না এবং একজন উত্তম শিক্ষক হয়ে উঠতে পারব।
ঈশ্বরের বাক্য থেকে শেখান
৭. ঈশ্বরের বাক্য থেকে শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে যিশু কীভাবে এক চমৎকার উদাহরণ স্থাপন করেছেন? (যোহন ৭:১৪-১৬)
৭ যিশুর দিনে অধ্যাপকেরা লোকদের শেখানোর সময় গণ্যমান্য রব্বিদের কথাগুলোই বার বার বলত। কিন্তু, যিশু এইরকম কিছুই করতেন না। বাইবেল বলে, যিশু “অধ্যাপকদের মতো নয়, বরং ঈশ্বরের কাছ থেকে যেভাবে শিক্ষা লাভ করেছিলেন, সেই অনুযায়ী শিক্ষা” দিতেন। (মার্ক ১:২২) যিশু এই বিষয়ে সবসময় খেয়াল রাখতেন যেন তিনি লোকদের কখনো তাঁর নিজের মনগড়া কথা না শেখান, যেটা অধ্যাপকেরা প্রায়ই করত। তিনি যিহোবার সঙ্গে স্বর্গে কোটি কোটি বছর কাটিয়েছিলেন। যিশু যদি চাইতেন, তা হলে তিনি লোকদের দেখাতে পারতেন যে, তিনি কতটা প্রজ্ঞাবান এবং তিনি কত কিছু জানেন। কিন্তু, তিনি এমন কিছুই করেননি। যিশু সমস্ত কিছু ঈশ্বরের বাক্যের উপর ভিত্তি করেই শেখাতেন। তিনি প্রায়ই শাস্ত্রের কথাগুলো উল্লেখ করতেন এবং সহজভাবে বুঝিয়ে দিতেন যে, ঈশ্বর তাদের কাছ থেকে কী চান এবং শাস্ত্রের কথাগুলো মেনে চললে তাদের জীবন কতটা উন্নত হতে পারে। (পড়ুন, যোহন ৭:১৪-১৬.) এভাবে, লোকেরা তাঁর কথাগুলো ভালোভাবে বুঝতে পেরেছিল এবং দীর্ঘসময় ধরে মনে রেখেছিল। শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে যিশু কতই-না চমৎকার এক উদাহরণ স্থাপন করেছেন!
৮. পিতর কীভাবে যিশুর মতো শিক্ষা দিয়েছিলেন?
৮ যিশুর মতো তাঁর শিষ্যেরাও সবসময় লোকদের ঈশ্বরের বাক্য থেকে শিক্ষা দিত। উদাহরণ স্বরূপ, ৩৩ খ্রিস্টাব্দে পঞ্চাশত্তমীর দিনে প্রেরিত পিতর লোকদের কাছে একটা অসাধারণ বক্তৃতা দিয়েছিলেন, যদিও তিনি ততটা শিক্ষিত ছিলেন না আর তিনি রব্বিদের স্কুলেও যাননি। পিতর তার বক্তৃতায় শাস্ত্রের অনেক কথা উদ্ধৃতি করেছিলেন এবং স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, মশীহ সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণীগুলো কীভাবে যিশুর ক্ষেত্রে পরিপূর্ণতা লাভ করেছিল। (প্রেরিত ২:১৪-৩৭) এর ফল কতই-না ভালো হয়েছিল! “যারা আনন্দের সঙ্গে তার কথাগুলো গ্রহণ করল, তারা বাপ্তিস্ম নিল; আর সেই দিন প্রায় ৩,০০০ জন ব্যক্তি শিষ্যদের সঙ্গে যুক্ত হল।”—প্রেরিত ২:৪১.
৯. লোকদের শেখানোর সময় কেন আমাদের ঈশ্বরের বাক্য ব্যবহার করা উচিত?
৯ ঈশ্বরের বাক্য এতটাই ক্ষমতাশালী যে, এটি একজন ব্যক্তির জীবনকে বদলে দিতে পারে। (ইব্রীয় ৪:১২) তাই, আমাদের এমনভাবে শিক্ষা দেওয়া উচিত, যাতে তাদের মনোযোগ বাইবেলের উপর থাকে। আমরা “বাক্য প্রচার” করতে চাই, নিজেদের চিন্তাধারাকে নয়। (২ তীম. ৪:২) হিতোপদেশ ২:৬ পদে লেখা রয়েছে, “যিহোবাই প্রজ্ঞা দেন, তাঁর মুখ থেকেই জ্ঞান ও বিচক্ষণতা বের হয়।” লোকদের শেখানোর সময় আমরা যখন বাইবেলের পদগুলো ব্যবহার করি, তখন সেটা দেখায়, যিহোবাই যেন তাদের সঙ্গে কথা বলছেন। (মালাখি ২:৭) আমরা চাই লোকেরা যেন বুঝতে পারে, বাইবেলের পরামর্শ যেকোনো মানুষের পরামর্শের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটা আমাদের সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে এসেছে। বাইবেল থেকে লোকেরা জানতে পারবে যে, তারা কীভাবে ঈশ্বরকে খুশি করতে পারে এবং এক সুন্দর জীবন উপভোগ করতে পারে।—২ তীম. ৩:১৬, ১৭.
১০. কীভাবে আমরা ঈশ্বরের বাক্যের প্রতি আমাদের ছাত্রের মনোযোগ আকর্ষণ করাতে পারি?
১০ বাইবেল অধ্যয়নের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় চিন্তা করুন, আপনি কীভাবে বাইবেলের প্রতি আপনার ছাত্রের মনোযোগ আকর্ষণ করাতে পারেন। অধ্যয়ন করানোর সময় মূল বিষয়টাকে বোঝানোর জন্য যে-শাস্ত্রপদগুলো দেওয়া রয়েছে, সেগুলো পড়ুন। এরপর, বাইবেল ছাত্রকে বোঝানোর জন্য তার সঙ্গে আলোচনা করুন। কোনো ছবি অথবা ভিডিও নিয়ে আলোচনা করার সময় আপনার ছাত্রকে জিজ্ঞেস করুন, এখান থেকে তিনি বাইবেলের কোন বিষয় বা নীতি শিখতে পারছেন। ভালোভাবে শেখানোর জন্য আপনার কোনো লম্বা-চওড়া বক্তৃতা দেওয়ার অথবা অনেকগুলো শাস্ত্রপদ পড়ার প্রয়োজন নেই। এর পরিবর্তে, একটা শাস্ত্রপদ পড়ার পর সেটা বোঝার জন্য বাইবেল ছাত্রকে কিছুটা সময় দিন। যদি প্রয়োজন হয়, তা হলে আপনি আবারও সেই পদটা পড়তে পারেন। এভাবে, আপনি আপনার বাইবেল ছাত্রকে বোঝাতে পারবেন যে, তিনি কোনো বই বা ছবি বা ভিডিও থেকে অধ্যয়ন করছেন না বরং বাইবেল থেকে অধ্যয়ন করছেন।—১ করি. ২:১৩.
১১-১২. (ক) কাউকে শেখানোর সময় ধৈর্য ধরা কেন গুরুত্বপূর্ণ? (প্রেরিত ১৭:১-৪) (ছবিও দেখুন।) (খ) কিছু লোক বাইবেলের বিষয়ে কী জানে না এবং আমরা কীভাবে তাদের সাহায্য করতে পারি?
১১ যদি আপনার বাইবেল ছাত্রের পক্ষে কোনো বিষয় বুঝতে বা সেটা বিশ্বাস করতে অসুবিধা হয়, তা হলে মনে রাখবেন যে, আপনাকে “সম্পূর্ণ ধৈর্য সহকারে” তাকে শেখাতে হবে। (২ তীম. ৪:২) প্রত্যেক ব্যক্তির শেখার এবং বোঝার ক্ষমতা এক হয় না। যে-বিষয়টা আমরা হয়তো সহজেই বুঝতে পারি, সেটা হয়তো আমাদের বাইবেল ছাত্র সহজে না-ও বুঝতে পারেন। পৌল যখন থিষলনীকীর যিহুদিদের কাছে সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন, তখন অনেকসময় শাস্ত্রপদ নিয়ে তাদের মধ্যে যুক্তিতর্ক হয়েছিল। আর এরপরই, তারা বিষয়টা বুঝতে পেরেছিল।—পড়ুন, প্রেরিত ১৭:১-৪.
১২ ধৈর্য সহকারে আপনার বাইবেল ছাত্রকে শেখানোর জন্য আপনি আর কী করতে পারেন? অধ্যয়নের সময় যখন আপনি আপনার বাইবেল ছাত্রকে কোনো প্রশ্ন করবেন, তখন তাকে উত্তর দেওয়ার সুযোগ দিন। আপনি হয়তো তাকে একবারে সবকিছু বুঝিয়ে দিতে চাইবেন, কিন্তু সেটা করবেন না। তার কথা মন দিয়ে শুনুন, তা হলেই আপনি জানতে পারবেন, তিনি সেই বিষয়ে কী চিন্তা করেন। এরপর, কিছু শাস্ত্রপদ পড়ুন এবং সেগুলো নিয়ে আলোচনা করুন, যেটা থেকে আপনার বাইবেল ছাত্র বুঝতে পারবেন যে, সেই বিষয়ে ঈশ্বরের চিন্তাধারা কী। এটাও ভেবে দেখুন, এমন অনেক লোক রয়েছে, যারা কখনো বাইবেল দেখেনি এবং বাইবেলে কী লেখা আছে, তারা জানেও না। এই ক্ষেত্রে, আপনি কি নিজের বাইবেল খুলে তাকে দেখাতে পারেন? আপনি চাইলে তাকে ঈশ্বরের বাক্যের সঙ্গে পরিচিত হোন শিরোনামের বুকলেটও দেখাতে পারেন। এর ফলে, আপনার বাইবেল ছাত্র বুঝতে পারবেন যে, বিভিন্ন বিষয়ে বাইবেলে কত কিছু বলা আছে। আপনি চাইলে তাকে সেই বুকলেটের ১৫ নম্বর প্রশ্নটা খুলে কয়েকটা পদ দেখাতে পারেন। এটা থেকে তিনি বুঝতে পারবেন, বাইবেলের পরামর্শগুলো কতটা উপকারী এবং এগুলো মেনে চললে তিনি কতটা সুখী হতে পারবেন। এভাবে, আপনি আপনার বাইবেলের ছাত্রের মনোযোগ ঈশ্বরের বাক্যের দিকে আকর্ষণ করাতে পারবেন এবং কার্যকারী উপায়ে তাকে শেখাতে পারবেন।
একজন উত্তম শিক্ষক শুধুমাত্র নিজেই কথা বলে যান না, তিনি মন দিয়ে অন্যের কথাও শোনেন (১২ অনুচ্ছেদ দেখুন)
যিহোবার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করান
১৩. শিক্ষা দেওয়ার সময় আমাদের কোন বিষয়টা খেয়াল রাখা উচিত? একটা উদাহরণ দিন।
১৩ শিক্ষা দেওয়ার সময় আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত যেন আমাদের বাইবেল ছাত্র যিহোবাকে ভালোভাবে জানেন এবং তাঁর নিকটবর্তী হতে পারেন। (যাকোব ৪:৮) অন্ধকারে কাউকে রাস্তা দেখানোর সময় আমরা সাধারণত টর্চের আলো নিজেদের দিকে নয় বরং সামনের দিকে ফেলি। ঠিক একইভাবে, বাইবেল থেকে কিছু বোঝানোর সময় আমরা চাই না যে, আমাদের ছাত্র আমাদের প্রতি মনোযোগ দিক বরং তার মনোযোগ যেন সবসময় যিহোবার প্রতি থাকে।
১৪. আমাদের বাইবেল ছাত্র যেন যিহোবার নিকটবর্তী হতে পারেন, সেই জন্য আমরা কী করতে পারি?
১৪ বাইবেল অধ্যয়ন করানোর সময় যিহোবার প্রতি আপনার ছাত্রের ভালোবাসা বাড়িয়ে তুলুন। কীভাবে আপনি তা করতে পারেন? তাকে শুধুমাত্র এটা বলবেন না যে, একজন সাক্ষি হওয়ার জন্য তার কী করা উচিত বা কী করা উচিত নয়। আপনার ছাত্রকে এমনভাবে শিক্ষা দিন, যেন তিনি সবসময় যিহোবাকে খুশি করতে চান। আর এভাবে তিনি তার নিজের জীবনকে পরিবর্তন করতে পারবেন। যেমন, আপনার বাইবেল ছাত্রের পক্ষে যদি কোনো মন্দ অভ্যাস ছেড়ে দেওয়া কঠিন হয়, তা হলে আপনি হয়তো তাকে এই ধরনের প্রশ্ন করতে পারেন: “যিহোবা কেন এই কাজকে ঘৃণা করেন? আপনি যেটা করতে ভালোবাসেন, কেন যিহোবা আপনাকে সেটা ছাড়তে বলছেন বলে আপনার মনে হয়? এই বিষয়ে যিহোবা যে-আজ্ঞা দিয়েছেন, সেটা থেকে কীভাবে বোঝা যায় যে, যিহোবা আপনাকে ভালোবাসেন?” আপনি যত আপনার বাইবেল ছাত্রকে যিহোবার বিষয়ে চিন্তা করার জন্য উৎসাহিত করবেন, ততই তিনি বুঝতে পারবেন যে, যিহোবা কত প্রেমময় একজন পিতা। এভাবে, আপনার ছাত্র যিহোবাকে আরও বেশি ভালোবাসতে শিখবেন এবং তাঁকে খুশি করতে চাইবেন।—হিতো. ২৭:১১.
শিক্ষা দেওয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি করুন
১৫. আপনার শিক্ষা দেওয়ার দক্ষতাকে বৃদ্ধি করার জন্য আপনি কী করতে পারেন?
১৫ যিহোবার কাছে সাহায্য চান যেন আপনি শিক্ষা দেওয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারেন। (১ যোহন ৫:১৪) প্রার্থনা করার পাশাপাশি, আপনি কিছু পদক্ষেপও নিতে পারেন। যেমন, সভাগুলোতে ভালোভাবে শিক্ষা দেওয়ার যে-প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, সেগুলো থেকে পুরোপুরিভাবে উপকার লাভ করার চেষ্টা করুন। আপনার বাইবেল অধ্যয়নে সেই সমস্ত ভাই-বোনকে নিয়ে যান, যারা শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে দক্ষ। অধ্যয়ন করানোর পর, আপনি তাদের জিজ্ঞেস করতে পারেন, কোথায় আপনার উন্নতি করার প্রয়োজন রয়েছে। এটাও মনে রাখবেন যে, যদিও আপনি অধ্যয়নের বিষয়বস্তু ভালোভাবে বোঝেন, কিন্তু এটা আপনার ছাত্রের কাছে একেবারেই নতুন। চিন্তা করুন, আপনি যে-বিষয়ে অধ্যয়ন করাবেন, সেই বিষয়ে আপনার ছাত্রের চিন্তাধারা কী। এরপর, অধ্যয়ন করানোর সময় তাকে এই বিষয়ে নিশ্চয়তা দিন যে, বাইবেলের পরামর্শ মেনে চললে তার কতটা উপকার হবে। ধীরে ধীরে আপনি দেখতে পাবেন, আপনার বাইবেল ছাত্র যিহোবার একজন ভালো বন্ধু হয়ে উঠেছেন এবং তিনি প্রকৃত আনন্দ লাভ করছেন।—গীত. ১:১-৩.
১৬. কেন আমাদের ক্রমাগত শিক্ষা দেওয়ার দক্ষতাকে বৃদ্ধি করা উচিত?
১৬ আমরা যেমনটা এই প্রবন্ধে শিখেছি, লোকদের ভালোভাবে শিক্ষা দেওয়ার জন্য তাদের প্রতি আমাদের চিন্তা দেখাতে হবে, তাদের ঈশ্বরের বাক্য থেকে শেখাতে হবে এবং যিহোবার প্রতি তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করাতে হবে। চিন্তা করুন, আমাদের এই প্রচেষ্টার ফলে একজন ব্যক্তি যিহোবার বন্ধু হতে পারে! কাউকে যিহোবার বিষয়ে শিখিয়ে কতই-না আনন্দ লাভ করা যায়! আর এই আনন্দ আমরা নতুন জগতেও পাব। তখন আরও বেশি দক্ষ শিক্ষকের প্রয়োজন হবে। তাই, আসুন এখন থেকেই আমরা সবাই আমাদের শিক্ষা দেওয়ার দক্ষতাকে বৃদ্ধি করে চলি!
গান ৬৫ এগিয়ে যাও