পরিচালকগোষ্ঠীর কাছ থেকে একটা চিঠি
প্রিয় ভাই ও বোনেরা:
আমাদের স্বর্গীয় পিতা যিহোবা হলেন প্রেমের সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ। তাই, বাইবেল বলে: “ঈশ্বর প্রেম।” (১ যোহন ৪:৮) যদিও যিহোবা হলেন সর্বশক্তিমান, তবুও তাঁর বাক্য কখনো বলে না, “ঈশ্বর শক্তি।” তিনি মূলত প্রেমের ওপর ভিত্তি করেই তাঁর নিয়ম স্থাপন করেন। তাঁর এই গুণ আমাদেরকে তাঁর প্রতি কতই না আকৃষ্ট করে!
আনন্দের বিষয় যে, তাঁকে সেবা করার জন্য যিহোবা আমাদেরকে জোর করেন না। তিনি স্বৈরাচারী নন। তিনি চান আমরা যেন তাঁকে ভালোবাসি বলেই আমাদের হৃদয় থেকে তাঁকে সেবা করি। এটা করার দ্বারা আমরা দেখাই যে, আমরা তাঁর শাসনব্যবস্থা চাই কারণ আমরা বিশ্বাস করি যে, তিনি ন্যায়ে ও প্রেমে শাসন করেন। মানব ইতিহাসের একেবারে শুরু থেকেই এই বিষয়টা স্পষ্ট হয়েছে।
আদম ও হবাকে তাঁর বাধ্য থাকার জন্য জোর করার পরিবর্তে, যিহোবা তাদেরকে তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। তারা যদি সত্যিই যিহোবাকে ভালোবাসত আর তিনি তাদের জন্য যা করেছেন তা উপলব্ধি করত, তাহলে তাদেরকে বিদ্রোহী করে তোলার জন্য শয়তানের সমস্ত প্রচেষ্টাকে তারা প্রতিহত করত।
পরবর্তী সময়ে, ইস্রায়েলজাতির উদ্দেশে দেওয়া তার শেষ বক্তৃতায় মোশি বলেছিলেন: “দেখ, আমি অদ্য তোমার সম্মুখে জীবন ও মঙ্গল এবং মৃত্যু ও অমঙ্গল রাখিলাম।” (দ্বিতীয়. ৩০:১৫) লোকেরা কীভাবে জীবনযাপন করবে, সেই বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা ছিল। একইভাবে, যিহোশূয় ইস্রায়েলীয়দের উদ্দেশে বলেছিলেন: “যদি সদাপ্রভুর সেবা করা তোমাদের মন্দ বোধ হয়, তবে যাহার সেবা করিবে, তাহাকে অদ্য মনোনীত কর।” উত্তরে লোকেরা যিহোশূয়কে বলেছিল: “আমরা যে সদাপ্রভুকে ত্যাগ . . . করিব, তাহা দূরে থাকুক।” (যিহো. ২৪:১৫, ১৬) আমরাও আজ একইরকম অনুভব করি। যেহেতু আমরা যিহোবাকে ভালোবাসি, তাই তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার কথা চিন্তা করাও আমাদের থেকে “দূরে থাকুক।”
খ্রিস্টীয় মণ্ডলীর মধ্যেও আমরা স্বাধীন ইচ্ছার বিষয়টা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারি। যদিও মণ্ডলীর প্রাচীনদেরকে পরামর্শ আর এমনকী শাসন করার অধিকার দেওয়া হয়েছে, তবুও তারা অন্যদের জীবন এবং বিশ্বাসের ওপর আধিপত্য করতে বা সেগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না। প্রেরিত পৌল লিখেছিলেন: “আমরা যে তোমাদের বিশ্বাসের উপরে প্রভুত্ব করি, এমন নয়, বরং তোমাদের আনন্দের সহকারী হই; কারণ বিশ্বাসেই তোমরা দাঁড়াইয়া আছ।”—২ করি. ১:২৪.
কোনো কিছু করার জন্য চাপ অনুভব করার চেয়ে বরং, আমরা যখন তা করতে চাই বলে করি, তখন তা কতই না পরিতৃপ্তিদায়ক হয়। যিহোবা আমাদেরকে প্রেম প্রযুক্ত উত্তম কাজগুলো করার জন্য আমন্ত্রণ জানান। এর গুরুত্ব, পৌলের অনুপ্রাণিত এই কথাগুলোতে দেখা যায়: “[আমি] যথাসর্ব্বস্ব যদি দরিদ্রদিগকে খাওয়াইয়া দিই, এবং পোড়াইবার জন্য আপন দেহ দান করি, কিন্তু আমার প্রেম না থাকে, তবে আমার কিছুই লাভ নাই।”—১ করি. ১৩:৩.
যিহোবা যখন দেখেন যে, আমাদের লক্ষ লক্ষ ভাই-বোনেরা তাদের সম্পূর্ণ হৃদয় দিয়ে তাঁকে ভালোবাসে বলে তাঁর সেবা করে, তখন তিনি কতই না আনন্দিত ও প্রশংসিত হন।
এর প্রতিদানে, যিহোবাও তাঁর সমস্ত দাসকে অত্যন্ত ভালোবাসেন যার মধ্যে তোমরা, ছোটো বাচ্চারা ও কিশোর-কিশোরীরা রয়েছো, যারা দেখিয়ে থাকো যে, আত্মতুষ্টি প্রদানকারী এই জগতের চেয়ে বরং তোমরা যিহোবাকে ভালোবাস। আর এই বিষয়ে তোমরা নিশ্চিত থেকো যে, আমরাও তোমাদেরকে অত্যন্ত ভালোবাসি।—লূক ১২:৪২, ৪৩.
যিহোবার প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে, ভাই ও বোনেরা এবং অল্পবয়সিরা, আপনারা সকলে সুসমাচার ঘোষণা করার জন্য গত বছর ১৭৪,৮৬,৯৭,৪৪৭ ঘন্টা ব্যয় করেছিলেন। প্রেমের দ্বারা পরিচালিত হয়ে পৃথিবীব্যাপী ৭৭,৮২,৩৪৬ জন ক্ষেত্রের পরিচর্যায় অংশ নিয়েছিল। এই বিষয়টা জেনে আমরা আনন্দিত যে, ২,৬৮,৭৭৭ জন নতুন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে অনেক অল্পবয়সিও রয়েছে, তারা যিহোবার কাছে তাদের উৎসর্গীকরণের প্রতীক স্বরূপ জলে বাপ্তিস্ম নিয়েছে। এর মানে হল, প্রতি সপ্তাহান্তে গড়ে ৫,১৬৮ জন বাপ্তাইজিত হয়েছে। এই বিষয়টা কতই না আমাদের হৃদয় স্পর্শ করে!
এই শেষকালে, ঈশ্বরের লোকেদেরকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তাড়না, অসুস্থতা আর কিছুজনকে বার্ধক্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হয়। কিন্তু আমরা দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ যে, আমরা কখনোই ‘সরিয়া পড়িব’ বা ‘নিরুৎসাহিত হইব’ না। আমরা আপনাদের সকলকে খুবই ভালোবাসি।—ইব্রীয় ১০:৩৯; ২ করি. ৪:১৬.
আপনাদের ভাইয়েরা,
যিহোবার সাক্ষিদের পরিচালকগোষ্ঠী