আপনি কি রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যদান করার জন্য প্রস্তুত?
১ রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যদান করা খুবই কার্যকারী হতে পারে। বাইবেলে রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যদান করার অনেক উদাহরণ রয়েছে, যেগুলো উত্তম ফল নিয়ে এসেছিল। (যোহন ৪:৭-১৫) এই ধরনের সাক্ষ্যদান করার জন্য প্রস্তুত হতে আমরা কী করতে পারি?
২ পোশাক-আশাক ও সাজগোজ: আমাদের পোশাক-আশাক ও সাজগোজের প্রতি সবসময় যথার্থ মনোযোগ দেওয়া আমাদেরকে অন্যদের কাছে স্বচ্ছন্দে আমাদের বিশ্বাস সম্বন্ধে জানানোর সুযোগ দেবে। (১ তীম. ২:৯, ১০) আমরা যদি আমাদের বেশভূষার কারণে বিব্রত বোধ করি, তাহলে খুব সম্ভবত আমরা সাক্ষ্যদান করা থেকে বিরত থাকব। এর বিপরীতে, আমাদের পরিপাটী, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বেশভূষাই হয়তো অন্যদের কৌতূহল জাগিয়ে তুলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ভ্রমণ করার সময় পরিপাটী পোশাক পরিহিত এক সাক্ষি দম্পতি, একজন মুসলিম ব্যক্তির পাশে বসেছিল। তাদের বেশভূষা লক্ষ করে, সেই ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, তারা খ্রিস্টান কি না। এর ফলে তিন ঘন্টা ধরে বাইবেল আলোচনা করা হয়েছিল।
৩ কথোপকথন শুরু করা: যিশুর সঙ্গে যখন যাকোবের কুয়োর ধারে একজন শমরীয়া স্ত্রীলোকের দেখা হয়েছিল, তখন যিশু শুধুমাত্র এই অনুরোধ করার মাধ্যমে কথোপকথন শুরু করেছিলেন যে, তিনি যেন তাঁকে পান করার জন্য জল দেন। একইভাবে, আমরাও হয়তো সংক্ষেপে কিছু বলার অথবা সহজসরল একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার দ্বারা কথোপকথন শুরু করতে পারি। যদিও কখনো কখনো আমরা হয়তো ইতস্তত বোধ করতে পারি, কিন্তু যিহোবার সাহায্যের ওপর নির্ভর করার দ্বারা আমরা কথোপকথন শুরু করার জন্য “সাহসী হইয়া” উঠতে পারি। মন দিয়ে উত্তরটা শোনা আমাদেরকে এটা নির্ণয় করতে সাহায্য করবে যে, সেই ব্যক্তি আগ্রহী কি না এবং আমাদের কথোপকথন চালিয়ে যাওয়া উচিত হবে কি না।—১ থিষল. ২:২.
৪ রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যদান করার বিভিন্ন উপায় খুঁজুন: অনেক প্রকাশক রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যদান করার বিভিন্ন উপায় খুঁজে নিয়েছে। আপনার পরিস্থিতিগুলো পুনর্বিবেচনা করুন এবং সেই লোকেদের সম্বন্ধে চিন্তা করুন, যাদের সঙ্গে খুব সম্ভবত প্রতিদিন আপনার দেখা হয়। উপযুক্ত সাহিত্যাদি ও একটি ছোটো বাইবেল সঙ্গে রাখুন। পর্যবেক্ষণ করুন এবং আপনার চারপাশে থাকা লোকেদের প্রতি আগ্রহ দেখান। আপনি সারাদিনে যে-সুযোগগুলোর মুখোমুখি হতে পারেন, সেগুলো সম্বন্ধে আপনি যখন আগে থেকে চিন্তা করেন, তখন খুব সম্ভবত আপনি উত্তম সাক্ষ্যদান করার জন্য প্রস্তুত থাকবেন।—ফিলি. ১:১২-১৪; ১ পিতর ৩:১৫.
৫ রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যদান করার জন্য বিভিন্ন সুযোগের সদ্ব্যবহার করার দুটো উত্তম কারণ আমাদের রয়েছে আর সেগুলো হল, ঈশ্বরের প্রতি প্রেম এবং প্রতিবেশীর প্রতি প্রেম। (মথি ২২:৩৭-৩৯) প্রচার কাজের গুরুত্বের পরিপ্রেক্ষিতে, রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যদান করাকে কেবল সুযোগ পেলে তবে করব এইরকম চিন্তাভাবনার ওপর ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে না। সময় থাকতে থাকতেই, অন্যদের কাছে রাজ্যের সুসমাচার জানানোর উদ্দেশ্যে প্রতিটা উপযুক্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার করার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকা উচিত।—রোমীয় ১০:১৩, ১৪; ২ তীম. ৪:২.
[অধ্যয়ন প্রশ্নাবলি]
১. কোন উদাহরণ দেখায় যে, রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যদান করা কার্যকারী হতে পারে?
২. কীভাবে আমাদের পোশাক-আশাক ও সাজগোজ আমাদেরকে সাক্ষ্যদান করার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে?
৩. যিশুর উদাহরণ অনুসরণ করে আপনি কীভাবে কথোপকথন শুরু করেছেন?
৪. কীভাবে আমরা রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যদান করার জন্য প্রস্তুত হতে পারি?
৫. কেন আমাদের রীতিবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যদান করাকে কেবল সুযোগ পেলে তবে করব এমন চিন্তাভাবনার ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়?