প্রশ্ন বাক্স
◼ “বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান্ দাস” কি সাক্ষিদের সেই স্বতন্ত্র দলগুলোকে অনুমোদন করে, যারা শাস্ত্রীয় বিষয়ে গবেষণা অথবা তর্কবিতর্ক করার জন্য মিলিত হয়ে থাকে?—মথি ২৪:৪৫, ৪৭.
না, তারা এটা অনুমোদন করে না। তা সত্ত্বেও, পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় আমাদের সংগঠনের অল্প কিছু সদস্য বাইবেলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বিষয়গুলো নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে গবেষণা করার জন্য বিভিন্ন দল গঠন করেছে। কেউ কেউ বাইবেলের ইব্রীয় ও গ্রিক ভাষার ওপর অধ্যয়ন করার এক স্বতন্ত্র দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছে, যাতে নতুন জগৎ অনুবাদ (ইংরেজি) কতটা সঠিক, তা বিশ্লেষণ করে দেখতে পারে। অন্যেরা, বাইবেলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা করে। তারা তাদের মতামত বিনিময় করার ও সেই বিষয়ে তর্কবিতর্ক করার উদ্দেশ্যে, বিভিন্ন ওয়েব সাইট ও চ্যাট রুম খুলেছে। এ ছাড়া, তাদের গবেষণার ফলে প্রাপ্ত তথ্য উপস্থাপন করার জন্য এবং আমাদের খ্রিস্টীয় সভাগুলোতে ও আমাদের সাহিত্যাদির মাধ্যমে যা যা সরবরাহ করা হয়ে থাকে, সেগুলোর অতিরিক্ত বিষয়বস্তু জোগাতে তারা বিভিন্ন কনফারেন্সের ব্যবস্থাও করেছে ও বইপত্রও ছাপিয়েছে।
পৃথিবীব্যাপী যিহোবার লোকেরা মণ্ডলীর সভাগুলোতে, সম্মেলনগুলোতে ও সেইসঙ্গে যিহোবার সংগঠনের ছাপানো প্রকাশনাদির মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে আধ্যাত্মিক নির্দেশনা ও উৎসাহ লাভ করে থাকে। তাঁর পবিত্র আত্মার নির্দেশনাধীনে এবং তাঁর সত্যের বাক্যের ভিত্তিতে যিহোবা যা কিছু প্রয়োজন তা প্রদান করছেন, যাতে ঈশ্বরের সমস্ত লোক “এক মনে ও এক বিচারে পরিপক্ব” হতে এবং “বিশ্বাসে দৃঢ়ীভূত” থাকতে পারে। (১ করি. ১:১০; কল. ২:৬, ৭) এই শেষকালে যিহোবার আধ্যাত্মিক ব্যবস্থাগুলোর জন্য আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ। তাই, “বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান্ দাস” এমন কোনো সাহিত্য, সভা বা ওয়েব সাইটগুলোকে অনুমোদন করে না, যেগুলো তাদের নির্দেশনাধীনে ছাপানো বা সংগঠিত হয় না।—মথি ২৪:৪৫-৪৭.
যে-ব্যক্তিরা সুসমাচারকে সমর্থন করার জন্য তাদের চিন্তাশক্তিকে ব্যবহার করতে চায়, তারা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু, আমাদের ব্যক্তিগত কোনো কাজ যেন যিশু খ্রিস্ট এই পৃথিবীতে তাঁর মণ্ডলীর মাধ্যমে আজকে যা সম্পাদন করছেন, সেটাকে খর্ব না করে। প্রথম শতাব্দীতে, প্রেরিত পৌল ক্লান্তিকর, সময় অপচয়কারী বিষয়বস্তুগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার বিরুদ্ধে সাবধান করেছিলেন, যেমন ‘অসীম বংশাবলি, যে সকল বরং বিতণ্ডা উপস্থিত করে, ঈশ্বরের যে ধনাধ্যক্ষের কার্য্য বিশ্বাস সম্বন্ধীয়, তাহা উপস্থিত করে না।’ (১ তীম. ১:৩-৭) সমস্ত খ্রিস্টানের ‘মূঢ়তার সকল বিতণ্ডা, বংশাবলি, বিবাদ এবং ব্যবস্থাবিষয়ক বাগ্যুদ্ধ হইতে দূরে থাকিবার’ জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করা উচিত, “কেননা এ সকল নিষ্ফল ও অসার।”—তীত ৩:৯.
যারা আরও বেশি বাইবেল অধ্যয়ন ও গবেষণা করতে চায়, তাদেরকে আমরা শাস্ত্রের প্রতি অন্তর্দৃষ্টি (ইংরেজি), ‘ঈশ্বর-নিশ্বসিত প্রত্যেক শাস্ত্রলিপি উপকারী’ (ইংরেজি) এবং আমাদের আরও অন্যান্য প্রকাশনা, যেমন বাইবেলের বই দানিয়েল, যিশাইয় ও প্রকাশিত বাক্যে পাওয়া ভবিষ্যদ্বাণীগুলো নিয়ে আলোচনা করে, এমন প্রকাশনাগুলো গবেষণা করার সুপারিশ করছি। এই সমস্ত প্রকাশনা, বাইবেল অধ্যয়ন ও ধ্যান করার জন্য প্রচুর বিষয়বস্তু সরবরাহ করে আর এর ফলে আমরা ‘সমস্ত আত্মিক জ্ঞানে ও বুদ্ধিতে [ঈশ্বরের] ইচ্ছার তত্ত্বজ্ঞানে পূর্ণ হইতে’ পারি ‘আর তদ্দ্বারা প্রভুর [“যিহোবার,” NW] যোগ্যরূপে সর্ব্বতোভাবে প্রীতিজনক আচরণ করি, সমস্ত সৎকর্ম্মে ফলবান্ ও ঈশ্বরের তত্ত্বজ্ঞানে বর্দ্ধিষ্ণু হই।’—কল. ১:৯, ১০.