দূতেরা আমাদের সাহায্য করছে
১ “দেখ, আমিই যুগান্ত পর্য্যন্ত প্রতিদিন তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছি।” এই কথাগুলো তাদের সকলের জন্য কতই না উৎসাহজনক যারা যিশুর এই আদেশে মনোযোগ দেয়: “অতএব তোমরা গিয়া . . . শিষ্য কর”! (মথি ২৮:১৮-২০) যে-তাৎপর্যপূর্ণ একটা উপায়ে, যিশু সত্য খ্রিস্টানদের সঙ্গে আছেন, তা হল তাঁর দূতেদের মাধ্যমে। (মথি ১৩:৩৬-৪৩) এই বিশ্বস্ত আত্মিক প্রাণীদের সঙ্গে এক সুরে “অনন্তকালীন সুসমাচার” ঘোষণা করা কতই না রোমাঞ্চকর!—প্রকা. ১৪:৬, ৭.
২ আমাদের পরিচর্যায়: বাইবেল প্রকাশ করে যে, “যাহারা পরিত্রাণের অধিকারী হইবে, . . . তাহাদের পরিচর্য্যার জন্য” দূতেরা প্রেরিত। (ইব্রীয় ১:১৪) প্রথম শতাব্দীতে, দূতেরা যোগ্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে যিশুর অনুসারীদের পরিচালনা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল। (প্রেরিত ৮:২৬) আজকে, ঈশ্বরের দাসেরা ক্রমাগত দূতেদের নির্দেশনার প্রমাণ দেখতে পায়। অনেক ক্ষেত্রে, গৃহকর্তারা বলেছে যে, তারা যখন সাহায্যের জন্য প্রার্থনা করছিল, ঠিক তখনই একজন সাক্ষি তাদের দরজায় এসেছিলেন। যখন এই ব্যক্তিরা রাজ্যের বার্তার প্রতি সাড়া দেয়, তখন দূতেদের সঙ্গে আমরাও কতই না আনন্দিত হই!—লূক ১৫:১০.
৩ বিরোধিতার মুখোমুখি হওয়া: দানিয়েল, তার তিন ইব্রীয় যুবক সঙ্গী, প্রেরিত পিতর এবং আরও অনেকে যারা নিদারুণ পরীক্ষাগুলো ভোগ করেছে, তারা “বলে বীর” দূতেদের মাধ্যমে যিহোবার সুরক্ষা লাভ করেছে। (গীত. ১০৩:২০; দানি. ৩:২৮; ৬:২১, ২২; প্রেরিত ১২:১১) যদিও কখনও কখনও, বিরোধিতার মুখে আমরা হয়তো অসহায়বোধ করি কিন্তু ইলীশায়ের পরিচারকের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা উৎসাহ পেতে পারি, যখন তিনি জেনেছিলেন যে, “উহাদের সঙ্গীদের অপেক্ষা আমাদের সঙ্গী অধিক।” (২ রাজা. ৬:১৫-১৭) এমনকি যদি আমাদেরকে জোর করে আমাদের খ্রিস্টান ভাইবোনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়, তবুও আমাদের হতাশ হওয়ার দরকার নেই। ঈশ্বরের বাক্য আমাদের আশ্বাস দেয়: “সদাপ্রভুর দূত, যাহারা তাঁহাকে ভয় করে, তাহাদের চারিদিকে শিবির স্থাপন করেন।”—গীত. ৩৪:৭.
৪ শীঘ্রই দূতবাহিনী খ্রিস্টের রাজত্বের সমস্ত বিরোধিতা দূর করতে অশ্বের ওপর চড়ে আসবে। (প্রকা. ১৯:১১, ১৪, ১৫) সেই দিনের অপেক্ষা করার সময়, আমরা যেন ক্রমাগত সাহসের সঙ্গে যিহোবার প্রশংসা করে চলি এবং খ্রিস্টের আজ্ঞাধীন স্বর্গীয় বাহিনীর শক্তিশালী সমর্থনে পূর্ণ আস্থা রাখি।—১ পিতর ৩:২২.