বড়দিন—প্রাচ্যেও কেন পালন করা হয়?
অনেক দিন আগেকার কথা, কোরিয়ার লোকেদের চুয়াংশিন নামে এক দেবতার উপাসনা করার রীতি ছিল আর কিছুটা এইরকমই রীতি আজ চিন ও জাপানের লোকেদের মধ্যেও দেখা যায়। এই রীতি বড়দিনের সান্তাক্লজের কথা মনে করিয়ে দেয়।
প্রাচীন কোরিয়ার লোকেরা চুয়াংশিনকে অগ্নি দেবতা বলে মনে করত আর বিশ্বাস করত যে তিনি রান্নাঘরের দেখাশোনা করেন। (আগেকার দিনে কোরিয়ার লোকেরা খুব সাবধানে জ্বলন্ত কয়লাগুলোকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যেত যেন সেগুলো নিভে না যায়।) লোকেরা বিশ্বাস করত যে এই দেবতা এক বছর ধরে পরিবারের সকলের চালচলনের ওপর কড়া নজর রাখেন এবং পরে তিনি রান্নাঘরের চুলা এবং চিমনি দিয়ে স্বর্গে চলে যান।
মনে করা হতো যে চুয়াংশিন চান্দ্রিক মাসের ২৩শে ডিসেম্বর, স্বর্গের রাজার কাছে সব পরিবার সম্বন্ধে সমস্ত কিছু জানাতেন। তারপর বছরের শেষে তিনি চিমনি এবং চুলার মধ্যে দিয়ে আবার ফিরে আসবেন ও প্রত্যেককে তাদের কাজের পুরস্কার ও শাস্তি দেবেন। তিনি যেদিন ফিরে আসতেন সেদিন পরিবারের সদস্যদের রান্নাঘরে এবং ঘরের অন্যান্য জায়গায় মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখতে হতো। সান্তাক্লজের সঙ্গে রান্নাঘরের এই দেবতার আরেকটা মিলও রয়েছে আর তা হল ছবিতে তাদের দুজনেরই পরনের কাপড় লাল রঙের বলে দেখানো হয়। কোরিয়ার লোকেদের মধ্যে এই রীতিও ছিল যে ঘরের বউ একজোড়া মোজা তৈরি করবে আর ২২শে ডিসেম্বরে সে সেটা তার শাশুড়ীকে উপহার হিসেবে দেবে। যেহেতু এর পর থেকে দিন বড় হতে থাকে, তাই এটা বোঝাত যে সে চায় তার শাশুড়ী যেন অনেক দিন বেঁচে থাকেন।
আপনি কি এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে বড়দিনের কোন মিল খুঁজে পাচ্ছেন না? আপনি দেখবেন যে কোরিয়ার এই রীতিগুলোর সঙ্গে বড়দিনের রীতিনীতির অনেক মিল আছে আর এদের গল্পও কিছুটা একরকম: চিমনি, মোমবাতি, উপহার দেওয়া, মোজা, লাল কাপড় পড়া একজন বুড়ো লোক আর এই উৎসব পালন করার তারিখও এক। তবুও শুধু এই মিলগুলোর জন্যই যে কোরিয়াতে বড়দিন পালন করতে শুরু করা হয়েছে তা নয়। কোরিয়ায় যখন প্রথম বড়দিন পালন করা শুরু হয় তখন চুয়াংশিনের প্রতি বিশ্বাস বলতে গেলে প্রায় ছিলই না। আর সত্যি বলতে কী, আজ কোরিয়ার অনেক লোকেরাই চুয়াংশিনের নাম পর্যন্ত জানে না।
যাইহোক, এই উদাহরণগুলো দেখে বোঝা যায় যে কীভাবে ২২শে ডিসেম্বর এবং বছরের শেষ সময়ের সঙ্গে যুক্ত রীতিগুলো বিভিন্ন উপায়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। পৌত্তলিক রোমীয়রা সূর্য-দেবতার জন্মদিন বা স্যাটারনালিয়া পালন করত। সা.কা. চতুর্থ শতাব্দীতে রোমের গির্জা সূর্য দেবতার জন্মদিনকে বড়দিন হিসেবে পালন করতে শুরু করে। এভাবে লোকেরা বড়দিনের নামে তাদের নিজেদের রীতিনীতিগুলোকে পালন করতে শুরু করে। কিন্তু বড়দিন পালন করা কিভাবে এতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে?
উপহারের ভূমিকা
উপহার দেওয়ার প্রথা পৃথিবীতে সবসময়ই ছিল। যুগ যুগ ধরে কোরিয়ার লোকেরা উপহার দিয়ে এবং পেয়ে আনন্দ পেয়েছেন। আর কোরিয়াতে বড়দিন জনপ্রিয় হয়ে ওঠার এটা একটা কারণ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকার যে সৈন্যরা কোরিয়ায় ছিল তারা লোকেদের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক রাখার জন্য লোকেদের সঙ্গে মেলামেশা করত এবং উপহার ও জামা-কাপড় ও ওষুধপত্র দিত আর গির্জা ছিল এই দেওয়া নেওয়ার জায়গা। বিশেষ করে বড়দিনের দিন এটা করা হতো। অনেক ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা এগুলো দেখার জন্য গির্জায় যেত আর সেখানেই তাদের অনেকেই দেখেছিল যে চকলেট কী জিনিস। তাই আপনার নিশ্চয়ই বুঝতে কষ্ট হচ্ছে না যে এই ছেলেমেয়েরা পরের বড়দিনের জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষা করে থাকত।
এই ছেলেমেয়েদের কাছে সান্তাক্লজ ছিল লাল রঙের টুপি পরা আমেরিকার একজন সৈনিক। হিতোপদেশ ১৯:৬ পদ বলে: “সকলে দানশীলের বন্ধু হয়।” হ্যাঁ, আমেরিকার সৈনিক লোকেদের উপহার দিয়ে লোকেদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করায় সফল হয়েছিলেন। কিন্তু আপনি এই পদ থেকে বুঝতে পারেন যে উপহার দিয়ে বন্ধুত্ব তৈরি করা যায় ঠিকই কিন্তু এইরকম বন্ধুত্ব বেশি দিন থাকে না। এমনকি কোরিয়াতেও এমন অনেকে আছেন, গির্জা সম্বন্ধে যারা শুধু এটুকুই জানেন যে ছোটবেলায় চকলেট খাওয়ার লোভে তারা গির্জায় যেতেন। কিন্তু বড়দিন আজও খুব ধুমধাম করে পালন করা হয়। কোরিয়ায় দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতি হয়, ব্যবসা বাণিজ্য বেড়ে যায় আর তাই বড়দিনে উপহার দেওয়ার রীতিকে উৎসাহিত করা হয় কারণ তা লোকেদের পয়সা আয় করার একটা সহজ উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুনাফা লাভ করার জন্য ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বড়দিনকে ব্যবহার করেছে।
এটা আপনাকে বুঝতে সাহায্য করে যে কেন আজকে প্রাচ্যে বড়দিন পালন করা হয়। বড়দিনের সময় লোকেদের মধ্যে যাতে কেনাকাটার ধুম পড়ে যায় তাই নতুন নতুন জিনিস তৈরি করা হয়। গ্রীষ্মকালের মাঝামাঝি সময় থেকে বিজ্ঞাপন দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। আর দোকানদারদের সবচেয়ে বেশি বিক্রি বছরের শেষে এই সময়ই হয় কারণ বড়দিনের উপহার, কার্ড এবং গানের ক্যাসেট লোকেরা এই সময়েই বেশি কেনে। বিজ্ঞাপনগুলো এতই শক্তিশালী যে বড়দিনের আগের সন্ধ্যায় যদি কোন ছেলেমেয়েদের ঘরে বসে থাকতে হয় আর তারা যদি কোন উপহার না পায় তাহলে তারা তাদের জীবনই বৃথা বলে মনে করে!
বড়দিন যতই এগিয়ে আসতে থাকে, ততই শিওলের দোকান এবং বাজারগুলোতে উপহার কেনার জন্য লোকেদের ভিড় দেখা যায় আর প্রাচ্যের অন্যান্য শহরগুলোতেও এইরকমই হয়। সেখানে যানজট লেগেই থাকে। হোটেল, দোকান-বাজার, রেস্টুরেন্ট এবং নাইটক্লাবগুলো প্রচুর ক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে। সেখান থেকে হইচই—কান ফাটানো গানের আওয়াজ ভেসে আসে। বড়দিনের আগের সন্ধ্যায় মাতাল পুরুষ ও নারীদের আবর্জনায় ভরা রাস্তা দিয়ে টলতে টলতে হেঁটে বেড়াতে দেখা যায়।
এই হচ্ছে বড়দিনের আসল রূপ। প্রাচ্যে বড়দিনের ছুটি এখন শুধু খ্রীষ্টানদের জন্যই নয়। এটা পরিষ্কার যে অন্যান্য জায়গার মতো কোরিয়াতেও ব্যবসাদারেরা খ্রীষ্টানদের এই উৎসব থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়। তাহলে প্রশ্ন হল যে বড়দিনের সঙ্গে এই সমস্ত জাগতিক ব্যাপারগুলোকে মিশিয়ে দেওয়ার জন্য কি শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যই দায়ী যার সঙ্গে খ্রীষ্টের মনোভাবের কোন মিলই নেই? বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ আর সত্য খ্রীষ্টানদের এই সম্বন্ধে ভালভাবে জানা দরকার।
বড়দিনের শুরু
কোন বন্য পশুকে বন থেকে ধরে এনে চিড়িয়াখানায় খাঁচার মধ্যে রেখে দিলেই তার স্বভাব বদলে যায় না। তাকে কিছুদিন ধরে খাঁচায় রাখা হয়েছে এবং বাচ্চাদের সঙ্গে খেলা করতে দেখা গেছে বলে যদি মনে করা হয় যে সে পোষ মেনেছে, তবে তা হবে এক বিরাট ভুল। আপনি হয়তো শুনে থাকবেন যে কখনও কখনও পশুরা চিড়িয়াখানার কর্মীদের ওপর কিভাবে হামলা করে।
খ্রীষ্টীয়জগতের বড়দিন পালনের বিষয়েও একই কথা বলা যায়। প্রথমে এটা খ্রীষ্ট ধর্মের কোন অংশ ছিল না, ঠিক সেই ‘বন্য পশুর’ মতো যেটা প্রথমে বনে থাকত। দ্যা খ্রীষ্টান এনসাইক্লোপিডিয়া (কোরিয়া ভাষায়)a “রোমীয় স্যাটারনালিয়ার সঙ্গে সম্বন্ধ” উপশিরোনামে বড়দিন সম্পর্কে বলে:
“পৌত্তলিকদের স্যাটারনালিয়া এবং ব্রমালিয়া উৎসব এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যে খ্রীষ্টানেরা এগুলো থেকে আর নিজেদের আলাদা রাখতে পারেনি। কনস্টানটাইন যখন রবিবারকে (প্রত্যেক সপ্তাহে এই দিনে ন-খ্রীষ্টানেরা ফীবাস ও মিথ্রাসের উপাসনা করত আর খ্রীষ্টানেরা গির্জায় যেত) ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন . . . তখন চতুর্থ শতাব্দীর খ্রীষ্টানরা হয়তো ভেবেছিল যে সূর্যের জন্মদিনকেই ঈশ্বরের পুত্রের জন্মদিন হিসেবে পালন করা ঠিক হবে। উচ্ছৃঙ্খল আমোদপ্রমোদ ও হইচইপূর্ণ এই পৌত্তলিক উৎসব এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যে খ্রীষ্টানেরাও যখন এটা পালন করার জন্য একটা অজুহাত পেয়ে গিয়েছিল তখন তাদের খুশির সীমা ছিল না। তারা এটাকে একটু অদল-বদল করে নিয়ে, একটু অন্যরকমভাবে পালন করতে শুরু করে।”
আপনি কি মনে করেন যে কেউ এই ঘটনার প্রতিবাদ জানায়নি? ওই একই এনসাইক্লোপিডিয়া বলে: “ইউরোপের খ্রীষ্টানেরা এর প্রতিবাদ করে বলেছিল যে যেভাবে বড়দিন পালন করা হচ্ছে তা ঠিক নয় কারণ খ্রীষ্টের জন্মদিনকে পৌত্তলিক লোকেদের মতো করে পালন করা উচিত নয়। আর অন্যদিকে মেসোপটেমিয়ার খ্রীষ্টানেরা ইউরোপের খ্রীষ্টানদেরকে দোষ দিয়েছিল কারণ খ্রীষ্টান হয়েও তারা সূর্যের জন্মদিনকে মেনে নিয়েছিল যেটা ন-খ্রীষ্টীয়দের উৎসব ও যার সঙ্গে পৌত্তলিকতার সম্বন্ধ আছে।” তাই দেখা যায় যে শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করা হয়েছিল। এনসাইক্লোপিডিয়া বলে, “তবুও এই উৎসবকে ধীরে ধীরে মেনে নেওয়া হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত তা এক পাকাপোক্ত জায়গা করে নিয়েছিল যা এমনকি ষোড়শ শতাব্দীতে প্রটেস্টান্ট ধর্ম-সংস্কারও দূর করতে পারেনি।”
সত্যিই সূর্য-দেবের জন্মদিনের সঙ্গে সত্য খ্রীষ্ট ধর্মের কোন সম্বন্ধই ছিল না কিন্তু তবুও গির্জা এটাকে গ্রহণ করেছিল। তারা এর নাম বদলে দিলেও পৌত্তলিক রীতিনীতিগুলো ঠিকই রয়ে গিয়েছিল। এভাবে খ্রীষ্টান ধর্মে মিথ্যা পৌত্তলিক শিক্ষা ঢুকে পড়েছিল এবং লোকেরা বাইবেলের শিক্ষা থেকে দূরে সরে গিয়েছিল। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে খ্রীষ্টীয়জগতে যখন এই মিথ্যা শিক্ষা ঢুকে পড়ে তখন এটা “তোমার শত্রুকে ভালবাস” এই শিক্ষাকে ভুলে যেতে থাকে আর এর ফলে খ্রীষ্টানদের নৈতিক অধঃপতন ঘটে ও তারা হিংস্র যুদ্ধগুলো করে।
সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে খ্রীষ্টানেরা এই উৎসবকে বড়দিন নাম দিলেও তারা এটাকে পুরোপুরি পৌত্তলিকদের মতো করেই পালন করত। বড়দিনের সময় তারা হইচই করত, প্রচুর মদ খেত, আনন্দোৎসব করত, নাচ-গান করত, উপহার দেওয়া নেওয়া করত এবং সবুজ লতাপাতা দিয়ে ঘর সাজাতো। ব্যাবসায়ীরা মুনাফা লাভ করার জন্য অর্থাৎ বিক্রি আরও বাড়ানোর জন্য যে যেভাবে পেরেছে বড়দিনকে কাজে লাগিয়েছে। খবরের কাগজ, রেডিও, টেলিভিশন সবকিছুই বড়দিনের গুণগান করে আর এটা লোকেদের কাছে শুধুই আনন্দের দিন। শিওলের প্রধান ব্যাবসায়ী এলাকায় অর্ন্তবাসের একটা দোকানে, অর্ন্তবাস দিয়ে ক্রিসমাস ট্রি সাজিয়ে জানালার কাছে রেখে দেওয়া হয়েছিল বলে তা টেলিভিশনের খবরে এসেছিল। সেখানে বড়দিনের আমেজ দেখা গিয়েছিল ঠিকই কিন্তু যীশু খ্রীষ্টের জন্য লোকেদের মনে শ্রদ্ধার কোন চিহ্নই সেখানে ছিল না।
বড়দিন সম্বন্ধে বাইবেল যা বলে
বড়দিন সম্বন্ধে ইতিহাসের পাতা ও আজকে যা ঘটছে তার থেকে আমরা কী শিখতে পারি? শুরু থেকেই যদি একটা শার্ট অথবা ব্লাউজের বোতাম উলটো পালটা করে লাগানো হয়, তাহলে তা আবার ঠিক করে লাগানোর একমাত্র উপায় হল সবকটা বোতাম খুলে ফেলে প্রথম থেকে লাগানো। তাই নয় কি? যদিও এটাই ঠিক তবুও কেউ কেউ যুক্তি দেখান যে বড়দিন পৌত্তলিকদের সূর্য উপাসনা থেকে আসলেও খ্রীষ্টীয়জগৎ তো এটাকে মেনে নিয়েছে। তাই তারা মনে করেন যে এই ছুটির দিনটাকে খ্রীষ্টের জন্মদিন হিসেবে পবিত্র করা হয়েছে এবং এটাকে পালন করা অন্যায় কিছু নয়।
আমরা প্রাচীন যিহূদায় ঘটা এক ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে কিছু শিখতে পারি। সা.কা.পূ. ৬১২ সালে যিহূদার লোকেরা যিরূশালেম মন্দিরে মিথ্যা ধর্মের নকলে সূর্যের উপাসনা শুরু করেছিল। যিহোবা ঈশ্বরের বিশুদ্ধ উপাসনার জায়গায় ওই পৌত্তলিক উপাসনা করা হয়েছিল বলে কি সেই উৎসব পবিত্র হয়ে গিয়েছিল? বাইবেল লেখক যিহিষ্কেল লিখেছিলেন যে যিরূশালেমের মন্দিরে সূর্যের উপাসনা করা হতো: “দেখ, সদাপ্রভুর মন্দিরের প্রবেশ-স্থানে, বারাণ্ডার ও যজ্ঞবেদির মধ্যস্থানে, অনুমান পঁচিশ জন পুরুষ, তাহারা . . . পূর্ব্বদিকে মুখ ফিরাইয়া পূর্ব্বমুখে সূর্য্যের কাছে প্রণিপাত করিতেছে। তখন তিনি আমাকে বলিলেন, হে মনুষ্য-সন্তান তুমি কি ইহা দেখিলে? এখানে যিহূদা-কুল যে সকল ঘৃণার্হ কার্য্য করিতেছে, তাহাদের পক্ষে কি তাহা করা লঘু বিষয়? কারণ তাহারা দেশকে দৌরাত্ম্যে পরিপূর্ণ করিয়াছে; এবং আবার ফিরিয়া আমাকে বিরক্ত করিয়াছে; আর দেখ, তাহারা আপন আপন নাসিকায় পল্লব দিতেছে।”—যিহিষ্কেল ৮:১৬, ১৭.
হ্যাঁ, পবিত্র হওয়ার বদলে পৌত্তলিক উপাসনা পুরো মন্দিরকেই বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। এইধরনের উপাসনার রীতিনীতি সারা যিহূদায় ছড়িয়ে পড়েছিল আর ওই দেশের চারিদিকে হিংস্রতা এবং নৈতিক অধঃপতন দেখা গিয়েছিল। খ্রীষ্টীয় জগতের বেলায়ও একই বিষয় হয়েছে, সূর্য উপাসনায় যা যা করা হতো তা বড়দিনেও করতে দেখা যায়। যিহিষ্কেল ওই দর্শন পাওয়ার কয়েক বছর পরে যিরূশালেম ঈশ্বরের বিচার ভোগ করেছিল, যিরূশালেম বাবিলনীয়দের হাতে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।—২ বংশাবলি ৩৬:১৫-২০.
আগের প্রবন্ধে শিশু যীশু সম্বন্ধে কোরিয়ার সেই পণ্ডিত ব্যক্তির বর্ণনা শুনে আপনি হয়তো খুবই অবাক হবেন। কিন্তু এটা ঠিক যে, যে ব্যক্তি খ্রীষ্ট সম্বন্ধে কিছুই জানেন না তার জন্য সেই পণ্ডিত ব্যক্তির মতো মনে করাই স্বাভাবিক। এটা হয়তো যে লোকেরা বড়দিন পালন করে তাদেরকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলতে পারে। কেন? কারণ বড়দিন খ্রীষ্টকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারে না। এটা খ্রীষ্টের বর্তমান অবস্থা সম্বন্ধে লোকেদের অন্ধকারে রাখে। যীশু এখন আর জাবপাত্রে শোয়ানো শিশু নন।
বাইবেলে বার বার বলা হয়েছে যে এখন যীশু হলেন মশীহ অর্থাৎ ঈশ্বরের স্বর্গীয় রাজ্যের ক্ষমতাশালী রাজা। (প্রকাশিত বাক্য ১১:১৫) তিনি এখন দারিদ্র এবং দুঃখ-দুর্দশা শেষ করার জন্য তৈরি আর কিছু লোকেরা তো এইরকমই চান কারণ তারা বড়দিনের সময় আশ্রমগুলোতে দান করেন।
খোলাখুলিভাবে বলতে গেলে বলা যায় যে বড়দিন থেকে পশ্চিমের দেশ বা প্রচ্যের দেশগুলো কোনটার খ্রীষ্টানদেরই কোনরকম আধ্যাত্মিক উপকার হয়নি। বরং এটা সত্যি যে খ্রীষ্টানরা ঈশ্বরের রাজ্য এবং এই বর্তমান দুষ্ট বিধিব্যবস্থার শেষ সম্বন্ধে বাইবেলের বার্তা থেকে লোকেদেরকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। (মথি ২৪:১৪) আমরা আপনাকে যিহোবার সাক্ষিদের জিজ্ঞেস করতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি যে কীভাবে এই শেষ আসবে। তারা আপনাকে শেখাবেন যে কীভাবে ঈশ্বরের রাজ্য এবং শাসনরত রাজা যীশু খ্রীষ্ট পুরো পৃথিবীতে চিরকালের জন্য সুখ শান্তি নিয়ে আসবেন।—প্রকাশিত বাক্য ২১:৩, ৪.
[পাদটীকাগুলো]
a দ্যা নিউ স্কাফ-হারজগ্ এনসাইক্লোপিডিয়া অফ রিলিজিয়াস নলেজ এর ওপর ভিত্তি করে।
[৬ পৃষ্ঠার ব্লার্ব]
বড়দিন খ্রীষ্টান গির্জাগুলোতে পৌত্তলিকতা ঢুকিয়ে দিতে সাহায্য করেছিল
[৫ পৃষ্ঠার চিত্র]
অনেক ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা সেখানে কী দেওয়া হচ্ছে তা দেখার জন্য গির্জায় যেত আর সেখানে তাদের চকলেট দেওয়া হতো। আর এই ছেলেমেয়েরা পরের বড়দিনের জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষা করত
[৭ পৃষ্ঠার চিত্র]
কোরিয়ার শিওলে বড়দিনের আগের সন্ধ্যা
[৮ পৃষ্ঠার চিত্র]
খ্রীষ্ট এখন আর শিশু নন কিন্তু ঈশ্বরের রাজ্যের ক্ষমতাশালী রাজা