ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৯ ৪/১ পৃষ্ঠা ৩-৭
  • প্রাচীন প্রজ্ঞার পুস্তক থেকে বর্তমানের জন্য সন্দেশ

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • প্রাচীন প্রজ্ঞার পুস্তক থেকে বর্তমানের জন্য সন্দেশ
  • ১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • আপনি কি হতাশায় ভুগছেন?
  • আপনি কি ঘরোয়া সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন?
  • আপনি কি আপনার জীবন সার্থক করে তুলতে চান?
  • আপনি কি ব্যাগটা খুলবেন?
  • “ধন্য সেই ব্যক্তি যে প্রজ্ঞা পায়”
    ২০০১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • প্রকৃত প্রজ্ঞা উচ্চস্বরে ডাকে!
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২২
  • “যে প্রজ্ঞা উপর হইতে আইসে,” তা কি আপনার জীবনে সক্রিয়?
    যিহোবার নিকটবর্তী হোন
  • “আহা! ঈশ্বরের . . . প্রজ্ঞা . . . কেমন অগাধ!”
    যিহোবার নিকটবর্তী হোন
আরও দেখুন
১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৯ ৪/১ পৃষ্ঠা ৩-৭

প্রাচীন প্রজ্ঞার পুস্তক থেকে বর্তমানের জন্য সন্দেশ

“পদ্মরাগমণির [ব্যাগ ভর্তি মুক্তোর] মূল্য অপেক্ষাও [ব্যাগ ভর্তি] প্রজ্ঞার মূল্য অধিক,” প্রাচীন কূলপতি ইয়োব বলেছিলেন। তিনি তার সময়ের ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ছিলেন। (ইয়োব ১:৩; ২৮:১৮; ৪২:১২) প্রজ্ঞা সত্যিই ধন-দৌলতের চেয়ে অনেক বেশি দামি হয়ে ওঠে বিশেষ করে যখন তা একজন ব্যক্তিকে তার জীবন সার্থক করে তুলতে সাহায্য করে। জ্ঞানী রাজা শলোমন বলেছিলেন: “প্রজ্ঞা আশ্রয়, ধনও আশ্রয় বটে, কিন্তু জ্ঞানের উৎকৃষ্টতা এই যে, প্রজ্ঞা আপন অধিকারীর জীবন রক্ষা করে।”—উপদেশক ৭:১২.

কিন্তু আজকে এই প্রজ্ঞা কোথায় পাওয়া যেতে পারে? লোকেরা তাদের ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের জন্য পরামর্শ নিতে সাংবাদিক, মনোবিজ্ঞানী, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আর এমনকি নাপিত ও ট্যাক্সি চালকের কাছে পর্যন্ত যান। আর এমন বিশেষজ্ঞেরও কোন অভাব নেই যারা পয়সার বিনিময়ে যে কোন বিষয়ের ওপর পরামর্শ দেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে আছেন। কিন্তু এইরকম লোকেদের কাছ থেকে পাওয়া “প্রজ্ঞার” কথা সচরাচর লোকেদের হতাশই করেছে আর এমনকি বিপদে পর্যন্ত ফেলেছে। তাহলে আমরা সত্যিকারের প্রজ্ঞা কোথায় খুঁজে পেতে পারি?

যীশু খ্রীষ্ট মানুষের সমস্ত বিষয় খুব ভাল করে বুঝতেন আর তিনি একবার বলেছিলেন: “প্রজ্ঞা নিজ কর্ম্মসমূহ দ্বারা নির্দ্দোষ বলিয়া গণিত হয়।” (মথি ১১:১৯) আসুন আমরা লোকেদের রোজকার জীবনে আসা কিছু সাধারণ সমস্যার দিকে নজর দিই আর দেখি যে কোন্‌ প্রজ্ঞার কথা তাদের আসলেই সাহায্য করেছিল আর তাদের কাছে তা “ব্যাগ ভর্তি মুক্তোর” চেয়েও বেশি দামি প্রমাণিত হয়েছিল। আপনিও সেই ‘ব্যাগ ভর্তি প্রজ্ঞা’ খুঁজে পেয়ে তার থেকে উপকৃত হতে পারেন।

আপনি কি হতাশায় ভুগছেন?

লন্ডনের ইন্টারন্যাশনাল হেরাল্ড ট্রিবিউন বলে, “বিংশ শতাব্দী যদি দুশ্চিন্তার যুগ দিয়ে শুরু হয়ে থাকে, তাহলে বিদায় বেলায় এটা হতাশার যুগকে আরম্ভ করে দিয়ে যাচ্ছে।” এতে আরও বলা হয়েছে, “হতাশার কারণ সম্বন্ধে প্রথমবার করা আন্তর্জাতিক গবেষণা থেকে জানা যায় যে সারা পৃথিবী জুড়ে এই রোগ দিনে দিনে শুধু বেড়েই চলেছে। তাইওয়ান, লেবানন আর নিউজিল্যান্ডের মতো বিভিন্ন দেশগুলোতে সমস্ত নতুন প্রজন্মের হতাশায় ডুবে যাওয়ার বিপদ আরও বেড়ে চলেছে।” বলা হয় যে ১৯৫৫ সালের পর যাদের জন্ম হয়েছে, তারা তাদের দাদুদিদিমাদের চেয়ে তিন গুণ বেশি হতাশা ভোগ করবেন।

আর টমোর এইরকমই হয়েছিল যিনি এত বেশি হতাশায় ভুগতেন যে দিনের বেশিরভাগ সময়ই বিছানায় পড়ে থাকতেন। এজন্য তিনি তার দুবছরের ছেলের ঠিকমতো যত্নও নিতে পারছিলেন না, ফলে তিনি বাবামার ঘরে ফিরে যান। কিছু দিনের মধ্যেই, এক প্রতিবেশী টমোর সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন যার টমোর ছেলের বয়সীই একটা মেয়ে ছিল। টমো যখন তার প্রতিবেশীকে বলেন যে তিনি নিজেকে কতটা মূল্যহীন ভাবেন, তখন প্রতিবেশী তাকে একটা বই থেকে কিছু অংশ দেখান। সেখানে লেখা ছিল: “চক্ষু হস্তকে বলিতে পারে না, তোমাতে আমার প্রয়োজন নাই; আবার মাথাও পা দুখানিকে বলিতে পারে না, তোমাদিগেতে আমার প্রয়োজন নাই; বরং দেহের যে সকল অঙ্গকে অপেক্ষাকৃত দুর্ব্বল বলিয়া বোধ হয়, সেইগুলি অধিক প্রয়োজনীয়।”a টমো যখন বুঝতে পারেন যে পৃথিবীতে প্রত্যেকেরই নিজস্ব জায়গা আছে আর প্রত্যেকেরই দরকার আছে তখন তিনি তার চোখের জলকে ধরে রাখতে পারেননি।

প্রতিবেশী তাকে সেই বইটা পড়ার জন্য বলেন যেখানে এই বাক্যগুলো আছে। টমো মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলেছিলেন যদিও তখনও পর্যন্ত তার কোন কিছু করার এমনকি সাধারণ একটা কথা দেওয়ার ক্ষমতাও ছিল না। সেই প্রতিবেশী তাকে বাজারঘাট করতে সাহায্য করেছিলেন আর রোজ তারা একসঙ্গে রান্নাবান্নাও করতেন। এর এক মাস পরে টমো আর দশটা গৃহবধুর মতোই রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠতেন, কাপড় কাচতেন, ঘরবাড়ি পরিষ্কার করতেন, বাজার করতেন আর রান্নাও করতেন। তাকে অনেক বাধা পেরিয়ে আসতে হয়েছিল কিন্তু তিনি বলেন, “আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, প্রজ্ঞার যে বাক্যগুলো আমি খুঁজে পেয়েছি সেগুলো যদি আমি মেনে চলি, তাহলেই আমি ভাল হয়ে যাব।”

টমো যে প্রজ্ঞার খোঁজ পেয়েছিলেন তা কাজে লাগিয়ে তিনি তার হতাশার অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসেন। যে বাক্যগুলো টমোকে তার সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছিল সেই একই বাক্য যাতে অন্যেরাও কাজে লাগাতে পারেন তার জন্য সাহায্য করতে টমো এখন পূর্ণ-সময় কাজ করছেন। প্রজ্ঞার এই বাক্যগুলো এক প্রাচীন বইয়ে পাওয়া যায় যে বইটাতে আজকে সব লোকেদের জন্য এক সন্দেশ রয়েছে।

আপনি কি ঘরোয়া সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন?

সারা পৃথিবীতে বিবাহবিচ্ছেদের হার বেড়ে চলেছে। এমনকি এশিয়ার দেশগুলোতেও পারিবারিক সমস্যা বেড়ে চলেছে, যেখানে একসময় লোকেরা তাদের একতাবদ্ধ সুখী পরিবারের জন্য গর্ব করতেন। বিবাহিত জীবনে স্বামী স্ত্রীর জন্য প্রজ্ঞায় ভরা পরামর্শ আমরা কোথায় পেতে পারি?

শুগো ও মিহোকোর কথাই ধরুন। তাদের বিবাহিত জীবনে সমস্যার কোন শেষ ছিল না। তারা ছোটখাট প্রত্যেকটা ব্যাপার নিয়ে ঝগড়া করতেন। শুগো খুব তাড়াতাড়ি রেগে যেতেন আর মিহোকো একটা কথাও মাটিতে পড়তে দিতেন না যখন তার স্বামী তার কোন দোষ ধরতেন। মিহোকো এমনকি এটাও ভেবেছিলেন, ‘আমরা কোনদিনই কোন বিষয়ে একমত হতে পারব না।’

কিন্তু একদিন, একজন মহিলা মিহোকোর কাছে আসেন এবং একটা বই থেকে এই কথাগুলো পড়েন: “অতএব সর্ব্ববিষয়ে তোমরা যাহা যাহা ইচ্ছা কর যে, লোকে তোমাদের প্রতি করে, তোমরাও তাহাদের প্রতি সেইরূপ করিও।”b ধর্মের ব্যাপারে মিহোকোর কোন আগ্রহই ছিল না কিন্তু তবুও তিনি সেই বইটা অধ্যয়ন করার জন্য রাজি হন যেটাতে ওই কথাগুলো ছিল। তিনি তার পারিবারিক জীবনকে সুন্দর করে তুলতে চেয়েছিলেন। তাই যখন তাকে একটা সভায় আসার জন্য বলা হয় যেখানে আপনার পারিবারিক জীবন সুখী করা বইটা থেকে আলোচনা করা হবে তখন সেখানে যাওয়ার জন্য মিহোকো ও তার স্বামী দুজনেই সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যান।c

সভায় গিয়ে শুগো দেখেন যে যারা সেখানে এসেছেন তারা সবাই যা শিখছেন তা কাজে লাগাচ্ছেন আর তাই তাদেরকে হাসিখুশি দেখাচ্ছে। ফলে তিনিও সেই বইটা পড়বেন বলে ঠিক করেন যেটা থেকে তার স্ত্রী অধ্যয়ন করছিলেন। হঠাৎই সেই বইয়ের একটা উক্তি তার মনে লাগে: “যে ক্রোধে ধীর, সে বড় বুদ্ধিমান; কিন্তু আশুক্রোধী অজ্ঞানতা তুলিয়া ধরে।”d যদিও এই নীতিটা জীবনে কাজে লাগাতে তার বেশ সময় লেগেছিল কিন্তু ধীরে ধীরে তার জীবনে যে পরিবর্তন আসে তা তার স্ত্রী ও আশেপাশের সবাই দেখতে পান।

স্বামীকে বদলে যেতে দেখে মিহোকোও যা শিখছিলেন তা কাজে লাগাতে শুরু করেন। বিশেষ করে যে নীতিটা তাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে তা ছিল: “তোমরা বিচার করিও না, যেন বিচারিত না হও। কেননা যেরূপ বিচারে তোমরা বিচার কর, সেইরূপ বিচারে তোমরাও বিচারিত হইবে।”e তাই মিহোকো ও তার স্বামী ঠিক করেন যে তারা একে অন্যের দোষ না খুঁজে বরং তাদের ভাল দিকগুলো আর সেইসঙ্গে কীভাবে নিজেদের শুধরানো যায় তা নিয়ে কথা বলবেন। এর ফল কী হয়? মিহোকো বলেন: “এটা আমাকে সত্যিকারের সুখী করে। আমরা প্রতিদিন রাতে খাবার সময় তা করতাম। এমনকি আমাদের তিন বছরের ছেলেও আমাদের সঙ্গে এই আলোচনায় যোগ দেয়। এটা সত্যিই আমাদের সম্পর্ককে তরতাজা করে তোলে!”

এই পরিবার যখন ভাল পরামর্শগুলো কাজে লাগাতে শুরু করে, তখন থেকে তারা তাদের সেই সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে পেরেছে যেগুলো তাদের সম্পর্ককে এতখানি তিক্ত করে তুলেছিল। এই পরামর্শগুলো কি তাদের কাছে ব্যাগ ভর্তি মুক্তোর চেয়েও বেশি দামি প্রমাণিত হয়নি?

আপনি কি আপনার জীবন সার্থক করে তুলতে চান?

আজ অনেকেরই জীবনের লক্ষ্য হল প্রচুর ধনসম্পদের মালিক হওয়া। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের একজন ধনী ব্যাবসায়ী যিনি একটা আশ্রমে কোটি কোটি ডলার দান করেছিলেন তার কথাগুলো শুনুন: “কিছু লোকেরা টাকাপয়সার মোহে একেবারে ডুবে থাকেন কিন্তু কেউই দুজোড়া জুতো একসঙ্গে পড়তে পারেন না।” খুব কম লোকই এই সত্যকে স্বীকার করেন আর তার চেয়েও কম লোকেরা ধনসম্পদের পেছনে ছোটা বন্ধ করেন।

হিটোশি গরিব পরিবারে মানুষ হয়েছিলেন, তাই তার বড়লোক হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। যখন তিনি দেখেছিলেন যে মহাজনেরা কীভাবে নিজেদের স্বার্থের জন্য লোকেদের ব্যবহার করেন, তখন তিনি এই সিদ্ধান্তে আসেন: “যার কাছে সবচেয়ে বেশি টাকাপয়সা আছে, জয় তারই।” টাকার ক্ষমতার ওপর হিটোশির এত বেশি ভরসা ছিল যে তিনি ভাবতেন টাকা দিয়ে মানুষের জীবন পর্যন্ত কেনা যেতে পারে। বড়লোক হওয়ার জন্য তিনি সারা বছর তার ব্যাবসায় অত্যধিক খাটাখাটনি করতেন আর একটা দিনের জন্যও ছুটি নিতেন না। রাত দিন এক করে খাটার পর হিটোশি শীঘ্রিই বুঝতে পারেন যে একজন ছোট ঠিকাদার হিসেবে তিনি কখনই সেই বড় ঠিকাদারদের মতো হতে পারবেন না যারা তাকে কাজ দিতেন। প্রতিদিন তিনি হতাশায় ভুগতেন আর দেউলিয়া হওয়ার ভয় তাকে পেয়ে বসত।

তারপর একদিন হিটোশির ঘরে একজন লোক আসেন ও তাকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কি জানেন যে যীশু খ্রীষ্ট আপনার জন্য তাঁর নিজের জীবন দিয়েছেন? হিটোশি মনে করতেন যে তার মতো একজন লোকের জন্য কেউ কখনই জীবন দেবেন না তাই তিনি এই কথায় কৌতূহলী হন এবং আলোচনা করতে রাজি হন। পরের সপ্তায় তিনি সভাতে যান আর সেখানে এক বক্তৃতায় ‘চোখ সরল রাখুন’ এই বিষয়ে কিছু পরামর্শ শুনে অবাক হয়ে যান। বক্তা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে “সরল” চোখ ভবিষ্যৎকে দেখতে পায় এবং আধ্যাত্মিক বিষয়গুলোর দিকে নজর দেয়; অন্যদিকে “মন্দ” কিংবা “হিংসুটে” চোখ মাংসিক কামনাগুলোকে মেটানোর দিকে নজর দেয় আর তা ভবিষ্যৎকে দেখতে পায় না। যে উপদেশটা তার মনে গভীর দাগ কেটেছিল তা ছিল, “যেখানে তোমার ধন, সেইখানে তোমার মনও থাকিবে।”f ধনসম্পদ করাই জীবনে সবকিছু নয়! তিনি আগে কখনও এইরকম কথা শোনেননি।

এই কথাগুলো তার মনে এতটাই দাগ কেটেছিল যে তিনি যা শিখছিলেন তা জীবনে কাজে লাগাতে শুরু করেন। টাকাপয়সার জন্য খুব বেশি না খেটে তিনি তার জীবনে আধ্যাত্মিক বিষয়গুলোকে প্রথমে রাখতে আরম্ভ করেন। সেইসঙ্গে তিনি তার পরিবারের আধ্যাত্মিক চাহিদাগুলো পূরণ করার জন্যও সময় দেন। এটা ঠিক যে এর ফলে তিনি ব্যাবসার জন্য আর বেশি সময় দিতে পারতেন না কিন্তু তবুও তখন তার ব্যাবসা ভালর দিকে মোড় নেয়। কী করে?

তিনি প্রথমে খুবই গরম মেজাজের লোক ছিলেন কিন্তু তাকে দেওয়া উপদেশ মেনে চলায় তিনি শান্ত ও বন্ধুভাবাপন্ন হয়ে ওঠেন। তার ওপর বিশেষ করে এই উপদেশটার প্রভাব পড়েছিল: “তোমরাও এ সকল ত্যাগ কর,—ক্রোধ, রাগ, হিংসা, নিন্দা ও তোমাদের মুখনির্গত কুৎসিত আলাপ। এক জন অন্য জনের কাছে মিথ্যা কথা কহিও না; কেননা তোমরা পুরাতন মনুষ্যকে তাহার ক্রিয়াশুদ্ধ বস্ত্রবৎ ত্যাগ করিয়াছ, এবং সেই নূতন মনুষ্যকে পরিধান করিয়াছ, যে আপন সৃষ্টিকর্ত্তার প্রতিমূর্ত্তি অনুসারে তত্ত্বজ্ঞানের নিমিত্ত নূতনীকৃত হইতেছে।”g এই পরামর্শ মেনে চলায় তিনি বড়লোক হননি ঠিকই কিন্তু তার ‘নূতন মনুষ্য’ খরিদ্দারদের মনে ছাপ ফেলে আর এর ফলে তিনি তাদের বিশ্বাস ও আস্থা জয় করেন। হ্যাঁ, তিনি যে প্রজ্ঞার কথাগুলো খুঁজে পেয়েছিলেন তা তার জীবনকে সার্থক করে তুলতে সাহায্য করেছিল। তার কাছে প্রজ্ঞার এই কথাগুলো সত্যিসত্যি ব্যাগ ভর্তি মুক্তো কিংবা টাকাপয়সার চেয়ে আরও অনেক বেশি দামি প্রমাণিত হয়।

আপনি কি ব্যাগটা খুলবেন?

আপনি কি এই ব্যাগ ভর্তি প্রজ্ঞাকে চিনতে পারেন যা ওপরের ব্যক্তিদের কাছে খুবই দামি প্রমাণিত হয়েছে? এটা হল সেই প্রজ্ঞা যা বাইবেলে পাওয়া যায় আর বাইবেল হচ্ছে সেই বই যা সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি লোকেদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে আর সহজেই পাওয়া যায়। আপনার কাছেও হয়ত একটা বাইবেল আছে বা আপনি খুব সহজেই একটা যোগাড় করতে পারেন। কিন্তু একজনের কাছে যদি এক ব্যাগ মুক্তো থাকে আর তিনি যদি সেগুলো কোন কাজে না লাগান, তাহলে সেগুলো থাকার যেমন কোন মানে হয় না, ঠিক তেমনই কারও কাছে বাইবেল থাকলেই সেটা তার কোন উপকারে আসে না। তাই বাইবেল খুলুন আর এর মধ্যে যে প্রজ্ঞার পরামর্শ ও সময়োপযোগী উপদেশ রয়েছে সেগুলো কাজে লাগান আর দেখুন যে কীভাবে এগুলো আপনার জীবনের সমস্যাগুলোকে সফলভাবে সামলাতে সাহায্য করে।

আপনাকে যদি কখনও এক ব্যাগ মুক্তো দেওয়া হয়, তাহলে আপনি কি কৃতজ্ঞ হবেন না আর আপনার শুভাকাঙ্ক্ষীকে খুঁজে বের করতে চেষ্টা করবেন না যাতে তাকে ধন্যবাদ দিতে পারেন? আপনি কি জানেন যে কে আমাদের বাইবেল দিয়েছেন?

বাইবেল বলে যে এতে পাওয়া প্রজ্ঞা কার কাছ থেকে এসেছে। এটা বলে: “ঈশ্বর-নিশ্বসিত প্রত্যেক শাস্ত্রলিপি . . . উপকারী।” (২ তীমথিয় ৩:১৬) বাইবেল আমাদের এও বলে যে, “ঈশ্বরের বাক্য জীবন্ত ও কার্য্যসাধক।” (ইব্রীয় ৪:১২) আর এজন্যই বাইবেলে যে প্রজ্ঞার কথা আছে তা আজকে আমাদের জন্য সময়োপযোগী এবং কার্যকারী। এই উদার দাতা, যিহোবা ঈশ্বর সম্বন্ধে জানার জন্য আপনাকে সাহায্য করতে যিহোবার সাক্ষীরা আনন্দিত হবেন যাতে বাইবেলে যে ‘ব্যাগ ভর্তি প্রজ্ঞা’ আছে তার থেকে উপকার পাওয়ার সুযোগ আপনি পান—যেটা প্রাচীন প্রজ্ঞার বই, যেখানে বর্তমানের লোকেদের জন্য সন্দেশ রয়েছে।

[পাদটীকাগুলো]

a উদ্ধৃত অংশটা ১ করিন্থীয় ১২:২১, ২২ পদ থেকে নেওয়া হয়েছে।

b মথি ৭:১২.

c ওয়াচটাওয়ার বাইবেল অ্যান্ড ট্র্যাক্ট সোসাইটি দ্বারা প্রকাশিত।

d হিতোপদেশ ১৪:২৯.

e মথি ৭:১, ২.

f মথি ৬:২১-২৩; পাদটীকা, NW.

g কলসীয় ৩:৮-১০.

[৪ পৃষ্ঠার বাক্স//চিত্র]

মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য প্রজ্ঞার বাক্য

“হে সদাপ্রভু, তুমি যদি অপরাধ সকল ধর, তবে, হে প্রভু, কে দাঁড়াইতে পারিবে? কিন্তু তোমার কাছে ক্ষমা আছে, যেন লোকে তোমাকে ভয় করে।”—গীতসংহিতা ১৩০:৩, ৪.

“আনন্দিত মন মুখকে প্রফুল্ল করে, কিন্তু মনের ব্যথায় আত্মা ভগ্ন হয়।”—হিতোপদেশ ১৫:১৩.

“অতি ধার্ম্মিক হইও না, ও আপনাকে অতিশয় জ্ঞানবান দেখাইও না; কেন আপনাকে নষ্ট করিবে?”—উপদেশক ৭:১৬.

“গ্রহণ করা অপেক্ষা বরং দান করা ধন্য হইবার বিষয়।”—প্রেরিত ২০:৩৫.

“ক্রুদ্ধ হইলে পাপ করিও না; সূর্য্য অস্ত না যাইতে যাইতে তোমাদের কোপাবেশ শান্ত হউক।”—ইফিষীয় ৪:২৬.

[৫ পৃষ্ঠার বাক্স//চিত্র]

সুখী পারিবারিক জীবনের জন্য প্রজ্ঞার বাক্য

“মন্ত্রণার অভাবে সঙ্কল্প সকল ব্যর্থ হয়; কিন্তু মন্ত্রিরাহুল্যে সে সকল সুস্থির হয়।”—হিতোপদেশ ১৫:২২.

“বুদ্ধিমানের চিত্ত জ্ঞান উপার্জ্জন করে, এবং জ্ঞানবানদের কর্ণ জ্ঞানের সন্ধান করে।”—হিতোপদেশ ১৮:১৫.

“উপযুক্ত সময়ে কথিত বাক্য রৌপ্যের ডালিতে সুবর্ণ নাগরঙ্গ ফলের তুল্য।”—হিতোপদেশ ২৫:১১.

“পরস্পর সহনশীল হও, এবং যদি কাহাকেও দোষ দিবার কারণ থাকে, তবে পরস্পর ক্ষমা কর; প্রভু যেমন তোমাদিগকে ক্ষমা করিয়াছেন, তোমরাও তেমনি কর। আর এই সকলের উপরে প্রেম পরিধান কর; তাহাই সিদ্ধির যোগবন্ধন।”—কলসীয় ৩:১৩, ১৪.

“হে আমার প্রিয় ভ্রাতৃগণ, তোমরা ইহা জ্ঞাত আছ। কিন্তু তোমাদের প্রত্যেক জন শ্রবণে সত্বর, কথনে ধীর, ক্রোধে ধীর হউক।”—যাকোব ১:১৯.

[৬ পৃষ্ঠার বাক্স//চিত্র]

জীবনকে সার্থক করে তোলার জন্য প্রজ্ঞার বাক্য

“ছলনার নিক্তি সদাপ্রভুর ঘৃণিত; কিন্তু ন্যায্য বাট্‌খারা তাঁহার তুষ্টিকর।”—হিতোপদেশ ১১:১.

“বিনাশের পূর্ব্বে অহঙ্কার, পতনের পূর্ব্বে মনের গর্ব্ব।”—হিতোপদেশ ১৬:১৮.

“যে আপন আত্মা দমন না করে, সে এমন নগরের তুল্য, যাহা ভাঙ্গিয়া গিয়াছে, যাহার প্রাচীর নাই।”—হিতোপদেশ ২৫:২৮.

“তোমার আত্মাকে সত্বর বিরক্ত হইতে দিও না, কেননা হীনবুদ্ধি লোকদেরই বক্ষঃ বিরক্তির আশ্রয়।”—উপদেশক ৭:৯.

“তুমি জলের উপরে আপন ভক্ষ্য ছড়াইয়া দেও, কেননা অনেক দিনের পরে তাহা পাইবে।”—উপদেশক ১১:১.

“তোমাদের মুখ হইতে কোন প্রকার কদালাপ বাহির না হউক, কিন্তু প্রয়োজনমতে গাঁথিয়া তুলিবার জন্য সদালাপ বাহির হউক, যেন যাহারা শুনে তাহাদিগকে অনুগ্রহ দান করা হয়।”—ইফিষীয় ৪:২৯.

[৭ পৃষ্ঠার চিত্র]

‘ব্যাগ ভর্তি প্রজ্ঞা’ থেকে উপকার পাওয়ার জন্য প্রথম পদক্ষেপ হল বাইবেল অধ্যয়ন করা

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার