ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৯ ৩/১ পৃষ্ঠা ২৪-২৯
  • সাম্যবাদী নিষেধাজ্ঞার মাঝে ৪০ বছরেরও বেশি

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • সাম্যবাদী নিষেধাজ্ঞার মাঝে ৪০ বছরেরও বেশি
  • ১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • বাইবেল থেকে সত্য জানা
  • আমার শিক্ষাকে কাজে লাগানো
  • হঠাৎই আমার প্রথম পরীক্ষা শুরু হয়েছিল
  • জেল ও দেশ থেকে বিতাড়িত হওয়া
  • জেলে বাইবেলের জ্ঞান নিয়ে চলা
  • আবার আমার পরিবারের সঙ্গে
  • শিবিরে ভাইদের সঙ্গে যোগাযোগ
  • নতুন ঘর আর দুঃখের ওপর দুঃখ
  • আমার পরিবার বিদেশে যায়
  • ধৈর্য ধরার আশীর্বাদ
  • সাইবেরিয়ায় নির্বাসন!
    ১৯৯৯ সচেতন থাক!
  • পরীক্ষার মধ্যে ধৈর্য বজায় রাখা আশীর্বাদ নিয়ে আসে
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০১৭
  • ৫০ বছরেরও অধিক সময় ধরে ‘পার হওয়া’
    ১৯৯৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৯ ৩/১ পৃষ্ঠা ২৪-২৯

সাম্যবাদী নিষেধাজ্ঞার মাঝে ৪০ বছরেরও বেশি

মীখায়েল ভাসিলিভিচ সাভিট্‌স্কি দ্বারা কথিত

১৯৫৬ সালের ১লা এপ্রিলের প্রহরীদুর্গ (ইংরাজি) রিপোর্ট করেছিল যে “অনেক” যিহোবার সাক্ষীকে ১৯৫১ সালের এপ্রিল ১, ৭ এবং ৮ তারিখে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর প্রহরীদুর্গ বলেছিল, ‘রাশিয়ার যিহোবার সাক্ষীরা এই তারিখগুলো ভুলতে পারেন না। এই তিনদিনে পশ্চিম ইউক্রেন, হোয়াইট রাশিয়া [বেলারুস], বেসারাবিয়া, মলডাভিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়েনিয়া এবং এস্টোনিয়াতে যত যিহোবার সাক্ষীকে পাওয়া গিয়েছিল তাদের সবাইকে গরুর গাড়িতে করে রেল স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আর সেখান থেকে গবাদি পশুদের যে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয় তাতে ওঠানো হয়েছিল ও দূরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পুরুষ ও স্ত্রী মিলিয়ে প্রায় সাত হাজারেরও বেশি সাক্ষী সেখানে ছিলেন।’

উনিশশো একান্ন সালের ৮ই এপ্রিল ইউক্রেনের তিরনোপোল শহর ও তার আশপাশের এলাকা থেকে অন্য সাক্ষীদের সঙ্গে আমার স্ত্রী, আট মাসের ছেলে, আমার বাবামা আর ছোট ভাইকে ঘর থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই গাড়িতে করে প্রায় দু-সপ্তা ঘোরার পর শেষে তারা বৈকাল হ্রদের পশ্চিমদিকে সাইবেরিয় টেগাতে (সুমেরু অঞ্চলের দক্ষিণদিকের জঙ্গলে) এনে তাদের নামিয়ে দিয়েছিল।

এই দলের মধ্যে আমি ছিলাম না কেন? সেই সময় আমি কোথায় ছিলাম আর পরে আমাদের কী হয়েছিল তা বলার আগে আমি আপনাদের বলি যে কী করে আমি যিহোবার একজন সাক্ষী হয়েছি।

বাইবেল থেকে সত্য জানা

আমরা তিরনোপোল থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরের ছোট্ট গ্রাম স্লাভিয়াটিনে থাকতাম। আর ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, আমার বয়স যখন মাত্র ১৫ বছর সেই সময় আমাদের ঘরে দুজন যিহোবার সাক্ষী এসেছিলেন। তাদের একজনের নাম ছিল মারিয়া। মা আর আমি মন দিয়ে তাদের কথা শুনেছিলাম আর আমি তখনই বুঝতে পেরেছিলাম যে এটা অন্য ধর্মগুলো থেকে আলাদা ছিল। তারা তাদের বিশ্বাস পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন আর বাইবেল থেকে আমরা যে প্রশ্নই করেছিলাম তার স্পষ্ট উত্তর দিয়েছিলেন।

আমি বিশ্বাস করতাম যে বাইবেল ঈশ্বরের বাক্য কিন্তু গির্জা আমাকে হতাশ করেছিল। দাদু প্রায়ই বলতেন: “পাদ্রিরা লোকদেরকে নরকের আগুনে যন্ত্রণার কথা বলে ভয় দেখায় কিন্তু তারা নিজেরা ভয় পায় না। তারা গরিবদের লুট করে আর তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে।” আমার মনে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় আমাদের গ্রামের পোলিশ লোকেদের ওপর কেমন নৃশংসতা করা হয়েছিল, তাদের ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দুঃখের বিষয় ছিল যে এই সবের পেছনে গ্রিক ক্যাথলিক পাদ্রিদেরই হাত ছিল। আমি দেখেছিলাম যে অনেক অনেক লোকেরা মরে পড়ে রয়েছে আর এইরকম নিষ্ঠুর কাজের পেছনে কারণটা কী তা জানার জন্য আমি অধীর হয়ে ছিলাম।

আমি যখন সাক্ষীদের সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়ন করতে লাগি, আমি অনেক কিছু বুঝতে শুরু করি। আমি বাইবেলের মৌলিক সত্যগুলো জেনেছিলাম, আমি শিখেছিলাম যে নরক বলে কোন জায়গাই আসলে নেই আর শয়তান দিয়াবল যুদ্ধ ও হত্যা করার জন্য মিথ্যা ধর্মকে ব্যবহার করে। সময় পেলেই আমি একা একা বসে অধ্যয়ন করতাম আর মাঝে মাঝেই থেমে গিয়ে আমি যা শিখছিলাম তার জন্য যিহোবাকে অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাতাম। বাইবেলের এই সত্যগুলো আমি আমার ছোট ভাই স্তাখকে বলতে শুরু করি আর আমি ভীষণ খুশি হই যখন সে এগুলো মেনে নিতে শুরু করে।

আমার শিক্ষাকে কাজে লাগানো

আমি বুঝতে পারি যে আমাকে আমার জীবনে কিছু পরিবর্তন করতে হবে আর সঙ্গে সঙ্গে আমি সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিই। আমি এও বুঝি যে আমার সভায় যাওয়া দরকার যেখানে সকলে মিলে বাইবেল অধ্যয়ন করে। তাই আমি সভাগুলোতে যেতে শুরু করি যেগুলো গোপনে হতো আর সেখানে পৌঁছানোর জন্য আমাকে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে যেতে হতো। কখনও কখনও শুধু কিছু বোনেরাই সভাতে আসতেন আর আমি তখনও পর্যন্ত বাপ্তিস্ম না নিলেও আমাকে সভা চালাতে বলা হতো।

বাইবেল সাহিত্যাদি সঙ্গে রাখা মানা ছিল আর ধরা পড়লে ২৫ বছর পর্যন্ত জেল হতো। কিন্তু আমি চেয়েছিলাম যে আমার নিজের একটা লাইব্রেরি থাকুক। আমাদের এক প্রতিবেশী যিহোবার সাক্ষীদের সঙ্গে অধ্যয়ন করছিলেন কিন্তু ভয়ে তিনি অধ্যয়ন ছেড়ে দেন আর সাহিত্যগুলো বাগানে পুঁতে রাখেন। তিনি যখন তার সব বই-পত্র মাটির তলা থেকে বের করেছিলেন ও আমাকে দিতে রাজি হয়েছিলেন তখন আমি যে যিহোবাকে কত ধন্যবাদই দিয়েছিলাম তার ঠিক নেই! আমি সেগুলোকে বাবার মৌচাকে লুকিয়ে রেখেছিলাম যেখানে ভুলেও কেউ কিছু খুঁজতে যাবে না।

১৯৪৯ সালের জুলাই মাসে, আমি যিহোবার কাছে আমার জীবন উৎসর্গ করেছিলাম ও বাপ্তিস্ম নিয়ে লোকেদের সামনে তা দেখিয়েছিলাম। আমার জীবনে এই দিনটা ছিল সবচেয়ে সুখের। যে সাক্ষী আমাকে লুকিয়ে লুকিয়ে বাপ্তিস্ম দিয়েছিলেন তিনি আমাকে স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে সত্য খ্রীষ্টান হওয়া সহজ নয় আর সামনে অনেক পরীক্ষা আসবে। আর শীঘ্রিই আমি জানতে পেরেছিলাম যে তার কথাগুলো কতই না সত্যি ছিল! তবুও, এক বাপ্তাইজিত সাক্ষী হিসাবে আমার নতুন জীবনের শুরু খুশিতে ভরা ছিল। বাপ্তিস্ম নেওয়ার দুমাস পর আমি মারিয়াকে বিয়ে করি, যে আমাকে আর মাকে সত্য জানিয়েছিল।

হঠাৎই আমার প্রথম পরীক্ষা শুরু হয়েছিল

১৯৫০ সালের ১৬ই এপ্রিল আমি পোডগাইটসি নামের ছোট্ট শহরটা থেকে বাড়ি ফিরছিলাম হঠাৎই আমি কিছু সৈন্যের সামনে পড়ি আর তারা আমার কাছে বাইবেলের কিছু সাহিত্যাদি পায় যেগুলো আমি আমাদের অধ্যয়ন দলের জন্য নিয়ে যাচ্ছিলাম। তারা আমাকে গ্রেপ্তার করে। জেলে প্রথম কয়েকদিন আমাকে বেত দিয়ে খুব মারা হয়েছিল, আমাকে খেতে দেওয়া হয়নি, ঘুমাতে দেওয়া হয়নি। আমাকে মাথার ওপর হাত দিয়ে একশোবার উঠ-বস করতে বলা হয়েছিল কিন্তু আমি তা শেষ করতে পারিনি। এরপর আমাকে ২৪ ঘন্টার জন্য মাটির নিচের ঠাণ্ডা, ভিজে ঘরে বন্ধ করে রাখা হয়।

আমার সঙ্গে এত খারাপ ব্যবহার করার পেছনে উদ্দেশ্য ছিল আমাকে কমজোরি করে দেওয়া যাতে আমার কাছ থেকে সহজেই খবর বের করা যায়। তারা জোর গলায় জিজ্ঞাসা করেছিল, “তুমি কোথা থেকে এই বইগুলো পেয়েছ আর কোথায়ই বা নিয়ে যাচ্ছিলে?” আমি উত্তর দিইনি। তারপর তারা আমার সামনে সেই আইনের কিছু অংশ পড়ে যা না মানায় তারা আমার বিরুদ্ধে মামলা করবে। এই আইনে বলা হয়েছিল রুশ সরকার নিষিদ্ধ করেছে এমন কোন সাহিত্য রাখা বা বিতরণ করার শাস্তি হয় মৃত্যু নতুবা ২৫ বছরের জেল।

তারা জিজ্ঞাসা করেছিল, “তুমি কোন্‌ শাস্তি চাও?”

আমি বলেছিলাম, “কোনটাই না কিন্তু যদি যিহোবার ইচ্ছা হয়, আমি সবকিছুর জন্যই তৈরি আছি কিন্তু তাঁর ওপর আমার আস্থা আছে যে তিনি আমাকে সাহায্য করবেন।”

আমাকে অবাক করে দিয়ে সাতদিন পরে তারা আমাকে ছেড়ে দিয়েছিল। আমার এই অভিজ্ঞতা থেকে আমি বুঝেছিলাম যে যিহোবার এই প্রতিজ্ঞা কত সত্যি: “আমি কোন ক্রমে তোমাকে ছাড়িব না, ও কোন ক্রমে তোমাকে ত্যাগ করিব না।”—ইব্রীয় ১৩:৫.

ঘরে ফিরে আসার পর, আমি খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ি কিন্তু বাবা আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান আর আমি তাড়াতাড়িই সুস্থ হয়ে উঠি। বাবা যদিও পরিবারের বাকি সদস্যদের মতো যিহোবার সাক্ষী ছিলেন না কিন্তু তিনি কখনও আমাদের বিরোধিতা করেননি।

জেল ও দেশ থেকে বিতাড়িত হওয়া

কয়েক মাস পরে, আমাকে সোভিয়েত সেনাবাহিনীতে কাজ করার জন্য জোর করা হয়। আমি বুঝিয়েছিলাম যে আমি এতে যোগ দিতে পারব না কারণ এটা আমার বিবেক বিরুদ্ধ কাজ। (যিশাইয় ২:৪) যাইহোক, ১৯৫১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আমাকে চার বছরের জেল দিয়ে তিরনাপোলের একটা জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে আমাকে ১২০ কিলোমিটার দূরে বড় শহর লেভেফে পাঠানো হয়েছিল। জেলে থাকার সময় আমি জানতে পেরেছিলাম যে অনেক সাক্ষীকে দেশ থেকে বের করে দিয়ে সাইবেরিয়াতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

১৯৫১ সালের গ্রীষ্মকালে, আমাদের একটা দলকে সাইবেরিয়া থেকেও দূরে পূর্ব দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমরা এক মাস ধরে যাত্রা করে প্রায় ১১,০০০ কিলোমিটার পথ পার করেছিলাম আর এর মধ্যে আমরা প্রায় ১১টা টাইম জোন পার হয়েছিলাম! একটানা দুসপ্তারও বেশি সময় ট্রেনে কাটানোর পরই মাত্র একবার আমাদেরকে একটা জায়গায় থামানো হয় যেখানে জনসাধারণের একটা বড় স্নানের ঘরে আমরা স্নান করার অনুমতি পেয়েছিলাম। সেটা ছিল সাইবেরিয়ার নোভোসিবির্স্ক শহরে।

সেখানে কয়েদিদের বড় ভীড়ের মধ্যে আমি একজনের কণ্ঠস্বর শুনতে পাই যিনি জোরে জোরে বলছিলেন: “এখানে যিহোনাদব পরিবারের কারা কারা আছে?” সেই সময় “যিহোনাদব” শব্দটা সেই ব্যক্তিদের বোঝানোর জন্য ব্যবহার করা হতো যাদের পৃথিবীতে অনন্ত জীবনের আশা ছিল। (২ রাজাবলি ১০:১৫-১৭; গীতসংহিতা ৩৭:১১, ২৯) কিছু কয়েদি তখনই নিজেদেরকে সাক্ষী বলে চিহ্নিত করেছিলেন। আর আমরা কী আনন্দেই না একে অন্যকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম!

জেলে বাইবেলের জ্ঞান নিয়ে চলা

নোভোসিবির্স্কে থাকার সময় আমরা একটা সংকেত ঠিক করেছিলাম যাতে করে আমরা আমাদের গন্তব্যে পৌঁছে একে অন্যকে চিনতে পারি। আমাদের সবাইকে একই ক্যাম্পে বন্দি করে রাখা হয়েছিল যেটা ভ্লাডিভোস্‌টক থেকে একটু দূরে জাপান সমুদ্রের তীরবর্তী এলাকা ছিল। সেখানে আমরা বাইবেল অধ্যয়নের জন্য নিয়মিত সভার ব্যবস্থা করেছিলাম। আমাদের মধ্যে কিছু আধ্যাত্মিকভাবে পরিপক্ব এবং বয়স্ক ভাইরা ছিলেন যাদের অনেক দিনের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল আর তাদের সঙ্গে থেকে আমিও আধ্যাত্মিকভাবে শক্তিশালী হয়েছিলাম। তাদের প্রত্যেকে পালা পালা করে সভাগুলো নিতেন আর বাইবেলের পদ ও প্রহরীদুর্গ পত্রিকা থেকে যে বিষয়গুলো তাদের মনে ছিল সেগুলো দিয়ে সভা চালাতেন।

প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হতো আর ভাইরা উত্তর দিতেন। আমরা অনেকে কাগজের তৈরি সিমেন্টের খালি বস্তাগুলো থেকে ছোট ছোট করে কাগজ কেটে তাতে মন্ত্যবগুলো লিখে রাখতাম। আমরা সেই নোটগুলো যত্ন করে এক জায়গায় রাখতাম আর পরে দরকার হলে ব্যবহার করার জন্য সেগুলো আমাদের ব্যক্তিগত লাইব্রেরি হয়ে উঠেছিল। কয়েক মাস পর, যাদের অনেক দিনের শাস্তি ছিল তাদেরকে সাইবেরিয়ার একেবারে উত্তরের শিবিরগুলোতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের তিনজন কমবয়সী ভাইকে নাখোদকাতে পাঠানো হয়েছিল যেটা জাপান থেকে ৬৫০ কিলোমিটারের দূরে ছিল। আমি সেখানে দুবছর জেলে ছিলাম।

কখনও কখনও আমরা প্রহরীদুর্গ পেতাম। আর এটাই কয়েক মাসের জন্য আমাদের আধ্যাত্মিক খাদ্য হতো। কিছু সময় পরে আমরা কিছু চিঠিও পেয়েছিলাম। আমার পরিবারের কাছ থেকে (যারা সেইসময় বন্দি অবস্থায় ছিলেন) পাওয়া প্রথম চিঠিটা পড়তে গিয়ে আমি আমার চোখের জল আটকে রাখতে পারিনি। তারা লিখেছিলেন, যেমন শুরুতেই যে প্রহরীদুর্গ এর কথা বলা হয়েছে তাতে উদ্ধৃতি করা হয়েছিল, সাক্ষী ঘরগুলোতে হামলা করা হয়েছিল আর সেই জায়গা ছাড়ার জন্য তাদেরকে মাত্র দুঘন্টা সময় দেওয়া হয়েছিল।

আবার আমার পরিবারের সঙ্গে

আমাকে চার বছরের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল কিন্তু দুবছর শাস্তিভোগের পর ১৯৫২ সালের ডিসেম্বর মাসে আমি ছাড়া পেয়েছিলাম। আমি সাইবেরিয়ার কাছে তুলুনের গ্যাডালে গ্রামে আমার পরিবারের কাছে যাই, যাদেরকে সেই গ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাদেরকে আবার কাছে পেয়ে আমার খুব ভাল লাগছিল। আমার ছেলে ইভান তখন প্রায় তিন বছরের হয়ে গিয়েছিল আর আমার মেয়ে অ্যানা প্রায় দুবছরের। কিন্তু আমাকে পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া হয়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আমার পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করেছিল আর আমার ওপর কড়া নজর রাখা হয়েছিল। বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটারের বেশি দূরে যাওয়া আমার জন্য নিষেধ ছিল। পরে, আমাকে ঘোড়ার পিঠে চড়ে তুলুনের বাজার পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। খুবই সাবধানে আমি সেখানকার অন্য সাক্ষীদের সঙ্গে দেখা করতাম।

এর মধ্যে আমাদের দুই মেয়ে অ্যানা ও নাদিয়া ও দুই ছেলে ইভান ও কোলিয়া হয়ে গিয়েছিল। ১৯৫৮ সালে আমাদের আরেকটা ছেলে হয় তার নাম ভলোদিয়া। এরপর ১৯৬১ সালে আমাদের আরেক মেয়ে হয় যার নাম ছিল গ্যালিয়া।

কেজিবি (প্রাক্তন রাষ্ট্র নিরাপত্তা সংস্থা) প্রায়ই আমাকে ধরে নিয়ে যেত ও জিজ্ঞাসাবাদ করত। মণ্ডলীর খবরাখবর বের করাই কেবল তাদের উদ্দেশ্য ছিল না কিন্তু তারা ভাইদের মনে এই সন্দেহ ঢোকানোর চেষ্টা করত যে আমার তাদের সঙ্গে যোগসাজশ আছে। তাই তারা আমাকে ভাল কোন রেস্টুরেন্টে নিয়ে যেত আর আমি যেন তাদের সঙ্গে বেশ হাসিগল্প করছি এমন ছবি তোলার চেষ্টা করত। কিন্তু আমি তাদের ফন্দি বুঝতে পেরেছিলাম আর তাই কষ্ট করে আমি আমার মুখে গম্ভীর ভাব বজায় রাখতাম। প্রত্যেক বার ধরে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে কী ঘটত তার সমস্তকিছু আমি ভাইদেরকে বলতাম। ফলে তারা কখনও আমার নিষ্ঠায় সন্দেহ করেননি।

শিবিরে ভাইদের সঙ্গে যোগাযোগ

কয়েক বছর ধরে শত শত যিহোবার সাক্ষীদের বন্দি শিবিরে পাঠানো হয়েছিল। এই সময়, আমরা জেলে থাকা ভাইদের সঙ্গে পুরো যোগাযোগ রেখে চলেছিলাম আর তাদেরকে সাহিত্যাদি পাঠাতাম। এটা কিভাবে করা হতো? ভাই কিংবা বোনেরা যখন শিবির থেকে ছাড়া পেতেন, তখন আমরা তাদের কাছ থেকে জেনে নিতাম যে কী করে কঠোর নিরাপত্তা সত্ত্বেও লুকিয়ে লুকিয়ে সাহিত্যাদি ভেতরে পৌঁছে দেওয়া যায়। প্রায় দশ বছর ধরে আমরা এই শিবিরে ভাইদেরকে পত্রিকা ও বই পাঠাতে পেরেছিলাম যা আমরা পোল্যান্ড ও অন্যান্য দেশ থেকে পেতাম।

আমাদের অনেক বোনেরা ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে বসে এগুলোকে এত ছোট ছোট অক্ষরে লিখতেন যাতে পুরো পত্রিকা ছোট কোন কিছুতে, যেমন একটা দিয়াশলাইয়ের বাক্সে লুকিয়ে রাখা যেতে পারে! ১৯৯১ সালে, যখন নিষেধাজ্ঞা উঠে যায় আর আমরা সুন্দর সুন্দর রঙিন পত্রিকাগুলো পেতে শুরু করি তখন আমাদের একজন বোন বলেছিলেন: “আমাদের কথা এখন আর কারও মনে থাকবে না।” তিনি ঠিক বলেননি। মানুষ ভুলে গেলেও, এইরকম নিষ্ঠাবান ব্যক্তিদের কাজ যিহোবা কখনও ভুলে যান না!—ইব্রীয় ৬:১০.

নতুন ঘর আর দুঃখের ওপর দুঃখ

১৯৬৭ সালের শেষের দিকে ইরকুটসে আমার ছোট ভাইয়ের বাড়ি তল্লাশি করা হয়। ফিল্ম ও বাইবেলের কিছু সাহিত্যাদি পাওয়া যায়। তাকে অপরাধী হিসাবে রায় দেওয়া হয় আর তার তিন বছরের জেল হয়। কিন্তু, আমাদের ঘর তল্লাশির পর কিছুই পাওয়া যায়নি। কিন্তু তবুও কর্তৃপক্ষের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে আমরাও এর সঙ্গে জড়িত তাই আমার পরিবারকেও ওই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল। আমরা প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটার পূর্বে ককেসাসের নেভিন্নোমিস্ক শহরে চলে গিয়েছিলাম। সেখানে আমরা সুযোগ পেলেই লোকেদের কাছে সাক্ষ্য দিতাম।

১৯৬৯ সালের জুন মাসে স্কুল ছুটির প্রথম দিনেই দুঃখজনক ঘটনাটা ঘটে। একটা হাই-ভোল্টেজ বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের কাছ থেকে বল বের করার সময় আমাদের ১২ বছরের ছেলে কলিয়া মারাত্মকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। তার শরীরের প্রায় ৭০ ভাগই পুড়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে সে আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিল: “আমরা কি আবার একসঙ্গে দ্বীপে যেতে পারব?” (সে সেই দ্বীপের কথা বলছিল যেখানে আমরা প্রায়ই বেড়াতে যেতাম আর আনন্দ করতাম।) আমি বলেছিলাম, “হ্যাঁ, কলিয়া, আমরা আবার ওই দ্বীপে যাব। যীশু খ্রীষ্ট যখন তোমাকে পুনরুত্থিত করবেন আমরা আবার ওই দ্বীপে যাব।” সে পুরোপুরি সজ্ঞানে ছিল না কিন্তু তবুও সে আধবোজা গলায় তার একটা প্রিয় রাজ্যের গান গাইতে শুরু করে, যেটা সে মণ্ডলীতে তার বীণায় বাজাতে পছন্দ করত। আবার ফিরে আসবে এই আশায় পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে তিনদিন পর সে মারা যায়।

এর পরের বছর আমাদের ২০ বছরের ছেলে ইভানকে সামরিক কাজে যোগ দেওয়ার জন্য জোর করা হয়। যখন সে সেখানে কাজ করতে অস্বীকার করে তখন তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার তিন বছরের জেল হয়। ১৯৭১ সালে আমাকে আবার ধরে নিয়ে যাওয়া হয় আর জোর করা হয়, আমি কাজ করতে অস্বীকার করায় আমাকে জেলে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। আমার মামলাটা কয়েক মাসের জন্য ঝুলতে থাকে। এরমধ্যে আমার স্ত্রীর ক্যানসার হয় আর তাকে দেখাশোনা করা খুবই দরকারী হয়ে দাঁড়ায়। এই কারণে তারা আমার মামলাটা বাতিল করে দেয়। ১৯৭২ সালে মারিয়া মারা যান। তিনি এমন একজন বিশ্বস্ত সাথি ছিলেন যিনি মৃত্যু পর্যন্ত আমার সঙ্গে সঙ্গে ছিলেন আর যিহোবার প্রতি তার নিষ্ঠা বজায় রেখেছিলেন।

আমার পরিবার বিদেশে যায়

১৯৭৩ সালে আমি নিনাকে বিয়ে করি। সে একজন সাক্ষী হওয়ায় তার বাবা তাকে ১৯৬০ সালে ঘর থেকে বের করে দিয়েছিলেন। তিনি খুব উদ্যোগের সঙ্গে প্রচার করতেন আর তিনিও শিবিরের ভাইদের জন্য পত্রিকা কপি করেছিলেন। আমার ছেলেমেয়েরাও তাকে খুব ভালবাসতে লাগে।

নেভিন্নোমিস্কে আমাদের কাজ কর্তৃপক্ষদের পছন্দ হয়নি আর তারা আমাদেরকে ওই শহর ছেড়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। তাই ১৯৭৫ সালে আমার স্ত্রী, মেয়েরা ও আমি ককেসাসের দক্ষিণে জর্জিয়ায় চলে গিয়েছিলাম। সেইসময় আমার ছেলেরা, ইভান ও ভলোদিয়া কাজাকস্তান সীমান্তের দক্ষিণে সাম্বিলে চলে গিয়েছিল।

জর্জিয়াতে যিহোবার সাক্ষীদের কাজ সবেমাত্র শুরু হয়েছিল। আমরা সুযোগ পেলেই কৃষ্ণ সাগরের উপকূলে গাগরা ও সুখুমির আশেপাশের এলাকায় সাক্ষ্য দিয়েছিলাম আর এক বছরের মধ্যে দশজন নতুন সাক্ষী একটা পাহাড়ি নদীতে বাপ্তিস্ম নিয়েছিলেন। শীঘ্রিই, কর্তৃপক্ষ আমাদের পেছনে লাগেন ও সেই শহর ছেড়ে আমাদের চলে যেতে বলেন আর আমরা পূর্ব জর্জিয়ায় চলে যাই। সেখানে মেষতুল্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার জন্য আমরা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাই আর যিহোবা আমাদের আশীর্বাদ করেছিলেন।

আমরা ছোট ছোট দলে মিলিত হতাম। আমাদের ভাষার সমস্যা ছিল কারণ আমরা জর্জিয় ভাষা জানতাম না আর কিছু জর্জিয়রা ভাল করে রুশ ভাষা বলতে পারত না। প্রথমে আমরা শুধু রুশ লোকেদের সঙ্গে অধ্যয়ন করতাম। এরপর, শীঘ্রিই জর্জিয় ভাষায় প্রচার ও শিক্ষা দেওয়ার কাজ শুরু হয় আর আজ জর্জিয়ায় রাজ্যের প্রচার করার জন্য হাজার হাজার প্রকাশক রয়েছেন।

১৯৭৯ সালে, কেজিবি-র চাপে পড়ে আমার চাকরির জায়গার মালিক আমাকে এই দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বলেছিলেন। এর পরপরই আমার মেয়ে নাদিয়ার গাড়ি দুর্ঘটনা হয় আর সে ও তার ছোট মেয়ে মারা যায়। এর আগের বছর নেভিন্নোমিস্কে বাবা ও ভাইকে রেখে আমার মা মারা যান। তিনি মৃত্যু পর্যন্ত যিহোবার প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন। আমরা নেভিন্নোমিস্কে ফিরে যাব বলে স্থির করি।

ধৈর্য ধরার আশীর্বাদ

নেভিন্নোমিস্কে আমরা লুকিয়ে লুকিয়ে বাইবেলের সাহিত্যাদি ছাপাতে শুরু করি। ১৯৮৫ সালের দিকে একবার জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আমার কর্তৃপক্ষ যখন আমাকে ডেকে পাঠান তখন আমি তাদের বলেছিলাম, আমি একটা স্বপ্ন দেখেছি যে আমি আমার পত্রিকাগুলো লুকিয়ে রাখছি। তা শুনে তারা হেসেছিলেন। আমি সেখান থেকে আসার সময় তাদের মধ্যে থেকে একজন আমাকে বলেছিলেন: “সাহিত্য লুকানোর স্বপ্ন যেন আর আপনাকে দেখতে না হয়।” শেষে তিনি বলেছিলেন: “শীঘ্রিই আপনার সাহিত্য আপনার শেলফে থাকবে আর আপনি, আপনার স্ত্রীর সঙ্গে বাইবেল নিয়ে সবার সামনে দিয়ে সভায় যেতে পারবেন।”

১৯৮৯ সালে আমার মেয়ে অ্যানা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ফলে মারা যাওয়ায় আমাদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। সে মাত্র ৩৮ বছর বয়সী ছিল। ওই বছরের আগস্ট মাসে নেভিন্নোমিস্কের সাক্ষীরা একটা ট্রেন ভাড়া করেছিলেন এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য পোল্যান্ডের ওয়ারসতে গিয়েছিলেন। সেখানে ৬০,৩৬৬ জন উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকেও হাজার হাজার লোকেরা এসেছিলেন। সত্যিই আমরা ভেবেছিলাম যে আমরা যেন স্বপ্ন দেখছি! দুই বছরের মধ্যে ১৯৯১ সালের ২৭শে মার্চে আমি সোভিয়েত ইউনিয়নে অনেক দিন ধরে প্রাচীন হিসাবে সেবা করছেন এমন চারজন ভাইয়ের সঙ্গে মস্কোতে যিহোবার সাক্ষীদেরকে ধর্মীয় সংগঠন হিসাবে আইনগত স্বীকৃতি দেওয়ার চুক্তপত্রে স্বাক্ষর করার সুযোগ পেয়েছিলাম!

আমি খুবই খুশি যে আমার জীবিত সন্তানেরা বিশ্বস্তভাবে যিহোবার সেবা করে চলেছে। আর আমি ঈশ্বরের নতুন জগতের জন্য অপেক্ষা করছি যেখানে আমি আবার অ্যানা, নাদিয়া, তার মেয়ে ও সেইসঙ্গে কলিয়াকে দেখতে পাব। কলিয়া ফিরে এলে আমি তাকে ওই দ্বীপে নিয়ে গিয়ে আমার কথা রাখব যেখানে অনেক বছর আগে আমরা একসঙ্গে গিয়ে আনন্দ করতাম।

এর মধ্যে, এই বিরাট দেশে বাইবেলের সত্য ছড়িয়ে পড়তে দেখে আমার কতই না ভাল লাগে! আমার জীবনে আমি এতকিছু পেয়েছি যে আমি সত্যিই সুখী আর আমি যিহোবাকে বারবার ধন্যবাদ দিই যে তিনি আমাকে তাঁর একজন সাক্ষী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। গীতসংহিতা ৩৪:৮ পদের সত্যতা আমি সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস করি: “আস্বাদন করিয়া দেখ, সদাপ্রভু মঙ্গলময়; ধন্য সেই ব্যক্তি, যে তাঁহার শরণাপন্ন।”

[২৫ পৃষ্ঠার চিত্র]

যে বছরে তুলুনে আমি আমার পরিবারের সঙ্গে মিলিত হয়েছিলাম

[২৬ পৃষ্ঠার চিত্র]

ওপরে: সাইবেরিয়ার তুলুনে আমাদের ঘরের বাইরে আমার বাবা ও আমার ছেলেমেয়েরা

ওপরে ডানদিকে: আমার মেয়ে নাদিয়া ও তার মেয়ে যারা দুজনেই গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিল

ডানদিকে: ১৯৬৮ সালে তোলা পরিবারের একটা ছবি

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার