সৎপরিবারের বিশেষ সমস্যাগুলো
সৎপরিবারগুলো সুখী হতে পারে! কিভাবে?
পৃথিবীর অনেক জায়গায় সৎপরিবার এক সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সৎপরিবারগুলোতে কিছু বিশেষ রকমের সমস্যাই আসে। কোন সন্দেহই নেই যে, এগুলোর সবচেয়ে বড় সমস্যা হল ছেলেমেয়েদের মানুষ করা। কিন্তু, নিচের প্রবন্ধ দুটো দেখাতে চেষ্টা করবে যে সৎপরিবারেও ছেলেমেয়েদেরকে মানুষ করায় সফল হওয়া যায়।
সৎবাবামাদের নামেই দোষ। ছোটবেলায় আমরা অনেকেই সিন্ডারেলার গল্প শুনেছি, যাকে তার খারাপ সৎমায়ের হাতে অনেক অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছিল। ইউরোপের ছেলেমেয়েরাও তুষার কন্যা ও সাত বামনের গল্পটা জানে। পরে তুষার কন্যার সৎমা এক দুষ্ট ডাইনী হয়ে গিয়েছিল!
এইরকম রূপকথার গল্পগুলো কি সৎপরিবারের ঠিক-ঠিক ছবি তুলে ধরে? সব সৎ বাবামায়েরাই কি সত্যিই এত নিষ্ঠুর? না। বরং বেশিরভাগ সৎ বাবামায়েরাই তাদের সৎ ছেলেমেয়েদের ভাল চান। কিন্তু, সৎ বাবামাদের এমন কিছু কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় যা সাধারণত সব সৎপরিবারগুলোতে আসে।
ছেলেমেয়ে মানুষ করতে গিয়ে আসা সমস্যাগুলো
বেশিরভাগ সময়ই স্বামী স্ত্রী অবুঝ হওয়ায় তাদের বিয়ে ভেঙে যায়। দ্বিতীয় বিয়েতে, তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েনের কারণ হয় ছেলেমেয়েদের সঙ্গে তাদের ব্যবহার। কিছু রেকর্ড দেখায় যে ১০টা সৎপরিবারের মধ্যে ৪টে পরিবারই বিয়ের প্রথম পাঁচ বছরের মধ্যে ভেঙে যায়।
পরিবারে সৎবাবা কিংবা সৎমা এলে ছেলেমেয়েদের মধ্যে যে মানসিক অস্থিরতা আসে, সৎ বাবামাকে আপন বাবামার মতো করে দেখতে তাদের যে সমস্যা হয় আর এইজন্য তাদের মধ্যে যে ঈর্ষা ও বিরক্তি আসে, এই কথা হয়তো তাদের নতুন বাবামা বুঝতেই পারেন না। ছেলেমেয়েরা হয়ত ভাবতে শুরু করে যে তাদের আপন বাবামা এখন তাদের চেয়ে তাদের সৎ বাবা বা মাকে বেশি ভালবাসছে। এছাড়াও, যে ব্যক্তিকে তার সাথি ছেড়ে চলে গেছেন তার পক্ষে হয়তো বোঝা কঠিন হয় যে কেন ছেলেমেয়েরা এখনও তার পুরনো সাথিকে ভালবাসে। একজন ছেলে তার মাকে বোঝাতে চেষ্টা করেছিল যে কেন সে তার আপন বাবাকে এখনও ভালবাসে। সে বলেছিল, “মা, আমি জানি বাবা তোমার সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করেছে কিন্তু আমাকে বাবা খুব ভালবাসে!” এইরকম কথা সত্যি হলেও, এটা শুনে মা হয়তো ছেলের বাবার প্রতি আরও তিক্ত হয়ে যেতে পারেন।
একজন সৎবাবা বলেছিলেন: “আসলে, সৎ ছেলেমেয়েদের মানুষ করতে গিয়ে আমার যে যে সমস্যা আসতে পারে সেগুলোর জন্য আমি একেবারেই তৈরি ছিলাম না। আমি শুধু ভেবেছিলাম যে, আমি তাদের বাবা কারণ আমি তাদের মাকে বিয়ে করেছি। আমার মনেই হয়নি যে এটা কোন কঠিন কাজ! কিন্তু আমি বুঝিনি যে এই ছেলেমেয়েরা তাদের আপন বাবাকে এখনও কত ভালবাসে আর তাই আমি অনেক ভুলগুলো করেছিলাম।”
বিশেষ করে ছেলেমেয়েদের শাসন করতে গেলে সমস্যা এসে দাঁড়ায়। ছেলেমেয়েদের প্রেমের সঙ্গে শাসন করা দরকার কিন্তু বাবামা যখন ছেলেমেয়েদের শাসন করেন তখন তা মেনে নেওয়া প্রায়ই তাদের জন্য কঠিন হয়। তাহলে সৎবাবা বা সৎমার শাসন মেনে নেওয়া তাদের জন্য আরও কতই না কঠিন! সাধারণত, শাসন করা হলে সৎ ছেলেমেয়েরা হয়ত বলতে পারে, “তুমি আসলে আমার বাবা নও!” ছেলেমেয়ের ভাল চান এমন সৎবাবামারা এইরকম কথা শুনে কত দুঃখই না পাবেন!
এইরকম সৎপরিবারে ছেলেমেয়েদের মানুষ করায় কি সফল হওয়া যেতে পারে? পরিবারকে সফল করে তোলার জন্য সৎবাবামারা কি কিছু করতে পারেন? এই প্রশ্ন দুটোর উত্তর হ্যাঁ হবে, যদি পরিবারের সবাই ঈশ্বরের অনুপ্রাণিত বাক্য, বাইবেলের পরামর্শ মেনে চলেন।
[৩ পৃষ্ঠার চিত্র]
“তুমি আসলে আমার বাবা নও!”