সৎপরিবার সফল হতে পারে
সৎপরিবার কি সফল হতে পারে? হ্যাঁ পারে যদি পরিবারের সবাই মনে রাখেন যে “ঈশ্বর-নিশ্বসিত প্রত্যেক শাস্ত্রলিপি আবার শিক্ষার, অনুযোগের, সংশোধনের, ধার্ম্মিকতা সম্বন্ধীয় শাসনের নিমিত্ত উপকারী।” (২ তীমথিয় ৩:১৬) সবাই মিলে যদি বাইবেলের নীতিগুলো কাজে লাগানো যায় তাহলে আপনি ধরে নিতে পারেন যে তারা ইতিমধ্যেই সফল।
জরুরি গুণ
বাইবেলে মানব সম্পর্কের বিষয়ে আসলে খুব অল্পকিছুই আইন দেওয়া হয়েছে। বেশিরভাগই এটা আমাদের ভাল গুণাবলি ও মনোভাব গড়ে তুলতে উৎসাহিত করে, যাতে আমরা বুদ্ধিমানের মতো কাজ করতে পারি। এইরকম ভাল মনোভাব ও গুণ পারিবারিক জীবনকে সুখী করে তোলার জন্য খুবই জরুরি।
এটা হয়তো সবাই জানেন কিন্তু তবুও তা আবারও বলা দরকার যে পরিবারকে সফল করে তোলার জন্য যে গুণটা সবচেয়ে জরুরি তা হল প্রেম। প্রেরিত পৌল বলেছিলেন: “প্রেম নিষ্কপট হউক। . . . ভ্রাতৃপ্রেমে পরস্পর স্নেহশীল হও।” (রোমীয় ১২:৯, ১০) “প্রেম” শব্দটাকে প্রায়ই ভুলভাবে ব্যবহার করা হয় কিন্তু পৌল এখানে যে প্রেমের কথা বলেছেন তা অদ্বিতীয়। এটা হল ঈশ্বরীয় প্রেম এবং তা “কখনও শেষ হয় না।” (১ করিন্থীয় ১৩:৮) বাইবেল বলে যে এটা নিঃস্বার্থ ও অন্যের সেবা করার জন্য তৈরি থাকে। এটা অন্যের ভাল করে। এটা দীর্ঘসহিষ্ণু ও দয়ালু, কখনও ঈর্ষান্বিত হয় না, অহংকারী কিংবা আত্ম অভিমানী নয়। প্রেম নিজের স্বার্থ দেখে না। যাই ঘটুক না কেন, এটা সবসময় বিবেচনা দেখাতে, আস্থা রাখতে, আশা করতে এবং সবকিছু ধৈর্যের সঙ্গে সহ্য করার জন্য তৈরি থাকে।—১ করিন্থীয় ১৩:৪-৭.
সত্যিকারের প্রেম এমন লোকেদের মধ্যেও বিরোধ মেটাতে ও তাদের এক হতে সাহায্য করে যারা আলাদা আলাদা সমাজে বড় হয়েছেন ও যাদের ব্যক্তিত্ব একে অন্যের থেকে একেবারেই আলাদা। আর এই প্রেম বিবাহবিচ্ছেদ অথবা জন্মদাতা বাবা, মায়ের মৃত্যুর দুঃখজনক অনুভূতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। একজন সৎবাবা বলেছিলেন যে কিভাবে তিনি তার সমস্যাগুলোকে কাটিয়ে উঠেছিলেন: “আমি সবসময় আমার নিজের আবেগের কথাই এত বেশি ভাবতাম যে আমার সৎ ছেলেমেয়ে এমনকি আমার স্ত্রীর আবেগকেও বোঝার মতো মানসিকতা আমার ছিল না। আমার আরও কম আবেগপ্রবণ হতে শেখার ছিল। সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল, আমার নম্র হতে শেখার ছিল।” জরুরি পরিবর্তনগুলো করতে প্রেমই তাকে সাহায্য করেছিল।
আপন বাবামা
আলাদা হয়ে যাওয়া আপন বাবামার সঙ্গে ছেলেমেয়েদের সম্পর্ককে মেনে নিতে প্রেমই সাহায্য করবে। একজন সৎবাবা তার মনের কথা বলেন: “আমি চাইতাম যে আমার সৎ ছেলেমেয়েরা শুধু আমাকেই ভালবাসবে। যখন তারা তাদের আপন বাবার সঙ্গে দেখা করতে যেত তখন আমার মনে হতো যে আমি তার নামে খারাপ কথা বলি কিন্তু আমি খুব কষ্ট করে নিজেকে সামলাতাম। ছেলেমেয়েরা যখন সারাদিন তার সঙ্গে আনন্দ করে কাটিয়ে বাড়ি ফিরত, আমার খুব খারাপ লাগত। যখন তাদের সময় ভাল কাটত না আমি খুশি হতাম। আসলে আমার ভয় ছিল যে আমি না তাদের ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হই। এই কথাটা বোঝা আর মেনে নেওয়া আমার জন্য খুবই মুশকিল ছিল যে, আমার সৎ ছেলেমেয়েদের জীবনে তাদের জন্মদাতা বাবা এখনো একটা বড় জায়গা নিয়ে আছেন।”
সত্যিকারের ভালবাসা এই সৎবাবাকে এই বাস্তব বিষয়টা বুঝতে সাহায্য করেছিল যে “এখনই” ভালবাসা আশা করা ঠিক নয়। ছেলেমেয়েরা তাকে মেনে নিতে সময় নেওয়ায় তার ভাবা উচিত ছিল না যে তিনি তাদের কেউ নন। তিনি পরে বুঝেছিলেন যে তিনি কখনও ছেলেমেয়েদের মনে তাদের আপন বাবার যে জায়গা তা নিতে পারবেন না। ছেলেমেয়েরা তাদের বাবাকে জন্ম থেকে জানতো কিন্তু সৎবাবা তাদের কাছে সবে মাত্র এসেছেন যাকে ছেলেমেয়েদের ভালবাসা পাওয়ার জন্য চেষ্টা করতে হতো। অনেক লোকেরা যেমন অভিজ্ঞতা করে থাকেন সে সম্বন্ধে গবেষিকা এলিজাবেথ ইনস্টিন বলেন: “জন্মদাতা বাবা বা মার জায়গা অন্য কেউ নিতে পারে না—কখনই না। সেই সমস্ত বাবামাও যারা মারা গেছেন বা ছেলেমেয়েদেরকে ফেলে চলে গেছেন, তারাও ছেলেমেয়েদের জীবনে এক বিশেষ জায়গা জুড়ে থাকেন।”
শাসন—এক স্পর্শকাতর বিষয়
বাইবেল বলে যে ছোট ছেলেমেয়েদের প্রেমের সঙ্গে শাসন করা প্রয়োজন আর সৎ ছেলেমেয়েরাও এর বাইরে নয়। (হিতোপদেশ ৮:৩৩) অনেক পেশাদার পরামর্শদাতারা এখন বাইবেলের এই কথাকে মেনে নিচ্ছেন। অধ্যাপিকা, সিরেজ আলভেজ ডে আরুজো বলেছিলেন: “সহজাতভাবে কেউই বিধিনিষেধ পছন্দ করে না কিন্তু সেগুলোর দরকার আছে। অনেক সময় বাচ্চাদের ভালোর জন্য বাবামাকে ‘না’ বলতে হয়।”
কিন্তু, এক সৎপরিবারে শাসনের ব্যাপারে স্বামী স্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি এক না হলে পরিবারে ফাটল ধরতে পারে। সৎছেলেমেয়েদের গড়ে তোলায় এমন কোন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির হাত ছিল যিনি এখন আর পরিবারে নেই। ছেলেমেয়েদের হয়তো এমন কিছু অভ্যাস বা স্বভাব আছে যা তাদের সৎবাবা বা মা পছন্দ করেন না। আর ছেলেমেয়েরা হয়তো বুঝে উঠতে পারে না যে কেন কিছু কিছু ব্যাপারে তাদের সৎবাবামা এতটা কঠোর হন। এইরকম পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করায় কিভাবে সফল হওয়া যায়? পৌল খ্রীষ্টানদেরকে পরামর্শ দেন: “প্রেম, ধৈর্য্য, মৃদুভাব, এই সকলের অনুধাবন কর।” (১ তীমথিয় ৬:১১) খ্রীষ্টীয় ভালবাসা, সৎবাবামা ও ছেলেমেয়ে সকলকে নম্রতা দেখাতে ও ধৈর্য ধরতে সাহায্য করে বিশেষ করে সেইসময় যখন তারা একজন আরেকজনকে বুঝতে চান। সৎবাবামা যদি অধৈর্য হন, ‘রোষ, ক্রোধ এবং কলহ’ করেন তবে তাদের মধ্যের সম্পর্ক খুব সহজেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।—ইফিষীয় ৪:৩১.
এইরকম পরিস্থিতিতে, কী আমাদের সাহায্য করবে সেই বিষয়ে ভাববাদী মীখা আমাদের অন্তর্দৃষ্টি দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন: “ন্যায্য আচরণ, দয়ায় অনুরাগ ও নম্রভাবে তোমার ঈশ্বরের সহিত গমনাগমন, ইহা ব্যতিরেকে সদাপ্রভু তোমার কাছে আর কিসের অনুসন্ধান করেন?” (মীখা ৬:৮) শাসন করার সময়ে ন্যায়বিচার খুবই জরুরি। কিন্তু দয়া দেখানোর বিষয়ে কী বলা যায়? একজন খ্রীষ্টান প্রাচীন বলেন যে রবিবার সকালে মণ্ডলীর সভাতে যাওয়ার জন্য তার সৎ ছেলেমেয়েদেরকে ঘুম থেকে ওঠানোটা প্রায়ই তার জন্য সমস্যা হতো। তাদেরকে বকাঝকা না করে তিনি দয়া দেখিয়েছিলেন। তিনি খুব সকালে উঠে জলখাবার তৈরি করতেন আর ছেলেমেয়েদের সবাইকে গরম গরম চা বা কফি দিতেন। ফলে, তারা বাবার কথামতো ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি উঠে পড়তে শুরু করেছিল।
অধ্যাপিকা অ্যানা লুইজা ভিয়েরা ডে ম্যাটোস এই আগ্রহজনক মন্তব্যটা করেছেন: “পরিবার কীরকম সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয় কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হল পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পর্ক কী রকম। আমার গবেষণায় যতদূর আমি দেখেছি, যে যুবক-যুবতীরা ভাল ব্যবহার করতে পারে না তারা প্রায়ই এমন পরিবার থেকে আসে যেখানে বাবামা ঠিকমতো দেখাশোনা করেন না বা যেখানে নিয়মকানুন ও নিয়মিত কথাবার্তার অভাব রয়েছে।” তিনি এও বলেন: “ছেলেমেয়েদের বড় করে তুলতে গিয়ে না বলার যে প্রয়োজন আছে, তার ওপর যত জোরই দেওয়া যাক না কেন তা যেন কম হয়ে দাঁড়ায়।” এছাড়াও, ড. এমিলি এবং জন ভিশার বলেছিলেন: “শাসন মূলত তখনই কাজে লাগে যখন যাকে শাসন করা হচ্ছে সে যিনি শাসন করছেন তার প্রতিক্রিয়া ও তার সঙ্গে সম্পর্ককে সম্মান করে।”
এই মন্তব্যগুলো থেকে এইরকম প্রশ্ন উঠতে পারে যে সৎপরিবারগুলোতে কে শাসন করবেন। কে না বলবেন? এই বিষয়ে একসঙ্গে বসে আলোচনা করার পর, কিছু বাবামা ঠিক করেছেন যে প্রথম দিকে জন্মদাতা বাবা কিংবা মা শাসন করলেই ভাল যাতে করে এই ফাঁকে সৎবাবামায়েরা ছেলেমেয়েদের সঙ্গে এক ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন। সৎ বাবামার কাছ থেকে শাসন পাওয়ার আগে ছেলেমেয়েরা যেন নিশ্চিত হয় যে সৎবাবামায়েরা শুধু শাসনই করেন না কিন্তু তাদেরকে ভালওবাসেন।
কিন্তু যদি বাবা সৎ হয় তাহলে কী? বাইবেল কি বলে না যে বাবাই পরিবারের মস্তক? হ্যাঁ। (ইফিষীয় ৫:২২, ২৩; ৬:১, ২) কিন্তু, সৎবাবা চাইলে কিছু সময়ের জন্য শাসন করার কাজ মাকে দিতে পারেন বিশেষ করে যখন শাস্তি দেওয়ার মত পরিস্থিতি আসে। তিনি হয়তো ছেলেমেয়েদের তাদের ‘মাতার ব্যবস্থা’ মানতে দিতে পারেন আর এই সময়ের মধ্যে তিনি তাদের জন্য এমন ভীত গড়ে তুলতে পারেন যাতে তারা তাদের ‘[নতুন] পিতার উপদেশ শোনার’ জন্য তৈরি হতে পারে। (হিতোপদেশ ১:৮; ৬:২০; ৩১:১) প্রমাণ দেখায় যে, এরকম করা মস্তক ব্যবস্থার নীতির বিরুদ্ধ কাজ নয়। যেমন এক সৎবাবা বলেন: “আমি সবসময় মনে রাখতাম যে শাসন করার মধ্যে ছেলেমেয়েদের বোঝানো, তাদের শুধরানো ও বকাঝকা করা পড়ে। কিন্তু এটা যখন সঠিক কারণে, প্রেমের সঙ্গে এবং নির্দয় না হয়ে করা হয় আর সেইসঙ্গে বাবামা হয়ে ভাল উদাহরণ রাখা যায়, তখনই ভাল ফল পাওয়া যায়।”
বাবা ও মায়ের নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলা দরকার
হিতোপদেশ ১৫:২২ বলে: “মন্ত্রণার অভাবে সঙ্কল্প সকল ব্যর্থ হয়।” সৎপরিবারে, বাবামার নিজেদের মধ্যে শান্তভাবে ও খোলাখুলি কথাবার্তা বলা খুবই জরুরি। ও এস্টাডো ডি এস. পাওলো সংবাদপত্রের বিভাগীয় লেখিকা বলেছিলেন: “বাবামা যে বিধিনিষেধ দিয়ে থাকেন, প্রায়ই ছেলেমেয়েদের স্বভাব হল তাকে পরীক্ষা করা।” সৎপরিবারগুলোতে এই কথা বোধহয় আরও বেশি সত্যি। তাই বাবামাদের সব সময়ে একমত হওয়া উচিত যাতে ছেলেমেয়েরা দেখতে পায় যে তাদের বাবামা এক। কিন্তু যদি আপন বাবামার মনে হয় যে সৎবাবা কিংবা সৎমা যা করছেন তা ঠিক নয় তখন কী? সেইসময় তাদের দুজনের মধ্যে বিষয়টা মীমাংসা করা উচিত কিন্তু ছেলেমেয়েদের সামনে নয়।
একজন মা যিনি দ্বিতীয় বার বিয়ে করেছিলেন, বলেন: “এক মায়ের জন্য এটা সহ্য করা খুব কঠিন হয় যে সৎবাবা তার ছেলেমেয়েকে শাসন করছেন বিশেষ করে মার যখন মনে হয় যে তার স্বামী ছেলেমেয়ের সঙ্গে ধৈর্য না ধরেই বা বিনা কারণে তা করছেন। এতে মায়ের মন ভেঙে যায় আর তিনি তার ছেলেমেয়েকে আগলে রাখতে চান। সেই সময় স্বামীর বশীভূত হয়ে তার সঙ্গে সহযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
“একবার, আমার ১২ ও ১৪ বছর বয়সের দুই ছেলে কিছু একটা করার জন্য তাদের সৎবাবার কাছে অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু, তিনি সঙ্গে সঙ্গে না করে দেন এবং ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। তিনি ছেলেদের এটুকু বলারও সুযোগ দেননি যে তারা যা জিজ্ঞাসা করছিল তা তাদের জন্য কত জরুরি ছিল। ছেলেরা একেবারে কাঁদোকাঁদো হয়ে গিয়েছিল আর আমি বুঝতে পারছিলাম না যে কী বলব। বড় ছেলে আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিল: ‘মা তুমি দেখলে বাবা কী করল?’ উত্তরে আমি বলেছিলাম: ‘হ্যাঁ, আমি দেখেছি। কিন্তু তবুও তিনি পরিবারের মস্তক আর বাইবেল বলে আমাদের মস্তক ব্যবস্থাকে সম্মান করা উচিত।’ তারা ভাল ছেলে ছিল আর সেইজন্য তারা বিষয়টাকে মেনে নিয়ে শান্ত হয়ে গিয়েছিল। ওইদিন সন্ধ্যায় আমি এই বিষয়টা নিয়ে আমার স্বামীর সঙ্গে কথা বলেছিলাম আর তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি খুব বেশি কঠোর হয়েছিলেন। তিনি সোজা ছেলেদের ঘরে যান এবং তার ব্যবহারের জন্য ক্ষমা চান।
“এই ঘটনা থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমার স্বামী শুনতে শিখেছিলেন। আমি শিখেছিলাম যে কঠিন হলেও মস্তক ব্যবস্থার নীতিকে পালন করা উচিত। ছেলেরা বাবামার বাধ্য হওয়ার গুরুত্বকে শিখেছিল। (কলসীয় ৩:১৮, ১৯) আর যখন আমার স্বামী অন্তর থেকে ক্ষমা চান, আমরা সবাই নম্রতার বিষয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাই। (হিতোপদেশ ২৯:২৩) আজকে আমার দুই ছেলেই খ্রীষ্টান প্রাচীন হিসাবে সেবা করছে।”
ভুল হবেই। কখনও কখনও ছেলেমেয়েরা এমন কিছু বলবে ও করবে যা কষ্ট দেবে। সংসারে কোন চাপের মুহূর্তে সৎবাবামা না ভেবে-চিন্তে কাজ করে বসবেন। কিন্তু, শুধু এটুকুই বলা, “আমি দুঃখিত, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দাও,” অনেক ব্যথা কমিয়ে দেয়।
পরিবারের একতা শক্তিশালী করা
সৎপরিবারে ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য সময়ের প্রয়োজন। আপনি যদি একজন সৎবাবা কিংবা মা হন তবে আপনার সহানুভূতি দেখানোর দরকার আছে। ছেলেমেয়েদের বোঝার চেষ্টা করুন, তাদের সঙ্গে সময় কাটান। ছোট ছেলেমেয়েদের সঙ্গে খেলা করুন। বড়দের সঙ্গে কথাবার্তা বলার জন্য তৈরি থাকুন। একসঙ্গে সময় কাটানোর জন্য সুযোগ খুঁজুন—যেমন, ছেলেমেয়েদের ঘরের কাজে সাহায্য করার জন্য ডাকুন তা হতে পারে খাবার তৈরি করা কিংবা গাড়িটা পরিষ্কার করা। আপনি যখন বাজারে যান তখন আপনাকে সাহায্য করার জন্য তাদেরকেও সঙ্গে নিন। এছাড়াও, আপনার হাবে-ভাবে দেখান যে আপনি তাদের কত ভালবাসেন। (অবশ্য, সৎবাবারা তাদের মেয়েদের সঙ্গে সম্মানসূচক ব্যবহার করবেন যাতে তারা অস্বস্তি বোধ না করে। আর সৎমাদেরও মনে রাখা উচিত যে ছেলেদেরও তাদের নিজস্ব মর্যাদা রয়েছে।)
সৎপরিবার সফল হতে পারে। অনেকেই হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি সফলতা আসে তখন যখন সবাই মিলে চেষ্টা করেন ও বিশেষ করে যখন বাবামায়েরা সঠিক মনোভাব রাখেন ও বড় বড় আশা না রাখেন। প্রেরিত যোহন লিখেছিলেন: “প্রিয়তমেরা, আইস, আমরা পরস্পর প্রেম করি; কারণ প্রেম ঈশ্বরের।” (১ যোহন ৪:৭) হ্যাঁ, সত্যিকারের ভালবাসাই সৎপরিবারগুলোর সুখী হওয়ার আসল রহস্য।
[৭ পৃষ্ঠার চিত্র]
সুখী সৎপরিবারগুলো
একসঙ্গে ঈশ্বরের বাক্য অধ্যয়ন করে . . .
একসঙ্গে সময় কাটায় . . .
একসঙ্গে কথাবার্তা বলে . . .
একসঙ্গে কাজ করে . . .