ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৯ ২/১৫ পৃষ্ঠা ৪-৮
  • সুখী বিবাহের জন্য কীসের প্রয়োজন?

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • সুখী বিবাহের জন্য কীসের প্রয়োজন?
  • ১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • বিয়ের দিকে একঝলক নজর দেওয়া
  • নিজেকে একটু দেখে নেওয়া
  • হবু জীবনসাথিকে একটু দেখে নেওয়া
  • পুরস্কার ও দায়িত্বগুলো
  • এক সফল বিয়ের জন্য প্রস্তুত হওয়া
    পারিবারিক সুখের রহস্য
  • বিয়ে—প্রেমময় ঈশ্বরের কাছ থেকে এক উপহার
    “ঈশ্বরের প্রেমে আপনাদিগকে রক্ষা কর”
  • আজকের জগতে বিবাহ সফল হতে পারে
    ২০০৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • আপনার বিবাহের এক উত্তমভিত্তি স্থাপন করা
    আপনার পারিবারিক জীবন সুখী করা
আরও দেখুন
১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৯ ২/১৫ পৃষ্ঠা ৪-৮

সুখী বিবাহের জন্য কীসের প্রয়োজন?

সাঁতার কাটা না শিখেই কি আপনি কোন নদীতে ঝাঁপ দেবেন? এইরকম বোকার মতো কাজ করা এতই বিপদজনক যে আপনি এমনকি মারাও যেতে পারেন। তাহলে এবার ভেবে দেখুন যে কিভাবে অনেক লোক বিয়ে যে দায়িত্বগুলো নিয়ে আসে তার কথা না ভেবেই হুট করে বিয়ে করে ফেলেন।

যীশু বলেছিলেন: “বাস্তবিক দুর্গ নির্ম্মাণ করিতে ইচ্ছা হইলে তোমাদের মধ্যে কে অগ্রে বসিয়া ব্যয় হিসাব করিয়া না দেখিবে, সমাপ্ত করিবার সঙ্গতি তাহার আছে কি না?” (লূক ১৪:২৮) একটা দুর্গ বানানোর জন্য যে কথাগুলো সত্যি, একটা বিয়ের জন্যও তা খুবই সত্যি। তাই যারা বিয়ে করতে চলেছেন তাদের খুব সাবধানতার সঙ্গে বিয়ের মূল্য হিসাব করে দেখার দরকার আছে যে তারা বিয়ের দায়িত্বগুলো পালন করার জন্য তৈরি কি না।

বিয়ের দিকে একঝলক নজর দেওয়া

জীবনের সুখ দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার জন্য একজন সাথি পাওয়া সত্যিই এক আশীর্বাদের বিষয়। বিয়ে একজনের জীবনের একাকীত্ব ও হতাশাকে দূর করে দিতে পারে। ভালবাসা, সাথি ও একান্ত জনকে পাওয়ার জন্য আমাদের যে আজন্ম আকূলতা বিয়ে তাকে মেটাতে পারে। তাই আদমকে সৃষ্টি করার পর যিহোবা ঠিকই বলেছিলেন: “মনুষ্যের একাকী থাকা ভাল নয়, আমি তাহার জন্য তাহার অনুরূপ সহকারিণী নির্ম্মাণ করি।”—আদিপুস্তক ২:১৮; ২৪:৬৭; ১ করিন্থীয় ৭:৯.

হ্যাঁ, বিয়ে কিছু সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে। কিন্তু একইসঙ্গে এটা নতুন কিছু সমস্যা এনেও দেয়। কেন? কারণ বিয়ে হল দুটো ভিন্ন প্রকৃতির ব্যক্তিত্বের মিলন যা হয়ত মিলে যেতে পারে কিন্তু একেবারে মিশে যেতে পারে না। যেজন্য এমনকি যাদের মনে হয় যে তারা একে অপরের জন্যই তৈরি সেইরকম দম্পতির মধ্যেও মাঝে মাঝে মনোমালিন্য হয়ে থাকে। খ্রীষ্টান প্রেরিত পৌল লিখেছিলেন যে যারা বিয়ে করবে তাদের “দৈহিক ক্লেশ ঘটিবে”—অথবা যেমন নিউ ইংলিশ বাইবেল এটাকে অনুবাদ করে “এই জীবনে শারীরিক যন্ত্রণা ও দুঃখ হবে।”—১ করিন্থীয় ৭:২৮.

পৌল কি নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে কথা বলছিলেন? একেবারেই নয়! তিনি কেবল বলতে চাইছিলেন যে যারা বিয়ে করার কথা ভাবছেন তারা যেন বিয়েকে বাস্তবভাবে দেখেন। কাউকে ভাল লাগার মুহূর্তে যে সুখের অনুভূতি তা থেকে বোঝা যায় না যে বিয়ের কয়েক মাস বা কয়েক বছর কাটার পর বিবাহিত জীবন কেমন হবে। বিয়ের পরে সব স্বামী স্ত্রীকেই আলাদা আলাদা রকমের কঠিন পরিস্থিতি ও সমস্যার সামনে পড়তে হয়। তাই প্রশ্নটা এই নয় যে সমস্যা আসবে কি আসবে না কিন্তু বিষয়টা হল যখন তা আসে তখন কিভাবে সেগুলোর সঙ্গে মোকাবিলা করা যায়।

সমস্যা স্বামী-স্ত্রীকে এটা দেখার সুযোগ দেয় যে তারা একজন আরেকজনকে কতখানি গভীরভাবে ভালবাসেন। এটা একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝা যেতে পারে: একটা সামুদ্রিক জাহাজ যখন জেটীতে দাঁড়িয়ে থাকে তখন এটাকে দেখে খুবই মজবুত বলে মনে হতে পারে। কিন্তু সেটা সত্যিই মজবুত কি না তা প্রমাণ হয় যখন সেটা মাঝ সমুদ্রে থাকে এবং তার উপর দিয়ে যখন প্রবল সামুদ্রিক ঝড় বয়ে যায়। একইভাবে বিয়ের বন্ধন কতখানি মজবুত তা সেইসময় বোঝা যায় না যখন স্বামী-স্ত্রী প্রণয়ের স্থির, শান্ত মুহূর্তগুলোর মধ্যে দিয়ে চলেছেন। কিন্তু কখনও কখনও এর প্রমাণ দিতে হয় যখন এক দম্পতিকে প্রবল ঝড়ের মতো সমস্যাগুলোর মোকাবিলা করতে হয়।

আর সফলভাবে এটা করার জন্য এক বিবাহিত দম্পতির একে অন্যের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন কারণ ঈশ্বর চেয়েছিলেন যে একজন পুরুষ “আপন স্ত্রীতে আসক্ত হইবে” আর সেই দুই ব্যক্তি “একাঙ্গ হইবে।” (আদিপুস্তক ২:২৪) আজকে যখন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার কথা আসে তখন অনেকেই ভয় পান। কিন্তু তবুও এটাই ঠিক যে দুজন ব্যক্তি যারা সত্যিই একজন আরেকজনকে ভালবাসেন, সারাজীবন একসঙ্গে কাটানোর জন্য তাদের নিজেদের মধ্যে এক একান্ত প্রতিজ্ঞা করবেন। প্রতিশ্রুতি বিয়েকে মর্যাদা দেয়। এটা পরস্পরকে ভরসা দেয় যে তাদের সামনে যা কিছুই আসুক না কেন, স্বামী ও স্ত্রী তারা দুজন দুজনের পাশে থাকবেন।a আপনি যদি এমনভাবে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা ভাবতে না পারেন তাহলে আপনি বিয়ের জন্য তৈরি নন। (উপদেশক ৫:৪, ৫ পদের সঙ্গে তুলনা করুন।) এমনকি যারা ইতিমধ্যেই বিয়ে করেছেন তাদেরও তাদের প্রতিশ্রুতিকে মূল্যবান বলে মনে করা উচিত যদি তারা তাদের বিয়েকে অটুট রাখতে চান।

নিজেকে একটু দেখে নেওয়া

কোন সন্দেহ নেই যে আপনি আপনার হবু জীবন-সাথির মধ্যে যে যে গুণ চান তার এক লম্বা তালিকা খুব সহজেই আপনি দিয়ে দিতে পারবেন। কিন্তু অনেক বেশি কঠিন নিজেকে দেখা আর এটা স্থির করা যে আপনি বিয়েতে কতখানি দিতে পারবেন। তাই বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগে ও পরে, নিজেকে পরীক্ষা করা খুবই জরুরি। নিজেকে এই প্রশ্নগুলো জিজ্ঞাসা করুন:

• আমি কি আমার সাথির সঙ্গে সারা জীবনের জন্য প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ হতে চাই?—মথি ১৯:৬.

ভাববাদী মালাখির দিনে অনেক স্বামী যুবতী মেয়েদের বিয়ে করার জন্য তাদের নিজেদের স্ত্রীদের ত্যাগ করেছিল। যিহোবা বলেছিলেন যে তাঁর যজ্ঞবেদি পরিত্যক্তা স্ত্রীদের অশ্রুতে ভরে গিয়েছে আর তিনি সেই সমস্ত পুরুষদের নিন্দা করেছিলেন যারা তাদের যৌবনকালের সাথিদের সঙ্গে “বিশ্বাসঘাতকতা” করেছিল।—মালাখি ২:১৩-১৬.

• যদি আমি বিয়ে করার কথা ভাবছি, তবে আমি কি আমার কৈশর পার করেছি যখন যৌন অনুভূতি প্রবল থাকে আর ভালমন্দ বিচারের বুদ্ধি থাকে না?—১ করিন্থীয় ৭:৩৬.

নিকির ২২ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল আর নিকি বলে: “অল্প বয়সে বিয়ে করা খুবই বিপদজনক।” সে সাবধান করে: “আঠারো উনিশ বছর বয়স থেকে পঁচিশ ছাব্বিশ বছর বয়স পর্যন্ত আপনার অনুভূতি, লক্ষ্য, রুচি সবকিছু বদলাতেই থাকে।” তবে এটা সত্যি যে আপনি বিয়ের জন্য তৈরি কি না তা বয়সের মাপকাঠিতে মাপা যায় না। তবুও কৈশোর পার না হতেই বিয়ে করা যখন যৌন অনুভূতি নতুন ও খুবই প্রবল তখন তা একজনের চিন্তাভাবনাকে বিকৃত করে তুলতে পারে ও অনেক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

• আমার কোন্‌ গুণগুলো আছে যা আমাকে সুখী হতে ও আমার সাথিকে সুখী করতে সাহায্য করবে?—গালাতীয় ৫:২২, ২৩.

প্রেরিত পৌল কলসীয়দের লিখেছিলেন: “তোমরা . . . করুণার চিত্ত, মধুর ভাব, নম্রতা, মৃদুতা, সহিষ্ণুতা পরিধান কর।” (কলসীয় ৩:১২) এই উপদেশ যারা বিয়ে করার কথা ভাবছেন ও যারা ইতিমধ্যেই বিয়ে করেছেন এই দুদলের জন্যই ঠিক।

• আমি কি ততখানি পরিণত যে সমস্যার সময় আমি আমার সাথির পাশে থেকে তাকে সাহায্য করতে পারব?—গালাতীয় ৬:২.

একজন ডাক্তার বলেন: “যখন সমস্যা আসে তখন আমাদের স্বভাব হল সাথিকে দোষ দেওয়া। কিন্তু কার ওপর দোষ চাপানো যায় সেটাই বড় কথা নয়। বরং এই সময়ই স্বামী ও স্ত্রী দুজনে মিলে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে নিতে পারেন।” জ্ঞানী রাজা শলোমনের এই কথাগুলো বিবাহিত দম্পতিদের জন্য ঠিক। তিনি লিখেছিলেন, “এক জন অপেক্ষা দুই জন ভাল, কেননা তাহাদের পরিশ্রমে সুফল হয়। কারণ তাহারা পড়িলে এক জন আপন সঙ্গীকে উঠাইতে পারে; কিন্তু ধিক্‌ তাহাকে, যে একাকী, কেননা সে পড়িলে তাহাকে তুলিতে পারে, এমন দোসর কেহই নাই।”—উপদেশক ৪:৯, ১০.

• আমি কি হাসিখুশি স্বভাবের ও ইতিবাচক বা আমি সবসময়ই মনমরা ও খুবই নেতিবাচক?—হিতোপদেশ ১৫:১৫.

একজন নেতিবাচক ব্যক্তির কাছে প্রতিটা দিনই খারাপ। বিয়ে অলৌকিক কিছু করবে না যে এই মনোভাব একেবারে বদলে যাবে! একজন অবিবাহিত ব্যক্তি—তিনি পুরুষ অথবা স্ত্রী যাই হোন না কেন—বিয়ের আগে যদি তিনি একজন খুঁতখুঁতে ও নিরাশাবাদী ব্যক্তি হন, তাহলে বিয়ের পরেও তিনি সেইরকম ব্যক্তিই থাকবেন। এইরকম নেতিবাচক মনোভাব বিবাহিত জীবনে মারাত্মক চাপের সৃষ্টি করতে পারে।—হিতোপদেশ ২১:৯ পদের সঙ্গে তুলনা করুন।

• আমি কি চাপের মধ্যেও শান্ত থাকতে পারি বা আমি রেগে গেলে নিজেকে সামলাতে না পেরে খারাপ ব্যবহার করে ফেলি?—গালাতীয় ৫:১৯, ২০.

খ্রীষ্টানদের আদেশ দেওয়া হয় যে তারা যেন “ক্রোধে ধীর” হন। (যাকোব ১:১৯) বিয়ের আগে বা বিবাহিত জীবনে একজন পুরুষ ও একজন স্ত্রী এই পরামর্শ মেনে চলার চেষ্টা করতে পারেন: “ক্রুদ্ধ হইলে পাপ করিও না; সূর্য অস্ত না যাইতে যাইতে তোমাদের কোপাবেশ শান্ত হউক।”—ইফিষীয় ৪:২৬.

হবু জীবনসাথিকে একটু দেখে নেওয়া

“সতর্ক লোক নিজ পাদক্ষেপের প্রতি লক্ষ্য রাখে” বাইবেলের একটি প্রবাদবাক্য বলে। (হিতোপদেশ ১৪:১৫) আপনি যদি জীবনসাথি খুঁজছেন তবে এই কথাগুলো একেবারে খাঁটি সত্যি। বিবাহসাথিকে বেছে নেওয়াটা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা সিদ্ধান্ত, যা একজন পুরুষ বা নারী নিয়ে থাকেন। তবুও দেখা যায় যে অনেক লোকেরা একটা গাড়ি কেনার আগে বা কোন্‌ কলেজে লেখাপড়া করবেন তা ঠিক করতে অনেক অনেক সময় কাটিয়ে দেন কিন্তু কাকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন তা ভাবার জন্য তারা কোন সময়ই নেন না।

খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীতে যাদের ওপর মণ্ডলী পরিচালনার দায়িত্ব রয়েছে “অগ্রে তাঁহাদেরও [যোগ্যতা] পরীক্ষা করা” হয়। (১ তীমথিয় ৩:১০) আপনি যদি বিয়ে করার কথা ভাবেন তাহলে আপনি নিশ্চয়ই আপনার হবু সাথি “যোগ্য” কিনা সে বিষয়ে চিন্তা করবেন। উদাহরণ হিসাবে নিচের প্রশ্নগুলোকে দেখুন। যদিও এগুলো একজন নারী বিষয়টাকে কিভাবে দেখেন সেই অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে কিন্তু অনেক নীতি পুরুষদের জন্যও উপযুক্ত। আর এমনকি যারা বিবাহিত তারাও এগুলো আলোচনা করে এর থেকে উপকার পেতে পারেন।

• তার কীরকম সুনাম রয়েছে?—ফিলিপীয় ২:১৯-২২.

হিতোপদেশ ৩১:২৩ পদ একজন স্বামীর বিষয়ে বলে যিনি “নগর-দ্বারে প্রসিদ্ধ হন, যখন দেশের প্রাচীনবর্গের সহিত বসেন।” দেশের প্রাচীনবর্গ নগরদ্বারে বসে বিচার করতেন। তাই স্পষ্টতই তিনি এমন একজন ব্যক্তি যার উপর সকলে ভরসা করতে পারেন। অন্যেরা একজন ব্যক্তিকে যেভাবে দেখেন তা তার সুনাম সম্বন্ধে অনেক কিছু বলে। এমনকি যদি সম্ভব হয় তাহলে এটাও দেখুন যে তার অধীনে যারা আছেন তারা তার বিষয়ে কী ভাবেন। এটা হয়ত আপনাকে তার সাথি হিসাবে এই ধারণা দিতে পারে যে পরবর্তী জীবনে আপনি তাকে কিভাবে দেখবেন।—১ শমূয়েল ২৫:৩, ২৩-২৫ পদের সঙ্গে তুলনা করুন।

• তার নৈতিক মান কেমন?

ঈশ্বরের কাছ থেকে যে প্রজ্ঞা আসে “তাহা প্রথমে শুচি।” (যাকোব ৩:১৭) আপনার হবু সাথি কি ঈশ্বরের সামনে তার নিজের ও আপনার অবস্থানের চেয়ে তার নিজের যৌন পরিতৃপ্তির কথা বেশি করে ভাবেন? যদি এখন সে ঈশ্বরের নৈতিক মান অনুযায়ী চলার কোনরকম চেষ্টা না করে, তাহলে বিয়ের পর সে তা করবে বলে আপনি কী করে বিশ্বাস করতে পারেন?—আদিপুস্তক ৩৯:৭-১২.

• সে আমার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করে?—ইফিষীয় ৫:২৮, ২৯.

বাইবেলে হিতোপদেশের বই এমন এক স্বামীর বিষয়ে বলে যার “হৃদয়” তার স্ত্রীর উপর “নির্ভর করে।” এছাড়াও তিনি তার “প্রশংসা করেন।” (হিতোপদেশ ৩১:১১, ২৮) তিনি অত্যধিক ঈর্ষাপরায়ণ হন না বা তিনি অতিরিক্ত দাবিও করেন না। যাকোব লিখেছিলেন যে ওপর থেকে যে জ্ঞান আসে তা “শান্তিপ্রিয়, ক্ষান্ত, . . . দয়া ও উত্তম উত্তম ফলে পরিপূর্ণ।”—যাকোব ৩:১৭.

• তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সে কেমন ব্যবহার করে?—যাত্রাপুস্তক ২০:১২.

ছেলেমেয়েরা বাবামাকে শ্রদ্ধা করবে এটা শুধু একটা চাহিদা নয়। বাইবেল বলে: “তোমার জন্মদাতা পিতার কথা শুন, তোমার মাতা বৃদ্ধা হইলে তাঁহাকে তুচ্ছ করিও না।” (হিতোপদেশ ২৩:২২) এই ব্যাপারে ড. ডব্লু হাগ মিসিলডিন খুব ভাল কথা লিখেছিলেন: “অনেক বৈবাহিক সমস্যা ও অমিল পুরোপুরি এড়ানো যায় বা সেগুলো আগে থাকতেই দেখতে পাওয়া যায়, যদি হবু বর ও কণে একে অন্যের ঘরে প্রায়ই যাওয়া আসা করেন ও তার ‘ভাবী’ সাথি বাবামার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করেন তা দেখেন। বাবামাকে তিনি যে চোখে দেখেন, হতে পারে জীবনসাথিকেও তিনি সেভাবেই দেখবেন। একজন নিজেকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন: ‘সে তার বাবামার সঙ্গে যেমন ব্যবহার করে আমি কি তার কাছ থেকে সেইরকম ব্যবহারই চাই?’ আর তার বাবামা যেভাবে তার সঙ্গে ব্যবহার করে তা থেকে আপনি বুঝতে পারবেন যে সে নিজে কেমন ব্যবহার করবে আর আপনার কাছ থেকে সে কেমন ব্যবহার আশা করবে—মধুচন্দ্রিমার পরে।”

• সে কি খুব তাড়াতাড়ি রেগে যায় বা নোংরা কথা বলে?

বাইবেল আমাদের উপদেশ দেয়: “সর্ব্বপ্রকার কটুকাটব্য, রোষ, ক্রোধ, কলহ, নিন্দা এবং সর্ব্বপ্রকার হিংসেচ্ছা তোমাদের হইতে দূরীকৃত হউক।” (ইফিষীয় ৪:৩১) পৌল তীমথিয়কে কিছু খ্রীষ্টানদের বিষয়ে সাবধান করেছিলেন যারা “বিতণ্ডা ও বাগ্‌যুদ্ধের বিষয়ে রোগগ্রস্ত হইয়াছে,” আর যারা “মাৎসর্য্য, বিরোধ, বিবিধ নিন্দা, কুসন্দেহ, এবং নষ্টবিবেক” গড়ে তুলেছে।—১ তীমথিয় ৬:৪, ৫.

এছাড়াও পৌল লিখেছিলেন যে যারা মণ্ডলীতে বিশেষ দায়িত্বগুলো পাওয়ার যোগ্য হতে চান তারা “প্রহারক” হবেন না—মূল গ্রিক শব্দ অনুসারে “আঘাতকারী হবেন না।” (১ তীমথিয় ৩:৩, NW পাদটীকা) তিনি কখনও অন্যদের মারবেন না বা রূঢ় কথা বলবেন না। যে ব্যক্তি রেগে গেলে হিংস্র হয়ে ওঠেন তিনি বিয়ের জন্য একজন উপযুক্ত সাথি নন।

• তার লক্ষ্যগুলো কি?

কিছুজন পয়সার পেছনে ছোটেন আর তার করুণ পরিণতি ভোগ করেন। (১ তীমথিয় ৬:৯, ১০) অন্যান্যেরা আবার কোনরকম উদ্দেশ্য ছাড়াই চলেন আর তাদের জীবনে কোন লক্ষ্যই থাকে না। (হিতোপদেশ ৬:৬-১১) ঈশ্বরকে ভয় করেন এমন এক ব্যক্তি যিহোশূয়ের মতো একই ইচ্ছা দেখাবেন যিনি বলেছিলেন “আমি ও আমার পরিজন আমরা সদাপ্রভুর সেবা করিব।”—যিহোশূয় ২৪:১৫.

পুরস্কার ও দায়িত্বগুলো

বিয়ে এক ঐশিক ব্যবস্থা। যিহোবা ঈশ্বর নিজে এটাকে অনুমোদন করেছিলেন ও প্রথম বিয়ে তিনি নিজে দিয়েছিলেন। (আদিপুস্তক ২:২২-২৪) তিনি বিয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন যাতে করে একজন পুরুষ ও স্ত্রী নিজেদেরকে চিরকালীন বন্ধনে বাঁধতে পারেন আর একজন আরেকজনকে সাহায্য করতে পারেন। যখন বাইবেলের নীতি মেনে চলা হয়, স্বামী ও স্ত্রী আশা করতে পারেন যে তাদের বিবাহিত জীবন সুখের হবে।—উপদেশক ৯:৭-৯.

কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে যে আমরা ‘শেষ কালের বিষম সময়ে’ বাস করছি। বাইবেল আগে থেকেই বলেছিল যে এই সময়ে লোকেরা “আত্মপ্রিয়, অর্থপ্রিয়, আত্মশ্লাঘী, অভিমানী, . . . অসাধু, স্নেহরহিত, ক্ষমাহীন, . . . বিশ্বাসঘাতক, দুঃসাহসী, গর্ব্বান্ধ” হবে। (২ তীমথিয় ৩:১-৪) এই দোষগুলো একজনের বিবাহিত জীবনে খুব বেশি ছাপ ফেলতে পারে। তাই যারা বিয়ে করার কথা ভাবছেন তাদের অবশ্যই মূল্য হিসাব করে দেখা উচিত। আর যারা এখন বিবাহিত তারা বাইবেলে পাওয়া ঈশ্বরের নির্দেশগুলোকে শিখে ও তা জীবনে কাজে লাগিয়ে তাদের বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করার জন্য কাজ করতে পারেন।

হ্যাঁ, যারা বিয়ে করার কথা ভাবছেন তাদের শুধু বিয়ের দিনটাই নয় কিন্তু বিবাহিত জীবনের কথাও ভাবা দরকার। আর সবারই শুধু বিয়ে করাটাই নয় কিন্তু বিয়ের পর জীবন কেমন হবে সে বিষয়েও চিন্তা করা উচিত। পরামর্শের জন্য যিহোবার কাছে যান আর তাহলেই আপনি বাস্তবভাবে চিন্তা করতে পারবেন শুধুমাত্র কল্পনাপ্রবণভাবে নয়। এই পরামর্শগুলো কাজে লাগিয়ে আপনি বিয়ে করে সুখী হতে পারবেন।

[পাদটীকাগুলো]

a বাইবেল বিবাহবিচ্ছেদ করে আবার বিয়ে করার জন্য কেবল একটা কারণকেই অনুমোদন করে আর তা হল “ব্যভিচার”—বিয়ের বাইরে যৌন সম্পর্ক।—মথি ১৯:৯.

[৫ পৃষ্ঠার বাক্স]

“প্রেমের শ্রেষ্ঠ বর্ণনা যা আমার জীবনে আমি আগে কখনও পড়িনি”

ডাঃ কেবিন লেমন জিজ্ঞাসা করেন, “আপনি কিভাবে বুঝতে পারবেন যে আপনি সত্যিই কাউকে ভালবেসেছেন? অনেক পুরনো একটা বই আছে যেখানে প্রেমের বর্ণনা দেওয়া রয়েছে। বইটা প্রায় দুহাজার বছরের পুরনো কিন্তু এখনো পর্যন্ত এটাই হচ্ছে প্রেমের শ্রেষ্ঠ বর্ণনা যা আমার জীবনে আমি আগে কখনও পড়িনি।”

ডাক্তার লেমন বাইবেলের ১ করিন্থীয় ১৩:৪-৮ পদে দেওয়া খ্রীষ্টান প্রেরিত পৌলের লেখা কথাগুলোর বিষয়ে বলছিলেন:

“প্রেম চিরসহিষ্ণু, প্রেম মধুর, ঈর্ষা করে না, প্রেম আত্মশ্লাঘা করে না, গর্ব্ব করে না, অশিষ্টাচরণ করে না, স্বার্থ চেষ্টা করে না, রাগিয়া উঠে না, অপকার গণনা করে না, অধার্ম্মিকতায় আনন্দ করে না, কিন্তু সত্যের সহিত আনন্দ করে; সকলই বহন করে, সকলই বিশ্বাস করে, সকলই প্রত্যাশা করে, সকলই ধৈর্য্যপূর্ব্বক সহ্য করে। প্রেম কখনও শেষ হয় না।”

[৮ পৃষ্ঠার বাক্স]

আবেগ ছলনাময় হতে পারে

বাইবেলের সময়ের শূলম্মীয়া কন্যা ভাল করেই জানত যে রোমান্টিক প্রেমের অনুভূতি ছলনাময় হতে পারে। যখন প্রতাপশালী রাজা শলোমন তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন তখন সে তার সখীদের বলেছিল “প্রেমকে জাগাইও না, উত্তেজনা করিও না, যে পর্য্যন্ত তাহার বাসনা না হয়।” (পরমগীত ২:⁠৭) এই অল্পবয়স্ক বুদ্ধিমতী মেয়ে চায়নি যে তার সখীরা তার সঙ্গে এমন ব্যবহার করুক যাতে তার আবেগ তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। আজকে যারা বিয়ে করার কথা ভাবছেন তাদের জন্য এটা চিন্তা করার বিষয়। আপনার অনুভূতিকে বাঁধন ছাড়া হতে দেবেন না। যদি আপনি বিয়ে করেন তাহলে তা শুধু এইজন্য নয় যে আপনাকে বিয়ে করতে হবে কিন্তু এইজন্য যে আপনি একজনকে ভালবাসেন।

[৬ পৃষ্ঠার চিত্র]

যারা অনেকদিন হল বিয়ে করেছেন তারাও তাদের বিবাহবন্ধনকে শক্তিশালী করতে পারেন

[৭ পৃষ্ঠার চিত্র]

সে তার বাবামার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করে?

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার