আপনি কি বিয়ের কথা ভাবছেন?
আমরা যদি বিশ্ব জুড়ে ঘটতে থাকা বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যাকে এক ভূমিকম্পের সঙ্গে তুলনা করি, তাহলে আমেরিকাকে এর কেন্দ্রবিন্দু বলে ধরে নেওয়া যায়। সম্প্রতি এক বছরে সেখানে দশ লক্ষেরও বেশি বিয়ে ভেঙে গেছে—প্রতি এক মিনিটে দুটো বিয়ে। কিন্তু আপনি হয়ত ভালভাবেই জানেন যে আমেরিকাই একমাত্র দেশ নয় যেখানে বিয়েগুলো টেকে না।
এই বিষয়ে এক গবেষণা দেখায় যে ইংল্যান্ড, ওয়েলস, কানাডা, গ্রিস, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডে বিবাহবিচ্ছেদের হার ১৯৭০ সালের পর থেকে দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
বেশিরভাগ যুগল একজন আরেকজনকে ভালবাসে বলেই আর দুজনে সারা জীবন একসঙ্গে কাটাতে চায় বলেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চায়, এই কথা মেনে নেওয়ার জন্য আমাদের অনেক কারণ আছে। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় যে প্রায়ই এক সুখী বিবাহিত জীবনের স্বপ্ন—শুধু স্বপ্নই থেকে যায়। বাস্তব জীবনের মুখোমুখি হয়ে অনেকেই বলেন যে আমরা খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে করে ফেলেছি বা আমরা ভুল ব্যক্তিকে বেছেছি আবার কেউ কেউ দুটো কারণই দেখিয়ে থাকেন।
এত এত বিয়ে ভেঙে যায় কেন? “প্রধান কারণটা হচ্ছে প্রস্তুতির অভাব,” বিয়ের আগে মেলামেশা সম্বন্ধীয় একটা বইয়ের লেখিকা বলেন। এরপর তিনি বলেন: “যখন আমি বিবাহিত দম্পতিদের সঙ্গে ওঠা-বসা করি, তাদের আক্ষেপ, যন্ত্রণার কথা শুনি, তাদের জন্য আমার মায়া হয় আবার একদিকে তাদের ওপর আমার রাগও হয়। মায়া এইজন্য হয় যে তারা একে অন্যকে সুখী করতে না পারায় তাদের স্বপ্নকে সত্যি করে তুলতে পারেনি। আর রাগ হয় কারণ তারা বিয়েকে খুব তুচ্ছ বিষয় বলে মনে করে আর ভুলে যায় যে এটা কত বড় দায়িত্ব।”
এটা সত্যি যে অনেকে বিয়ে করে ফেলেন কিন্তু কিভাবে বিবাহিত জীবনে সুখী হওয়া যায় তা একেবারেই জানেন না বা জানার চেষ্টাও করেন না। তবে এটা একেবারেই অবাক হওয়ার মতো বিষয় নয়। একজন শিক্ষাবিদ বলেছিলেন: “আমাদের ছেলেমেয়েরা কলেজে ইঁদুর আর টিকটিকির আচরণ সম্বন্ধে শিখতে যায় কিন্তু স্বামী ও স্ত্রী নামের দুজন ব্যক্তির আচরণ সম্বন্ধে শিখতে তারা ব্যর্থ হয়?”
আপনি কি বিয়ের কথা ভাবছেন—বিয়ে করার কথা বা আপনি যে বিয়ে ইতিমধ্যেই করেছেন? যদি তাই হয়, তাহলে মনে রাখুন যে সিনেমা, টি.ভি. বা প্রেমকাহিনীগুলোতে যা দেখানো হয় তার সঙ্গে বাস্তব জীবনের আকাশ পাতাল পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু পাশাপাশি দুজন পরিণত ব্যক্তি যারা সত্যিই একজন আরেকজনকে ভালবাসেন তারা যদি বিয়ে করেন, তাহলে তা ঈশ্বরের আশীর্বাদ বলে মনে করা যেতে পারে। (হিতোপদেশ ১৮:২২; ১৯:১৪) তাহলে এখন আপনি কিভাবে জানতে পারবেন যে আপনি বিয়ের দায়িত্বগুলোকে পালন করার জন্য তৈরি? একজন সাথি খোঁজার সময় কোন্ বিষয়গুলো আপনি ভেবে দেখবেন? আর যদি আপনি ইতিমধ্যেই বিয়ে করে থাকেন কিভাবে আপনি আপনার বিবাহিত জীবনে চিরকালীন সুখ পাওয়ার জন্য নিজেকে তৈরি করতে পারেন?