ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৯ ১/১ পৃষ্ঠা ১১-২০
  • “আপন আপন হৃদয় সুস্থির কর”

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • “আপন আপন হৃদয় সুস্থির কর”
  • ১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • অব্রাহামের বিশ্বাসের উদাহরণ
  • ঈশ্বরের কথা শোনা
  • ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলা
  • আজকে বিশ্বাসের নথিগুলো
  • আজকে বিশ্বাস গড়ে তুলুন
  • আশা তাড়াতাড়িই পূর্ণ হবে
  • যিহোবা তাকে “আমার বন্ধু” বলেছিলেন
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০১৬
  • আপনার কি অব্রাহামের মতো বিশ্বাস আছে?
    ১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • ‘বিশ্বাস দ্বারা চলা, বাহ্য দৃশ্য দ্বারা নয়’
    ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • অব্রাহাম এবং সারা—আপনি তাদের বিশ্বাস অনুকরণ করতে পারেন!
    ২০০৪ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৯ ১/১ পৃষ্ঠা ১১-২০

“আপন আপন হৃদয় সুস্থির কর”

“ধৈর্য্যে তোমাদের প্রয়োজন আছে, যেন ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করিয়া প্রতিজ্ঞার ফল প্রাপ্ত হও।”—ইব্রীয় ১০:৩৬.

১, ২. (ক) প্রথম শতাব্দীতে বেশ কয়েকজন খ্রীষ্টানের কী হয়েছিল? (খ) কেন বিশ্বাস দুর্বল হয়ে পড়া খুবই সহজ?

অন্য সমস্ত বাইবেল লেখকদের মধ্যে প্রেরিত পৌলের মতো আর কেউ এতবার বিশ্বাস কথাটা উল্লেখ করেননি। আর প্রায়ই তিনি তাদের সম্বন্ধেও কথা বলেছেন যাদের বিশ্বাস দুর্বল হয়ে পড়েছিল বা ক্ষয় পেয়েছিল। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় যে, হুমিনায় ও আলেকসান্দরের ‘বিশ্বাসরূপ নৌকা ভগ্ন হইয়াছিল।’ (১ তীমথিয় ১:১৯, ২০) দীমা পৌলকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন কারণ তিনি ‘এই বর্ত্তমান যুগ ভাল বেসেছিলেন।’ (২ তীমথিয় ৪:১০) কেউ কেউ অখ্রীষ্টীয় ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করে “বিশ্বাস অস্বীকার” করেছিলেন। অন্যেরা মিথ্যা জ্ঞান দ্বারা প্রতারিত হয়েছিলেন ও “বিশ্বাস সম্বন্ধে লক্ষ্যভ্রষ্ট” হয়েছিলেন।—১ তীমথিয় ৫:৮; ৬:২০, ২১.

২ কেন ওই অভিষিক্ত খ্রীষ্টানেরা এইভাবে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলেন? আসলে “বিশ্বাস প্রত্যাশিত বিষয়ের নিশ্চয়জ্ঞান, অদৃশ্য বিষয়ের প্রমাণপ্রাপ্তি।” (ইব্রীয় ১১:১) আমরা যা দেখতে পাই না তাতে বিশ্বাস করি। যা কিছু দেখা যায় তার জন্যে আমাদের বিশ্বাসের দরকার নেই। দেখা যায় এমন ধন-দৌলত পাওয়ার জন্য কাজ করা খুবই সহজ কিন্তু অদৃশ্য আধ্যাত্মিক ধনের জন্য পরিশ্রম করা সহজ নয়। (মথি ১৯:২১, ২২) আমাদের চোখের সামনে রয়েছে এমন অনেক জিনিস—যেমন “মাংসের অভিলাষ, চক্ষুর অভিলাষ”—আমরা অসিদ্ধ বলে সেগুলোকে আমাদের কাছে আকর্ষণীয় বলে মনে হয় আর সেগুলো আমাদের বিশ্বাসকে দুর্বল করে দেয়।—১ যোহন ২:১৬.

৩. একজন খ্রীষ্টানের কোন্‌ ধরনের বিশ্বাস গড়ে তোলা উচিত?

৩ তবুও পৌল বলেন: “যে ব্যক্তি ঈশ্বরের নিকটে উপস্থিত হয়, তাহার ইহা বিশ্বাস করা আবশ্যক যে ঈশ্বর আছেন, এবং যাহারা তাঁহার অন্বেষণ করে, তিনি তাহাদের পুরস্কারদাতা।” মোশির এইরকম বিশ্বাস ছিল। তিনি “পুরস্কারদানের প্রতি দৃষ্টি রাখিতেন” আর “যিনি অদৃশ্য, তাঁহাকে যেন দেখিয়াই স্থির থাকিলেন।” (ইব্রীয় ১১:৬, ২৪, ২৬, ২৭) একজন খ্রীষ্টানের এইরকম বিশ্বাস থাকা দরকার। আগের প্রবন্ধে যেমন আমরা পড়েছি যে অব্রাহাম এই বিষয়ে এক সুন্দর উদাহরণ রেখেছিলেন।

অব্রাহামের বিশ্বাসের উদাহরণ

৪. অব্রাহামের বিশ্বাস কিভাবে তার জীবনকে প্রভাবিত করেছিল?

৪ ঈশ্বর যখন অব্রাহামের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে তিনি একটি বংশের পিতা হবেন আর সেই বংশের মাধ্যমে সমস্ত জাতি আশীর্বাদ পাবে তখন অব্রাহাম ঊর নগরে বাস করতেন। (আদিপুস্তক ১২:১-৩; প্রেরিত ৭:২, ৩) সেই প্রতিজ্ঞায় বিশ্বাস করে অব্রাহাম যিহোবার বাধ্য হয়েছিলেন, যিহোবার আজ্ঞা শোনামাত্রই তিনি প্রথমে হারণে গিয়েছিলেন ও তারপর কনানে গিয়ে থেকেছিলেন। সেখানে যিহোবা অব্রাহামের বংশকে সেই দেশ দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। (আদিপুস্তক ১২:৭; নহিমিয় ৯:৭, ৮) কিন্তু যিহোবা অব্রাহামের কাছে যা প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তার বেশিরভাগই অব্রাহামের মৃত্যুর পর ঘটেছিল। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, অব্রাহাম নিজে কখনও কনানের কোন অংশের অধিকার পাননি—কেবল মক্‌পেলা গুহা ছাড়া যেটা তিনি মূল্য দিয়ে কিনেছিলেন। (আদিপুস্তক ২৩:১-২০) তবুও যিহোবার কথায় তার পূর্ণ বিশ্বাস ছিল। সবচেয়ে বড় কথা হল অব্রাহামের বিশ্বাস ছিল যে ভবিষ্যতে তিনি ‘ভিত্তিমূলবিশিষ্ট সেই নগর পাইবেন যাহার স্থাপনকর্ত্তা ও নির্ম্মাতা ঈশ্বর।’ (ইব্রীয় ১১:১০) এই বিশ্বাসই তাকে তার সারাটা জীবন কাটাতে সাহায্য করেছিল।

৫, ৬. যিহোবা যা প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তার দ্বারা অব্রাহামের বিশ্বাস কিভাবে পরীক্ষিত হয়েছিল?

৫ এই প্রতিজ্ঞাটিতে বিশেষ করে অব্রাহামের বংশ যে এক বিরাট জাতিতে পরিণত হবে সেই সম্পর্কে বলা হয়েছিল। আর এটা পূর্ণ হওয়ার জন্য অব্রাহামের একজন পুত্রের দরকার ছিল আর সেই পুত্র পাওয়ার জন্য তিনি অনেক সময় অপেক্ষা করেছিলেন। তিনি প্রথম যখন ঈশ্বরের এই প্রতিজ্ঞা শুনেছিলেন তখন তার বয়স কত ছিল তা আমরা জানি না। কিন্তু যখন তিনি সেই দীর্ঘ পথ পার হয়ে হারণে গিয়েছিলেন তখনও পর্যন্ত যিহোবা তাকে কোন সন্তান দেননি। (আদিপুস্তক ১১:৩০) তিনি অনেকদিন হারণে বাস করছিলেন কারণ সেখানে তিনি ‘ধন উপার্জ্জন করিয়াছিলেন, ও প্রাণিগণকে লাভ করিয়াছিলেন।’ যখন তিনি কনানে এসেছিলেন তখন তার বয়স ছিল ৭৫ বছর আর সারার বয়স ছিল ৬৫ বছর। তখনও তাদের কোন সন্তান ছিল না। (আদিপুস্তক ১২:৪, ৫) এরপর ৭৫ বছর বয়সে সারা বলেছিলেন যে তিনি এখন বৃদ্ধা আর অব্রাহামকে তিনি আর কোন সন্তান দিতে পারবেন না। তাই সেই সময়ের রীতি অনুযায়ী তিনি তার দাসী হাগারকে অব্রাহামের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন আর অব্রাহাম একজন সন্তানের পিতা হয়েছিলেন। কিন্তু এই পুত্র সেই প্রতিজ্ঞাত সন্তান ছিল না। হাগার ও তার পুত্র ইশ্মায়েলকে পরে অন্য জায়গায় চলে যেতে হয়েছিল। তবুও যখন অব্রাহাম তাদের জন্য যিহোবার কাছে বিনতি করেছিলেন যিহোবা ইশ্মায়েলকে আশীর্বাদ করবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন।—আদিপুস্তক ১৬:১-৪, ১০; ১৭:১৫, ১৬, ১৮-২০; ২১:৮-২১.

৬ ঈশ্বরের নিরূপিত সময়ে—প্রথমবার প্রতিজ্ঞাটি শোনার পর অনেক অনেক সময় কেটে যাওয়ার পরে, অব্রাহামের যখন ১০০ বছর বয়স ও সারা ৯০ বছর বয়স্কা তখন তাদের পুত্র ইস্‌হাক জন্ম নেয়। এটা কতই না আশ্চর্যের বিষয় ছিল! এই বয়স্ক দম্পতির জন্য এটা প্রায় পুনরুত্থানের মতো ছিল কারণ তাদের ‘মৃতকল্প’ দেহ পৃথিবীতে নতুন জীবন নিয়ে এসেছিল। (রোমীয় ৪:১৯-২১) তাদের অনেক দিন অপেক্ষা করতে হয়েছিল, কিন্তু এই অপেক্ষার পালা শেষ হয়ে যখন প্রতিজ্ঞা পূর্ণ হয়েছিল তখন মনে হয়েছিল যে এই প্রাপ্তি প্রতীক্ষার তুলনায় অনেক বেশি।

৭. বিশ্বাস কিভাবে ধৈর্যের সঙ্গে যুক্ত?

৭ অব্রাহামের উদাহরণ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে বিশ্বাস স্বল্পকালীন কোন বিষয় নয়। পৌল বিশ্বাসকে ধৈর্যের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন যখন তিনি লেখেন: “কেননা ধৈর্য্যে তোমাদের প্রয়োজন আছে, যেন ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করিয়া প্রতিজ্ঞার ফল প্রাপ্ত হও। . . . আমরা বিনাশের জন্য সরিয়া পড়িবার লোক নহি, বরং প্রাণের রক্ষার জন্য বিশ্বাসের লোক।” (ইব্রীয় ১০:৩৬-৩৯) প্রতিজ্ঞার পূর্ণতা দেখার জন্য অনেকে হয়ত অনেক সময় ধরে অপেক্ষা করে আছেন। কেউ কেউ হয়ত মৃত্যু পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন। তাদের দৃঢ় বিশ্বাস তাদেরকে জীবন কাটাতে সাহায্য করেছে। আর অব্রাহামের মতোই তারা যিহোবার নিরূপিত সময়ে পুরস্কার পাবেন।—হবক্‌কূক ২:৩.

ঈশ্বরের কথা শোনা

৮. আজকে আমরা কিভাবে যিহোবার কথা শুনি আর কেন তা আমাদের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করবে?

৮ অন্তত চারটি বিষয় অব্রাহামের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করেছিল আর সেই একই বিষয়গুলো আমাদেরও সাহায্য করতে পারে। প্রথমে অব্রাহাম ‘ঈশ্বর যে আছেন’ সেই বিষয়ে তার বিশ্বাস দেখিয়েছিলেন যখনই যিহোবা কিছু বলেছিলেন তা মন দিয়ে শুনে ও পালন করে। তিনি যিরমিয়ের দিনের যিহূদীদের থেকে আলাদা ছিলেন যারা মানতেন যে যিহোবা আছেন কিন্তু তাঁর কথায় বিশ্বাস করতেন না। (যিরমিয় ৪৪:১৫-১৯) আজকে যিহোবা তাঁর অনুপ্রাণিত বাক্য বাইবেলের মাধ্যমে কথা বলেন যেটিকে পিতর বলেছিলেন যে তা এক “প্রদীপের তুল্য, যাহা . . . তোমাদের হৃদয়ে . . . অন্ধকারময় স্থানে দীপ্তি দেয়।” (২ পিতর ১:১৯) যখন আমরা খুব মন দিয়ে বাইবেল পড়ি আমরা “বিশ্বাসের . . . বাক্যে পোষিত” হই। (১ তীমথিয় ৪:৬; রোমীয় ১০:১৭) এছাড়াও, এই শেষ কালে “বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান্‌ দাস” “উপযুক্ত সময়ে” আধ্যাত্মিক “খাদ্য” যুগিয়ে চলেছেন এবং বাইবেলের নীতিগুলো কাজে লাগানোর ও বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীগুলো বোঝার জন্য সাহায্য করছেন। (মথি ২৪:৪৫-৪৭) এই মাধ্যমগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে যিহোবার কথা শোনাই হল শক্তিশালী বিশ্বাস গড়ে তোলার একমাত্র উপায়।

৯. যদি আমরা সত্যিই আমাদের খ্রীষ্টীয় আশার উপর বিশ্বাস রাখি তাহলে তার ফল কী হবে?

৯ অব্রাহামের বিশ্বাস তার আশার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। তিনি “প্রত্যাশাযুক্ত হইয়া বিশ্বাস করিলেন, যেন . . . তিনি বহুজাতির পিতা হন।” (রোমীয় ৪:১৮) এটা হচ্ছে দ্বিতীয় বিষয় যা আমাদের সাহায্য করতে পারে। আমরা যেন কখনও ভুলে না যাই যে যিহোবা ‘যাহারা তাঁহার অন্বেষণ করে, তাহাদের পুরস্কারদাতা।’ প্রেরিত পৌল বলেছিলেন: “আমরা পরিশ্রম ও প্রাণপণ করিতেছি; কেননা আমরা সেই জীবন্ত ঈশ্বরের প্রত্যাশা করিয়া আসিতেছি।” (১ তীমথিয় ৪:১০) যদি আমরা সত্যিই আমাদের খ্রীষ্টীয় আশার উপর বিশ্বাস রাখি তাহলে আমাদের সম্পূর্ণ জীবন দিয়ে তা আমরা দেখাব যেমন অব্রাহাম করেছিলেন।

ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলা

১০. কেমন প্রার্থনা আমাদের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করে?

১০ অব্রাহাম ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলেছিলেন আর এটা ছিল তৃতীয় বিষয় যা তার বিশ্বাসকে শক্তিশালী করেছিল। আজকে আমরা যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে প্রার্থনা করার বিশেষ অধিকারকে ব্যবহার করে যিহোবার সঙ্গে কথা বলতে পারি। (যোহন ১৪:৬; ইফিষীয় ৬:১৮) আমাদের যে অবিরত প্রার্থনা করা দরকার তা বোঝানোর জন্য একটা দৃষ্টান্ত বলার পর যীশু এই প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করেছিলেন: “মনুষ্যপুত্ত্র যখন আসিবেন, তখন কি পৃথিবীতে বিশ্বাস পাইবেন?” (লূক ১৮:৮) যে প্রার্থনা বিশ্বাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে তা চিন্তাভাবনা না করে কিছু একটা বলা বা এমনি এমনিই যা খুশি বলা নয়। এর গভীর অর্থ রয়েছে। তাই বলা যায় যে যখন আমরা কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাই বা যখন আমরা ভীষণ চাপ বা হতাশার মধ্যে সময় কাটাই তখন অন্তর থেকে প্রার্থনা করা খুবই জরুরি।—লূক ৬:১২, ১৩; ২২:৪১-৪৪.

১১. (ক) অব্রাহাম যখন তার হৃদয় খুলে যিহোবার সঙ্গে কথা বলেছিলেন তখন তার বিশ্বাস কিভাবে শক্তিশালী হয়েছিল? (খ) অব্রাহামের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা কি শিখতে পারি?

১১ অব্রাহাম যখন বৃদ্ধ হচ্ছিলেন আর যিহোবা যে তখন পর্যন্তও তাকে সেই প্রতিজ্ঞাত বংশ দেননি, এই বিষয়ে তার চিন্তার কথা তিনি যিহোবাকে জানিয়েছিলেন। যিহোবা তাকে আবারও আশ্বাস দিয়েছিলেন। ফল কী হয়েছিল? অব্রাহাম “সদাপ্রভুতে বিশ্বাস করিলেন, আর সদাপ্রভু তাঁহার পক্ষে তাহা ধার্ম্মিকতা বলিয়া গণনা করিলেন।” তারপর যিহোবা তাঁর আশ্বাসমূলক কথাগুলোকে আরও নিশ্চিত করার জন্য অব্রাহামকে একটি চিহ্ন দিয়েছিলেন। (আদিপুস্তক ১৫:১-১৮) তাই আমরা যদি আমাদের মন খুলে যিহোবার কাছে প্রার্থনা করি, তাঁর বাক্য বাইবেলে দেওয়া তাঁর আশ্বাস বাণীতে আস্থা রাখি আর পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে তাঁর বাধ্য হই তাহলে যিহোবা আমাদের বিশ্বাসকেও শক্তিশালী করবেন।—মথি ২১:২২; যিহূদা ২০, ২১.

১২, ১৩. (ক) অব্রাহাম যখন যিহোবার নির্দেশনা মেনেছিলেন, তিনি কিভাবে আশীর্বাদপ্রাপ্ত হয়েছিলেন? (খ) কোন্‌ অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করবে?

১২ চতুর্থ যে বিষয়টা অব্রাহামের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করেছিল তা ছিল যিহোবার সমর্থন যা অব্রাহাম যখন তার নির্দেশনা মেনেছিলেন তখন তিনি পেয়েছিলেন। অব্রাহাম যখন আক্রমণকারী রাজাদের হাত থেকে লোটকে উদ্ধার করতে গিয়েছিলেন যিহোবা তাকে জয়ী করেছিলেন। (আদিপুস্তক ১৪:১৬, ২০) তার বংশ যে দেশের অধিকারী হবে সেই দেশে যখন তিনি প্রবাসী হয়ে বাস করছিলেন, তখন যিহোবা তাকে ধন-সম্পদ দিয়ে আশীর্বাদ করেছিলেন। (আদিপুস্তক ১৪:২১-২৩ পদের সঙ্গে তুলনা করুন।) ইস্‌হাকের জন্য উপযুক্ত স্ত্রী খুঁজে পেতে যিহোবা অব্রাহামের দাসকে সাহায্য করেছিলেন। (আদিপুস্তক ২৪:১০-২৭) হ্যাঁ যিহোবা “অব্রাহামকে সর্ব্ববিষয়ে আশীর্ব্বাদ করিয়াছিলেন।” (আদিপুস্তক ২৪:১) এর ফলে যিহোবা ঈশ্বরের উপর অব্রাহামের বিশ্বাস এত বেশি শক্তিশালী হয়েছিল ও তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক এত ঘনিষ্ঠ হয়েছিল যে যিহোবা তাকে “আমার বন্ধু” বলে ডেকেছিলেন।—যিশাইয় ৪১:৮; যাকোব ২:২৩.

১৩ আজকে আমাদের কি এইরকম শক্তিশালী বিশ্বাস থাকতে পারে? হ্যাঁ। যদি আমরা অব্রাহামের মতো যিহোবার বাধ্য হই আর যিহোবা আমাদের জন্য যা করবেন তার অপেক্ষা করি, তাহলে তিনি আমাদেরও আশীর্বাদ করবেন যা আমাদের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করবে। এর উদাহরণ পেতে ১৯৯৮ সালের পরিচর্যা বছরের দিকে এক ঝলক তাকালে আমরা দেখতে পাব যে অনেকে প্রচুররূপে আশীর্বাদ পেয়েছেন যখন তারা প্রচার করার বিষয়ে যিহোবার আজ্ঞা মেনেছেন।—মার্ক ১৩:১০.

আজকে বিশ্বাসের নথিগুলো

১৪. ৩৫ নং. রাজ্য সংবাদ-এর বিতরণকে যিহোবা কিভাবে আশীর্বাদ করেছিলেন?

১৪ ১৯৯৭ সালের অক্টোবর মাসে রাজ্য সংবাদ নং. ৩৫ পৃথিবীর সব লোকেদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। প্রত্যেক সাক্ষীর উদ্যোগ ও উৎসাহের জন্য তা সম্ভব হয়েছিল। ঘানায় বিশেষ কিছু ঘটেছিল। চারটি ভাষায় প্রায় ২৫ লক্ষ কপি লোকেদের দেওয়া হয়েছিল। আর তার ফলে ২০০০টি বাইবেল অধ্যয়ন শুরু করা গিয়েছিল। সাইপ্রাসে দুজন সাক্ষী যখন রাজ্য সংবাদ বিতরণ করছিলেন তারা দেখেন যে একজন পাদ্রি তাদের পিছনে পিছনে আসছেন। কিছুক্ষণ পরে তারা তাকে রাজ্য সংবাদ-এর একটা কপি দেন। তিনি তার আগেই রাজ্য সংবাদ পেয়েছিলেন তাই তিনি বলেন: “এতে যে খবর আছে তা আমার এতই ভাল লেগেছে যে যারা এটা ছাপিয়েছেন তাদের আমি অভিনন্দন জানাতে চাই।” ডেনমার্কে রাজ্য সংবাদ-এর ১৫ লক্ষ কপি যখন লোকেদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল তখন খুব ভাল ফল পাওয়া গিয়েছিল। একজন ভদ্রমহিলা যিনি জনসংযোগ বিভাগে কাজ করতেন তিনি বলেন: “ট্র্যাক্টটা সবার জন্য। এটা সহজে বোঝা যায়, এটা আপনার মনে প্রেরণা দেয় এবং আপনার মধ্যে আরও জানার ইচ্ছাকে জাগিয়ে তোলে। আসলে এটা একেবারে হৃদয়ের গভীরে নাড়া দেয়!”

১৫. কোন্‌ অভিজ্ঞতাগুলো দেখায় যে লোকেরা যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের কাছে যাওয়ার জন্য আমাদের বিশেষ চেষ্টাকে যিহোবা আশীর্বাদ করেছেন?

১৫ ১৯৯৮ সালে শুধু লোকেদের ঘরে নয় কিন্তু যেখানেই তাদের পাওয়া গিয়েছে, সেখানেই তাদের কাছে প্রচার করার জন্য বিশেষ চেষ্টা করা হয়েছিল। কোট ডিভোরে এক মিশনারি দম্পতি বিভিন্ন জাহাজ ঘাটে মোট ৩২২টা জাহাজে গিয়ে লোকেদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তারা ২৪৭টা বই, ২,২৮৪টা পত্রিকা, ৫০০টা ব্রোশার আর কয়েকশ ট্র্যাক্ট অর্পণ করেছিলেন এছাড়াও তারা নাবিকদের ভিডিও দিয়েছিলেন যাতে তারা সমুদ্রে যাওয়ার সময় তা দেখতে পারেন। কানাডায় এক সাক্ষী একটি মটর গাড়ির কারখানায় গিয়েছিলেন। মালিক আগ্রহ দেখিয়েছিলেন আর ভাই সেখানে প্রায় সাড়ে চার ঘন্টা সময় কাটিয়েছিলেন যদিও ক্রেতারা আসতে থাকায় তিনি কেবল এক ঘন্টা বা তার একটু বেশি সময় কথা বলতে পেরেছিলেন। শেষ পর্যন্ত রাত ১০:০০টায় অধ্যয়নের সময় ঠিক হয়। কখনও কখনও অধ্যয়ন শুরু করতেই মাঝরাত পার হয়ে যেত আর তা শেষ হতো ভোর ২টোর সময়। এই সময়টা রক্ষা করা সত্যিই খুব কঠিন ছিল কিন্তু এটা খুব ভাল ফল এনেছিল। সেই ব্যক্তি ঠিক করেছিলেন যে তিনি রবিবারে তার দোকান বন্ধ রাখবেন যাতে তিনি সভাতে আসতে পারেন। তিনি ও তার পরিবার সত্যে খুব তাড়াতাড়িই এগোচ্ছিলেন।

১৬. কোন্‌ অভিজ্ঞতাগুলো দেখায় যে প্রচার ও শিক্ষা দেওয়ার কাজে চান ব্রোশার ও জ্ঞান বই খুবই কার্যকারী হাতিয়ার?

১৬ প্রচার ও শিক্ষা দেওয়ার কাজের জন্য ঈশ্বর আমাদের কাছ থেকে কী চান? ব্রোশার ও জ্ঞান যা অনন্ত জীবনে পরিচালিত করে বইটি খুবই কার্যকারী হাতিয়ার হিসাবে কাজ করে চলেছে। ইতালিতে একজন নান যখন বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন সেইসময় তাকে একটি রাজ্য সংবাদ দেওয়া হয়েছিল। পরের দিন তার সঙ্গে আবার দেখা করা হয় ও তিনি একটি চান ব্রোশার নেন। তারপর থেকে প্রত্যেক দিন তার সঙ্গে বাসস্টপে ১০-১৫ মিনিট করে বাইবেল অধ্যয়ন করা শুরু হয়। দেড় মাস পর তিনি ঠিক করেন যে তিনি তার মঠ ছেড়ে দিয়ে গুয়াতেমালায় তার ঘরে চলে যাবেন যাতে সেখানে তিনি অধ্যয়ন চালিয়ে যেতে পারেন। মালাউইতে লবিন নামে একজন মহিলা গির্জার খুবই উদ্যোগী সদস্যা ছিলেন আর তাই যখন তার মেয়েরা যিহোবার সাক্ষীদের কাছে বাইবেল শিখতে শুরু করেন তিনি মোটেই খুশি হননি। কিন্তু তবুও মেয়েরা যখনই সুযোগ পেত তাদের মায়ের কাছে বাইবেলের সত্য যা তারা শিখছিল সে সম্বন্ধে বলত। ১৯৯৭ সালের জুন মাসে লবিন জ্ঞান বইটা দেখেন আর “জ্ঞান যা পরিচালিত করে” এই শব্দগুলো তাকে কৌতূহলী করে তোলে। জুলাই মাসে তিনি বাইবেল অধ্যয়ন শুরু করতে রাজি হন। আগস্ট মাসে তিনি একটা জেলা সম্মেলনে আসেন আর পুরো সময়টা মন দিয়ে শোনেন। সেই মাসের শেষে তিনি তার গির্জা ছেড়ে দেন আর একজন অবাপ্তাইজিত প্রকাশক হন। ১৯৯৭ সালের নভেম্বর মাসে তিনি বাপ্তিস্ম নেন।

১৭, ১৮. অদৃশ্য বিষয়গুলোকে ‘দেখতে’ সোসাইটির ভিডিও কিভাবে বিভিন্ন ব্যক্তিদের সাহায্য করেছিল?

১৭ সোসাইটির ভিডিও অনেককে আধ্যাত্মিক বিষয়গুলোকে ‘দেখতে’ সাহায্য করেছিল। মরিসাসে একজন ভদ্রলোক তার গির্জা ছেড়ে দিয়েছিলেন কারণ গির্জার লোকেদের মধ্যে বিন্দুমাত্র একতা ছিল না। একজন সাক্ষী তাকে ঐশিক শিক্ষায় একতাবদ্ধ ভিডিওটি দেখিয়ে যিহোবার সাক্ষীদের একতাকে দেখিয়েছিলেন। সেই ভদ্রলোকের এটা এতই ভাল লেগেছিল যে তিনি বলেন: “সত্যিই যিহোবার সাক্ষীরা এখনই পরমদেশে বাস করছেন!” তিনি বাইবেল অধ্যয়ন করতে রাজি হয়েছিলেন। জাপানে একজন বোন তার অবিশ্বাসী স্বামীকে যিহোবার সাক্ষীরা—নামের পিছনে যে সংগঠন ভিডিওটা দেখান আর এটা দেখার পর তিনি নিয়মিতভাবে বাইবেল অধ্যয়ন করার জন্য রাজি হয়েছিলেন। ঐশিক শিক্ষায় একতাবদ্ধ ভিডিওটা দেখার পর তিনি একজন যিহোবার সাক্ষী হতে চেয়েছিলেন। তিন ভাগে বিভক্ত ধারাবাহিক ভিডিও বাইবেল—তথ্য ও ভবিষ্যদ্বাণীর একটি বই তাকে তার নিজের জীবনে বাইবেলের নীতিগুলো কাজে লাগাতে সাহায্য করেছিল। শেষে নাৎসী আক্রমণের বিরুদ্ধে যিহোবার সাক্ষীদের দৃঢ়তা নামের ভিডিওটি থেকে তিনি দেখেছিলেন যে যিহোবা তাঁর লোকেদের শয়তানের আক্রমণের মুখে শক্তি যোগান। ১৯৯৭ সালের অক্টোবর মাসে সেই ভদ্রলোক বাপ্তিস্ম নেন।

১৮ গত পরিচর্যা বছরে আমাদের হয়েছে এমন অনেক অনেক অভিজ্ঞতাগুলোর মধ্যে এগুলো মাত্র কয়েকটা। এগুলো দেখায় যে যিহোবার সাক্ষীদের বিশ্বাস জীবন্ত ও সক্রিয় আর যিহোবা তাদের কাজকে আশীর্বাদ করে তাদের এই বিশ্বাসকে শক্তিশালী করেন।—যাকোব ২:১৭.

আজকে বিশ্বাস গড়ে তুলুন

১৯. (ক) আমরা কিভাবে অব্রাহামের চেয়ে ভাল জায়গায় রয়েছি? (খ) যীশুর আত্মত্যাগমূলক বলিদানকে উদ্‌যাপন করার জন্য গতবছর কত জন একত্রিত হয়েছিলেন? (গ) গতবছর কোন্‌ দেশগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লোকেরা স্মরণার্থক উদ্‌যাপন করেছিলেন? (১২ থেকে ১৫ পৃষ্ঠার তালিকাতে দেখুন।)

১৯ অনেক দিক দিয়ে এখন আমরা অব্রাহামের চেয়ে অনেক ভাল জায়গায় আছি। আমরা জানি যে যিহোবা অব্রাহামের কাছে যত প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তার সমস্তকিছু পূর্ণ করেছিলেন। অব্রাহামের বংশধরেরা কনান দেশ পেয়েছিল আর তারা একটা বিরাট জাতিও হয়ে উঠেছিল। (১ রাজাবলি ৪:২০; ইব্রীয় ১১:১২) এছাড়াও অব্রাহাম হারণ ছাড়ার ১,৯৭১ বছর পর তার একজন বংশধর, যীশু যোহন বাপ্তাইজকের কাছে জলে বাপ্তিস্ম নিয়েছিলেন আর তখন যিহোবা নিজে পবিত্র আত্মা দিয়ে তাঁকে অভিষিক্ত করেছিলেন, তিনি মশীহ হয়েছিলেন, সম্পূর্ণ আধ্যাত্মিক অর্থে তিনি ছিলেন অব্রাহামের বংশ। (মথি ৩:১৬, ১৭; গালাতীয় ৩:১৬) সা.কা. ৩৩ সালের ১৪ই নিশান যারা তাঁর উপর বিশ্বাস রাখবেন তাদের জন্য যীশু তাঁর জীবন মুক্তির মূল্য হিসাবে অর্পণ করেছিলেন। (মথি ২০:২৮; যোহন ৩:১৬) লক্ষ লক্ষ লোকেরা এখন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আশীর্বাদ পেতে পারেন। গতবছর ১,৩৮,৯৬,৩১২ জন প্রেমের এই অপূর্ব ঘটনাকে উদ্‌যাপন করার জন্য ১৪ই নিশান একত্রিত হয়েছিলেন। সমস্ত প্রতিজ্ঞার মহান রক্ষক যিহোবার জন্য এটা কতই না বড় বিজয়!

২০, ২১. (ক) প্রথম শতাব্দীতে কিভাবে লোকেরা অব্রাহামের বংশের মাধ্যমে আশীর্বাদ লাভ করেছিলেন আর আজকে তারা কিভাবে নিজেদের আশীর্বাদ পাওয়ার যোগ্য করে তুলছেন?

২০ প্রথম শতাব্দীতে সমস্ত জাতি থেকে অনেক লোকেরা—যারা মাংসিক ইস্রায়েল ছিলেন অব্রাহামের বংশে বিশ্বাস দেখিয়েছিলেন আর যিহোবার অভিষিক্ত ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন তারা এক নতুন আধ্যাত্মিক “ঈশ্বরের ইস্রায়েলের” সদস্য হয়েছিলেন। (গালাতীয় ৩:২৬-২৯; ৬:১৬; প্রেরিত ৩:২৫, ২৬) ঈশ্বরের রাজ্যের সহশাসক হিসাবে তারা যে স্বর্গে অমর জীবন লাভ করবেন সে সম্বন্ধে তাদের এক নিশ্চিত আশা ছিল। কেবল ১,৪৪,০০০ জনই এই আশীর্বাদ পাবেন আর তাদের মধ্যে খুব অল্প জনই এখন পৃথিবীতে আছেন। (প্রকাশিত বাক্য ৫:৯, ১০; ৭:৪) গত বছর স্মরণার্থক উদ্‌যাপনের সময় এই ১,৪৪,০০০ জনের মধ্যে ৮,৭৫৬ জন স্মরণার্থক প্রতীক গ্রহণ করে তাদের বিশ্বাসের প্রমাণ দিয়েছিলেন।

২১ আজকে যিহোবার সাক্ষীদের প্রায় সকলেই প্রকাশিত বাক্য ৭:৯-১৭ পদের ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে সেই “বিস্তর লোক”-দের অংশ। যেহেতু তারা যীশু খ্রীষ্টের মুক্তির মূল্য থেকে উপকার পাওয়ার যোগ্য তাই তাদের পরমদেশ পৃথিবীতে অনন্ত জীবন পাওয়ার আশা আছে। (প্রকাশিত বাক্য ২১:৩-৫) ১৯৯৮ সালে ৫৮,৮৮,৬৫০ জন ব্যক্তি প্রচার কাজে অংশ নিয়ে প্রমাণ করেছিলেন যে এই জনতা সত্যিই “বিরাট।” আর রাশিয়া ও ইউক্রেনে প্রথমবার ১,০০,০০০ জনের বেশি প্রকাশককে রিপোর্ট দিতে দেখা সত্যিই রোমাঞ্চকর ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের রিপোর্টও উল্লেখযোগ্য ছিল, আগস্ট মাসে সেখানে ১০,৪০,২৮৩ জন প্রকাশক রিপোর্ট দিয়েছিলেন! এগুলো শুধু সেই ১৯টা দেশের মধ্যে তিনটে যে দেশগুলোতে গত বছর ১,০০,০০০ জনেরও বেশি প্রকাশকেরা রিপোর্ট দিয়েছিলেন।

আশা তাড়াতাড়িই পূর্ণ হবে

২২, ২৩. (ক) আজকে কেন আমাদের হৃদয়কে দৃঢ় করা উচিত? (খ) আমরা কিভাবে প্রমাণ করতে পারি যে আমরা অব্রাহামের মতো কিন্তু সেই বিশ্বাসহীন ব্যক্তিদের মতো নই যাদের কথা পৌল উল্লেখ করেছিলেন?

২২ স্মরণার্থক সভার উপস্থিতি আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছিল যে যিহোবার প্রতিজ্ঞার পূর্ণতায় আমরা কতদূর এসে পৌঁছেছি। ১৯১৪ সালে যীশু স্বর্গীয় রাজ্যের রাজা হিসাবে অধিষ্ঠিত হয়েছেন আর তখন থেকেই রাজ্যের ক্ষমতায় যীশুর উপস্থিতি শুরু হয়। (মথি ২৪:৩; প্রকাশিত বাক্য ১১:১৫) হ্যাঁ অব্রাহামের বংশ এখন স্বর্গে রাজত্ব করছেন। যাকোব তার দিনের খ্রীষ্টানদের বলেছিলেন: “তোমরাও দীর্ঘসহিষ্ণু থাক, আপন আপন হৃদয় সুস্থির কর, কেননা প্রভুর আগমন [উপস্থিতি] সন্নিকট।” (যাকোব ৫:৮) সেই উপস্থিতি এখন এক বাস্তব বিষয়! তাই এখনই আমাদের হৃদয়কে সুস্থির করা কতই না জরুরি!

২৩ তাই আসুন নিয়মিত বাইবেল অধ্যয়ন ও অর্থপূর্ণ প্রার্থনা করে আমরা যিহোবার প্রতিজ্ঞার উপর আমাদের আস্থাকে নতুন করে শক্তিশালী করে চলি। আমরা যেন তাঁর বাধ্য থাকি আর কখনও যেন তাঁর আশীর্বাদ থেকে বঞ্চিত না হই। তাহলেই আমরা অব্রাহামের মতো হব কিন্তু তাদের মতো নয় যাদের বিশ্বাস দুর্বল হয়ে পড়েছিল আর যারা হারিয়ে গিয়েছিলেন বলে পৌল উল্লেখ করেছিলেন। আমাদের পরম পবিত্র বিশ্বাস থেকে কিছুই আমাদের পৃথক করতে পারবে না। (যিহূদা ২০) আমরা প্রার্থনা করি যে ১৯৯৯ পরিচর্যা বছরে ও অনন্ত ভবিষ্যতে সমস্ত যিহোবার সাক্ষীদের জন্য এটি সত্য হোক।

আপনি কি জানেন?

◻ আজকে আমরা কিভাবে ঈশ্বরের কথা শুনতে পারি?

◻ ঈশ্বরের কাছে অর্থপূর্ণ প্রার্থনা করলে আমরা কোন্‌ কোন্‌ উপকার পেতে পারি?

◻ যদি আমরা বাধ্যতার সঙ্গে যিহোবার নির্দেশনা মেনে চলি আমাদের বিশ্বাস কিভাবে শক্তিশালী হবে?

◻ বার্ষিক রিপোর্টের (১২ থেকে ১৫ পৃষ্ঠায়) কোন্‌ দিকগুলোকে আপনি আগ্রহজনক বলে মনে করেন?

[১২-১৫ পৃষ্ঠার তালিকা]

বিশ্বব্যাপী যিহোবার সাক্ষীদের ১৯৯৮ পরিচর্যা বছরের রিপোর্ট

(পুরোপুরি ফরম্যাট করা টেক্সটের জন্য এই প্রকাশনা দেখুন)

[১৬ পৃষ্ঠার চিত্র]

যদি আমরা যিহোবার কথা শুনি, তাহলে তাঁর প্রতিজ্ঞার উপর আমাদের আস্থা নতুন করে শক্তিশালী হবে

[১৮ পৃষ্ঠার চিত্র]

যখন আমরা পরিচর্যায় অংশ নিই আমাদের বিশ্বাস আরও শক্তিশালী হয়

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার