বেছে নেওয়ার অধিকারের পক্ষে একটি রায়
নিখিলবিশ্বের মহামান্য ব্যক্তি নিজে আমাদের জেনেশুনে বেছে নেওয়ার অধিকারকে সমর্থন করেন। তিনি হলেন আমাদের সৃষ্টিকর্তা। মানুষের প্রয়োজনগুলি সম্বন্ধে তিনিই সবচেয়ে ভাল জানায়, কোন্ পথে আমাদের চলা দরকার সেই বিষয়ে তিনি উদারভাবে অনেক শিক্ষা, সতর্কবাণী ও নির্দেশনা দেন। তবুও, তিনি স্বাধীন ইচ্ছাকে অসম্মান করেন না যা তিনি তাঁর বুদ্ধিমান সৃষ্টির মধ্যে দিয়েছেন। ভাববাদী মোশি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রকাশ করেছিলেন: “আমি তোমার সম্মুখে জীবন ও মৃত্যু, আশীর্ব্বাদ ও শাপ রাখিলাম। অতএব জীবন মনোনীত কর, যেন তুমি সবংশে বাঁচিতে পার।”—দ্বিতীয় বিবরণ ৩০:১৯.
এই একই নীতি চিকিৎসার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সবকিছু জেনেশুনে বেছে নেওয়া কিংবা জেনেশুনে সম্মতি দেওয়ার অধিকার ধীরে ধীরে জাপান ও অন্যান্য দেশে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে, যেখানে অতীতে এটি সচরাচর দেখা যেত না। ডা. মিচিতারো নাকামুরা জেনেশুনে সম্মতি দেওয়াকে এইভাবে বর্ণনা করেন: “এটি এমন একটি বিষয় যে ডাক্তার রোগীর চিকিৎসা পদ্ধতি বেছে নেওয়ার অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে, তাকে সরল ভাষায় বুঝিয়ে দেন তার কি অসুখ হয়েছে, এই অসুখ ভাল হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু, কিভাবে চিকিৎসা করা হবে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী হতে পারে।”—জাপান মেডিকেল জার্নাল।
বহু বছর ধরে, জাপানের ডাক্তাররা রোগীদের সঙ্গে এইধরনের আলোচনার বিপক্ষে নানা যুক্তি খাঁড়া করেছেন আর আদালতগুলির মধ্যেও সবসময় ডাক্তারদেরকে সমর্থন করার প্রবণতা দেখা গিয়েছে। তাই ১৯৯৮ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি যখন টোকিও উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারক টাকিও ইনাবা জেনেশুনে বেছে নেওয়ার অধিকারের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন তখন এটি ইতিহাসকে বদলে দিয়েছিল। সেই রায়টি কী ছিল আর সেই মামলার বিষয়টিই বা কী ছিল যেটিকে আদালতে নিয়ে আসা হয়েছিল?
১৯৯২ সালের জুলাই মাসে, মিসায়ি টাকিডা নামে ৬৩ বছর বয়স্কা একজন যিহোবার সাক্ষী টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্স হাসপাতালে যান। তার যকৃতে এক মারাত্মক টিউমার ধরা পড়ায় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। রক্তের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে বাইবেল যে আদেশ দেয় তাতে স্থির থাকার জন্যে তিনি তার চিকিৎসকদের স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে তিনি কেবল এমন চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করবেন যেখানে কোন রক্ত লাগে না। (আদিপুস্তক ৯:৩, ৪; প্রেরিত ১৫:২৯) চিকিৎসকেরা তার কাছ থেকে একটি দায়মুক্তির চুক্তিপত্র নেন যেখানে লেখা ছিল যে এই রোগীর সিদ্ধান্তের ফলে যা কিছুই হোক না কেন তার জন্য ডাক্তাররা ও হাসপাতাল দায়ী হবে না। তারা তাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে তার ইচ্ছানুযায়ীই সবকিছু করা হবে।
কিন্তু, অস্ত্রোপচারের পর মিসায়ি যখন অচেতন অবস্থায় ছিলেন, তখন তাকে রক্ত দেওয়া হয়েছিল আর তা তার স্পষ্টভাবে ব্যক্ত ইচ্ছার বিরুদ্ধে করা হয়েছিল। এই অনধিকার রক্তপ্রদানের গোপনীয়তা প্রকাশ হয়ে পড়ে যখন হাসপাতালের একজন কর্মী এক সংবাদদাতার কাছে তা ফাঁস করে দিয়েছিলেন। এই আন্তরিক খ্রীষ্টান মহিলা অনধিকার রক্তপ্রদানের বিষয়টি জানার পর মানসিকভাবে কতটা ভেঙ্গে পড়েছিলেন তা নিশ্চয়ই আপনি বুঝতে পারেন। তিনি মেডিকেল কর্মচারীদের বিশ্বাস করেছিলেন, মনে করেছিলেন যে তারা তাদের কথা রাখবেন ও তার ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবেন। ডাক্তার/রোগীর সম্পর্কের এই চরম অবমাননায় তিনি যে মানসিক যন্ত্রণা পেয়েছেন সেই কারণে এবং চিকিৎসকদের এইধরনের অপব্যবহারের শিকার অন্যরা যাতে না হন তার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের আশায়, তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন।
সরকারি আদেশ ও ঈশ্বরের মান
টোকিও জেলা আদালতের তিনজন বিচারক মামলাটি শুনে চিকিৎসকদের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন আর এইভাবে জেনেশুনে বেছে নেওয়ার অধিকারের বিপক্ষে গিয়েছিলেন। ১৯৯৭ সালের ২রা মার্চ তাদের ঘোষিত রায়ে, তারা উল্লেখ করেছিলেন যে একেবারে রক্ত ছাড়া চিকিৎসার জন্য চুক্তি করা মূল্যহীন। তারা এই বিষয়ে যুক্তি দেখিয়েছিলেন, এমনকি রোগীর মুমূর্ষু অবস্থা হলেও রক্ত দেওয়া যাবে না এইরকম একটি বিশেষ চুক্তি করা একজন চিকিৎসকের জন্য কোজু রিয়োজুকুa কিংবা সামাজিক মানকে লঙ্ঘন করা হবে। তাদের অভিমত ছিল যে একজন ডাক্তারের প্রধান কর্তব্য হল, যে কোন উপায়ে রোগীর জীবন রক্ষা করা তাই এইধরনের একটি চুক্তি শুরু থেকেই ভিত্তিহীন আর রোগীর ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা বিবেচনা করার কোন প্রশ্নই আসে না। চূড়ান্ত বিশ্লেষণের পর তাদের রায় ছিল, একজন রোগী চিকিৎসার ব্যাপারে পূর্বে যে কোন অনুরোধই করুক না কেন তার চেয়ে চিকিৎসকের পেশাগত মতামতকে বেশি প্রাধান্য দিতে হবে।
এছাড়াও, বিচারকেরা উল্লেখ করেছিলেন যে একই কারণে প্রস্তাবিত অস্ত্রোপচারের মৌলিক প্রক্রিয়া, ফলাফল ও ঝুঁকিগুলি সম্বন্ধে রোগীকে বলার সময় একজন চিকিৎসক “রক্ত ব্যবহার করবেন কি না তা নাও বলতে পারেন।” তাদের রায় ছিল: “এটিকে কোনভাবেই বে-আইনী কিংবা অনুপযুক্ত বলা যেতে পারে না যদি ডাক্তাররা রোগীর কোন অবস্থাতেই রক্ত না নেওয়ার ইচ্ছার সঙ্গে একমত হয়েছিলেন এবং এমন ভাব দেখিয়েছিলেন যেন তারা তার ইচ্ছাকে সম্মান করবেন আর এইভাবেই তাকে অস্ত্রোপচার করাতে রাজি করিয়েছিলেন।” ভাবটা এমন ছিল যেন চিকিৎসকেরা যদি তা না করতেন, তাহলে রোগী হয়ত অস্ত্রোপচার না করেই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যেতেন।
আদালতের সেই রায় জেনেশুনে বেছে নেওয়ার অধিকারের পক্ষের উকিলদের হতভম্ব ও উদ্বিগ্ন করেছিল। টাকিডা মামলার রায় ও জাপানে জেনেশুনে বেছে নেওয়ার অধিকারের কার্যকারিতা সম্বন্ধে আলোচনা করতে গিয়ে, দেওয়ানি আইনের একজন প্রধান বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক টাকায়ো ইয়ামাডা লিখেছিলেন: “এই রায়কে যদি কার্যকর করার অনুমতি দেওয়া হয়, তবে রক্ত না নেওয়ার অধিকার ও জেনেশুনে বেছে নেওয়ার অধিকারের বৈধ নীতিগুলি বাতাসে নিভু নিভু এক মোমবাতির মতো হবে।” (আইনসংক্রান্ত পত্রিকা হোগাকু কিয়োসিৎসু) কঠোর ভাষায় তিনি জোর করে রক্ত দেওয়াকে “অতর্কিত হামলার মতোই, এক চরম বিশ্বাসঘাতকতা” বলে নিন্দা করেছিলেন। অধ্যাপক ইয়ামাডা আরও বলেছিলেন যে এইধরনের বিশ্বাসভঙ্গকারী কাজকে “কখনই অনুমতি দেওয়া” উচিত নয়।
বিনয়ী স্বভাবের হওয়ায় এই বহুল আলোচিত বিষয়টিতে নিজেকে জড়ানো মিসায়ির পক্ষে কঠিন ছিল। কিন্তু যিহোবার নাম এবং রক্তের পবিত্রতা সম্বন্ধীয় ধার্মিক মানদণ্ডগুলির পক্ষ সমর্থনে তিনিও অংশ নিতে পারেন তা উপলব্ধি করে, তিনি তার কর্তব্য পালন করার জন্য দৃঢ়সংকল্প ছিলেন। তিনি তার উকিলকে লিখেছিলেন: “আমি ধূলিকণার মতোই, এমনকি তার চেয়েও নগণ্য। আমি ভেবে আশ্চর্য হই যে আমার মতো এমন অযোগ্য ব্যক্তিকে কেন ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু আমি যখন যিহোবা—যিনি পাথরকে দিয়ে কথা বলাতে পারেন—তাঁর আদেশ অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করব, তখন তিনি আমাকে অবশ্যই শক্তি দেবেন।” (মথি ১০:১৮; লূক ১৯:৪০) বিচার চলাকালে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময়, তিনি বিশ্বাসঘাতকতার ফলে যে মানসিক যন্ত্রণা পেয়েছেন তা কাঁপা কাঁপা স্বরে বলেছিলেন। “একজন মহিলাকে ধর্ষণ করলে তার যেমন অনুভূতি হয়, তেমনই আমার মনে হয়েছিল যেন আমার সতীত্ব হনন করা হয়েছে।” ওই দিন তার সাক্ষ্য শুনে আদালতকক্ষের অধিকাংশ লোকই কেঁদেছিলেন।
অপ্রত্যাশিত উৎসাহ
জেলা আদালত রায় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওই মামলার বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপীল করা হয়েছিল। ১৯৯৭ সালের জুলাই মাসে আপীলকৃত আদালতে বিচার শুরু হয় আর তখন শীর্ণ কিন্তু দৃঢ়সংকল্প মিসায়ি হুইলচেয়ারে করে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আবারও ক্যান্সার দেখা দেওয়ায় তিনি দুর্বল হয়ে পড়ছিলেন। মিসায়ি অত্যন্ত উৎসাহিত হয়েছিলেন যখন প্রধান বিচারক এক লক্ষণীয় পদক্ষেপ নিয়ে স্পষ্টভাবে আদেশনামাটি পড়েছিলেন যে আদালত মামলাটি গ্রহণ করার বিষয় মনস্থ করেছে। তিনি পরিষ্কারভাবে বলেছিলেন, আপীলকৃত আদালত নিম্ন আদালতের রায়ের সঙ্গে একমত নয়, যেটি ছিল একজন চিকিৎসকের রোগীর ইচ্ছাকে উপেক্ষা করার অধিকার আছে আর তিনি এমন ভাব দেখাতে পারেন যেন তিনি রোগীর ইচ্ছা পূরণ করতে যাচ্ছেন কিন্তু গোপনে অন্যকিছু করার জন্য সংকল্পবদ্ধ। প্রধান বিচারক বলেছিলেন, আদালত “শিরাশিমু বেকারাজু ইয়োরাশিমু বেশী,”b এর উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া নীতিকে সমর্থন করবে না যার অর্থ চিকিৎসা সম্বন্ধে “তাদের অজ্ঞ রাখ ও নির্ভরশীল কর।” মিসায়ি পরে বলেছিলেন: “আমি বিচারকের নিরপেক্ষ বক্তব্য শুনে অত্যন্ত খুশি হয়েছিলাম, যেটি জেলা আদালতের দেওয়া পূর্ববর্তী রায় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।” তিনি আরও বলেছিলেন: “এমন একটি ফলাফলের জন্যই আমি যিহোবার কাছে প্রার্থনা করে এসেছি।”
পরের মাসে মিসায়ি স্নেহশীল পরিবার ও অন্য একটি হাসপাতালের কর্মচারীদের মাঝে মারা যান। ওই হাসপাতালের কর্মচারীরা তার আন্তরিক বিশ্বাসকে উপলব্ধি করেছিলেন ও সেটির প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত হওয়া সত্ত্বেও, তার ছেলে মাসামি ও পরিবারের অন্যান্য সদস্য তার ইচ্ছার সঙ্গে মিল রেখে মামলাটির শেষ দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
রায়
পরিশেষে, ১৯৯৮ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালতের তিনজন বিচারক নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে দিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন। ছোট আদালতকক্ষে সংবাদদাতা, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন যারা এই বিচারের প্রতি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগী ছিলেন। নামকরা সংবাদপত্র ও টেলিভিশন কেন্দ্রগুলি এই রায়ের উপর প্রতিবেদন তৈরি করেছিল। কয়েকটি শিরোনাম এইভাবে উল্লেখ করে: “আদালত: রোগীরা চিকিৎসা পদ্ধতি প্রত্যাখ্যান করতে পারেন”; “উচ্চ আদালত: রক্ত দেওয়া ন্যায্য অধিকারগুলিকে লঙ্ঘন করে”; “যে ডাক্তারগণ জোরপূর্বক রক্ত দিয়েছিলেন তারা আদালতে পরাজিত” এবং “রক্ত দেওয়ার কারণে যিহোবার সাক্ষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।”
এই রায়ের উপর প্রতিবেদনগুলি যথার্থ এবং আশাতীতভাবে অনুকূলে ছিল। দ্যা ডেইলি ইয়োমিয়োরি উল্লেখ করেছিল: “বিচারক টাকিয়ো ইনাবা বলেছিলেন যে একজন রোগী যে পদ্ধতি প্রত্যাখ্যান করেছেন তা অবলম্বন করা ডাক্তারদের কখনই উচিত হয়নি।” এটি স্পষ্টভাবে আরও বলেছিল: “যে ডাক্তাররা [রক্ত দিয়েছিলেন] তারা তাকে তার চিকিৎসা পদ্ধতি বেছে নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছিলেন।”
আসাহি শিমবুন উল্লেখ করেছিল, এই মামলায় আদালত যখন মনে করেছিল যে এমনকি মুমূর্ষু অবস্থায়ও রক্ত দেওয়া যাবে না এই বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়ে যে চুক্তি করেছেন তার সামান্যই প্রমাণ আছে, তখন বিচারকরা এইধরনের চুক্তির বৈধতার উপর নিম্ন আদালতের রায় সম্বন্ধে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছিলেন: “কোন অবস্থায়ই রক্ত দেওয়া যাবে না এই সম্বন্ধে দুই পক্ষের মধ্যে যদি একটি সুবিবেচিত চুক্তি হয়, তবে এই আদালত এটিকে সরকারি আদেশের বিরুদ্ধ বলে মনে করে না, ফলে এই রায় ভিত্তিহীন।” এছাড়াও, এই সংবাদ পত্রটি বিচারকদের মতামত সম্বন্ধে উল্লেখ করেছিল যে “প্রতিটি মানুষই একদিন না একদিন মারা যাবে ফলে প্রত্যেক ব্যক্তিই মৃত্যুর সেই ক্ষণকে বেছে নিতে পারেন।”
আসলে, যিহোবার সাক্ষীরা এই বিষয়ে গবেষণা করেছেন এবং দৃঢ়প্রত্যয়ী হয়েছেন যে তারা বেঁচে থাকার সবচেয়ে ভাল পদ্ধতিই বেছে নিয়েছেন। এর অন্তর্ভুক্ত রক্তগ্রহণের পরিচিত ঝুঁকিগুলি প্রত্যাখ্যান করা এবং বিভিন্ন দেশে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ও ঈশ্বরের আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ পদ্ধতিগুলি গ্রহণ করা যেগুলিতে কোন রক্ত লাগে না। (প্রেরিত ২১:২৫) সাংবিধানিক আইনের একজন সুপরিচিত জাপানি অধ্যক্ষ উল্লেখ করেছিলেন: “বাস্তবে, [রক্তগ্রহণ] চিকিৎসা পদ্ধতি প্রত্যাখ্যান করা ‘কিভাবে মারা যাওয়া যায়’ তা বেছে নেওয়া নয় বরং কিভাবে বেঁচে থাকা যায় তা বেছে নেওয়া।”
উচ্চ আদালতের রায় শুনে চিকিৎসকদের এই বিষয়ে সতর্ক হওয়া উচিত যে তাদের অবাধ অধিকারগুলি, কিছুজন যতটা ভেবেছিলেন ততটা ব্যাপক নয়। আর এর ফলে বিভিন্ন হাসপাতালের নীতি সম্পর্কিত নির্দেশাবলি প্রতিষ্ঠা করা উচিত। যখন আদালতের এই রায়টি সর্বজনীনভাবে গ্রহণ করা হয়েছে ও তা রোগীদের, যাদের মতামত প্রকাশের অধিকার বলতে গেলে ছিলই না তাদের উৎসাহিত করছে, তখন সংশ্লিষ্ট সকলেই এটি সম্পূর্ণভাবে মেনে নেয়নি। সরকারি হাসপাতাল ও তিনজন চিকিৎসক মামলাটির বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতে আপীল করেছে। তাই আমাদের দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে যে জাপানের সর্বোচ্চ আদালতও রোগীর অধিকারকে সমর্থন করে কি না, যেমন নিখিলবিশ্বের সার্বভৌম কর্তা করেন।
[পাদটীকাগুলো]
a এটি এমন একটি ধারণা যার কোন আইনগত সংজ্ঞা নেই আর এটিকে ব্যাখ্যা ও কার্যকর করার ভার ম্যাজিস্ট্রেটের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়।
b এটি ছিল টোকুগাওয়া যুগের সামন্ততান্ত্রিক জমিদারদের নীতি যেটি, কিভাবে তাদের প্রজাদের শাসন করা উচিত তার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।