ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৮ ৯/১ পৃষ্ঠা ৪-৭
  • আপনার বিবেকের উপর আপনি কি আস্থা রাখতে পারেন?

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • আপনার বিবেকের উপর আপনি কি আস্থা রাখতে পারেন?
  • ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • বিবেককে প্রশিক্ষণ দেওয়া
  • ঈশ্বরের চিন্তাধারার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হওয়া
  • বিবেককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি সহায়ক
  • “খ্রীষ্টের মন” অর্জন করা
  • এক প্রশিক্ষিত বিবেক থেকে উপকৃত হওয়া
  • কীভাবে আপনি এক উত্তম বিবেক বজায় রাখতে পারেন?
    “ঈশ্বরের প্রেমে আপনাদিগকে রক্ষা কর”
  • আপনার বিবেক কি সুশিক্ষিত?
    ২০০৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • ভিতর থেকে আসা রব শুনুন
    ২০০৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • কীভাবে আমি আমার বিবেককে প্রশিক্ষিত করতে পারি?
    যুবক-যুবতীদের জিজ্ঞাস্য
আরও দেখুন
১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৮ ৯/১ পৃষ্ঠা ৪-৭

আপনার বিবেকের উপর আপনি কি আস্থা রাখতে পারেন?

স্বাভাবিক অবস্থায়, দিঙ্‌নির্ণয় যন্ত্র একটি নির্ভরযোগ্য যন্ত্র। এর কাঁটা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের দ্বারা নির্দেশিত ও সর্বদা উত্তরমুখী থাকে। তাই ভ্রমণকারীরা পথনির্দেশের জন্য দিঙ্‌নির্ণয় যন্ত্রের উপর নির্ভর করতে পারেন যখন তাদের নির্দেশনা দেওয়ার জন্য অন্য কোন পথনির্দেশক থাকে না। কিন্তু একটি চৌম্বক শক্তিসম্পন্ন বস্তু দিঙ্‌নির্ণয় যন্ত্রের নিকটে স্থাপন করা হলে কী ঘটে? কাঁটাটি উত্তরমুখী হওয়ার পরিবর্তে চুম্বকের দিকে ঘুরে যায়। এটি তখন আর নির্ভরযোগ্য নির্দেশক থাকে না।

মানুষের বিবেকের ক্ষেত্রেও কিছুটা একইরকম বিষয় ঘটতে পারে। সৃষ্টিকর্তা এক নির্ভরযোগ্য নির্দেশক হিসাবে কাজ করার জন্য এই ক্ষমতা আমাদের মধ্যে দিয়েছিলেন। যেহেতু আমাদের ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে তৈরি করা হয়েছে, তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হলে বিবেকের সর্বদা আমাদেরকে সঠিক পথে নির্দেশিত করা উচিত। ঈশ্বরের নৈতিক মানদণ্ডগুলি প্রতিফলিত করার জন্য এটির আমাদেরকে প্রণোদিত করা উচিত। (আদিপুস্তক ১:২৭) আর প্রায়ই, এটি তা করে। উদাহরণস্বরূপ, খ্রীষ্টীয় প্রেরিত পৌল লিখেছিলেন যে এমনকি কিছুজন যারা ঈশ্বরের প্রকাশিত ব্যবস্থা পান নাই তারাও “স্বভাবতঃ ব্যবস্থানুযায়ী আচরণ করে।” কেন? কারণ “তাহাদের সংবেদও সঙ্গে সঙ্গে সাক্ষ্য দেয়।”—রোমীয় ২:১৪, ১৫.

তাসত্ত্বেও, বিবেক সবসময় সাড়া দেয় না যখন এটির তা করা উচিত। মানব অসিদ্ধতার কারণে, আমরা সেইসব কাজ করতে পরিচালিত হই যেগুলিকে আমরা অন্যায় বলে জানি। “বস্তুতঃ আন্তরিক মানুষের ভাব অনুসারে আমি ঈশ্বরের ব্যবস্থায় আমোদ করি। কিন্তু আমার অঙ্গপ্রত্যঙ্গে অন্য প্রকার এক ব্যবস্থা দেখিতে পাইতেছি; তাহা আমার মনের ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, এবং পাপের যে ব্যবস্থা আমার অঙ্গপ্রত্যঙ্গে আছে, আমাকে তাহার বন্দি দাস করে,” পৌল স্বীকার করেছিলেন। (রোমীয় ৭:২২, ২৩) আমরা যদি প্রায়ই অন্যায় প্রবণতাগুলি মেনে নিই, তাহলে আমাদের বিবেক হয়ত ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে যেতে পারে এবং পরিণতিস্বরূপ এটি আমাদের বলা বন্ধ করে দেবে যে এইধরনের আচরণ অন্যায়।

কিন্তু, অসিদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা আমাদের বিবেককে ঈশ্বরের মানদণ্ডগুলির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ রাখতে পারি। বাস্তবিক পক্ষে, আমাদের জন্য এটি করা অত্যাবশ্যক। এক শুদ্ধ, উপযুক্তরূপে প্রশিক্ষিত বিবেক কেবল ঈশ্বরের সঙ্গে এক উষ্ণ, ব্যক্তিগত সম্পর্কই তৈরি করে না কিন্তু এটি আমাদের পরিত্রাণের জন্যও অপরিহার্য। (ইব্রীয় ১০:২২; ১ পিতর ১:১৫, ১৬) অধিকন্তু, এক উত্তম বিবেক জীবনে বিজ্ঞ সিদ্ধান্তগুলি নিতে আমাদের সাহায্য করবে যা আমাদের জন্য শান্তি ও সুখ নিয়ে আসবে। এইধরনের বিবেকসম্পন্ন একজন ব্যক্তি সম্বন্ধে গীতরচক বলেছিলেন: “তাহার ঈশ্বরের ব্যবস্থা তাহার অন্তরে আছে; তাহার পাদবিক্ষেপ টলিবে না।”—গীতসংহিতা ৩৭:৩১.

বিবেককে প্রশিক্ষণ দেওয়া

বিবেককে প্রশিক্ষণ দেওয়া কেবল ব্যবস্থার একটি তালিকা মুখস্থ করা ও তারপর সেগুলি কঠোরভাবে মেনে চলার চেয়ে আরও বেশি কিছুকে বোঝায়। যীশুর দিনের ফরীশীরা এটিই করেছিলেন। এই ধর্মীয় নেতারা ব্যবস্থা জানতেন এবং এক বিশদ পরম্পরাগত রীতি গড়ে তুলেছিলেন যা লোকেদের ব্যবস্থা লঙ্ঘন করা এড়াতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হয়েছিল। তাই, যীশুর শিষ্যরা যখন বিশ্রামবারে শস্য ছিঁড়ে তার দানা খেয়েছিলেন তখন তারা সঙ্গে সঙ্গে বাধা দিয়েছিলেন। আর যীশু যখন বিশ্রামবারে একজন ব্যক্তির শুষ্ক হাত সুস্থ করেছিলেন তখন তারা এর বৈধতা সম্বন্ধে তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন। (মথি ১২:১, ২, ৯, ১০) ফরীশীদের পরম্পরাগত রীতি অনুসারে, এই উভয় কাজই চতুর্থ আজ্ঞাটি লঙ্ঘন করেছিল।—যাত্রাপুস্তক ২০:৮-১১.

স্পষ্টতই, ফরীশীরা ব্যবস্থা সম্বন্ধে দক্ষ ছিলেন। কিন্তু তাদের বিবেক কি ঈশ্বরের মানদণ্ডগুলির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল? একেবারেই নয়! কারণ, ফরীশীরা যেটিকে বিশ্রামবার নীতির মারাত্মক লঙ্ঘন বলে মনে করেছিলেন সেই তুচ্ছ বিষয়ে সমালোচনা করার পরক্ষণেই, “কি প্রকারে তাঁহাকে বিনষ্ট করিতে পারে” সেই বিষয়ে যীশুর বিরুদ্ধে পরামর্শ করেছিলেন। (মথি ১২:১৪) কল্পনা করুন—এই আত্মধার্মিক ধর্মীয় নেতারা বিশ্রামবারে শস্য ছিঁড়ে খাওয়া ও সুস্থ করার ঘটনায় আগ বাড়িয়ে কলহ করেছিলেন কিন্তু যীশুর মৃত্যু সম্বন্ধে পরিকল্পনা করায় তাদের কোন বিবেকের তাড়না ছিল না!

মহাযাজকেরাও একই বিকৃত চিন্তাধারা দেখিয়েছিলেন। যীশুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার জন্য মন্দিরের তহবিল থেকে যিহূদাকে ৩০টি রৌপ্য মুদ্রা দিতে চাওয়ার সময় এই দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তিরা একটুও অপরাধ বোধ করেননি। কিন্তু যিহূদা যখন অপ্রত্যাশিতভাবে অর্থ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ও তা মন্দিরে ছুঁড়ে ফেলেছিলেন তখন মহাযাজকদের বিবেক এক আইনী উভয় সংকটের সম্মুখীন হয়েছিল। তারা বলেছিলেন, “ইহা [মুদ্রাগুলি] ভাণ্ডারে রাখা বিধেয় নয়, কারণ ইহা রক্তের মূল্য।” (মথি ২৭:৩-৬) এটি স্পষ্ট যে মহাযাজকেরা চিন্তা করতে শুরু করেছিলেন যে যিহূদার অর্থ এখন অপরিচ্ছন্ন। (দ্বিতীয় বিবরণ ২৩:১৮ পদের সঙ্গে তুলনা করুন।) কিন্তু, এই ব্যক্তিরাই ঈশ্বরের পুত্রকে ধরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ ব্যয় করার মধ্যে কোন অন্যায় দেখতে পাননি!

ঈশ্বরের চিন্তাধারার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হওয়া

উপরোক্ত দৃষ্টান্তগুলি দেখায় যে বিবেককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অর্থ কী করতে হবে আর কী করতে হবে না তার একটি তালিকা দিয়ে মনকে পূর্ণ করার চেয়ে আরও বেশি কিছু দাবি করে। এটি স্বীকৃত যে, ঈশ্বরের ব্যবস্থা সম্বন্ধীয় জ্ঞান আবশ্যক এবং সেগুলির প্রতি বাধ্যতা পরিত্রাণের জন্য প্রয়োজনীয়। (গীতসংহিতা ১৯:৭-১১) কিন্তু, ঈশ্বরের ব্যবস্থা জানা ছাড়াও, আমাদের অবশ্যই এমন এক হৃদয় গড়ে তুলতে হবে যা ঈশ্বরের চিন্তাধারার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তখন আমরা যিশাইয়ের মাধ্যমে করা যিহোবার ভবিষ্যদ্বাণীর পরিপূর্ণতা অভিজ্ঞতা করতে পারি, যেটি উল্লেখ করে: “তোমার চক্ষু তোমার শিক্ষকগণকে দেখিতে পাইবে। আর দক্ষিণে কি বামে ফিরিবার সময়ে তোমার কর্ণ পশ্চাৎ হইতে এই বাণী শুনিতে পাইবে, এই পথ, তোমরা এই পথেই চল।”—যিশাইয় ৩০:২০, ২১; ৪৮:১৭.

অবশ্য, এর মানে নয় যে আমাদের যখন কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, তখন এক আক্ষরিক কণ্ঠস্বর আমাদের কী করতে হবে তা বলে দেবে। তাসত্ত্বেও, আমাদের চিন্তাধারা যখন ঈশ্বরের চিন্তাধারার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ, তখন আমাদের বিবেক সেই সিদ্ধান্তগুলি নিতে সাহায্য করার জন্য ভালভাবে প্রস্তুত থাকবে যা তাঁকে সন্তুষ্ট করে।—হিতোপদেশ ২৭:১১.

যোষেফের কথা বিবেচনা করুন যিনি সা.কা.পূ. অষ্টাদশ শতাব্দীতে জীবিত ছিলেন। পোটীফরের স্ত্রী যখন তাকে তার সঙ্গে ব্যভিচার করার জন্য জোর করেছিলেন, তখন যোষেফ তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এই বলে: “আমি কিরূপে এই মহা দুষ্কর্ম করিতে ও ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করিতে পারি?” (আদিপুস্তক ৩৯:৯) যোষেফের দিনে, ঈশ্বরের কাছ থেকে কোন লিখিত ব্যবস্থা ছিল না যা ব্যভিচারকে অন্যায় বলে ঘোষণা করে। অধিকন্তু, যোষেফ পারিবারিক শাসন কিংবা কূলপতিদের নিয়মগুলি থেকে দূরে মিশরে বাস করতেন। তাহলে, কী যোষেফকে প্রলোভন প্রতিরোধ করতে সমর্থ করেছিল? সহজ কথায় বলতে গেলে, এটি ছিল তার প্রশিক্ষিত বিবেক। যোষেফ ঈশ্বরের দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছিলেন যে একজন স্বামী ও স্ত্রী “একাঙ্গ” হবে। (আদিপুস্তক ২:২৪) তাই তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, অন্য ব্যক্তির স্ত্রীকে গ্রহণ করা অন্যায়। এই বিষয়ে যোষেফের চিন্তাধারা ঈশ্বরের চিন্তাধারার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল। তার নৈতিক বোধ ব্যভিচার করায় সাড়া দেয়নি।

আজকে, যোষেফের মত অল্পসংখ্যক লোক আছেন। যৌন অনৈতিকতা বেড়ে চলেছে আর নৈতিকভাবে পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য অনেকে তাদের সৃষ্টিকর্তার প্রতি, নিজেদের প্রতি কিংবা এমনকি তাদের সাথিদের প্রতি কোন দায় অনুভব করেন না। পরিস্থিতি অনেকটা যিরমিয়ের পুস্তকে বর্ণিত অবস্থার মত: “কেহ আপন দুষ্টতার জন্য অনুতাপ করিয়া বলে না, ‘হায়, আমি কি করিলাম!’ অশ্ব যেমন ঊর্দ্ধ্বশ্বাসে যুদ্ধে দৌড়িয়া যায়, তেমনি প্রত্যেক জন, আপন আপন ধাবন পথে ফিরে।” (যিরমিয় ৮:৬) অতএব, যে কোন সময়ের চেয়ে এখন আমাদের জন্য ঈশ্বরের চিন্তাধারার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হওয়া আরও অনেক বেশি প্রয়োজন। তা করতে সাহায্য করার জন্য আমাদের এক চমৎকার ব্যবস্থা আছে।

বিবেককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি সহায়ক

অনুপ্রাণিত শাস্ত্রলিপি “শিক্ষার, অনুযোগের, সংশোধনের, ধার্ম্মিকতা সম্বন্ধীয় শাসনের নিমিত্ত উপকারী, যেন ঈশ্বরের লোক পরিপক্ব, সমস্ত সৎকর্ম্মের জন্য সুসজ্জীভূত হয়।” (২ তীমথিয় ৩:১৬, ১৭) ন্যায়-অন্যায়কে পৃথক করার জন্য, বাইবেল যেটিকে আমাদের “জ্ঞানেন্দ্রিয় সকল” বলে অভিহিত করে সেটিকে প্রশিক্ষিত করতে বাইবেল অধ্যয়ন আমাদের সাহায্য করবে। (ইব্রীয় ৫:১৪) এটি ঈশ্বর যে বিষয়গুলি ভালবাসেন সেগুলির প্রতি ভালবাসা গড়ে তুলতে এবং যে বিষয়গুলি ঘৃণা করেন সেগুলিকে সম্পূর্ণরূপে ঘৃণা করতে আমাদের সক্ষম করবে।—গীতসংহিতা ৯৭:১০; ১৩৯:২১.

অতএব, বাইবেল অধ্যয়নের লক্ষ্য কেবল যান্ত্রিকভাবে জ্ঞান লাভ করার চেয়ে বরং সত্যের প্রকৃত অর্থ এবং ব্যবহারিক গুরুত্ব বোঝা। ১৯৭৬ সালের ১লা সেপ্টেম্বর সংখ্যার প্রহরীদুর্গ (ইংরাজি) মন্তব্য করেছিল: “আমাদের শাস্ত্র অধ্যয়নে ঈশ্বরের ন্যায়বিচার, প্রেম ও ধার্মিকতার অর্থ বোঝার চেষ্টা করা এবং এগুলি আমাদের হৃদয়ের গভীরে প্রবেশ করানো উচিত যাতে তা খাদ্যগ্রহণ ও শ্বাসপ্রশ্বাসের মতই আমাদের জীবনের অংশে পরিণত হয়। কোন্‌টি ন্যায় ও কোন্‌টি অন্যায় সেই সম্বন্ধে এক সূক্ষ্ম সচেতনতা গড়ে তোলার দ্বারা আমাদের নৈতিক দায়িত্ববোধের প্রতি আরও পূর্ণরূপে সতর্ক হওয়ার চেষ্টা করা উচিত। অধিকন্তু, আমাদের উচিত আমাদের বিবেককে সিদ্ধ ব্যবস্থাদাতা ও বিচারকর্তার প্রতি এর দায়িত্ব দৃঢ়রূপে অনুভব করতে পরিচালিত করা। (যিশা. ৩৩:২২) সুতরাং ঈশ্বর সম্বন্ধীয় বিষয়গুলি শেখার সময়, আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁকে অনুকরণ করার চেষ্টা করা উচিত।”

“খ্রীষ্টের মন” অর্জন করা

বাইবেল অধ্যয়নও আমাদের “খ্রীষ্টের মন” অর্থাৎ যীশু যেধরনের বাধ্যতা ও নম্রতা প্রদর্শন করেছিলেন সেইধরনের মানসিক প্রবণতা অর্জন করতে সাহায্য করবে। (১ করিন্থীয় ২:১৬) তাঁর পিতার ইচ্ছা পালন করা তাঁর কাছে এক আনন্দের বিষয় ছিল, তা কেবল বিবেচনা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি তালিকা মেনে চলা ছিল না। তাঁর মনোভাব গীতরচক দায়ূদের দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণীরূপে বর্ণিত হয়েছিল, যিনি লিখেছিলেন: “হে আমার ঈশ্বর, তোমার অভীষ্ট সাধনে আমি প্রীত, আর তোমার ব্যবস্থা আমার অন্তরে আছে।”a—গীতসংহিতা ৪০:৮.

“খ্রীষ্টের মন” অর্জন করা বিবেককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য অত্যাবশ্যক। একজন সিদ্ধ মানুষ হিসাবে পৃথিবীতে থাকাকালে, যীশু তাঁর পিতার গুণাবলি ও ব্যক্তিত্ব মানব সীমাবদ্ধতাগুলির মধ্যে যতটুকু সম্ভব সম্পূর্ণরূপে প্রতিফলিত করেছিলেন। তাই, তিনি বলতে পেরেছিলেন: “যে আমাকে দেখিয়াছে, সে পিতাকে দেখিয়াছে।” (যোহন ১৪:৯) পৃথিবীতে যীশু যে সমস্ত পরিস্থিতিগুলির সম্মুখীন হয়েছিলেন, তার সবগুলিই তিনি তাঁর পিতা যেভাবে চেয়েছিলেন ঠিক সেইভাবেই মোকাবিলা করেছিলেন। অতএব, আমরা যখন যীশুর জীবন সম্বন্ধে অধ্যয়ন করি, তখন আমরা যিহোবা ঈশ্বর কিরূপ ব্যক্তি তার একটি স্পষ্ট চিত্র লাভ করি।

আমরা পড়ি যে যিহোবা “স্নেহশীল ও কৃপাময় ঈশ্বর, ক্রোধে ধীর এবং দয়াতে ও সত্যে মহান্‌।” (যাত্রাপুস্তক ৩৪:৬) বারংবার, যীশু তাঁর প্রেরিতদের সঙ্গে ব্যবহারে এই গুণাবলি প্রদর্শন করেছিলেন। তারা যখন বার বার কে মহান, এই বিষয়ে বিতর্ক করেছিলেন, তখন যীশু বাক্য ও দৃষ্টান্তের দ্বারা ধৈর্য সহকারে শিক্ষা দিয়েছিলেন যে “তোমাদের মধ্যে যে কেহ মহান্‌ হইতে চায়, সে তোমাদের পরিচারক হইবে; এবং তোমাদের মধ্যে যে কেহ প্রধান হইতে চায়, সে তোমাদের দাস হইবে।” (মথি ২০:২৬, ২৭) যীশুর জীবন সম্বন্ধে বিবেচনা করার দ্বারা ঈশ্বরের চিন্তাধারার সঙ্গে আমরা সংগতিপূর্ণ হতে পারি তা দেখানোর জন্য এটি কেবল একটি দৃষ্টান্ত।

যীশু সম্বন্ধে আমরা যতই শিখব, ততই আমরা আমাদের স্বর্গীয় পিতা যিহোবাকে অনুকরণ করার জন্য সুসজ্জীভূত হব। (ইফিষীয় ৫:১, ২) ঈশ্বরের চিন্তাধারার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ একটি বিবেক আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করবে। যারা তাঁর উপর আস্থা রাখেন তাদের কাছে যিহোবা প্রতিজ্ঞা করেন: “আমি তোমাকে বুদ্ধি দিব, ও তোমার গন্তব্য পথ দেখাইব, তোমার উপরে দৃষ্টি রাখিয়া তোমাকে পরামর্শ দিব।”—গীতসংহিতা ৩২:৮.

এক প্রশিক্ষিত বিবেক থেকে উপকৃত হওয়া

অসিদ্ধ মানুষের স্বেচ্ছাচারিতা সম্বন্ধে জানার কারণে, মোশি ইস্রায়েলীয়দের সতর্ক করেছিলেন: “আমি অদ্য তোমাদের কাছে সাক্ষ্যরূপে যাহা যাহা কহিলাম, তোমরা সেই সমস্ত কথায় মনোযোগ কর, আর তোমাদের সন্তানগণ যেন এই ব্যবস্থার সকল কথা পালন করিতে যত্নবান হয়, এই জন্য তাহাদিগকে তাহা আদেশ করিতে হইবে।” (দ্বিতীয় বিবরণ ৩২:৪৬) আমাদেরও ঈশ্বরের ব্যবস্থা আমাদের হৃদয়ে লিখতে হবে। আমরা যদি তা করি, তাহলে আমাদের বিবেক সম্ভবত আমাদের পদক্ষেপগুলি পরিচালনা করবে এবং সঠিক সিদ্ধান্তগুলি নিতে সাহায্য করবে।

অবশ্যই, আমাদের সতর্ক হতে হবে। বাইবেলের প্রবাদবাক্য বলে: “একটী পথ আছে, যাহা মানুষের দৃষ্টিতে সরল; কিন্তু তাহার পরিণাম মৃত্যুর পথ।” (হিতোপদেশ ১৪:১২) কেন এটিই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটে থাকে? কারণটিকে বাইবেল এইভাবে বর্ণনা করে: “অন্তঃকরণ সর্ব্বাপেক্ষা বঞ্চক, তাহার রোগ অপ্রতিকার্য্য, কে তাহা জানিতে পারে?” (যিরমিয় ১৭:৯) অতএব, আমাদের সকলের জন্য হিতোপদেশ ৩:৫, ৬ পদের উপদেশ অনুসরণ করা প্রয়োজন: “তুমি সমস্ত চিত্তে সদাপ্রভুতে বিশ্বাস কর; তোমার নিজ বিবেচনায় নির্ভর করিও না; তোমার সমস্ত পথে তাঁহাকে স্বীকার কর; তাহাতে তিনি তোমার পথ সকল সরল করিবেন।”

[পাদটীকাগুলো]

a ইব্রীয়দের প্রতি তার পত্রে, প্রেরিত পৌল ৪০ গীতের বাক্যগুলিকে যীশু খ্রীষ্টের প্রতি প্রয়োগ করেছিলেন।—ইব্রীয় ১০:৫-১০.

[৭ পৃষ্ঠার চিত্র]

একটি দিঙ্‌নির্ণয় যন্ত্রের মত, বাইবেল প্রশিক্ষিত একটি বিবেক আমাদের সঠিক পথে নির্দেশিত করতে পারে

[সজন্যে]

দিঙ্‌নির্ণয় যন্ত্র: Courtesy, Peabody Essex Museum, Salem, Mass.

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার