ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৮ ৬/১৫ পৃষ্ঠা ২৬-২৯
  • প্রকৃত ন্যায়বিচার—কখন এবং কিভাবে?

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • প্রকৃত ন্যায়বিচার—কখন এবং কিভাবে?
  • ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • ন্যায়বিচার বিপথে
  • মানব দুর্বলতাসহ—মানুষের বিচার ব্যবস্থা
  • “আমি সদাপ্রভু ন্যায়বিচার ভালবাসি”
  • “তাঁহার সমস্ত পথ ন্যায্য”
    যিহোবার নিকটবর্তী হোন
  • যিহোবাকে অনুকরণ করুন—ন্যায়বিচার ও ধার্মিকতা অনুশীলন করুন
    ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যিহোবা—প্রকৃত ন্যায়বিচার এবং ধার্মিকতার উৎস
    ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যিহোবা ধার্মিকতা এবং ন্যায়বিচারের প্রেমিক
    ১৯৯৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৮ ৬/১৫ পৃষ্ঠা ২৬-২৯

প্রকৃত ন্যায়বিচার—কখন এবং কিভাবে?

নির্দোষ ব্যক্তির প্রকৃত ন্যায়বিচারকে ভয় করার কিছুই নেই। বাস্তবিকপক্ষে, প্রায় সকল স্থানের নাগরিকদেরই কৃতজ্ঞ হওয়ার কারণ রয়েছে যদি তাদের দেশে একটি বৈধ পদ্ধতি থাকে যা ন্যায়বিচারকে নিশ্চিত করতে চেষ্টা করে। এইধরনের একটি পদ্ধতি আইনগুলির কাঠামো, সেগুলি বহাল রাখার জন্য পুলিশবাহিনী আর ন্যায়বিচার প্রয়োগের জন্য আদালতকে অন্তর্ভুক্ত করে। সত্য খ্রীষ্টানেরা “প্রাধান্যপ্রাপ্ত কর্ত্তৃপক্ষদের বশীভূত” হোন, বাইবেলের এই পরামর্শের সঙ্গে সংগতি রেখে যেখানে তারা বাস করেন সেখানকার বিচার ব্যবস্থা সম্মান করেন।—রোমীয় ১৩:১-৭.

কিন্তু, বিভিন্ন দেশের বিচার ব্যবস্থা ক্ষতিকর এবং বিব্রতকর ত্রুটিগুলি করেছে।a অপরাধীকে শাস্তি এবং নির্দোষীকে রক্ষা করার পরিবর্তে, কখনও কখনও নির্দোষ লোকেরা এমন কিছু অপরাধের জন্য শাস্তি ভোগ করেছেন যা তারা করেননি। অন্যান্য ব্যক্তিরা বছরের পর বছর কারাগারে থেকেছেন আর একমাত্র তখনই তারা তাদের দণ্ডাদেশ সম্পূর্ণ হওয়ার পূর্বে মুক্তি পেতে পারেন যখন তারা প্রকৃতই অপরাধী কিংবা তাদের দোষারোপ যথার্থ ছিল কি না সেই বিষয়ে কোন গুরুতর সন্দেহ জাগে। তাই, অনেক লোকেরাই জিজ্ঞাসা করছেন যে সকলের জন্য কি কখনও প্রকৃত ন্যায়বিচার আসবে? যদি আসে, তাহলে কখন এবং কিভাবে? নির্দোষীকে রক্ষা করার জন্য আমরা কার উপর আস্থা রাখতে পারি? আর যারা অবিচারের শিকার তাদের জন্য কী আশা রয়েছে?

ন্যায়বিচার বিপথে

১৯৮০-র দশকে জার্মানি “যুদ্ধোত্তর সময়ে অন্যতম চাঞ্চল্যকর আইনগত কার্যাবলীর মধ্যে একটিকে,” প্রত্যক্ষ করেছিল যখন একজন মাকে তার দুটি মেয়েকে হত্যা করার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, কয়েক বছর পর, তার বিরুদ্ধে যে সাক্ষ্যপ্রমাণ আনা হয় তা পুনরায় বিবেচনা করা হয়েছিল এবং তিনি নতুন বিচারের অপেক্ষায় মুক্তি পেয়েছিলেন। ১৯৯৫ সালে ডি টসাইট বিবৃতি দিয়েছিল যে প্রথম বিচার “বিচার সংক্রান্ত ত্রুটি হিসাবে প্রমাণিত হতে পারে।” এই প্রবন্ধটি লেখা অবধি, সেই মহিলা দোষী না নির্দোষী সেই অনিশ্চয়তার মধ্যে নয় বছর কারাগারে ছিলেন।

১৯৭৪ সালে নভেম্বর মাসের এক সন্ধ্যায়, দুটি বোমার বিস্ফোরণে ইংল্যান্ডের, বার্মিংহাম শহরের কেন্দ্রস্থল কেঁপে উঠেছিল যার দ্বারা ২১ জন ব্যক্তি হত হয়েছিলেন। এটি এমন একটি ঘটনা ছিল যা “বার্মিংহামের কেউ কখনও ভুলবেন না,” সংসদের একজন সদস্য ক্রিস মালেন লিখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে, “ব্রিটিশ ইতিহাসে এই বৃহত্তম হত্যাকাণ্ডের জন্য ছয়জন নির্দোষীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।” কিন্তু ১৬ বছর কারাগারে থাকার পরই কেবল তাদের দোষগুলি খারিজ করা হয়েছিল!

আইন সংক্রান্ত উপদেষ্টা কেন ক্রিসপেন একটি ঘটনা সম্বন্ধে বিবৃতি দিয়েছিলেন যা “জনসাধারণের কল্পনাকে এমন এক উপায়ে আকৃষ্ট করেছিল যে সেটি অস্ট্রেলিয়ার আইন সংক্রান্ত ইতিহাসের বিবরণে অদ্বিতীয় হয়ে আছে।” একটি পরিবার যখন এয়ারস রকের নিকটে বাস করছিলেন তখন তাদের সন্তান উধাও হয়ে যায়, আর কখনও তাকে পাওয়া যায়নি। মাকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত, দোষী সাব্যস্ত আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ১৯৮৭ সালে, তিন বছরেরও বেশি সময় কারাগারে থাকার পর, একটি সরকারি তদন্তে দেখা যায় যে তার বিপক্ষের সাক্ষ্যপ্রমাণ তাকে দোষী প্রমাণিত করতে পারে না। তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন এবং তাকে ক্ষমা করা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে বসবাসরত ১৮ বছর বয়সী একটি মেয়ে ১৯৮৬ সালে খুন হয়েছিল। একজন মধ্যবয়স্ক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত, দোষী সাব্যস্ত এবং মৃত্যুর দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি যে এই অপরাধে জড়িত ছিলেন না তা প্রমাণিত হওয়ার পূর্বে ছয় বছর তাকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কক্ষে অতিবাহিত হয়ে গিয়েছিল।

এগুলি কি বিচার সংক্রান্ত ত্রুটির বিরল উদাহরণ? পেনসেলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ডেভিড রুডোভস্কি উল্লেখ করেন: “আমি প্রায় ২৫ বছর যাবৎ এই বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত আছি এবং প্রচুর মামলা দেখেছি। আমি মনে করি যে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শতকরা পাঁচ থেকে দশ ভাগই প্রকৃতপক্ষে নির্দোষ।” ক্রিসপেন এই উদ্বেগজনক প্রশ্নটি করেন: “কারাগারে কি আর কোন নির্দোষ ব্যক্তিরা বিমর্ষভাবে বসে আছেন?” কিভাবে এইধরনের মর্মান্তিক ত্রুটিগুলি সম্ভবপর হয়?

মানব দুর্বলতাসহ—মানুষের বিচার ব্যবস্থা

“কোন মনুষ্য পদ্ধতিকে নিখুঁত বলে আশা করা যেতে পারে না,” ১৯৯১ সালে উচ্চতর বৃটিশ আদালত জোর দিয়ে বলেছিল। এক বিচার ব্যবস্থা কেবল সেই লোকেদের মত ন্যায়পরায়ণ এবং নির্ভরশীল হয়ে থাকে যারা এটিকে বিন্যস্ত ও পরিচালনা করেন। লোকেদের ভুল করার, অসততার এবং পূর্বানুমান করার প্রবণতা রয়েছে। তাই, এটি আশ্চর্যের বিষয় হওয়া উচিত নয় যে মানুষের বিচার ব্যবস্থা সেই একই ত্রুটিগুলি প্রকাশ করবে। নিম্নোক্ত বিষয়গুলি বিবেচনা করুন।

জার্মানির বিচারক রোল্ফ বেন্ডারের মতানুসারে, সমস্ত অপরাধমূলক মামলাগুলির শতকরা ৯৫ ভাগের ক্ষেত্রে, সাক্ষীদের এজাহারগুলিকে প্রমাণ হিসাবে নিষ্পত্তিমূলক বলে ধরা হয়। কিন্তু আদালতে এইধরনের সাক্ষীরা কী সর্বদা নির্ভরযোগ্য হন? বিচারক বেন্ডার তা মনে করেন না। তিনি হিসাব করে দেখেছেন যে যারা আদালতে সাক্ষী দিতে আসেন তাদের মধ্যে অর্ধেকই মিথ্যা সাক্ষ্য দেন। বের্ন্ট সুনেম্যান, জার্মানির মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ সংক্রান্ত আইনের অধ্যাপক একই বিষয় পর্যবেক্ষেণ করেছিলেন। ডি টসাইট পত্রিকার একটি সাক্ষাৎকারে, সুনেম্যান প্রত্যয়ের সঙ্গে বলেছিলেন যে যদিও নির্ভরযোগ্য নয় তবুও সাক্ষীদের এজাহারগুলিই মুখ্য বিষয়। “আমি বলব বিচারে ত্রুটির উল্লেখযোগ্য কারণ হল বিচারকেরা সাক্ষীদের অবিশ্বাস্য এজাহারগুলির উপর নির্ভর করেন।”

সাক্ষীদের ভুল করার প্রবণতা রয়েছে; পুলিশদেরও তাই। বিশেষকরে জনসাধারণের জন্য ক্ষতি নিয়ে আসে এমন কোন অপরাধ ঘটলে তাদের গ্রেফতার করার জন্য পুলিশেরা চাপের মধ্যে থাকেন। এইধরনের পরিস্থিতিতে, কয়েকজন পুলিশ সাক্ষ্য তৈরি করার অথবা জোর করে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে স্বীকার করানোর জন্য প্রলুব্ধ হয়েছেন। বার্মিংহামে বোমা নিক্ষেপ করার দায়ে যে ছয়জন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল যখন তাদের মুক্তি দেওয়া হয় তখন ব্রিটিশ খবরের কাগজ দি ইনডেপেনডেন্ট এই শিরোনামটি তুলে ধরে: “দুর্নীতিপরায়ণ পুলিশের কারণে ছয়জন দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।” দ্যা টাইমস অনুযায়ী: “পুলিশেরা মিথ্যা বলেছিলেন, চক্রান্ত এবং প্রতারণা করেছিলেন।”

কোন কোন ক্ষেত্রে, কুসংস্কার হয়ত পুলিশ এবং জনগণকে কোন নির্দিষ্ট গোত্র, ধর্ম অথবা জাতির ব্যক্তিদের প্রতি সন্দেহ করতে পরিচালিত করে। ইউ.এস.নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট মন্তব্য করে, একটি অপরাধের মীমাংসা তখন “যুক্তির পরিবর্তে বর্ণবৈষম্যের একটি বিষয়ে” পরিণত হয়।

একবার যখন একটি মামলা আদালতে আসে, তখন রায় শুধু সাক্ষীরা যা বলেন হয়ত তার দ্বারাই প্রভাবিত হয় না কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণের দ্বারাও প্রভাবিত হতে পারে। আদালতি প্রমাণের জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ায়, বিচারক অথবা জুরি সম্ভবত ব্যবহৃত অস্ত্র বা আঙ্গুলের ছাপ, হাতের লেখা, রক্তের শ্রেণী, চুলের রং, কাপড়ের সুতা, ডিএনএ-র নমুনার শনাক্তিকরণের উপর ভিত্তি করে কে দোষী আর কে নির্দোষ তা স্থির করেন। একজন আইনবিদ লক্ষ্য করেন যে আদালতগুলিকে “বিস্ময়কর জটিল প্রক্রিয়া বর্ণনাকারী সুবিন্যস্ত বৈজ্ঞানিক বাহিনীর” সম্মুখীন হতে হয়।

অধিকন্তু, নেচার পত্রিকা উল্লেখ করে যে সকল বিজ্ঞানী আদালতি প্রমাণের ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন। “আদালতি বিজ্ঞানীদের মধ্যে প্রকৃত মতবিরোধ থাকতে পারে।” এটি বলা দুঃখজনক যে, “ত্রুটিপূর্ণ আদালতি প্রমাণগুলি ইতিমধ্যেই বেশির ভাগ ভুলভাবে দোষী সাব্যস্তকরণের জন্য দায়ী হয়েছে।”

আমরা যেখানেই বাস করি না কেন, বর্তমানে কার্যরত সমস্ত বিচার ব্যবস্থা মনুষ্য অক্ষমতাকে প্রতিফলিত করে। সুতরাং নির্দোষ ব্যক্তিকে রক্ষা করার ব্যাপারে আমরা কার উপর আস্থা রাখতে পারি? কখনও প্রকৃত ন্যায়বিচার ভোগ করব বলে কি আমরা আশা করতে পারি? আর বিচার সংক্রান্ত ত্রুটির শিকারদের জন্য কি আশা রয়েছে?

“আমি সদাপ্রভু ন্যায়বিচার ভালবাসি”

আপনি অথবা আপনার পরিবারের কোন সদস্য যদি বিচারের ত্রুটির শিকার হন তাহলে যিহোবা ঈশ্বর এবং তাঁর পুত্র, আপনার প্রতি যা ঘটছে তা দেখেন। সর্বকালের সর্বাপেক্ষা ভয়ঙ্কর অবিচার করা হয়েছিল যখন যীশুকে যাতনাদণ্ডে বধ করা হয়। প্রেরিত পিতর আমাদের বলেন যে যীশু “পাপ করেন নাই।” তবুও, তিনি মিথ্যা সাক্ষীদের দ্বারা অভিযুক্ত ও অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন।—১ পিতর ২:২২; মথি ২৬:৩, ৪, ৫৯-৬২.

চিন্তা করে দেখুন যে তাঁর পুত্রের প্রতি এইধরনের দুর্ব্যবহারে যিহোবা কতই না দুঃখ পেয়েছিলেন! ন্যায়বিচার হল যিহোবার বিশেষ গুণাবলির মধ্যে একটি। বাইবেল আমাদের বলে: “তাঁহার সমস্ত পথ ন্যায্য।”—দ্বিতীয় বিবরণ ৩২:৪; গীতসংহিতা ৩৩:৫.

যিহোবা ইস্রায়েলকে এক উল্লেখযোগ্য বিচার ব্যবস্থা প্রদান করেছিলেন। একটি অমীমাংসিত খুনের ক্ষেত্রে, বলির দ্বারা সেই মৃত্যুর প্রায়শ্চিত্ত করা হত। একজন নির্দোষ ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করার ঝুঁকি থাকায় প্রত্যেকটি অপরাধ সমাধান করার ক্ষেত্রে কোন চাপ থাকত না। কেউই শুধু পরোক্ষ অথবা বিজ্ঞানসম্মত সাক্ষ্যপ্রমাণের দ্বারা খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হত না; অন্ততপক্ষে দুজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর প্রয়োজন হত। (দ্বিতীয় বিবরণ ১৭:৬; ২১:১-৯) এই উদাহরণগুলি দেখায় যে যিহোবার উচ্চমান রয়েছে এবং ন্যায়বিচার যাতে যথাযথভাবে পরিচালিত হয় সেই বিষয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। সত্যই, তিনি বলেন: “আমি সদাপ্রভু ন্যায়বিচার ভালবাসি।”—যিশাইয় ৬১:৮.

অবশ্য, ইস্রায়েলের বিচার ব্যবস্থা মানুষের হাতে ছিল যাদের আমাদের মতই অক্ষমতা ছিল। তখনও কোন কোন ক্ষেত্রে ভুলভাবে আইন প্রয়োগ করা হয়েছিল। রাজা শলোমন লিখেছিলেন: “তুমি দেশে দরিদ্রের পীড়ন, কিম্বা বিচারের ও ধার্ম্মিকতার খণ্ডন দেখিলে সেই ব্যাপারে চমৎকৃত হইও না।”—উপদেশক ৫:৮.

যিহোবা তাঁর পুত্রের প্রতি কৃত অবিচার দূর করতে সমর্থ ছিলেন। এই নিশ্চয়তাই যীশুকে শক্তিশালী করেছিল, যিনি “আপনার সম্মুখস্থ আনন্দের নিমিত্ত ক্রুশ সহ্য করিলেন।” অনুরূপভাবে, প্রকৃত ন্যায়বিচার সহ, মশীহের শাসনাধীনে পরমদেশ পৃথিবীতে বসবাস করার আনন্দপূর্ণ প্রত্যাশা, আমাদের এই পুরাতন বিধিব্যবস্থায় অবিচার সম্বন্ধে শুনতে অথবা তা ভোগ করতে সহ্য করার জন্য শক্তিশালী করতে পারে। এমন কোন ক্ষতি কিংবা অন্যায় নেই যা যিহোবা তাঁর নির্ধারিত সময়ে প্রতিকার করতে পারেন না। এমনকি যে কেউ বিচার সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে জীবন হারিয়েছেন তারা সম্ভবত পুনরুত্থিত হবে।—ইব্রীয় ১২:২; প্রেরিত ২৪:১৫.

আমরা যদি অবিচারের শিকার হয়ে থাকি, আমরা কৃতজ্ঞ থাকতে পারি যে বহু বিচার ব্যবস্থার বৈধ মাধ্যমগুলি রয়েছে যা পরিস্থিতির প্রতিকার করতে আমাদের সক্ষম করতে পারে। খ্রীষ্টানেরা এইধরনের মাধ্যমগুলি ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু, তারা এই সত্যকে মনে রাখেন: ত্রুটিপূর্ণ বিচার ব্যবস্থাগুলি হল সেই মানব সমাজের একটি প্রতিফলন যেটির এক ব্যাপক পুনর্গঠনের প্রয়োজন। ঈশ্বর তা অচিরেই সম্পন্ন করবেন।

যিহোবা শীঘ্রই এই অবিচারমূলক বিধিব্যবস্থা সরিয়ে দিয়ে এক নতুন ব্যবস্থা পুনর্স্থাপিত করবেন যেখানে “ধার্ম্মিকতা বসতি করে।” আমরা সম্পূর্ণ প্রত্যয় রাখতে পারি যে আমাদের সৃষ্টিকর্তা তাঁর মশীহ রাজা, যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে ন্যায়বিচার সম্পাদন করবেন। প্রত্যেকের জন্য প্রকৃত ন্যায়বিচার সন্নিকট! এই প্রত্যাশার জন্য আমরা কতই না কৃতজ্ঞ হতে পারি।—২ পিতর ৩:১৩.

[পাদটীকাগুলো]

a এখানে উল্লেখিত ঘটনাগুলির ক্ষেত্রে, প্রহরীদুর্গ কোন ব্যক্তির অপরাধ বা দোষহীনতা সম্বন্ধে পরামর্শ দিচ্ছে না, কিংবা পত্রিকাটি কোন একটি দেশের বিচার ব্যবস্থার চাইতে অন্য একটি দেশের বিচার ব্যবস্থা আরও উৎকৃষ্ট বলে সমর্থন করছে না। অধিকন্তু, এই পত্রিকাটি এমন একটি শাস্তির কাঠামো সম্বন্ধে সুপারিশ করে না যা অন্যটির থেকে উত্তম। প্রবন্ধটি লেখার সময়ে তারা যে তথ্য সম্বন্ধে জানতেন এটি সাধারণভাবে সেই ঘটনাগুলিই উল্লেখ করে।

[২৭ পৃষ্ঠার ব্লার্ব]

ত্রুটিপূর্ণ বিচার ব্যবস্থাগুলি—সেইসঙ্গে কলুষিত সরকার, অধঃপতিত ধর্ম এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবসাবাণিজ্য—হল সেই মানব সমাজের এক প্রতিফলন যেটির ব্যাপক পুনর্গঠনের প্রয়োজন

[২৮ পৃষ্ঠার বাক্স]

পবিত্র শাস্ত্রাবলী থেকে সান্ত্বনা

১৯৫২ সালের নভেম্বর মাসে ইংল্যান্ডে, লন্ডনের কাছে, ক্রোয়ডনে ডেরিক বেন্টলি এবং খ্রিস্টফার ক্রেইগ একটি গুদাম ঘর ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে। বেন্টলির বয়স ছিল ১৯ বছর আর ক্রেইগের ছিল ১৬ বছর। পুলিশ ডাকা হয়েছিল আর ক্রেইগ একজন পুলিশকে গুলি করে হত্যা করেছিল। ক্রেইগ ৯ বছর কারাবন্দী ছিল কিন্তু অন্যদিকে বেন্টলিকে ১৯৫৩ সালের জানুয়ারি মাসে খুনের দায়ে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।

বেন্টলি যে এই খুন করেনি তা প্রমাণ করার জন্য তার বোন আইরিস, চল্লিশ বছর পর্যন্ত প্রচার অভিযান চালিয়েছিলেন। ১৯৯৩ সালে, রাজকীয় ক্ষমতা এই দণ্ডাদেশের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন এবং তারা স্বীকার করেছিলেন যে ডেরিক বেন্টলিকে কোন মতেই ফাঁসি দেওয়া উচিত হয়নি। আইরিস বেন্টলি তাকে ন্যায়বিচার পেতে দিন (ইংরাজি) নামক পুস্তকে এই মামলাটি সম্বন্ধে লিখেছিলেন:

“গুলি করার প্রায় এক বছর পূর্বে ডেরিক রাস্তায় একজন যিহোবার সাক্ষীর দেখা পেয়েছিল . . . বোন লেইন ফেয়ারভিউ রোডে থাকেন যা আমাদের থেকে খুব দূরে নয় আর তিনি ডেরিককে বাইবেলের গল্প শোনার জন্য তার গৃহে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। . . . যেটি সহায়ক ছিল তা হল বোন লেইনের বাইবেলের গল্পগুলির রেকর্ড ছিল, সেটি তিনি তাকে ধার দিয়েছিলেন [যেহেতু ডেরিকের পড়ার অভ্যাস কম ছিল] . . . সে ফিরে এসে প্রায়ই আমাকে বলত বোন লেইন তাকে কী বলেছেন, যেমন আমরা সকলে মৃত্যুর পর আবার ফিরে আসব।”

আইরিস বেন্টলি তার ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড সম্পন্ন হওয়ার পূর্বে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কক্ষে তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তিনি কেমন অনুভব করেছিলেন? “বোন লেইন তাকে যে বিষয়গুলি বলেছিলেন তা তার শেষ কয়েকটি দিনের সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য তাকে সাহায্য করেছিল।”—বাঁকা অক্ষরে মুদ্রণ আমাদের।

বিচারের ত্রুটি হেতু আপনারা যদি কষ্টভোগ করেন, তাহলে বাইবেলের সত্য পড়া এবং ধ্যান করা আপনার জন্য ভাল হবে। এটি মহৎ সান্ত্বনা দিতে পারে, কেননা যিহোবা ঈশ্বর “করুণা-সমষ্টির পিতা এবং সমস্ত সান্ত্বনার ঈশ্বর; তিনি আমাদের সমস্ত ক্লেশের মধ্যে আমাদিগকে সান্ত্বনা করেন।” (২ করিন্থীয় ১:৩, ৪)

[২৯ পৃষ্ঠার চিত্র]

যখন খ্রীষ্টকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল তখন ভয়ঙ্কর অবিচার করা হয়েছিল

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার