ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৮ ৫/১৫ পৃষ্ঠা ২৪-২৭
  • আপনি আধ্যাত্মিক অগ্রগতি করতে পারেন

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • আপনি আধ্যাত্মিক অগ্রগতি করতে পারেন
  • ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • যিহোবা তাঁর দাসেদের শক্তিশালী করেন
  • ‘পুরাতন মনুষ্যকে ত্যাগ কর’
  • আমাদের মাঝে এক “প্রভার” মত
  • ঠিক যেন লৌহের দ্বারা সতেজ
  • আধ্যাত্মিক অগ্রগতি করার উত্তম কারণ
  • পাথর থেকে রত্ন
    ১৯৯৯ সচেতন থাক!
  • আপনার কি আধ্যাত্মিক উন্নতি করা প্রয়োজন?
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০১৬
  • অল্পবয়সিরা, বাপ্তিস্মের পরও উন্নতি করে চলো!
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২২
  • আধ্যাত্মিক অগ্রগতি করে চলুন!
    ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৮ ৫/১৫ পৃষ্ঠা ২৪-২৭

আপনি আধ্যাত্মিক অগ্রগতি করতে পারেন

প্রকৃত মূল্যকে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। হীরের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। পালিশ করা একটি হীরে যদিও জ্বল্‌জ্বল্‌ করে কিন্তু পালিশবিহীন একটি হীরে শুধুই ক্ষীণভাবে আলো বিকিরণ করে। তৎসত্ত্বেও, পালিশবিহীন হীরের গভীরে একটি সুন্দর রত্নের নির্ভুল প্রত্যাশা শায়িত থাকে।

অনেক দিক দিয়ে খ্রীষ্টানেরা পালিশবিহীন হীরের সদৃশ। আমরা যদিও সিদ্ধতা থেকে এখনও অনেক দূরে রয়েছি, তবুও আমাদের এক সুপ্ত মূল্য রয়েছে যা যিহোবার কাছে মূল্যবান। হীরের মত, আমাদের সকলেরই নিজস্ব স্বতন্ত্র গুণাবলি রয়েছে। আর যদি আমাদের আন্তরিক ইচ্ছা থাকে, আমরা প্রত্যেকেই আরও আধ্যাত্মিক উন্নতি করতে পারি। আমাদের ব্যক্তিত্বকে পরিশোধন করা যেতে পারে, যাতে করে তা যিহোবার গৌরবার্থে আরও উজ্জ্বলভাবে আলো বিকীর্ণ করতে পারে।—১ করিন্থীয় ১০:৩১.

কেটে পালিশ করার পর, একটি হীরেকে যথাযথ কাঠামোয় রাখা হলে সেটি এর প্রতিফলন গুণাবলিকে বৃদ্ধি করে। অনুরূপভাবে, যিহোবা আমাদের বিভিন্ন কাঠামোয় অথবা কার্যভারে ব্যবহার করতে পারেন যদি আমরা ‘সেই নূতন মনুষ্যকে পরিধান করি, যাহা সত্যের ধার্ম্মিকতায় ও সাধুতায় ঈশ্বরের সাদৃশ্যে সৃষ্ট হইয়াছে।’—ইফিষীয় ৪:২০-২৪.

এইধরনের আধ্যাত্মিক অগ্রগতি হয়ত সহজাতভাবে আসে না, ঠিক যেমন একটি হীরে তার প্রকৃতিগত অবস্থায় কদাচিৎ একটি রত্নের মত জ্বল্‌জ্বল্‌ করে। আমাদের হয়ত দীর্ঘকাল ধরে আছে এমন কিছু দুর্বলতা দূর করা, দায়িত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে আমাদের মনোভাব পরিবর্তন করা কিংবা কোন আধ্যাত্মিক বাঁধাধরা অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রাণপণ করার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমরা চাইলে অগ্রগতি করতে পারি, কারণ যিহোবা ঈশ্বর আমাদের “পরাক্রমের উৎকর্ষ” দান করতে পারেন।—২ করিন্থীয় ৪:৭; ফিলিপীয় ৪:১৩.

যিহোবা তাঁর দাসেদের শক্তিশালী করেন

হীরে কাটার জন্য প্রত্যয়ের প্রয়োজন যা সঠিক জ্ঞানের ফলস্বরূপ আসে, কারণ একবার পালিশবিহীন হীরের একটি অংশ কাটার পর তা সাধারণত নষ্ট হয়ে যায়। আকাঙ্ক্ষিত আকৃতি গঠন করতে মূল্যবান বস্তুর—কখনও কখনও অকর্তিত পাথরের শতকরা ৫০ ভাগ—কেটে নেওয়া হয়। আমাদের ব্যক্তিত্বের আকৃতি দিতে ও আধ্যাত্মিকভাবে উন্নতি করতে আমাদেরও যথার্থ জ্ঞানের ফলস্বরূপ আসা প্রত্যয় প্রয়োজন। বিশেষ করে আমাদের অবশ্যই এই প্রত্যয় থাকা প্রয়োজন যে যিহোবা আমাদের ক্ষমতা প্রদান করবেন।

কিন্তু, আমরা হয়ত নিজেদের অযোগ্য মনে করতে পারি অথবা চিন্তা করতে পারি যে আমরা বেশি কিছু করতে সমর্থ নই। অতীতে, ঈশ্বরের বিশ্বস্ত দাসেরা কখনও কখনও এইরকম মনে করেছিলেন। (যাত্রাপুস্তক ৩:১১, ১২; ১ রাজাবলি ১৯:১-৪) ঈশ্বর যখন “জাতিগণের কাছে ভাববাদী” হিসাবে নিযুক্ত করেছিলেন, তখন যিরমিয় উচ্চস্বরে বলেছিলেন: “দেখ, আমি কথা কহিতে জানি না, কেননা আমি বালক।” (যিরমিয় ১:৫, ৬) কিন্তু, তার স্বল্পভাষীতা সত্ত্বেও, যিরমিয় একজন নির্ভীক ভাববাদী হয়ে উঠেছিলেন যিনি সরাসরিভাবে শত্রুভাবাপন্ন লোকেদের কাছে বার্তা প্রদান করেছিলেন। কিভাবে এটি সম্ভব হয়েছিল? তিনি যিহোবার উপর নির্ভর করতে শিখেছিলেন। যিরমিয় পরে লিখেছিলেন: “ধন্য সেই ব্যক্তি, যে সদাপ্রভুতে নির্ভর করে, যাহার বিশ্বাসভূমি সদাপ্রভু।”—যিরমিয় ১৭:৭; ২০:১১.

একইভাবে আজকের দিনে যারা যিহোবার উপর নির্ভর করেন তাদের তিনি শক্তিশালী করেন। চার সন্তানের একজন পিতা এডওয়ার্ডa যিনি আধ্যাত্মিক অগ্রগতি করার ক্ষেত্রে মন্থর ছিলেন, এটিকে সত্য বলে দেখেছিলেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন: “আমি নয় বছর ধরে একজন যিহোবার সাক্ষী হয়েও আমার মনে হয়েছিল যে আধ্যাত্মিকভাবে আমি কোন অগ্রগতি করিনি। সমস্যাটি ছিল এই যে আমার সামান্যই প্রেরণা ছিল আর কোন প্রত্যয় ছিল না। স্পেনে চলে যাওয়ার পর, আমি একটি ছোট মণ্ডলীতে যোগ দিই যেখানে একজন প্রাচীন ও একজন পরিচালক দাস ছিলেন। প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে, প্রাচীন আমাকে অনেক কার্যভার পরিচালনা করার জন্য বলেন। আমার প্রথম বক্তৃতার সময় ও সভার অন্যান্য অংশে ভাগ নিতে আমি ভয় পেয়েছিলাম। তবুও, আমি যিহোবার উপর নির্ভর করতে শিখেছিলাম। প্রাচীন সর্বদাই আমার প্রশংসা করেছিলেন এবং উন্নতি করার জন্য কৌশলে পরামর্শাদি দিয়েছিলেন।

“একইসাথে, আমি আমার ক্ষেত্রের পরিচর্যা কাজ বৃদ্ধি এবং আমার পরিবারে আরও ভালভাবে আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলাম। ফলস্বরূপ, সমগ্র পরিবারের কাছে সত্য আরও বিরাট অর্থ বহন করেছিল আর আমি আরও বেশি পরিতৃপ্তি বোধ করেছিলাম। আমি এখন একজন পরিচালক দাস এবং একজন খ্রীষ্টীয় অধ্যক্ষের গুণাবলি গড়ে তোলার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি।”

‘পুরাতন মনুষ্যকে ত্যাগ কর’

এডওয়ার্ড যেমন উপলব্ধি করেছিলেন, আধ্যাত্মিক অগ্রগতির জন্য যিহোবাতে আস্থা রাখা প্রয়োজন। খ্রীষ্টতুল্য “নূতন মনুষ্যকে” গড়ে তোলাও আবশ্যক। কিভাবে এটি করা যেতে পারে? প্রথম পদক্ষেপটি হল পুরাতন মনুষ্যের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলিকে ‘ত্যাগ করা।’ (কলসীয় ৩:৯, ১০) একটি পালিশবিহীন হীরেকে চকচকে রত্নে পরিণত করতে তার ত্রুটিগুলি, যেমন অবান্তর খনিজগুলিকে অপসারিত করতে হয় তেমনি “জগতের” মনোভাবকে সরিয়ে ফেলা প্রয়োজন যাতে করে আমাদের নতুন ব্যক্তিত্ব প্রজ্বলিত হতে পারে।—গালাতীয় ৪:৩.

এইধরনের একটি মনোভাব হল কোন দায়িত্বকে গ্রহণ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ এই ভয়ে যে তা আমাদের কাছ থেকে খুব বেশি কিছু দাবি করবে। এটি সত্য যে, দায়িত্বের অর্থ কাজ কিন্তু তা হল সন্তোষজনক কাজ। (প্রেরিত ২০:৩৫ পদের সাথে তুলনা করুন।) পৌল স্বীকার করেছিলেন যে ঈশ্বরীয় ভক্তির জন্য আমাদের ‘পরিশ্রম ও প্রাণপণ করা’ প্রয়োজন। আমরা তা আনন্দের সাথে করি কারণ, তিনি বলেছিলেন, “কেননা . . . আমরা সেই জীবন্ত ঈশ্বরের প্রত্যাশা করিয়া আসিতেছি” যিনি কখনও আমাদের সহ খ্রীষ্টান এবং অন্যদের জন্য আমরা যে কাজ করি তা ভুলে যান না।—১ তীমথিয় ৪:৯, ১০; ইব্রীয় ৬:১০.

কিছু হীরেতে তাদের আকৃতির কারণে সৃষ্ট “দুর্বল স্থান” থাকে আর তাই সেটিকে যত্নপূর্বক নাড়াচাড়া করা প্রয়োজন। কিন্তু, পোলারিশকোপ নামক একটি যন্ত্রের সাহায্যে, পালিশকারক সেই দুর্বল স্থানটিকে নির্ণয় করতে পারেন এবং সফলতার সাথে পাথরটির উপর কাজ করতে পারেন। সম্ভবত আমরা কোন এক আভ্যন্তরীণ দুর্বল স্থান কিংবা আমাদের পটভূমিকা অথবা অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার কারণে ব্যক্তিত্বের ত্রুটি ভোগ করতে পারি। আমরা কী করতে পারি? প্রথমত, আমাদের নিজেদের সমস্যাটিকে স্বীকার করে নেওয়া এবং সম্ভাব্য মাত্রায় সেটিকে অতিক্রম করার জন্য সংকল্পবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। যিহোবার কাছে প্রার্থনার মাধ্যমে আমাদের নিশ্চিতভাবে নিজেদের বোঝামুক্ত করা, এছাড়া সম্ভব হলে কোন খ্রীষ্টীয় প্রাচীনের কাছ থেকে আধ্যাত্মিক সাহায্য চাওয়া উচিত।—গীতসংহিতা ৫৫:২২; যাকোব ৫:১৪, ১৫.

এইধরনের আভ্যন্তরীণ দুর্বল স্থান নিকোলাসকে প্রভাবিত করেছিল। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘আমার বাবা একজন মদ্যপ ছিলেন আর তিনি আমার বোন ও আমাকে অনেক কষ্ট দিতেন। আমি বিদ্যালয় ত্যাগ করে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলাম কিন্তু আমার বিদ্রোহাত্মক প্রবণতা শীঘ্রই আমাকে সমস্যায় ফেলে। নেশাকর ওষুধ বিক্রি করার জন্য সেনাবাহিনীর কর্তৃপক্ষেরা আমাকে জেলে দেন এবং অন্য এক সময় আমি পালিয়ে গিয়েছিলাম। পরিশেষে, আমি সেনাবাহিনী ছেড়ে দিয়েছিলাম কিন্তু তবুও আমার সমস্যা থেকে গিয়েছিল। নেশাকর ওষুধের অপব্যবহার এবং অত্যধিক মদ্যপানের দরুন যদিও আমার জীবন বিশৃঙ্খল ছিল, তবুও বাইবেলের প্রতি আমার আগ্রহ ছিল ও জীবনের একটি উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়ার জন্য আমি অত্যন্ত আকাঙ্ক্ষী ছিলাম। পরিশেষে, আমি যিহোবার সাক্ষীদের সান্নিধ্যে আসি, আমার জীবনধারার পরিবর্তন করি এবং আমি সত্যকে গ্রহণ করি।

“কিন্তু, আমার ত্রুটিযুক্ত ব্যক্তিত্ব নিয়ে তা গ্রহণ ও মোকাবিলা করতে অনেক বছর সময় লেগেছিল। কর্তৃপক্ষের প্রতি আমি অত্যন্ত বিরূপ ছিলাম আর যখন আমাকে কোন উপদেশ দেওয়া হত আমি ক্রোধ প্রকাশ করতাম। আমি যদিও যিহোবার দ্বারা পূর্ণভাবে ব্যবহৃত হতে চেয়েছিলাম কিন্তু এই দুর্বলতা আমাকে বাধা দিত। অবশেষে, দুইজন সহানুভূতিশীল প্রাচীনের সহায়তায়, আমি আমার সমস্যার কথা স্বীকার এবং তাদের প্রেমময় শাস্ত্রীয় উপদেশ প্রয়োগ করতে শুরু করেছিলাম। যদিও মাঝে মাঝে সামান্য ক্ষোভ প্রজ্বলিত হয় কিন্তু আমি এখন আমার বিদ্রোহাত্মক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করেছি। আমার সাথে যিহোবার ধৈর্যপূর্বক আচরণ এবং প্রাচীনদের প্রেমময় সাহায্যের জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। আমার আধ্যাত্মিক অগ্রগতির দরুন, আমি সম্প্রতি একজন পরিচালক দাস হিসাবে নিযুক্ত হয়েছি।’

নিকোলাস যেমন আবিষ্কার করেছিলেন, দৃঢ়বদ্ধ মনোভাবকে পরিবর্তন করা সহজ নয়। আমরা হয়ত অনুরূপ প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে পারি। হয়ত আমরা অত্যধিক অনুভূতিশীল। আমরা হয়ত কোন এক অসন্তোষকে হৃদয়ে পোষণ করছি কিংবা হয়ত স্বাধীনতার উপর খুব বেশি জোর দিচ্ছি। ফলে, আমাদের খ্রীষ্টীয় অগ্রগতি হয়ত সীমিত হতে পারে। হীরে পালিশকারকেরা পাথরগুলির ক্ষেত্রে কিছুটা অনুরূপ অভিজ্ঞতা করে থাকেন যেগুলিকে তারা নাট্‌স বলেন। এগুলি প্রকৃতপক্ষে দুটি পাথর, হীরে গঠনের সময়ে গলে একটিতে পরিণত হয়। ফলস্বরূপ, নাট্‌স পাথরটির দুইধরনের দ্বন্দ্বমূলক বৃদ্ধির গঠন থাকে যেটি কণা অনুসারে কাটা খুব কঠিন। আমাদের ক্ষেত্রে, আমরা দেখতে পাই যে অসিদ্ধ মাংসের “স্বাভাবিক প্রবণতার” বিরুদ্ধে ইচ্ছুক মনোভাব যুদ্ধ করছে। (মথি ২৬:৪১; গালাতীয় ৫:১৭) কখনও কখনও, আমরা হয়ত সর্বতোভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে হাল ছেড়ে দেওয়ার মনোভাব পোষণ করতে পারি, এই যুক্তি করে যে আমাদের ব্যক্তিত্বে অসিদ্ধতা কোনভাবেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। ‘সর্বোপরি,’ আমরা হয়ত বলতে পারি, ‘আমার পরিবার ও বন্ধুরা এখনও আমাকে ভালবাসে।’

কিন্তু, আমরা যদি ভাইদের সেবা ও আমাদের স্বর্গীয় পিতাকে গৌরবান্বিত করতে চাই, তাহলে নতুন মনুষ্যকে পরিধান করার দ্বারা আমাদের ‘মনের ভাবে ক্রমশঃ নবীনীকৃত হওয়া’ প্রয়োজন। প্রচেষ্টা করা যথোপযুক্ত, যেমন নিকোলাস ও অগণিত অন্যান্যেরা ঘোষণা করতে পারেন। একজন হীরে পালিশকারক জানেন যে একটি ত্রুটি সম্পূর্ণ হীরেকে নষ্ট করে দিতে পারে। অনুরূপভাবে, আমাদের ব্যক্তিত্বের একটি দুর্বল দিককে উপেক্ষা করার দ্বারা আমরা আমাদের আধ্যাত্মিক প্রকাশকে নষ্ট করে দিতে পারি। আরও মন্দ বিষয় হল যে, কোন গুরুতর দুর্বলতা আমাদের আধ্যাত্মিক পতনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।—হিতোপদেশ ৮:৩৩.

আমাদের মাঝে এক “প্রভার” মত

হীরে পালিশকারক হীরের মধ্যে এর প্রভা ধরে রাখার চেষ্টা করেন। এটি দিকগুলিকে সুবিন্যস্ত করার দ্বারা করা হয় যাতে সেগুলি তথা-কথিত বহুবর্ণের রশ্মি গঠন করে। হীরের ভিতরে বহুবর্ণের আলোকচ্ছটা পিছনে ও সামনে প্রতিফলিত হয়ে প্রভা উৎপন্ন করে যা হীরেকে ঔজ্জ্বল্য দান করে। অনুরূপভাবে, ঈশ্বরের আত্মা আমাদের মাঝে একটি “প্রভার” (NW) মত হতে পারে।—১ থিষলনীকীয় ৫:১৯; প্রেরিত ১৮:২৫; রোমীয় ১২:১১.

কিন্তু আমরা যদি আধ্যাত্মিকভাবে অনুপ্রাণিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি তাহলে কী বলা যায়? কিভাবে তা করা যেতে পারে? ‘আমাদের পথসমূহ বিবেচনা’ করা প্রয়োজন। (গীতসংহিতা ১১৯:৫৯, ৬০) এটি সেই বিষয়গুলি শনাক্ত করাকে জড়িত করে যা আমাদের আধ্যাত্মিকভাবে ধীরগতি করে এবং তারপর সংকল্পবদ্ধ করায় যে কোন্‌ ঐশিক কার্যাবলির প্রতি আমাদের আরও প্রাণপণ অনুধাবন করা প্রয়োজন। নিয়মিতভাবে ব্যক্তিগত অধ্যয়ন ও ঐকান্তিক প্রার্থনার মাধ্যমে আমরা আমাদের আধ্যাত্মিক উপলব্ধিকে গভীর করতে পারি। (গীতসংহিতা ১১৯:১৮, ৩২; ১৪৩:১, ৫, ৮, ১০) অধিকন্তু, যারা বিশ্বাসের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন তাদের সংসর্গে থেকে আমরা যিহোবাকে উদ্যোগের সাথে সেবা করার জন্য আমাদের সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করব।—তীত ২:১৪.

লুয়েজ নামে একজন খ্রীষ্টীয় যুবতী স্বীকার করেছিলেন: “প্রকৃতপক্ষে একজন অগ্রগামী অথবা পূর্ণ সময়ের রাজ্য ঘোষক হিসাবে নাম নথিভুক্ত করার পূর্বে আমি দুইবছর ধরে নিয়মিত অগ্রগামীর কাজ করার কথা বিবেচনা করেছিলাম। আমাকে বাধা দেওয়ার মত কোন কিছুই ছিল না কিন্তু আমার একটি স্বচ্ছন্দ দৈনন্দিন তালিকা ছিল আর তাই আমি এর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করিনি। এরপর হঠাৎ করে আমার বাবা মারা যান। জীবন কতটা নশ্বর এবং আমি যে নিজেকে সদ্ব্যবহার করছিলাম না তা আমি উপলব্ধি করেছিলাম। সুতরাং আমি আমার আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করি, আমার পরিচর্যা বৃদ্ধি করি এবং একজন নিয়মিত অগ্রগামী হই। এই বিষয়ে আমার সেই সমস্ত আধ্যাত্মিক ভাই ও বোনেদের সাহায্য উল্লেখযোগ্য ছিল যারা ক্ষেত্রের পরিচর্যা ব্যবস্থাদিতে সবসময় সমর্থন যুগিয়েছিলেন এবং নিয়মিতভাবে পরিচর্যায় আমার সঙ্গী হয়েছিলেন। আমি শিখেছি যে পরিস্থিতি অনুকূল অথবা প্রতিকূল যাই হোক না কেন আমরা আমাদের সহযোগীদের মূল্য ও লক্ষ্যগুলিকে বন্টন করে নেব।”

ঠিক যেন লৌহের দ্বারা সতেজ

পৃথিবীতে প্রকৃতিগতভাবে উৎপন্ন পদার্থের মধ্যে হীরে সর্বাপেক্ষা শক্ত। তাই, হীরে কাটার জন্য অন্য একটি হীরের প্রয়োজন হয়। এটি বাইবেল ছাত্রদের সেই প্রবাদ বাক্যটির কথা হয়ত মনে করিয়ে দেয় যেটি বলে: “লৌহ লৌহকে সতেজ করে, তদ্রূপ মনুষ্য আপন মিত্রের মুখ সতেজ করে।” (হিতোপদেশ ২৭:১৭) কিভাবে একজন ব্যক্তির মুখ “সতেজ” হয়? একজন ব্যক্তিবিশেষ হয়ত অন্য একজনের বুদ্ধিগত এবং আধ্যাত্মিক অবস্থা সতেজ করার কাজে সফল হতে পারেন, ঠিক যেমন এক টুকরো লোহা একই ধাতু দিয়ে তৈরি একটি ব্লেডকে সতেজ করতে ব্যবহৃত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোন হতাশায় আমরা বিষণ্ণ হয়ে পড়ি, তখন অন্য ব্যক্তির উৎসাহ দান খুবই সহায়ক হতে পারে। এভাবে আমাদের দুঃখী চেহারা পরিবর্তিত হয়ে ভাল হতে পারে আর উদ্যমী পুনরুজ্জীবিত কাজের জন্য আমরা সক্রিয় হয়ে উঠতে পারি। (হিতোপদেশ ১৩:১২) বিশেষ করে মণ্ডলীর প্রাচীনেরা উন্নতির জন্য শাস্ত্রীয় উৎসাহ ও উপদেশ প্রদান করার মাধ্যমে আমাদের সতেজ হতে সাহায্য করতে পারেন। তারা শলোমনের দ্বারা বর্ণিত এই নীতিটি অনুসরণ করেন: “জ্ঞানবানকে [শিক্ষা] দেও, সে আরও জ্ঞানবান হইবে; ধার্ম্মিককে জ্ঞান দেও, তাহার পাণ্ডিত্য বৃদ্ধি পাইবে।”—হিতোপদেশ ৯:৯.

অবশ্যই, আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণের জন্য সময়ের প্রয়োজন। দশ বছরেরও অধিক সময় ধরে, প্রেরিত পৌল তীমথিয়ের সাথে তার অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা পদ্ধতি বন্টন করে নিয়েছিলেন। (১ করিন্থীয় ৪:১৭; ১ তীমথিয় ৪:৬, ১৬) ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যিহোশূয়কে দেওয়া মোশির দীর্ঘ প্রশিক্ষণ দীর্ঘ সময়ের জন্য ইস্রায়েল জাতিকে উপকৃত করেছিল। (যিহোশূয় ১:১, ২; ২৪:২৯, ৩১) ইলীশায় ভাববাদী এলিয়ের সাথে সম্ভবত ৬ বছর ধরে কাজ করে তার নিজের ৬০ বছরের দীর্ঘ পরিচর্যার জন্য এক উত্তম ভিত্তি লাভ করেছিলেন। (১ রাজাবলি ১৯:২১; ২ রাজাবলি ৩:১১) ধৈর্য সহকারে ক্রমাগত প্রশিক্ষণ দানের দ্বারা প্রাচীনেরা পৌল, মোশি এবং এলিয়ের উদাহরণ অনুসরণ করে থাকেন।

প্রশংসা করা প্রশিক্ষণ দানের একটি অত্যাবশ্যকীয় অংশ। ভালভাবে সম্পাদিত কার্যভারের অথবা প্রশংসনীয় কাজের জন্য উপলব্ধি প্রকাশের আন্তরিক অভিব্যক্তিগুলি অন্যদের হয়ত ঈশ্বরকে আরও পূর্ণভাবে সেবা করতে চাওয়াকে অনুপ্রাণিত করতে পারে। পরিবর্তে, প্রশংসা প্রত্যয় গড়ে তোলে যা একজনের দুর্বলতাগুলিকে অতিক্রম করতে উৎসাহ প্রদান করে। (১ করিন্থীয় ১১:২ পদের সাথে তুলনা করুন।) রাজ্য প্রচার কাজ ও অন্যান্য মণ্ডলীগত কার্যাবলিতে নিবিড়ভাবে রত হওয়ার মাধ্যমে সত্যে অগ্রগতি করার জন্য উৎসাহ আসে। (প্রেরিত ১৮:৫) ভাইদের আধ্যাত্মিক অগ্রগতির সাথে সংগতি রেখে প্রাচীনেরা যখন তাদের উপর দায়িত্ব অর্পণ করেন, তখন তা এই লোকেদের মূল্যবান অভিজ্ঞতা দান করে এবং সম্ভবত আধ্যাত্মিকভাবে অগ্রগতি করে যাওয়ার জন্য তাদের আকাঙ্ক্ষাকে শক্তিশালী করে।—ফিলিপীয় ১:৮, ৯.

আধ্যাত্মিক অগ্রগতি করার উত্তম কারণ

হীরে মহামূল্যবান বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। এখন যারা যিহোবার সাক্ষীদের পৃথিবীব্যাপী পরিবারের সাথে মেলামেশা করছেন তাদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। বস্তুতপক্ষে, ঈশ্বর নিজেই, তাদের সমস্ত জাতির “মনোরঞ্জন” অথবা “মহামূল্যবান” বস্তু বলেছেন। (হগয় ২:৭, পাদটীকা, NW) গত বছর, ৩,৭৫,৯২৩ জন যিহোবার বাপ্তিস্মিত সাক্ষী হয়েছেন। এই বৃদ্ধির সমন্বয়বিধান করার জন্য “তাম্বুর স্থান পরিসর” করা প্রয়োজন। আধ্যাত্মিক অগ্রগতি—এবং খ্রীষ্টীয় পরিচর্যার সুযোগগুলিতে পৌঁছানোর দ্বারা—এই বৃদ্ধির জন্য যত্ন নেওয়ার কাজে অংশ গ্রহণ সম্ভব।—যিশাইয় ৫৪:২; ৬০:২২.

বহু মহামূল্যবান হীরে যা ব্যাঙ্কের কক্ষে রাখা থাকে আর কদাচিৎ দেখা যায় তার বিপরীতে, আমাদের আধ্যাত্মিক মূল্য উজ্জ্বলভাবে প্রজ্জ্বলিত হতে পারে। আর যতই আমরা নিয়মিতভাবে আমাদের খ্রীষ্টীয় গুণাবলি পালিশ ও প্রদর্শন করতে থাকি, আমরা যিহোবা ঈশ্বরকে গৌরবান্বিত করি। যীশু তাঁর অনুগামীদের উপদেশ দিয়েছিলেন: “তোমাদের দীপ্তি মনুষ্যদের সাক্ষাতে উজ্জ্বল হউক, যেন তাহারা তোমাদের সৎক্রিয়া দেখিয়া তোমাদের স্বর্গস্থ পিতার গৌরব করে।” (মথি ৫:১৬) নিশ্চিতভাবেই, আধ্যাত্মিক অগ্রগতি করার জন্য এটি আমাদের যুক্তিযুক্ত কারণ প্রদান করে।

[পাদটীকাগুলো]

a এই প্রবন্ধটিতে বিকল্প নাম ব্যবহৃত হয়েছে।

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার