ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৭ ১২/১৫ পৃষ্ঠা ৪-৭
  • আধুনিক বড়দিন—এর উৎসগুলি

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • আধুনিক বড়দিন—এর উৎসগুলি
  • ১৯৯৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • ত্রুটিপূর্ণ ভিত্তি
  • কলুষতার অনুপ্রবেশ
  • এক আন্তর্জাতিক ছুটির দিন
  • বড়দিনের নবীনীকরণ
  • “সত্য ও শান্তি ভালবাসিও”
  • বড়দিন—প্রাচ্যেও কেন পালন করা হয়?
    ১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • বড়দিনের সময় এর মূলে কী রয়েছে?
    ২০০৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
১৯৯৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৭ ১২/১৫ পৃষ্ঠা ৪-৭

আধুনিক বড়দিন—এর উৎসগুলি

জগদ্ব্যাপী কোটি কোটি মানুষের জন্য বড়দিনের মরশুম হল বছরের একটি অত্যন্ত আনন্দের সময়। এটি হল সুস্বাদু ভোজ, চিরন্তন পরম্পরাগত বিধি আর পরিবারের সাথে মিলিত হওয়ার সময়। এছাড়াও বড়দিনের ছুটি হল এমন এক সময় যখন বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনেরা একে অপরের সাথে কার্ড ও উপহার বিতরণ করে আনন্দ পান।

মাত্র ১৫০ বছর আগেও কিন্তু, বড়দিন ছিল এক অত্যন্ত ভিন্ন ধরনের ছুটির দিন। বড়দিনের জন্য লড়াই (ইংরাজি) নামক তার বইয়ে, ইতিহাসের অধ্যাপক স্টিফান নিসেনবম্‌ লেখেন: “বড়দিন ছিল . . . অতিরিক্ত মদ্যপানের সময় যখন নিয়ন্ত্রণহীন ‘আনন্দোৎসব’ পালন করার জন্য লোকেদের সাধারণ্যের আচারব্যবহারের নিয়মগুলিকে সাময়িকভাবে পরিত্যাগ করা হত যেটি একপ্রকার ডিসেম্বর মার্ডি গ্রাসের মত ছিল।”

যারা বড়দিনকে গভীর সম্মানের চোখে দেখেন, তাদের হয়ত এই বর্ণনাটি বিব্রত করবে। কেন একজন এইরকম একটি ছুটিকে অপবিত্র করবেন যেটি ঈশ্বরের পুত্রের জন্মের স্মৃতিরক্ষণার্থক উৎসব হিসাবে দাবি করে? উত্তরটি হয়ত আপনাকে অবাক করবে।

ত্রুটিপূর্ণ ভিত্তি

চতুর্থ শতাব্দীতে, এর একবারে শুরু থেকে আরম্ভ করে বড়দিনকে ঘিরে বিতর্ক চলে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, যীশুর জন্মদিন সম্পর্কে প্রশ্ন ছিল। যেহেতু বাইবেল খ্রীষ্টের জন্মের দিন বা মাস সম্বন্ধে কোন নির্দিষ্ট ইঙ্গিত দেয় না, তাই বিভিন্ন তারিখগুলির প্রস্তাব করা হয়েছিল। তৃতীয় শতাব্দীতে, মিশরীয় ঈশ্বরতত্ত্ববিদ্‌দের একটি দল এই তারিখটি ২০শে মে বলে স্থির করেন, যখন অন্যেরা পূর্ববর্তী তারিখগুলির প্রতি আনুকূল্য দেখান যেমন ২৮শে মার্চ, ২রা এপ্রিল বা ১৯শে এপ্রিল। ১৮শ শতাব্দীর মধ্যে যীশুর জন্ম, বছরের প্রত্যেকটি মাসের সাথে সংযুক্ত হয়ে গিয়েছিল! তাহলে কিভাবে পরিশেষে ২৫শে ডিসেম্বরকে বেছে নেওয়া হয়?

অধিকাংশ পণ্ডিতেরা স্বীকার করেন যে ক্যাথলিক গির্জা যীশুর জন্মদিন হিসাবে ২৫শে ডিসেম্বরকে নির্বাচিত করেছিল। কেন? দ্যা নিউ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা জানায়, “খুব সম্ভবত এর কারণ ছিল যে প্রাথমিক খ্রীষ্টানেরা চেয়েছিলেন ‘অজেয় সূর্যের জন্মদিন’ উপলক্ষে পৌত্তলিক রোমীয় উৎসবের সাথে তারিখটি যেন এই একই দিনে পড়ে।” কিন্তু কেন এই খ্রীষ্টানেরা যারা আড়াই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই পৌত্তলিকদের দ্বারা নিষ্ঠুরভাবে তাড়িত হয়ে আসছিলেন, হঠাৎ করে তাদের তাড়নাকারীদের প্রতি বশ্যতা স্বীকার করেন?

কলুষতার অনুপ্রবেশ

প্রথম শতাব্দীতে, প্রেরিত পৌল তীমথিকে সতর্ক করেছিলেন যে “দুষ্টলোকেরা ও বঞ্চকেরা” খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীতে সন্তর্পণে প্রবেশ করবে আর অনেককে ভ্রান্ত করবে। (২ তীমথিয় ৩:১৩) এই বিশাল ধর্মভ্রষ্টতা প্রেরিতদের মৃত্যুর পর থেকে শুরু হয়েছিল। (প্রেরিত ২০:২৯, ৩০) চতুর্থ শতাব্দীতে, কনস্টানটাইনের তথাকথিত ধর্ম পরিবর্তনের পর, বৃহৎ সংখ্যক পৌত্তলিকেরা সেই সময়ে প্রচলিত খ্রীষ্টতত্ত্বের মধ্যে জড়ো হয়েছিল। এর ফল কী দাঁড়ায়? প্রাথমিক খ্রীষ্টতত্ত্ব এবং পৌত্তলিকতাবাদ (ইংরাজি) নামক বইটি জানায়: “আন্তরিক বিশ্বাসীদের তুলনামূলক ক্ষুদ্র দলটি অসংখ্য নামধারী খ্রীষ্টানদের মাঝে হারিয়ে গিয়েছিল।”

পৌলের বাক্যগুলি কতই না সত্য প্রমাণিত হয়েছিল! এটি যেন এমন ছিল যে প্রকৃত খ্রীষ্টতত্ত্বকে পৌত্তলিক কলুষতা গ্রাস করেছিল। আর ছুটি উদ্‌যাপনের মত আর কোথাও এই সংক্রমণ এত স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি।

প্রকৃতপক্ষে, খ্রীষ্টানদের কেবল প্রভুর সান্ধ্য ভোজটি উদ্‌যাপনের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। (১ করিন্থীয় ১১:২৩-২৬) যেহেতু রোমীয় উৎসবগুলির সাথে প্রতিমাপূজামূলক অভ্যাসগুলি জড়িত ছিল, তাই প্রাথমিক খ্রীষ্টানেরা এর অংশী হতেন না। এই কারণে তৃতীয় শতাব্দীর পৌত্তলিকেরা খ্রীষ্টানদের তিরস্কার করে বলেছিল: “আপনারা কোন প্রদর্শনীতে যান না; জনসাধারণে প্রদর্শন সম্পর্কে আপনারা উদ্বিগ্ন নন; সাধারণ ভোজোৎসবগুলিকে আপনারা প্রত্যাখ্যান করেন আর পবিত্র প্রতিযোগিতাগুলিকে ঘৃণা করেন।” অন্যদিকে পৌত্তলিকেরা দম্ভ করে বলেছিল: “আমরা আনন্দ, মহাভোজ, গান আর খেলাধূলা সহকারে দেবতাদের উপাসনা করি।”

চতুর্থ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে এই অসন্তোষ হ্রাস পেয়েছিল। কিভাবে? যত বেশি সংখ্যায় নকল খ্রীষ্টানেরা অলক্ষ্যে খোঁয়াড়ের মধ্যে প্রবেশ করতে থাকে, ধর্মভ্রষ্ট ধারণাগুলি বৃদ্ধি পেতে থাকে। এটি রোমীয় জগতের সাথে আপোশ করায় পরিচালিত করেছিল। এই বিষয়ের উপর মন্তব্য করতে গিয়ে আমাদের খ্রীষ্টতত্ত্বে পৌত্তলিকতাবাদ (ইংরাজি) নামক বইটি জানায়: “পরম্পরাগতভাবে জনপ্রিয় পৌত্তলিক উৎসবগুলিকে গ্রহণ করে এইগুলির মধ্যে খ্রীষ্টীয় তাৎপর্য প্রবেশ করানো ছিল একটি নির্দিষ্ট খ্রীষ্টীয় পন্থা।” হ্যাঁ, এই বিশাল ধর্মভ্রষ্টতার ক্ষতিকর প্রভাব প্রকাশ পেতে শুরু করেছিল। তথাকথিত খ্রীষ্টানদের পৌত্তলিক উদ্‌যাপনগুলি গ্রহণ করার ইচ্ছুক মনোভাব এখন সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছু পরিমাণে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে লেগেছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই পৌত্তলিকদের মত খ্রীষ্টানদেরও সমপরিমাণ বার্ষিক উৎসবগুলির আবির্ভাব ঘটেছিল। আশ্চর্যের বিষয় নয় যে, এগুলির মধ্যে সবচেয়ে প্রধান ছিল বড়দিন।

এক আন্তর্জাতিক ছুটির দিন

খ্রীষ্টতত্ত্বের এই প্রভাবশালী আকারটি ইউরোপে যতই বিস্তার লাভ করতে থাকে, বড়দিনের প্রসারও তার সাথে বিস্তৃত হয়। ক্যাথলিক গির্জা এই দৃষ্টিভঙ্গিটি গ্রহণ করেছিল যে যীশুর জন্মদিনের সম্মানার্থে এক আনন্দময় উৎসবের স্থায়ী প্রবর্তন করা যথাযথ। তদনুসারে সা.কা. ৫৬৭ সালে ট্যুয়ার্সের উপদেষ্টা সমিতি “বড়দিন থেকে এপিফ্যানি উদ্‌যাপন পর্যন্ত ১২ দিনকে এক পবিত্র এবং উৎসবের মরশুম হিসাবে ঘোষণা করেছিল।”—বিদ্যালয় এবং গৃহ সম্বন্ধীয় ক্যাথলিক বিশ্বকোষ (ইংরাজি)।

অল্প সময়ের মধ্যেই বড়দিন উত্তর ইউরোপের জাগতিক শস্যচ্ছেদন উৎসবের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যগুলি গ্রহণ করে। ধর্মানুরাগের তুলনায় আনন্দ করাটাই অধিক প্রচলিত বিষয় হয়ে ওঠে যতই আনন্দোৎসবকারীরা অতিরিক্ত ভোজনপানে নিজেদের ডুবিয়ে দিতে থাকে। তাদের এই অনৈতিক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার পরিবর্তে গির্জা এটি সমর্থন করে। (রোমীয় ১৩:১৩ ও ১ পিতর ৪:৩ পদের সাথে তুলনা করুন।) সা.কা. ৬০১ সালে, পোপ গ্রেগরি ১ম, ইংল্যান্ডে তার মিশনারী মেলিটাসকে লিখেছিলেন আর তাকে বলেছিলেন, “ঐ প্রাচীন পৌত্তলিক উৎসবগুলিকে বন্ধ না করে বরঞ্চ গির্জার রীতিগুলির সাথে সেগুলির সামঞ্জস্যবিধান করতে আর শুধুমাত্র সেগুলি পালন করার কারণকে ন-খ্রীষ্টীয় থেকে খ্রীষ্টীয় যুক্তিতে পরিণত করতে।” আর্থার উইগল, যিনি একসময় মিশর সরকারের প্রাচীন নিদর্শনের ইন্সপেক্টর জেনারেল ছিলেন এইরকম বিবৃতিই দেন।

মধ্য যুগব্যাপী সংস্কার সাধনের মনোভাবসম্পন্ন ব্যক্তিবিশেষেরা এইধরনের অনাচারের বিরুদ্ধে কথা বলার প্রয়োজন বোধ করেছিলেন। তারা “বড়দিনের আনন্দের অপব্যবহারের” বিরুদ্ধে অসংখ্য আদেশ জারি করেছিলেন। ডা: পেন রেস্টাড, আমেরিকায় বড়দিন—একটি ইতিহাস (ইংরাজি) নামক তার বইয়ে বলেন: “কিছু পাদ্রিরা এই বিষয়ের উপর জোর দেন যে অসিদ্ধ মানবজাতির এক বেপরোয়া ও মাত্রাহীন জীবন যাপনের জন্যও নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন আর যতক্ষণ পর্যন্ত তা খ্রীষ্টীয় তত্ত্বাবধানের ছত্রছায়ায় থাকে।” এটি শুধু বিভ্রান্তিকে বাড়িয়েই তুলেছিল। কিন্তু এটি কোন ভিন্নতা নিয়ে আসেনি যেহেতু পৌত্তলিক প্রথাগুলি ইতিমধ্যেই বড়দিনের সাথে এমনভাবে মিশে গিয়েছিল যে অধিকাংশ লোকেরা তা পরিত্যাগ করতে অনিচ্ছুক ছিল। লেখক ট্রিসট্রাম কফিন এইভাবে বিষয়টিকে প্রকাশ করেন: “সাধারণভাবে লোকেরা ঠিক তাই করে চলেছিল যা তারা সর্বদা করে এসে[ছে] আর নীতিবাদীদের বিতর্কের প্রতি তারা খুব কমই মনোযোগ দিয়েছিল।”

ইউরোপীয়রা পশ্চিম গোলার্ধে স্থায়ী বসবাস আরম্ভ করার সময় থেকেই বড়দিন এক সুপরিচিত ছুটির দিন হয়ে উঠেছিল। কিন্তু তবুও, উপনিবেশগুলিতে বড়দিন গৃহীত হয়নি। গোঁড়া খ্রীষ্টীয় সংস্কারকেরা এই উদ্‌যাপনকে পৌত্তলিক বলে মনে করতেন আর ১৬৫৯ থেকে ১৬৮১ সালের মধ্যে ম্যাসাচুসেটসে এটিকে নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলেন।

নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর, উপনিবেশগুলির মধ্যে, বিশেষ করে নতুন ইংল্যান্ডের দক্ষিণ অংশে বড়দিন উদ্‌যাপন বৃদ্ধি পায়। কিন্তু, অতীতের ছুটির দিনগুলির পরিপ্রেক্ষিতে, এটি আশ্চর্যের বিষয় ছিল না যে অনেকে ঈশ্বরের পুত্রকে সম্মান করার পরিবর্তে আনন্দোৎসবের প্রতিই বেশি মনোযোগী ছিল। বড়দিনের একটি প্রথা যা বিশেষভাবে ধ্বংসাত্মক ছিল তা হল স্তোত্র গানের মিছিল। না দিলে ক্ষতি করব, এইধরনের মনোভাব দেখিয়ে উপদ্রবী যুবকদের দল ধনী প্রতিবেশীদের বাড়িতে ঢুকে বিনা পয়সায় খাবার ও পানীয় দাবি করত। যদি গৃহস্বামী তা দিতে অসম্মত হতেন তখন সাধারণত তাকে অভিসম্পাত করা হত আর কখনও কখনও তার বাড়ি ভাঙচুর করা হত।

১৮২০ এর দশকে পরিস্থিতির এতই অবনতি ঘটে যে “বড়দিনের বিশৃঙ্খলতা এক ভয়ঙ্কর সামাজিক বিপদ” হয়ে উঠেছিল, অধ্যাপক নিসেনবম্‌ জানান। নিউ ইয়র্ক ও ফিলাডেলফিয়ার মত শহরগুলিতে, ধনী জমিদারেরা তাদের সম্পত্তি রক্ষা করার জন্য প্রহরী ভাড়া করতে শুরু করেন। এমনকি এও বলা হয়ে থাকে যে নিউ ইয়র্ক শহরটি ১৮২৭/২৮ এর বড়দিন মরশুমের হিংসাত্মক দাঙ্গার কারণে তাদের প্রথম পেশাগত পুলিশ বাহিনীকে সংগঠিত করে!

বড়দিনের নবীনীকরণ

১৯শ শতাব্দী মানবজাতির জন্য অভূতপূর্ব পরিবর্তনগুলি এনেছিল। অনেক রাস্তা ও রেলপথগুলির মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হওয়ায় মানুষ, বস্তুসামগ্রী ও খবর আরও দ্রুতগতিতে এক স্থান থেকে আর এক স্থানে পৌঁছাতে শুরু করে। শিল্পবিপ্লব অসংখ্য চাকুরির সুযোগ সৃষ্টি করে আর কারখানাগুলি সাবলীলগতিতে, দ্রুত পণ্যদ্রব্যগুলি উৎপাদন করে চলে। এছাড়া শিল্পায়নও বিভিন্নধরনের নতুন ও জটিল সামাজিক সমস্যার উদ্ভব ঘটায়, যা শেষপর্যন্ত বড়দিন উদ্‌যাপনের পন্থাকে প্রভাবিত করেছিল।

দীর্ঘকাল ধরে লোকেরা পারিবারিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করার মাধ্যম হিসাবে ছুটির দিনগুলিকে ব্যবহার করে এসেছেন আর বড়দিনের ক্ষেত্রেও এটি ঠিক তাই ছিল। বড়দিনের কয়েকটি পুরনো পরম্পরাগত বিধিকে নির্বাচিতভাবে পুনঃসংস্কৃত করে এটির উদ্যোক্তারা সক্রিয়ভাবে বড়দিনকে এক অবাধ, মহোৎসব থেকে পরিবর্তিত করে পরিবার ভিত্তিক এক ছুটির দিনে পরিণত করেছিলেন।

বাস্তবিকই, উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে, বড়দিনকে এক অর্থে আধুনিক আমেরিকার রুগ্ন জীবনের প্রতিষেধক হিসাবে দেখা হত। “সমস্ত ছুটিগুলির মধ্যে,” ডা: রেস্টাড জানান, “বড়দিনই ছিল এক যথার্থ মাধ্যম যার দ্বারা পরিবারের মধ্যে ধর্ম বা ধর্মীয় ধারণাকে সঞ্চারিত করা এবং জগতের মাত্রাহীনতা ও দুর্বলতাকে সংশোধন করা যেত।” তিনি আরও বলেন: “উপহার দেওয়া, দান করার মনোবৃত্তি, এমনকি বন্ধুত্বসুলভ ছুটির দিনের সম্ভাষণ বিনিময় ও বৈঠকখানায় বা পরে সানডে স্কুলের হলে চিরসবুজ গাছ সাজানো ও আনন্দ উপভোগ, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের একে অপরের সাথে, গির্জার সাথে ও সমাজের সাথে সম্মিলিত করাত।”

একইরকমভাবে আজ অনেকে পরস্পরের প্রতি তাদের প্রেমকে সুনিশ্চিত করা আর পরিবারের একতা বজায় রাখার মাধ্যম হিসাবে বড়দিন উদ্‌যাপন করে থাকেন। কিন্তু আধ্যাত্মিক দিকগুলিও অবশ্যই উপেক্ষা করার নয়। অসংখ্য লোকেরা যীশুর জন্মকে সম্মান জানানোর জন্য বড়দিন উদ্‌যাপন করেন। তারা হয়ত গির্জার বিশেষ পরিচর্যাগুলিতে যোগ দেন, ঘরের মধ্যে যীশুর জন্ম বিষয়ক দৃশ্যগুলি সাজিয়ে রাখেন বা স্বয়ং যীশুর উদ্দেশ্যেই ধন্যবাদসূচক প্রার্থনা জানিয়ে থাকেন। কিন্তু ঈশ্বর এই বিষয়টিকে কিভাবে দেখেন? এই বিষয়গুলি কি ঈশ্বরের অনুমোদনের সাথে সংগতি রাখে? বাইবেলের কী বলার আছে তা বিবেচনা করুন।

“সত্য ও শান্তি ভালবাসিও”

পৃথিবীতে থাকাকালীন যীশু তাঁর অনুগামীদের বলেছিলেন: “ঈশ্বর আত্মা; আর যাহারা তাঁহার ভজনা করে, তাহাদিগকে আত্মায় ও সত্যে ভজনা করিতে হইবে।” (যোহন ৪:২৪) যীশু ওই বাক্যগুলি পালন করেছিলেন। তিনি সব সময় সত্য বলতেন। তিনি নিখুঁতভাবে তাঁর পিতা, “সদাপ্রভু, সত্যের ঈশ্বর”-কে অনুকরণ করেছিলেন।—গীতসংহিতা ৩১:৫; যোহন ১৪:৯.

বাইবেলের প্রতিটি পাতার মাধ্যমে যিহোবা এই বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন যে তিনি সব ধরনের ছলনাকে ঘৃণা করেন। (গীতসংহিতা ৫:৬) এর পরিপ্রেক্ষিতে, এটি কি কর্তৃত্বব্যঞ্জক নয় যে বড়দিনের সাথে জড়িত বিভিন্ন দিকগুলি মিথ্যার আভাস দেয়? দৃষ্টান্তস্বরূপ, স্যান্টা ক্লস সম্বন্ধীয় রূপকথাটির বিষয়ে চিন্তা করুন। আপনি কি কখনও একটি শিশুকে বোঝাবার চেষ্টা করেছেন যে কেন স্যান্টা দরজা দিয়ে প্রবেশ না করে চিমনি দিয়ে প্রবেশ করা পছন্দ করেন, যা বহু দেশে বিশ্বাস করা হয়? আর কিভাবে স্যান্টা কেবল একটি সন্ধ্যার মধ্যে অসংখ্য বাড়িগুলিতে সাক্ষাৎ করতে পারেন? উড়ন্ত বল্‌গাহরিণ সম্বন্ধেই বা কী বলা যায়? যখন একটি শিশু জানতে পারে যে তাকে ভুলভাবে বোঝানো হয়েছিল যে, স্যান্টা একজন বাস্তব ব্যক্তি, তখন এটি কি তার বাবামার প্রতি তার নির্ভরতাকে কম করে না?

দ্যা ক্যাথলিক এনসাইক্লোপিডিয়া সহজভাবে জানায়: “পৌত্তলিক প্রথাগুলি . . . বড়দিনের মধ্যে মিশে গিয়েছিল।” তাহলে কেন ক্যাথলিক ও খ্রীষ্টীয় জগতের অন্যান্য গির্জাগুলি সেই ছুটি স্থায়ীভাবে পালন করে আসছে যার প্রথাগুলি খ্রীষ্টীয় উৎস থেকে নয়? এটি কি পৌত্তলিক শিক্ষাগুলিকে প্রশ্রয় দেওয়াকে ইঙ্গিত করে না?

যখন যীশু পৃথিবীতে ছিলেন তিনি লোকেদের তাঁর উপাসনা করার জন্য উৎসাহ দেননি। যীশু নিজেই বলেছিলেন: “তোমার ঈশ্বর প্রভুকেই [“যিহোবাকেই,” “NW”] প্রণাম করিবে, কেবল তাঁহারই আরাধনা করিবে।” (মথি ৪:১০) অনুরূপভাবে, যীশু স্বর্গে মহিমান্বিত হওয়ার পর, একজন স্বর্গদূত প্রেরিত যোহনকে “ঈশ্বরের ভজনা” করতে বলেছিলেন, যা ইঙ্গিত করে যে এই ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন হয়নি। (প্রকাশিত বাক্য ১৯:১০) ফলে এই প্রশ্ন উত্থাপিত হয়, যীশু কি সেই সমস্ত ভক্তিপূর্ণ উপাসনাগুলি গ্রহণ করবেন যা বড়দিনের সময়ে তাঁর পিতার উদ্দেশ্যে নয় বরং তাঁর উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে?

স্পষ্টতই, আধুনিক বড়দিন সম্পর্কীয় তথ্যগুলি ততটা প্রশংসাজনক নয়। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে এটি একটি অতিরঞ্জিত ছুটির দিন যার মধ্যে অতীতের বহু নিকৃষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। সুতরাং উত্তম বিবেকের পরিপ্রেক্ষিতে লক্ষ লক্ষ খ্রীষ্টানেরা বড়দিন উদ্‌যাপন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ রায়ান নামে এক যুবক বড়দিন সম্বন্ধে বলে: “লোকেরা বছরের কয়েকটা দিন খুব উচ্ছ্বসিত থাকে যখন পরিবার একত্র হয় আর সকলে আনন্দে থাকে। কিন্তু এর মধ্যে এমন কী বিশেষত্ব আছে? আমার বাবামা আমাকে বছরের সবসময়ই উপহার দিয়ে থাকেন!” ১২ বছর বয়সী আরেকজন যুবক বলে: “আমি নিজেকে বঞ্চিত মনে করি না। আমি সারা বছর ধরে উপহার পেয়ে থাকি, শুধুমাত্র বিশেষ কোন দিনে নয় যখন লোকেরা উপহার কেনাকে বাধ্যতা বলে মনে করেন।”

ভাববাদী সখরিয় সহইস্রায়েলীয়দের উৎসাহ দিয়ে বলেছিলেন, “সত্য ও শান্তি ভালবাসিও।” (সখরিয় ৮:১৯) যদি আমরা সখরিয় ও অন্যান্য বিশ্বস্ত প্রাচীন ব্যক্তিদের মত, ‘সত্য ভালবাসি’ তাহলে আমাদের কি উচিত নয় সেই সমস্ত মিথ্যা ধর্মীয় উদ্‌যাপনগুলি এড়িয়ে চলা যা ‘জীবন্ত সত্য ঈশ্বর’ যিহোবার সম্মানহানী করে?—১ থিষলনীকীয় ১:৯.

[৭ পৃষ্ঠার চিত্র]

“আমি নিজেকে বঞ্চিত মনে করি না। আমি সারা বছর ধরে উপহার পেয়ে থাকি”

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার