ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৭ ১১/১ পৃষ্ঠা ১৯-২২
  • আমি “যে ক্ষুদ্র” তাকে “বলবান্‌ জাতি” হয়ে উঠতে দেখেছি

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • আমি “যে ক্ষুদ্র” তাকে “বলবান্‌ জাতি” হয়ে উঠতে দেখেছি
  • ১৯৯৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • অরিজোনায় অগ্রগামীর কাজ করা
  • গিলিয়েড স্কুল এবং বিশেষ পরিচর্যা
  • কিউবা এবং পুয়ের্টো রিকোয়
  • ডমিনিকান রিপাবলিকে আমাদের গৃহ
  • এখন একটি বলবান জাতি
  • আমি দান করার মধ্যে সুখ খুঁজে পেয়েছি
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০১৬
  • প্রথমে রাজ্যের বিষয়ে চেষ্টা করা—এক সুরক্ষিত ও সুখী জীবন
    ২০০৩ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • পুরস্কারের প্রতি দৃষ্টি এবং হৃদয় নিবদ্ধ রাখা
    ১৯৯৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • আনন্দের সঙ্গে যিহোবার নির্দেশনা মেনে নেওয়া
    ১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৭ ১১/১ পৃষ্ঠা ১৯-২২

আমি “যে ক্ষুদ্র” তাকে “বলবান্‌ জাতি” হয়ে উঠতে দেখেছি

উইলিয়াম ডিঙ্গম্যান দ্বারা কথিত

সালটি ছিল ১৯৩৬; স্থান আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের অরিগানের সালেম। আমি যিহোবার সাক্ষীদের একটি সভায় উপস্থিত ছিলাম। যে প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তা ছিল: “সেই বিরাট সংখ্যক লোক কোথায়?” (প্রকাশিত বাক্য ৭:৯, কিং জেমস ভারসন) আমি ছিলাম একমাত্র নতুন ব্যক্তি, তাই সকলেই আমার দিকে নির্দেশ করে বলেছিলেন, “সে এখানে!”

উনিশশো ত্রিশ দশকের মাঝামাঝি যিহোবার সাক্ষীদের মধ্যে সেই লোকেদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে খুবই কম ছিল যাদের পরমদেশ পৃথিবীতে অনন্তকাল বেঁচে থাকা সম্বন্ধীয় বাইবেলের আশা ছিল। (গীতসংহিতা ৩৭:২৯; লূক ২৩:৪৩) সেই সময় থেকে বিষয়গুলি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু আমাকে সেই ঘটনাগুলি সম্বন্ধে বলতে দিন যা আমাকে অরিগানের সালেমে সেই সভায় উপস্থিত হতে পরিচালিত করেছিল।

আমার বাবা স্বর্ণ যুগ এর একজন গ্রাহক ছিলেন, যা সচেতন থাক! পত্রিকাটির পুরাতন নাম। যখন আমি কিশোর ছিলাম, আমি এটি পড়া উপভোগ করতাম আর আমি এই বিষয়ে দৃঢ়প্রত্যয়ী হয়েছিলাম যে এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাইবেল সত্য আছে। তাই একদিন আমি একটি কূপন পূর্ণ করে পাঠাই যেটি স্বর্ণ যুগ পত্রিকাটির পশ্চাতে প্রকাশিত হত। এটি পাঠককে ২০টি পুস্তিকা, একটি বই এবং যিহোবার সাক্ষীদের নিকটতম মণ্ডলীটির নাম প্রদান করেছিল। সাহিত্য পেয়েই, আমি গৃহ থেকে গৃহে যাই এবং সমস্ত পুস্তিকা এবং সেই সাথে বইটি অর্পণ করি।

সেই সময় পর্যন্ত কেউ আমার সাথে বাইবেল অধ্যয়ন করেনি। বস্তুতপক্ষে, আমি কখনও কোন যিহোবার সাক্ষীদের সাথে কথা বলিনি। কিন্তু এখন, হাতে নিকটতম কিংডম হলের ঠিকানাটি নিয়ে অরিগানের সালেমে একটি সভায় যোগদান করার জন্য আমি প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ গাড়ি চালিয়ে যাই। এটি ছিল সেই স্থান যেখানে আমাকে “সেই বিরাট সংখ্যক লোক” হিসাবে শনাক্ত করা হয়েছিল যখন আমার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর।

যদিও বাস্তবিকভাবে পরিচর্যার জন্য আমার কোনরকম প্রস্তুতি ছিল না, আমি সালেম মণ্ডলীর সাথে প্রচার করা শুরু করি। তিনটি মৌলিক বিষয় আমার সাক্ষ্যদানে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমাকে উৎসাহিত করা হয়েছিল। প্রথম বিষয়টি হল যে যিহোবা হলেন ঈশ্বর; দ্বিতীয় যীশু খ্রীষ্ট হলেন তাঁর মনোনীত রাজা; এবং তৃতীয় বিষয়টি হল যে রাজ্যই জগতের জন্য একমাত্র আশা। প্রতিটি দ্বারে এই বার্তাটি বন্টন করতে আমি চেষ্টা করি।

দুই বছর সালেমে যিহোবার সাক্ষীদের সাথে মেলামেশা করার পর, ১৯৩৮ সালের ৩রা এপ্রিল আমি বাপ্তাইজিত হই। আমাদের, “বিরাট সংখ্যক লোক” এর বেশ কিছুজনকে বাপ্তাইজিত হতে দেখে সালেমে আমাদের বন্ধুরা আনন্দিত হয়েছিল। ১৯৩৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আমি একজন অগ্রগামী অর্থাৎ পূর্ণ সময়ের পরিচারক হই। সেই বছরের ডিসেম্বর মাসে, আমি অরিজোনায় যাওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করি যেখানে রাজ্য ঘোষণাকারীদের খুব প্রয়োজন ছিল।

অরিজোনায় অগ্রগামীর কাজ করা

অরিজোনায় যিহোবার সাক্ষীদের কাজ নতুন ছিল আর আমাদের সম্বন্ধে সেখানে অনেক বিভ্রান্তি ছিল, তাই যখন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়িত হয়, আমাদের অনেক নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৪২ সালে অরিজোনার স্ট্যাফোর্ড শহরে যখন আমি পরিচর্যায় রত ছিলাম, সেখানে আমাদের বিরুদ্ধে মরমনদের এক দল কর্তৃক উচ্ছৃঙ্খল জনতার কার্যকলাপ সম্বন্ধে কথাবার্তা চলতে থাকে। ঘটনাবশত আমার অগ্রগামী সঙ্গীরা এবং আমি একজন মরমন বিশপের গৃহের কাছাকাছি বাস করতাম যিনি আমাদের শ্রদ্ধা করতেন এবং বলেছিলেন: “যদি মরমন মিশনারীরা যিহোবার সাক্ষীদের মত সক্রিয় হত, তাহলে মরমন গির্জা বৃদ্ধি পেত।” তাই তিনি গির্জায় মুখ খোলেন এবং বলেন: “সাক্ষী ছেলেদের বিরুদ্ধে উচ্ছৃঙ্খল জনতার কার্যকলাপের বিষয় আমি শুনতে পাচ্ছি। হ্যাঁ, আমি সেই ছেলেদের কাছাকাছি বাস করি আর যদি সেখানে উচ্ছৃঙ্খল জনতার কার্যকলাপ ঘটে, তাহলে আমাদের গৃহের ঠিক মাঝখানে আমি আমার বন্দুক স্থাপন করব। সেই বন্দুক ব্যবহৃত হবে—কিন্তু সাক্ষীদের বিরুদ্ধে নয়। এটি উচ্ছৃঙ্খল জনতার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে। তাই আপনারা যদি উচ্ছৃঙ্খল জনতার কার্যকলাপ চান, তাহলে আপনারা জানেন যে কী প্রত্যাশা করতে পারেন।” উচ্ছৃঙ্খল জনতা আর কখনও সেখানে আসেনি।

অরিজোনায় আমার তিন বছর থাকাকালীন, আমাদের বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার এবং কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। একবার আমাকে ৩০ দিন বন্দী করে রাখা হয়েছিল। আমাদের পরিচর্যায় পুলিশী হেনস্তার সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য, আমরা যেটিকে উড়ন্ত দল বলতাম, তা গঠন করি। সাক্ষীদের পরিচালক আমাদের বলেছিলেন: “আমাদের নাম যা, আমরা ঠিক তাই। আমরা সকাল পাঁচটা কিংবা ছয়টায় আরম্ভ করি, প্রতিটি দ্বারে একটি ট্র্যাক্ট অথবা পুস্তিকা ছেড়ে আসি আর তারপর আমরা দ্রুত চলে যাই।” আমাদের “উড়ন্ত দল” অরিজোনা রাষ্ট্রের বেশ কিছু অংশ সম্পূর্ণ করেছিল। কিন্তু, শেষপর্যন্ত এটির অবসান হয় কারণ এই প্রকার প্রচার যারা আগ্রহী ছিল তাদের জন্য সাহায্য প্রদান করতে আমাদের সুযোগ দেয়নি।

গিলিয়েড স্কুল এবং বিশেষ পরিচর্যা

১৯৪২ সালের ডিসেম্বর মাসে অরিজোনায় কিছু অগ্রগামীদের মধ্যে আমি ছিলাম একজন যারা যিহোবার সাক্ষীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি নতুন মিশনারী স্কুলে যোগদানের জন্য এক আমন্ত্রণ পত্র পেয়েছিলেন। প্রথমদিকে এই স্কুলটিকে ওয়াচটাওয়ার বাইবেল কলেজ অফ গিলিয়েড বলা হত। পরবর্তীকালে নামটি ওয়াচটাওয়ার বাইবেল স্কুল অফ গিলিয়েডে পরিবর্তিত হয়েছিল। চত্বরটি প্রায় ৪,৮০০ কিলোমিটার দূরে, উত্তর নিউ ইয়র্কের ইথাকা শহরের কাছে অবস্থিত ছিল।

অরিগানে এক সংক্ষিপ্ত পরিদর্শনের পর, ১৯৪৩ সালের জানুয়ারি মাসে আমাদের বেশ কিছুজন অগ্রগামী গ্রেহাউণ্ডের একটি বাসে করে অরিজোনা মরুভূমির উত্তপ্ত অঞ্চলটি পরিত্যাগ করি। বেশ কয়েকদিন পরে আমরা আমাদের গন্তব্য স্থানে পৌঁছাই এবং উত্তরদিকস্থ শীতল নিউ ইয়র্কে বরফ দেখতে পাই। ১৯৪৩ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি স্কুল আরম্ভ হয়, যখন এর সভাপতি, নেথন এইচ. নর তার উদ্বোধনী বক্তৃতায় একশত ছাত্রের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: “নতুন পরিচারক হিসাবে নিযুক্ত করার জন্য আপনাদের সজ্জিত করা এই কলেজের উদ্দেশ্য নয়। আপনারা ইতিমধ্যেই পরিচারক আর অনেক বছর ধরে পরিচর্যায় সক্রিয় রয়েছেন। . . . এই কলেজে অধ্যয়ন পর্বের একান্ত উদ্দেশ্য হল, যে এলাকাগুলিতে আপনি যাবেন সেগুলির জন্য আপনাকে আরও যোগ্য পরিচারক হতে প্রস্তুত করা।”

যেহেতু আমার জাগতিক শিক্ষা সীমিত ছিল, তাই প্রথম দিকে আমি গিলিয়েডে অস্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কিন্তু নির্দেশদাতারা আমার প্রতি খুবই সহানুভূতিশীল ছিলেন আর তাই আমি আমার অধ্যয়ন খুবই উপভোগ করতে শুরু করি। পাঁচ মাসের প্রগাঢ় প্রশিক্ষণের পর আমাদের ক্লাস স্নাত্তক হয়। এরপর, আমাদের কিছুজনকে নিউ ইয়র্ক ব্রুকলিনে যিহোবার সাক্ষীদের বিশ্ব প্রধান কার্যালয়ে পাঠান হয়, যেখানে আমরা সীমা অধ্যক্ষ হিসাবে ভ্রমণ কাজে অংশ নিতে প্রস্তুত হওয়ার জন্য আরও প্রশিক্ষণ লাভ করি। আমার প্রথম কার্যভারটি ছিল উত্তম এবং দক্ষিণ ক্যারোলিনায়।

সেই প্রাথমিক দিনগুলিতে, সীমা অধ্যক্ষকে প্রায় অবিরতভাবে এক স্থান থেকে আর এক স্থানে যেতে হত। আমরা একটি ছোট মণ্ডলীর সাথে একদিন অথবা যদি তা বড় হত তাহলে দুইদিন থাকতাম। সেই সময়ে অধিকাংশ মণ্ডলীই ছোট ছিল। তাই একটি সম্পূর্ণ দিন এবং প্রায়ই মধ্যরাত্রি পর্যন্ত পরিদর্শন ও প্রশ্নগুলির উত্তর দিতে কাটানোর পর, পরবর্তী মণ্ডলীর উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করার জন্য আমাকে পরের দিন প্রায় সকাল পাঁচটার মধ্যে প্রস্তুত হতে হত। প্রায় এক বছর যাবৎ আমি সীমার কাজে সেবা করি এবং তারপর টেনিসি এবং নিউ ইয়র্কে আমি কিছু সময় অগ্রগামীর কাজ করি।

কিউবা এবং পুয়ের্টো রিকোয়

১৯৪৫ সালের মে মাসে, অন্যান্য কিছুজনের সাথে আমাকে কিউবায় আমার প্রথম বিদেশী মিশনারী কার্যভারের জন্য পাঠান হয়! যে রাত্রে আমরা কিউবার রাজধানী হাভানায় পৌঁছেছিলাম, সেই রাত্রে আমরা পত্রিকা কাজে গিয়েছিলাম। সান্টা ক্লেরায় একটি গৃহের ব্যবস্থা করতে সক্ষম না হওয়া পর্যন্ত আমরা হাভানায় থেকে গিয়েছিলাম। সমস্ত প্রয়োজনীয় বিষয়গুলির জন্য, যার অন্তর্ভুক্ত ছিল খাবার এবং বাড়ি ভাড়া, আমাদের প্রত্যেকের মাসিক ভাতা ছিল মাত্র ২৫ মার্কিন ডলার। যে উপাদানগুলি প্রাপ্তিসাধ্য ছিল সেগুলি দিয়েই আমরা বিছানা এবং আসবাবপত্র নির্মাণ করেছিলাম এবং আপেলের বাক্স দিয়ে দেরাজওয়ালা আলমারি তৈরি করেছিলাম।

পরের বছর আমাকে সীমার কাজে নিযুক্ত করা হয়। সেই সময়ে সমগ্র কিউবা একটি সীমা ছিল। যেহেতু আমার পূর্ববর্তী সীমা অধ্যক্ষের খুব লম্বা লম্বা পা ছিল আর তিনি দ্রুত হাঁটতে পারতেন, তাই ভাই ও বোনেদের তার সাথে চলার জন্য রীতিমত দৌড়াতে হত। স্পষ্টতই তারা অনুমান করেছিল যে আমিও সেইরকমই হব, তাই তারা আমার পরিদর্শনের জন্য বিষয়গুলির পরিকল্পনা করে রেখেছিল। তারা সকলে একই দিনে পরিচর্যায় যায়নি কিন্তু বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছিল এবং পর্যায়ক্রমে আমার সাথে কাজ করেছিল। প্রথম দিন একটি দল আমাকে দূরবর্তী একটি এলাকায় নিয়ে যায়; পরের দিন আরেকটি দল আমাকে এইরকম আর একটি এলাকায় নিয়ে যায় আর এইভাবে চলতে থাকে। পরিদর্শনের শেষে আমি পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম কিন্তু আমি এটি উপভোগ করেছিলাম। সেই মণ্ডলী সম্বন্ধে প্রিয় স্মৃতিগুলি আমার রয়েছে।

১৯৫০ সালের মধ্যে কিউবায় আমাদের ৭,০০০ জনের বেশি রাজ্যের প্রকাশক ছিল যেটি মেক্সিকোর প্রায় সমান ছিল। সেই বছরের জুলাই মাসে, আমি নিউ ইয়র্ক শহরের ইয়াঙ্কি স্টেডিয়ামে ঈশতান্ত্রিক বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদান করি। পরে, পুয়ের্টো রিকোতে আমি নতুন মিশনারীর কার্যভার পাই। দ্বাদশ গিলিয়েড ক্লাসের নতুন মিশনারীদের মধ্যে এস্টেল এবং থেলমা ওয়েকলে, পুয়ের্টো রিকোয় যাওয়ার পথে বিমানে আমার সঙ্গী হয়েছিলেন।

আট বছর পরে, এস্টেল এবং আমার পুয়ের্টো রিকোর বেয়োমনে এক সাধারণ অনুষ্ঠানের দ্বারা বিবাহ হয় যেটি আমাদের সীমা অধিবেশনের বিরতির সময়ে মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আমাদের বিবাহের পূর্বে এবং পরে উভয় সময়ই আমি সীমার কাজে সেবা করি। পুয়ের্টো রিকোয় দশ বছরেরও অধিক সময় ধরে, এস্টেল এবং আমি বিরাট বৃদ্ধি দেখেছিলাম—৫০০ জনেরও কম প্রকাশক থেকে ২,০০০ জনের বেশি। আমরা উৎসর্গীকরণ এবং বাপ্তিস্মের পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য অনেক জনকে সাহায্য করতে সক্ষম হয়েছিলাম আর বেশ কয়েকটি নতুন মণ্ডলীর প্রতিষ্ঠার কাজে আমরা অংশগ্রহণ করেছিলাম।

১৯৬০ সালের ডিসেম্বর মাসে, নিউ ইয়র্ক ব্রুকলিনে যিহোবার সাক্ষীদের বিশ্ব প্রধান কার্যালয় থেকে মিলটন হেনশেল্‌ পুয়ের্টো রিকো পরিদর্শন করেন এবং মিশনারীদের সাথে কথা বলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন ভিন্ন কার্যভারের জন্য কেউ নিজেদের প্রদান করতে চায় কি না। এদের মধ্যে যারা স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসেছিল তাদের মধ্যে এস্টেল এবং আমি ছিলাম।

ডমিনিকান রিপাবলিকে আমাদের গৃহ

আমাদের নতুন কার্যভারটি ছিল ডমিনিকান রিপাবলিকে আর তাই ১৯৬১ সালের ১লা জুনকে আমরা স্থানান্তরের তারিখ হিসাবে নির্ধারণ করি। ৩০শে মে, ডমিনিকান একনায়ক রাফেল ট্রুজিলোকে গোপনে হত্যা করা হয় আর তাই দেশের বিমানগুলি বাতিল করা হয়। কিন্তু, শীঘ্রই বিমানগুলি পুনরায় চালু করা হয়েছিল এবং পরিকল্পনা মত আমরা ১লা জুন ডমিনিকান রিপাবলিকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে সক্ষম হয়েছিলাম।

আমরা যখন সেখানে পৌঁছাই, তখন দেশ এক উৎক্ষিপ্ত অবস্থার মধ্যে ছিল আর সেখানে তখনও পর্যন্ত কিছু সামরিক কাজকর্ম বহাল ছিল। এক বিপ্লবের আশঙ্কা ছিল আর সৈন্যেরা বড় রাস্তায় প্রত্যেকের তল্লাশি নেয়। বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করার স্থানে আমাদের থামান হয় আর আমাদের প্রত্যেকের মালপত্র তল্লাশ করা হয়। আমাদের সুটকেস থেকে সব কিছু বের করা হয়, এমনকি ক্ষুদ্রতম জিনিসগুলিও। এইভাবে ডমিনিকান রিপাবলিকের সাথে আমাদের পরিচয় ঘটে।

লা রোমানাতে আমাদের প্রথম কার্যভারে যাওয়ার পূর্বে আমরা বেশ কয়েক সপ্তাহ রাজধানী সেন্টো ডমিনগোতে ছিলাম। ট্রুজিলোর একনায়কত্ব চলাকালীন, জনসাধারণকে বলা হয়েছিল যে যিহোবার সাক্ষীরা সাম্যবাদী এবং অত্যন্ত খারাপ লোক। ফলস্বরূপ, সাক্ষীদের নিদারুণভাবে নির্যাতন করা হয়। কিন্তু একটু একটু করে, আমরা কুসংস্কারকে ভাঙতে সক্ষম হয়েছিলাম।

লা রোমানাতে অল্প কিছু সময় কাজ করার পর, আমরা আর একবার সীমার কাজে সেবা করা আরম্ভ করি। তারপর ১৯৬৪ সালে, আমরা স্যাংটিয়াগো শহরে মিশনারী হিসাবে কার্যভার প্রাপ্ত হই। পরের বছর ডমিনিকান রিপাবলিক এক বিপ্লব অভিজ্ঞতা করে আর তাই আবারও একবার দেশ বিক্ষুব্ধ অবস্থার মধ্যে ছিল। এই দ্বন্দ্বের সময়ে আমরা সান ফ্রানসিককো ডি ম্যাকোরিসে স্থানান্তরিত হই যে শহরটি তার রাজনৈতিক সক্রিয়তার জন্য পরিচিত ছিল। তৎসত্ত্বেও, কোনরকম প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই আমরা স্বচ্ছন্দে প্রচার করি। রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও আমরা এমনকি একটি নতুন মণ্ডলী গঠন করি। পরবর্তী বছরগুলি ব্যাপী আমাদের সাম্প্রতিকতম গৃহ স্যাংটিয়াগোতে পুনরায় কর্মভার প্রাপ্ত হওয়ার পূর্বে আমরা আমাদের কার্যভারে আরও পরিবর্তন অভিজ্ঞতা করি।

নিশ্চিতভাবেই আমরা ডমিনিকান রিপাবলিকে কাজের উপরে যিহোবার আশীর্বাদ দেখেছি। ১৯৬১ সালে যখন আমরা পৌঁছেছিলাম, তখন সেখানে প্রায় ৬০০ জন সাক্ষী এবং ২০টি মণ্ডলী ছিল। এখন সেখানে প্রায় ৩০০টির বেশি মণ্ডলীগুলিতে ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার প্রচারের জন্য ২০,০০০ জন প্রকাশক রয়েছেন। আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা অসাধারণ, ১৯৯৬ সালে খ্রীষ্টের মৃত্যুর স্মরণার্থক সভায় ৬৯,৯০৮ জনের উপস্থিতির দ্বারা যেমন প্রতীয়মান হয়েছিল। সেটি প্রকাশকদের সংখ্যার প্রায় সাড়ে তিন গুণ!

এখন একটি বলবান জাতি

এমনকি যদিও জগতের দৃশ্যপট পরিবর্তিত হয়ে চলেছে, যিহোবার সাক্ষীরা বাইবেলের যে বার্তা প্রচার করে তা একই রয়েছে। (১ করিন্থীয় ৭:৩১) যিহোবা এখনও ঈশ্বর, খ্রীষ্ট এখনও রাজা এবং জগতের একমাত্র আশা হিসাবে রাজ্য পূর্বের যে কোন সময়ের চাইতে আরও স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান।

প্রায় ৬০ বছর আগে যখন আমি অরিগানের সালেমে সেই সভায় যোগদান করেছিলাম সেই সময় থেকে, যিহোবার লোকেদের মধ্যে এক অপূর্ব রূপান্তর ঘটেছে। সত্যই সেই বিরাট সংখ্যক লোক অথবা বিস্তর লোক, বৃহৎ হয়ে উঠেছে যাদের সংখ্যা ৫০ লক্ষেরও উর্ধ্বে। এটি ঠিক তেমনি যিহোবা তাঁর লোকেদের সম্বন্ধে যেমন ভাববাণী করেছিলেন: “যে ছোট, সে সহস্র হইয়া উঠিবে, যে ক্ষুদ্র, সে বলবান্‌ জাতি হইয়া উঠিবে; আমি সদাপ্রভু যথাকালে ইহা সম্পন্ন করিতে সত্বর হইব।”—যিশাইয় ৬০:২২.

প্রায় ৬০ বছর পূর্ণ সময়ের পরিচর্যার পরে, আমার মিশনারী কার্যভারে প্রচার ও শিক্ষা দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাওয়ার আনন্দ থাকায় আমরা সুখী। এই কাজে অংশ থাকা এবং “যে ক্ষুদ্র” তাকে “বলবান্‌ জাতি” হয়ে উঠতে দেখা কতই না এক মহান সুযোগ!

[২১ পৃষ্ঠার চিত্র]

ডমিনিকান রিপাবলিকে আমার স্ত্রীর সাথে

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার