মিথ্যা বার্তাবাহকগণের কোন শান্তি নেই!
“দুরাচারগণ উচ্ছিন্ন হইবে, . . . কিন্তু মৃদুশীলেরা দেশের [“পৃথিবীর,” NW] অধিকারী হইবে, এবং শান্তির বাহুল্যে আমোদ করিবে।”—গীতসংহিতা ৩৭:৯, ১১.
১. “শেষকাল”-এ কেন আমাদের সত্য এবং মিথ্যা উভয় বার্তাবাহকদের দেখতে পাওয়ার প্রত্যাশা করা উচিত?
বার্তাবাহকগণ—মিথ্যা অথবা সত্য? বাইবেলের সময়ে উভয় ধরনেরই ছিল। কিন্তু আমাদের দিন সম্বন্ধে কী? দানিয়েল ১২:৯, ১০ পদে আমরা পড়ি যে এক স্বর্গীয় বার্তাবাহক ঈশ্বরের ভাববাদীকে বলেছিলেন: “শেষকাল পর্য্যন্ত এই বাক্য সকল রুদ্ধ ও মুদ্রাঙ্কিত থাকিবে। অনেকে আপনাদিগকে পরিষ্কৃত ও শুক্ল করিবে এবং পরীক্ষাসিদ্ধ হইবে, কিন্তু দুষ্টেরা দুষ্টাচরণ করিবে, আর দুষ্টদের মধ্যে কেহ বুঝিবে না; কেবল বুদ্ধিমানেরাই বুঝিবে।” আমরা এখন সেই “শেষকাল”-এ বসবাস করছি। আমরা কি “দুষ্টদের” এবং “বুদ্ধিমান”-দের মধ্যে এক সুস্পষ্ট পার্থক্য দেখতে পাই? অবশ্যই আমরা তা দেখতে পাই!
২. আজকে যিশাইয় ৫৭:২০, ২১ পদ কিভাবে পরিপূর্ণ হচ্ছে?
২ ৫৭ অধ্যায়, ২০ ও ২১ পদে আমরা ঈশ্বরের বার্তাবাহক যিশাইয়ের বাক্যগুলি পড়ি: “দুষ্টগণ আলোড়িত সমুদ্রের তুল্য, তাহা ত স্থির হইতে পারে না, ও তাহার জলে পঙ্ক ও কর্দ্দম উঠে। আমার ঈশ্বর কহেন, দুষ্ট লোকদের কিছুই শান্তি নাই।” এই বাক্যগুলি কতই না উপযুক্তভাবে এই জগতের বর্ণনা করে যতই এটি একবিংশ শতাব্দীর সমীপবর্তী হচ্ছে! কেউ কেউ এমনকি জিজ্ঞাসা করে, ‘আমরা কি কখনও সেই শতাব্দীতে পৌঁছাতে পারব?’ বুদ্ধিমান বার্তাবাহকদের আমাদের কী বলার আছে?
৩. (ক) ১ যোহন ৫:১৯ পদে কোন্ বৈসাদৃশ্য দেখান হয়েছে? (খ) প্রকাশিত বাক্য ৭ অধ্যায়ে “বুদ্ধিমান”-দের সম্বন্ধে কিভাবে বর্ণনা করা হয়েছে?
৩ প্রেরিত যোহনের ঐশিক অনুপ্রাণিত অন্তর্দৃষ্টি ছিল। ১ যোহন ৫:১৯ পদে বলা হয়েছে: “আমরা জানি যে, আমরা ঈশ্বর হইতে; আর সমস্ত জগৎ সেই পাপাত্মার মধ্যে শুইয়া রহিয়াছে।” এই জগতের বৈসাদৃশ্যে ১,৪৪,০০০ জন আত্মিক ইস্রায়েলের অবশিষ্টাংশ যারা বৃদ্ধ হচ্ছেন এখনও তারা আমাদের সাথে আছেন। এদের সাথে “প্রত্যেক জাতির ও বংশের ও প্রজাবৃন্দের ও ভাষার বিস্তর লোক” যারা এখন সংখ্যায় ৫০ লক্ষেরও অধিক, বর্তমানে যোগ দিচ্ছে যাদেরও অন্তর্দৃষ্টি রয়েছে। “ইহারা সেই লোক, যাহারা সেই মহাক্লেশের মধ্য হইতে আসিয়াছে।” আর কেন তারা পুরস্কৃত? কারণ তারাও যীশুর মুক্তির মূল্যে বিশ্বাস অনুশীলনের দ্বারা “মেষশাবকের রক্তে আপন আপন বস্ত্র ধৌত করিয়াছে, ও শুক্লবর্ণ করিয়াছে।” দীপ্তির বার্তাবাহক হিসাবে, তারাও “দিবারাত্র [ঈশ্বরের] . . . আরাধনা করে।”—প্রকাশিত বাক্য ৭:৪, ৯, ১৪, ১৫.
শান্তির তথা-কথিত বার্তাবাহকগণ
৪. (ক) শয়তানের জগতে শান্তির তথা-কথিত বার্তাবাহকগণের ব্যর্থতা কেন অবধারিত? (খ) আজকে ইফিষীয় ৪:১৮, ১৯ পদ কিভাবে প্রয়োগযোগ্য?
৪ কিন্তু, শয়তানের জাগতিক ব্যবস্থায় শান্তির তথা-কথিত বার্তাবাহকগণ সম্বন্ধে কী? যিশাইয় ৩৩ অধ্যায়, ৭ পদে আমরা পড়ি: “দেখ, উহাদের পুরুষসিংহেরা সড়কে ক্রন্দন করিতেছে, সন্ধির অন্বেষণকারী দূতগণ [“শান্তির বার্তাবাহকগণ,” NW] তীব্র রোদন করিতেছে।” এটি তাদের সম্বন্ধে কতই না সত্য যারা শান্তি আনার প্রচেষ্টায় জগতের প্রধানদের কাছে ব্যাকুলভাবে দ্রুতবেগে ছুটছে! কতই না নিষ্ফল প্রয়াস! তা কেন? কারণ তারা মূল কারণগুলির সাথে সংগ্রাম করার চেয়ে বরঞ্চ জগতের সমস্যার লক্ষণগুলির মোকাবিলা করে। প্রথমতঃ, তারা শয়তানের অস্তিত্ব সম্বন্ধে অন্ধ, যাকে প্রেরিত পৌল “এই যুগের দেব” হিসাবে বর্ণনা করেন। (২ করিন্থীয় ৪:৪) শয়তান মানবজাতির মধ্যে দুষ্টতার বীজ বপন করেছে, যার ফলস্বরূপ অধিকাংশ, যার অন্তর্ভুক্ত শাসকগণ, এখন ইফিষীয় ৪:১৮, ১৯ পদের বর্ণনার উপযুক্ত: “তাহারা চিত্তে অন্ধীভূত, ঈশ্বরের জীবনের বহির্ভূত হইয়াছে, আন্তরিক অজ্ঞানতা প্রযুক্ত, হৃদয়ের কঠিনতা প্রযুক্ত হইয়াছে। তাহারা অসার হইয়া সলোভে সর্ব্বপ্রকার অশুচি ক্রিয়া করিবার জন্য আপনাদিগকে স্বৈরিতায় সমর্পণ করিয়াছে।”
৫. (ক) শান্তিসংস্থাপক হিসাবে মানব সংস্থাগুলি কেন ব্যর্থ হয়? (খ) গীতসংহিতা ৩৭ অধ্যায় কোন্ সান্ত্বনাদায়ক বার্তা প্রদান করে?
৫ অসিদ্ধ মানুষের কোন সংস্থাই মানুষের হৃদয়ের লোভ, স্বার্থপরতা এবং ঘৃণা নির্মূল করতে পারবে না, যেগুলি আজকে অত্যন্ত প্রভাবশালী। একমাত্র আমাদের সৃষ্টিকর্তা, সার্বভৌম প্রভু যিহোবা, তা করতে পারেন! আর, কেবলমাত্র মৃদুশীলেরা, মানবজাতির মধ্যে এক স্বল্প সংখ্যক, তাঁর পরিচালনায় বশ্যতা স্বীকার করতে ইচ্ছুক। গীতসংহিতা ৩৭:৯-১১ পদে এদের এবং জগতের দুষ্টদের পরিণতির বৈষম্য প্রদর্শন করা হয়েছে: “দুরাচারগণ উচ্ছিন্ন হইবে, কিন্তু যাহারা সদাপ্রভুর অপেক্ষা করে, তাহারাই দেশের [“পৃথিবীর,” NW] অধিকারী হইবে। আর ক্ষণকাল, পরে দুষ্ট লোক আর নাই, . . . কিন্তু মৃদুশীলেরা দেশের [“পৃথিবীর,” NW] অধিকারী হইবে, এবং শান্তির বাহুল্যে আমোদ করিবে।”
৬, ৭. জাগতিক ধর্মগুলির কোন্ নথি প্রদর্শন করে যে তারা শান্তির বার্তাবাহক হিসাবে পরিচর্যা করতে ব্যর্থ হয়েছে?
৬ তাহলে, এই পীড়িত জগতের ধর্মগুলির মধ্যে কি শান্তির বার্তাবাহকদের পাওয়া যেতে পারে? বর্তমানকাল পর্যন্ত ধর্মের নথিগুলি কী দেখিয়েছে? ইতিহাস দেখায় যে, শতাব্দীগুলিব্যাপী অধিকাংশ রক্তপাতে ধর্ম অংশ নিয়েছে হ্যাঁ, এমনকি প্ররোচকরূপে কাজ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯৫ সালের, ৩০শে আগস্টের সাপ্তাহিক খ্রীষ্টান শতাব্দী (ইংরাজি), প্রাক্তন যুগোশ্লাভিয়ার বিক্ষোভের উপর প্রতিবেদন দেওয়ার সময় মন্তব্য করেছিল: “সার্ব-নিয়ন্ত্রিত বসনিয়ায়, পাদ্রিরা স্বগঠিত সংসদের প্রথম সারিতে বসেন এবং সেখানেও প্রথম পঙ্ক্তিতে থাকেন যেখানে যুদ্ধের পূর্বে দল ও এমনকি অস্ত্রগুলিকে আশীর্বাদ করা হয়।”
৭ আফ্রিকায় খ্রীষ্টীয় জগতের মিশনারী কাজ শতাব্দীব্যাপী কোন উত্তম ফল আনতে পারেনি, যেমন রুয়াণ্ডার ক্ষেত্রে সুস্পষ্টভাবে এটি চিত্রিত হয়েছিল, একটি দেশ যেটি শতকরা ৮০ ভাগ ক্যাথলিক আছে বলে খ্যাত। ১৯৯৫ সালের, ৭ই জুলাইয়ের দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস্ বিবৃতি দিয়েছিল: “লিয়ন্সে [ফ্রান্স] প্রকাশিত গলিয়াস, একটি সংস্কারমুক্ত অযাজকীয় ক্যাথলিক পত্রিকা, রুয়াণ্ডার ২৭ জনেরও বেশি পাদ্রি এবং চারজন নানকে শনাক্ত করার পরিকল্পনা করে যাদের সম্বন্ধে এটি জানায় যে তারা গত বছরে রুয়াণ্ডায় হত্যা করেছিল অথবা হত্যাকে উৎসাহিত করেছিল।” লণ্ডনের একটি মানবাধিকার সংগঠন, আফ্রিকাবাসীর অধিকার এই মন্তব্য করেছিল: “তাদের নীরবতার চেয়েও বেশি গণহত্যার ক্ষেত্রে কিছু পাদ্রি, পাস্টার এবং নানদের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্যও গির্জাগুলিকে অবশ্যই উত্তর দিতে হবে। এটি ইস্রায়েলের পরিস্থিতির সমরূপ যখন যিহোবার সত্য বার্তাবাহক যিরমিয় ইস্রায়েলের ‘লজ্জা’ বর্ণনা করেছিলেন, সেই সাথে তার শাসকবর্গ, পাদ্রিবর্গ এবং তার ভাববাদীদেরও, যুক্ত করে বলেছিলেন: “তোমার বস্ত্রের অঞ্চলে নির্দ্দোষ দীনহীন প্রাণীদের রক্ত পাওয়া যাইতেছে।”—যিরমিয় ২:২৬, ৩৪.
৮. কেন এটি বলা যেতে পারে যে যিরমিয় একজন শান্তির বার্তাবাহক ছিলেন?
৮ যিরমিয়কে প্রায়ই এক দণ্ডাজ্ঞার ভাববাদী বলা হত, কিন্তু তাকে ঈশ্বরের শান্তির বার্তাবাহকও বলা যেতে পারত। তার পূর্বে যিশাইয় যতবার তা করেছিলেন, তিনিও ততবারই শান্তির কথা উল্লেখ করেছিলেন। যিহোবা এই বলে যিরমিয়কে যিরূশালেমের বিষয়ে বিচারাজ্ঞা ঘোষণা করতে ব্যবহার করেছিলেন: “এই নগর নির্ম্মিত হইবার দিন অবধি অদ্য পর্য্যন্ত ইহা আমার ক্রোধের ও কোপের কারণ হইয়া আসিতেছে; তৎপ্রযুক্ত ইহা আমার সম্মুখ হইতে দূরীকৃত হইবার যোগ্য হইয়াছে। কেননা ইস্রায়েল-সন্তানগণ ও যিহূদা-সন্তানগণ, অর্থাৎ তাহারা, তাহাদের রাজগণ, অধ্যক্ষগণ, যাজকগণ, ভাববাদিগণ, যিহূদার লোকেরা ও যিরূশালেম-নিবাসিগণ আমাকে অসন্তুষ্ট করণার্থে নানা প্রকার দুষ্ক্রিয়া করিয়াছে।” (যিরমিয় ৩২:৩১, ৩২) এটি আজকে শাসকবর্গ এবং খ্রীষ্টীয় জগতের যাজকদের উপর যিহোবার বিচারাজ্ঞার পূর্বাভাস ছিল। প্রকৃত শান্তির বিজয় আনতে, মন্দতা এবং দৌরাত্ম্যের এই প্ররোচকদের অবশ্যই সরিয়ে দিতে হবে! নিশ্চিতভাবেই তারা শান্তির বার্তাবাহক নয়।
শান্তিসংস্থাপক হিসাবে রাষ্ট্রসংঘ?
৯. রাষ্ট্রসংঘ কিভাবে শান্তির বার্তাবাহক হওয়ার দাবি করেছিল?
৯ রাষ্ট্রসংঘ কি শান্তির সত্য বার্তাবাহক হতে পারত না? সর্বোপরি, পারমাণবিক বোমা হিরোশিমাকে বিধ্বস্ত করার মাত্র ৪১ দিন পূর্বে, ১৯৪৫ সালের জুন মাসে এর সরকারি সনদের প্রস্তাবনায় পেশ করা এর উদ্দেশ্য সম্বন্ধে উল্লেখ করা হয়েছিল যে তা হল “আগত প্রজন্মকে যুদ্ধের উৎপীড়ন থেকে রক্ষা করা।” রাষ্ট্রসংঘের ৫০ জন সম্ভাব্য সদস্যদের “আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে [তাদের] শক্তিকে একত্রিত” করতে হয়েছিল। আজকে রাষ্ট্রসংঘের ১৮৫টি সদস্য জাতি আছে, সকলে সম্ভবত একই উদ্দেশ্যের প্রতি উৎসর্গীকৃত।
১০, ১১. (ক) ধর্মীয় নেতারা কিভাবে রাষ্ট্রসংঘের প্রতি তাদের সমর্থন প্রকাশ করেছেন? (খ) কোন্ উপায়ে পোপেরা “ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার”-কে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে?
১০ বহু বছর ধরে রাষ্ট্রসংঘ বিশেষভাবে ধর্মীয় নেতাদের দ্বারা উচ্চৈঃস্বরে প্রশংসিত হয়ে এসেছে। ১৯৬৩ সালের ১১ই এপ্রিল পোপ জন ত্রয়োবিংশ “প্যাকেম ইন টেরিস” (পৃথিবীতে শান্তি) শিরোনামযুক্ত পত্রে সাক্ষর করেছিলেন যেখানে তিনি বলেছিলেন: “এটি আমাদের একান্ত ইচ্ছা যে রাষ্ট্রসংঘের সংগঠন—এর গঠন ও এর মাধ্যমগুলিতে—যেন ক্রমাগত এর কার্যগুলির বিশালতা এবং মহত্ত্ব সম্পন্ন করতে আরও উপযুক্ত হতে পারে।” পরে, ১৯৬৫ সালের জুন মাসে, বিশ্বের জনসংখ্যার আনুমানিক অর্ধাংশের প্রতিনিধিত্বকারী, ধর্মীয় নেতারা সানফ্রান্সিস্কোতে রাষ্ট্রসংঘের বিংশতম জন্মদিন উদ্যাপন করেছিলেন। এছাড়াও ১৯৬৫ সালে, পোপ পল ষষ্ঠ রাষ্ট্রসংঘ পরিদর্শনের সময়ে এটিকে “মিলন এবং শান্তির শেষ আশা” হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন। ১৯৮৬ সালে, পোপ জন পল দ্বিতীয় রাষ্ট্রসংঘের আন্তর্জাতিক শান্তি বর্ষকে উন্নীতকরণে সহযোগিতা করেছিলেন।
১১ পুনরায়, ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে তার পরিদর্শনের সময়ে, পোপ ঘোষণা করেছিলেন: “আজ আমরা ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার উদ্যাপন করছি।” কিন্তু তিনি কি প্রকৃতই ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচারের বার্তাবাহক? জগতের সমস্যাগুলি সম্বন্ধে বলতে গিয়ে, তিনি বলেছিলেন: “যখন আমরা এই অসংখ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলির মুখোমুখি হই, তখন কিভাবে আমরা রাষ্ট্রসংঘের সংগঠনের ভূমিকা স্বীকার করতে ব্যর্থ হতে পারি?” ঈশ্বরের রাজ্য নয়, বরং রাষ্ট্রসংঘ হল পোপের পছন্দ।
‘তীব্র রোদন করার’ কারণগুলি
১২, ১৩. (ক) রাষ্ট্রসংঘ কিভাবে যিরমিয় ৬:১৪ পদে যা বর্ণিত আছে সেইভাবে কাজ করেছে? (খ) রাষ্ট্রসংঘের নেতৃত্ব যিশাইয় ৩৩:৭ পদের বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত কেন?
১২ রাষ্ট্রসংঘের পঞ্চাশতম বার্ষিকী উদ্যাপন “পৃথিবীতে শান্তি”-র যে কোন প্রকৃত প্রত্যাশা প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। কানাডার টরেন্টো স্টার এর একজন লেখকের দ্বারা এর একটি কারণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যিনি লিখেছিলেন: “রাষ্ট্রসংঘ হচ্ছে একটি দাঁতবিহীন সিংহ, যেটি মানুষের নৃশংসতার মুখোমুখি হয়ে গর্জন করে, কিন্তু কামড় দেওয়ার পূর্বে এর কৃত্রিম দাঁতের পাটী স্থাপন করতে তার সদস্যদের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।” প্রায়ই সেই কামড় অত্যন্ত সামান্য এবং অতীব বিলম্বিত হয়ে পড়েছে। বর্তমান জগৎ ব্যবস্থায় শান্তির বার্তাবাহকগণ এবং বিশেষভাবে যারা খ্রীষ্টীয় জগতে রয়েছে যিরমিয় ৬:১৪ পদের বাক্যগুলি প্রতিধ্বনিত করে আসছে: “তাহারা আমার জাতির ক্ষত কেবল একটুমাত্র সুস্থ করিয়াছে; যখন শান্তি নাই, তখন শান্তি শান্তি বলিয়াছে।”
১৩ রাষ্ট্রসংঘকে সফল করতে, রাষ্ট্রসংঘের ধারাবাহিক প্রধান-সচিবেরা কঠোর পরিশ্রম করেছে এবং নিঃসন্দেহে অকৃত্রিমভাবে। কিন্তু কিভাবে যুদ্ধকে সংযত করা যায়, কূটনীতি পরিকল্পনা এবং আর্থিক সংস্থান পরিচালনা করা যায়, সেই সম্বন্ধে বহু উদ্দেশ্যপূর্ণ ১৮৫ জন সদস্যদের মধ্যে অবিরত কলহ এর সাফল্যের প্রত্যাশাকে অবরুদ্ধ করেছে। ১৯৯৫ সালে তার বার্ষিক বিবৃতিতে, তখনকার সাধারণ-সচিব “সমগ্র মানবজাতির জন্য অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নতির প্রতি একত্রে কাজ করার জন্য জাতিগুলির” জন্য সুযোগ খুলে দিতে “পৃথিবীব্যাপী পারমাণবিক মহাবিপ্লবের অপচ্ছায়া” অপসৃত করার বিষয়ে লিখেছিলেন। কিন্তু তিনি আরও বলেছিলেন: “দুঃখের বিষয় যে, বিগত অল্প কয়েক বছরের বিশ্বের ঘটনাগুলির নথি ঐ আশাবাদী প্রত্যাশাগুলিকে ব্যাপকভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে।” সত্যই, সম্ভাব্য শান্তির বার্তাবাহকগণ ‘তীব্র রোদন করছে।’
১৪. (ক) কেন বলা যেতে পারে যে রাষ্ট্রসংঘ অর্থনৈতিক এবং নৈতিক উভয়ভাবেই দেউলিয়া? (খ) যিরমিয় ৮:১৫ পদ কিভাবে পরিপূর্ণ হচ্ছে?
১৪ ক্যালিফোর্ণিয়ার দি অরেঞ্জ কাউন্টি রেজিস্টার-এ একটি শিরোনাম এইভাবে পড়া হয়: “রাষ্ট্রসংঘ আর্থিক ও নৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়েছে।” প্রবন্ধটি মন্তব্য করেছিল যে ১৯৪৫ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে ৮০টির বেশি যুদ্ধ হয়েছিল এবং তিন কোটির অধিক প্রাণ নিয়েছিল। এটি ১৯৯৫ সালের অক্টোবর রিডারস্ ডায়জেস্ট এর সংখ্যা থেকে একজন লেখককে উদ্ধৃতি করেছিল যিনি “রাষ্ট্রসংঘের সামরিক অভিযানগুলিকে ‘অযোগ্য সেনাপতি, বিশৃঙ্খল সৈন্য, আক্রমণকারীদের সাথে মিত্রতা, নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ এবং কখনও কখনও এমনকি আতঙ্ক বৃদ্ধিতে অবদান রাখার’ দ্বারা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বলে বর্ণনা করেন। অধিকন্তু, ‘অপচয়, প্রতারণা এবং অপব্যবহারের মাত্রা অদম্য।’” “৫০তম বছরে রাষ্ট্রসংঘ” নামক একটি বিভাগে, দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস্ এই মুখ্য সংবাদটি প্রকাশ করেছিল যে “বিভ্রান্তিকর পরিচালনা এবং অপচয় রাষ্ট্রসংঘের উৎকৃষ্ট অভিপ্রায়গুলিকে নষ্ট করেছে।” ইংল্যান্ড, লন্ডনের দ্যা টাইমস্ এই বাক্যগুলির দ্বারা একটি প্রবন্ধের শিরোনাম দিয়েছিল যে “পঞ্চাশে ক্ষীণ—উপযুক্ত স্বাস্থ্যে ফিরে আসার জন্য রাষ্ট্রসংঘের প্রয়োজন স্বাস্থ্য কর্মসূচী।” বাস্তবিকপক্ষে, এটি ঠিক তেমনই যেমন আমরা যিরমিয় ৮ অধ্যায় ১৫ পদে পড়ি: “আমরা শান্তির অপেক্ষা করিলাম, কিন্তু কিছুই মঙ্গল হইল না; আরোগ্যকালের অপেক্ষা করিলাম, কিন্তু দেখ, উদ্বেগ উপস্থিত।” আর এক পারমাণবিক ব্যাপক ধ্বংসের ভীতি এখনও মানবজাতির উপরে ঝুলে আছে। স্পষ্টতই, রাষ্ট্রসংঘ শান্তির সেই বার্তাবাহক নয়, যাকে মানবজাতির প্রয়োজন।
১৫. প্রাচীন বাবিল এবং এর ধর্মীয় সন্তানসন্ততি কিভাবে ধ্বংসাত্মক এবং হতবুদ্ধিকর উভয়ই প্রমাণিত হয়েছে?
১৫ এই সমস্ত কিছুর পরিণতি কী হবে? যিহোবার ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বাক্য কোন সন্দেহের অবকাশ রাখে না। প্রথমতঃ, জগতের মিথ্যা ধর্মগুলির সম্মুখে কী রয়েছে, যেগুলি রাষ্ট্রসংঘের সাথে প্রায়ই পরম বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখেছে? তারা প্রতিমাপূজকদের উৎস, প্রাচীন বাবিলের সন্তানসন্ততি। উপযুক্তভাবেই, তাদের প্রকাশিত বাক্য ১৭:৫ পদে “মহতী বাবিল, পৃথিবীর বেশ্যাগণের ও ঘৃণাস্পদ সকলের জননী” হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। যিরমিয় এই কপটতাপূর্ণ সমষ্টির দণ্ডাজ্ঞা বর্ণনা করেছিলেন। এক বেশ্যার মত, তারা পৃথিবীর রাজনীতিবিদ্দের ভ্রষ্ট করেছে, রাষ্টসংঘকে মিথ্যা আশা প্রদান করেছে এবং এর সদস্য রাজনৈতিক ক্ষমতাগুলির সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করেছে। যুদ্ধের ইতিহাসে তারা প্রধান অংশগ্রহণকারী হয়েছে। ভারতে ধর্মীয় যুদ্ধ সম্পর্কে উল্লেখ করে একজন ভাষ্যকার মন্তব্য করেছিলেন: “কার্ল মার্ক্স ধর্মকে জনসাধারণের আফিম হিসাবে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু সেই উক্তিটি সম্পূর্ণভাবে সঠিক হতে পারে না কারণ আফিম হল চাপ সৃষ্টিকারী নেশাকর ঔষধ, এটি লোকেদের এক অচৈতন্য অবস্থায় তন্দ্রালু করে। বরঞ্চ, ধর্ম অনেক বেশিভাবে পরিশোধিত কোকেনের মত। এটি ভয়ঙ্কর দৌরাত্ম্যকে উত্তেজিত করে এবং এক অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক শক্তি।” তথাপি সেই লেখকও সম্পূর্ণভাবে সঠিক নন। মিথ্যা ধর্ম হতবুদ্ধিকর এবং ধ্বংসাত্মক উভয়ই।
১৬. মহতী বাবিল থেকে সৎহৃদয়বান ব্যক্তিদের এখনই কেন পলায়ন করা উচিত? (প্রকাশিত বাক্য ১৮:৪, ৫ পদও দেখুন।)
১৬ তাহলে, সৎহৃদয়বান ব্যক্তিদের কী করা উচিত? ঈশ্বরের বার্তাবাহক যিরমিয় আমাদের উত্তর দেন: “তোমরা বাবিলের মধ্য হইতে পলায়ন কর, প্রত্যেক জন আপন আপন প্রাণ রক্ষা কর; . . . কেননা এ সদাপ্রভুর প্রতিশোধ গ্রহণের সময়।” আমরা আনন্দিত যে লক্ষ লক্ষ লোকেরা মিথ্যা ধর্মের বিশ্বসাম্রাজ্য মহতী বাবিলের সীমা থেকে পলায়ন করেছে। আপনি কি এদের মধ্যে একজন? তাহলে আপনি ভালভাবে বুঝতে পারবেন যে কিভাবে মহতী বাবিল পৃথিবীর জাতিগুলিকে প্রভাবিত করেছে: “জাতিগণ তাহার মদ্যপান করিয়াছে, তজ্জন্য জাতিগণ উন্মত্ত হইয়াছে।”—যিরমিয় ৫১:৬, ৭.
১৭. মহতী বাবিলের উপর কোন্ বিচারাজ্ঞা সম্পাদিত হবে এবং কী সেই কার্যক্রমকে অনুসরণ করবে?
১৭ শীঘ্রই, রাষ্ট্রসংঘের “উন্মত্ত” সদস্যেরা মিথ্যা ধর্মকে আক্রমণ করতে যিহোবার দ্বারা কৌশলে পরিচালিত হবে, যেমন প্রকাশিত বাক্য ১৭:১৬ পদ বর্ণনা করেছিল: “তাহারা সেই বেশ্যাকে ঘৃণা করিবে, এবং তাহাকে অনাথা ও নগ্না করিবে, তাহার মাংস ভক্ষণ করিবে, এবং তাহাকে আগুনে পোড়াইয়া দিবে।” এটি মহাক্লেশের আরম্ভকে চিহ্নিত করবে যার সম্বন্ধে মথি ২৪:২১ পদে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেটি হর্মাগিদোন, সর্বশক্তিমান্ ঈশ্বরের মহা দিনের যুদ্ধে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে। প্রাচীন বাবিলের মত, মহতী বাবিল যিরমিয় ৫১:১৩, ২৫ পদে ঘোষিত বিচারাজ্ঞা প্রাপ্ত হবে: “হে জলরাশির উপরে বাসকারিণি! ধনকোষে ঐশ্বর্য্যশালিনি! তোমার শেষকাল, তোমার ধনলোভের পরিমাণ উপস্থিত। হে বিনাশক পর্ব্বত, তুমি সমস্ত পৃথিবীর বিনাশক; সদাপ্রভু কহেন, দেখ, আমি তোমার বিপক্ষ, আমি তোমার বিরুদ্ধে হস্ত বিস্তার করিব, শৈল হইতে তোমাকে গড়াইয়া ফেলিয়া দিব, ও তোমাকে জ্বলন্ত পর্ব্বত করিব।” কলুষিত, যুদ্ধপ্রিয় জাতিগুলি ধ্বংসের জন্য মিথ্যা ধর্মকে অনুসরণ করবে কারণ যিহোবার প্রতিশোধের দিন তাদের প্রতিও ঘটবে।
১৮. কখন এবং কিভাবে যিশাইয় ৪৮:২২ পদের এখনও পরিপূর্ণ হওয়ার আছে?
১৮ ১ থিষলনীকীয় ৫:৩ পদে দুষ্টদের সম্বন্ধে বলা হয়েছে: “লোকে যখন বলে, শান্তি ও অভয়, তখনই তাহাদের কাছে যেমন গর্ব্ভবতীর প্রসববেদনা উপস্থিত হইয়া থাকে, তেমনি আকস্মিক বিনাশ উপস্থিত হয়; আর তাহারা কোন ক্রমে এড়াইতে পারিবে না।” এরাই হচ্ছে তারা যাদের সম্বন্ধে যিশাইয় বলেছিলেন: “দেখ, . . . শান্তির বার্তাবাহকগণ তীব্র রোদন করিতেছে।” (যিশাইয় ৩৩:৭) বস্তুতপক্ষে, আমরা যেমন যিশাইয় ৪৮:২২ পদে পড়ি: “সদাপ্রভু কহেন, দুষ্ট লোকদের কিছুই শান্তি নাই।” কিন্তু ঈশ্বরীয় শান্তির সত্য বার্তাবাহকগণের জন্য কোন্ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে? আমাদের পরবর্তী প্রবন্ধ তা বলবে।
পুনরালোচনার জন্য প্রশ্নগুলি
◻ কোন্ শক্তিশালী বাক্যগুলির দ্বারা ঈশ্বরের ভাববাদীগণ মিথ্যা বার্তাবাহকদের প্রকাশ করেছিলেন?
◻ মানব সংস্থাগুলি কেন স্থায়ী শান্তি নিয়ে আসার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়?
◻ শান্তির সত্য বার্তাবাহকগণ কিভাবে রাষ্ট্রসংঘের সমর্থকদের থেকে বিপরীত?
◻ যিহোবার প্রতিজ্ঞাত শান্তিতে আনন্দ করার জন্য মৃদুশীলেরা অবশ্যই কী করবে?
[১৫ পৃষ্ঠার চিত্র]
যিশাইয়, যিরমিয় এবং দানিয়েল সকলে নিছক মনুষ্য শান্তি প্রচেষ্টাগুলির ব্যর্থতা সম্বন্ধে ভাববাণী করেছিলেন
[১৬ পৃষ্ঠার চিত্র]
“সমস্ত জগৎ সেই পাপাত্মার মধ্যে শুইয়া রহিয়াছে”—প্রেরিত যোহন
[১৭ পৃষ্ঠার চিত্র]
“তাহারা চিত্তে অন্ধীভূত।”—প্রেরিত পৌল