ঈশ্বরীয় শান্তির বার্তাবাহকগণ সুখী বলে ঘোষিত হয়
“সদাপ্রভুর নিস্তারিত লোকেরা ফিরিয়া আসিবে, আনন্দগান পুরঃসর সিয়োনে আসিবে, এবং তাহাদের মস্তকে নিত্যস্থায়ী হর্ষমুকুট থাকিবে।”—যিশাইয় ৩৫:১০.
১. জগতের চরমভাবে কিসের প্রয়োজন আছে?
আজকের ন্যায় অতীতে আর কখনও, মানবজাতির সুসমাচারের এক বার্তাবাহকের প্রয়োজন হয়নি। ঈশ্বর এবং তাঁর উদ্দেশ্যগুলি সম্বন্ধীয় সত্য বলতে জরুরী ভিত্তিতে এমন কাউকে প্রয়োজন, একজন নির্ভীক সাক্ষী যে আগত ধ্বংসের বিষয়ে দুষ্টদের সতর্ক করবে এবং সঠিক হৃদয়ের ব্যক্তিদের ঈশ্বরীয় শান্তি খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।
২, ৩. ইস্রায়েলের ক্ষেত্রে, যিহোবা আমোষ ৩:৭ পদে লিপিবদ্ধ তাঁর প্রতিজ্ঞা কিভাবে পরিপূর্ণ করেছিলেন?
২ ইস্রায়েলের দিনে, যিহোবা এইধরনের বার্তাবাহকদের প্রদান করার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। সা.শ.পূ. নবম শতাব্দীর শেষে, ভাববাদী আমোষ বলেছিলেন: “প্রভু সদাপ্রভু আপনার দাস ভাববাদিগণের নিকটে আপন গূঢ় মন্ত্রণা প্রকাশ না করিয়া কিছুই করেন না।” (আমোষ ৩:৭) এই ঘোষণার পরবর্তী শতাব্দীগুলিতে, যিহোবা অনেক পরাক্রম কার্য সম্পাদন করেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, সা.শ.পূ. ৬০৭ সালে, তিনি তাঁর মনোনীত লোকেদের কঠোরভাবে শাসন করেছিলেন কারণ তারা বিদ্রোহী এবং রক্তের দোষে দোষী হয়েছিল। তিনি চতুর্দিকের সেইসব জাতিগুলিকেও শাস্তি দিয়েছিলেন যারা ইস্রায়েলের দুর্দশার জন্য উল্লাস করেছিল। (যিরমিয় ৪৬-৪৯ অধ্যায়গুলি) তারপর, সা.শ.পূ. ৫৩৯ সালে, যিহোবা পরাক্রমশালী বাবিলনীয় বিশ্বশক্তির পতন এনেছিলেন এবং ফলস্বরূপ, সা.শ.পূ. ৫৩৭ সালে মন্দির পুনর্নির্মাণ করতে ইস্রায়েলের অবশিষ্টাংশরা তাদের দেশে ফিরে এসেছিল।—২ বংশাবলি ৩৬:২২, ২৩.
৩ এইগুলি ছিল পৃথিবী-আলোড়নকারী ঘটনা এবং আমোষের বাক্যের সাথে মিল রেখে, যিহোবা যা আসতে যাচ্ছিল সেই বিষয়ে ইস্রায়েলীয়দের সতর্ক করে ভাববাদীদের কাছে যারা বার্তাবাহক হিসাবে পরিচর্যা করেছিলেন সেগুলি পূর্বেই প্রকাশ করেছিলেন। সা.শ.পূ. অষ্টম শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে, তিনি যিশাইয়কে উত্থাপন করেছিলেন। সা.শ.পূ. সপ্তম শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে, তিনি যিরমিয়কে উত্থাপন করেছিলেন। তারপর, সেই শতাব্দীর শেষের দিকে তিনি যিহিষ্কেলকে উত্থাপন করেছিলেন। এরা এবং অন্যান্য বিশ্বস্ত ভাববাদীরা যিহোবার উদ্দেশ্যগুলি সম্বন্ধে এক পুঙ্খানুপুঙ্খ সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।
আজকের দিনে ঈশ্বরের বার্তাবাহকগণকে শনাক্ত করা
৪. কী প্রদর্শন করে যে মানবজাতির শান্তির বার্তাবাহকগণের প্রয়োজন আছে?
৪ আজকের দিন সম্বন্ধে কী? মানব সমাজের অবনতি লক্ষ্য করে জগতের অনেকেই আশঙ্কা অনুভব করে। ধার্মিকতার প্রতি যাদের প্রেম রয়েছে তারা যখন খ্রীষ্টীয় জগতের কপটতা এবং প্রচণ্ড দুষ্টতা দেখে, তখন মর্মাহত হয়। যিহোবা যেমন যিহিষ্কেলের মাধ্যমে ভাববাণী করেছিলেন যে, তারা “তাহার মধ্যে কৃত সমস্ত ঘৃণার্হ কার্য্যের বিষয়ে . . . দীর্ঘনিঃশ্বাস ত্যাগ করে ও কোঁকায়।” (যিহিষ্কেল ৯:৪) কিন্তু, অনেকে যিহোবার উদ্দেশ্যগুলি কী তা বোঝে না। তাদের কাছে বলার প্রয়োজন রয়েছে।
৫. যীশু কিভাবে প্রদর্শন করেন যে আমাদের দিনে বার্তাবাহকগণ থাকবে?
৫ আজকে কি কেউ যিশাইয়, যিরমিয় এবং যিহিষ্কেলের মত নির্ভীক চিত্তে কথা বলে? যীশু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে কেউ কেউ বলবে। আমাদের দিনের ঘটনাগুলি সম্বন্ধে ভাববাণী করার সময়ে, তিনি বলেছিলেন: “সর্ব্ব জাতির কাছে সাক্ষ্য দিবার নিমিত্ত রাজ্যের এই সুসমাচার সমুদয় জগতে প্রচার করা যাইবে; আর তখন শেষ উপস্থিত হইবে।” (মথি ২৪:১৪) একজন বর্তাবাহক, সুসমাচারের এক প্রচারক হিসাবে পরিচর্যা করে কারা আজকে এই ভবিষ্যদ্বাণী পরিপূর্ণ করছে? আমাদের দিন এবং প্রাচীন ইস্রায়েলের সময়ের মধ্যে সাদৃশ্য সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে আমাদের সাহায্য করে।
৬. (ক) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন “ঈশ্বরের ইস্রায়েলের” অভিজ্ঞতাগুলি বর্ণনা করুন? (খ) যিহিষ্কেল ১১:১৭ পদ কিভাবে প্রাচীন ইস্রায়েলের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ হয়েছিল?
৬ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অন্ধকারময় দিনগুলিতে, যিহোবার আধুনিক-দিনের লোকেরা, অভিষিক্ত “ঈশ্বরের ইস্রায়েলের” অবশিষ্টাংশেরা, বাবিলে ইস্রায়েলের মত অনুরূপ বন্দীত্বে গিয়েছিলেন। (গালাতীয় ৬:১৬) তারা মহতী বাবিলে আধ্যাত্মিক বন্দীত্ব ভোগ করেছিলেন, মিথ্যা ধর্মগুলির বিশ্ব সমষ্টি, যার মধ্যে খ্রীষ্টীয় জগৎ হচ্ছে সর্বাপেক্ষা বিশিষ্ট এবং নিন্দনীয়। তৎসত্ত্বেও, যিহিষ্কেলের উদ্দেশ্যে যিহোবার বাক্যগুলি দেখিয়েছিল যে তাদের পরিত্যাগ করা হয়নি। তিনি বলেছিলেন: “আমি জাতিগণের মধ্য হইতে তোমাদিগকে সংগ্রহ করিব, ও তোমরা যে সকল দেশে ছিন্নভিন্ন হইয়াছ, সেই সকল দেশ হইতে একত্র করিব, এবং ইস্রায়েল-দেশ তোমাদিগকে দিব।” (যিহিষ্কেল ১১:১৭) প্রাচীন ইস্রায়েলের প্রতি সেই প্রতিজ্ঞা পরিপূর্ণ করতে, যিহোবা পারস্যের কোরসকে উত্থাপন করেছিলেন, যিনি বাবিলনীয় বিশ্বশক্তিকে পরাস্ত করেছিলেন এবং ইস্রায়েলের অবশিষ্টাংশদের তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার পথ খুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু আজকের দিন সম্বন্ধে কী?
৭. ১৯১৯ সালের কোন্ ঘটনা প্রদর্শন করেছিল যে যীশু মহতী বাবিলের বিরুদ্ধে কাজ করেছিলেন? ব্যাখ্যা করুন।
৭ এই শতাব্দীর প্রথম দিকে, জোরালো প্রমাণ ছিল যে মহত্তর কোরস কার্যে রত ছিলেন। তিনি কে ছিলেন? যীশু খ্রীষ্ট ছাড়া আর কেউ নন, যিনি ১৯১৪ সাল থেকে স্বর্গীয় রাজ্যের সিংহাসনে উপবিষ্ট আছেন। এই মহান রাজা পৃথিবীতে তাঁর অভিষিক্ত ভাইয়েদের প্রতি প্রীতি দেখিয়েছিলেন, যখন ১৯১৯ সালে, অভিষিক্ত খ্রীষ্টানেরা আধ্যাত্মিক বন্দীত্ব থেকে মুক্ত হয়েছিলেন এবং তাদের ‘দেশে,’ তাদের আধ্যাত্মিক ভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। (যিশাইয় ৬৬:৮; প্রকাশিত বাক্য ১৮:৪) এইভাবে যিহিষ্কেল ১১:১৭ পদের এক আধুনিক-দিনের পরিপূর্ণতা ছিল। প্রাচীনকালে, ইস্রায়েলীয়দের তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার পথ খুলে দিতে বাবিলের পতনের প্রয়োজন হয়েছিল। আধুনিক সময়ে ঈশ্বরের ইস্রায়েলের পুনঃস্থাপন ছিল প্রমাণস্বরূপ যে মহতী বাবিল মহত্তর কোরসের হাতে পতন ভোগ করেছে। এই পতন প্রকাশিত বাক্য ১৪ অধ্যায়ের দ্বিতীয় দূতের দ্বারা ঘোষিত হয়েছিল, যিনি উচ্চৈঃস্বরে বলেছিলেন: “পড়িল সেই মহতী বাবিল, যে সমস্ত জাতিকে আপনার বেশ্যাক্রিয়ার রোষমদিরা পান করাইয়াছে।” (প্রকাশিত বাক্য ১৪:৮) মহতী বাবিলের, বিশেষভাবে খ্রীষ্টীয় জগতের জন্য কী এক বিপর্যয়! আর সত্য খ্রীষ্টানদের জন্য কতই না এক আশীর্বাদ!
৮. যিহিষ্কেলের পুস্তক কিভাবে ১৯১৯ সালে তাদের মুক্তির পরে ঈশ্বরের লোকেদের সুখকে বর্ণনা করে?
৮ যিহিষ্কেল ১১:১৮-২০ পদে আমরা তাদের পুনঃস্থাপনের পর ঈশ্বরের লোকেদের সুখ সম্বন্ধে ভাববাদীর বর্ণনাটি পড়ি। তাঁর বাক্যের প্রথম পরিপূর্ণতার অর্থ ছিল ইষ্রা এবং নহিমিয়ের দিনে ইস্রায়েলকে পরিষ্কৃত করা। আধুনিক-দিনের পরিপূর্ণতার অর্থও ছিল কিছুটা অনুরূপ। আসুন দেখা যাক কিভাবে। যিহোবা বলেন: “তাহারা সে দেশে [তাহাদের দেশে] যাইবে, তথাকার সমস্ত জঘন্য পদার্থ ও তথাকার সমস্ত ঘৃণার্হ বস্তু তথা হইতে দূর করিবে।” ঠিক যেমন ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, ১৯১৯ সালের শুরুতে, যিহোবা তাঁর লোকেদের পরিষ্কৃত এবং তাঁকে উপাসনা করতে তাদের পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। তারা তাদের আধ্যাত্মিক পরিবেশ থেকে সমস্ত বাবিলনীয় অভ্যাস এবং মতবাদগুলি যা তাঁর চোখে তাদের দূষিত করেছিল তা সরিয়ে ফেলতে শুরু করেছিল।
৯. ১৯১৯ সালের শুরু থেকে, যিহোবা তাঁর লোকেদের কোন্ তাৎপর্যময় আশীর্বাদগুলি করেছিলেন?
৯ তারপর ১৯ পদ অনুসারে, যিহোবা আরও বলেন: “আমি তাহাদিগকে একই হৃদয় দান করিব, ও তোমাদের অন্তরে এক নূতন আত্মা স্থাপন করিব; আর তাহাদের মাংস হইতে প্রস্তরময় হৃদয় দূর করিব, তাহাদিগকে মাংসময় হৃদয় দিব।” এই বাক্যগুলির সাথে মিল রেখে ১৯১৯ সালে, যিহোবা তাঁর অভিষিক্ত দাসেদের একতাবদ্ধ করেছিলেন, তাদের “একই হৃদয়” দান করেছিলেন, যাতে করে তারা তাঁকে “একযোগে” সেবা করে। (সফনিয় ৩:৯) এছাড়াও, যিহোবা তাঁর লোকেদের সাক্ষ্যদানের কাজে তাদের প্রাণবন্ত করতে এবং গালাতীয় ৫:২২, ২৩ পদে বর্ণিত উত্তম ফলগুলি তাদের মধ্যে উৎপন্ন করতে পবিত্র আত্মা প্রদান করেছিলেন। আর তাদের প্রতিক্রিয়াহীন, প্রস্তরতুল্য হৃদয়ের চেয়ে বরঞ্চ, যিহোবা তাদের এক কোমল, নমনীয়, বাধ্য হৃদয় প্রদান করেছিলেন, এমন একটি হৃদয় যা তাঁর ইচ্ছার প্রতি সাড়া দেবে।
১০. ১৯১৯ সাল থেকে যিহোবা কেন তাঁর পুনঃস্থাপিত লোকেদের আশীর্বাদ করেছেন?
১০ তিনি তা কেন করেছিলেন? যিহোবা নিজে তা ব্যাখ্যা করেন। আমরা যিহিষ্কেল ১১:২০ পদে পড়ি: “যেন তাহারা আমার বিধিপথে চলে, এবং আমার শাসন সকল মান্য করে, ও পালন করে; আর তাহারা আমার প্রজা হইবে, এবং আমি তাহাদের ঈশ্বর হইব।” তাদের নিজস্ব ধারণাগুলি অনুসরণ করার পরিবর্তে, ঈশ্বরের ইস্রায়েল যিহোবার ব্যবস্থা মান্য করতে শিখেছিলেন। তারা মানুষের ভয় না করে ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করতে শিখেছিলেন। এইভাবে, তারা খ্রীষ্টীয় জগতের নকল খ্রীষ্টানদের থেকে পৃথক হিসাবে বিশিষ্ট হয়েছিলেন। তারা যিহোবার লোক ছিলেন। তাই, যিহোবা তাঁর বার্তাবাহক, তাঁর “বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান্ দাস” হিসাবে তাদের ব্যবহার করতে প্রস্তুত ছিলেন।—মথি ২৪:৪৫-৪৭.
ঈশ্বরের বার্তাবাহকগণের সুখ
১১. যিশাইয়ের পুস্তক কিভাবে যিহোবার লোকেদের সুখকে বর্ণনা করে?
১১ যখন তারা উপলব্ধি করেছিলেন যে কী এক বিশেষ সুযোগপ্রাপ্ত অবস্থান তারা উপভোগ করেছেন সেই সময়ে তাদের সুখ সম্বন্ধে আপনি কি কল্পনা করতে পারেন? দলগতভাবে, তারা যিশাইয় ৬১:১০ পদের বাক্যগুলি প্রতিধ্বনিত করেছিলেন: “আমি সদাপ্রভুতে অতিশয় আনন্দ করিব, আমার প্রাণ আমার ঈশ্বরে উল্লাস করিবে।” যিশাইয় ৩৫:১০ পদের প্রতিজ্ঞাটি তাদের উপর পরিপূর্ণ হয়েছিল: “সদাপ্রভুর নিস্তারিত লোকেরা ফিরিয়া আসিবে, আনন্দগান পুরঃসর সিয়োনে আসিবে, এবং তাহাদের মস্তকে নিত্যস্থায়ী হর্ষমুকুট থাকিবে; তাহারা আমোদ ও আনন্দ প্রাপ্ত হইবে, এবং খেদ ও আর্ত্তস্বর দূরে পলায়ন করিবে।” ১৯১৯ সালে যখন তারা সমস্ত মানবজাতির কাছে সুসমাচার প্রচার করতে শুরু করেছিলেন তখন যিহোবার ঈশ্বরীয় শান্তির বার্তাবাহকগণের সেইরূপ সুখ ছিল। তখন থেকে আজ অবধি, তারা এই কাজ সম্পন্ন করা থেকে বিরত হননি এবং তাদের সুখ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর পার্বত্য উপদেশে, যীশু উল্লেখ করেছিলেন: “সুখী সেই শান্তিসংস্থাপকেরা, কারণ তারা ‘ঈশ্বরের পুত্র’ বলে আখ্যাত হবে।” (মথি ৫:৯, পাদটীকা, NW) এই ঘোষণার সত্যতা অভিষিক্ত “ঈশ্বরের পুত্র”-দের অবশিষ্টাংশেরা, ১৯১৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা করে আসছে।
১২, ১৩. (ক) যিহোবাকে সেবা করতে ঈশ্বরের ইস্রায়েলের সাথে কারা যোগ দিয়েছিল এবং তারা কোন্ কাজে নিজেদের প্রয়োগ করেছিল? (খ) যিহোবার অভিষিক্ত দাসেরা কোন্ মহা আনন্দ অভিজ্ঞতা করেছিলেন?
১২ যতই বছর অতিবাহিত হয়েছে, ঈশ্বরের ইস্রায়েলের সংখ্যা ১৯৩০ এর দশক পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল যখন অভিষিক্তদের অবশিষ্টাংশ ব্যক্তিদের একত্রীকরণ প্রায় সমাপ্ত হয়ে এসেছিল। সুসমাচার প্রচারকদের সংখ্যার বৃদ্ধি কি তখন থেমে গিয়েছিল? কোন ক্রমেই নয়। পার্থিব আশা সম্পন্ন খ্রীষ্টানদের এক বিরাট জনতা ইতিমধ্যেই আবির্ভূত হতে শুরু হয়েছিল এবং এরা প্রচার কাজে তাদের অভিষিক্ত ভাইয়েদের সাথে যোগ দিচ্ছিল। প্রেরিত যোহন এই বিরাট জনতাকে দর্শনে দেখেছিলেন এবং যেভাবে তিনি তাদের বর্ণনা দিয়েছিলেন তা উল্লেখযোগ্য: “ইহারা ঈশ্বরের সিংহাসনের সম্মুখে আছে; এবং তাহারা দিবারাত্র . . . তাঁহার আরাধনা করে।” (প্রকাশিত বাক্য ৭:১৫) হ্যাঁ, বিরাট জনতা ঈশ্বরের সেবায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। ফলস্বরূপ, যখন অভিষিক্তদের সংখ্যা ১৯৩৫ সালের পরে হ্রাস পেতে শুরু করেছিল, তখন সাক্ষ্যদানের কাজ এই বিশ্বস্ত সহযোগীদের দ্বারা বৃদ্ধিশীল গতিবেগে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
১৩ এইভাবে যিশাইয় ৬০:৩, ৪ পদ পরিপূর্ণ হয়েছিল: “জাতিগণ তোমার দীপ্তির কাছে আগমন করিবে, রাজগণ তোমার অরুণোদয়ের আলোর কাছে আসিবে। তুমি চারিদিকে চক্ষু তুলিয়া দেখ, উহারা সকলে একত্র হইয়া তোমার কাছে আসিতেছে; তোমার পুত্ত্রগণ দূর হইতে আসিবে, তোমার কন্যাগণ কক্ষে করিয়া আনীত হইবে।” এই ঘটনাগুলি ঈশ্বরের ইস্রায়েলের জন্য যে সুখ নিয়ে এসেছিল তা যিশাইয় ৬০:৫ পদে সুন্দরভাবে বর্ণনা করা রয়েছে, যেখানে আমরা পড়ি: “তখন তুমি তাহা দেখিয়া দীপ্যমানা হইবে, তোমার হৃদয় স্পন্দন করিবে ও বিকসিত হইবে; কেননা সমুদ্রের দ্রব্যরাশি তোমার দিকে ফিরান যাইবে, জাতিগণের ঐশ্বর্য্য তোমার কাছে আসিবে।”
যিহোবার সংগঠন এগিয়ে চলেছে
১৪. (ক) যিহিষ্কেল স্বর্গীয় কোন্ বিষয়ের দর্শন দেখেছিলেন এবং কোন্ আজ্ঞা তিনি পেয়েছিলেন? (খ) আধুনিক সময়ে যিহোবার লোকেরা কী উপলব্ধি করেছিল এবং কোন্ বাধ্যবাধকতা তারা বোধ করেছিল?
১৪ সা.শ.পূ. ৬১৩ সালে, দর্শনে যিহিষ্কেল দেখেছিলেন যে, যিহোবার স্বর্গীয় রথতুল্য সংগঠন এগিয়ে চলেছে। (যিহিষ্কেল ১:৪-২৮) এরপরে, যিহোবা তাকে বলেছিলেন: “হে মনুষ্য-সন্তান, তুমি যাও, ইস্রায়েল-কুলের নিকটে যাইয়া তাহাদিগকে আমার বাক্য সকল বল।” (যিহিষ্কেল ৩:৪) ১৯৯৭ সালে, আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যগুলি পরিপূর্ণ করতে যিহোবার স্বর্গীয় সংগঠন এখনও অবিরতভাবে এগিয়ে চলেছে। সুতরাং, এখনও সেই উদ্দেশ্যগুলি সম্বন্ধে অপরকে বলতে আমরা অনুপ্রেরণা বোধ করি। তার দিনে, যিহিষ্কেল যে বাক্যগুলি বলেছিলেন তা সরাসরিভাবে যিহোবার দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিল। আজকের দিনে, আমরা যিহোবার অনুপ্রাণিত বাক্য, বাইবেল থেকে কথা বলি। আর মানবজাতির জন্য এই বইটির কত অপূর্ব এক বার্তা রয়েছে! যখন অনেকেই ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে উদ্বিগ্ন, তখন বাইবেল দেখায় যে অবস্থা আরও মন্দতর—আর একই সময়ে, তারা যা কল্পনা করে তার চেয়ে—আরও অনেক বেশি উত্তম।
১৫. আজকের দিনে অনেকে যা চিন্তা করে তার চেয়েও অবস্থা মন্দতর কেন?
১৫ অবস্থা মন্দতর কারণ, পূর্বের প্রবন্ধগুলিতে আমরা যেমন জেনেছিলাম যে, সা.শ.পূ. ৬০৭ সালে যিরূশালেম যেভাবে ধ্বংস হয়েছিল সেইভাবে খ্রীষ্টীয় জগৎ এবং অন্য সমস্ত মিথ্যা ধর্মগুলি শীঘ্রই সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হবে। এছাড়াও, সমগ্র পৃথিবীর রাজনৈতিক সত্ত্বা, যাকে প্রকাশিত বাক্য পুস্তকে সপ্ত মস্তক ও দশ শৃঙ্গসহ এক বন্য পশু হিসাবে চিত্রিত করা হয়েছে, তাকে শীঘ্রই ধ্বংস করা হবে, যেমন যিরূশালেমের পৌত্তলিক প্রতিবেশীদের অনেকগুলিকে করা হয়েছিল। (প্রকাশিত বাক্য ১৩:১, ২; ১৯:১৯-২১) যিহিষ্কেলের দিনে যিহোবা যিরূশালেমের নিকটবর্তী ধ্বংসের দ্বারা উৎপন্ন ভীতি সম্বন্ধে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর বাক্যের আরও ব্যাপক অর্থ থাকবে যখন লোকেরা এই জগতের আসন্ন ধ্বংস উপলব্ধি করতে পারবে। যিহোবা যিহিষ্কেলকে বলেছিলেন: “হে মনুষ্য-সন্তান, তুমি দীর্ঘনিঃশ্বাস ত্যাগ কর; কটিদেশ ভাঙ্গিয়া মনস্তাপপূর্ব্বক তাহাদের সাক্ষাতে দীর্ঘনিঃশ্বাস ত্যাগ কর। আর, যখন তাহারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করিবে, ‘কেন দীর্ঘনিঃশ্বাস ত্যাগ করিতেছ?’ তখন বলিও, বার্ত্তার নিমিত্ত, কেননা তাহা আসিতেছে; তৎকালে প্রত্যেক হৃদয় গলিয়া যাইবে, প্রত্যেক হস্ত দুর্ব্বল হইবে, প্রত্যেক মন নিস্তেজ হইবে, ও প্রত্যেক জানু জলের মত হইয়া পড়িবে; দেখ, তাহা আসিতেছে, তাহা সফলও হইবে, ইহা প্রভু সদাপ্রভু বলেন।” (যিহিষ্কেল ২১:৬, ৭; মথি ২৪:৩০) ভীতিপূর্ণ ঘটনাগুলি ঠিক সম্মুখেই রয়েছে। সহমানবদের প্রতি আমাদের গভীর উদ্বেগ আমাদের সতর্কবাণী জানাতে, যিহোবার আগত ক্রোধের ‘বার্ত্তা’ বলতে পরিচালিত করবে।
১৬. মৃদুশীল ব্যক্তিদের জন্য, অনেকে যা চিন্তা করে তার চেয়েও অবস্থা অধিকতর উত্তম কেন?
১৬ একই সময়ে, অধিকাংশ লোকের কল্পনার চেয়েও মৃদুশীলদের অবস্থা আরও উত্তম হবে। কিভাবে? তা হল যীশু খ্রীষ্ট আমাদের পাপের জন্য মৃত্যু বরণ করেছেন এবং এখন ঈশ্বরের রাজ্যের রাজা হিসাবে শাসন করছেন। (১ তীমথিয় ১:১৫; প্রকাশিত বাক্য ১১:১৫) আপাতদৃষ্টিতে সমাধানের অযোগ্য হিসাবে প্রতীয়মান মানবজাতির সমস্যাগুলিকে শীঘ্রই সেই স্বর্গীয় রাজ্যের মাধ্যমে অতিক্রম করা হবে। মৃত্যু, অসুস্থতা, দুর্নীতি, ক্ষুধা এবং অপরাধ অতীতের বিষয় হবে এবং ঈশ্বরের রাজ্য এক পরমদেশ পৃথিবীতে অবাধে শাসন করবে। (প্রকাশিত বাক্য ২১:৩, ৪) মানবজাতি ঈশ্বরীয় শান্তি—যিহোবা ঈশ্বর এবং একে অপরের সাথে এক শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক উপভোগ করবে।—গীতসংহিতা ৭২:৭.
১৭. কোন্ বৃদ্ধি ঈশ্বরীয় শান্তির বার্তাবাহকগণের হৃদয়ে আনন্দ নিয়ে আসে?
১৭ জগতের কিছু অংশে, মৃদুশীল ব্যক্তিদের বৃহৎ জনতা লক্ষ্যণীয়ভাবে ঈশ্বরীয় শান্তির এই বার্তার প্রতি সাড়া দিচ্ছে। কেবল অল্প কয়েকটি উদাহরণ উল্লেখ করলে দেখা যায় যে, গত বছর ইউক্রেন প্রকাশকের শতকরা ১৭ ভাগ বৃদ্ধির রিপোর্ট করেছিল। মোজাম্বিক শতকরা ১৭ ভাগ, লিথুনিয়া শতকরা ২৯ ভাগ বৃদ্ধির রিপোর্ট করেছিল। রাশিয়ায় শতকরা ৩১ ভাগ বৃদ্ধি হয়েছিল, যখন আলবানিয়া প্রকাশকের শতকরা ৫২ ভাগ বৃদ্ধি উপভোগ করেছিল। এই বৃদ্ধি হাজার হাজার সৎহৃদয়বান ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব করে যারা ঈশ্বরীয় শান্তি উপভোগ করতে চায় এবং যারা ধার্মিকতার পক্ষে তাদের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এইরূপ দ্রুত বৃদ্ধি সমগ্র খ্রীষ্টীয় ভ্রাতৃসমাজে আনন্দ নিয়ে আসে।
১৮. লোকে শুনুক অথবা না শুনুক, আমাদের মনোভাব কেমন হবে?
১৮ আপনি যেখানে বাস করেন সেখানে কি লোকেরা এত তৎপরভাবে সাড়া দেয়? যদি তাই হয়, তবে আমরা আপনার সাথে আনন্দিত। যদিও, কিছু কিছু এলাকাতে, এমনকি একজন আগ্রহী ব্যক্তিকে খুঁজে পেতে অনেক অনেক ঘন্টা কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। যারা এইরূপ এলাকাগুলিতে পরিচর্যা করেন, তারা কি তাদের হস্ত শিথিল করেন অথবা হতাশ হন? না। যিহোবার সাক্ষীরা যিহিষ্কেলের প্রতি ঈশ্বরের সেই বাক্যগুলিকে স্মরণ করেন যখন তিনি যুবক ভাববাদীকে তার যিহূদী স্বদেশবাসীদের কাছে প্রচার করতে দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন: “তাহারা শুনুক বা না শুনুক—তাহারা ত বিদ্রোহীকুল—তথাপি জানিতে পাইবে, তাহাদের মধ্যে এক জন ভাববাদী উপস্থিত হইল।” (যিহিষ্কেল ২:৫) যিহিষ্কেলের মত, আমরাও লোকেদের কাছে ঈশ্বরীয় শান্তি সম্বন্ধে বলতে থাকব তারা সাড়া দিক অথবা নাই দিক। যদি তারা শোনে, আমরা রোমাঞ্চিত হই। যদি তারা না শোনে, আমাদের উপহাস করে, এমনকি আমাদের তাড়না করে, আমরা কাজ করে চলি। আমরা যিহোবাকে ভালবাসি আর বাইবেল বলে: “প্রেম . . . সকলই ধৈর্য্যপূর্ব্বক সহ্য করে।” (১ করিন্থীয় ১৩:৪, ৭) যেহেতু আমরা ধৈর্যপূর্বক প্রচার করি, তাই লোকেরা জানে কারা যিহোবার সাক্ষী। তারা আমাদের বার্তা সম্বন্ধে জানে। যখন শেষ আসবে, তারা জানবে যে যিহোবার সাক্ষীরা ঈশ্বরীয় শান্তি উপভোগ করার জন্য তাদের সাহায্য করতে চেষ্টা করেছিল।
১৯. সত্য ঈশ্বরের দাস হিসাবে, কোন্ মহান সুযোগ আমরা মহামূল্যবান বলে গণ্য করি?
১৯ যিহোবাকে সেবা করার চেয়ে আর কোন মহত্তর সুযোগ কি আছে? না! ঈশ্বরের সাথে আমাদের সম্পর্ক এবং আমরা যে তাঁর ইচ্ছা পালন করছি সেই জ্ঞান থেকেই আমাদের পরম সুখ আসে। “ধন্য [“সুখী,” NW] সেই প্রজারা, যাহারা সেই আনন্দধ্বনি জানে, হে সদাপ্রভু, তাহারা তোমার মুখের দীপ্তিতে গমনাগমন করে।” (গীতসংহিতা ৮৯:১৫) আমরা যেন মানবজাতির জন্য ঈশ্বরের শান্তির বার্তাবাহক হওয়ার আনন্দকে সর্বদা মহামূল্যবান বলে গণ্য করি। যতক্ষণ পর্যন্ত না যিহোবা বলেন যে সম্পন্ন হয়েছে, আমরা যেন অধ্যবসায়ের সাথে এই কাজে আমাদের অংশটি পালন করি।
আপনি কি স্মরণ করতে পারেন?
◻ আজকের দিনে ঈশ্বরের শান্তির বার্তাবাহকগণ কারা?
◻ আমরা কিভাবে জানতে পারি যে ১৯১৯ সালে মহতী বাবিল পতন অভিজ্ঞতা করেছে?
◻ “বিস্তর লোক” এর প্রধান চিন্তার বিষয়টি কী?
◻ আজকে অধিকাংশ লোকেরা যা চিন্তা করে তার চেয়েও ভবিষ্যৎ হতাশাজনক কেন?
◻ সঠিক হৃদয়ের ব্যক্তিদের জন্য, তারা যা কল্পনা করে তার চেয়েও ভবিষ্যৎ কেন অধিকতর উত্তম হতে পারে?
[Pictures on page 21]
যখন তারা মানব সমাজের অবনতি দেখে, তখন অনেকে আশঙ্কা অনুভব করে
[Pictures on page 23]
আজকের দিনে ঈশ্বরীয় শান্তির বার্তাবাহকগণ পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা সুখী লোক