নহ্মানাইডস্—তিনি কি খ্রীষ্টতত্ত্বকে খণ্ডণ করেছিলেন?
মধ্য যুগ। সেটি আমাদের কী মনে করিয়ে দেয়? ধর্মযুদ্ধগুলি? ধর্মীয় বিচারসভাগুলি? অত্যাচার? সেই সময়ে, যদিও সেটি প্রকাশ্য ধর্মীয় আলোচনা করার জন্য স্বাভাবিকভাবে মিলিত হওয়ার সময়কাল ছিল না, তবুও ১২৬৩ সালে, ইউরোপীয় ইতিহাসের অন্যতম অদ্বিতীয় যিহূদী-খ্রীষ্টান বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কারা জড়িত ছিল? কোন্ বিচার্য বিষয়গুলি উত্থাপিত হয়েছিল? আজকের দিনে কিভাবে এটি আমাদের সত্য ধর্মকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে?
কোন্ বিষয়টি বিতর্কের সূত্রপাত ঘটায়?
সমগ্র মধ্যযুগব্যাপী, রোমান ক্যাথলিক গির্জা নিজেকে সত্য ধর্ম হিসাবে উপস্থাপিত করেছিল। কিন্তু, যিহূদী লোকেরা কখনও ঈশ্বরের মনোনীত লোক হওয়ার তাদের যে দাবি তা পরিত্যাগ করেনি। ধর্মান্তরিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে যিহূদীদের বোঝাতে গির্জার অক্ষমতা, হতাশা এবং বারংবার দৌরাত্ম্য ও তাড়নার দিকে পরিচালিত করেছিল। ধর্মযুদ্ধের সময়ে যখন বাপ্তিস্ম অথবা মৃত্যু নির্বাচন করতে বলা হয়েছিল তখন হাজার হাজার যিহূদীদের নির্দয়ভাবে হত্যা করা অথবা কাষ্ঠ দণ্ডে পোড়ান হয়েছিল। যিহূদী-বিরোধ গির্জা-অনুপ্রাণিত অনেক দেশে প্রচলিত ছিল।
তৎসত্ত্বেও, এক পৃথক মনোভাব, দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ শতাব্দীর ক্যাথলিক স্পেনে বিদ্যমান ছিল। যিহূদীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল—যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা খ্রীষ্টীয় বিশ্বাসকে আক্রমণ করে—আর তাদের এমনকি রাজদরবারে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছিল। এইরূপ অনুগ্রহের প্রায় এক শতাব্দী পর, ডমিনিকান যাজকেরা সমাজে যিহূদীদের প্রভাব হ্রাস করতে এবং যিহূদীদের ক্যাথলিকবাদে ধর্মান্তরিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। ডমিনিকানরা একটি সরকারি বিতর্কের আয়োজন করতে আরেগানের রাজা জেমস্ ১ম-কে চাপ দিয়েছিল, যেটির উদ্দেশ্য ছিল যিহূদীদের অবস্থানের নিকৃষ্টতা এবং সমস্ত যিহূদীদের ধর্মান্তরিত করার প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করা।
যিহূদী-খ্রীষ্টান বিতর্কের এটিই প্রথম দৃষ্টান্ত ছিল না। ১২৪০ সালে, ফ্রান্সের প্যারিসে এক সরকারি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল যিহূদীদের পবিত্র বই, তালমুডকে বিচারের জন্য উপস্থাপন করা। কিন্তু, যিহূদী অংশগ্রহণকারীদের কথা বলার জন্য অল্পই স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল। গির্জা এই বিতর্কের উপর তার বিজয় ঘোষণা করার পর, তালমুডের প্রচুর সংখ্যক কপি জনসাধারণের স্থানগুলিতে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল।
কিন্তু আরেগানের রাজা জেমস্ ১ম এর অধিক সহনশীল মনোভাব এইরূপ একটি বিদ্রূপকর বিচার অনুমোদন করেনি। এটি বুঝতে পেরে ডমিনিকানরা এক ভিন্ন পদ্ধতিতে চেষ্টা করেছিল। যেমন হাইয়াম ম্যাকাবী বিচারের অধীনে যিহূদীবাদ (ইংরাজি) নামক তার বইয়ে লিখেছিলেন, “প্যারিসে যেমন প্রকাশ্যে অভিযুক্ত করা হয় তার চেয়ে বরঞ্চ, ভদ্রতা এবং প্রত্যয় উৎপাদনের ভান করে” তারা যিহূদীদের বিতর্কে আমন্ত্রণ করেছিল। ডমিনিকানরা তাদের প্রধান প্রতিনিধি হিসাবে পাব্লো খ্রীষ্টীয়ানীকে নিযুক্ত করেছিল, একজন যিহূদী যিনি ক্যাথলিক ধর্মে ধর্মান্তরিত ও একজন ডমিনিকান যাজক হয়েছিলেন। তালমুড এবং রব্বিদের লেখনি সম্পর্কে পাব্লো খ্রীষ্টীয়ানীর জ্ঞানকে ব্যবহার করার দ্বারা, ডমিনিকানরা নিশ্চিত মনে করেছিল যে তারা তাদের বক্তব্য প্রমাণ করতে পারবে।
নহ্মানাইডস্ কেন?
বিতর্কে যিহূদীদের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করতে স্পেনে আধ্যাত্মিক পদমর্যাদাসম্পন্ন কেবলমাত্র একজন ব্যক্তিই ছিলেন—মোসেস্ বেন্ নহ্মান অথবা নহ্মানাইডস্।a যিনি প্রায় ১১৯৪ সালে জেরোনা শহরে জন্মগ্রহণ করেন, তার কিশোর বয়সেই নহ্মানাইডস্ নিজেকে বাইবেল সংক্রান্ত এবং তালমুড পণ্ডিত হিসাবে বিশিষ্ট করে তুলেছিলেন। ৩০ বছর বয়সের মধ্যেই, তিনি তালমুডের অধিকাংশ অংশের উপর ধারাবাহিক বিবরণী লিখেছিলেন এবং শীঘ্রই মাইমোনাইডসের লেখনি যা যিহূদী সম্প্রদায়কে বিভক্ত করতে ভীতি প্রদর্শন করেছিল সেই সম্পর্কে মতবিরোধের মধ্যস্থতায় তিনি একজন প্রধান মুখপাত্র হয়েছিলেন।b তার সমকালীন ব্যক্তিদের মধ্যে নহ্মানাইডস্ বাইবেল সংক্রান্ত এবং তালমুডের সর্বমহান যিহূদী পণ্ডিত এবং সেই সময়ে যিহূদী ধর্মের উপর তার প্রভাবের ক্ষেত্রে সম্ভবত কেবল মাইমোনাইডসের পরে দ্বিতীয় স্থানাধিকারী হিসাবে গণ্য হয়েছিলেন।
ক্যাটালোনিয়ায় যিহূদী সম্প্রদায়ের উপর নহ্মানাইডস্ ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিলেন এবং এমনকি রাজা জেমস্ ১ম রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয় সম্বন্ধে তার সাথে পরামর্শ করেছিলেন। তার তীক্ষ্ণ চিন্তন ক্ষমতা যিহূদী এবং একইভাবে পরজাতীয়দের দ্বারা সম্মানিত হয়েছিল। ডমিনিকানরা উপলব্ধি করেছিল যে যিহূদীদের কার্যকরভাবে অবনত করতে তিনি, তাদের প্রধান রব্বি, হলেন সেই ব্যক্তি যার সাথে বিতর্ক করতে হবে।
নহ্মানাইডস্ বিতর্ক করতে অনিচ্ছুক ছিলেন, এটি উপলব্ধি করে যে ডমিনিকানদের নিরপেক্ষ মত বিনিময় করার কোন অভিপ্রায় ছিল না। তিনি প্রশ্নগুলির উত্তর দিতে পারতেন, কিন্তু কোন প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবেন না। কিন্তু, তিনি রাজার অনুরোধে রাজি হয়েছিলেন, এই বিষয়টি জিজ্ঞাসা করে যে তার উত্তরে তাকে স্বাধীনভাবে কথা বলার অনুমতি দেওয়া হবে। রাজা জেমস্ ১ম এতে রাজি হয়েছিলেন। আপেক্ষিক বাক্ স্বাধীনতার এইরূপ অনুমোদন ছিল অভূতপূর্ব এবং সমগ্র মধ্যযুগব্যাপী এর পুনরাবৃত্তি হয়নি, যা নহ্মানাইডসের প্রতি রাজার উচ্চ সম্মানের এক স্পষ্ট প্রমাণস্বরূপ ছিল। তবুও, নহ্মানাইডস্ শঙ্কিত ছিলেন। বিতর্কে যদি তিনি বিরোধী হিসাবে গণ্য হতেন, তবে তার এবং যিহূদী সম্প্রদায় উভয়ের জন্য ভয়ঙ্কর পরিণতি হবে। যে কোন সময়ে দৌরাত্ম্য শুরু হয়ে যেতে পারত।
নহ্মানাইডস্ বনাম পাব্লো খ্রীষ্টীয়ানী
বিতর্কের জন্য প্রধান স্থানটি ছিল বার্সেলোনায় রাজার প্রাসাদে। চারটি বিতর্ক-পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছিল—১২৬৩ সালের, ২০, ২৩, ২৬ ও ২৭শে জুলাই। প্রতিটি বিতর্ক-পর্বে রাজা ব্যক্তিগতভাবে সভাপতিত্ব করেছিলেন, এছাড়াও গির্জা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন সম্মানিত পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন, সেই সাথে স্থানীয় সম্প্রদায়ের যিহূদীরাও।
বিতর্কের ফলাফল সম্বন্ধে গির্জার কোন প্রকার সন্দেহই ছিল না। তাদের সরকারি বিবৃতিতে, ডমিনিকানরা বলেছিল যে বিতর্কের উদ্দেশ্য ছিল ‘এই জন্য নয় যে বিশ্বাসকে বিবাদের মধ্যে স্থাপন করা যেন এটি একটি সন্দেহের বিষয়, কিন্তু যিহূদীদের ভুলগুলি ভেঙ্গে ফেলা এবং অনেক যিহূদীদের নিশ্চিত বিশ্বাস অপসারণ করার জন্য।’
প্রায় ৭০ বছর বয়স্ক নহ্মানাইডস্ কেবলমাত্র প্রধান বিচার্য বিষয়গুলির মধ্যে আলোচনা সীমিত রাখার চেষ্টার দ্বারা তার তীক্ষ্ণ চিন্তন ক্ষমতা প্রদর্শন করেছিলেন। তিনি এই বলার দ্বারা শুরু করেছিলেন: “পরজাতীয় এবং যিহূদীদের [পূর্ববর্তী] বাদানুবাদগুলি ধর্মীয় প্রথার অনেক দিকগুলিকে জড়িত করে যার উপর বিশ্বাসের প্রধান নীতি নির্ভরশীল নয়। কিন্তু, এই রাজকীয় সভায়, আমি কেবলমাত্র সেই সমস্ত বিষয়ে বিতর্ক করতে চাই যার উপর সম্পূর্ণ মতবিরোধ নির্ভরশীল।” তারপর এই বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়েছিল যে বিষয়বস্তু মশীহ ইতিমধ্যে এসেছেন কি না, তিনি ঈশ্বর অথবা মানুষ ছিলেন এবং যিহূদীরা অথবা খ্রীষ্টানেরা সত্য আইন ধারণ করে, এই বিষয়গুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে।
তার তর্কের সূচনায়, পাব্লো খ্রীষ্টীয়ানী ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি তালমুড থেকে প্রমাণ করবেন মশীহ ইতিমধ্যেই এসেছেন। নহ্মানাইডস্ সমুচিত উত্তর দিয়েছিলেন যে যদি ব্যাপারটি তাই হয়, তবে রব্বিরা যারা তালমুড গ্রহণ করেছিলেন তারা কেন যীশুকে গ্রহণ করেননি? স্পষ্ট শাস্ত্রীয় যুক্তিগুলির উপর তার বিতর্কগুলি কেন্দ্রীভূত করার পরিবর্তে, খ্রীষ্টীয়ানী তার তর্কগুলিকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বারংবার অস্পষ্ট রব্বিদের গ্রন্থগুলি থেকে উদ্ধৃতি করেন। নহ্মানাইডস্ এক এক করে এগুলিকে খণ্ডণ করেছিলেন এই দেখিয়ে যে সেগুলি প্রসঙ্গবহির্ভূতভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে। এটি যুক্তিসঙ্গত ছিল যে নহ্মানাইডস্ এই লেখনি যেগুলি অধ্যয়ন করতে তিনি সারা জীবন নিয়োজিত করেছিলেন সেগুলিতে অধিক যোগ্য হিসাবে নিজেকে বিশিষ্ট করতে পারতেন। এমনকি যখন খ্রীষ্টীয়ানী শাস্ত্র উল্লেখ করেছিলেন, তখন তার তর্কপ্রদর্শন যে বিষয়গুলির উপর আলোকপাত করেছিল সেগুলি সহজেই খণ্ডণযোগ্য ছিল।
যদিও বিষয়টি কেবলমাত্র প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, তবুও নহ্মানাইডস্ শক্তিশালী তর্ক উপস্থাপন করতে সক্ষম হন যা প্রদর্শন করেছিল যে কেন ক্যাথলিক গির্জার অবস্থান যিহূদী এবং অন্যান্য চিন্তাশীল ব্যক্তি উভয়ের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। ত্রিত্ব মতবাদ সম্পর্কে তিনি ঘোষণা করেছিলেন: “কোন যিহূদী অথবা অন্য যে কোন ব্যক্তির মন তাকে বিশ্বাস করতে অনুমতি দেবে না যে স্বর্গ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা . . . এক যিহূদী স্ত্রীলোকের গর্ভে জন্মগ্রহণ করবেন . . . এবং পরবর্তীকালে তাঁর শত্রুদের হাতে সমর্পিত হবেন, যারা . . . তাঁকে হত্যা করেছিল।” নহ্মানাইডস্ সংক্ষিপ্তভাবে বলেছিলেন: “আপনারা যা বিশ্বাস করেন—আর যা আপনাদের বিশ্বাসের ভিত্তি—তা [বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন] মনের গ্রহণযোগ্য নয়।”
যে অসঙ্গতি আজকের দিন পর্যন্ত অনেক যিহূদীদের এমনকি যীশুর মশীহ হওয়ার সম্ভাবনাকে বিবেচনা করা থেকে প্রতিরোধ করে, তা তুলে ধরে নহ্মানাইডস্ গির্জার চরম রক্ত দোষের উপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন: “ভাববাদী বলেছিলেন যে মশীহের সময়ে, . . . তারা তাদের খড়্গ ভেঙ্গে লাঙ্গলের ফাল গড়বে, ও তাদের বড়শা ভেঙ্গে কাস্তে গড়বে; এক জাতি অন্য জাতির বিরুদ্ধে আর খড়্গ তুলবে না, তারা আর যুদ্ধ শিখবে না। নাসরতীয়ের দিন থেকে আরম্ভ করে এখন পর্যন্ত, সমস্ত জগৎ দৌরাত্ম্য ও অন্যায়ে পরিপূর্ণ হয়ে আছে। [বাস্তবিকই] খ্রীষ্টানেরা অন্যান্য জাতিগুলির তুলনায় অধিক রক্তপাত ঘটিয়েছে এবং তারা অনৈতিক জীবনযাপনও করে। আপনার জন্য, মহামান্য রাজা, এবং আপনার এই সেনাপতিদের জন্য এটি কতই না কঠিন হত যদি তারা আর . . . কখনও যুদ্ধ না শিখত!”—যিশাইয় ২:৪.
চতুর্থ বিতর্ক-পর্বের পর, রাজা বিতর্কের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। তিনি নহ্মানাইডসকে বলেছিলেন: “আমি কখনও এমন একজন ব্যক্তি দেখিনি যিনি ভুল ছিলেন অথচ এমন উত্তমভাবে তর্ক করতে পারেন যেমন আপনি করেছিলেন।” নহ্মানাইডস্কে বাক্ স্বাধীনতা এবং প্রতিরক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়ার বিষয়ে, তার প্রতিজ্ঞায় অনুগত থেকে, আরেগানের রাজা জেমস্ ১ম ৩০০ দিনারের উপহারসহ তাকে গৃহে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। জেরোনার বিশপের অনুরোধে, নহ্মানাইডস্ বিতর্কের এক লিখিত নথি তৈরি করেছিলেন।
চূড়ান্ত বিজয় ঘোষণা করার সময়ে, ডমিনিকানরা স্পষ্টভাবেই বিমর্ষ হয়ে পড়েছিল। তারা পরবর্তীকালে গির্জার বিপক্ষে নিন্দা করার জন্য নহ্মানাইডসের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল, প্রমাণ হিসাবে বিতর্ক সম্বন্ধে তার লেখা ব্যবহার করে। নহ্মানাইডসের প্রতি রাজার ব্যবহারে অসন্তুষ্ট হয়ে, ডমিনিকানরা পোপ ক্লেমেন্ট ৪র্থ এর কাছে আবেদন করেছিল। যদিও ৭০ বছরের বেশি বয়স্ক ছিলেন, নহ্মানাইডস্কে স্পেন থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল।c
সত্য কোথায় সুপ্ত রয়েছে?
উভয় পক্ষের তর্ক কি সত্য ধর্মকে শনাক্ত করতে সাহায্য করেছিল? যদিও প্রত্যেকে অপর পক্ষের দোষ তুলে ধরেছিলেন, কিন্তু কেউই সত্যের এক স্পষ্ট বার্তা উপস্থাপিত করেনি। নহ্মানাইডস্ অত্যন্ত দক্ষভাবে যা খণ্ডণ করেছিলেন সেটিও খ্রীষ্টতত্ত্ব ছিল না, বরঞ্চ নিঃসন্দেহে, তা ছিল মনুষ্য-নির্মিত মতবাদ যেমন ত্রিত্বের শিক্ষা, যা খ্রীষ্টীয় জগৎ যীশুর কয়েক শতাব্দী পর উদ্ভাবন করেছিল। নহ্মানাইডস্ খ্রীষ্টীয় জগতের যে অনৈতিক ব্যবহার এবং নির্মম রক্তপাত অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে তুলে ধরেছিলেন, সেগুলিও ইতিহাসের তর্কাতীত বিষয়।
এটি বোঝা কঠিন নয় যে কেন এই পরিস্থিতিতে নহ্মানাইডস্ এবং অন্যান্য যিহূদীরা খ্রীষ্টতত্ত্বের পক্ষে তর্কের দ্বারা প্রভাবিত হতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এছাড়াও, পাব্লো খ্রীষ্টীয়ানীর তর্ক ইব্রীয় শাস্ত্রাবলি থেকে স্পষ্ট যুক্তির উপর ভিত্তি করে ছিল না, বরঞ্চ তা ছিল রব্বিদের উৎসগুলির ক্ষীণ প্রয়োগের উপর।
না, নহ্মানাইডস্ সত্য খ্রীষ্টতত্ত্বকে খণ্ডণ করেননি। তার সময়ে যীশুর শিক্ষাগুলির সত্য আলো এবং তাঁর মশীহপদের প্রমাণসকল মিথ্যা মতবাদগুলি দ্বারা অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এইরূপ ধর্মভ্রষ্ট শিক্ষার আবির্ভাব সম্বন্ধে প্রকৃতপক্ষে যীশু এবং প্রেরিতেরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।—মথি ৭:২১-২৩; ১৩:২৪-৩০, ৩৭-৪৩; ১ তীমথিয় ৪:১-৩; ২ পিতর ২:১, ২.
কিন্তু, আজকের দিনে সত্য ধর্মকে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়। যীশু তাঁর সত্য অনুগামীদের সম্বন্ধে বলেছিলেন: “তোমরা তাহাদের ফল দ্বারাই তাহাদিগকে চিনিতে পারিবে। . . . সেই প্রকারে প্রত্যেক ভাল গাছে ভাল ফল ধরে, কিন্তু মন্দ গাছে মন্দ ফল ধরে।” (মথি ৭:১৬, ১৭) আমরা আপনাকে সেই শনাক্তিকরণের জন্য আমন্ত্রণ জানাই। যিহোবার সাক্ষীরা শাস্ত্রীয় প্রমাণগুলির এক বাস্তব অনুসন্ধান শুরু করতে আপনাকে সাহায্য করুক। এইভাবে আপনি মশীহ এবং তাঁর শাসন সম্পর্কিত ঈশ্বরের সমস্ত প্রতিজ্ঞাগুলির সত্য অর্থ শিখতে পারবেন।
[পাদটীকাগুলো]
a অনেক যিহূদীরা নহ্মানাইডসকে “রামবান” হিসাবে উল্লেখ করে, যা “রব্বি মোসেস্ বেন নহ্মান” শব্দগুলির প্রথম বর্ণগুলির সাহায্যে গঠিত ইব্রীয় আদ্যক্ষর।
b ১৯৯৫ সালের, মার্চ ১, প্রহরীদুর্গ-এ ২০-৩ পৃষ্ঠায় “মাইমোনাইডস্—একজন ব্যক্তি যিনি যিহূদী ধর্মের এক নতুন ব্যাখ্যা দেন” নামক প্রবন্ধটি দেখুন।
c ১২৬৭ সালে, নহ্মানাইডস্ সেই দেশে পৌঁছান যা এখন ইস্রায়েল হিসাবে পরিচিত। তার শেষের বছরগুলি সম্পন্নতার দ্বারা পরিপূর্ণ ছিল। তিনি যিরূশালেমে যিহূদীদের উপস্থিতি এবং অধ্যয়নের জন্য একটি কেন্দ্র পুনর্প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এছাড়াও তিনি তোরা, বাইবেলের প্রথম পাঁচটি বইয়ের উপর একটি ধারাবাহিক বিবরণী সম্পূর্ণ করেছিলেন এবং উত্তরাঞ্চলের উপকূলবর্তী শহর আক্রা যেখানে তিনি ১২৭০ সালে মারা যান সেখানে যিহূদী সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক নেতা হয়েছিলেন।
[২০ পৃষ্ঠার চিত্র]
নহ্মানাইডস্ বার্সেলোনায় তার বিষয়টি সম্পর্কে তর্ক করেছিলেন
[১৯ পৃষ্ঠার চিত্র সৌজন্যে]
পৃষ্ঠা ১৯-২০ এর চিত্রগুলি: Illustrirte Pracht -Bibel/Heilige Schrift des Alten und Neuen Testaments, nach der deutschen Uebersetzung D. Martin Luther’s থেকে পুনরুৎপাদিত