“ট্রিয়রের পবিত্র বস্ত্র”
ট্রিয়র, ২০০০ বছর পিছনের প্রসারিত ইতিহাসসহ, জার্মানীর প্রাচীনতম শহর।a শতাব্দীগুলি ধরে ক্যাথলিক গির্জার সাথে ট্রিয়রের এক ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। ১৯৯৬ সালে ট্রিয়রের ক্যাথিড্রেল একটি স্মৃতিচিহ্ন প্রদর্শন করে যা সম্ভবত শহরটির ন্যায়ই প্রাচীন। এটিকে বলা হয় ট্রিয়রের পবিত্র বস্ত্র।
বস্ত্রটি ১.৫৭ মিটার লম্বা এবং ১.০৯ মিটার চওড়া এবং জামার হাত দুটি অর্ধ দীর্ঘ। এটি সুতার তৈরি এবং হান্স-যোয়াকিম ক্যানের ওয়ালফার্টসফুরের ট্রিয়র আন্ড আমজিবাং পুস্তক অনুযায়ী (ট্রিয়র এবং চতুর্দিকের তীর্থযাত্রার পথনির্দেশক) সম্ভবত একটি বহিস্থ পরিচ্ছদ হিসাবে এটিকে পরিধান করা হত। কেউ কেউ মূল পরিচ্ছদটির সময়কাল—শতাব্দীগুলি ধরে যার অনেকটাই মেরামত এবং অন্য সুতার মাধ্যমে জোরালো করা হয়েছে—দ্বিতীয় অথবা এমনকি প্রথম শতাব্দীর বলে অনুমান করে। যদি তা সঠিক হয়, তাহলে এটি একটি বিরল বস্ত্র, যা যাদুঘরের জন্য একটি আগ্রহজনক বস্তু।
যাইহোক, কেউ কেউ মনে করে যে এই পরিচ্ছদটি কেবলমাত্র বিরলই নয়, কিন্তু পবিত্রও—তাই এটির নাম পবিত্র বস্ত্র। এর কারণ হল এটি একখণ্ড কাপড়ে তৈরি, যেমন যীশু খ্রীষ্টের পরিহিত আঙ্রাখাটি ছিল। (যোহন ১৯:২৩, ২৪) কেউ কেউ দাবি করে যে “পবিত্র বস্ত্র”-টি প্রকৃতপক্ষে মশীহের ছিল।
বস্ত্রটি কিভাবে ট্রিয়রে এসেছিল তা অনিশ্চিত। একটি প্রসঙ্গগ্রন্থ উল্লেখ করে যে “মহান কন্স্টানটাইনের মাতা, সম্রাজ্ঞি হেলেনা এই শহরে উপহার হিসাবে এটিকে প্রদান করেছিলেন।” ক্যান উল্লেখ করেন যে ট্রিয়রে বস্ত্রটির অবস্থান সম্বন্ধে প্রথম নির্ভরযোগ্য বিবৃতি ১১৯৬ সাল থেকে পাওয়া যায়।
বস্ত্রটি, যেটি ক্যাথিড্রেলে রক্ষিত আছে, ষোড়শ শতাব্দী থেকে অনিয়মিতভাবে সময়ে সময়ে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ট্রিয়রের পক্ষে খুবই ব্যয়বহুল ত্রিশ বছরের যুদ্ধের পর, এটি ১৬৫৫ সালে প্রদর্শিত হয়েছিল। তীর্থযাত্রার উৎসবের স্মারকচিহ্ন বিক্রয় সময়ে সময়ে প্রচুর আয় উৎপন্ন করেছে।
এই শতাব্দীতে তিনটি “পবিত্র বস্ত্র” তীর্থযাত্রা হয়েছে—১৯৩৩, ১৯৫৯ এবং ১৯৯৬ সালে। ১৯৩৩ সালে তীর্থযাত্রা সেই একই দিনে ঘোষণা করা হয়েছিল যেদিন হিটলার জার্মান সাম্রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হয়েছিলেন। ক্যান নির্দেশ করেন যে একই তারিখে ঐ দুটি ঘটনা আকস্মিকরূপে ঘটা, তীর্থযাত্রার পরিস্থিতিকে বিশিষ্ট করেছিল। ইউনিফর্ম পরিহিত নাৎসী সৈন্যেরা ক্যাথিড্রেলের বাইরে তীর্থযাত্রীদের সম্মান প্রদর্শনার্থ কুচকাওয়াজ করেছিল। ঐ বছর দুই কোটি পঞ্চাশ লক্ষ লোক বস্ত্রটি পরিদর্শন করেছিল।
ট্রিয়রের বহু বছরের বাসিন্দা হারবার্ট, ১৯৫৯ সাল এবং ১৯৯৬ সালের তীর্থযাত্রার তুলনা করেছিলেন। “১৯৫৯ সালে প্রায় সমস্ত রাস্তার প্রতিটি কোণ স্মারকচিহ্ন বিক্রির দোকানগুলিতে ভরে গিয়েছিল। এই বছর সমস্ত কিছু অপেক্ষাকৃতরূপে কম ছিল।” প্রকৃতপক্ষে, ১৯৯৬ সালে কেবলমাত্র ৭,০০,০০০ জন বস্ত্র পরিদর্শন করেছিল, যা ১৯৫৯ সালের সংখ্যার তুলনায় দশ লক্ষ কম ছিল।
তারা বস্ত্র পরিদর্শন করতে কেন যায়?
গির্জা জোর দেয় যে বস্ত্রটিকে শ্রদ্ধার বস্তু হিসাবে দেখা উচিত নয়। একখণ্ড কাপড়ে তৈরি বস্ত্রটি গির্জার একতার প্রতীক হিসাবে দেখা হয়ে থাকে। ফ্রাঙ্কফুটার অ্যালগেমাইন্ সাইটিং বিবৃতি দেয় যে যখন তীর্থযাত্রা ঘোষণা করা হচ্ছিল, তখন বিশপ স্পিটাল বলেছিলেন: “আমাদের জগতের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি আমাদের খ্রীষ্টানদের অস্বাভাবিক উত্তরের জন্য উদ্বুদ্ধ করে। আমাদের ঘৃণা, নৃশংসতা এবং দৌরাত্ম্যের ক্রমবর্ধমান তরঙ্গের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।” বিশপ বর্ণনা করেছিলেন যে বস্ত্রটির পরিদর্শন একতাকে স্মরণ করিয়ে দেবে।
কিন্তু কেন গির্জার একতা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য একজনের “পবিত্র বস্ত্রের” প্রয়োজন হবে? কী হবে যদি বস্ত্রটি নষ্ট অথবা খণ্ড খণ্ড হয়ে যায় অথবা মিথ্যা হিসাবে উন্মোচিত হয়? গির্জার একতা কি তখন বিপদগ্রস্ত হবে? যারা ট্রিয়রে তীর্থযাত্রায় যেতে পারে না সেই লোকেদের কী হবে? তারা কি গির্জার অন্তর্ভুক্ত যে কোনপ্রকার একতা সম্পর্কে কম সচেতন?
প্রাথমিক খ্রীষ্টানদের ক্ষেত্রে খ্রীষ্টীয় একতার প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য কোন বস্তুর প্রয়োজন আছে বলে পবিত্র শাস্ত্র উল্লেখ করে না। বস্তুতপক্ষে, প্রেরিত পৌল খ্রীষ্টানদের এই কথাগুলি বলে উৎসাহ দিয়েছিলেন: “আমরা বিশ্বাস দ্বারা চলি, বাহ্য দৃশ্য দ্বারা নয়।” (২ করিন্থীয় ৫:৭) যে একতা সত্য খ্রীষ্টানেরা উপভোগ করে তাকে এইভাবে “বিশ্বাসের একতা” (NW) হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে।—ইফিষীয় ৪:১১-১৩.
[পাদটীকাগুলো]
a এপ্রিল ২২, ১৯৮০, সচেতন থাক! (ইংরাজি) পৃষ্ঠা ২১-৩ দেখুন।