আপনি কি আমাদের পক্ষপাতশূন্য ঈশ্বরকে অনুকরণ করছেন?
পক্ষপাতশূন্যতা—কোথায় এটি দেখতে পাওয়া যেতে পারে? একজন ব্যক্তি আছেন, যিনি সম্পূর্ণ পক্ষপাতশূন্য, সংস্কার, প্রিয়-তোষণ, এবং বৈষম্য থেকে মুক্ত। তিনি হচ্ছেন মানবজাতির সৃষ্টিকর্তা, যিহোবা ঈশ্বর। কিন্তু, উনবিংশ শতাব্দীর ইংরেজ লেখক চার্লস লেম্ব মনুষ্য সম্পর্কে অকপটে লিখেছিলেন: “সহজভাবে বলতে গেলে, আমি সংস্কারে পূর্ণ এক ব্যক্তি—যে পছন্দ এবং অপছন্দের দ্বারা গঠিত।”
যখন পক্ষপাতশূন্যতার বিষয়টি আসে, সেইক্ষেত্রে মানব সম্পর্কের আরও উন্নতির প্রয়োজন হয়ে থাকে। বহু শতাব্দী পূর্বে ইস্রায়েলের জ্ঞানী রাজা শলোমন লক্ষ্য করেছিলেন যে, “এক জন [“মানুষ,” NW], অন্যের উপরে তাহার অমঙ্গলার্থে কর্ত্তৃত্ব করে।” (উপদেশক ৮:৯) বর্ণবিদ্বেষ, জাতিগত সংঘর্ষ এবং পারিবারিক কলহ ক্রমাগত বিস্তার লাভ করছে। সুতরাং, এটি বিশ্বাস করা কি বাস্তবসম্মত যে, মানুষ তাদের নিজেদের প্রচেষ্টায় একটি পক্ষপাতশূন্য সমাজ গড়ে তুলতে পারবে?
আমাদের মনোভাবকে নিয়ন্ত্রণের জন্য এবং যে কোন ধরনের বদ্ধমূল সংস্কার থেকে মুক্ত হতে, সচেতন প্রচেষ্টার প্রয়োজন। (ইফিষীয় ৪:২২-২৪) এটি উপলব্ধি না করলে আমরা হয়ত সেই ধরনের মনোভাবকে পোষণ করার দিকে পরিচালিত হতে পারি, যেটি আমাদের সামাজিক ও শিক্ষা সংক্রান্ত পরিবেশ দ্বারা গঠিত এবং আমাদের পরিবার, বর্ণ এবং জাতিগত পটভূমিতে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত। এই আপাতদৃষ্টিতে সামান্য প্রবণতাগুলি প্রায়ই গভীর-প্রথিত হয়ে থাকে এবং সেই ধরনের মনোভাবকে উন্নীত করে যা পক্ষপাতপূর্ণ হওয়ার দিকে পরিচালিত করে। এমনকি স্কটিশ্ আইনবিদ এবং সম্পাদক লর্ড ফ্রান্সিস জ্যাফ্রি স্বীকার করেছিলেন: “এই বিষয়টি ছাড়া আর কোন বস্তু নেই যার প্রতি এক ব্যক্তি দীর্ঘ সময় অচেতন থাকে যতখানি তার সংস্কারের প্রসারতা ও শক্তি সম্বন্ধে থাকে।”
লিনাa এমন একজন ব্যক্তি, যিনি স্বীকার করেন যে পক্ষপাতপূর্ণ হওয়ার প্রবণতাগুলির সাথে যুদ্ধ করার জন্য সচেতন প্রচেষ্টার প্রয়োজন আছে। তিনি বলেন, নিজের অন্তরে সংস্কারের অনুভূতিগুলিকে বর্জন করতে হলে, “অনেক প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয় কারণ বেড়ে ওঠার পরিবেশ একটি শক্তিশালী প্রভাব।” লিনা এও স্বীকার করেন যে অবিরত অনুস্মারকগুলিও প্রয়োজনীয়।
যিহোবার পক্ষপাতশূন্যতার নথি
যিহোবা হলেন পক্ষপাতশূন্যতার এক নিখুঁত উদাহরণ। বাইবেলের প্রারম্ভিক পৃষ্ঠাগুলি থেকেই আমরা পড়ি মনুষ্যের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে তিনি কিভাবে তাঁর পক্ষপাতশূন্যতা প্রদর্শন করেছিলেন। এই চমৎকার উদাহরণ এবং অনুস্মারকগুলি থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি।
যিহোবা ঘটনাগুলি নির্ধারণের ক্ষেত্রে পক্ষপাতশূন্যতা প্রদর্শন করেছিলেন, যার ফলে যিহূদী প্রেরিত পিতর, কর্ণীলিয় এবং অন্যান্য পরজাতীয়দের কাছে সা.শ. ৩৬ সালে সুসমাচার ঘোষণা করতে পেরেছিলেন। সেই সময় পিতর বলেছিলেন: “ঈশ্বর মুখাপেক্ষা [“পক্ষপাত,” NW] করেন না; কিন্তু প্রত্যেক জাতির মধ্যে যে কেহ তাঁহাকে ভয় করে ও ধর্ম্মাচরণ করে, সে তাঁহার গ্রাহ্য হয়।”—প্রেরিত ১০:৩৪, ৩৫.
মানব পরিবারের সাথে সমস্ত আচরণের ক্ষেত্রে যিহোবা অবিরত তাঁর পক্ষপাতশূন্যতা প্রদর্শন করেছেন। খ্রীষ্ট যীশু তাঁর পিতার সম্বন্ধে বলেছিলেন: “তিনি ভাল মন্দ লোকদের উপরে আপনার সূর্য্য উদিত করেন, এবং ধার্ম্মিক অধার্ম্মিকগণের উপরে জল বর্ষান।” (মথি ৫:৪৫) একজন পক্ষপাতশূন্য ঈশ্বর হিসাবে যিহোবাকে আরও উচ্চভাবে প্রশংসা করতে গিয়ে, পিতর সাক্ষ্য দিয়েছিলেন: “তোমাদের পক্ষে তিনি দীর্ঘসহিষ্ণু [“ধৈর্যশীল,” NW]; কতকগুলি লোক যে বিনষ্ট হয়, এমন বাসনা তাঁহার নাই; বরং সকলে যেন মনপরিবর্ত্তন পর্য্যন্ত পঁহুছিতে পায়, এই তাঁহার বাসনা।”—২ পিতর ৩:৯.
নোহের দিনে যখন “পৃথিবীতে মনুষ্যের দুষ্টতা বড়, এবং তাহার অন্তঃকরণের চিন্তার সমস্ত কল্পনা নিরন্তর কেবল মন্দ” ছিল তখন যিহোবা মানবজাতির সেই জগৎকে ধ্বংস করার আদেশ দিয়েছিলেন। (আদিপুস্তক ৬:৫-৭, ১১, ১২) কিন্তু, যিহোবার আদেশে এবং তার সমকালীন ব্যক্তিদের সাক্ষাতে নোহ একটি জাহাজ নির্মাণ করেছিলেন। তিনি এবং তার পুত্রেরা জাহাজটি নির্মাণ করার সাথে সাথে নোহ ছিলেন “ধার্ম্মিকতার প্রচারক।” (২ পিতর ২:৫) সেই বংশের মন্দ অন্তঃকরণের প্রবণতা জানা সত্ত্বেও, যিহোবা পক্ষপাতশূন্যভাবে তাদের একটি স্পষ্ট বার্তা প্রেরণ করেছিলেন। নোহের দ্বারা জাহাজ নির্মাণ এবং প্রচারের মাধ্যমে তিনি তাদের মন এবং হৃদয়ের প্রতি সনির্বন্ধ আবেদন জানিয়েছিলেন। সাড়া দেওয়ার সম্পূর্ণ সুযোগ তাদের ছিল, কিন্তু পরিবর্তে তারা “বুঝিতে পারিল না, যাবৎ না বন্যা আসিয়া সকলকে ভাসাইয়া লইয়া গেল।”—মথি ২৪:৩৯.
যিহোবার পক্ষপাতশূন্যতার কতই না এক চমৎকার উদাহরণ! শেষকালের এই সংকটময় সময়ে, এটি ঈশ্বরের দাসেদের অনুরূপ পক্ষপাতশূন্যতার সাথে রাজ্যের সুসমাচার ঘোষণা করতে পরিচালিত করে। এছাড়াও, তারা যিহোবার প্রতিশোধের দিন ঘোষণা করা থেকেও পিছিয়ে যায় না। সমগ্র জনসমক্ষে, প্রত্যেকের শোনার জন্য কোন পক্ষপাতিত্ব ছাড়া তারা যিহোবার বার্তা উপস্থাপন করে।—যিশাইয় ৬১:১, ২.
কূলপতি অব্রাহাম, ইস্হাক এবং যাকোবের কাছে যিহোবার প্রতিজ্ঞাগুলি এই বিষয়টিকে সুস্পষ্ট করেছিল যে তিনি হচ্ছেন একজন পক্ষপাতশূন্য ঈশ্বর। তাদের নির্দিষ্ট পারিবারিক সূত্রে সেই মনোনীত ব্যক্তিটি আসবেন যার দ্বারা ‘পৃথিবীর সকল জাতি আশীর্ব্বাদ প্রাপ্ত হবে।’ (আদিপুস্তক ২২:১৮; ২৬:৪; ২৮:১৪) খ্রীষ্ট যীশু সেই মনোনীত ব্যক্তি বলে প্রমাণিত হয়েছিলেন। যীশুর মৃত্যু এবং পুনরুত্থানের মাধ্যমে, যিহোবা সকল বাধ্য মানবজাতির জন্য পরিত্রাণের উপায় সরবরাহ করেছেন। হ্যাঁ, পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই খ্রীষ্টের মুক্তির মূল্যের উপকারিতা প্রাপ্তিসাধ্য।
মোশির দিনে, খুবই আগ্রহজনক উপায়ে সলফাদের কন্যাদের সাথে যুক্ত বিষয়গুলিতে যিহোবার পক্ষপাতশূন্যতা প্রদর্শিত হয়েছিল। এই পাঁচ জন স্ত্রীলোক প্রতিজ্ঞাত দেশে তাদের পিতার উত্তরাধিকার নিয়ে উভয়-সঙ্কটে পড়েছিল। এটি হয়েছিল কারণ, ইস্রায়েলের প্রথানুসারে জমির উত্তরাধিকার শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির পুত্রেরা পেত। কিন্তু, সলফাদ তার উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হওয়ার জন্য কোন পুত্র না রেখেই মারা গিয়েছিলেন। তাই সলফাদের পাঁচ কন্যা পক্ষপাতশূন্য বিচারের জন্য মোশির কাছে আবেদন নিয়ে এসেছিল এই বলে: “আমাদের পিতার পুত্ত্র নাই বলিয়া তাঁহার গোষ্ঠী হইতে তাঁহার নাম কেন লোপ পাইবে? আমাদের পিতৃকুলের ভ্রাতৃগণের মধ্যে আমাদিগকে অধিকার দিউন।” যিহোবা তাদের আবেদন শুনেছিলেন এবং মোশিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন: “কেহ যদি অপুত্ত্রক হইয়া মরে, তবে তোমরা তাহার অধিকার তাহার কন্যাকে দিবে।”—গণনাপুস্তক ২৭:১-১১.
প্রেমময় পক্ষপাতশূন্যতার কী এক উত্তমই না উদাহরণ! যাতে করে এই বংশীয় উত্তরাধিকার অন্য কোন গোষ্ঠীর কাছে না যায় তা নিশ্চিত করার জন্য, কন্যারা যখন বিবাহিত হত তখন তাদের শুধুমাত্র “আপনাদের পিতৃবংশের কোন গোষ্ঠীর মধ্যে” বিবাহ করতে হত।—গণনাপুস্তক ৩৬:৫-১২.
বিচারক এবং ভাববাদী শমূয়েলের সময়ে যিহোবার পক্ষপাতশূন্যতার আরও অতিরিক্ত অন্তর্দৃষ্টি পাওয়া যায়। যিহোবা যিহূদা বংশের বৈৎলেহমীয় যিশয়ের পিতৃবংশের মধ্যে থেকে একজন নতুন রাজাকে অভিষিক্ত করার জন্য তাকে নিযুক্ত করেছিলেন। কিন্তু যিশয়ের আটটি পুত্র ছিল। রাজা হিসাবে কে অভিষিক্ত হবে? শমূয়েল, ইলীয়াবের দৈহিক গঠন দেখে প্রভাবিত হয়েছিলেন। কিন্তু, যিহোবা বাহ্যিক রূপ দেখে প্রভাবিত হননি। তিনি শমূয়েলকে বলেছিলেন: “তুমি উহার মূখশ্রীর বা কায়িক দীর্ঘতার প্রতি দৃষ্টি করিও না; . . . কেননা মনুষ্য যাহা দেখে, তাহা কিছু নয়; যেহেতু মনুষ্য প্রত্যক্ষ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি করে, কিন্তু সদাপ্রভু অন্তঃকরণের প্রতি দৃষ্টি করেন।” যিশয়ের কনিষ্ঠ পুত্র দায়ূদ মনোনীত হয়েছিলেন।—১ শমূয়েল ১৬:১, ৬-১৩.
যিহোবার পক্ষপাতশূন্যতা থেকে শিক্ষালাভ করা
খ্রীষ্টীয় প্রাচীনেরা একজন সহবিশ্বাসীর আধ্যাত্মিক গুণাবলিগুলি দেখার মাধ্যমে যিহোবাকে অনুকরণ করলে ভাল করেন। আমাদের বিচারকে অস্পষ্ট করে এমন ব্যক্তিগত অনুভূতিকে প্রশ্রয় দিয়ে আমাদের নিজস্ব মান অনুযায়ী কোন ব্যক্তিকে বিচার করা সহজ। যেমন একজন প্রাচীন বলেছিলেন, “আমার পূর্বধারণার উপর ভিত্তি করে নয় বরং, আমি চেষ্টা করি অন্যদের সাথে সেইভাবে আচরণ করতে যা যিহোবাকে সন্তুষ্ট করে।” যিহোবার সকল দাসেদের পক্ষে তাঁর বাক্যকে মান হিসাবে ব্যবহার করা কতই না উপকারজনক!
বাইবেলের পূর্ববর্তী উদাহরণগুলি আমাদের বর্ণ বা জাতিগত সংস্কারের দীর্ঘস্থায়ী অনুভূতিগুলিকে প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। যিহোবার পক্ষপাতশূন্যতাকে অনুকরণের মাধ্যমে আমরা খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীকে সংস্কার, বৈষম্য এবং প্রিয়-তোষণ থেকে সুরক্ষিত রাখি।
প্রেরিত পিতর জানতেন যে, “ঈশ্বর মুখাপেক্ষা [“পক্ষপাত,” NW] করেন না।” (প্রেরিত ১০:৩৪) প্রিয়-তোষণ হল পক্ষপাতশূন্যতার একটি শত্রু এবং প্রেম ও একতার নীতিকে এটি লঙ্ঘন করে। যীশু দরিদ্র, দুর্বল ও ভারাক্রান্তদের প্রতি আবেদন জানিয়েছিলেন এবং তাদের ভার লঘু করেছিলেন। (মথি ১১:২৮-৩০) যিহূদী ধর্মীয় নেতারা যারা লোকেদের উপর নিয়মের ভারি বোঝা চাপিয়ে দিয়ে প্রভুত্ব করত, তাদের তুলনায় তিনি একেবারেই স্বতন্ত্র ছিলেন। (লূক ১১:৪৫, ৪৬) এটি করা এবং ধনী ও বিশিষ্টদের প্রতি প্রিয়-তোষণ প্রদর্শন নিশ্চয়ই যীশুর শিক্ষাগুলির সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখেনি।—যাকোব ২:১-৪, ৯.
আজকের দিনে, খ্রীষ্টীয় প্রাচীনেরা খ্রীষ্টের মস্তক ব্যবস্থার প্রতি বশ্যতা স্বীকার করেন এবং যিহোবার সমস্ত উৎসর্গীকৃত ব্যক্তিদের প্রতি পক্ষপাতশূন্যতা প্রদর্শন করেন। যেহেতু তারা ‘তাহাদের মধ্যে ঈশ্বরের যে পাল আছে, তাহা পালন করেন,’ তাই তারা অর্থনৈতিক পদমর্যাদা, ব্যক্তিত্বের বৈষম্য অথবা পারিবারিক বন্ধনের কারণে প্রিয়-তোষণ প্রদর্শন করা থেকে বিরত থাকেন। (১ পিতর ৫:২) পক্ষপাতশূন্য ঈশ্বরকে অনুকরণ এবং প্রিয়-তোষণের বিরুদ্ধে তাঁর সতর্কবাণীর প্রতি মনোযোগ দেওয়ার মাধ্যমে, খ্রীষ্টীয় প্রাচীনেরা মণ্ডলীতে পক্ষপাতশূন্য মনোভাবকে উন্নীত করেন।
যিহোবার সাক্ষীদের খ্রীষ্টীয় মণ্ডলী হচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃসমাজ। যীশু খ্রীষ্টের নির্দেশনার অধীনে যে একটি সংস্কার মুক্ত, পক্ষপাতশূন্য সমাজ বাস্তবায়িত হতে পারে, এটি তার একটি জীবন্ত প্রমাণ। সাক্ষীরা ‘নূতন মনুষ্যকে পরিধান করিয়াছে, যাহা সত্যের ধার্ম্মিকতায় ও সাধুতায় ঈশ্বরের সাদৃশ্যে সৃষ্ট হইয়াছে।’ (ইফিষীয় ৪:২৪) হ্যাঁ, তারা পক্ষপাতশূন্য ঈশ্বর যিহোবার নিখুঁত উদাহরণ থেকে শিক্ষা লাভ করছে এবং সমস্ত পক্ষপাতিত্ব থেকে মুক্ত নতুন জগতে অনন্ত জীবনের প্রত্যাশা তাদের রয়েছে।—২ পিতর ৩:১৩.
[পাদটীকাগুলো]
a একটি বিকল্প নাম।
[২৬ পৃষ্ঠার চিত্র]
প্রেরিত পিতর জেনেছিলেন যে ঈশ্বর পক্ষপাত করেন না