প্রতিজ্ঞাত দেশ থেকে বাস্তবধর্মী শিক্ষাগুলি
প্রতিজ্ঞাত দেশ সম্বন্ধে বাইবেলের বিবরণ বাস্তবিকই অদ্বিতীয়। তুলনামূলকভাবে এই ছোট এলাকায় আমরা বিভিন্ন ভৌগলিক বৈশিষ্ট্যগুলি দেখতে পাই। উত্তরে, তুষারাবৃত পর্বত; দক্ষিণে উষ্ণ অঞ্চল। সেখানে রয়েছে উৎপাদনশীল নিম্নভূমি, জনশূন্য প্রান্তরাঞ্চল এবং ফলের বাগান ও পশু পালের জন্য রয়েছে পাহাড়ি দেশ।
উচ্চতা, আবহাওয়া এবং মৃত্তিকার বৈচিত্র্য, সুযোগ করে দেয় বিভিন্ন বৃক্ষের, গুল্মের ও অন্যান্য উদ্ভিদের প্রসারতাকে—যার অন্তর্ভুক্ত হল কিছু যা ঠাণ্ডা উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে সতেজ হয়ে ওঠে, অন্যগুলি যা উষ্ণ মরুভূমি অঞ্চলে বেড়ে ওঠে এবং আরও অন্যান্য বৃক্ষগুলি এখনও যা পাললিক সমতল ভূমিতে অথবা পাথুরে মালভূমিতে জন্মায়। একজন উদ্ভিদবিজ্ঞানী অনুমান করেন যে এই অঞ্চলে ২,৬০০টি বিভিন্নরকমের উদ্ভিদ দেখতে পাওয়া যেতে পারে! ইস্রায়েলীয়রা যারা প্রথম দেশটিকে নিরীক্ষণ করে, তারা এর সম্ভাবনার এক তাৎক্ষণিক প্রমাণ পায়। এক খরস্রোত উপত্যকা থেকে তারা এত বড় এক আঙ্গুর গুচ্ছ নিয়ে ফিরে এসেছিল যে এটিকে একটি লাঠিতে বেঁধে দুইজন ব্যক্তিকে বহন করতে হয়েছিল! উপত্যকাটিকে উপযুক্তভাবেই নামকরণ করা হয়েছিল ইষ্কোল যার অর্থ “[দ্রাক্ষার] থলুয়া।”a—গণনাপুস্তক ১৩:২১-২৪.
কিন্তু আসুন আমরা এখন অদ্বিতীয় এই ভূখণ্ডের কিছু ভৌগলিক বৈশিষ্ট্যের প্রতি, বিশেষ করে দক্ষিণ অঞ্চলে নিবিষ্ট দৃষ্টি দিই।
নিম্নভূমি
প্রতিজ্ঞাত দেশের পশ্চিমাঞ্চলের তটভূমির অন্তর্ভুক্ত হল ভূমধ্যসাগরের উপকূল। সমুদ্রোপকূল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে হল নিম্নভূমি। “নিম্নভূমি” শব্দটির অর্থ হল “নিচুভূমি,” কিন্তু বাস্তবে এটি হল একটি পাহাড়ি অঞ্চল আর যখন এটিকে পূর্ব দিকে যিহূদার পাহাড়ের সাথে তুলনা করা হত তখনই কেবল এটিকে নিচু বলা যেতে পারত।
সংলগ্ন প্রস্থ-চ্ছেদ মানচিত্রটি দেখুন এবং এর পারিপার্শ্বিক এলাকাগুলির সাথে নিম্নভূমির সম্পর্কটি লক্ষ্য করুন। পূর্বে যিহূদার পাহাড়গুলি; পশ্চিমে, ফিলিস্টিয়ার সমুদ্রতীরবর্তী সমভূমি। তাই, নিম্নভূমিটি প্রতিবন্ধক এলাকা হিসাবে কাজ করে, একটি প্রাচীর যা বাইবেলের সময়ে ঈশ্বরের লোকেদের তাদের প্রাচীন শত্রুদের থেকে আলাদা করে রেখেছিল। কোন সৈন্য পশ্চিম থেকে আক্রমণ করলে ইস্রায়েলের রাজধানী শহর যিরূশালেমের বিরুদ্ধে যাওয়ার আগে নিম্নভূমির মধ্য দিয়ে তাদের যেতে হত।
এইধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল সা.শ.পূ. নবম শতাব্দীতে। সিরিয়ার রাজা হসায়েল, বাইবেল বিবরণ দেয়, “যাত্রা করিয়া গাতের বিরুদ্ধে [সম্ভবত নিম্নভূমির প্রান্তে] যুদ্ধ করিলেন ও তাহা হস্তগত করিলেন; পরে হসায়েল যিরূশালেমের বিরুদ্ধেও যাত্রা করিতে উন্মুখ হইলেন।” রাজা যিহোয়াশ হসায়েলকে বাধা দিতে সমর্থ হন এবং মন্দির ও প্রাসাদ থেকে মূল্যবান জিনিস নিয়ে তাকে উৎকোচ দেন। তবুও, এই বিবরণটি দেখায় যে নিম্নভূমিটি যিরূশালেমের নিরাপত্তার জন্য চরম গুরুত্বপূর্ণ ছিল।—২ রাজাবলি ১২:১৭, ১৮.
আমরা এর থেকে এক বাস্তবধর্মী শিক্ষা লাভ করতে পারি। হসায়েল যিরূশালেম জয় করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রথমে তাকে নিম্নভূমির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। একইভাবে, শয়তান দিয়াবল ঈশ্বরের দাসেদের ‘গ্রাস করিবার জন্য অন্বেষণ করিয়া বেড়াইতেছে,’ কিন্তু প্রায়ই তাকে প্রথমে এক দৃঢ় প্রতিবন্ধক এলাকা ভেদ করতে হয়—যা হল কুসংসর্গ এবং বস্তুবাদিতা সম্বন্ধে বাইবেলের নীতিগুলির প্রতি তাদের আনুগত্য। (১ পিতর ৫:৮; ১ করিন্থীয় ১৫:৩৩; ১ তীমথিয় ৬:১০) প্রায়ই বাইবেলের নীতিগুলির সাথে আপোশ করাই হল গুরুতর পাপ করার ক্ষেত্রে প্রথম পাদক্ষেপ। তাই প্রতিবন্ধক এলাকাটিকে সুরক্ষিত রাখুন। আজই বাইবেলের নীতিগুলিকে অনুসরণ করুন আর তাহলে আগামীকাল আপনি ঈশ্বরের নিয়মগুলি ভাঙতে পারবেন না।
যিহূদার পাহাড়ি দেশ
নিম্নভূমির আরও ভিতরে যিহূদার পাহাড়ি দেশ অবস্থিত। এটি হল একটি পার্বতীয় এলাকা যা উত্তম দানাশস্য, জলপাইয়ের তেল এবং দ্রাক্ষারস উৎপন্ন করে। এর উচ্চ অবস্থানের জন্য, যিহূদা একটি সর্বোৎকৃষ্ট আশ্রয়স্থানও হয়েছিল। তাই, রাজা যোথম সেখানে “গড় ও দুর্গ” নির্মাণ করেন। বিপদের সময়ে, লোকেরা সুরক্ষার জন্য এই স্থানগুলিতে পালাতে পারত।—২ বংশাবলি ২৭:৪.
যিরূশালেম, যাকে সিয়োনও বলা হত, ছিল যিহূদার পাহাড়ি দেশের একটি বিশিষ্ট অংশ। যেহেতু এটি তিন দিক দিয়ে খাড়া উপত্যকা দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিল, তাই যিরূশালেমকে সুরক্ষিত বলে মনে হত আর প্রথম শতাব্দীর ইতিহাসবেত্তা যোসেফাসের কথা অনুসারে উত্তর দিকটি তিনটি সারিবদ্ধ প্রাচীর দিয়ে সুরক্ষিত ছিল। কিন্তু এক আশ্রয়স্থানের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য প্রাচীর এবং অস্ত্রশস্ত্রের চাইতে আরও বেশি কিছুর প্রয়োজন ছিল। অবশ্যই এর জলের সংস্থানও থাকা উচিত। আক্রমণের সময়ে, এটি অত্যাবশ্যক, কারণ জল না থাকলে অবরুদ্ধ নাগরিকেরা শীঘ্রই আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হবে।
শিলোহের সরোবর থেকে যিরূশালেমে জল সরবরাহ করা হত। কিন্তু, সা.শ.পূ. অষ্টম শতাব্দীতে, অশূরীয় সৈন্যের দ্বারা আক্রমণের আশঙ্কায়, রাজা হিষ্কিয় শিলোহ সরোবরকে রক্ষা করার জন্য একটি বহিস্থ প্রাচীর গেঁথে তোলেন এবং এটিকে শহরের মধ্যে ঢুকিয়ে নেন। এছাড়াও তিনি শহরের বাইরের প্রস্রবনগুলি বন্ধ করে দেন যাতে করে অবরোধকারী অশূরীয়দের পক্ষে নিজেদের জন্য জল খুঁজে পাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। (২ বংশাবলি ৩২:২-৫; যিশাইয় ২২:১১) এটাই সবকিছু ছিল না। হিষ্কিয় অতিরিক্ত জল সরবরাহকে ঘুরিয়ে যিরূশালেমের মধ্যে প্রবেশ করানোর জন্য একটি পথ খুঁজে নেন!
যাকে বলা হয় প্রাচীনকালের এক মহান কৃতিত্ববান শিল্পকর্মের নমূনা, হিষ্কিয় গিহোনের প্রস্রবন থেকে শিলোহ সরোবর পর্যন্ত সমস্ত পথে এক সুড়ঙ্গ খনন করেন।b উচ্চতায় গড়ে ১.৮ মিটার, এই সুড়ঙ্গটি ৫৩৩ মিটার লম্বা ছিল। কল্পনা করুন—পাথরের মধ্যে দিয়ে কাটা প্রায় আধ কিলোমিটার লম্বা একটি সুড়ঙ্গ! আজকে, প্রায় ২,৭০০ বছর পরে, যিরূশালেম পরিদর্শকেরা শিল্পকর্মের এই উৎকৃষ্ট অবদানটির মধ্য দিয়ে হেঁটে যেতে পারে, যেটি সাধারণভাবে হিষ্কিয়ের সুড়ঙ্গ নামে পরিচিত।—২ রাজাবলি ২০:২০; ২ বংশাবলি ৩২:৩০.
যিরূশালেমের জল সরবরাহকে রক্ষা ও বৃদ্ধি করার জন্য হিষ্কিয়ের প্রচেষ্টা আমাদের এক বাস্তবধর্মী শিক্ষা দিতে পারে। যিহোবা হলেন “জীবন্ত জলের উনুই।” (যিরমিয় ২:১৩) বাইবেলে লিপিবদ্ধ তার চিন্তাধারা হল জীবন রক্ষাকারী। সেইজন্য ব্যক্তিগত বাইবেল অধ্যয়ন অত্যাবশ্যক। কিন্তু অধ্যয়নের সুযোগ এবং এর ফলস্বরূপ যে জ্ঞান, তা সহজে আপনার প্রতি প্রবাহিত হবে না। আপনাকে হয়ত ‘সুড়ঙ্গ খনন’ করতে হতে পারে, যেমন আপনার প্রাত্যহিক ব্যস্ত তালিকার মধ্যে দিয়ে এর জন্য সুযোগ করে নিতে হবে। (হিতোপদেশ ২:১-৫; ইফিষীয় ৫:১৫, ১৬) একবার যখন শুরু করেছেন, আপনার তালিকায় লেগে থাকুন, আপনার ব্যক্তিগত অধ্যয়নকে সবচাইতে বেশি প্রাধান্য দিন। সতর্ক থাকুন কেউ বা কোন কিছু যেন আপনার এই মহামূল্যবান জল সরবরাহের পথে বাধা না দেয়।—ফিলিপীয় ১:৯, ১০.
প্রান্তরের এলাকাগুলি
যিহূদা পাহাড়ের পূর্বদিকে রয়েছে যিহূদার প্রান্তরভূমি, যাকে যেশিমন বলা হয়, যার অর্থ ‘মরুভূমি।’ (১ শমূয়েল ২৩:১৯, পাদটীকা, NW) লবণ সমুদ্রের কাছে, এই অনুর্বর অঞ্চল পাথুরে গিরিসঙ্কট এবং খাঁচকাটা উচ্চ দুরারোহ পাহাড়ের বৈশিষ্ট্যগুলিকে তুলে ধরে। ২৪ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ১,২০০ মিটার পড়ে, যিহূদার প্রান্তর পশ্চিম দিক থেকে আসা বৃষ্টি-বহনকারী বাতাসের বিরুদ্ধে বাধা সৃষ্টি করে আর তাই সেখানে কেবলমাত্র সীমিত পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়। কোন সন্দেহ নেই যে এটিই হল সেই প্রান্তর যেখানে গুলিবাঁটের জন্য বাৎসরিক প্রায়শ্চিত্তের দিনে ছাগল পাঠান হয়েছিল। এছাড়া এটিই হল সেই স্থান যেখানে শৌলের কাছ থেকে দায়ূদ পালিয়েছিলেন। এখানেই যীশু ৪০ দিন উপবাস করেছিলেন এবং তারপর দিয়াবলের দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছিলেন।—লেবীয় পুস্তক ১৬:২১, ২২; গীতসংহিতা ৬৩, শীর্ষদেশে লিখনযুক্ত; মথি ৪:১-১১.
যিহূদার প্রান্তরের আনুমানিক ১৬০ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত প্যারেনের প্রান্তর। মিশর থেকে প্রতিজ্ঞাত দেশে তাদের ৪০-বছরের যাত্রাকালে ইস্রায়েলের বহু শিবির এখানেই অবস্থিত ছিল। (গণনাপুস্তক ৩৩:১-৪৯) মোশি “সেই ভয়ানক মহাপ্রান্তর, . . . জ্বালাদায়ী বিষধর ও বৃশ্চিকে পরিপূর্ণ নির্জল মরুভূমি” সম্বন্ধে লিখেছিলেন। (দ্বিতীয় বিবরণ ৮:১৫) এটি অবাক হওয়ার বিষয় যে লক্ষ লক্ষ ইস্রায়েলীয় রক্ষা পেতে পারত! কারণ, যিহোবা তাদের বাঁচিয়ে রেখেছিলেন।
এটি একটি অনুস্মারক হিসাবে কাজ করুক যে যিহোবা আমাদেরও বাঁচিয়ে রাখতে পারেন, এমনকি এই আধ্যাত্মিকভাবে অনুর্বর জগতেও। হ্যাঁ, আমরাও সর্প ও বৃশ্চিকের মাঝে চলছি, যদিও সেগুলি আক্ষরিক নয়। আমাদের হয়ত প্রতিদিন সেই লোকেদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হয় যাদের বিষযুক্ত কথা বলতে এতটুকু দ্বিধাবোধ নেই যা আমাদের চিন্তাধারাকে সহজেই সংক্রামিত করতে পারে। (ইফিষীয় ৫:৩, ৪; ১ তীমথিয় ৬:২০) এই সকল প্রতিবন্ধকগুলি থাকা সত্ত্বেও যারা ঈশ্বরের সেবা করতে প্রচেষ্টা করে তারা প্রশংসার যোগ্য। তাদের বিশ্বস্ততা দৃঢ় প্রমাণ দেয় যে যিহোবা বাস্তবিকই তাদের বাঁচিয়ে রাখছেন।
কর্মিল পাহাড়
কর্মিল নামের অর্থ “ফলের বাগান।” উত্তর দিকে অবস্থিত দৈর্ঘে প্রায় ৫০ কিলোমিটার এই উর্বর অঞ্চলটি, দ্রাক্ষালতা, জিত বৃক্ষ এবং ফলের গাছ দিয়ে সাজান। এর সৌষ্ঠব ও সৌন্দর্যের জন্য এই পাহাড়ি অঞ্চলের শীর্ষদেশকে ভোলা যায় না। যিশাইয় ৩৫:২ পদ ইস্রায়েলের পুনর্প্রতিষ্ঠিত দেশের ফলদায়ক গৌরবের প্রতীক হিসাবে ‘কর্মিলের শোভা’ সম্বন্ধে বলে।
বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা কর্মিলে ঘটেছিল। এটি হল সেই স্থান যেখানে এলিয় বালের ভাববাদীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং তাঁর সর্বোচ্চতার প্রমাণ হিসাবে “সদাপ্রভুর অগ্নি পতিত” হয়েছিল। এছাড়া, কর্মিলের উপর থেকে এলিয় ছোট মেঘের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন যা এক বিরাট বৃষ্টিধারাতে পরিণত হয়, ফলে অলৌকিকভাবে ইস্রায়েলের শুষ্ক খরাকে শেষ করে। (১ রাজাবলি ১৮:১৭-৪৬) এলিয়ের উত্তরসূরী, ইলীশা, কর্মিল পাহাড়ে ছিলেন যখন শূনেমের স্ত্রীলোকটি তার মৃত সন্তানের জন্য তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতে এসেছিল, যাকে পরে ইলীশা পুনরুত্থিত করেছিলেন।—২ রাজাবলি ৪:৮, ২০, ২৫-৩৭.
কর্মিলের ঢালু স্থানটি এখনও ফলের বাগান, জিত বৃক্ষ এবং দ্রাক্ষাক্ষেত্রের দ্বারা পূর্ণ। বসন্তের সময়ে, এই ঢালু স্থানগুলি চমৎকার ফুলের সমারোহ দিয়ে ঢাকা থাকে। “তোমার দেহের উপর তোমার মস্তক কর্ম্মিলের ন্যায়” শূলম্মীয় কন্যাকে শলোমন বলেছিলেন, সম্ভবত পরোক্ষভাবে তার চুলের শোভা অথবা কণ্ঠদেশের উপর অবস্থিত সুন্দর মুখের বর্ণনা তিনি দিচ্ছিলেন।—পরমগীত ৭:৫.
সমারোহ, যা ছিল কর্মিল পাহাড়ের বৈশিষ্ট্য তা আমাদের সেই আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যকে মনে করিয়ে দেয় যা যিহোবা তাঁর উপাসকদের আধুনিক-দিনের সংগঠনের উপর প্রদান করেছেন। (যিশাইয় ৩৫:১, ২) যিহোবার সাক্ষীরা সত্যই এক আত্মিক পরমদেশে বাস করে এবং তারা রাজা দায়ূদের অনুভূতির সাথে একমত, যিনি লিখেছিলেন: “আমার জন্য মানরজ্জু মনোহর স্থানে পড়িয়াছে, আমার অধিকার আমার পক্ষে শোভাযুক্ত।”—গীতসংহিতা ১৬:৬.
এটি সত্য যে, আজকের দিনে ঈশ্বরের আত্মিক জাতিকে অবশ্যই কঠিন পরিস্থিতিগুলির মুখোমুখি হতে হবে, ঠিক যেমন প্রাচীন ইস্রায়েলীয়রা ঈশ্বরের শত্রুদের কাছ থেকে ক্রমাগত বিরোধিতার মুখোমুখি হয়েছিল। তবুও, সত্য খ্রীষ্টানেরা কখনও যিহোবার প্রদত্ত আশীর্বাদগুলির কথা ভুলে যায়নি—যার অন্তর্ভুক্ত হল বাইবেল সত্যের সদা-বৃদ্ধিরত আলো, পৃথিবীব্যাপী ভ্রাতৃসমাজ এবং পার্থিব পরমদেশে অনন্ত জীবন লাভের সুযোগ।—হিতোপদেশ ৪:১৮; যোহন ৩:১৬; ১৩:৩৫.
“সদাপ্রভুর উদ্যানের ন্যায়”
প্রাচীন প্রতিজ্ঞাত দেশটি দেখতে মনোরম ছিল। উপযুক্তভাবেই এটিকে “দুগ্ধমধুপ্রবাহী” দেশ রূপে বর্ণনা করা হয়েছে। (আদিপুস্তক ১৩:১০; যাত্রাপুস্তক ৩:৮) মোশি এটিকে ‘এক উত্তম দেশ, যে দেশে উপত্যকা ও পর্ব্বত হইতে নির্গত জলস্রোত, উনুই ও গভীর জলাশয় আছে; সেই দেশে গোধূম, যব, দ্রাক্ষালতা, ডুমুর গাছ ও দাড়িম্ব, এবং তৈলদায়ক জিতবৃক্ষ ও মধু উৎপন্ন হয়; সেই দেশে আহারের বিষয়ে ব্যয়কুণ্ঠ হইতে হইবে না, তোমার কোন বস্তুর অভাব হইবে না; সেই দেশের প্রস্তর, লৌহ, ও তথাকার পর্ব্বত হইতে তুমি পিত্তল খুদিবে।’—দ্বিতীয় বিবরণ ৮:৭-৯.
যিহোবা যদি তাঁর প্রাচীন লোকেদের জন্য এইধরনের প্রাচুর্যময়, সুন্দর গৃহ যোগাতে পারেন, তাহলে নিশ্চয় তিনি তাঁর আধুনিক-দিনের বিশ্বস্ত দাসেদের জন্য সারা পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত এক গৌরবময় পরমদেশ দিতে পারেন—পর্বতরাজি, উপত্যকা, নদী এবং হ্রদ সহ। হ্যাঁ, বৈচিত্র্যময় এই প্রাচীন প্রতিজ্ঞাত দেশটি হল, আত্মিক পরমদেশ যা তাঁর সাক্ষীরা আজকে উপভোগ করছে এবং ভবিষ্যতে নতুন জগতে অবস্থিত পরমদেশের এক পূর্বাভাস। গীতসংহিতা ৩৭:২৯ পদে লিপিবদ্ধ প্রতিজ্ঞাটি সেখানে পরিপূর্ণ হবে: “ধার্ম্মিকেরা দেশের [“পৃথিবীর,” NW] অধিকারী হইবে, তাহারা নিয়ত তথায় বাস করিবে।” বাধ্য মানবজাতিকে যখন যিহোবা পরমদেশ গৃহ দেবেন, তখন তারা এর সমস্ত “ঘরগুলিকে” নিরীক্ষণ করতে এবং চিরকালের জন্য তা করতে কতই না সুখী হবে!
[পাদটীকাগুলো]
a এই অঞ্চলের একটি আঙ্গুর গুচ্ছের ওজন ১২ কিলোগ্রাম আর অন্যটিকে ২০ কিলোগ্রামের বেশি বলে বর্ণনা করা হয়েছিল।
b গিহোনের প্রস্রবনটি যিরূশালেমের পূর্ব সীমানার ঠিক বাইরে অবস্থিত ছিল। এটি একটি গূহার মধ্যে লুকানো ছিল, তাই সম্ভবত অশূরীয়রা এর অস্তিত্ব সম্বন্ধে জানত না।
[৪ পৃষ্ঠার মানচিত্র]
গালীল
কর্মিল পাহাড়
গালীল সমুদ্র
শমরিয়
নিম্ন ভূমি
যিহূদার পাহাড়
লবণ সমুদ্র
[সজন্যে]
NASA photo
[৪ পৃষ্ঠার মানচিত্র]
ঈশ্বরের লোক ও তাদের শত্রুদের মধ্যে নিম্নভূমিটি ছিল একটি প্রতিবন্ধক
এমআই ০ ৫ ১০
কেএম ০ ৮ ১৬
ফিলিস্টিয়ার সমভূমি
নিম্নভূমি
যিহূদার পাহাড়ি দেশ
যিহূদার প্রান্তর
গ্রস্ত উপত্যকা
লবণ সমুদ্র
অম্মোন ও মোয়াব দেশ
[৫ পৃষ্ঠার মানচিত্র/চিত্র]
হিষ্কিয়ের সুড়ঙ্গ: ১,৭৪৯ ফুট দৈর্ঘ, শক্ত পাথরের মধ্যে দিয়ে কাটা
টাইরোপোইয়ন উপত্যকা
শিলোহ
দায়ূদের শহর
এন
কিদোন উপত্যকা
গিহোন
[৬ পৃষ্ঠার চিত্র]
যিহূদার প্রান্তরে, দায়ূদ শৌলের কাছ থেকে পালিয়ে আশ্রয় খুঁজেছিলেন। পরবর্তীকালে যীশু সেখানে দিয়াবলের দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছিলেন
[সজন্যে]
Pictorial Archive (Near Eastern History) Est.
[৭ পৃষ্ঠার চিত্র]
কর্মিল পাহাড়, যেখানে এলিয় বালের ভাববাদীদের নত করেছিলেন
[সজন্যে]
Pictorial Archive (Near Eastern History) Est.
[৮ পৃষ্ঠার চিত্র]
“তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাকে এক উত্তম দেশে লইয়া যাইতেছেন, সেই দেশে উপত্যকা ও পর্ব্বত হইতে নির্গত জলস্রোত, উনুই ও গভীর জলাশয় আছে।”—দ্বিতীয় বিবরণ ৮:৭