ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৬ ৬/১ পৃষ্ঠা ২০-২৪
  • যিহোবা যে আমার সাথে আছেন তা প্রমাণিত হয়েছে

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • যিহোবা যে আমার সাথে আছেন তা প্রমাণিত হয়েছে
  • ১৯৯৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • নেদারল্যান্ডে অগ্রগামীর কাজ করা
  • বাড়তি সুযোগসুবিধাগুলি
  • নাজী ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের অধীনে
  • কারাগার এবং কনসেনট্রেশন ক্যাম্পগুলি
  • যুদ্ধের পরবর্তী কাজ
  • সত্যের চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই
    ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • আমার বাল্যকাল থেকে ধৈর্য সহকারে যিহোবার অপেক্ষা করা
    ১৯৯৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • “সেই বিশ্বাসের জন্য যা টলে না কখনও”!
    ২০০০ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • বিভিন্ন পরীক্ষার মধ্যেও যিহোবার সেবা করতে পেরেছি বলে কৃতজ্ঞ
    ২০১১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৬ ৬/১ পৃষ্ঠা ২০-২৪

যিহোবা যে আমার সাথে আছেন তা প্রমাণিত হয়েছে

ম্যাক্স হেনিং দ্বারা কথিত

এটি ছিল ১৯৩৩ সাল, আর এডলফ্‌ হিটলার জার্মানিতে সবেমাত্র ক্ষমতায় এসেছেন। যাইহোক, বার্লিন এলাকায় প্রায় ৫০০ জন যিহোবার সাক্ষী অবিচল ছিল। বহু যুবক অগ্রগামী অথবা পূর্ণ-সময়ের সেবক হয় আর এমনকি কেউ কেউ ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলিতে কর্মভার গ্রহণ করে। আমার বন্ধু ভারনার ফ্ল্যাটেন এবং আমি একে অপরকে উৎসাহিত করে বলতে থাকি: “কেন আমরা ইতস্তত করছি, আমাদের সময় নষ্ট করছি? কেন আমরা এর থেকে বেরিয়ে অগ্রগামীর কাজ করছি না?”

১৯০৯ সালে আমার জন্মাবার আটদিন পরে, আমি প্রেমময় পালক পিতামাতার তত্ত্বাবধানে আসি। ১৯১৮ সালে যখন হঠাৎ করে আমার ছোট পালিত বোনের মৃত্যু হয়, তখন আমাদের পরিবার চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। এর অল্প কিছুদিন পরেই বাইবেল ছাত্রেরা, তখন যিহোবার সাক্ষীরা যেমন পরিচিত ছিল, আমাদের দ্বারে আসে আর আমার পালক পিতামাতার হৃদয় খুলে যায়, তারা উৎসুকভাবে বাইবেলের সত্যকে গ্রহণ করে। তারা আমাকেও আধ্যাত্মিক বিষয়গুলিকে উপলব্ধি করতে শিক্ষা দেয়।

আমি আমার জাগতিক স্কুলের প্রতি মনোযোগ দিই এবং একজন প্লাম্বার হই। কিন্তু আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আমি আধ্যাত্মিকভাবে আমার পদক্ষেপ নিই। ভারনার এবং আমি ১৯৩৩ সালের ৫ই মে থেকে অগ্রগামীর কাজ আরম্ভ করি। আমরা সাইকেলে করে বার্লিন থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে একটি শহরে যেতাম এবং দুই সপ্তাহের জন্য প্রচার করতাম। তারপর প্রয়োজনীয় বিষয়ের দেখাশোনা করতে আমরা বার্লিনে ফিরে আসতাম। তারপর আবার আমরা অন্য দুই সপ্তাহের জন্য আমাদের প্রচারের এলাকায় ফিরে যেতাম।

আমরা অন্য দেশে পরিচর্যা করার জন্য অনুরোধ করি এবং ১৯৩৩ সালের ডিসেম্বর মাসে আমরা তখন যেটি ছিল যুগোশ্লাভিয়া সেখানে কর্মভার পাই। কিন্তু আমাদের ছেড়ে যাওয়ার আগে আমাদের কর্মভার নেদারল্যান্ডে ইউট্রেচে পরিবর্তিত হয়। এর অল্প কিছুদিন পরেই, আমি বাপ্তাইজিত হই। তখনকার দিনে বাপ্তিস্মের উপর কম গুরুত্ব দেওয়া হত; পরিচর্যাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যিহোবার উপর নির্ভরতা এখন আমার জীবনে এক অবিচল বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়ায়। আমি বাইবেলের গীতরচকের কথাগুলিতে অনেক বেশি সান্ত্বনা খুঁজে পাই: “দেখ, ঈশ্বর আমার সাহায্যকারী; প্রভু আমার প্রাণরক্ষকদের মধ্যবর্ত্তী।”—গীতসংহিতা ৫৪:৪.

নেদারল্যান্ডে অগ্রগামীর কাজ করা

নেদারল্যান্ডে পৌঁছাবার অল্প দিন পরেই, আমাদের রটারড্যাম শহরে পুনরায় নিযুক্ত করা হয়। যে পরিবারের সাথে আমরা থাকতাম সেই পরিবারের পিতা ও এক পুত্র তারাও অগ্রগামী ছিল। কয়েক মাস পরে, লেরসামে, যেটি ইউট্রেচ থেকে দূরে নয় এমন একটি শহরে একটি বড় বাড়ি অগ্রগামীদের বাসস্থান হিসাবে কেনা হয় আর ভারনার এবং আমি সেখানে চলে যাই।

সেই অগ্রগামী গৃহে বসবাস করার সময়ে আমরা সাইকেলে করে নিকটবর্তী এলাকাগুলিতে যেতাম আর দূরবর্তী এলাকাগুলির জন্য সাতজন যাত্রীর একটি গাড়ি ব্যবহার করতাম। সেই সময়ে পুরো নেদারল্যান্ডে মাত্র একশ জন সাক্ষী ছিল। আজ, ৬০ বছর পর, সেই অগ্রগামী গৃহ থেকে যে এলাকায় কাজ করতাম সেখানে প্রায় ৫০টি মণ্ডলীতে ৪,০০০ জনের বেশি প্রকাশক রয়েছে!

আমরা কঠোর পরিশ্রম করতাম, প্রতিদিন পরিচর্যায় ১৪ ঘন্টা পর্যন্ত আর সেটি আমাদের সুখী করেছিল। আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল যত বেশি সম্ভব সাহিত্য অর্পণ করা। সাধারণত আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছে একদিনে আমরা একশোর বেশি পুস্তিকা ছেড়ে আসতাম। পুনর্সাক্ষাৎ করা এবং বাইবেল অধ্যয়ন পরিচালনা করা সেই সময়ে আমাদের নিয়মিত কাজের অংশ ছিল না।

একদিন আমার সঙ্গী এবং আমি ফ্রাসওয়াক শহরটিতে কাজ করছিলাম। যখন সে একটি সামরিক ফোর্টের দরজার কাছে একটি লোককে সাক্ষ্য দিচ্ছিল, তখন আমি আমার বাইবেলটি পড়তে সময়টি ব্যবহার করেছিলাম। লাল ও নীল রঙে এটি পর্যাপ্তভাবে দাগ কাটা ছিল। পরে, একজন ছুতোরমিস্ত্রি যে কাছাকাছি একটি ছাদের উপর কাজ করছিল, দরজার কাছে লোকটিকে সাবধান করে দিয়ে বলে যে আমি সম্ভবত একধরনের গুপ্তচর। ফলে, সেই দিনেই একটি দোকানে সাক্ষ্য দেওয়ার সময়ে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আমার বাইবেলটিকে বাজেয়াপ্ত করা হয়।

আমাকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অভিযোগ করা হয় যে আমার বাইবেলে দাগগুলি ছিল ফোর্টের একটি ছবি আঁকার এক প্রচেষ্টা। আমাকে দোষী বলে ঘোষণা করা হয় এবং বিচারক আমাকে দুবছরের জন্য কারাদণ্ড দেন। কিন্তু, কেসটিকে আপিল করা হয় এবং আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ছাড়া পেয়ে আমি কতই না খুশি হয়েছিলাম, কিন্তু আমি আরও খুশি হয়েছিলাম যখন আমার বাইবেলটিকে তার নোটসমেত ফিরিয়ে দেওয়া হয়!

১৯৩৬ সালের গ্রীষ্মের সময়ে, অগ্রগামী গৃহের একজন অগ্রগামী, রিকার্ট ব্রাউনিং এবং আমি, দেশের উত্তরে প্রচার করে গ্রীষ্মকালটি কাটাই। প্রথম মাসটি, আমরা ২৪০ ঘন্টা পরিচর্যায় ব্যয় করি এবং প্রচুর পরিমাণের সাহিত্য অর্পণ করি। আমরা একটি তাঁবুতে বসবাস করি এবং আমাদের নিজস্ব প্রয়োজনীয় বিষয়গুলির দেখাশোনা করি যেমন, আমাদের নিজদের কাপড়জামা ধুই, রান্না করি এবং আরও অন্যান্য কাজগুলি করি।

পরে আমি জ্যোতিবাহক নামক বোর্টটিতে স্থানান্তরিত হই, যেটি নেদারল্যান্ডের উত্তরে সুপরিচিত হয়েছিল। পাঁচজন অগ্রগামী বোর্টটিতে থাকত আর এটি থেকে আমরা বহু বিচ্ছিন্ন এলাকায় পৌঁছাতে সক্ষম হই।

বাড়তি সুযোগসুবিধাগুলি

১৯৩৮ সালে আমাকে আঞ্চলিক দাস, যেমন যিহোবার সাক্ষীদের সীমা অধ্যক্ষদের তখন ডাকা হত, নিযুক্ত করা হয়। সুতরাং আমি জ্যোতিবাহক ছেড়ে মণ্ডলীগুলি এবং দক্ষিণাঞ্চলে তিনটি প্রদেশে বিচ্ছিন্ন সাক্ষীদের পরিদর্শন করতে আরম্ভ করি।

সাইকেল ছিল একমাত্র আমাদের যাতায়াতের মাধ্যম। একটি মণ্ডলী থেকে আর একটিতে অথবা একটি আগ্রহী ব্যক্তিদের দল থেকে অন্যটিতে ভ্রমণ করতে প্রায়ই একটি পুরো দিন নিয়ে নিত। যে শহরগুলি আমি পরিদর্শন করি তার মধ্যে ছিল ব্রেডা, যেখানে এখন আমি বাস করি। সেই সময়ে ব্রেডায় কোন মণ্ডলী ছিল না আর সেখানে মাত্র একটি বয়স্ক সাক্ষী দম্পতি ছিল।

লিমবার্গে ভাইয়েদের পরিচর্যার সময়ে, ইহান পিপার নামে খনির এক কর্মীর দ্বারা প্রস্তাবিত আমি বহু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমন্ত্রিত হই। বাইবেলের সত্যের জন্য সে দৃঢ় পদক্ষেপ নেয় এবং একজন নির্ভীক প্রচারক হয়। চার বছর পর তাকে গ্রেপ্তার করে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে নিক্ষেপ করা হয়, যেখানে সে সাড়ে তিন বছর কাটায়। ছাড়া পাওয়ার পর সে উদ্যোগের সাথে আবার প্রচার কাজকে গ্রহণ করে আর আজকে সে একজন বিশ্বস্ত প্রাচীন। লিমবার্গে ১২ জন সাক্ষীর ছোট মণ্ডলীটি এখন বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১,৫৫০ জন প্রকাশক নিয়ে ১৭টি মণ্ডলীত পরিণত হয়েছে!

নাজী ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের অধীনে

১৯৪০ সালে মে মাসে নাজী নেদারল্যান্ডকে আক্রমণ করে। আমি অ্যামস্টারডামের ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটির শাখা অফিস থেকে একটি কর্মভার পাই। চরম সাবধানতার সাথে আমরা আমাদের কাজকে চালিয়ে নিয়ে যাই, যেটি আমাদের বাইবেলের প্রবাদটিকে উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছিল: “প্রকৃত বন্ধু . . . হল একজন ভাই যাকে দুর্দশার সময়ে পাওয়া যায়।” (হিতোপদেশ ১৭:১৭) একতার মধুর বন্ধন যা চাপের সময়ে বর্ধিত হয়েছিল, আমার আধ্যাত্মিক উন্নতিতে তার এক সুগভীর প্রভাব ছিল আর এটি আমাকে সামনের কঠিন দিনগুলির জন্য সজ্জিত করেছিল।

আমার কাজ ছিল মণ্ডলীগুলিতে সাহিত্যের অর্পণ দেখাশোনা করা, যেটি সাধারণত কুরিয়ারের মাধ্যমে করা হত। গোয়েন্দা অবিরতভাবে জার্মানিতে ফোর্সস্‌ লেবারারস্‌ হিসাবে কাজ করার জন্য যুবকদের খুঁজতে থাকে, তাই কুরিয়ার হিসাবে আমরা খ্রীষ্টীয় বোনেদের ব্যবহার করি। কালক্রমে, ভিহেলমিনা বারকার, সর্বদা যে নোনি বলে পরিচিত ছিল, তাকে হেগ থেকে আমাদের কাছে পাঠানো হয় এবং আমি তাকে আমাদের শাখা অধ্যক্ষ, আর্থার ভিঙ্কলার যেখানে লুকিয়ে ছিলেন সেখানে নিয়ে যাই। যতটা সম্ভব নিজেকে আড়াল করে আমি ডাচ দেশীয় কৃষকের মত পোশাক ও কাঠের জুতো পরি এবং রাস্তার গাড়ি করে নোনির সাথে যাতায়াত করি। পরে আমি জেনেছিলাম হাসি থামিয়ে রাখা তার পক্ষে খুবই কষ্টকর ছিল, কারণ সে ভেবেছিল আমি কোন মতেই নিজেকে ছদ্মবেশে রাখতে পারিনি।

১৯৪১ সালে ২১শে অক্টোবরে, অ্যামস্টারডামে সাহিত্য ও কাগজের গুদাম ঘর শত্রুদের কাছে ধরিয়ে দেওয়া হয়। গোয়ন্দা হানার সময়ে, ভিঙ্কলার এবং নোনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। যখন তাদের কারাগারে যাওয়ার জন্য তুলে দেওয়া হয়, তারা শুনতে পায় দুজন গোয়েন্দা প্রতিনিধি বলাবলি করছে কিভাবে তারা “একটি ছোটখাট কাল-চুল বিশিষ্ট ব্যক্তির” পিছনে ছুটেছিল এবং রাস্তার ভিড়ে তাকে হারিয়ে ফেলেছিল। স্পষ্টত তারা আমার সম্বন্ধে কথা বলছিল, তাই ভিঙ্কলার বাইরে ভাইয়েদের খবর দিতে পেরেছিল। সঙ্গে সঙ্গে আমাকে হেগ শহরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

মধ্যবর্তী সময়ে, নোনি কারাগার থেকে মুক্ত হয় এবং সে হেগ শহরে অগ্রগামীর কাজে ফিরে যায়। সেখানে আবার তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়। কিন্তু যখন রটারড্যামে মণ্ডলীর দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়, তখন আমাকে তার স্থানে পাঠানো হয়। পরে, গুয়াডার মণ্ডলীর দাসকে গ্রেপ্তার করা হয় আর আমি সেখানে তার স্থানে আসি। অবশেষে, ১৯৪৩ সালে, ২৯শে মার্চ আমি ধরা পড়ি। যখন আমি আমাদের বাইবেল সাহিত্যের স্টকটি পরীক্ষা করছিলাম, তখন আমি গোয়েন্দা হানায় আশ্চর্য হয়ে যাই।

একটি টেবিলের উপর বাইবেল সাহিত্য ছড়িয়ে দেওয়া ছাড়াও সেখানে খ্রীষ্টীয় ভাইবোনেদের নামের একটি তালিকা ছিল, যদিও এগুলি সাংকেতিক আকারে ছিল। দৈহিক যন্ত্রণায়, আমি প্রার্থনা করি যে যিহোবা আমার জন্য একটি পথ যোগাবেন তাদের রক্ষা করতে যারা তখনও স্বাধীনভাবে প্রচার করেছিল। সকলের অলক্ষ্যে আমি নামের তালিকার উপরে আমার হাত রেখেছিলাম এবং হাতের মুঠোর মধ্যে সেটিকে নিয়েছিলাম। তারপর আমি শৌচাগারে যাওয়ার জন্য অনুমতি চাই, যেখানে আমি তালিকাটি টুকরো টুকরো করে তা নিচে ফেলে দিয়েছিলাম।

এইধরনের অত্যধিক ক্লেশে, আমি অতীতে তাঁর লোকেদের সাথে যিহোবার আচরণ থেকে এবং মুক্ত করা সম্বন্ধে তাঁর প্রতিজ্ঞাগুলি থেকে শক্তি অর্জন করতে শিখি। এটি হল এইরকম একটি আশ্বাস যা সর্বদা আমার মনে নাড়া দেয়: “যদি সদাপ্রভু আমাদের সপক্ষ না হইতেন, যখন লোকেরা আমাদের বিরুদ্ধে উঠিয়াছিল, তখন তাহারা আমাদিগকে জীবদ্দশায় গ্রাস করিত।”—গীতসংহিতা ১২৪:২, ৩.

কারাগার এবং কনসেনট্রেশন ক্যাম্পগুলি

আমাকে রটারড্যাম কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে আমার সাথে আমার বাইবেলটি থাকার জন্য আমি কৃতজ্ঞ ছিলাম। এছাড়া পরিত্রাণ (ইংরাজি) নামক বইটি ও শিশু (ইংরাজি) নামক বইটির অংশগুলি আমার কাছে ছিল এবং এই সমস্ত সাহিত্য পড়ার জন্য যথেষ্ট সময় ছিল। ছয় মাস পরে আমি সাংঘাতিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং আমাকে হাসপাতালে যেতে হয়। কারাগার ত্যাগ করার পূর্বে, আমি সাহিত্যটিকে আমার মাদুরের তলায় লুকিয়ে রাখি। পরে আমি জানতে পারি যে অন্য একজন সাক্ষী পাইয়েট ব্রুটস্‌জেস আমার কক্ষে স্থানান্তরিত হয় এবং সেটি আবিষ্কার করে। এইভাবে সাহিত্যটি বিশ্বাসের ক্ষেত্রে অন্যদেরও দৃঢ় করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল।

যখন আমি সুস্থ হয়ে উঠি, আমাকে হেগের একটি কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে থাকার সময়ে, একজন আইনের ছাত্র, লিও সি. ভ্যান ডার যে নাজী দখলকে প্রতিরোধ করার জন্য কারাগারে ছিল তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়। সে কখনও যিহোবার সাক্ষীদের সম্বন্ধে শোনেনি আর আমার সুযোগ হয় তাকে সাক্ষ্য দেওয়ার। কখনও কখনও সে মধ্যরাত্রে আমাকে জাগিয়ে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে থাকে। সাক্ষীদের প্রতি তার শ্রদ্ধাকে সে লুকিয়ে রাখতে পারেনি, বিশেষ করে এটি জানার পর যে, কেবলমাত্র আমরা যদি আমাদের বিশ্বাসকে অস্বীকার করে একটি কাগজে সাক্ষর করতাম, তাহলে আমরা ছাড়া পেতে পারতাম। যুদ্ধের পর লিও একজন আইনবিদ্‌ হন এবং ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটির জন্য অনেক বৈধ কেসের জন্য যুদ্ধ করেন যার অন্তর্ভুক্ত ছিল উপাসনার স্বাধীনতা।

১৯৪৪ সালের ২৯শে এপ্রিল, জার্মানিতে ১৮-দিনের এক যন্ত্রণাদায়ক যাত্রার জন্য আমাকে একটি ট্রেনে তুলে দেওয়া হয়। ১৮ই মে বাচেনওয়াল্ড কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে আমাকে কারারুদ্ধ করা হয়। প্রায় এক বছর পরে যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা এলিয়েড ফোর্সের দ্বারা মুক্ত হই, জীবন অবর্ণনীয়রূপে কষ্টকর ছিল। আমাদের চোখের সামনে হাজার হাজার ব্যক্তি মারা যায়। যেহেতু আমি নিকটবর্তী একটি কোম্পানিতে কাজ করতে অস্বীকার করি যেটি যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্র উৎপাদন করত, তাই আমাকে নর্দমার কাজ করতে দেওয়া হয়।

একদিন কোম্পানিটি বোমায় বিধ্বস্ত হয়। বাঁচার জন্য অনেকে ব্যারাকগুলির মধ্যে বেগে ধাবমান হতে থাকে, অন্যেরা জঙ্গলের মধ্যে দৌঁড়াতে থাকে। বিচ্যুত বোমাগুলি ব্যারাকগুলিকে আঘাত করে আর অগ্নিসংযোগকারী বোমাগুলি জঙ্গলকে জ্বালিয়ে দেয়। এটি ছিল এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য! অনেকেই জীবন্ত অবস্থায় পুড়ে যায়! আমি একটি নিরাপদ লুকানোর জায়গা খুঁজে পাই আর যখন আগুন নিভে আসে, অগণিত মৃতদেহের পাশ কাটিয়ে ক্যাম্পে ফিরে আসি।

আজকে অনেকেই নাজীর বিভৎস সামগ্রিক হত্যাকাণ্ড সম্বন্ধে অবগত আছে। আমি যিহোবার কাছে কৃতজ্ঞ যে তিনি আমার চিন্তাশক্তিকে দৃঢ় করেছেন, যাতে করে যে বিভৎসতা আমি অভিজ্ঞতা করেছি তা যেন জীবনের বছরগুলিতে আমার চিন্তাধারাকে প্রভাবিত না করে। যখন আমি আমার কারাগারের দিনগুলির কথা চিন্তা করি, তখন আমার প্রধানতম অনুভূতি হল সেই আনন্দের অনুভূতি যা তাঁর নামের গৌরবার্থে যিহোবার প্রতি বিশ্বস্ততা বজায় রেখেছিল।—গীতসংহিতা ১২৪:৬-৮.

যুদ্ধের পরবর্তী কাজ

আমার মুক্তি এবং অ্যামস্টারডামে ফিরে আসার পর, আমি সরাসরি শাখা অফিসকে একটি কাজের জন্য রিপোর্ট করি। আমার অনুপস্থিতিতে কী ঘটেছে তা জানাতে আমি উদ্বিগ্ন ছিলাম। নোনি ইতিমধ্যেই সেখানে কাজ করছিল। গত বছর যুদ্ধের সময়ে, সে মণ্ডলীগুলিতে একজন কুরিয়ার হিসাবে বাইবেল সাহিত্য পৌঁছানোর কাজ করেছে। সে পুনরায় গ্রেপ্তার হয়নি যদিও তার অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়ার অজস্র অভিজ্ঞতা রয়েছে।

আমি হারলেমে অল্প কিছুদিনের জন্য অগ্রগামীর কাজ করি, কিন্তু ১৯৪৬ সালে অ্যামারস্টারডামের শাখায় সিপিং ডিপার্মেন্টে কাজ করতে যাওয়ার জন্য আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়। ১৯৪৮ সালের শেষের দিকে, নোনি এবং আমি বিবাহিত হই আর আমরা একত্রে অগ্রগামীর কাজ করার জন্য শাখা ছাড়ি। আমাদের অগ্রগামীর কাজটি ছিল অ্যাসেনে। বার বছর আগে রিকার্ট ব্রাউনিং এবং আমি সেখানে গ্রীষ্মটি কাটিয়েছিলাম, তাঁবুতে বাস করেছিলাম ও প্রচার করেছিলাম। আমি জেনেছিলাম যে রিকার্ট এক কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

কারাগারে থাকার দিনগুলি স্পষ্টতই আমার স্বাস্থ্যকে দুর্বল করে দিয়েছিল। বুচেনওয়াল্ড থেকে মুক্ত হওয়ার ছ-বছর পর, অসুস্থতা আমাকে চার মাসের জন্য বিছানায় বদ্ধ করে রাখে। কিছু বছর পর ১৯৫৭ সালে, পুরো বছর ধরে আমি টিউবারকুলেসিসে অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমার শরীরের শক্তি ক্ষীণ হয়ে পড়ে, কিন্তু আমার অগ্রগামীর মনোভাব তখনও প্রবল ছিল। আমার অসুস্থতার সময়ে সাক্ষ্যদান করতে প্রতিটি সুযোগকে আমি আঁকড়ে ধরেছি। আমি মনে করি যে অগ্রগামীর মনোভাব ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা আমার অসুস্থতাকে কখনও প্রশয় দেয়নি আমাকে এক আলস্যময় রুগ্ন ব্যক্তিতে পরিণত হতে। যতক্ষণ আমাদের স্বাস্থ্য অনুমতি দেবে ততক্ষণ পূর্ণ-সময়ের পরিচর্যার কাজ করে যাওয়ার জন্য নোনি ও আমি দৃঢ়সঙ্কল্পবদ্ধ থাকি।

আমি সুস্থ হয়ে ওঠার পর, আমাদের ব্রেডার শহরটিতে কাজ করার জন্য নিযুক্ত করা হয়। এটি ছিল আঞ্চলিক দাস হিসাবে আমার শহরটিতে প্রথম পরিদর্শন করার সময় থেকে আরম্ভ করে ২১ বছর পর। ১৯৫৯ সালে যখন আমরা সেখানে পৌঁছেছিলাম তখন সেখানে ৩৪ জন সাক্ষীকে নিয়ে একটি ছোট মণ্ডলী ছিল। আজকে, ৩৭ বছর পরে, এটি বেড়ে ৫০০ জনের বেশি সাক্ষীকে নিয়ে ছয়টি মণ্ডলীতে পরিণত হয়েছে, যারা তিনটি কিংডম হলে মিলিত হয়! আমাদের স্থানীয় সভাগুলি ও অধিবেশনগুলিতে আমরা বহু ব্যক্তিকে দেখতে পাই যারা আমাদের কিছু প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ, বাইবেলের সত্যের জ্ঞানকে জানতে পেরেছে। প্রেরিত যোহনের মত আমরাও প্রায় একইরকম অনুভব করে থাকি যখন তিনি লেখেন: “আমার সন্তানগণ সত্যে চলে, ইহা শুনিলে যে আনন্দ হয়, তদপেক্ষা মহত্তর আনন্দ আমার নাই।”—৩ যোহন ৪.

আমরা এখন বৃদ্ধ হয়েছি। আমার বয়স ৮৬ বছর এবং নোনি ৭৮, কিন্তু আমি অবশ্যই বলব যে অগ্রগামীর কাজ হল এক উত্তম কাজ। যেহেতু আমি ব্রেডায় থেকেছি, আমি আমার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যাগুলির বেশির ভাগই অতিক্রম করতে পেরেছি, যা আমার কারগারে থাকাকালীন ছিল। এছাড়া, যিহোবার পরিচর্যায় আমি অনেক ফল উৎপাদনকারী বছরগুলি উপভোগ করেছি।

বিগত ফলদায়ক পরিচর্যার বছরগুলির দিকে তাকান আমাদের উভয়ের কাছে আনন্দের এক উৎসস্বরূপ হয়। আমাদের প্রতিদিনের প্রার্থনা হল যে যতদিন আমাদের দেহে নিঃশ্বাস থাকবে ততদিন নিয়মিতভাবে তাঁর সেবা করে যেতে যিহোবা আমাদের আত্মা ও শক্তি দেবেন। নিশ্চয়তার সাথে, গীতরচকের এই কথাগুলিতে আমরা নিজেদের প্রকাশ করি: “দেখ, ঈশ্বর আমার সাহায্যকারী; প্রভু আমার প্রাণরক্ষকদের মধ্যবর্ত্তী।”—গীতসংহিতা ৫৪:৪.

[২৩ পৃষ্ঠার চিত্র]

ক্যাম্পারের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা যা আমরা ১৯৩০ সালে অগ্রগামীর কাজ করার সময়ে ব্যবহার করেছিলাম

[২৩ পৃষ্ঠার চিত্র]

বিচ্ছিন্ন এলাকাতে পৌঁছানোর জন্য আমরা যে বোটটি ব্যবহার করেছিলাম

[২৩ পৃষ্ঠার চিত্র]

১৯৫৭ সালে সম্মেলন কার্যক্রমে সাক্ষাৎকার নেওয়া

[২৪ পৃষ্ঠার চিত্র]

আজকে আমার স্ত্রীর সাথে

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার