শেষ পর্যন্ত আপনার আস্থাকে দৃঢ়ভাবে বজায় রাখুন
কল্পনা করুন একটি ছোট বিমান খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে দিয়ে উড়ে চলেছে। চালক কোন মতেই ভূমির সীমানানির্দেশক চিহ্ন নির্ণয় করতে পারছে না। কালো মেঘ তাকে ঢেকে ফেলেছে। সে তার উইন্ডস্ক্রীনের বাইরে কিছু দেখতে পাচ্ছে না, তবুও সে তার যাত্রাপথ নিরাপদে শেষ করতে পারবে বলে নিশ্চিত বোধ করে। তার এই নিশ্চয়তার কারণ কী?
তার কাছে যথার্থ যন্ত্রাদি রয়েছে যা তাকে মেঘের মধ্যে দিয়ে উড়ে যেতে ও অন্ধকারের মধ্যে নিচে নামতে সাহায্য করবে। তার রুট বরাবর, বিশেষ করে বিমানবন্দরের কাছে আলোক-সংকেত তাকে ইলেকট্রনিকের মাধ্যমে পরিচালিত করে আর তার কাছে এয়ার ট্রাফিক কনট্রোলারদের সাথে যোগাযোগের জন্য রেডিও আছে।
তুলনামূলকভাবে, আমরাও আস্থার সাথে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারি, এমনকি যদিও দিনের পর দিন জগৎ পরিস্থিতি ঘন অন্ধকারে পূর্ণ হচ্ছে। এই দুষ্ট পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমাদের যাত্রা হয়ত আশার চাইতে বেশি সময় নিচ্ছে বলে মনে হতে পারে, কিন্তু আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে আমরা সঠিক রাস্তায় ও সঠিক সময়ে রয়েছি। কেন আমরা এতটা নিশ্চিত হতে পারি? কারণ আমাদের কাছে নির্দেশনা রয়েছে, মনুষ্যের দৃষ্টি যা করতে পারে না তা আবিষ্কার করতে আমাদের সাহায্য করে।
ঈশ্বরের বাক্য হল ‘আমাদের পথের আলোক,’ আর এটি “বিশ্বসনীয়, অল্পবুদ্ধির জ্ঞানদায়ক।” (গীতসংহিতা ১৯:৭; ১১৯:১০৫) আলোক-সংকেত যেমন চালকের বিমান পথকে নির্দেশ করে, তেমনি বাইবেল সঠিকভাবে ভবিষ্যতের ঘটনাবলীকে বর্ণনা করে এবং আমরা যে আমাদের গন্তব্যস্থলে নিরাপদে পৌঁছাব তা নিশ্চিত করতে আমাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে থাকে। ঐশিক পরিচালনা থেকে উপকার পেতে হলে আমাদের অবশ্যই এতে আস্থা রাখতে হবে।
ইব্রীয়দের প্রতি তার পত্রে, পৌল যিহূদী খ্রীষ্টানদের ‘আদি হইতে তাহাদের নিশ্চয়জ্ঞান শেষ পর্য্যন্ত দৃঢ় করিয়া ধারণ করিতে’ উপদেশ দিয়েছিলেন। (ইব্রীয় ৩:১৪) আস্থা বিচলিত হতে পারে যদি আমরা ‘দৃঢ় করিয়া’ ধরে না থাকি। তাই প্রশ্ন ওঠে, যিহোবার প্রতি আমাদের দৃঢ় আস্থা কিভাবে আমরা শেষ পর্যন্ত বজায় রাখতে পারি?
আপনার বিশ্বাসের অনুশীলন করুন
সম্পূর্ণরূপে তার যন্ত্রাদি এবং এয়ার-ট্রাফিক কনট্রলারদের উপর নির্ভর করে কলাকৌশলের দ্বারা একজন চালক উড়তে পারার আগে তার যথেষ্ট প্রশিক্ষণ ও বেশ কিছু ঘন্টা যাবৎ উড়ার প্রয়োজন। একইভাবে, একজন খ্রীষ্টানের নিয়মিতভাবে তার বিশ্বাসকে অভ্যাস করা প্রয়োজন যাতে করে যিহোবার পরিচালনার প্রতি সে তার নিশ্চয়তা বজায় রাখতে পারে, বিশেষ করে যখন কষ্টকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। প্রেরিত পৌল লিখেছিলেন: “পরন্তু বিশ্বাসের সেই আত্মা আমাদের আছে, যেরূপ লেখা আছে, ‘আমি বিশ্বাস করিলাম, তাই কথা কহিলাম;’ তেমনি আমরাও বিশ্বাস করিতেছি, তাই কথাও কহিতেছি।” (২ করিন্থীয় ৪:১৩) তাই, যখন আমরা ঈশ্বরের সুসমাচার সম্বন্ধে কথা বলি, তখন আমরা আমাদের বিশ্বাস অভ্যাস করি এবং দৃঢ় করি।
মেগদালেনে, যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে চার বছর কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে কাটিয়েছিলেন, তিনি প্রচার কাজের মূল্য সম্বন্ধে বর্ণনা করেন: “আমার মা আমাকে শিখিয়েছিলেন যে অন্যদের আধ্যাত্মিক মঙ্গলের বিষয়ে চিন্তা করার জন্য দৃঢ় বিশ্বাস বজায় রাখা খুবই প্রয়োজন। আমার একটি ঘটনার কথা মনে আছে যা আমরা কেমন অনুভব করেছিলাম তা চিত্রিত করে। রেভেনব্রুক কনসেনট্রেশন ক্যাম্প থেকে আমাদের ছাড়া পাবার পর আমার মা ও আমি এক শুক্রবারে আমাদের বাড়িতে আসি। তার দুদিন পর, রবিবারে, আমরা গৃহ থেকে গৃহের প্রচারের কাজে ভাইদের সাথে যোগ দিই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আমরা যদি ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাগুলিতে আস্থা রাখতে অন্যদের সাহায্য করার উপর মনোযোগ দিই, তাহলে সেই একই প্রতিজ্ঞাগুলি আমাদের কাছে আরও বাস্তব হবে।”—তুলনা করুন প্রেরিত ৫:৪২.
শেষ পর্যন্ত আমাদের আস্থা বজায় রাখা, অন্যান্য ক্ষেত্রে আধ্যাত্মিক কাজ করার প্রয়োজনীয়তাকে যুক্ত করে। ব্যক্তিগত অধ্যয়ন হল আর একটি উৎকৃষ্ট বিশ্বাস-দৃঢ়কারী অভ্যাস। যদি আমরা বিরয়াবাসীদের অনুকরণ করি এবং অধ্যবসায়ের সাথে প্রতিদিন শাস্ত্র পরীক্ষা করি, তাহলে তা আমাদের “শেষ পর্য্যন্ত প্রত্যাশার পূর্ণতা” রাখতে সাহায্য করবে। (ইব্রীয় ৬:১১; প্রেরিত ১৭:১১) সত্য, ব্যক্তিগত অধ্যয়নের জন্য সময় ও সংকল্পের প্রয়োজন রয়েছে। সম্ভবত, সেই কারণেই পৌল এই ক্ষেত্রে “শিথিল” অথবা অলস হওয়ার বিপদ সম্বন্ধে ইব্রীয়দের সতর্ক করে দিয়েছিলেন।—ইব্রীয় ৬:১২.
জীবনের বহু ক্ষেত্রে আলস্যের মনোভাব হয়ত চরম পরিণতি নিয়ে আসতে পারে। শলোমন দেখেছিলেন যে “হস্তের শৈথিল্যে ঘরে জল পড়ে।” (উপদেশক ১০:১৮) শীঘ্রই অথবা কিছুদিন পরে যত্ন নেওয়া হয়নি এমন ছাদের ফাটল দিয়ে ফোটা ফোটা জল পড়তে শুরু করে। যদি আমরা আধ্যাত্মিকভাবে আমাদের হস্তকে শিথিল হতে দিই ও আমাদের বিশ্বাস বজায় রাখতে ব্যর্থ হই, তাহলে অলক্ষিতেই সন্দেহগুলি হয়ত প্রবেশ করতে পারে। অন্যদিকে, ঈশ্বরের বাক্যের উপর ধ্যান এবং অধ্যয়ন করা, আমাদের বিশ্বাসকে পুষ্টি যোগাবে ও রক্ষা করবে।—গীতসংহিতা ১:২, ৩.
অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আস্থা গড়ে তোলা
অবশ্যই, একজন চালক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ও সেই সাথে অধ্যয়নের মাধ্যমে শেখে যে তার যন্ত্রাদি নির্ভরযোগ্য। একইভাবে, যখন আমরা আমাদের নিজেদের জীবনে তাঁর প্রেমময় যত্নের প্রমাণ দেখতে পাই তখন যিহোবার প্রতি আমাদের আস্থা বৃদ্ধি পায়। যিহোশূয় তা অভিজ্ঞতা করেছিলেন এবং তিনি তার সহ-ইস্রায়েলীয়দের মনে করিয়ে দিয়েছিলেন: “তোমরা সমস্ত অন্তঃকরণে ও সমস্ত প্রাণে ইহা জ্ঞাত হও যে, তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের বিষয়ে যত মঙ্গলবাক্য বলিয়াছিলেন, তাহার মধ্যে একটীও বিফল হয় নাই; তোমাদের পক্ষে সকলই সফল হইয়াছে।” যিহোশূয় ২৩:১৪.
ফিলিপাইনের এক বিবাহিত বোন হোসেফিনা, একই শিক্ষা লাভ করেছিলেন। সত্য জানার আগে জীবন কেমন ছিল তা তিনি ব্যাখ্যা করেন: “আমার স্বামী খুব মদ্যপান করত আর যখন সে মত্ত থাকত, সে রেগে গিয়ে আমাকে প্রহার করত। আমাদের অসুখী বিবাহ আমাদের ছেলেটির উপরও প্রভাব ফেলেছিল। আমি ও আমার স্বামী উভয়েই কাজ করতাম, বেশ ভাল অর্থও উপার্জন করতাম, কিন্তু আমাদের উপার্জনের অধিকাংশই জুয়াখেলায় চলে যেত। আমার স্বামীর অনেক বন্ধুবান্ধব ছিল, কিন্তু তাদের বেশির ভাগ তার বন্ধুত্ব পেতে চাইত এই জন্য যে সে যেন মদ্যপানের জন্য টাকা দেয় আর এমনকি কেউ কেউ কেবলমাত্র তাকে নিয়ে হাসাহাসি করার জন্য তাকে মত্ত করানোর চেষ্টা করত।
“কিন্তু যখন আমরা যিহোবাকে জানতে পারি এবং তাঁর উপদেশ হৃদয়ে গ্রহণ করি তখন বিষয়গুলির পরিবর্তন ঘটে। আমার স্বামী মদ্যপান করা ছেড়ে দেয়, আমরা জুয়াখেলা বন্ধ করে দিই আর আমাদের প্রকৃত বন্ধু আছে যারা আমাদের ভালবাসে ও সাহায্য করে। আমাদের বিবাহ হল এক সুখী বিবাহ এবং আমাদের ছেলেটি এক উত্তম যুবক হিসাবে বড় হচ্ছে। আমরা কম সময় কাজ করি, কিন্তু আমাদের অনেক অর্থ আছে। অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে যে যিহোবা হলেন একজন প্রেমময় পিতার মত, যিনি সর্বদা আমাদের সঠিক দিকে পরিচালনা করেন।”
এয়ার-ট্রাফিক কনট্রোলারদের কাছ থেকে নির্দেশনা অথবা যন্ত্রাদি পরীক্ষা করার ফলে কখনও কখনও চালকেরা উপলব্ধি করে যে তাদের পথ পরিমার্জিত করা প্রয়োজন। একইভাবে, আমাদের হয়ত যিহোবার নির্দেশ অনুযায়ী নির্দেশনা পরিবর্তন করতে হতে পারে। “দক্ষিণে কি বামে ফিরিবার সময়ে তোমার কর্ণ পশ্চাৎ হইতে এই বাণী শুনিতে পাইবে, এই পথ, তোমরা এই পথেই চল।” (যিশাইয় ৩০:২১) তাঁর বাক্য এবং তাঁর সংগঠনের মাধ্যমে আমরা উপদেশ পাই যা আমাদের আধ্যাত্মিক বিপদগুলির বিষয়ে সতর্ক করে দেয়। এইগুলির একটি হল সংসর্গ।
সংসর্গ আমাদের বিপথে নিয়ে যেতে পারে
যদি প্রয়োজনীয় সংশোধন করা না হয়ে থাকে তাহলে একটি ছোট বিমান সহজেই তার নিশানা হারাতে পারে। একইভাবে, বাইরের প্রভাবগুলি আজকের দিনের খ্রীষ্টানদের বারে বারে আঘাত করতে পারে। আমরা মাংসিক-মনোভাবাপন্ন এক জগতে বাস করছি যেখানে অনেকেই আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের প্রতি ব্যঙ্গ করে, অর্থ ও আমোদপ্রমোদের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। পৌল তীমথিয়কে সতর্ক করেছিলেন যে শেষকাল “মোকাবিলা করার পক্ষে কঠিন” হবে। (২ তীমথিয় ৩:১-৫, NW) কিশোর-কিশোরীরা, যারা গ্রহণ ও জনপ্রিয়তার জন্য আকাঙ্ক্ষী, তারা বিশেষ করে কুসংসর্গের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে।—২ তীমথিয় ২:২২.
আমান্ডা, যার বয়স ১৭ বছর, ব্যাখ্যা করে: “কিছু সময়ের জন্য আমার স্কুলের কয়েকটি বন্ধুর প্রভাবের ফলে আমার বিশ্বাস কিছু মাত্রায় দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তারা অনবরত বলে চলত যে আমার ধর্ম নিয়ন্ত্রক এবং অযৌক্তিক আর এটি আমাকে নিরুৎসাহিত করতে শুরু করে। কিন্তু, আমার পিতামাতা আমাকে বুঝাতে সাহায্য করেন যে খ্রীষ্টীয় নির্দেশনাগুলি নিয়ন্ত্রণ করার চাইতে বরঞ্চ রক্ষা করে। এখন আমি উপলব্ধি করি যে এই নীতিগুলি আমাকে আমার প্রাক্তন স্কুলের বন্ধুদের চাইতে আরও সন্তোষজনক জীবন উপভোগ করার জন্য সাহায্য করছে। আমি সেই ব্যক্তিদের প্রতি আস্থা রাখতে শিখেছি যারা প্রকৃতপক্ষে আমার জন্য চিন্তা করে—আমার পিতামাতা এবং যিহোবা—আর আমি অগ্রগামীর কাজ উপভোগ করছি।”
আমরা যুবক অথবা বৃদ্ধ যে বয়সের হয়ে থাকি না কেন, আমরা এমন ধরনের লোকেদের সম্মুখীন হই যারা আমাদের বিশ্বাস সম্বন্ধে অপমানজনক মন্তব্য করে থাকে। তারা হয়ত জাগতিকভাবে জ্ঞানী বলে মনে হয়, কিন্তু ঈশ্বরের কাছে তারা মাংসিক এবং আধ্যাত্মিকতাবিহীন। (১ করিন্থীয় ২:১৪) পৌলের দিনে করিন্থীয়তে একটি প্রভাব বিস্তারকারী দল জাগতিকভাবে-জ্ঞানী, নাস্তিক ছিল। সম্ভবত এইধরনের দার্শনিকদের শিক্ষা করিন্থীয়ের কিছু খ্রীষ্টানকে পুনরুত্থানের প্রতি বিশ্বাস হারাতে পরিচালিত করেছিল। (১ করিন্থীয় ১৫:১২) “ভ্রান্ত হইও না,” প্রেরিত পৌল সতর্ক করে দিয়েছিলেন। “কুসংসর্গ শিষ্টাচার নষ্ট করে।”—১ করিন্থীয় ১৫:৩৩.
অন্যদিকে, উত্তম সংসর্গ আমাদের আধ্যাত্মিকভাবে দৃঢ়তর করে। খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীতে আমাদের সুযোগ রয়েছে, লোকেদের সাথে মেলামেশা করার যারা বিশ্বাসে জীবন যাপন করে। নোরম্যান, একজন ভাই যিনি ১৯৩৯ সালে সত্য শেখেন, তিনি এখনও সকলের কাছে মহান উৎসাহের উৎস। কী তার আধ্যাত্মিক আশাকে প্রগাঢ় করে রেখেছে? “সভাগুলি এবং বিশ্বস্ত ভাইদের সাথে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব হল অত্যাবশ্যকীয়” তিনি উত্তর দেন। “এইধরনের মেলামেশা আমাকে ঈশ্বরের এবং শয়তানের সংগঠনের মধ্যে পরিষ্কার পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করেছে।”
ধনের মায়া
ব্রায়ান, একজন অভিজ্ঞ চালক ব্যাখ্যা করে যে “কখনও কখনও একজন চালকের কাছে তার যন্ত্রাদির প্রতি বিশ্বাস রাখা হয়ত কঠিন বলে মনে হতে পারে—কেবলমাত্র তার সহজাত অমতের জন্য। জানা গেছে যে অভিজ্ঞ সামরিক চালকেরা তাদের বিমানকে উলটোভাবে চালিয়েছে কারণ ভূমির আলোগুলি নক্ষত্রের মত দেখতে লাগে বলে—এমনকি যদিও তাদের যন্ত্রাদি ইঙ্গিত করে যে তাদের চিন্তাধারা সঠিক নয়।”
একইভাবে, আমাদের সহজাত স্বার্থপর প্রকৃতি, আধ্যাত্মিক অর্থে আমাদের ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে। যীশু বলেছিলেন যে ধনের “মায়া” আছে এবং পৌল সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে ‘ধনাসক্তি . . . কতক লোককে বিশ্বাস হইতে বিপথগামী করিয়াছে।’—মার্ক ৪:১৯; ১ তীমথিয় ৬:১০.
মায়াময় ঝিকিমিকি আলোর মত, বস্তুবাদিতামূলক লক্ষ্যগুলি আমাদের ভুল নির্দেশনায় নিয়ে যেতে পারে। “প্রত্যাশিত বিষয়ের” জন্য আনন্দ করার পরিবর্তে আমরা জগতের জমকালো প্রদর্শনের দ্বারা যা বয়ে যাচ্ছে বিপথে চালিত হতে পারি। (ইব্রীয় ১১:১; ১ যোহন ২:১৬, ১৭) যদি আমরা প্রাচুর্যপূর্ণ জীবন-ধারা রাখতে “বাসনা” করি, তাহলে আধ্যাত্মিক বৃদ্ধির জন্য সম্ভবত আমাদের খুব অল্পই সময় থাকবে।—১ তীমথিয় ৬:৯; মথি ৬:২৪; ইব্রীয় ১৩:৫.
প্যাট্রিক নামে একজন অল্পবয়স্ক বিবাহিত ব্যক্তি স্বীকার করে যে আরও উত্তম মানের জীবন উপভোগ করার জন্য সে ও তার স্ত্রী আধ্যাত্মিক লক্ষ্যগুলিকে বিসর্জন দিয়েছিল। সে বর্ণনা করে: “আমরা মণ্ডলীতে যাদের দামি গাড়ি ও বিলাসবহূল বাড়ি আছে তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলাম। যদিও আমরা কখনও রাজ্যের আশা হারাইনি, তবুও আমরা মনে করেছিলাম যে আমাদের জীবন হয়ত আরামপ্রদ হবে। কিন্তু কালক্রমে, আমরা বুঝতে পারি যে যিহোবাকে সেবা করার মাধ্যমে এবং আধ্যাত্মিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া থেকেই প্রকৃত সুখ আসে। এখন আমাদের জীবন আবার সাধারণ। আমরা আমাদের কাজের সময়কে খাপ খাইয়ে নিয়েছি আর আমরা নিয়মিত অগ্রগামী হয়েছি।”
আগ্রহী হৃদয়ের উপর বিশ্বাস নির্ভর করে
যিহোবার প্রতি আস্থা গড়ে তুলতে আগ্রহী হৃদয়ও এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সত্য, “বিশ্বাস প্রত্যাশিত বিষয়ের নিশ্চয়জ্ঞান, [“নিশ্চয়তাদানকারী প্রমাণ,” ফুটনোট] অদৃশ্য বিষয়ের প্রমাণপ্রাপ্তি।” (ইব্রীয় ১১:১, NW) কিন্তু আমাদের আগ্রহী হৃদয় না থাকা পর্যন্ত এটি অসম্ভব যে আমরা নিশ্চিত হব। (হিতোপদেশ ১৮:১৫; মথি ৫:৬) এই কারণে প্রেরিত পৌল বলেছিলেন যে “সকলের বিশ্বাস নাই।”—২ থিষলনীকীয় ৩:২.
তাহলে প্রাপ্য নিশ্চয়তা প্রদানকারী সকল প্রমাণের প্রতি কিভাবে আমাদের হৃদয়কে আমরা আগ্রহী করতে পারি? ঈশ্বরীয় গুণগুলি অর্জন করার দ্বারা, যে গুণগুলি বিশ্বাসকে সমৃদ্ধ ও উদ্দীপিত করে। পিতর ‘আমাদের বিশ্বাসে সদ্গুণ, জ্ঞান, জিতেন্দ্রিয়তা, ধৈর্য্য, ভক্তি, ভ্রাতৃস্নেহ ও প্রেম যোগাতে’ আমাদের উপদেশ দেন। (২ পিতর ১:৫-৭; গালাতীয় ৫:২২, ২৩) অন্যদিকে, যদি আমরা আত্ম-কেন্দ্রিক জীবন যাপন করি এবং নামমাত্র যিহোবার আরাধনা করি, তাহলে আমরা যুক্তিযুক্তভাবে আমাদের বিশ্বাসের বৃদ্ধি আশা করতে পারি না।
যিহোবার বাক্য পড়তে ও তা অভ্যাস করতে ইষ্রা “আপন অন্তঃকরণ সুস্থির করিয়াছিলেন।” (ইষ্রা ৭:১০) মীখারও একইরকম আগ্রহী অন্তঃকরণ ছিল। “আমি সদাপ্রভুর প্রতি দৃষ্টি রাখিব, আমার ত্রাণেশ্বরের অপেক্ষা করিব; আমার ঈশ্বর আমার বাক্য শুনিবেন।”—মীখা ৭:৭.
মেগদালেনে যার কথা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, সেও যিহোবার জন্য ধৈর্যের সাথে অপেক্ষা করে। (হবক্কূক ২:৩) সে বলে: “ইতিমধ্যেই আমাদের আধ্যাত্মিক পরমদেশ রয়েছে। পরবর্তী ধাপ, আক্ষরিক পরমদেশ খুব শীঘ্রই আসবে। মধ্যবর্তী সময়ে হাজার হাজার লোকেরা বিরাট জনতার সাথে যোগ দিচ্ছে। ঈশ্বরের সংগঠনে এত লোক একত্রিত হচ্ছে দেখে আমি শিহরিত হই।”
আমাদের পরিত্রাণের জন্য ঈশ্বরের প্রতি তাকানো
শেষ পর্যন্ত আমাদের দৃঢ় আস্থা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজন যিহোবা ও তাঁর সংগঠন থেকে আমরা যে পরিচালনা পাই তার প্রতি বিশ্বাস অভ্যাস করা এবং মনোযোগসহকারে শোনা। এটি অবশ্যই মূল্যবান প্রচেষ্টা। দীর্ঘ সময়ের কষ্টকর যাত্রার পর যখন সে অবতরণ করে এবং অবশেষে ঘন মেঘ অতিক্রম করে তখন চালক গভীর স্বস্তিবোধ করে। তার সামনে শায়িত থাকে পৃথিবী—সবুজ এবং সম্ভাষণপূর্ণ। এয়ারপোর্ট রানওয়ে, নিচে তাকে গ্রহণ করার জন্য অপেক্ষা করে থাকে।
আমাদের জন্যও এক শিহরণজনক অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করে আছে। এই অন্ধকারময়, দুষ্ট পৃথিবী সরে গিয়ে এক নতুন ধার্মিক জগৎ আসবে। আমাদের জন্য এক ঐশিক সম্ভাষণ অপেক্ষা করে আছে। যদি আমরা গীতরচকের কথাগুলি শুনি, তাহলে আমরা সেখানে পৌঁছাতে পারি: “হে প্রভু সদাপ্রভু, তুমি আমার আশা; তুমি বাল্যকাল হইতে আমার বিশ্বাস ভূমি। . . . আমি সতত তোমারই প্রশংসা করি।”—গীতসংহিতা ৭১:৫, ৬.