জাগতিক ধর্ম কেন শেষ হবে
“হে আমার প্রজাগণ, উহা হইতে বাহিরে আইস, যেন উহার পাপ সকলের সহভাগী না হও, এবং উহার আঘাত সকল যেন প্রাপ্ত না হও।”—প্রকাশিত বাক্য ১৮:৪.
১. (ক) কোন্ অর্থে মহতী বাবিল পড়েছে? (খ) যিহোবার সাক্ষীদের এই ঘটনা কিভাবে প্রভাবিত করেছে?
“পড়িল পড়িল সেই মহতী বাবিল!” হ্যাঁ, যিহোবার দৃষ্টিভঙ্গিতে মিথ্যা ধর্মের বিশ্ব সাম্রাজ্যটি পড়ে গেছে। সেই ১৯১৯ সাল থেকে এটি সত্য হয়েছে, খ্রীষ্টের ভ্রাতাদের অবশিষ্টাংশগণ যখন খ্রীষ্টজগৎ, রহস্যময় বাবিলের এক প্রধান অংশ, তার প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসেছিল। যার ফলে, তারা মিথ্যা ধর্মকে প্রকাশ্যে অভিযুক্ত করতে এবং মশীহ রাজ্যের মাধ্যমে ঈশ্বরের ধার্মিক শাসনের ঘোষণা করতে মুক্ত হয়েছিল। এই শতাব্দীর সর্বসময়ে যিহোবার বিশ্বস্ত সাক্ষীরা শয়তানের হাতের পুতুল ধর্ম সমষ্টির মুখোস খুলে দিয়েছে, যেগুলিকে সে স্বীয় উদ্দেশ্যসাধনে ব্যবহার করেছে “সমস্ত নরলোকের” ভ্রান্তি জন্মাতে।—প্রকাশিত বাক্য ১২:৯; ১৪:৮; ১৮:২.
কিভাবে মহতী বাবিল পড়ে গিয়েছে?
২. জগতের ধর্মের বর্তমান পরিস্থিতি কী?
২ কিন্তু, কেউ হয়ত জিজ্ঞাসা করতে পারে, ‘কিভাবে বলতে পারেন যে বাবিল পড়ে গেছে, যেখানে বহু দেশেই ধর্ম প্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে? ক্যাথলিকবাদ এবং ইসলাম ধর্ম দাবি করে যে তাদের প্রত্যেকের ১০০ কোটিরও উপর বিশ্বাসীরা রয়েছে। প্রোটেস্টান্ট ধর্ম এখনও আমেরিকাতে উন্নতি করছে, যেখানে নতুন গির্জা ও চ্যাপেলগুলি ক্রমাগত গজিয়ে উঠছে। কোটি কোটি লোকে বৌদ্ধধর্ম এবং হিন্দুধর্মের রীতিনীতিগুলি অনুসরণ করছে। কিন্তু, এই সমস্ত ধর্ম শত শত কোটি লোকের আচরণের উপরে কতটা গঠনমূলক প্রভাব বিস্তার করেছে? উত্তর আয়্যারল্যাণ্ডে এটি কি ক্যাথলিক ও প্রোটেস্টান্টদের একে অপরকে হত্যা করা থেকে বিরত করেছে? এটি কি প্রকৃত শান্তি এনেছে মধ্য প্রাচ্যে যিহূদী ও মুসলিমদের মধ্যে? ভারতে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে এটি কি সংহতি নিয়ে এসেছে? আরও, সাম্প্রতিক কালে, এটি কি সার্বিয়ান অর্থোডক্স, ক্রোয়েশিয়ান ক্যাথলিক এবং বসনিয়ান মুসলিমদের “সাম্প্রদায়িক বিলুপ্তিকরণ,” লুণ্ঠন, ধর্ষণ ও একে অপরকে হত্যা করা চালিয়ে যাওয়া থেকে নিবৃত্ত করতে পেরেছে? ধর্ম প্রায়ই হয়েছে শুধু একটি ছাপ মাত্র, ডিমের খোলার মত পাতলা এক আবরণ যা সামান্য চাপেই ভেঙ্গে যায়।—গালাতীয় ৫:১৯-২১; তুলনা করুন যাকোব ২:১০, ১১.
৩. কেন ঈশ্বরের সামনে ধর্মকে বিচার করা হবে?
৩ ঈশ্বরের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, জনসাধারণের দ্বারা ধর্মের এই সমর্থন একটি অবশ্যম্ভাবী সত্যকে পরিবর্তিত করে না—যা হল যে সকল ধর্মই ঈশ্বরের বিচারাধীন। মহতী বাবিল, তার ইতিহাস যা সাক্ষ্য দেয়, প্রতিকূলভাবে বিচার পাওয়ার যোগ্য কারণ “উহার পাপ আকাশ পর্য্যন্ত সংলগ্ন হইয়াছে এবং ঈশ্বর উহার অপরাধ সকল স্মরণ করিয়াছেন।” (প্রকাশিত বাক্য ১৮:৫) ভাববাণীর ভাষায় হোশেয় লিখেছিলেন: “কেননা তাহারা বায়ুরূপ বীজ বপন করে, ঝঞ্ঝারূপ শস্য কাটিবে।” শয়তানের বিশ্বব্যাপী সমস্ত ধর্মগুলি ঈশ্বর, তাঁর প্রেম, তাঁর নাম এবং তাঁর পুত্রকে বিশ্বাসঘাতকতাপূর্বক পরিত্যাগ করার জন্য সর্বাধিক মূল্য দেবে।—হোশেয় ৮:৭; গালাতীয় ৬:৭; ১ যোহন ২:২২, ২৩.
আপনাকে অবশ্যই বেছে নিতে হবে
৪, ৫. (ক) কোন্ পরিস্থিতিতে আমরা এখন বাস করছি? (খ) আমাদের কোন্ প্রশ্নগুলির উত্তর দিতে হবে?
৪ আমরা ‘শেষ কালের’ শেষ ভাগে বাস করছি এবং সত্য খ্রীষ্টীয় হিসাবে এই “বিষম সময়ে” বেঁচে থাকতে আমাদের যুদ্ধ করতে হচ্ছে। (২ তীমথিয় ৩:১-৫) সত্য খ্রীষ্টীয়গণ হল শয়তানের এই জগতের, যা প্রকৃতই এক হত্যাকারী, মিথ্যাবাদী এবং অপবাদকরূপে তার দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তিত্বকে প্রতিফলিত করে তার অস্থায়ী বাসিন্দা। (যোহন ৮:৪৪; ১ পিতর ২:১১, ১২; প্রকাশিত বাক্য ১২:১০) আমরা দৌরাত্ম্য, প্রবঞ্চনা, প্রতারণা, দুর্নীতি এবং চরম অনৈতিকতা দ্বারা বেষ্টিত রয়েছি। সকল নীতিকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে। ভোগসুখের নীতি ও সুযোগগ্রহণ পরিস্থিতির প্রতীক শব্দস্বরূপ হয়েছে। আর বহু ক্ষেত্রেই যাজকশ্রেণী নৈতিক দুর্নীতিকে ক্ষমা করছে সমকামিতা, ব্যভিচার ও পারদারিকতার জন্য বাইবেলের স্পষ্ট দণ্ডাদেশকে জলাঞ্জলি দিয়ে। তাই প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি কি মিথ্যা উপাসনাকে সমর্থন ও ক্ষমা করছেন, অথবা আপনি সক্রিয়ভাবে সত্য উপাসনায় অংশ নিচ্ছেন?—লেবীয় পুস্তক ১৮:২২; ২০:১৩; রোমীয় ১:২৬, ২৭; ১ করিন্থীয় ৬:৯-১১.
৫ এখনই হল এক পৃথকীকরণের সময়। তাই আরও অধিক কারণ রয়েছে মিথ্যা ও সত্য উপাসনার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করার। খ্রীষ্টীয়জগতের ধর্মগুলি আর কী করেছে যা তাদের এত দূষণীয় করে তুলেছে?—মালাখি ৩:১৮; যোহন ৪:২৩, ২৪.
মিথ্যা ধর্ম অভিযুক্ত হয়েছে
৬. খ্রীষ্টীয়জগৎ কিভাবে ঈশ্বরের রাজ্যের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে?
৬ যদিও খ্রীষ্টীয়জগতের কোটি কোটি লোক নিয়মিতরূপে প্রভুর প্রার্থনা ব্যবহার করে, যার মধ্যে তারা ঈশ্বরের রাজ্য আসার জন্য প্রার্থনা করছে, তবুও তারা নিষ্ঠার সাথে ঐ ঐশিক শাসন ব্যতিরেকে, আর সকল প্রকারের রাজনৈতিক অভিব্যক্তিকে সমর্থন করে এসেছে। কিছু শতাব্দী পূর্বে, ক্যাথলিক গির্জার “রাজপুত্রেরা,” যেমন কার্ডিনাল রিচ্লু, ম্যাজারিন্ এবং উল্সে শাসনতন্ত্রের পরিচারক, জাগতিক রাজনীতিবিদরূপেও কাজ করেছিলেন।
৭. ৫০ বছরের বেশি আগে কিভাবে যিহোবার সাক্ষীরা খ্রীষ্টীয়জগতের পাদ্রিবর্গকে উন্মোচন করেছিল?
৭ ৫০ বছরের বেশি আগে, রিলিজ্ন্ রিপ্স দ্যা ওয়ার্লবিন্ড নামক একটি পুস্তিকায় যিহোবার সাক্ষীরা খ্রীষ্টীয়জগতের রাজনীতির সাথে যোগসূত্রকে প্রকাশ করে।a তখন যা বলা হয়েছিল তা একই জোরালতার সাথে আজকে প্রযোজ্য: “সততার সাথে যদি বিভিন্ন ধর্মীয় দলের পাদ্রিবর্গদের আচরণ আমরা পরীক্ষা করি তা প্রকাশ করবে যে ‘খ্রীষ্টীয়জগতের’ ধর্মীয় নেতারা ‘এই বর্তমান মন্দ জগতের’ রাজনীতিতে গভীর আগ্রহের সাথে অংশগ্রহণ করছে এবং জাগতিক বিষয়গুলিতে যোগদান করে।” সেই সময় পোপ পাইয়াস XII কে নাৎসি হিটলার (১৯৩৩) এবং ফ্যাসীবাদী ফ্র্যাঙ্কোর (১৯৪১) সাথে চুক্তি করা এছাড়াও ১৯৪২ সালের মার্চ মাসে কুখ্যাত পার্ল হারবারের আক্রমণের পরে বিরোধী রাষ্ট্র জাপানের সাথে পোপের কূটনীতির প্রতিনিধির রদবদলের জন্য সাক্ষীদের দ্বারা প্রচণ্ডভাবে সমালোচিত হয়েছিল। পোপ যাকোবের সাবধানবাণী মেনে চলতে অসমর্থ হয়েছিলেন: “হে ব্যভিচারিণীগণ, তোমরা কি জান না যে, জগতের মিত্রতা ঈশ্বরের সহিত শত্রুতা? সুতরাং যে কেহ জগতের মিত্র হইতে বাসনা করে, সে আপনাকে ঈশ্বরের শত্রু করিয়া তুলে।”—যাকোব ৪:৪.
৮. কিভাবে রোমান ক্যাথলিক গির্জা আজকে রাজনীতির সাথে জড়িত আছে?
৮ আজকের পরিস্থিতি কিরকম? পোপের পদ এখনও রাজনীতির সাথে সংযুক্ত উভয় পাদ্রিবর্গ এবং তার প্রতিনিধির মাধ্যমে। আধুনিক পোপেরা এটিকে জগতের শান্তির জন্য মনুষ্য নির্মিত নকল হিসাবে বলে রাষ্ট্রসংঘের উপর তাদের অনুমোদনের চিহ্ন দিয়েছে। লোসারভাতোরা রোমানোর সাম্প্রতিক সংখ্যা যা হল ভাটিকানের অফিশিয়াল সংবাদপত্র, ঘোষণা করে যে সাত জন নতুন কূটনীতিজ্ঞ, “পবিত্র পদের প্রতিনিধি,” তাদের পরিচয়পত্র “পবিত্র পিতার” কাছে প্রদান করেন। আমরা কী যীশু এবং পিতরকে এইধরনের কূটনীতি সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে জড়িয়ে থাকতে কল্পনা করতে পারি? যীশু যিহূদীদের দ্বারা রাজা হতে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে তাঁর রাজ্য এই জগতের নয়।—যোহন ৬:১৫; ১৮:৩৬.
৯. কেন আমরা বলতে পারি যে প্রটেস্টান্ট ধর্মগুলি ক্যাথলিক ধর্ম থেকে ভাল নয়?
৯ প্রটেস্টান্ট নেতারা কি তাদের ক্যাথলিক অনুরূপের চেয়ে ভাল? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, অনেক গোঁড়া প্রোটেস্টান্ট ধর্মগুলি এবং মরমন্সরাও কোন না কোন এক রাজনীতি দলের সাথে যুক্ত। খ্রীশ্চান কোয়ালিশন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। অন্যান্য প্রোটেস্টান্ট পাদ্রিবর্গ ভিন্ন রাজনীতির সম্প্রদায়ের সাথে পরিষ্কারভাবে যুক্ত। এটি অনেকসময় ভুলে যাওয়া হয় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের, রাজনৈতিক মুখপাত্র যেমন প্যাট রোবার্টসন এবং জেসি জ্যাকসন ছিল অথবা রয়েছে “রেভেরান্ড” হিসাবে, ঠিক যেমন উত্তর আয়ারল্যান্ডের ব্রিটিশ সংসদ সদস্য ইয়েন পেসলি। কিভাবে তারা তাদের এই পদকে ঠিক বলে প্রমাণ করবে?—প্রেরিত ১০:৩৪, ৩৫; গালাতীয় ২:৬.
১০. ১৯৪৪ সালে কোন্ স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়েছিল?
১০ ঠিক যেমন রিলিজিয়ান রিপ্স দ্যা ওয়ার্লবিন্ড ১৯৪৪ সালে জিজ্ঞাসা করেছিল, আমরা এখন জিজ্ঞাসা করছি: “কোন সংগঠন যা জাগতিক শক্তিগুলির সাথে চুক্তি করে এবং সক্রিয়ভাবে জাগতিক বিষয়গুলি পরিচালনা করে এবং জগতের সুবিধা এবং সুরক্ষা লাভ করে . . . তা কি ঈশ্বরের গির্জা অথবা খ্রীষ্ট যীশুকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে? . . . প্রকৃতরূপে সব ধর্মীয় নেতারা যারা এই জগতের রাজ্যের সাথে একই উদ্দেশ্যে চলে তারা খ্রীষ্ট যীশুর দ্বারা ঈশ্বরের রাজ্যকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে না।”
মিথ্যা ধর্মে কয়িনের আত্মা
১১. কিভাবে মিথ্যা ধর্ম কয়িনের উদাহরণ অনুসরণ করেছে?
১১ সমগ্র ইতিহাসে, মিথ্যা ধর্ম ভ্রাতা হত্যাকারী কয়িনের মত, যে তার নিজের ভাই হেবলকে হত্যা করেছিল তার মত আত্মা দেখিয়েছে। “ইহাতে ঈশ্বরের সন্তানগণ এবং দিয়াবলের সন্তানগণ প্রকাশ হইয়া পড়ে; যে কেহ ধর্ম্মাচরণ না করে, এবং যে ব্যক্তি আপন ভ্রাতাকে প্রেম না করে, সে ঈশ্বরের লোক নয়। কেননা তোমরা আদি হইতে যে বার্ত্তা শুনিয়াছ, তাহা এই, আমাদের পরস্পর প্রেম করা কর্ত্তব্য; কয়িন যেমন সেই পাপাত্মার লোক, এবং আপন ভ্রাতাকে বধ করিয়াছিল, তেমন যেন না হই। আর সে কেন তাঁহাকে বধ করিয়াছিল? কারণ এই যে, তাহার নিজের কার্য্য মন্দ, কিন্তু তাহার ভ্রাতার কার্য্য ধর্ম্মানুযায়ী ছিল।” তার ভাইয়ের শুদ্ধ এবং গ্রহণযোগ্য উপাসনার প্রতি অসিহষ্ণু হয়ে কয়িন দৌরাত্ম্য অবলম্বন করে—এটি হল শেষ পরিণতি যারা যুক্তিপূর্ণভাবে উত্তর দিতে পারে না।—১ যোহন ৩:১০-১২.
১২. যুদ্ধে এবং কলহে ধর্মের দুষ্কর্মে সহযোগিতার কোন্ প্রমাণ রয়েছে?
১২ মিথ্যা ধর্মের বিষয়ে এই অভিযোগটির তথ্যসহ সমর্থন কি রয়েছে? প্রিচার্স প্রেসেন্ট আর্মস নামক বইয়ে লেখক বলেন: “সমাজের ইতিহাসে, . . . দুইটি দল সবসময়ে একত্রে ছিল দ্বৈতভাবে যুক্ত থেকে। তা হল যুদ্ধ এবং ধর্ম। আর, প্রধান জগতের ধর্মের মধ্যে, . . . [খ্রীষ্টীয়জগতের] চাইতে অন্যান্যেরা [যুদ্ধের] প্রতি এতবেশি অনুরক্ত নয়।” কিছু বছর আগে, ভানকুভার, কানাডার দ্যা সান সংবাদপত্র বলে: “এটি সমগ্র সংগঠিত ধর্মের দুর্বলতা যে গির্জা পতাকাকে অনুকরণ করে . . . ঈশ্বরকে কোন পক্ষে দাবি না করে কোন্ যুদ্ধ করা হয়েছে?” আপনি হয়ত এর প্রমাণ আপনার স্থানীয় গির্জায় দেখতে পাবেন। বেশির ভাগ, জাতীয় পতাকা বেদীতে দেখা যায়। কোন্ পতাকার তলায় যীশু কুচ্কাওয়াজ করবেন বলে আপনি মনে করেন? তাঁর বাক্য শতাব্দী ধরে পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে: “আমার রাজ্য এ জগতের নয়।”—যোহন ১৮:৩৬.
১৩. (ক) আফ্রিকাতে মিথ্যা ধর্ম কিভাবে ব্যর্থ হয়েছে? (খ) যীশু খ্রীষ্ট খ্রীষ্টতত্ত্বের কোন্ শনাক্তিকরণ চিহ্ন দিয়েছিলেন?
১৩ খ্রীষ্টীয়জগতের ধর্মগুলি তাদের পালকে প্রকৃত ভ্রাতৃ প্রেম শেখায়নি। পরিবর্তে, জাতিগত, উপজাতিগত এবং সম্প্রদায়গত বিবাদ তাদের সদস্যদের বিভাজিত করতে অনুমোদন দিয়েছে। রিপোর্ট দেখায় যে ক্যাথলিক এবং অ্যাংলিকান পাদ্রিবর্গ বিভক্তিকরণে ভূমিকা পালন করেছে যার ফলবশতঃ রুয়ান্ডাতে উপজাতিগত বিলুপ্তিকরণ ঘটে। দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস রিপোর্ট করে: “রুয়ান্ডায় হত্যা, সেখানকার অনেক রোমান ক্যাথলিকেরা মনে করে যে যাজকবর্গ তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। গির্জা বেশির ভাগ সম্প্রদায়ের দিক দিয়ে বিভক্ত যেমন হূটু এবং টুট্সি।” একই সংবাদপত্রে একজন মেরিনোল পাদ্রি এইভাবে বলেন: “১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডাতে গির্জা খুব খারাপভাবে ব্যর্থ হয়। অনেক রুয়াণ্ডাবাসী গির্জাকে একভাবে ভুলে গেছে। এটির কোন আর মূল্য নেই।” যীশুর কথাগুলির পরিপ্রেক্ষিতে কতই না বৈসাদৃশ্য: “তোমরা যদি আপনাদের মধ্যে পরস্পর প্রেম রাখ, তবে তাহাতেই সকলে জানিবে যে, তোমরা আমার শিষ্য।”—যোহন ১৩:৩৫.
১৪. আচরণ সম্বন্ধে ন-খ্রীষ্টীয় ধর্ম কোন্ বিবরণ প্রদান করে?
১৪ মহতী বাবিলের অন্যান্য ধর্মগুলি এর থেকে ভাল উদাহরণ স্থাপন করেনি। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তিকরণের সময়ে ঘৃণার্হ হত্যাগুলি দেখায় যে সেখানকার প্রধান ধর্মগুলি সহিষ্ণুতা দেখায়নি। ভারতে অনবরত সাম্প্রদায়িক দৌরাত্ম্য দেখায় যে বেশির ভাগ লোকেদের মধ্যে পরিবর্তন হয়নি। তাই অবাক হওয়ার বিষয় নয় যখন ইন্ডিয়া টুডে এই পরিসমাপ্তিতে আসে যে: “ধর্ম হল একটি নাম যার অন্তরালে সবচেয়ে নৃশংস অপরাধ করা হয়েছে। . . . এটি অতীব মাত্রায় দৌরাত্ম্য নিয়ে আসে এবং খুব ধ্বংসকারী এক শক্তি।”
“উল্লেখযোগ্য কূটাভাস”
১৫. পাশ্চাত্য দেশে ধর্মের পরিস্থিতি কিরকম?
১৫ এমনকি জাগতিক মন্তব্যকারীরা ধর্মের যুক্তি, প্রকৃত মূল্যবোধ এবং সমাজতন্ত্রের প্রবেশ প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রাক্তন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা জুবেগনেফ ব্রাজিনস্কি তার আউট অফ কন্ট্রোল নামক বইয়ে লেখেন: “এটি এক উল্লেখযোগ্য কূটাভাস যে, ‘ঈশ্বর মৃত’ প্রস্তাবটি তার সবচেয়ে বড় জয়লাভ মার্ক্সবাদ-প্রভুত্বকারী দেশগুলিতে করেনি, . . . কিন্তু পাশ্চাত্য উদার গণতন্ত্র দেশগুলিতে যেখানে সংস্কৃতির ক্ষেত্রে নৈতিক অনীহাকে প্রতিপালন করেছে সেখানে করেছে। পাশ্চাত্য দেশগুলিতে ধর্ম মুখ্য সামাজিক শক্তি হিসাবে বিলুপ্ত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন: “ইউরোপিয়ান সংস্কৃতির উপর ধর্মের প্রভাব অনেকখানি কমে গেছে আর ইউরোপে আজকে—এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে আরও বেশি—মূলত ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ।”
১৬, ১৭. (ক) তাঁর দিনের ধর্মীয় নেতাদের সম্বন্ধে কী উপদেশ যীশু দিয়েছিলেন? (খ) ফল সম্বন্ধে কোন্ উত্তম নীতি যীশু ব্যক্ত করেছিলেন?
১৬ যীশু তাঁর দিনের যিহূদী ধর্মীয় নেতাদের সম্বন্ধে কী বলেছিলেন? “অধ্যাপক ও ফরীশীরা [তোরাহ, অর্থাৎ নিয়ম শিক্ষা দিতে] মোশির আসনে বসে। অতএব তাহারা তোমাদিগকে যাহা কিছু বলে, তাহা পালন করিও, মানিও, কিন্তু তাহাদের কর্ম্মের মত কর্ম্ম করিও না; কেননা তাহারা বলে, কিন্তু করে না।” হ্যাঁ ধর্মীয় কপটতা কোন নতুন বিষয় নয়।—মথি ২৩:২, ৩.
১৭ মিথ্যা ধর্মের ফল এটিকে নিন্দা করে। তাই যীশুর প্রদত্ত নিয়ম কত ভালভাবেই না প্রয়োগ করা যায়: “প্রত্যেক ভাল গাছে ভাল ফল ধরে, কিন্তু মন্দ গাছে মন্দ ফল ধরে। ভাল গাছে মন্দ ফল ধরিতে পারে না, এবং মন্দ গাছে ভাল ফল ধরিতে পারে না। যে কোন গাছে ভাল ফল ধরে না, তাহা কাটিয়া আগুনে ফেলিয়া দেওয়া যায়। অতএব তোমরা উহাদের ফল দ্বারাই উহাদিগকে চিনিতে পারিবে।”—মথি ৭:১৭-২০.
১৮. খ্রীষ্টীয়জগৎ কিভাবে তার সদস্যদের পরিষ্কার রাখতে পারত?
১৮ যারা তাদের সদস্য বলে দাবি করে তাদের সকল মন্দ কাজগুলির জন্য যদি খ্রীষ্টীয়জগতের ধর্মগুলি বিবেকবুদ্ধিচালিতভাবে সমাজচ্যুত অথবা বহিষ্কৃত করার যে খ্রীষ্টীয় শাসন তা প্রয়োগ করত তাহলে কী হত? অননুতপ্ত মিথ্যাবাদী, ব্যভিচারী, পারদারিক, সমকামী, চোর, অপরাধী, ড্রাগ ব্যবসায়ী এবং সংগঠিত অপরাধীর সদস্যদের কী হবে? প্রশ্নাতীতরূপে, খ্রীষ্টীয়জগতের মন্দ ফল ঈশ্বরের দ্বারা ধ্বংস করার উপযুক্ত।—১ করিন্থীয় ৫:৯-১৩; ২ যোহন ১০, ১১.
১৯. ধর্মীয় পরিচালকদের সম্বন্ধে কী স্বীকার করা হয়েছে?
১৯ যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসবিটেরিয়ান গির্জার সাধারণ সভা স্বীকার করে: “আমরা এমন এক সংকটকালের সম্মুখীন যা পরিমাণে এবং প্রভাবে অত্যন্ত খারাপ . . . সারা দেশব্যাপী ১০ থেকে ২৩ শতাংশ পাদ্রিরা যৌন সংক্রান্ত ব্যবহার অথবা গির্জার সদস্য, মক্কেল, কর্মীদের সাথে যৌন ক্রিয়া ইত্যাদিতে লিপ্ত হয়েছে। এক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী এই বিষয়টি খুব ভাল করে পরিসমাপ্তি করেন: “ধর্মীয় কার্যালয় তাদের ঐতিহাসিক মূল্যবোধ প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
২০, ২১. (ক) যীশু এবং পৌল কিভাবে ভণ্ডামীর নিন্দা করেছিলেন? (খ) কোন্ প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়া বাকি রইল?
২০ ধর্মীয় কপটতার প্রতি যীশুর ভর্ৎসনা আজকের দিনেও সত্য: “কপটীরা, যিশাইয় তোমাদের বিষয়ে বিলক্ষণ ভাববাণী বলিয়াছেন, ‘এই লোকেরা ওষ্ঠাধরে আমার সমাদর করে, কিন্তু ইহাদের অন্তঃকরণ আমা হইতে দূরে থাকে; এবং ইহারা অনর্থক আমার আরাধনা করে, মনুষ্যদের আদেশ ধর্ম্মসূত্র বলিয়া শিক্ষা দেয়।’” (মথি ১৫:৭-৯) তীতের প্রতি পৌলের বাক্যগুলি আজকের আধুনিক পরিস্থিতিকে বর্ণনা করে: “তাহারা স্বীকার করে যে, ঈশ্বরকে জানে, কিন্তু কার্য্যে তাঁহাকে অস্বীকার করে; তাহারা ঘৃণাস্পদ ও অবাধ্য এবং সমস্ত সৎক্রিয়ার পক্ষে অপ্রামাণিক।”—তীত ১:১৬.
২১ যীশু বলেছিলেন যে যদি অন্ধ অন্ধকে পথ দেখায় উভয়েই গর্তে পড়বে। (মথি ১৫:১৪) আপনি কি মহতী বাবিলের সাথে শেষ হতে চান? অথবা আপনি চোখ খুলে সোজা পথে চলতে এবং যিহোবার আশীর্বাদ উপভোগ করতে চান? তাই এখন আমাদের সামনে প্রশ্ন হল: কোন্ ধর্ম, তা যদি থেকে থাকে, ঈশ্বরীয় ফল উৎপাদন করে? কিভাবে আমরা ঈশ্বরের প্রতি গ্রহণযোগ্য উপাসনা শনাক্ত করতে পারি?—গীতসংহিতা ১১৯:১০৫.
[পাদটীকাগুলো]
a ১৯৪৪ সালে ওয়াচটাওয়ার বাইবেল অ্যান্ড ট্র্যাক্ট সোসাইটি দ্বারা প্রকাশিত; এখন আর ছাপা হয় না।
আপনার কি মনে আছে?
◻ ঈশ্বরের সামনে মহতী বাবিলের বর্তমান পরিস্থিতি কী?
◻ কোন্ ভিত্তিতে মিথ্যা ধর্মকে অভিযোগ করা হয়েছে?
◻ কিভাবে মিথ্যা ধর্ম কয়িনের আত্মা দেখিয়েছে?
◻ কোন ধর্মকে বিচার করার বিষয়ে যীশু কোন্ নীতি ব্যক্ত করেছিলেন?
[১৩ পৃষ্ঠার চিত্র]
সমগ্র ইতিহাসে ধর্মীয় নেতারা রাজনীতিতে জড়িত হয়েছে
[১৫ পৃষ্ঠার চিত্র]
এই পাদ্রিবর্গের সদস্যেরা শক্তিশালী কূটনীতিজ্ঞও ছিলেন
কার্ডিনাল মাজারিন
কার্ডিনাল রিচলিউ
কার্ডিনাল উলসি
[চিত্র সৌজন্যে]
Cardinal Mazarin and Cardinal Richelieu: From the book Ridpath’s History of the World (Vol. VI and Vol. V respectively). Cardinal Wolsey: From the book The History of Protestantism (Vol. I).