ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৫ ১০/১৫ পৃষ্ঠা ২৯-৩১
  • আত্ম-ধার্মিকতা—সম্বন্ধে সতর্ক থাকুন!

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • আত্ম-ধার্মিকতা—সম্বন্ধে সতর্ক থাকুন!
  • ১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • এক উন্নাসিক মনোভাব
  • “বিচার করিও না”
  • ভুলভাবে পরিচালিত উদ্যোগ
  • ঈশ্বর নম্রদের অনুগ্রহ করেন
  • “তোমরা ফরীশীদের তাড়ী হইতে সাবধান থাক”
    ২০১২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • “আমার কাছে শিক্ষা কর”
    ২০০১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • প্রথমে “তাঁহার ধার্ম্মিকতার” বিষয়ে চেষ্টা করুন
    ২০১০ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • প্রার্থনার ও বিনয়ী হওয়ার প্রয়োজন
    সর্বমহান পুরুষ যিনি কখনও জীবিত ছিলেন
আরও দেখুন
১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৫ ১০/১৫ পৃষ্ঠা ২৯-৩১

আত্ম-ধার্মিকতা—সম্বন্ধে সতর্ক থাকুন!

প্রথম শতাব্দীতে ঈশ্বরের ধার্মিক উপাসক হিসাবে ফরীশীরা এক উত্তম সুনাম উপভোগ করত। তারা শাস্ত্রের আন্তরিক ছাত্র ছিল আর প্রায়ই প্রার্থনা করত। কিছু লোক তাদের অমায়িক ও যুক্তিবাদী বলে মনে করত। যিহূদী ইতিহাসবেত্তা যোসিফাস লিখেছিলেন: “ফরীশীরা একে অপরের প্রতি প্রেম প্রদর্শন করে থাকে এবং সমাজের মধ্যে একতার সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে।” এটা কোন আশ্চর্যের বিষয় নয় যে সম্ভবত সেই সময় যিহূদী সমাজে এরাই ছিল সবচাইতে সম্মানীয় ব্যক্তিবিশেষ!

কিন্তু, আজকের দিনে এই “ফরীশীয়” শব্দটি ও তার সাথে সম্বন্ধযুক্ত অভিব্যক্তিগুলি হল অসম্মানজনক, কৃত্রিম পবিত্রতা, আত্ম-ধার্মিকতা, অতিরিক্ত সাধুতা, বিশুদ্ধতা এবং দায়সারা কর্মের সাথে যুক্ত। কেন ফরীশীরা তাদের সুনামকে হারায়?

এর কারণ হল এই যে অন্যান্য অধিকাংশ যিহূদীদের মত যীশু খ্রীষ্ট কিন্তু ফরীশীদের বাহ্যিক রূপের দ্বারা বিভ্রান্ত হননি। তিনি তাদের “চূণকাম করা কবরের তুল্য; তাহা বাহিরে দেখিতে সুন্দর বটে, কিন্তু ভিতরে মরা মানুষের অস্থি ও সর্ব্বপ্রকার অশুচিতা ভরা” বলে তুলনা করেছিলেন।—মথি ২৩:২৭.

এটা সত্য যে তারা চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে দীর্ঘ প্রার্থনা করত, কিন্তু কেবলমাত্র অপরকে দেখানোর জন্যই তারা তা করত যেমন যীশু বলেছিলেন। তাদের উপাসনা শুধুমাত্র শব্দের ধাঁধাঁ ছিল। তারা সান্ধ্যভোজে প্রধান স্থান এবং সমাজগৃহের প্রথম আসনগুলিকে ভালবাসত। যদিও সব যিহূদীরা ঝালর সমেত বস্ত্র পরতে বাধ্য ছিল, কিন্তু লোকেদের মনে প্রভাব ফেলার জন্য ফরীশীরা অতি লম্বা ঝালর সমেত বস্ত্র পরত। তাদের সম্প্রসারিত শাস্ত্র মাদুলির আকারে পরিধান করার দ্বারা তা প্রকাশ করতে তারা গর্ববোধ করত। (মথি ৬:৫; ২৩:৫-৮) তাদের ভণ্ডামী, তাদের লোভ এবং তাদের একরোঁখামি পরিশেষে তাদের মর্যাদার হানি ঘটায়।

ফরীশীদের উদ্দেশ্যে ঈশ্বরের প্রত্যাখ্যানের কথা যীশু উল্লেখ করেন: “কপটীরা, যিশাইয় তোমাদের বিষয় বিলক্ষণ ভাববাণী বলিয়াছেন, ‘এই লোকেরা ওষ্ঠাধরে আমার সমাদর করে, কিন্তু ইহাদের অন্তঃকরণ আমা হইতে দূরে থাকে; এবং ইহারা অনর্থক আমার আরাধনা করে, মনুষ্যদের আদেশ ধর্ম্মসূত্র বলিয়া শিক্ষা দেয়।’” (মথি ১৫:৭-৯) তাদের ধার্মিকতা প্রকৃতপক্ষে ছিল আত্ম-ধার্মিকতা। এটা যুক্তিযুক্ত যে, যীশু তাঁর শিষ্যদের সতর্ক করে দেন: “ফরীশীদের তাড়ী হইতে সাবধান থাক।” (লূক ১২:১) আজকে আমাদেরও উচিত আত্ম-ধার্মিকতা সম্বন্ধে “সাবধান” থাকা অথবা ধর্মীয় ভণ্ড হওয়া থেকে নিজেদের রক্ষা করা।

এটা করার দ্বারা আমাদের স্বীকার করা উচিত যে একজন ব্যক্তি রাতারাতি আত্ম-ধার্মিক হয়ে যায় না। বরঞ্চ এই প্রবণতাটি ক্রমাগতভাবে অনেকদিন ধরে গড়ে উঠতে থাকে। এমনকি অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়ত একজন ব্যক্তি ফরীশীদের এই অবাঞ্ছিত গুণগুলি অর্জন করতে পারে।

এক উন্নাসিক মনোভাব

কিধরনের কয়েকটি লক্ষণ রয়েছে যার সম্বন্ধে আমাদের “সাবধান” থাকতে হবে? আত্ম-ধার্মিক ব্যক্তিবিশেষেরা সাধারণত “এমনভাবে কথা বলে, দাঁড়ায় ও দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে, যেন তারা কখনও কোন ভুল করেনি,” এনসাইক্লোপিডিয়া অফ রিলিজিয়ন অ্যান্ড এথিকস্‌ ব্যাখ্যা করে। এছাড়া আত্ম-ধার্মিক লোকেরা গর্বিতমনা ও নিজেদের উন্নতি বর্ধনেরও চেষ্টা করে থাকে, যা ছিল ফরীশীদের প্রধান সমস্যা।

যীশু এই ফরীশীয় মনোভাবকে একটি দৃষ্টান্তের দ্বারা বর্ণনা করেন: “দুই ব্যক্তি প্রার্থনা করিবার জন্য ধর্ম্মধামে গেল; এক জন ফরীশী, আর এক জন করগ্রাহী। ফরীশী দাঁড়াইয়া আপনা আপনি এইরূপ প্রার্থনা করিল, হে ঈশ্বর, আমি তোমার ধন্যবাদ করি যে, আমি অন্য সকল লোকের—উপদ্রবী, অন্যায়ী ও ব্যভিচারীদের—মত কিম্বা ঐ করগ্রাহীর মত নহি; আমি সপ্তাহের মধ্যে দুই বার উপবাস করি, সমস্ত আয়ের দশমাংশ দান করি।” কিন্তু এর বিপরীতে সেই করগ্রাহীটি নম্রতার সাথে তার দোষ স্বীকার করে এবং সেই গর্বিত ফরীশীর চাইতে অনেক ধার্মিক প্রমাণিত হয়। যীশু এই দৃষ্টান্ত তাদের উদ্দেশ্যে দেন “যাহারা আপনাদের উপরে বিশ্বাস রাখিত, মনে করিত যে, তাহারাই ধার্ম্মিক, এবং অন্য সকলকে হেয়জ্ঞান করিত।”—লূক ১৮:৯-১৪.

অসিদ্ধ মানুষ হিসাবে আমরাও হয়ত অনেক সময় আমাদের নিজেদের সহজাত ক্ষমতা অথবা সুযোগসুবিধাগুলির জন্য অন্যের চাইতে নিজেদের একটু বেশি উৎকৃষ্ট বলে মনে করতে পারি। কিন্তু খ্রীষ্টানদের সঙ্গে সঙ্গে এইধরনের চিন্তাধারাকে সরিয়ে ফেলা উচিত। আমাদের হয়ত খ্রীষ্টীয় জীবনধারণ করার ক্ষেত্রে অনেক বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আপনি হয়ত এক দক্ষ বাইবেল শিক্ষক। অথবা আপনি হয়ত দাবি করেন যে স্বর্গে খ্রীষ্টের সাথে শাসন করার জন্য আপনাকে অভিষিক্ত করা হয়েছে। মণ্ডলীতে কয়েকজন হয়ত পূর্ণ-সময়ের পরিচারক, প্রাচীন অথবা পরিচারক দাস হিসাবে বিশেষ সুযোগগুলি উপভোগ করেন। নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, ‘যিহোবা কী মনে করবেন, যদি আমি তাঁর দেওয়া সুযোগগুলিকে ব্যবহার করি অপরের তুলনায় নিজেকে উৎকৃষ্ট করে দেখার ভিত্তি হিসাবে?’ অবশ্যই এটা তাঁকে অসন্তুষ্ট করবে।—ফিলিপীয় ২:৩, ৪.

যখন একজন খ্রীষ্টান তার ঈশ্বর-দত্ত ক্ষমতা, সুযোগগুলি অথবা কর্তৃত্বের জন্য উন্নাসিক মনোভাব প্রদর্শন করে তখন সে ঈশ্বরকে সেই মহিমা ও কৃতিত্বের থেকে বঞ্চিত করছে যা শুধু তাঁরই প্রাপ্য। বাইবেল পরিষ্কারভাবে খ্রীষ্টানদের উপদেশ দেয় “আপনার বিষয়ে যেমন বোধ করা উপযুক্ত, কেহ তদপেক্ষা বড় বোধ না করুক।” এটি উৎসাহ দেয়: “তোমরা পরস্পরের প্রতি একমনা হও, উচ্চ উচ্চ বিষয় ভাবিও না, কিন্তু অবনত বিষয় সকলের সহিত আকর্ষিত হও। আপনাদের জ্ঞানে বুদ্ধিমান্‌ হইও না।”—রোমীয় ১২:৩, ১৬.

“বিচার করিও না”

একটি বাইবেল এনসাইক্লোপিডিয়া অনুসারে একজন আত্ম-ধার্মিক ব্যক্তি “নিজেকে নৈতিকভাবে ন্যায়পরায়ণ অথবা ঈশ্বরের সামনে সঠিক মান আছে বলে মনে করে কারণ সে আসল উদ্দেশ্যকে উপেক্ষা করে নিয়মের পত্রটি পালন করে থাকে।” আরেকটি গ্রন্থ আত্ম-ধার্মিকদের এমন ব্যক্তি হিসাবে বর্ণনা করে যারা “অতিশয় ধার্মিক লোক এবং যারা তাদের সমস্ত সময় অপরের দোষ খুঁজতে ব্যয় করে।”

ফরীশীরা এই বিষয়ে দোষী ছিল। কালক্রমে আপাতদৃষ্টিতে তাদের মনুষ্য-নির্মিত নিয়মগুলি ঈশ্বরের নিয়ম ও নীতিগুলির চাইতে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। (মথি ২৩:২৩; লূক ১১:৪১-৪৪) তারা নিজেরাই নিজেকে বিচারক মনোনয়ন করত এবং যে কেউ তাদের আত্মি-ধার্মিক মান অনুসারে না চলত তাদের তারা তিরস্কার করত। তাদের উন্নাসিক মনোভাব এবং অতিরঞ্জিত আত্মসম্মানবোধ প্ররোচিত করে অন্য লোকেদের নিয়ন্ত্রণ করতে। যেহেতু তারা যীশুকে নিয়ন্ত্রণে আনতে অসমর্থ হয়, তাই তারা তাঁকে হত্যা করার চক্রান্ত করে।—যোহন ১১:৪৭-৫৩.

সেই সব ব্যক্তিদের সংস্পর্শে থাকা কতই না দুঃখজনক হয়ে ওঠে, যারা নিজেদের বিচারকের স্থানে বসায় এবং সবসময় তাদের চারপাশে প্রত্যেকের ভুলগুলিকে নিয়ে সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করে। প্রকৃতপক্ষে, মণ্ডলীতে কারও অধিকার নেই অপরের উপর নিজেদের চিন্তাধারা ও আত্ম-সৃষ্ট নিয়মগুলি চাপিয়ে দেওয়া। (রোমীয় ১৪:১০-১৩) ভারসাম্য বজায় রাখে এমন খ্রীষ্টানেরা স্বীকার করেন যে দৈনন্দিন জীবনের অনেক দিক আছে যা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের আওতায় পড়ে। বিশেষকরে যাদের নিখুঁত হওয়ার প্রতি ও খুব বেশি আশা করার প্রবণতা আছে তাদের অবশ্যই অপরকে বিচার করা এড়িয়ে চলতে হবে।

এটা সত্য যে, নির্দেশাবলি দেওয়ার অধিকার খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর আছে আর এর ফলে যিহোবার পার্থিব সংগঠন সঠিকভাবে এগিয়ে চলতে পারছে। (ইব্রীয় ১৩:১৭) কিন্তু কিছু ব্যক্তি এই নির্দেশাবলিকে বিকৃত করেছে অথবা এর সাথে নিজেদের নিয়মগুলিকে যোগ দিয়েছে। একটি অঞ্চলে ঐশিক পরিচর্যা বিদ্যালয়ে বক্তৃতা দেওয়ার সময় সমস্ত ছাত্রদের সুট ও জ্যাকেট বোতাম লাগিয়ে পরতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়। কোন ছাত্র যদি তা না করে তাহলে ভবিষ্যতে বক্তৃতা দেওয়ার যোগ্যতা সে হারাবে। এইধরনের কঠোর নিয়ম বলবৎ করার চাইতে, এটা কি অনেক যুক্তিযুক্ত হবে না যে ঈশ্বরের বাক্যের উদ্দেশ্যের সাথে মিল রেখে, প্রেমের সাথে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সাহায্য প্রদান করা?—যাকোব ৩:১৭.

আত্ম-ধার্মিকতা এই চিন্তাধারাও সৃষ্টি করে যে যদি কোন খ্রীষ্টান অতিরিক্ত কোন ব্যক্তিগত সমস্যায় জড়িয়ে পড়ে, তাহলে সে নিশ্চয়ই আত্মিকভাবে দুর্বল। এটাই আত্ম-ধার্মিক ভাবাপন্ন ব্যক্তি যেমন ইলীফস, বিল্‌দদ ও সোফর বিশ্বস্ত ইয়োবের সম্বন্ধে ভেবেছিলেন। তারা পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণভাবে বুঝতে পারেননি, অতএব তাদের উচিত হয়নি ইয়োবকে অন্যায়কারী হিসাবে দোষী সাব্যস্ত করা। ইয়োবের এই পরীক্ষাকে বিকৃতভাবে মূল্যায়ন করার জন্য যিহোবা তাদের শাসন করেন।—দেখুন ইয়োব ৪, ৫, ৮, ১১, ১৮, ২০ অধ্যায়।

ভুলভাবে পরিচালিত উদ্যোগ

প্রায়ই আত্ম-ধার্মিকতা ও উদ্যোগ একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত থাকে। প্রেরিত পৌল সেই ধার্মিকভাবাপন্ন যিহূদীদের কথা বলেন যাদের “ঈশ্বরের বিষয়ে তাহাদের উদ্যোগ আছে, কিন্তু তাহা জ্ঞানানুযায়ী নয়। ফলতঃ ঈশ্বরের ধার্ম্মিকতা না জানায়, এবং নিজ ধার্ম্মিকতা স্থাপন করিবার চেষ্টা করায়, তাহারা ঈশ্বরের ধার্ম্মিকতার বশীভূত হয় নাই।” (রোমীয় ১০:২, ৩) একজন ফরীশী হিসাবে পৌল নিজেও অত্যন্ত উদ্যোগী ছিলেন, যদিও ভুলভাবে তার এই উদ্যোগ পরিচালিত হয়েছিল, যিহোবার ধার্মিকতার উপর ভিত্তি করে নয়।—গালাতীয় ১:১৩, ১৪; ফিলিপীয় ৩:৬.

যথার্থভাবে বাইবেল উপদেশ দেয়: “অতি ধার্ম্মিক হইও না, ও আপনাকে অতিশয় জ্ঞানবান দেখাইও না; কেন আপনাকে নষ্ট করিবে?” (উপদেশক ৭:১৬) মণ্ডলীতে একজন খ্রীষ্টান হয়ত আন্তরিকভাবে তার কাজ শুরু করতে পারে, কিন্তু তার এই আন্তরিকতা ও উদ্যোগ হয়ত আত্ম-ধার্মিকতার রূপ ধারণ করতে পারে। যিহোবার ধার্মিকতার দ্বারা পরিচালিত না হয়ে যখন মানুষের প্রজ্ঞার দ্বারা পরিচালিত হয়, তখন সেই ধর্মীয় উদ্যোগ অপরকে দুঃখ দিতে পারে। কিভাবে?

উদাহরণস্বরূপ, পিতামাতারা হয়ত অপরের আধ্যাত্মিক চাহিদা নিয়ে এত ব্যস্ত থাকতে পারেন যে যার ফলে তাদের নিজের পরিবারের চাহিদাগুলি উপেক্ষা করে ফেলেন। অথবা পিতামাতারা অত্যন্ত উদ্যোগী হওয়ার ফলে তারা তাদের সন্তানদের কাছ থেকে সাধ্যের অতিরিক্ত দাবি করতে পারেন। (ইফিষীয় ৬:৪; কলসীয় ৩:২১) কিছু সন্তানেরা, এই অযৌক্তিক চাহিদার প্রতি সাড়া দিতে ব্যর্থ হওয়ার ফলে দ্বৈত জীবন যাপন করতে শুরু করে। এক যুক্তবাদী পিতা বা মাতা তার পরিবারের ক্ষমতাটি বিবেচনা করবেন এবং সেই অনুসারে রদবদল করবেন।—তুলনা করুন আদিপুস্তক ৩৩:১২-১৪.

এছাড়াও অতিরিক্ত উদ্যোগ আমাদের কৌশলতা, সহানুভূতি ও কোমলতার থেকে বঞ্চিত করতে পারে যা অপরের সাথে ব্যবহারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রয়োজন। একজন ব্যক্তি রাজ্যের আগ্রহকে প্রথম স্থান দেওয়ার জন্য হয়ত কঠোর পরিশ্রম করতে পারে। কিন্তু, তার অতিরিক্ত উদ্যোগের প্রকাশ হয়ত অপরকে আঘাত করতে পারে। পৌল বলেছিলেন: “যদি ভাববাণী প্রাপ্ত হই, ও সমস্ত নিগূঢ়তত্ত্বে ও সমস্ত জ্ঞানে পারদর্শী হই, এবং যদি আমার সম্পূর্ণ বিশ্বাস থাকে যাহাতে আমি পর্ব্বত স্থানান্তর করিতে পারি, কিন্তু আমার প্রেম না থাকে, তবে আমি কিছুই নহি। আর যথাসর্ব্বস্ব যদি দরিদ্রদিগকে খাওয়াইয়া দিই, এবং পোড়াইবার জন্য আপন দেহ দান করি, কিন্তু আমার প্রেম না থাকে, তবে আমার কিছুই লাভ নাই।”—১ করিন্থীয় ১৩:২, ৩.

ঈশ্বর নম্রদের অনুগ্রহ করেন

খ্রীষ্টান হিসাবে আমাদের প্রয়োজন আত্ম-ধার্মিকতা গড়ে ওঠার আগে তা শনাক্ত করা। আমাদের উন্নাসিক মনোভাব, অপরকে বিচার করার অভ্যাস এবং মানুষের প্রজ্ঞার উপর ভিত্তি করা অন্ধ উদ্যোগ এড়িয়ে চলতে হবে।

ফরীশীয় মনোভাব সম্বন্ধে “সাবধান” থাকার সাথে সাথে, অপরকে আত্ম-ধার্মিক হিসাবে বিচার না করে নিজেদের মনোভাব ও প্রবণতাগুলির প্রতি দৃষ্টি আরোপ করা উত্তম হবে। এটা সত্য যে, যীশু ফরীশীদের বিচার করেছিলেন এবং তাদের “সর্পের বংশ” বলে তিরস্কার করেছিলেন যারা অনন্ত ধ্বংসের যোগ্য। কিন্তু যীশু লোকেদের হৃদয় পড়তে পারতেন। আমরা তা পারি না।—মথি ২৩:৩৩.

আসুন আমরা ঈশ্বরের ধার্মিকতার অনুধাবন করি, নিজেদের নয়। (মথি ৬:৩৩) তখনই আমরা যিহোবার অনুগ্রহ পাবো, কারণ বাইবেল আমাদের সকলকে উপদেশ দেয়: “এক জন অন্যের সেবার্থে নম্রতায় কটিবন্ধন কর, কেননা ‘ঈশ্বর অহঙ্কারীদের প্রতিরোধ করেন, কিন্তু নম্রদিগকে অনুগ্রহ প্রদান করেন।’”—১ পিতর ৫:৫.

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার