ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৫ ১০/১ পৃষ্ঠা ২৫-২৮
  • আপনার তৎপর মনোভাবকে রক্ষা করুন

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • আপনার তৎপর মনোভাবকে রক্ষা করুন
  • ১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • তৎপরতার বিশেষ সময়গুলি
  • খ্রীষ্টীয় সময়ে তৎপরতা
  • এইধরনের তৎপরতা কি ভুল ছিল?
  • তৎপরতার জন্য অধিকতর উৎসাহদান
  • তৎপরতার ইতিবাচক প্রভাব
  • আপনার তৎপরতার মনোভাব বজায় রাখুন
    ২০১২ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যেভাবে প্রচার করার বিষয়ে তৎপরতার মনোভাব গড়ে তোলা যায়
    ২০১৪ আমাদের রাজ্যের পরিচর্যা
  • “যিহোবার মহাদিন নিকটবর্তী”
    ২০০৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • সত্য উপাসনার পক্ষে উদ্যোগী হোন
    ২০১০ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৫ ১০/১ পৃষ্ঠা ২৫-২৮

আপনার তৎপর মনোভাবকে রক্ষা করুন

যিহোবাকে পূর্ণ-হৃদয় দিয়ে সেবা করে চলার জন্য একটি নিশ্চিত, ঈশ্বর-অনুমোদিত পদ্ধতি কী? এটি হল হৃদয়ের গভীর থেকে তৎপর হওয়ার প্রকৃত ইচ্ছা থাকা। ঈশ্বরকে পূর্ণ-হৃদয় দিয়ে সেবা করার অর্থ হল আমাদের সম্পূর্ণ সত্তা দিয়ে তাঁকে সেবা করা এবং এর অন্তর্ভুক্ত হল তিনি আমাদের যা করতে বলেন তার প্রতিটি ক্ষেত্রে আন্তরিক ও সন্দেহাতীত বাধ্যতা।

ভাববাদী মোশি যখন ইস্রায়েল জাতিকে নির্দেশ দিচ্ছিলেন, তখন তিনি এর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন: “তুমি তোমার সমস্ত হৃদয়, তোমার সমস্ত প্রাণ, ও তোমার সমস্ত শক্তি দিয়া আপন ঈশ্বর সদাপ্রভুকে প্রেম করিবে।” (দ্বিতীয় বিবরণ ৬:৫) বহু শতাব্দী পরে ওই একই আদেশ খ্রীষ্ট যীশুর দ্বারা পুনরাবৃত্ত হয়েছিল: “তোমার সমস্ত অন্তঃকরণ, তোমার সমস্ত প্রাণ, ও তোমার সমস্ত মন দিয়া তোমার ঈশ্বর প্রভুকে প্রেম করিবে।” (মথি ২২:৩৭) প্রেরিত পৌল পরোক্ষভাবে একই প্রয়োজন সম্পর্কে উল্লেখ করেছিলেন যখন তিনি ইফিষীয়দের “প্রাণের সহিত ঈশ্বরের ইচ্ছা” পালন করতে বলেন এবং যখন তিনি কলসীয়দের উৎসাহ দান করেন: “যাহা কিছু কর, প্রাণের সহিত কার্য্য কর, মনুষ্যের কর্ম্ম নয়, কিন্তু প্রভুরই কর্ম্ম বলিয়া কর।”—ইফিষীয় ৬:৬; কলসীয় ৩:২৩.

যাইহোক, ঈশ্বরকে সম্পূর্ণ হৃদয় এবং মন দিয়ে সেবা করা কঠিন হবে যদি আমরা ভিতর থেকে তৎপরতা অনুভব না করি অথবা যদি একসময় আমাদের তৎপর মনোভাব ছিল যা এখন নিস্তেজ হয়ে পড়েছে—হয়ত বা সর্বতোভাবেই হারিয়ে গেছে। আজকে, আমরা এমন এক জরুরী সময়ে বাস করছি যা মানব ইতিহাসের যে কোন অধ্যায়ের তুলনায় অদ্বিতীয়।

তৎপরতার বিশেষ সময়গুলি

প্রাক্‌ খ্রীষ্টীয় যুগে বিভিন্ন তৎপরতার সময় ছিল। নোহের দিন এবং সেই সময় যা সদোম ও ঘমোরাকে ধ্বংসে পরিচালিত করেছিল তা নিঃসন্দেহে প্রকৃত জরুরী সময় ছিল। (২ পিতর ২:৫,. ৬; যিহূদা ৭) সন্দেহাতীতভাবে, প্লাবনের পূর্বের বছরগুলি জরুরী কার্যকলাপে পরিপূর্ণ ছিল। যদিও নোহ ও তার পরিবার নির্দিষ্টভাবে জানতেন না কখন প্লাবন আরম্ভ হবে, “ঈশ্বরীয় ভয়” তাদের নিশ্চিত করেছিল যে তাদের ইচ্ছাপূর্বক বিলম্ব করা উচিত নয়।—ইব্রীয় ১১:৭.

অনুরূপভাবে, সদোম ও ঘমোরা ধ্বংসের পূর্বে দূতেরা “লোটকে সত্বর করিলেন” এবং তাকে বললেন “প্রাণরক্ষার্থ পলায়ন কর।” (আদিপুস্তক ১৯:১৫,. ১৭) হ্যাঁ, সেই পরিস্থিতিতেও তৎপরতা ধার্মিক জীবন রক্ষা করেছিল। বহু শতাব্দী পর বাবিলনে যিহূদী বন্দীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল: “চল চল, সেই স্থান হইতে বাহির হও, অশুচি কোন বস্তু স্পর্শ করিও না, উহার মধ্য হইতে বাহির হও।” (যিশাইয় ৫২:১১) সা.শ.পূ. ৫৩৭ সালে, সেই জরুরী ভাববাণীমূলক আদেশের প্রতি বাধ্যতা দেখিয়ে প্রায় ২০০,০০০ জন নির্বাসিত ব্যক্তি বাবিলন থেকে বার হয়ে আসতে ত্বরান্বিত হয়েছিল।

ওই পরিস্থিতিগুলির প্রত্যেকটিতে তৎপরতার এই মনোভাব ছিল তাদের পূর্ণ-হৃদয়ে সেবার ফলস্বরূপ, যারা অনুভব করেছিল এবং সচেতনভাবে প্রত্যয়ী ছিল যে তারা জরুরী সময়ে বাস করছে।

খ্রীষ্টীয় সময়ে তৎপরতা

তৎপর হওয়ার প্রয়োজনীয়তা আবারও প্রতিধ্বনিত হতে শোনা যায় সমস্ত খ্রীষ্টীয় গ্রীক শাস্ত্রাবলীতে। “দৃষ্টি রাখ,” “জেগে থাক,” “লক্ষ্য রাখ,” “তোমরা প্রস্তুত থাক”—এই সমস্ত অভিব্যক্তিগুলি যীশু খ্রীষ্ট তাঁর অনুগামীদের মধ্যে যথাযথ তৎপর মনোভাব সঞ্চার করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছিলেন। (মথি ২৪:৪২, ৪৪; মার্ক ১৩:৩২, ৩৭, NW) এছাড়াও, তাঁর দশটি কুমারী, দুষ্ট দাস, তালন্ত এবং ছাগ থেকে মেষ পৃথক করা সম্বন্ধীয় দৃষ্টান্তগুলি আগ্রহ ও তৎপরতার মনোভাব সৃষ্টি করতে উদ্দীপ্ত করে।—মথি ২৫:১, ১৪, ১৫, ৩২, ৩৩.

যীশু কেবলমাত্র তৎপর হওয়া সম্বন্ধেই বলেননি কিন্তু তিনি তৎপরতার সাথে কাজ করার দ্বারা তাঁর বাক্যের যথার্থতা সমর্থনও করেছিলেন। এক সময়ে যখন জনতা তাঁকে চলে যেতে নিষেধ করছিল, তিনি তাদের বলেছিলেন: “অন্য অন্য নগরেও আমাকে ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করিতে হইবে; কেননা সেই জন্যই আমি প্রেরিত হইয়াছি।” (লূক ৪:৪২, ৪৩) তারপর, তিনি তাঁর শিষ্যদের উৎসাহিত করেন শস্যক্ষেত্রের স্বামীর কাছে প্রার্থনা করতে যেন তিনি নিজ শস্যক্ষেত্রে কার্যকারী লোক পাঠান কারণ “শস্য প্রচুর বটে, কিন্তু কার্য্যকারী লোক অল্প।” (মথি ৯:৩৭, ৩৮) ঈশ্বরের কাছে এইধরনের প্রার্থনাপূর্ণ অনুরোধ সত্যিই তৎপরতার আত্মা প্রকাশ করে।

এইধরনের তৎপরতা কি ভুল ছিল?

কিছু ব্যক্তি হয়ত এই যুক্তিপূর্ণ প্রশ্ন তুলতে পারেন, যেহেতু ভাববাণীর দ্বারা কথিত “মহাক্লেশ” অনেক শতাব্দী দূরে ছিল, তাহলে কেন সেই সময়ে তৎপর মনোভাবের প্রয়োজন ছিল?—মথি ২৪:২১.

আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে এটি কেবলমাত্র একটি কৌশল ছিল না, যা যীশু তাঁর অনুগামীদের প্রচার ও শিক্ষাদানের কাজে ব্যস্ত রাখার জন্য প্রয়োগ করেছিলেন। না, এটি ছিল শিষ্যদের প্রতি খ্রীষ্টের প্রেমের পরিচায়ক এবং সাথে সাথে সময় সম্পর্কে যিহোবার দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সঠিক বোধগম্যতা আর এটিই ছিল তৎপরতা সম্পর্কে তাঁর পরামর্শের মূল ভিত্তি। হ্যাঁ, খ্রীষ্ট যীশু জানতেন ঈশ্বরের উদ্দেশ্য অনুযায়ী যিহোবার ইচ্ছা সম্পন্ন করার জন্য তৎপরতার মনোভাব প্রয়োজনীয়। তাছাড়াও, তিনি জানতেন তাঁর পুনরাগমনের সময় পর্যন্ত তৎপরতার মনোভাব রক্ষা করার দ্বারা তাঁর শিষ্যেরা আধ্যাত্মিকভাবে নিজেদের উপকৃত করতে পারবে।

যীশু খ্রীষ্ট স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে পৃথিবীব্যাপী সাক্ষ্যদানের কাজ খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে। (মথি ২৪:১৪; মার্ক ১৩:১০) এই কার্যভারের প্রগতিশীল ধাপগুলি কাজের বিস্তারের দ্বারাই প্রকাশ পেয়েছিল। কিন্তু প্রত্যেকটি ধাপ পূর্ণ করার জন্য তৎপরতার প্রয়োজন ছিল। যীশু এই কার্যভারের অগ্রগতি সম্বন্ধে ইঙ্গিত করেছিলেন যখন তিনি বলেছিলেন: “তোমরা যিরূশালেমে, সমুদয় যিহূদীয়া ও শমরিয়া দেশে, এবং পৃথিবীর প্রান্ত পর্য্যন্ত আমার সাক্ষী হইবে।” (প্রেরিত ১:৮) আর সেই জন্যই এই কার্যভার আজকের দিন পর্যন্ত প্রসারিত। এর অর্থ ছিল কালক্রমে ঈশ্বরের দাসদের জন্য কিছু অপ্রত্যাশিত বিষয়ের সূচনা যার ফলে তাদের চিন্তাধারার কিছু পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়েছিল।

খ্রীষ্টীয় তৎপরতার মনোভাব যিহোবার উদ্দেশ্য সম্পাদিত করে। এটি খ্রীষ্টের শিষ্যদের সাহায্য করে যিহোবার অভ্রান্ত তালিকা অনুযায়ী তাদের কাজের প্রগতিকে রক্ষা করে চলতে। সেইজন্য আজকের দিনে, প্রায় ২০০০ বছর পিছনে তাকিয়ে আমরা সেই ঐশিক তালিকাকে আরও নিখুঁতভাবে বুঝতে পারি।

৩৬ সাধারণ শতাব্দীতে যখন ইস্রায়েলের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ সমাপ্ত হয়ে আসছিল, তার পূর্বে যিরূশালেম, যিহূদা, শমরিয়া এবং ছড়িয়ে থাকা যিহূদীদের কাছে ব্যাপক সাক্ষ্য দিতে খ্রীষ্টীয় তৎপরতা শিষ্যদের সাহায্য করেছিল। (দানিয়েল ৯:২৭; প্ররিত ২:৪৬, ৪৭) অনুরূপভাবে, খ্রীষ্টীয় তৎপরতা প্রাথমিক মণ্ডলীগুলিকে সাহায্যপ্রাপ্ত করেছিল সমস্ত যিহূদীদের এক স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিতে যে খুব শীঘ্রই তাদের বিধি ব্যবস্থা শেষ হবে। (লূক ১৯:৪৩, ৪৪; কলসীয় ১:৫, ৬, ২৩) এবং অপ্রত্যাশিতভাবে সা.শ. ৭০ সালে এই শেষ আসার পর, তৎপরতা খ্রীষ্টের প্রথম-শতাব্দীর সাক্ষীদের পূর্বে উল্লেখিত ধর্মভ্রষ্টতা মৃত্যুজনক আধ্যাত্মিক অন্ধকার ছড়িয়ে দেবার আগেই অনেকের কাছে স্বর্গীয় আশা সম্বন্ধে ঘোষণা করতে সাহায্য করেছিল। (২ থিষলনীকীয় ২:৩; ২ তীমথিয় ৪:২) তারপর অন্ধকার যুগের শতাব্দীগুলি ধরে কিছু গমতুল্য খ্রীষ্টান রাজ্যের আশাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল, যেমন যীশু খ্রীষ্ট ভাববাণী করেছিলেন। (মথি ১৩:২৮-৩০) পরিশেষে, নিরূপিত সময়ে যিহোবা এই অন্তিম বংশে বাসবাসকারী ব্যক্তিদের বিচার সম্বন্ধীয় জরুরী সংবাদ দ্বারা উদ্দীপিত করার জন্য এক সক্রিয় আধুনিক-দিনের মণ্ডলীর প্রতিষ্ঠা করেছেন।—মথি ২৪:৩৪.

প্রাচীনকালে দানিয়েলের মতো ঈশ্বরের আধুনিক-দিনের সাক্ষীরাও কখনও যিহোবাকে প্রশ্ন করার সাহস করে না এই বলে: “তুমি কি করিতেছ?” (দানিয়েল ৪:৩৫) তারা নিশ্চিত যে যিহোবা জানেন তাঁর কাজ তালিকার সাথে সামঞ্জস্য রেখে করার জন্য প্রকৃতরূপে কিসের প্রয়োজন। সুতরাং বিষয়বস্তু প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে যিহোবার পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশ্ন করার চেয়ে, তারা সুখী যে ঈশ্বর তাদের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর সাথে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন।—১ করিন্থীয় ৩:৯.

তৎপরতার জন্য অধিকতর উৎসাহদান

মহাক্লেশ আরম্ভ হওয়ার সঠিক দিন ও দণ্ড সম্বন্ধে নিখুঁতভাবে না জানা হচ্ছে তৎপর হওয়ার আর একটি কারণ। খ্রীষ্ট যীশু নিশ্চিত ছিলেন যে পৃথিবীর কেউই সেই ভীষণ ঘটনা আরম্ভের পূর্ব-নির্ধারিত দিন এবং দণ্ড সম্পর্কে জানে না। (মথি ২৪:৩৬) অন্য এক পরিস্থিতিতে তিনি তাঁর উৎসুক শিষ্যদের বলেছিলেন: “যে সকল সময় কি কাল পিতা নিজ কর্ত্তৃত্বের অধীন রাখিয়াছেন, তাহা তোমাদের জানিবার বিষয় নয়।” (প্রেরিত ১:৭) হ্যাঁ, বিষয়বস্তুর পরিণতি স্পষ্ট, কিন্তু সমস্ত বিস্তারিতভাবে জানা আমাদের জন্য ঠিক নয়।

প্রেরিত পৌলের তৎপরতা সম্পর্কে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। খ্রীষ্টের উপস্থিতি সম্পর্কে যখন তিনি থিষলনীকীয়দের লিখেছিলেন, সম্ভবত তখন যীশুর বাক্যগুলি তার স্মরণে ছিল: “হে ভ্রাতৃগণ, বিশেষ বিশেষ কালের ও সময়ের বিষয়ে তোমাদিগকে কিছু লেখা অনাবশ্যক।” (১ থিষলনীকীয় ৫:১) “তোমরা . . . পৃথিবীর প্রান্ত পর্য্যন্ত আমার সাক্ষী হইবে,” যীশুর এই কথাগুলি বলার প্রায় ১৭ বছর পরে তিনি এই চিঠি লিখেছিলেন। (প্রেরিত ১:৮) ওই সময়ে এর বেশী লেখা হয়নি কারণ এর বেশী কিছু প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি তারা নিশ্চিত ছিল যে যিহোবার দিন অবশ্যই “রাত্রিকালে যেমন চোর” তেমনভাবে আসবে, তাই খ্রীষ্টানদের তৎপরতার সাথে অবিরাম প্রচার করার প্রয়োজন আছে।—১ থিষলনীকীয় ৫:২.

এটি ভেবে নেওয়া হয়ত ঠিক হবে না যে এই কথাগুলি মনে রেখে, প্রথম শতাব্দীর খ্রীষ্টানেরা ভেবেছিল যে যিহোবার দিন অনেক শতাব্দী দূরে আছে। এটি যদিও সত্যি যে, তারা যীশুর দৃষ্টান্তের সেই রাজা যিনি দূরদেশে গিয়েছিলেন এবং সেই ব্যক্তি যিনি বিদেশে গিয়েছিলেন তাদের সম্বন্ধে জানতেন। তারা এও জানতেন যে দৃষ্টান্ত দেখায় রাজা “পরে” ফিরে এসেছিলেন এবং সেই ভ্রমনকারী ব্যক্তি “দীর্ঘকাল পর” ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু নিঃসন্দেহে তারা এইধরনের প্রশ্নগুলির দ্বারা বিভ্রান্ত হয়েছিল যেমন, এই “পরে” কখন? এবং “দীর্ঘকাল” বলতে কী বোঝানো হয়েছে? দশ বছর? কুড়ি বছর? পঞ্চাশ বছর? অথবা আরও বেশী? (লূক ১৯:১২, ১৫; মথি ২৫:১৪, ১৯) যীশুর কথাগুলি তাদের কানে ধ্বনিত হতে থাকে: “তোমরাও প্রস্তুত থাক; কেননা যে দণ্ড মনে করিবে না, সেই দণ্ডে মনুষ্যপুত্ত্র আসিবেন।”—লূক ১২:৪০.

তৎপরতার ইতিবাচক প্রভাব

হ্যাঁ, ঈশ্বর-প্রণোদিত তৎপর মনোভাবের এক অপূর্ব উৎ সাহমূলক প্রভাব প্রথম শতাব্দীর খ্রীষ্টানদের ওপর ছিল যা তাদের প্রচার ও শিক্ষাদান সম্পর্কীয় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত রাখতে সাহায্য করেছিল। এটি আজকের দিনে আমাদেরও বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করে থাকে। এটি আমাদের আত্মতৃপ্ত অথবা ‘সৎকর্ম্ম করিতে ক্লান্ত’ হওয়া থেকে বিরত করে। (গালাতীয় ৬:৯, কিং জেমস ভারসন) এটি আমাদের জগতের সঙ্গে অতিরিক্তভাবে জড়িয়ে পড়া এবং এর বস্তুবাদিতার ফাঁদে পড়া থেকে রক্ষা করে। এটি আমাদের মনকে “প্রকৃতরূপে জীবন” এর প্রতি নিবদ্ধ করে। (১ তীমথিয় ৬:১৯) প্রভু যীশু বলেছিলেন তাঁর শিষ্যেরা হবে “কেন্দুয়াদের মধ্যে মেষ,” এবং তিনি জানতেন জগৎকে প্রতিরোধ করার জন্য একটি নিশ্চিত, স্থির দৃষ্টিভঙ্গি রাখা আমাদের প্রয়োজন। হ্যাঁ, আমরা আমাদের খ্রীষ্টীয় তৎপর মনোভাব দ্বারা নিরাপদ ও সুরক্ষিত।—মথি ১০:১৬.

তাঁর অসীম প্রজ্ঞার দরুন যিহোবা ঈশ্বর তাঁর দাসেদের তৎপরতার মনোভাবকে সক্রিয় রাখার জন্য সর্বদা যথেষ্ট তথ্য যুগিয়ে থাকেন। তিনি আমাদের প্রেমপূর্ণভাবে আশ্বস্ত করেন যে আমরা এই কলুষিত বিধিব্যবস্থার ‘শেষ কালে’ বাস করছি। (২ তীমথিয় ৩:১) আমাদের ক্রমাগত স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে আমরা যে বংশে বাস করছি তা যতক্ষণ না মহাক্লেশে অবসান হয় যার পরিণতি হর্‌মাগিদোন ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের জ্যোতির্গণের মতো দীপ্তি দিতে হবে।—ফিলিপীয় ২:১৫; প্রকাশিত বাক্য ৭:১৪; ১৬:১৪, ১৬.

হ্যাঁ, ঈশ্বরীয় তৎপর মনোভাব যিহোবাকে পূর্ণ-হৃদয়ে সেবা করার একটি অখণ্ড অংশ। এটি ঈশ্বরের দাসদের “প্রাণের ক্লান্তিতে অবসন্ন” হওয়ার জন্য শয়তানের আক্রমণ করার প্রচেষ্টাকে প্রতিহত ও ব্যর্থ করতে সাহায্য করে। (ইব্রীয় ১২:৩) অনন্তকালের জন্য, পূর্ণ-হৃদয় ভক্তি যিহোবার সেবকদের কাছে যিহোবার প্রতি বাধ্যতার কারণস্বরূপ হবে, কিন্তু এখন, এই প্রাক্‌-হর্‌মাগিদোনের দিনগুলিতে, এক গভীর, আন্তরিক তৎপর মনোভাব পূর্ণ-হৃদয় ভক্তির একটি অতি প্রয়োজনীয় অংশ।

যিহোবা আমাদের ঈশ্বর আমাদের সকলকে তৎপর মনোভাব রক্ষা করতে সাহায্য করুন যতই আমরা প্রেরিত যোহনের বাক্যগুলির প্রতিধ্বনি করতে থাকব: “আমেন; প্রভু যীশু, আইস।”—প্রকাশিত বাক্য ২২:২০.

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার