বিশ্বস্ত পরিবারগুলি শ্রীলঙ্কার বৃদ্ধিকে বাড়িয়ে তোলে
১৯৭২ সাল অবধি সিলোন হিসাবে পরিচিত, শ্রীলঙ্কা হল এক সুন্দর দ্বীপ যার সমুদ্রতটগুলিতে পাম গাছ, পর্বতমালা এবং ছোট ছোট মরুভূমিও রয়েছে। দেশের উচ্চভূমিতে রয়েছে আদম শৃঙ্গ যার উচ্চতা হল ২২৪৩ মিটার ও এই স্থানটি চারটি মুখ্য ধর্মের পবিত্র স্থান।a কাছাকাছি রয়েছে জগতের শেষ, একটি দেয়াল যেখানে উঁচু খাড়া পাহাড় ১৫০০ মিটার নিচে নেমে গেছে। এই দৃশ্যটি শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে মহত্তম দৃশ্য।
শ্রীলঙ্কার ১.৮ কোটি বাসিন্দারা আগ্রহজনক পটভূমিকা থেকে আসে। সা.শ.পূ. পঞ্চম শতাব্দী থেকে, উত্তর ভারতের ইন্দো-ইউরোপীয় জাতি সেই দ্বীপটিতে বসতি করেছে। এরা হল সিংহলীয় যারা এখন প্রায় পঞ্চাত্তর শতাংশ জনসংখ্যা গঠন করে। তারপর, দ্বাদশ শতাব্দীতে দক্ষিণ ভারত থেকে তামিলদের দলটি আসে; যারা এখন প্রধানত দ্বীপটির উত্তর এবং পূর্ব দিকে বসবাস করে। পর্তুগীজ, ডাচ্ এবং ব্রিটিশরাও তাদের উপনিবেশিক দিনগুলির চিহ্ন রেখে গেছে। এছাড়াও, আরব এবং মালায়া উপদ্বীপ থেকে সমুদ্রচারী ব্যবসায়ীরা স্থানীয় লোকেদের সাথে বসবাস করতে শুরু করে। ইউরোপীয়, পার্সী, চীন এবং অন্যান্য দেশের লোকেদের ছোট ছোট বসতির দল রয়েছে।
জাতিগত মিশ্রন ছাড়াও ভাষা এবং ধর্ম শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন পটভূমিকাকে প্রতিফলিত করে। এই দ্বীপটিতে মুখ্য ভাষা হল সিংহলীয়, তামিল এবং ইংরাজি। অনেক শ্রীলঙ্কাবাসীরা এই তিনটি ভাষার মধ্যে অন্তত দুইটি বলতে পারে। জাতিগত পটভূমিকাও লোকেদের ধর্মেতে এক মুখ্য ভূমিকা পালন করে। বেশির ভাগ সিংহলীয়রা হল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী কিন্তু অপরপক্ষে বেশির ভাগ তামিলরা হল হিন্দু। আর যারা আরবীয় অথবা মালায়ান তারা সাধারণত ইসলাম ধর্ম অবলম্বন করে এবং যারা ইউরোপীয় পটভূমিকার তারা সাধারণত খ্রীষ্টীয় জগতের গির্জা, যেমন ক্যাথলিক ও প্রোটেস্টান্টের সদস্য হন।
চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা
এই সবকিছুই শ্রীলঙ্কায় যিহোবার সাক্ষীদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়। তারা যীশুর দেওয়া দায়িত্ব পূর্ণ করতে কঠোর পরিশ্রম করে: “আর সর্ব্ব জাতির কাছে সাক্ষ্য দিবার নিমিত্ত রাজ্যের এই সুসমাচার সমুদয় জগতে প্রচার করা যাইবে।” (মথি ২৪:১৪) বিভিন্ন রকমের ভাষার লোকেদের সাথে কথা বলা ছাড়াও, সুসমাচারের প্রকাশকেরা হয়ত বৌদ্ধ, হিন্দু ধর্মাবলম্বী, খ্রীষ্টীয় জগতের গির্জার সদস্যদের এবং সেই সাথে এমনকি হয়ত নাস্তিক লোকেদের সাথে কথা বলতে পারে—কয়েক ঘন্টা প্রচারের মধ্যে এই সবকটি করতে হয়।
তাদের পরিচর্যায় কার্যকারী হতে, প্রকাশকদের অবশ্যই তাদের সাথে প্রহরীদুর্গ এবং সচেতন থাক! পত্রিকা এবং অন্যান্য বাইবেল সাহিত্যাদি তামিল, সিংহলীয় এবং ইংরাজি ভাষায় রাখতে হয়। আর যাদের শক্তি আছে তারা এমনকি সেই ভাষাগুলিতে বাইবেল নিয়ে যায়। প্রকাশকেরা ঈশ্বর কি প্রকৃতই আমাদের জন্য চিন্তা করেন? এবং আমাদের সমস্যাগুলি—সেগুলি সমাধান করতে কে আমাদের সাহায্য করবে ব্রোশারগুলি এবং এই জগৎ কি রক্ষা পাবে নামক ট্র্যাক্টটি একই সাথে এই তিনটি ভাষাতে পেয়ে খুবই আনন্দবোধ করেছিল। এর অর্থ হল পরিচর্যার জন্য আরও অস্ত্র।
সাক্ষীরা ১৯১২ সাল থেকে কঠোর পরিশ্রম করে চলেছে, তৎকালীন ইন্টারন্যাশনাল বাইবেল স্টুডেন্টস এসোসিয়েশান-এর সভাপতি চার্লস টেজ্ রাসেল, যখন অল্প সময়ের জন্য সিলোন পরিদর্শন করতে আসেন। উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, কিন্তু ১৯৪৭ সালের ওয়াচটাওয়ার বাইবেল স্কুল অফ গিলিয়াডের গ্রাজুয়েটদের আসার পরে দেখা যায়। তার পর থেকে, শ্রীলঙ্কার প্রকাশকেরা প্রচার কাজ থেকে উত্তম ফল পেয়েছে। ১৯৯৪ সালে ১,৮৬৬ রাজ্যের প্রকাশক প্রতি মাসে গড়ে ২,৫৫১টি গৃহ বাইবেল অধ্যয়ন পরিচালনা করছিল। আর স্মরণার্থক সভার উপস্থিতি ছিল ৬,৯৩০ জন যা প্রায় সকল মণ্ডলীর প্রকাশকের সংখ্যার চার গুণ ছিল। কী অপূর্ব এক আশীর্বাদ!
অন্যান্য দেশের তুলনায়, শ্রীলঙ্কায় বৃদ্ধি হয়ত খুব ধীর বলে মনে হতে পারে। একটি বিষয় যা আপাতদৃষ্টিতে দেখে মনে হয় তা হল দৃঢ় পারিবারিক সম্পর্ক। কিন্তু, তা অন্যভাবে সুবিধার হতে পারে। যখন রোমীয় সৈনাধ্যক্ষ কর্ণীলিয় সত্যের পক্ষে দাঁড়ান তখন তার পরিবার তার সাথে যোগ দেয়। (প্রেরিত ১০:১, ২, ২৪, ৪৪) প্রেরিতের পুস্তক অন্যান্য দৃঢ় খ্রীষ্টীয় পরিবারগুলির বিষয় উল্লেখ করে যার অন্তর্ভুক্ত ছিল লুদিয়া, ক্রীষ্প এবং পৌলের কারাপাল ও সীল।—প্রেরিত ১৬:১৪, ১৫, ৩২-৩৪; ১৮:৮.
সত্যই, দৃঢ় পারিবারিক সম্পর্ক সুবিধাজনক হতে পারে যদি সুবিন্যাস এবং বিশ্বস্ত অধ্যবসায় থাকে। যিশাইয় ৬০:২২ পদের কথাগুলি মনে রেখে, দীর্ঘকালীন মিশনারি রে ম্যাথিউ বলেন: “এটি দেখে মনে হচ্ছে যে যিহোবা উপযুক্ত সময়ে কাজকে বৃদ্ধি করছেন, শুধুমাত্র ব্যক্তি বিশেষের মাধ্যমে নয়, কিন্তু পরিবারের দ্বারাও।”
সংগঠিত পরিবার প্রশংসা নিয়ে আসে
এইধরনের বিশ্বস্ত পরিবারগুলি আজকে শ্রীলঙ্কায় বাস্তবিকই রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, উত্তমরূপে সংগঠিত সিন্নাপ্পা পরিবার রয়েছে যারা কোটেহেনাতে থাকে, শ্রীলঙ্কার মুখ্য শহর কলম্বোর একটি অঞ্চল। যদিও পরিবারের মস্তক, মারিয়ান অল্প কিছুদিন আগে মারা যান, তার স্ত্রী, আন্নাম্মা এবং ১৫টি ছেলেমেয়েদের মধ্য ১২টি যাদের বয়স ১৩ থেকে ৩৩ পরিবার হিসাবে যিহোবাকে সেবা করে চলেছে। এটি লিখবার সময়, ছেলেমেয়েদের মধ্যে আটজন ছেলেমেয়ে বাপ্তিস্মিত এবং তিনজন পূর্ণ-সময়ের পরিচর্যায়, নিয়মিত অগ্রগামী ছিল। আর তিনজন সময়ে সময়ে সহায়ক অগ্রগামী পরিচর্যা করেছে। পরিবারের ছোটদের মধ্যে চার অবাপ্তাইজিত প্রকাশক। এছাড়াও, চারজন নাতিনাতনী যাদের বয়স খুবই অল্প, তারা বাইবেল অধ্যয়ন এবং যিহোবার সাক্ষীদের কলম্বোর উত্তর মণ্ডলীতে খ্রীষ্টীয় সভাগুলিতে যোগদান করে।
১৯৭৮ সালে আন্নাম্মা প্রথম রাজ্যের সুসমাচার শোনেন যখন তিনি প্রহরীদুর্গ এর একটি কপি গ্রহণ করেন। একটি বাইবেল অধ্যয়ন শুরু হয় এবং এবং বাইবেল অধ্যয়ন সহায়ক বই যে সত্য অনন্ত জীবনে লইয়া যায় অধ্যয়ন করার পর, আন্নাম্মা যিহোবার উদ্দেশ্যে তার জীবন উৎসর্গ করেন এবং বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেন আর এটি করার দ্বারা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য এক প্রাথমিক উদাহরণ স্থাপন করেন।
সেনাধ্যক্ষ কর্ণীলিয়ের মত, আন্নাম্মার পরিবারও সুবিন্যস্ত। “আমাদের সভা ও অধিবেশনগুলির জন্য পরিকল্পনা করতে হত—স্কুলের কথা ত ছেড়েই দিন,” আন্নাম্মার মনে পড়ে। “পোশাক একটি সমস্যা ছিল, কিন্তু যিহোবার আশীর্বাদের দ্বারা আমরা প্রত্যেকটি অধিবেশনের জন্য নতুন জামাকাপড় করতে পেরেছিলাম। পরিবারের সবাই ভাল কাপড় ও ভালভাবে খেয়ে আসত—এবং তাদের মুখে হাসিও ছিল।”
আন্তরিকতার সাথে ছেলেমেয়েরা তাদের পারিবারিক সুবিন্যাসকে মনে করে। যাতে করে পুরো পরিবার খ্রীষ্টীয় সভাগুলিতে যোগদান করতে পারে তার জন্য সাহায্য করতে সাধারণত পরিবারের মধ্যে যাদের বয়স বেশি তাদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হত। উদাহরণস্বরূপ, মঙ্গলা কাপড় ধুতো এবং ইউনিফ্রেডা কাপড় ইস্তিরি করত। ইউনিফ্রেডা যে ছোটদের কাপড় পরতে সাহায্য করত বলে: “ঘর থেকে বার হবার সময় সকলতে খুব সুন্দর দেখাত।”
আধ্যাত্মিক বিষয়গুলিও উত্তমভাবে সংগঠিত ছিল। মেয়ে পুষ্পম, যে এখন একজন নিয়মিত অগ্রগামী তার মনে পড়ে: “প্রতিদিন, আমরা এক সাথে বাইবেল অধ্যয়ন এবং দিনের শাস্ত্রপাঠ পুনর্বিবেচনা করা উপভোগ করতাম।” আন্নাম্মা আরও বলেন: “প্রতিটি ছেলেমেয়েদের কাছে বাইবেল, প্রহরীদুর্গ এবং অন্যান্য সাহিত্যাদির নিজস্ব কপি থাকত। আমি খুব মনযোগ সহকারে সভাগুলিতে তাদের সকলের মন্তব্যগুলি শুনতাম। যেখানে প্রয়োজন হয়, আমি ঘরেতে উৎসাহ এবং সংশোধনের দ্বারা পুনর্বিবেচনা করতাম। রাতে এক সাথে পারিবারিক প্রার্থনার দ্বারা দিনটি শেষ করতাম।”
পরিবারে সকলের জন্য এক খ্রীষ্টীয় শিক্ষা প্রদান করতে আন্নাম্মাকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে যে সব ছেলেমেয়ের বয়স বেশি তারা হল এক অমূল্যস্বরূপ। এই পূর্ণ তালিকা কিন্তু ঘরের বাইরে সুসমাচার প্রচারে অংশ নেওয়ার ইচ্ছাকে কমিয়ে দিতে পারে না। সবশুদ্ধ, পরিবারে বিভিন্ন সদস্যেরা ৫৭টি গৃহ বাইবেল অধ্যয়ন করে প্রতিবেশীদের সাথে। জামাই রাজেন বলেন: “পরিবার উন্নতিশীল বাইবেল অধ্যয়ন করে। আমার স্ত্রী পুষ্পমের ইতিমধ্যেই এক ছাত্রকে যিহোবার প্রতি জীবন উৎসর্গ করতে দেখার বিশেষ সুযোগ হয়েছে।”
এত বড় একটি পরিবার রোমান ক্যাথলিক গির্জা ত্যাগ করার সময়ে কোটেহেনাতে এক সাড়া পড়ে যায়। যদিও পাদ্রি নিজে কখনও পরিবারের কাছে আসেনি এই জানবার জন্য যে কেন তারা গির্জা ছেড়েছে, কিন্তু তিনি অন্যান্য সদস্যদের জানতে বলেন। এর ফলে অনেক আলোচনা শুরু হয়, বিশেষ করে ত্রিত্বের শিক্ষা সম্বন্ধে। তার বিশ্বাসকে রক্ষা করার জন্য আন্নাম্মা সব সময়েই যিহোবা এবং বাইবেলের উপর আস্থা রাখেন। এই আলোচনাগুলিতে তার সবচাইতে প্রিয় শাস্ত্রপদ ছিল যোহন ১৭:৩.
সিন্নাপ্পা পরিবার দেখায় যে উত্তমভাবে সংগঠিত এবং অটল প্রচেষ্টা সন্তুষ্টজনক ফল নিয়ে আসতে পারে। তাদের উৎসাহজনক প্রচেষ্টার দ্বারা যিহোবার প্রশংসায় একটি নতুন রাজ্যের প্রকাশকের এক বংশ গড়ে উঠছে।
বিরোধিতা সত্য উপাসনায় পরিবারকে একত্র করে
রাতনাম পরিবার সিন্নাপ্পা পরিবার থেকে কিছু কিলোমিটার দূরে, নরহেনপিতয়াতে কলম্বোর এক অঞ্চলে অবস্থিত। তারাও পূর্বে রোমান ক্যাথলিক ছিল। ১৯৮২ সালে, সাক্ষীরা গৃহ থেকে গৃহে প্রচার করার সময়ে সবচেয়ে বড় মেয়ে ফাতিমার স্বামী বালেন্দ্রনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বাইবেল অধ্যয়ন পুরো পরিবারের সাথে শুরু হয়। শীঘ্রই তাদের তিন ছেলেমেয়ে ঠাকুরমা, ইগনাসিম্মালকে ঈশ্বরের নাম সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে। যখন ছেলেমেয়েরা এর উত্তর “যিহোবা” দেয় তখন তারা ঠাকুরমার আগ্রহকে জাগিয়ে তোলে এবং তার সাথে একটি বাইবেল অধ্যয়ন শুরু হয়। পরে, তার দুইটি মেয়ে জিভাকলা এবং স্টেলা, অধ্যয়নে যোগ দেয় এবং ১৯৮৮ সালে এরা তিনজন বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেন।
ইতিমধ্যে বালেন্দ্রন এবং ফাতিমা, ফাতিমার আরেক বোন মাল্লিকা এবং তার স্বামী ইয়োগানাথানের কাছে সত্য সম্বন্ধে বলেন। ১৯৮৭ সালের এই দম্পতি বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেন এবং তারা তাদের দুইটি ছেলে মেয়ের মধ্যে যিহোবার প্রতি বৃদ্ধিরত প্রেম গড়ে তুলেছে। পুষ্পা ফাতিমার আরেকটি বোন এর পর সত্যে আসেন। তিনি নিজেকে উৎসর্গীকৃত করে ১৯৯০ সালে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেন। টোকিওতে থাকাকালীন তার স্বামী এয়কা একটি ইংরাজি মণ্ডলীর সাথে কাজ করেন এবং পুষ্পা তাদের ছেলে অ্যালফ্রেডকে যিহোবার পথে গড়ে উঠতে সাহায্য করেন।
এতক্ষণ পর্যন্ত রাতনাম পরিবারের দশজনের মধ্যে চারজন সত্য উপাসনার পক্ষে দাঁড়িয়েছে। আনন্দের বিষয় এই যে তিনজন ব্যক্তিগত বাইবেল অধ্যয়নে উত্তম উন্নতি করছে। ১১টি নাতিনাতনীদের মধ্যে একটি মেয়ে প্রদীপা, ইতিমধ্যে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছে। অন্যান্য সাতজন অল্পবয়স্কেরা নিয়মিতভাবে পারিবারিক বাইবেল অধ্যয়নের দ্বারা শিক্ষিত হচ্ছে। এছাড়াও, মোট ২৪ গৃহ বাইবেল অধ্যয়ন আগ্রহান্বিত প্রতিবেশীদের সাথে পরিচালনা করা হচ্ছে।
এই সবকিছু কিন্তু সহজে হয়নি। প্রথমে, পারিবারিক বিবোরধিতা ছিল। পিতা মুথুপিল্লাই এবং বড় ভাইয়েরা কিংডম হলে পরিবারের সভাগুলিতে যোগদান করা এবং গৃহ থেকে গৃহে জনসাধারণের কাছে প্রচার কাজ করার বিষয় খুব বিরোধী ছিলেন। যদিও এটি কিছুটা পরিমাণে ব্যক্তিগত সুরক্ষার সাথে জড়িত ছিল, মুথুপিল্লাই আরও বলেন: “আমি পুরোপুরি ‘সেন্টদের’ প্রতি সমর্পিত ছিলাম এবং পরিবারের ক্যাথলিক গির্জা ছেড়ে দেওয়াকে আমি সম্মতি দিইনি।” কিন্তু, এখন তিনি বিশ্বাস করেন যে তারা সত্য ঈশ্বরকে উপাসনা করছেন কারণ বিশ্বাসের ফলে তাদের উপর যে উপকারগুলি এসেছে তা তিনি দেখতে পাচ্ছেন।
উদাহরণস্বরূপ, একবার তাদের বৌদ্ধ বাড়িওয়ালা তাদের জমি থেকে সরানোর জন্য জাদুবিদ্যা ব্যবহার করে। এক রাতে সে তাদের বাড়িতে আসে এবং বাড়ির চারিপাশে “জাদুওয়ালা” লেবু রেখে যায়। কুসংস্কারে বিশ্বাসী প্রতিবেশীরা ভয় পেয়ে যায় আর এই আশা করে যে কোন দুর্ঘটনা রাতনাম পরিবারে আসতে চলেছে। কিন্তু, যখন ইগনাসিম্মাল সেটি দেখেন, তিনি এবং তার ছেলেমেয়েরা নির্ভয়ে তা সরিয়ে দেন—তাদের উপর কোন খারাপ কিছু ঘটেনি। তাদের এই সাহসী কাজটি এলাকাটিতে এক সাক্ষ্যস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়, যার ফলে লোকেরা তাদের খুব সম্মানের চোখে দেখতে শুরু করে। স্টেলা পাশের গলিতে দুইটি গৃহ বাইবেল অধ্যয়ন শুরু করতে সক্ষম হয়। এর দ্বারা উৎসাহিত পুত্র-বধূ নাজিরাও বাইবেল অধ্যয়ন গ্রহণ করে।
অনেক আশীর্বাদ যা তাদের পরিবারের উপর এসেছে তার উপর চিন্তা করে, ইগনাসিম্মাল উল্লেখ করেন: “পরিবারের মধ্যে আধ্যাত্মিক বৃদ্ধি দেখে আমি খুব আনন্দিত। যিহোবার দ্বারা আমরা আশীর্বাদপ্রাপ্ত কারণ আমাদের উপর বিরোধিতা কমে গেছে ও পরিবারের একতা আরও বেড়ে গেছে।”
এই বড় পরিবারগুলি কতই না আশীর্বাদস্বরূপ বলে প্রমাণিত হয়েছে। তারা ছেট ছোট পরিবার, একক-অভিভাবক পরিবার ও একাকী খ্রীষ্টানদের সাথে তাদের কন্ঠ মিলিয়েছে যারা রাজ্যের সুসমাচার ঘোষণা করাকে বৃদ্ধি করছে এই “সমুজ্জ্বল দেশ”-এ যা হল শ্রীলঙ্কা নামের অর্থ। জগদ্ব্যাপী তাদের সহখ্রীষ্টানদের সাথে, শ্রীলঙ্কার সাক্ষীরাও পরমদেশ পুনর্স্থাপিত হওয়ার অপেক্ষা করছে, যা আমরা সুন্দর শ্রীলঙ্কার সমুদ্রতট এবং পাহাড় দেখে এখনও মনে করতে পারি।
[পাদটীকাগুলো]
a একটি বড় পায়ের ছাপ আদম, বুদ্ধ, শিব এবং “সেন্ট” থমাস যথাক্রমে মুসলিম, বৌদ্ধ, হিন্দু এবং গির্জার উপকথা বলে ধারণা করা হয়।
[২৪, ২৫ পৃষ্ঠার চিত্র]
শ্রীলঙ্কায় অনেকে খ্রীষ্টীয় প্রচার এবং শিক্ষার প্রতি সাড়া দিচ্ছে