ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৫ ৮/১৫ পৃষ্ঠা ১২-১৭
  • ক্লান্ত ব্যক্তিদের প্রতি এক প্রেমপূর্ণ আমন্ত্রণ

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • ক্লান্ত ব্যক্তিদের প্রতি এক প্রেমপূর্ণ আমন্ত্রণ
  • ১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • যারা “পরিশ্রান্ত ও ভারাক্রান্ত”
  • কষ্টের প্রকৃত কারণ
  • আজকের দিনে যীশুর আমন্ত্রণ
  • উপশম ও সতেজতা
  • “আমার নিকটে আইস, আমি তোমাদিগকে বিশ্রাম দিব”
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০১৯
  • চাপ থেকে স্বস্তি এক কার্যকারী প্রতিকার
    ২০০১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • কেন একত্রে মিলিত হবেন?
    ২০০৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • ‘আমার যোঁয়ালি সহজ ও আমার বোঝা লঘু’
    ১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৫ ৮/১৫ পৃষ্ঠা ১২-১৭

ক্লান্ত ব্যক্তিদের প্রতি এক প্রেমপূর্ণ আমন্ত্রণ

“হে পরিশ্রান্ত ও ভারাক্রান্ত লোক সকল, আমার নিকটে আইস, আমি তোমাদিগকে বিশ্রাম দিব।”—মথি ১১:২৮.

১. গালীলে তাঁর তৃতীয় প্রচার ভ্রমণে যীশু কী দেখেছিলেন?

সা.শ. ৩২ সাল শুরু হওয়ার কাছাকাছি সময়ে, যীশু গালীল প্রদেশে তাঁর তৃতীয় প্রচার ভ্রমণ করছিলেন। তিনি শহর ও গ্রামগুলিতে ভ্রমণ করেছিলেন, “লোকদের সমাজ-গৃহে উপদেশ দিলেন ও রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করিলেন, এবং সর্ব্বপ্রকার রোগ ও সর্ব্বপ্রকার ব্যাধি আরোগ্য করিলেন।” যখন তিনি তা করছিলেন তখন বিস্তর লোকেদের দেখে “তিনি তাহাদের প্রতি করুণাবিষ্ট হইলেন, কেননা তাহারা ব্যাকুল ও ছিন্নভিন্ন ছিল, যেন পালকবিহীন মেষপাল।”—মথি ৯:৩৫, ৩৬.

২. যীশু কিভাবে লোকেদের সাহায্য করেছিলেন?

২ যীশু, কিন্তু, সেই জনতার প্রতি শুধুমাত্র করুণাবিষ্ট হওয়া ছাড়াও আরও বেশি কিছু করেছিলেন। “শস্যক্ষেত্রের স্বামী,” যিহোবা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে তাঁর শিষ্যদের নির্দেশ দেওয়ার পরে, তিনি তাদের পাঠিয়ে দেন লোকেদের সাহায্য করতে। (মথি ৯:৩৮; ১০:১) তারপর তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রকৃত উপশম এবং সান্ত্বনার পথ সম্বন্ধে লোকেদের তাঁর নিশ্চয়তা দেন। তিনি তাদের এই আন্তরিক আমন্ত্রণটি দেন: “হে পরিশ্রান্ত ও ভারাক্রান্ত লোক সকল, আমার নিকটে আইস, আমি তোমাদিগকে বিশ্রাম দিব। আমার যোঁয়ালি আপনাদের উপরে তুলিয়া লও, এবং আমার কাছে শিক্ষা কর, কেননা আমি মৃদুশীল ও নম্রচিত্ত; তাহাতে তোমরা আপন আপন প্রাণের জন্য বিশ্রাম পাইবে।”—মথি ১১:২৮, ২৯.

৩. আজকের দিনে কেন যীশুর আমন্ত্রণ সমভাবে আকর্ষণীয়?

৩ আজকে আমরা এমন এক সময় বাস করছি যখন অনেকেই অত্যন্ত চাপ অনুভব করে। (রোমীয় ৮:২২; ২ তীমথিয় ৩:১) কিছু ব্যক্তির জন্য, জীবনোপায় করা এত সময় ও শক্তি নিয়ে নেয় যে পরিবার, বন্ধুবান্ধব অথবা অন্য কিছুর জন্য তাদের খুব কমই সময় থাকে। অনেকে, গুরুতর রোগ, যন্ত্রণা, বিষণ্ণতা এবং অন্যান্য দৈহিক ও মানসিক সমস্যা দ্বারা ভারগ্রস্ত। এই চাপের ফলে, কিছু ব্যক্তি সম্পূর্ণরূপে আত্ম-বিনোদন, ভোজন, পান এবং এমনকি ড্রাগের অপব্যবহারের মধ্যে নিজেদের ডুবিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে উপশম খোঁজে। এটি অবশ্যই, তাদের একটি খারাপ বেড়াজালে জড়িয়ে ফেলে যা তাদের জন্য আরও সমস্যা ও চাপ নিয়ে আসে। (রোমীয় ৮:৬) স্পষ্টতই, যীশুর এই প্রেমপূর্ণ আমন্ত্রণ আজকেও আকর্ষণ করে ঠিক যেরকম আগে করেছিল।

৪. যীশুর প্রেমপূর্ণ আমন্ত্রণ থেকে উপকার পেতে হলে আমাদের কোন্‌ প্রশ্নগুলি বিবেচনা করা উচিত?

৪ কিন্তু, যীশুর দিনের লোকেরা কিসের দ্বারা ভারগ্রস্ত ছিল যাতে করে তাদের “ব্যাকুল ও ছিন্নভিন্ন” মনে হয়েছিল যার ফলে যীশু তাদের প্রতি করুণাবিষ্ট হতে প্ররোচিত হন? কিধরনের ভার ও বোঝা তাদের বহন করতে হয়েছিল এবং কিভাবে যীশুর আমন্ত্রণ তাদের সাহায্য করতে পারত? ক্লান্ত ব্যক্তিদের প্রতি যীশুর প্রেমপূর্ণ আমন্ত্রণ থেকে উপকার পেতে হলে এই প্রশ্নগুলির উত্তর আমাদের জন্য সাহায্যকারী হতে পারে।

যারা “পরিশ্রান্ত ও ভারাক্রান্ত”

৫. যীশুর পরিচর্যাতে যে এই ঘটনাটি প্রেরিত মথি রিপোর্ট করেছিলেন তা কেন যথাযথ?

৫ এটি আগ্রহের বিষয় যে যীশুর পরিচর্যার এই ঘটনাটি শুধুমাত্র মথি উল্লেখ করেছিলেন। করগ্রাহী হওয়ার দরুন মথি, যিনি একজন লেবীয় হিসাবেও পরিচিত ছিলেন, তিনি একটি বিশেষ ভার সম্বন্ধে অবগত ছিলেন যা লোকেরা বহন করছিল। (মথি ৯:৯; মার্ক ২:১৪) যীশুর সময়ে দৈনন্দিন জীবন (ইংরাজি) নামক বইটি বলে: “টাকা এবং সেবার দ্বারা [যিহূদীদের যে] কর দিতে হত তা অত্যন্ত বেশি ছিল, আর তা আরও বেশি বোঝাস্বরূপ ছিল কারণ দুইধরনের কর পাশাপাশি ছিল, দেওয়ানি কর এবং ধর্মীয় কর এবং দুটির মধ্যে একটিও কম ছিল না।”

৬. (ক) যীশুর সময়ে ব্যবহৃত কোন্‌ কর ব্যবস্থা ছিল? (খ) কেন করগ্রাহীদের কুখ্যাতি ছিল? (গ) তার সহখ্রীষ্টানদের কী মনে করিয়ে দেওয়া পৌল উপযুক্ত বলে মনে করেছিলেন?

৬ যা এই সমস্ত কিছুকে বিশেষভাবে সবচেয়ে ভারগ্রস্ত করে তুলত তা ছিল সেই সময়কার কর ব্যবস্থা। রোমীয় আধিকারীকেরা একটি পদ্ধতি প্রচলন করে যে, যে সর্বোচ্চ নিলামে ডাক দেবে সে সেই প্রদেশে কর গ্রহণ করবে। তারা পরিবর্তে, স্থানীয় লোকেদের কাজে লাগাতো যারা আসলে কর গ্রহণ করার কাজ তত্ত্বাবধান করত। প্রত্যেকে এই ছোট থেকে বড় পদ্ধতিতে নিজের কমিশন অথবা অংশ নেওয়া সম্পূর্ণরূপে ন্যায্য বলে মনে করত। উদাহরণস্বরূপ, লূক বর্ণনা দিয়েছিলেন “সক্কেয় নামে এক ব্যক্তি; সে এক জন প্রধান করগ্রাহী, এবং সে ধনবান্‌ ছিল।” (লূক ১৯:২) “প্রধান করগ্রাহী” সক্কেয় এবং যারা তার তত্ত্বাবধানে কাজ করত স্পষ্টতই তারা লোকেদের দুর্দশায় রেখে নিজেদের জন্য ধনদৌলত তৈরি করত। যে অপব্যবহার এবং দুর্নীতি এই পদ্ধতির সাথে ছিল যার ফলে লোকেরা করগ্রাহীদের পাপী এবং বেশ্যাদের মধ্যে গণ্য করত এবং হয়ত বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা যুক্তিযুক্তও ছিল। (মথি ৯:১০; ২১:৩১, ৩২; মার্ক ২:১৫; লূক ৭:৩৪) যেহেতু লোকেরা একেবারে অসহনীয় ভার অনুভব করছিল, তাই অবাক হওয়ার কিছু নেই যখন প্রেরিত পৌল তার সহখ্রীষ্টানদের এই প্রয়োজনটি মনে করিয়ে দিতে অনুভব করেছিলেন যে রোমীয় দাসত্বে যেন তারা বিরক্ত না হয় কিন্তু “যাহার যাহা প্রাপ্য, তাহাকে তাহা দেও। যাঁহাকে কর দিতে হয়, কর দেও; যাঁহাকে শুল্ক দিতে হয়, শুল্ক দেও।”—রোমীয় ১৩:৭ক; তুলনা করুন লূক ২৩:২.

৭. কিভাবে রোমীয় ফৌজদারি আইন লোকেদের ভারকে বাড়িয়ে তুলেছিল?

৭ পৌল খ্রীষ্টানদের এও মনে করিয়ে দিয়েছিলেন “যাঁহাকে ভয় করিতে হয়, ভয় কর; যাঁহাকে সমাদর করিতে হয়, সমাদর কর।” (রোমীয় ১৩:৭খ) রোমীয়রা তাদের ফৌজদারি আইন সমূহের প্রতি তাদের নিষ্ঠুরতা ও কঠোরতার জন্য খ্যাত ছিল। চাবুক মারা, প্রহার করা, সশ্রম কারাদন্ড এবং মৃত্যুদন্ড লোকেদের অধীনে রাখার জন্য প্রায়ই ব্যবহার করা হত। (লূক ২৩:৩২, ৩৩; প্রেরিত ২২:২৪, ২৫) এমনকি যিহূদী নেতাদেরও এই শাস্তি দেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছিল যদি তারা তা যথার্থ বলে মনে করত। (মথি ১০:১৭; প্রেরিত ৫:৪০) এই পদ্ধতিটি, আর যারা এর অধীনে ছিল তাদের জন্য অবশ্যই উৎপীড়নকর, এমনকি তা অত্যাচারপূর্ণ ছিল।

৮. কিভাবে ধর্মীয় নেতারা লোকেদের উপর এক বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিল?

৮ কিন্তু, রোমীয় কর এবং নিয়মের থেকে সাধারণ লোকেদের উপর ধর্মীয় নেতারা যে ভার চাপিয়েছিল তা আরও খারাপ ছিল। প্রকৃতপক্ষে, এটিই যীশুর মনে প্রাথমিক চিন্তা ছিল যখন তিনি লোকেদের “পরিশ্রান্ত ও ভারাক্রান্ত” বলে বর্ণনা করেছিলেন। যীশু বলেছিলেন যে নিপীড়িত লোকেদের আশা এবং সান্ত্বনা দেওয়ার পরিবর্তে, ধর্মীয় নেতারা “ভারী দুর্ব্বহ বোঝা বাঁধিয়া লোকদের কাঁধে চাপাইয়া দেয়, কিন্তু আপনারা অঙ্গুলি দিয়াও তাহা সরাইতে চাহে না।” (মথি ২৩:৪; লূক ১১:৪৬) এটি পরিষ্কার যে সুসমাচারগুলিতে নিঃসন্দেহে ধর্মীয় নেতাদের—বিশেষ করে অধ্যাপক এবং ফরীশীদের—এক দাম্ভিক, হৃদয়হীন আর ভন্ড দল হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। তারা সাধারণ লোকেদের নিচু চোখে দেখত কারণ তারা অশিক্ষিত এবং অপরিচ্ছন্ন এবং তাদের মধ্যে যারা বিদেশী ছিল তাদের তারা ঘৃণা করত। তাদের মনোভাব সম্বন্ধে একটি বিবরণী বলে: “আজকের দিনে একজন ব্যক্তি যদি ঘোড়ার উপর অতিরিক্ত বোঝা চাপায় তাহলে সে আইনের দোষে ধরা পড়তে পারে। সেই ব্যক্তিটি কেমন যে ৬১৩টি আদেশ “দেশের লোকেদের’ উপর চাপিয়ে দেয়, এমন লোকেদের উপর যারা কোন ধর্মীয় শিক্ষা পায়নি এবং তা করার পর তাদের সাহায্য করার জন্য কিছুই করেনি, কিন্তু তাদের ঈশ্বরহীন বলে নিন্দা করেছে?” অবশ্যই, প্রকৃত ভার, মোশির নিয়ম ছিল না, কিন্তু সেগুলি ছিল লোকেদের উপর চাপানো প্রচুর পরিমাণে রীতিনীতি।

কষ্টের প্রকৃত কারণ

৯. রাজা শলোমনের দিনের সাথে যীশুর দিনের লোকেদের পরিস্থিতি কিভাবে তুলনা করা যায়?

৯ অনেক সময় আর্থিক ভার লোকেদের এত ভারি হয়ে উঠত যে তার ফলে ব্যাপকভাবে দরিদ্রতা ছড়িয়ে পড়ত। মোশির নিয়মে ধার্য পরিমাপ অনুযায়ী ইস্রায়েলজাতিকে পরিমিত হারে কর দিতে হত। এরপর শলোমনের শাসনকালে, লোকেরা ব্যয়বহুল জাতীয় প্রকল্পগুলি, যেমন মন্দির এবং অন্যান্য অট্টালিকা নির্মাণ ইত্যাদির দেখাশোনা করেছিল। (১ রাজাবলি ৭:১-৮; ৯:১৭-১৯) তবুও, বাইবেল আমাদের বলে যে লোকেরা “ভোজন পান ও আমোদ করিত। . . . শলোমনের সমস্ত অধিকার-সময়ে দান অবধি বের্‌-শেবা পর্য্যন্ত যিহূদা ও ইস্রায়েল প্রত্যেক জন আপন আপন দ্রাক্ষালতার ও আপন আপন ডুমুর বৃক্ষের তলে নির্ভয়ে বাস করিত।” (১ রাজাবলি ৪:২০, ২৫) এই বৈসাদৃশ্যের কারণ কী?

১০. প্রথম শতাব্দীতে ইস্রায়েলের পরিস্থিতির কারণ কী ছিল?

১০ যতক্ষণ সেই জাতি সত্য উপাসনার প্রতি দৃঢ় ছিল, তারা যিহোবার অনুগ্রহ উপভোগ করেছিল এবং যদিও তাদের ভারি জাতীয় ব্যয় বহন করতে হয় তবুও তারা সুরক্ষা এবং সমৃদ্ধ থাকার দ্বারা আশীর্বাদপ্রাপ্ত হয়েছিল। কিন্তু, যিহোবা সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে যদি তারা ‘কোন ক্রমে [তাঁহার] পশ্চাদ্গমন হইতে ফিরিয়া যায়, এবং [তাঁহার] আজ্ঞা ও বিধি সকল পালন না করে’ তাহলে তারা এক গুরুত্বপূর্ণ বিপরীত পরিস্থিতি ভোগ করবে। প্রকৃতপক্ষে, “সমস্ত জাতির মধ্যে ইস্রায়েল প্রবাদের ও উপহাসের আস্পদ হইবে।” (১ রাজাবলি ৯:৬, ৭) পরিস্থিতি সেইরূপ হয়েছিল। ইস্রায়েল অন্য দেশের শাসনের অধীনে আসে এবং একসময়কার গৌরবান্বিত রাজ্য সাধারণ উপনিবেশের পর্যায়ে চলে আসে। তাদের আধ্যাত্মিক দায়িত্বগুলি অবজ্ঞা করার ফলে কত বড়ই না মূল্য তাদের দিতে হয়েছিল।

১১. কেন যীশু মনে করেছিলেন যে লোকেরা “ব্যাকুল ও ছিন্নভিন্ন ছিল, যেন পালকবিহীন মেষপাল”?

১১ এই সব কিছু আমাদের বুঝতে সাহায্য করে যে কেন যীশু অনুভব করেছিলেন যে, যেসব লোকেদের তিনি দেখেছিলেন তারা “ব্যাকুল ও ছিন্নভিন্ন ছিল।” এরা ছিল ইস্রায়েলজাতি যিহোবার লোকসকল, যারা কমপক্ষে ঈশ্বরের নিয়ম অনুসারে জীবনযাপন এবং তাদের উপাসনা গ্রহণযোগ্যরূপে চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তবুও, তারা শুধুমাত্র রাজনৈতিক এবং বাণিজ্যিক শক্তিগুলির দ্বারা শোষিত এবং নিপীড়িত হয়নি, কিন্তু তাদের মধ্যে বসবাসকারী ধর্মভ্রষ্ট ধর্মীয় নেতাদের দ্বারাও হয়েছিল। তারা “যেন পালকবিহীন মেষপাল” ছিল কারণ তাদের যত্ন নেওয়ার অথবা তাদের রক্ষা করার কেউ ছিল না। তাদের এই কঠোর বাস্তব পরিস্থিতির সাথে মোকাবিলা করার জন্য সাহায্যের প্রয়োজন ছিল। যীশুর এই প্রেমপূর্ণ এবং মৃদু আমন্ত্রণ কতই না সময়োপযোগী ছিল!

আজকের দিনে যীশুর আমন্ত্রণ

১২. আজকের দিনে অন্যান্য ঈশ্বরের সেবকেরা এবং সৎ ব্যক্তিরা কী চাপ অনুভব করে?

১২ অনেক দিক দিয়ে আজকের পরিস্থিতিও একইরকম। আন্তরিক ব্যক্তিরা যারা সততার সাথে জীবনযাপন করার চেষ্টা করছে তারা এই দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার চাপ এবং চাহিদাগুলি সহ্যের অতিরিক্ত বলে দেখতে পাচ্ছে। এমনকি যারা তাদের জীবনকে যিহোবার কাছে উৎসর্গীকৃত করেছে তারাও এর থেকে বাদ যায় না। এমনকি যদিও তারা তা করতে চায়, তবুও রিপোর্ট দেখায় যে যিহোবার দাসেদের মধ্যে কিছু ব্যক্তিরা তাদের দায়িত্বগুলি পরিপূর্ণ করতে বৃদ্ধিরতরূপে বাধা পাচ্ছে। তারা ভারগ্রস্ত, ক্লান্ত মনে করে। এমনকি কেউ কেউ এও মনে করে যে যদি তারা সব কিছু ছেড়ে দিয়ে জনসাধারণের দৃষ্টির অগোচরে কোথাও চলে যায়, যাতে করে তারা ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করতে পারে, তাহলে অনেক স্বস্তিজনক হবে। আপনি কি কখনও এইরকম মনে করেছেন? আপনি আপনার এমন কোন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে কি জানেন যে এই পরিস্থিতিতে রয়েছে? হ্যাঁ, যীশুর এই আন্তরিক আমন্ত্রণ আজকের দিনে আমাদের জন্য অনেক অর্থ রাখে।

১৩. আমরা কেন নিশ্চিত হতে পারি যে যীশু আমাদের সান্ত্বনা এবং সতেজতা খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারেন?

১৩ এই প্রেমপূর্ণ আমন্ত্রণ জানানোর আগে, যীশু বলেছিলেন: “সকলই আমার পিতা কর্ত্তৃক আমাকে সমর্পিত হইয়াছে; আর পুত্ত্রকে কেহ জানে না, কেবল পিতা জানেন; এবং পিতাকে কেহ জানে না, কেবল পুত্ত্র জানেন, এবং পুত্ত্র যাহার নিকটে তাঁহাকে প্রকাশ করিতে ইচ্ছা করেন, সে জানে।” (মথি ১১:২৭) যীশু এবং তাঁর পিতার মধ্যে এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার দরুন, আমরা এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারি যে যদি আমরা যীশুর আমন্ত্রণ গ্রহণ করি এবং তাঁর শিষ্য হই, আমরাও যিহোবা যিনি হলেন “সমস্ত সান্ত্বনার ঈশ্বর” তাঁর সাথে নিবিড় সম্পর্ক, স্থাপন করতে পারব। (২ করিন্থীয় ১:৩; তুলনা করুন যোহন ১৪:৬.) এছাড়াও, যেহেতু ‘সবকিছু . . . তাঁহাকে সমর্পিত হইয়াছে,’ যীশু খ্রীষ্ট হলেন একমাত্র ব্যক্তি যার কাছে আছে আমাদের ভার কমানোর শক্তি এবং অধিকার। কোন্‌গুলি? দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং ধর্মীয় ব্যবস্থাগুলির দ্বারা চাপানো ভারগুলি এবং সাথে সাথে আমাদের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া পাপ ও অসিদ্ধতার ভারগুলি। শুরু থেকেই এটি কতই না উত্তসাহজনক এবং নিশ্চয়তাদানকারী বিষয়।

১৪. কোন্‌ পরিশ্রম থেকে যীশু সতেজতা দিতে পারেন?

১৪ যীশু আরও বলেন: “হে পরিশ্রান্ত ও ভারাক্রান্ত লোক সকল, আমার নিকটে আইস, আমি তোমাদিগকে বিশ্রাম দিব।” (মথি ১১:২৮) অবশ্যই যীশু এখানে কঠোর পরিশ্রম করার বিরুদ্ধে কথা বলছিলেন না, কারণ তিনি তাঁর শিষ্যদের প্রায়ই তাদের হাতে যে কাজ ছিল সেই বিষয়ে কঠোর পরিশ্রমী হতে উপদেশ দিতেন। (লূক ১৩:২৪) কিন্তু “পরিশ্রান্ত” কথাটি (“উদ্যমী,” কিংডম ইনটারলিনিয়ার) দীর্ঘকালীন এবং কঠোর কাজকে ইঙ্গিত করে, প্রায়ই তার জন্য যথাযোগ্য পরিণাম পাওয়া যায় না। আর “ভারাক্রান্ত” এই চিন্তাটি ব্যক্ত করে সাধারণের ক্ষমতার চাইতে অতিরিক্ত ভারগ্রস্ত হওয়াকে। এর পার্থক্য তুলনা করা যেতে পারে, একজন ব্যক্তি যে লুকানো ধনের জন্য গর্ত খুঁড়ছে এবং অন্যজন পরিখার জন্য শিবিরে গর্ত খুঁড়ছে তার সাথে। তারা কিন্তু একইধরনের কঠোর পরিশ্রম করছে। একজনের ক্ষেত্রে, কাজটি উৎসাহের সাথে করা হয়, কিন্তু অপরজনের ক্ষেত্রে তা হল এক দীর্ঘকালীন একঘেঁয়ে খাটুনি। এই পার্থক্যের কারণ হল কাজের উদ্দেশ্য অথবা উদ্দেশ্যের অভাব।

১৫. (ক) যদি আমরা অনুভব করি যে আমাদের ভারি ভার বহন করতে হচ্ছে তাহলে কোন্‌ প্রশ্ন আমাদের জিজ্ঞাসা করা উচিত? (খ) আমাদের ভারের উৎস সম্বন্ধে কী বলা যেতে পারে?

১৫ আপনি কি মনে করছেন যে আপনি “পরিশ্রান্ত ও ভারাক্রান্ত,” কারণ আপনার সময় এবং শক্তির উপর খুব বেশি আশা করা হচ্ছে? যে ভারগুলি যা আপনি বহন করছেন তা কি আপনার পক্ষে অত্যন্ত ভারি? যদি তাই হয়, ‘কিসের জন্য পরিশ্রম করছি?’ কিধরনের বোঝা আমি বহন করছি? এইধরনের প্রশ্ন নিজেকে জিজ্ঞাসা করা হয়ত উপকারী হতে পারে। এই বিষয়ে, ৮০ বছর আগে একজন বাইবেলের উপর মন্তব্যকারী লক্ষ্য করেছিলেন: “যদি আমরা আমাদের জীবনের ভারগুলি সম্বন্ধে বিবেচনা করি সেগুলিকে আমরা দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত করতে পারি, আত্ম-আরোপিত এবং অবশ্যম্ভাবী: যেগুলি আমাদের কাজের ফলে ও যেগুলি আমাদের কাজের ফলে নয়।” তিনি এরপরে আরও বলেন: “আমাদের মধ্যে অনেকে হয়ত কঠোর আত্ম-পরীক্ষা করার পর এই জেনে অবাক হবে, যে আমাদের সমস্ত ভারগুলির মধ্যে আত্ম-আরোপিত ভারগুলির পরিমাণই খুব বেশি।”

১৬. অবিজ্ঞতার সাথে আমরা কী ভার নিজেদের উপর তুলে নিতে পারি?

১৬ সেই ভারগুলি কী যা আমরা আমাদের উপর নিয়ে আসতে পারি? আজকে আমরা এক বস্তুবাদী, সুখ-প্রিয় এবং অনৈতিক জগতে বাস করছি। (২ তীমথিয় ৩:১-৫) এমনকি উৎসর্গীকৃত খ্রীষ্টানেরাও এই জগতের ফ্যাশন এবং জীবন-ধারা অবলম্বন করার ক্ষেত্রে অনবরত চাপের অধীনে রয়েছে। প্রেরিত যোহন “মাংসের অভিলাষ, চক্ষুর অভিলাষ, ও জীবিকার দর্প” এর বিষয়ে লিখেছিলেন। (১ যোহন ২:১৬) এগুলি হল শক্তিশালী প্রভাব যা আমাদের সহজেই প্রভাবিত করতে পারে। জানা গেছে যে কিছু ব্যক্তি অত্যধিক জাগতিক সুখ উপভোগ করতে অথবা বিশেষ জীবন-ধারা বজায় রাখতে গভীরভাবে ধারদেনাতে জড়িয়ে পড়েছে। তারপর তারা দেখে যে তাদের অনেক ঘন্টা কাজ করতে হয় অথবা আরেকটি কাজ নিতে হয় যাতে করে তারা ধার শোধ করতে পারে।

১৭. কোন্‌ পরিস্থিতি বোঝাকে বহন করা আরও কঠিন করে তোলে এবং কিভাবে এর প্রতিকার হতে পারে?

১৭ যদিও, এক ব্যক্তি হয়ত এই যুক্তি করতে পারে যে অন্যদের কাছে যা আছে তা বা তারা যা করছে নিজের কাছে থাকা বা তা করা ভুল নয়, কিন্তু এক ব্যক্তি তাঁর বোঝাকে অপ্রয়োজনীয়রূপে বৃদ্ধি করছে কি না তা বিশ্লেষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। (১ করিন্থীয় ১০:২৩) যেহেতু এক ব্যক্তি কেবলমাত্র সীমিত কিছু বহন করতে পারে, তাই অতিরিক্ত কিছু নেওয়ার জন্য অন্যগুলিকে নামাতে হবে। প্রায়ই, আমাদের আধ্যাত্মিক মঙ্গলের জন্য যে জিনিসগুলি অত্যন্ত প্রয়োজন—ব্যক্তিগত বাইবেল অধ্যয়ন, সভাতে উপস্থিত এবং ক্ষেত্রের পরিচর্যা—সেগুলিকে প্রথমেই সরিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে আধ্যাত্মিক শক্তির অভাব দেখা যায়, যার ফলে বোঝা বহন করা আরও কষ্টকর হয়ে পড়ে। যীশু এইধরনের বিপদ সম্বন্ধে সতর্ক করে দেন যখন তিনি বলেন: “আপনাদের বিষয়ে সাবধান থাকিও, পাছে ভোগপীড়ায় ও মত্ততায় এবং জীবিকার চিন্তায় তোমাদের হৃদয় ভারগ্রস্ত হয়, আর সেই দিন হঠাৎ ফাঁদের ন্যায় তোমাদের উপরে আসিয়া পড়ে।” (লূক ২১:৩৪, ৩৫; ইব্রীয় ১২:১) যদি এক ব্যক্তি ভারগ্রস্ত এবং ক্লান্ত হয় তাহলে ফাঁদ বুঝতে এবং তা এড়াতে কষ্টকর হতে পারে।

উপশম ও সতেজতা

১৮. যীশুর কাছে যারা এসেছিল তাদের তিনি কী প্রদান করেছিলেন?

১৮ প্রেমপূর্ণরূপে, তাই যীশু এই প্রতিকারটি অপর্ণ করেন: “আমার নিকটে আইস, আমি তোমাদিগকে বিশ্রাম (সতেজতা, NW) দিব।” (মথি ১১:২৮) এখানে “সতেজ” এবং ২৯ পদে “সতেজতা” কথাগুলি গ্রীক শব্দ থেকে আসে যা সেপ্টুয়াজেন্ট সংস্করণ “বিশ্রামপর্ব্ব” অথবা “বিশ্রামবার” ইঙ্গিত করতে যে ইব্রীয় শব্দ ব্যবহার করে তার অনুরূপ। (যাত্রাপুস্তক ১৬:২৩) তাই, যীশু এই প্রতিজ্ঞা করেননি যে যারা তাঁর কাছে এসেছিল তাদের আর কোন কাজ থাকবে না, কিন্তু তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, তিনি তাদের সতেজ করবেন যাতে করে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে যে কাজ তাদের অবশ্যই করতে হবে তা করতে তারা প্রস্তুত থাকবে।

১৯. কিভাবে একজন ব্যক্তি ‘যীশুর নিকটে আসতে,’ পারে?

১৯ কিন্তু, কিভাবে একজন ‘যীশুর নিকটে আসতে’ পারে? তাঁর শিষ্যদের উদ্দেশ্যে যীশু বলেছিলেন: “কেহ যদি আমার পশ্চাৎ আসিতে ইচ্ছা করে, তবে সে আপনাকে অস্বীকার করুক, আপন ক্রুশ তুলিয়া লউক, এবং আমার পশ্চাদ্গামী হউক।” (মথি ১৬:২৪) অতএব, যীশুর কাছে আসার অর্থ হল নিজের ইচ্ছাকে ঈশ্বর এবং যীশুর ইচ্ছার কাছে বশ্যতা স্বীকার করা, বিশিষ্ট দায়িত্ব গ্রহণ করা এবং তা নিয়মিতরূপে পালন করে চলা। এটি করা কি খুব কষ্টকর? এর মূল্য কি খুব উচ্চ? ক্লান্ত ব্যক্তিদের যীশু প্রেমপূর্ণ আমন্ত্রণ দেওয়ার পর যা বলেন আসুন আমরা তা বিবেচনা করি।

আপনি কি স্মরণ করতে পারেন?

◻ যীশুর দিনে লোকেরা কোন্‌ কোন্‌ দিক দিয়ে ভারগ্রস্ত ছিল?

◻ লোকেদের কঠিন অবস্থার আসল কারণ কী ছিল?

◻ যদি আমরা নিজেদের অত্যন্ত ভারগ্রস্ত মনে করি, তাহলে কিভাবে আমরা নিজেদের পরীক্ষা করতে পারি?

◻ অবিজ্ঞতার সাথে আমরা নিজেদের উপর কী ভার চাপিয়ে দিতে পারি?

◻ যীশুর প্রতিজ্ঞা থেকে আমরা কিভাবে সতেজতা পেতে পারি?

[১৫ পৃষ্ঠার চিত্র]

নিজেদের উপর নিয়ে আসা কয়েকটি ভার কী কী?

[১৫ পৃষ্ঠার চিত্র সৌজন্যে]

Courtesy of Bahamas Ministry of Tourism

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার